Golpo romantic golpo She is my Obsession

She is my Obsession পর্ব ২৭


She_is_my_obsession

পর্ব:২৭

লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি

এয়ারপোর্টের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ফারিস, ইসরাহ আর রিজভি।

শীতে কম্পমান ইসরাহর ছোট্ট কায়া। দু’হাত ঘর্ষণ করে নিজের গালে চেপে ধরলো সে। নাক – মুখ বরফ ন্যায় শীতল হয়ে আছে। ইসরাহ কে কাঁপতে দেখে; ফারিস নিজের ব্লেজার টা খুলে ইসরাহর শরীরে জড়িয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো তাকে। যদি মেয়ে টা এতে একটু উষ্ণতা অনুভব করে। ফারিসের বাহুডোরে আবদ্ধ থেকে, ও শীত করছে ইসরাহ।

বাংলাদেশে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় বড় হওয়া ইসরাহর জন্য; আলাস্কার মাইনাস 15 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তাকে জমিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ইসরাহ কে কাঁপতে দেখে চেঁচিয়ে উঠলো ফারিস;-

–” বাস্টার্ড টা এখনো গাড়ি নিয়ে আসছে না কেন রিজভি? ও কে আগে বলিস নি কেন এয়ারপোর্টে গাড়ি নিয়ে উপস্থিত থাকতে।”

ফারিসের চিৎকারে কেঁপে উঠলো রিজভি। পকেট থেকে ফোন টা বের করতে করতে সে বললো;-

–” আ..মি আমি কল দিচ্ছি বস।”

–” ফাস্ট!”

রিজভি কল দেওয়ার আগেই, একটা কালো গাড়ি এসে ওদের সামনে থামলো। গাড়ি থামিয়েই তড়িৎ বেগে ড্রাইভার নেমে পড়লো গাড়ি থেকে। পেছনের সিটের ডোর খুলে দিতেই রিজভি নিচু কন্ঠে গর্জে উঠলো তার উপর;-

–” এতক্ষণ কোথায় ছিলি জানোয়ার? ম্যাম ঠান্ডার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলো।”

–” সরি স্যার।”

ফারিস হাত উঠিয়ে ইশারায় করলো রিজভি কে। আপাতত ইসরাহ সামনে কোনো সিনক্রিয়েট চায় না সে। ফারিসের ইশারার মানে বুঝতেই থেমে গেলো রিজভি।

–” ম্যাম আসুন।”

–” চলো লিটল গার্ল!”

গাড়িতে উঠে পাশাপাশি বসলো ইসরাহ আর ফারিস। রিজভি ফন্ট সিটে বসেছে। সবাই গাড়িতে বসতেই ড্রাইভার হিটার টা অন করে দিলো। গাড়ির পেছনে রাখা শপিং ব্যাগ থেকে ওভার কোর্ট টা নিয়ে ইসরাহ কে পরিয়ে দিলো ফারিস। ঠান্ডার মাঝে উষ্ণতা পেয়ে সিটে পিঠ এলিয়ে শুলো ইসরাহ। পরশু মধ্যে রাত থেকে আজ সকাল অব্দি তারা ফ্লাইটে ছিলো।

ঢাকা থেকে আলাস্কায় সরাসরি কোনোফ্লাইট রুট না থাকায়। তাদের একবার ফ্লাইট পরিবর্তন করতে হয়েছিলো। জার্নিতে ভালো করে খেতে ও পারেনি ইসরাহ। অভ্যাস না থাকার দরুন শরীর ভেঙে এসেছে তার। গোলাপের পাপড়ির ন্যায় অধর জোড়া নীলচে কালো বর্ণ ধারণ করেছে।

সিটে হেলান দিয়ে বাইরে তাকালো ইসরাহ। হাইওয়ে রোড দিয়ে গাড়ি চলছে। কিন্তু ঢাকা শহরের মতো জ্যাম নেই। নেই কোনো ধূলাবালি। বহুক্ষণ পর পর একটা গাড়ি দেখা যাচ্ছে। তাও বুলেটের গতিতে চলে যাচ্ছে সেগুলো। রোদ নেই, কুয়াশার আস্তরণে ঢেকে আছে আলাস্কা শহর। বিন্দু বিন্দু শিশির পরে রাস্তা গুলো ভিজে আছে। ইসরাহ বাইরে তাকিয়েই ফারিস কে ডাকলো;-

–” ফারিস?”

ইসরাহর ক্লান্ত কন্ঠের ডাক শুনে, ফোন থেকে চোখ তুলে জবাব দিলো ফারিস।

–” বলো লিটল গার্ল?”

–” এখানে কি স্নোফল হয়?”

–” হুম,”

–” এখন হবে?”

–” হুম।”

ইসরাহ আর কথা বললো না। শীতে তার গলা শুকিয়ে কাঠ। একি ভাবে বাইরে তাকিয়ে রইলো সে। আস্তে আস্তে হিটারের গরমের শরীর ছেড়ে আসতে দেখে ভালোই লাগলো ইসরাহ।


গাড়ি টা এসে থামলো ফারিসের বিলাশ বহুল প্যালেসের গেটের সামনে।

ইসরাহ গাড়িতে থেকেই ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো কালো মার্বেল পাথরের তৈরি দেওয়ালে ঘেরা প্যালেসটার দিকে। রিজভি আগে নেমে গিয়ে গেট খুলে দিতেই ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো। ফারিস গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে এসে ইসরাহর পাশের ডোর টা খুলে দিলো।

–” নামো লিটল প্রিন্সেস!”

ইসরাহর নামলো। চারপাশে চোখ বুলোতেই তার চোখ গিয়ে আটকালো কালো গোলাপের ঝাড়টাতে। অবাক চোখে গোলাপ গুলোর দিকে তাকিয়ে রইলো সে। এই প্রথম সামনে থেকে তার কালো গোলাপ দেখা। ফারিসের হাত থেকে নিজের হাত টা ছাড়িয়ে; সাবধানী পায়ে গোলাপের গাছ গুলোর দিকে এগিয়ে গেলো ইসরাহ। আলতো হাতে ছুঁয়ে দিলো শিশির ভেজা কলি আর আধ ফুটন্ত গোলাপ গুলোকে। পর পর মাথা এগিয়ে সুভাষ নেওয়ার চেষ্টা করলো সে। কিন্তু ঠান্ডার কারণে কোনো সুভাষ ই লাগলো না তার নাসারন্ধে।

ইসরাহ কে ওদিকটাতে ব্যস্ত থাকতে দেখে; দরজার লক খুলতে ব্যস্ত রিজভি কে ডাকলো ফারিস।

–” বলুন বস?”

–” কল দা ক্লিনিং স্ট্যাফ। অন আ চেয়ার ইন দা স্টেডিয়াম অ্যান্ড সো দ্যাট দেয়ার ইজ নো ডাস্ট। অ্যান্ড আস্ক অলিভার টু ডু দা রেস্ট অব দা হরস’স চেক-আপস। আই উইল নট গো টু দা ট্র্যাক টুডে।”

–” ওকে বস!”

–” আরসালান কে আমি পরে দেখছি।”

–” ওকে বস!”

রিজভিরা বেরিয়ে যেতেই ফারিস গেট লক করে দিলো। পাহাড়ের খাঁজে প্যালেস টা হওয়ার দরুন; গেট খোলা থাকলে বন্য প্রাণী ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা আছে। গেট লক করে, ফারিস ধীর পায়ে এগিয়ে এলো ইসরাহ কাছে। শক্ত ডাঁটা থেকে হেঁচকা টানে একটা গোলাপ ছিঁড়ে নিলো ফারিস। গোলাপ টা ইসরাহর কানের পাশে গুঁজে দিতে দিতে সুধালো সে;-

–” লিটল প্রিন্সেস? তোমার ফ্লাওয়ার্স দেখা হয়েছে? এইবার তাহলে আমাকে ও তোমাকে দেখার একটু সুযোগ দাও।”

ফারিসের কথায় ভেঙছি কাটলো ইসরাহ।

–” আমার এখনো দেখা হয়নি।”

–” কিন্তু, আমার এখনি তোমাকে দেখা লাগবে।”

অধৈর্য ফারিস পাঁজা কোলে তুলে নিলো ইসরাহ কে। বড় বড় পায়ে এগিয়ে গিয়ে দরজার লক পাস ইন করলো সে। দরজা খুলে ইসরাহ কে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো ফারিস। পুরো প্যালেসের ভিতর অন্ধকারে আছন্ন হয়ে আছে। ফারিস দরজার পাশে রাখা সেন্টর টেবিলের উপর থেকে রিমোট নিয়ে বাটনে প্রেস করতে রুম টা আলোয় ঝলমল করে উঠলো। আরেক দফা অবাক হলো ইসরাহ।

–” আপনি এখানে থাকেন ফারিস?”

–” ইয়েস প্রিন্সেস, কেন পছন্দ হয়নি তোমার?”

–” না না, তেমন কিছু না। আসলে কোনো পুরুষ ও যে এতোটা গোছালো হতে পারে। আমার জানা ছিলো না।”

ইসরাহর প্রশ্নে বিশেষ কায়দায় ভ্রুদ্বয় কুঁচকে নিলো ফারিস। সন্দেহের স্বরে সুধালো সে;-

–” সবাই কি তোমার ফারিস নাকি?”

–” না না।”

–” তাহলে রুমে যাই; এইবারে!”

হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ালো ইসরাহ। লাল গালিচা পাতানো সিঁড়ি গুলো মাড়িয়ে উপর তলায় এলো ফারিস। প্রথমের রুমটাই তার। এই রুমের দরজা-তে ও লক সেট করা। লক প্রেস করে রুমে ঢুকে ইসরাহ কে কার্পেট বিছানো মেঝেতে দাঁড় করিয়ে দিলো ফারিস। এগিয়ে গিয়ে উত্তরের বড় জানলার পর্দা টা সরিয়ে দিলো সে। অন্ধকার সরে যেতেই ইসরাহ পুরো রুমটাতে চোখ বুলালো। বেডের পেছনের দেওয়ালের কাছটাতে এসে চোখ জোড়া আটকে গেলো ইসরাহ।

দেওয়ালের বেশ ভাগ অংশ জুড়ে তার একটা আর্ট বাঁধাই করে লাগানো। ছবিটার প্রতিটা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এতোটাই নিখুঁত। যেনো পেন্টিংটাতে জীবন্ত ইসরাহ বসে। পেন্টিং থেকে চোখ সরিয়ে পেছনে তাকিয়ে ফারিস কে খুঁজলো ইসরাহ। সে ততক্ষণে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়েছে। শাওয়ারের পানির শব্দ শোনা যাচ্ছে ভেতর থেকে। ফারিস কে শাওয়ার নিতে দেখে ইসরাহ
এগিয়ে এসে উত্তরের জানলাটার পাশ ঘেঁষে দাঁড়ালো। কাঁচের কার্বাড গুলো খুলে দিতেই দমকা হাওয়া ছুঁয়ে দিলো তার শরীর। জানলা টা সম্পূর্ণ গ্রিল খোলা। এখান থেকে সামনের উঁচু পাহাড় গুলো স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে।

সবুজ লতা পাতায় ঘেরা পাহাড় গুলো দেখে গা ছমছম করে উঠলো ইসরাহর। গাছে গাছে এতোটাই জঙ্গল হয়েছে যে বড় পাহাড় গুলোর নিচে সম্পূর্ণটাই অন্ধকার। সূর্য না উঠার দরুন তা আরো দ্বিগুণ ভয়ংকর ঠেকলো ইসরাহ কাছে।

চলবে

( প্রিয় পাঠক মহল,
কাল বলে ও গল্প না দিতে পারার জন্য আমি দুঃখিত। সিজন চেন্জ হওয়ার সাথে সাথে আমার নিজের ও বারো টা বেজে গেছে। জ্বর, গলা ব্যথা, কাঁশি সব মিলিয়ে বাজে অবস্থা। কাল রাতে একটু ও লিখতে পারিনি। চোখ জ্বালা করে পানি পড়ছিলো। এখনো একি অবস্থা। কিন্তু আপনাদের কথা দেওয়ার কারণে এই টুকু পর্ব দেওয়া।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply