She_is_my_Obsession
পর্ব :১৯
লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি
–” লিটল গার্ল? ডু ইট অ্যাগেইন, প্রমিস জাস্ট ফাইভ মিনিট’স।
ফারিসের ঘোর লাগা কন্ঠে ছটপটিয়ে উঠলো ইসরাহ। এলোমেলো হাতে আঁচড় কাটলো ফারিসের প্রশস্ত পিঠে। ফারিস বাধা দিলো না। প্রেয়সীর নখের হিংস্র আঁচড় গুলো সহ্য করে নিলো সে।
কাঁদো কন্ঠে ইসরাহ সুধালো ;-
–” না ফারিস, আমি আর পারবো না। আমার পুরো শরীর ব্যথা করছে। অলরেডি আপনি দেখুন, আমার দিকে তাকান!”
ইসরাহ কাঁদো গলা শুনে ফারিস থামলো। ইসরাহর ছোট্ট মুখ খানা দু’হাতের আজলায় পুরে কয়েকটা চুমু খেলো সে।
–“ইট’স ওকে লিটল গার্ল! ইউর সেফটি ফার্স্ট।”
বিছানা থেকে নেমে সোফার হাতল থেকে সাদা টাওয়াল টা নিয়ে কোমরে পেঁচিয়ে নিলো ফারিস।
মেয়েটাকে কোলে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে, ইসরাহ কে শাওয়ারের নিচে দাঁড় করিয়ে শাওয়ার ছেড়ে দিলো সে। শাওয়ারের ঠান্ডা পানির ফোঁটা গুলো ইসরাহ শরীরে বরফের টুকরোর মতো গাঁথলো। ব্যথায় চোখ বুঁজে নিলো সে। ফারিসের অজস্র ভালোবাসার ছোঁয়াতে, বিধ্বস্ত তার শুভ্র কায়া। ফারিস কর্ণার থেকে শাওয়ার জেল নিয়ে ইসরাহর শরীরে মেখে নিলো। শাওয়ার ছেড়ে চুল গুলো ভালো করে ধুয়ে নিলো সে। শাওয়ার শেষে ফের টাওয়াল পেঁচিয়ে ইসরাহ কে কোলে তুলে বিছানায় বসিয়ে দিলো ফারিস।
কার্বাড খুলে নিজের র্টি-শার্ট কালেকশন থেকে; কালো র্টি-শার্ট আর, ইসরাহ বাকি পোশাক গুলো নিয়ে ইসরাহ কে দিলো ফারিস। র্টি-শার্ট দেখে ধীর কন্ঠে প্রশ্ন করলো ইসরাহ;-
–” র্টি-শার্ট?”
–” ইয়েস, তোমার কামিজ গুলোর বুকের কাজ হেভি। বুকে মাথা রেখে ঘুমোতে ডির্স্টাব ফিল হয়। চুলে স্টন গুলো বেঁধে যায়।”
–” এহহহ?”
–” কিছু খাবে?”
–” না।”
–” ওকে, আমি শাওয়ার নিয়ে আসছি।”
পোশাক পরিধান করে; নরম বিছানায় শরীর এলিয়ে দিলো ইসরাহ। ফারিসের ল্যাভেন্ডার পারফিউমের মিষ্টি সুভাষে পরম আবেশে চোখ বুঁজে নিলো সে। কম্পোটার, বালিশ, চাদর সব কিছু থেকে ফারিসের শরীরের সুভাষ।
সকাল সাড়ে আটটা বাজে।
ছাদে জামা-কাপড় গুলো রোদে শুকোতে দিয়ে ছাদ থেকে নামলেন সায়মা খাতুন। আধ পুরোনো কাপড় টা ধরে ধীর পায়ে ব্যালকনিতে আসতেই ফারিস কে দেখতে পেলেন উনি। ফারিস কে দেখতেই ডাক দিলেন সায়মা;-
–“এই দলা গেঞ্জি পরা ছেরা খাড়াও।”
সদ্য ঘুম থেকে উঠেছে ফারিস। ফ্রেশ হয়েই কিচেনে যাচ্ছিল লেবু আর গরম পানি আনতে। সায়মা খাতুনের ডাকে দাঁড়িয়ে পড়লো ফারিস। দু’পা পিছিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো সায়মার সামনে। ফারিস আসতেই সায়মা ফারিসের পা থেকে মাথা অব্দি ছোটো চোখে পরোখ করলেন। ছেলেটা দেখতে একেবারে রাজপুত্রের মতো। এতো সুন্দর মানুষের দর্শন এই দেশে সহজে পাওয়া যায় না। বিশেষ সময়, কাল ভেদে দেখা যায়। ওনাকে এভাবে তাকাতে দেখে গলা পরিষ্কার করে ফারিস সুধালো;-
–” আমাকে ডাকলেন?”
–” হ।”
–” কেন?”
–” এমন দলা হইছো কেমনে? আর তোমার তো নাকি ত্রিরিশ বছর শেষ ওইবার পথে। তাইলে তোমার ভুঁড়ি কই?”
সায়মা খাতুনের কথায় ঠোঁট চেপে হাসি আটকালো ফারিস।
–” জিম করে ফিট থেকে ভুঁড়ির চর্বি গলিয়ে ফেলেছি।
–” ওহ।”
–“আপনি সুন্দর হতে চান?”
–” হ, ভুঁড়ি টাও কমাইতে চাই।”
–” তাহলে তো আপনাকে জিমে ভর্তি হতে হবে। প্লাস ডায়েট কন্ট্রোল করতে হবে।”
ফারিসের কথা বুঝলেন না সায়মা। কাপড় টা কানের পাশে গুঁজে সুধালেন তিনি;-
–” কিতা কইলা? বুঝলাম না।”
–” জিম, মিন’স এক্সারসাইজ।”
–” বাংলা কও ছেরা।”
–” ব্যায়াম করতে হবে।”
–” কেমনে?”
–” এই ধরুন ডায়েটের অংশ যেই খাবার গুলো; ওই গুলো খেতে হবে। নিয়মিত জিম যাওয়া। সিয়া সিড ভেজানো পানি, কুসুম গরম পানি সাথে লেবু মিক্স করে খেতে হবে। আরো আছে…!”
–“থামো লাগতো না আমার সুন্দর হওয়া।”
মুখ বাঁকিয়ে ফারিসের পাশ কেটে চলে গেলেন সায়মা। যেতে যেতে ফিসফিসিয়ে বললেন তিনি;-
–” খাওয়া ছাড়া এই জীবনে আর কি আছে? আর এই দুইদিনের পোলা আমার খাওয়া ছাড়তে কইতাছে। হুহ, আমারে বলদ পাইছো? তুমি কিছু খাই সুন্দর হইছো। বুঝি না আমি, একটা জাওরা।”
চপিং বোর্ডে সবজি কাটছেন আসফা বেগম।
ওনাকে দেখে ও না দেখার ভাণ করে কিচেনে প্রবেশ করলো ফারিস। ওয়াটার বোতল টা কিচেন কাউন্টারে রেখে পাতিলে করে পানি বসিয়ে স্টোভ অন করলো সে। স্টোভ অন করার শব্দে পেছনে ফিরে তাকালেন আসফা বেগম। ফারিস কে দেখে ফের নিজের কাজে মনোনিবেশ করলেন তিনি।
–” আমার রান্না ঘরে ও তোমার পা বাড়ানো লাগলো?”
ফারিস জবাব দিলো না। পানির মধ্যে লেবু চিপে হাত ধুয়ে বেরিয়ে গেলো সে। আসফা বেগম ছুরিটা শব্দ করে চপিং বোর্ডে রেখে দিলেন। আঁচলে হাত মুছে। হন্তদন্ত পায়ে এগিয়ে গেলেন নিজের ঘরের দিকে। বালিশের পাশ থেকে ফোন টা নিয়ে কল দিলেন কাউকে। ফোন টা রিসিভ হতেই আসফা বললেন;-
–” কেমন আছিস নাফি?”
–” ভালো আন্টি, তুমি?”
–” ভালো নেই, কিন্তু এইবার থাকবো।”
–” কেনো কি হয়েছে?”
–” তুই কোথায়?”
–” আপাতত ছুটিতে বাড়িতে আছি।”
–” একবার ঢাকায় আসবি?”
–” কেনো?”
–” ইসরাহ সিলেট যাবে তাই।”
–” বোনের না সামনে পরীক্ষা?”
–” সমস্যা নেই। তুই পারলে এখনি রওনা দে। সকালের আগে পৌঁছাতে পারলে ভালো হতো।”
নাফি কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভেবে বললো;-
–” আচ্ছা, নেক্সট বাসের টিকেট কাটছি। তুমি চিন্তা করো না আন্টি।”
–” আয় বাবা।”
কল কেটে দিলেন আসফা। ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে প্রাপ্তির হাসি হাসলেন। তিনি বেঁচে থাকতে ফারিস আর যাইহোক; ইসরাহ কে নিয়ে যেতে পারবে না।
ওনার একমাত্র আপন বলতে ইসরাহ ই আছে।
বিজনেস পার্টনারদের সাথে কনফারেন্স কলে কথা শেষ হতেই; কল কেটে ল্যাপটপ টা বন্ধ করে রাখলেন আরহাম সিকদার।
টেবিলের একপাশে থাকা, অফিসের ফাইল গুলো নিয়ে চেক করা শুরু করলেন তিনি। বেশ কয়েক দিন অফিসে না যাওয়ার ফলে; প্রচুর ফাইল পেন্ডিং হয়ে আছে। ম্যানেজার সকালেই সিগনেচারের জন্য পাঠিয়ে ছিলো। ওনার ফাইল দেখার মাঝেই ফারিস নক করে কনফারেন্স রুমে ঢুকলো;-
–” বাবা আসলাম।”
–” এসো এসো।”
সোজা হয়ে বসলেন আরহাম সিকদার। ফারিস ওনার সামনের চেয়ারটায় বসলো। কালো ফুল স্লিভ টি-শার্টটার স্লিভ গুলো কনুই অব্দি গুঁজে নিলো সে। কোমল দৃষ্টিতে আরহাম সিকদার ফারিসের দিকে তাকালেন। নীরবতা ভেঙে ফারিস সুধালো:-
–” ইসরাহ পার্সপোট, ভিসা সব রেডি আব্বু।”
ফারিসের কথার মানে বুঝে; হতাশ শ্বাস ছাড়লেন আরহাম। চেয়ার এগিয়ে আরেকটু সামনে এসে বসলেন তিনি। পর পর দুঃখী কন্ঠে বললেন আরহাম;-
–” তাহলে, এবার ফিরতে তোমার সাথে মেয়েটাকে ও নিয়ে যাবে?”
–” হ্যাঁ।”
–” টিকেট বুকিং শেষ? সব ঠিক করে আমাকে জানালে?”
–” না, টিকেট বুকিং করা বাকি। আমার ফিরে যেতে হবে। আলস্কায় আমার লিটল গার্লের পুরো ভবিষ্যত পড়ে আছে। ওর জন্য তিলে তিলে গড়ে তুলেছি সব।”
–” ভালো।”
–” তোমার পার্সপোট রিনিউ করতে দিয়েছি। দেন তোমাকে ও নিয়ে যাবো। সব ফেলে বাংলাদেশে পড়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না আব্বু। আর তোমরা দুজন ছাড়া আমার এই পৃথিবীতে কেই বা আছে বলো?”
ফারিসের কথা শেষে আরহাম সিকদার বললেন;-
–” আমি আমার জন্মভূমিতেই ভালো আছি জাওয়ান।”
বাবার করা জাওয়ান সম্বোধনে আচানক চোখ তুলে আরহাম সিকদারের দিকে তাকালো ফারিস। ডাক টা ছোটো বেলাতে তার মা ডাকতেন। এর পর বহু বছর আর এই নামে তাকে ডাকেনি কেউ। মায়ের মুখ ছাড়া ডাক টা কারো মুখেই সহ্য হয় না ফারিসের।
–” আসছি।”
আর এক সেকেন্ড ও দাঁড়ালো না ফারিস। দরজা খুলে বেরোতেই ধাক্কা লাগলো ইসরাহ সাথে। মলিন হেসে ইসরাহ দিকে তাকালো সে। পানিতে টলমল করছে ইসরাহ অক্ষি যুগল। ব্যতিব্যস্ত হয়ে ইসরাহ গাল চেপে ধরলো ফারিস। অবাক কন্ঠে বললো সে;-
–” কাঁদছো কেন লিটল গার্ল? কেউ কিছু বলেছে জান?”
ফারিসের প্রশ্নে ইসরাহ আলতো হাতে ধাক্কা দিলো ফারিসের বুকে। তার নমনীয় হাতের ধাক্কায় কিছুই হলো না ফারিসের। এগিয়ে এসে ইসরাহ দু’চোখ মুছে, নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো তাকে।
–” তোমার চোখে পানি কেন লিটল গার্ল? আমার সহ্য হয় না তোমার চোখে পানির অস্তিত্ব। শরীর ব্যথা করছে? ডক্টরের কাছে যাবে?”
ফারিসের ব্যস্ততা দেখে ইসরাহ শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তাকে। বুকে মুখ গুঁজে করুণ কন্ঠে সুধালো সে;-
–” আপনি আবার আমেরিকা ফিরে যাবেন ফারিস? আবার সেই বারো বছর আগের মতোই আপনি হারিয়ে যাবেন। আমি পারবো না সহ্য করতে। ওই দেশে আপনার তো সব আছে। কিন্তু আমার যে আপনি ছাড়া কেউ নেই। অভ্যাসে পরিণত হয়ে এখন পালানোর ফন্দি আটছেন? আমি আপনাকে ছাড়বো না।”
ফারিস ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো।
–” রিলাক্স লিটল প্রিন্সেস! তোমার ফারিস তোমাকে ছাড়া এক পা ও নড়বে না এই বাড়ি থেকে। তোমার পার্সপোটের কথা বলেছি আমি।”
চলবে
Share On:
TAGS: She is my obsession, নবনীতা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
She is my Obsession পর্ব ১৬
-
She is my Obsession পর্ব ২৪
-
She is my Obsession পর্ব ৭
-
She is my Obsession পর্ব ২
-
জল তরঙ্গের প্রেম পর্ব ৭
-
জল তরঙ্গের প্রেম গল্পের লিংক
-
She is my Obsession পর্ব ২৯
-
She is my Obsession পর্ব ১০
-
She is my Obsession পর্ব ৮
-
She is my Obsession পর্ব ১৫