Golpo romantic golpo She is my Obsession

She is my Obsession পর্ব ২১


She_is_my_Obsession

পর্ব :২১

লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি

যোহরের আজান পড়ে গেছে। সূর্য মাথার উপর দাঁড়িয়ে। ভার্সিটির ক্লাস শেষে মাঠে এসে দাঁড়ালো ইসরাহ, জাইমা, রবিন। ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করলো ইসরাহ। সাইলেন্ট খুলে কল দিলো নাফি কে। প্রথমবার কল টা বেজে কেটে গেলো। দ্বিতীয় বারে নাফি কল ব্যাক করলো। রিসিভ করে ফোনটা কানে চাপলো ইসরাহ;-

–” হ্যালো?”

–” কোথায় তুমি ভাইয়া?”

–” বাস স্ট্যান্ডে, আসতে পারবি? না আমি আসবো?”

–” পারবো।”

–” আচ্ছা আয় তাহলে।”

কথা শেষে, কল কেটে দিলো নাফি। ফোনটা ব্যাগে রেখে দিলো ইসরাহ। ইসরাহর কথা শেষ হতে; জাইমা মাঠ থেকে চোখ ফিরিয়ে বললো;-

–” কোথায় যাচ্ছিস তুই?”

–” সিলেট, আন্টি অসুস্থ।”

ওদের কথার মাঝেই রবিন সুধালো;-

–” একা যাবি?”

–” হ্যাঁ, ফারিস জানে না। আম্মু নিষেধ করেছে ও কে বলতে। তাই বলা হয়নি।”

জাইমা ভর্য়াত দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো ইসরাহর পানে। হাত চেপে সাবধানী কন্ঠে বললো সে;-

–” ফারিস জানে না মানে? ওনাকে জানানো তোর কর্তব্য।”

–” আম্মু নিষেধ করেছে জানাতে। সিলেট পৌঁছে বলবো ঠিক করেছি।”

–” পাগল নাকি তুই?”

জাইমার ভর্য়াত মুখশ্রী দেখে এক চোট হেসে উঠলো রবিন আর ইসরাহ।

–” এতো ভয় পাচ্ছিস কেন তুই? সিলেট যাবো আমি। ভয় পাচ্ছিস তুই?”

–” তুই বুঝতে পারছিস না, ওর কলিজা তো মুরগির কলিজা। তাই পাখির ডাক শুনলে ও বাঘের ডাক ভাবে। এখন মনে হয়; তোর ফারিস কে ও ওর বাঘ মনে হচ্ছে।”

–” যখন বাঘ থাবা দিবে তখন বুঝবি।”

জাইমার কথায়, রবিন কনফিডেন্স নিয়ে উত্তর দিলো;-

–” হ্যাঁ হ্যাঁ, দিক আগে থাবা।”

–” অপেক্ষা করতে পারিস।”

রেগে জাইমা দ্রুত পায়ে হাঁটা দিলো। তিনতলার বারান্দা পেরিয়ে সিঁড়ি তে নেমে গেলো সে। কথাই বলবে না এই বজ্জাত গুলোর সাথে। সব কিছু ফাজলামি ভেবে উড়িয়ে দেবে। পেছনে থেকে চেঁচিয়ে উঠলো ইসরাহ;-

–” আরে জাইমা দাঁড়াবি তো বইন। এতো রাগ হওয়ার কি আছে?”

–” হ্যাঁ ভাই দাঁড়া। আর এমন মজা করবো না।”

জাইমা দাঁড়ালো না। রবিন আর ইসরাহ ও ছুটলো তার পেছনে। দৌড়ে গিয়ে রবিন চেপে ধরলো জাইমার হাত। একপাশ করে দাঁড় করানো তাকে।

–” কি সমস্যা? থামতে বলেছি তো!”

–” কি?”

–” এমন ভাবে ছুটছিস কেন?”

ইসরাহ এসে দাঁড়ালো ওদের পাশে। মুখ কালো করে আশপাশে তাকালো জাইমা।

–” রেগে যাচ্ছিস কেন?”

ইসরাহর প্রশ্নে চুপ হয়ে গেলো জাইমা। মনে মনে ভাবলো সে;-

–” ফারিস জাওয়ানের থাবা খেলে তোরা ও বুঝতি। ওই দিন তো আমাকে কিডন্যাপ করেছে। তোদের সামনে তো সে দিব্বি ভালো মানুষ। তার ভয়ংকর রুপ আমি দেখেছি। নিজের হাত কাটতে ও লোকটা দু’বার ভাবে না। সেখানে আমরা কোথাকার কে?”

ভাবনা রেখে উত্তর দিলো জাইমা;-

–” কিছু না, তুই বাস স্ট্যান্ডে যা। দেরী হয়ে যাবে।”

তার মধ্যেই ইসরাহ ফোন টা বেজে উঠলো। নাফির কল, রিসিভ করলো ইসরাহ।

–” কোথায় তুই? দুইটার বাস; অলরেডি একটা চল্লিশ রানিং।”

–” আসছি ভাইয়া।”

–” আর যাতে কল না দেওয়া লাগে বোন।”

–” আমি যাই তাহলে।”

ইসরাহ কথায় প্রশাক্ত কন্ঠে বললো রবিন;-

–” এগিয়ে দিবো তোকে?”

–” লাগবে না।”

জাইমা আর রবিন থেকে বিদায় নিয়ে ভার্সিটি থেকে বেরোলো ইসরাহ। রিকশা থামিয়ে ভাড়া ঠিক করে; উঠে পড়লো তাতে।


দুপুর ছাড়িয়ে বিকেল পড়ে এসেছে। রোদের তাপ ধীরে ধীরে কমছে। বাহিরে প্রবাহমান উত্তরের হিমেল হাওয়া।

ফারিসের রুমের অর্ধেক টা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আর্টের সামগ্রী। শ’খানা ছোটো বড় ব্রাশ সেন্টর টেবিলে ছড়ানো। কিছু রঙ পেন্টিং থেকে গড়িয়ে মেঝেতে পড়ছে। দু’তিনটে প্যালেটে বিভিন্ন রঙের মিশেলে রঙ তৈরি করে রেখেছে ফারিস। সব মিলিয়ে রঙের ঝাঁঝালো গন্ধে সারা রুম মৌ মৌ করছে। ফারিসের মেদহীন সুঠাম দেহ জুড়ে বিস্তৃত হয়ে আছে সাদা , কালো, সহ বিভিন্ন রঙের পেস্ট। সেসব দিকে তার খেয়াল নেই।

সামনের ড্রয়িং বোর্ডের ক্যানভাসে ইসরাহ অর্ধ শেষ করা একটা ছবি। ছবিটার চোখ দুটো যেনো জীবন্ত তাকিয়ে ফারিসের দিকে। এদিক ওদিক তাকিয়ে; সাদা প্যালেট থেকে কাঙ্খিত কালো রঙ তুলে, মাথার চুল গুলো আঁকাতে ব্যস্ত হলো ফারিস। ছবিটাতে শুধু চুলটাই আঁকা বাকি। ফারিস সুনিপুণ হাতে পুরো ছবি টা শেষ করলো। অতঃপর মেঝেতে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো সে। নিনিমের্ষ চোখে নিজের হাতে আঁকা ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকলো ফারিস।

তন্মধ্যে তার মনে পড়লো ইসরাহ এখনো তার ঘরে আসেনি। কোথায় মেয়ে টা? পরমুহূর্তে ফারিসের মনে পড়লো ইসরাহ এখনো ভার্সিটি থেকেই ফেরেনি।

বসা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো ফারিস। বিছানা থেকে ফোন টা তুলে কল দিলো ইসরাহর ফোনে। ফোন বন্ধ! বিরক্ত হলো ফারিস, অস্থির চিত্তে দ্বিতীয় বার কল দিলো সে। নট রিচেভেল, বার বার কল দেওয়া সত্ত্বে ও ফোন বন্ধ বলছে; রাগের বশবর্তী হয়ে ফোনটা মেঝেতে ছুঁড়ে মারলো ফারিস। তাকে উপেক্ষা করছে? একদিন বেরোতে দেওয়াতে এতো সাহস? বিকেল শেষ হতে চললো। কিন্তু এখনো বাড়ি ফিরছে না।

দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে, কার্বাড থেকে সাদা শার্ট টা নিয়ে রঙ সুদ্ধু শরীরে শার্ট টা পরে নিলো সে। ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে গাড়ির চাবিটা নিয়ে হন্তদন্ত করে বেরিয়ে গেলো ফারিস।


ঢাকা শহরের জ্যাম ঠেলে ফারিসের কালো গাড়ি টা এসে থামলো ইসরাহর ভার্সিটির সামনে। গাড়ি থেকে বেরিয়ে, রাগী চোখে এগিয়ে গেলো সে। ভার্সিটি গেট বন্ধ। দ্বিতীয় দফায় রাগ বাড়লো ফারিসের। রাগে গজগজ করতে করতে; দারোয়ানের কলার চেপে গম্ভীর কন্ঠে সুধালো সে;-

–” ভার্সিটির ক্লাস কখন শেষ হয়েছে?”

ভয় পেলো দারোয়ান টা। সামনের দানবীয় মানুষটার ধমকে চমকে উঠলো সে।

–” ভাই সাহেব, ছুটি তো আরো ঘন্টা খানেক আগে হইছে। কেরে?”

–” ওকে।”

ফারিস কে চলে যেতে দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো দারোয়ান টা। তার উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায় নি। এই শুকরিয়া, নিজের পরণের ড্রেসের কলার ঠিক করে মিনমিনে স্বরে ফারিস কে ” পাগল” উপাধি দিলো সে।

ফের ফিরে এসে গাড়ি স্টার্ট দিলো ফারিস। তার রাগের তোপে কপালের নীল রঙ গুলো ফুলে ফেঁপে উঠেছে। আধঘণ্টার বাড়ির রাস্তা ফারিস, পনেরো মিনিটে পৌঁছালো বাড়িতে। সদর দরজা পেরিয়ে ঢুকতেই তার চোখ পড়লো সোফায়।

আসফা বেগম রির্মোট হাতে টিভি দেখছেন। মুখে হাসির রেশ। ইসরাহ বাড়ি ফেরা নিয়ে যেনো কোনো মাথা ব্যথা নেই ওনার। ফারিসের ধূর্ত মস্তিষ্কে ধরতে সময় লাগলো না, যে ইসরাহ কোথাও না থাকার পেছনে ওনার হাত আছে। না হলে মেয়ের বাড়ি না ফেরাতে ও; কোনো মা এতো শান্ত থাকতে পারে? গেইম খেলছে তার সঙ্গে?

–” লিটল গার্ল কোথায়?”

জুতোর শব্দ তুলে; আসফা বেগম সামনে এসে দাঁড়ালো ফারিস। ফারিসের ঝাঁঝালো স্বর শুনে একটু ও বিচলিত হলেন না আসফা। বরং টিভির রির্মোট টা পাশে রেখে ওর দিকে তাকিয়ে অবাক কন্ঠে বললেন তিনি;-

–” কি? কার কথা বলছো?”

–” বাংলা কথা বুঝতে পারছেন না? বয়রা হয়ে গেছেন? ইসরাহ কথা জিজ্ঞেস করেছি। কোথায় ও?”

–” আজিব তো, নিজের বউ নিজে খুঁজে বের করো! আমি কি জানি?”

চড়চড় করে ফারিসের র*ক্ত গরম হয়ে উঠলো। সামনে থাকা ফ্লাওয়ার বাস টা তুলে শুভ্র মেঝেতে আছাড় মারলো সে। মূহুর্তে ই চূণ বিচূর্ণ হয়ে গেলো কাঁচের বাস টা। মেঝেতে ছড়িয়ে পড়লো কাঁচের ছোটো-বড় টুকরো গুলো।

–” মিথ্যা বলা বন্ধ করুন! আমি যদি ধরতে পারি যে লিটল গার্ল উধাও হবার পেছনে আপনার হাত আছে! তাহলে আপনি শেষ মিসেস আসফা, মাইন্ড ইট। প্রার্থনা করি যাতে লিটল গার্ল এমনি হারায়।”

ফারিসের থেকে দ্বিগুণ শান্ত কন্ঠে আসফা বললেন;-

–” ওয়ানিং দিচ্ছো?”

মূহুর্তেই হেসে উঠলো ফারিস। মুখশ্রী জুড়ে অদ্ভুত রহস্য টেনে; তীক্ষ্ম চোয়াল শক্ত করে বললো সে;-

–” অন্য কেউ হলে ওয়ানিং ছাড়া শেষ করে দিতাম। আমার দুর্ভাগ্য একই সাথে, আপনার সৌভাগ্যে আপনি লিটল গার্লের জন্মদাত্রী মা।”

–” এসব সস্তা ওয়ানিং বাংলা ছবিতে গিয়ে দাও। ফ্যান ফলোয়াস পাবে।”

–” রিয়েলি? সস্তা ওয়ানিং! বারো বছর আপনি আমার বউ থেকে আমাকে দূরে রেখেছেন মিসেস আরহাম। এখনো প্রতিনিয়ত সেই চেষ্টা ই করে যাচ্ছেন! এতো সহজে আপনাকে ছেড়ে দেই কিভাবে?”

–” পারলে খুঁজে নাও ইসরাহ কে। আমি কিছুই বলবো না।”

ফারিস ফের শান্ত চোখে তাকালো। ঠোঁটে হাসির ঝলকানি রেখে সুধালো সে;-

–” বড্ড ভুল করে ফেললেন শাশুড়ি মা। ফারিসের দুর্বলতায় হাত দিতে নেই। তার পছন্দ না। ফারিস নিজের জিনিস ছিনিয়ে নিতে পারে। একই সাথে অপরাধকারী কেও সাজা দিতে পারে।”

গটগট পায়ে প্রস্থান করলো ফারিস। নিজের ঘরে ফিরে ফোন দিলো কাউকে। ফোন কানে ধরে ফারিস হিসহিসিয়ে সুধালো;-

–” ফারিস কে চ্যালেঞ্জ করার পরিমাণ কি হয় , এই বার আপনি বুঝবেন!”

চলবে

( প্রিয় পাঠক মহল,
কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্তু ! অসুস্থতা নিয়ে ও আপনাদের জন্য লিখলাম। শরীর চলছে না। শুধু আপনাদের রিকোয়েস্টে দিলাম। একটু দোয়ায় রাখবেন। আর সুন্দর মন্তব্য করবেন।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply