She_is_my_Obsession
পর্ব :১৪
লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি
–” ইসরাহ উঠে আয়!”
মায়ের কথায় যন্ত্রের পুতুলের ন্যায় ফারিসের দিকে তাকালো ইসরাহ। ইসরাহ কে তাকাতে দেখে ফারিস দৃঢ় কন্ঠে সুধালো;-
–” লিটল গার্ল তুমি এক পা ও নড়বে না।”
তেতে উঠলেন আসফা। ছেলেটা এইবার বড্ড বেশী করছে। কঠিন গলায় আসফা বললেন;-
–” ইসরাহ তোকে উঠতে বলেছি।”
ফারিস আর আসফা বেগমের কথায় খাবড়ে গেলো ইসরাহ। ভর্য়াত চোখে সে ফের তাকালো ফারিসের দিকে। মৃদ্যু হাসলো ফারিস। ইসরাহ থুতনি ধরে কপালে চুমু খেয়ে বললো সে ;-
–” আমাকে ভালোবাসো প্রিন্সেস?”
উপর নিচ মাথা নাড়ালো ইসরাহ। যার মানে হ্যাঁ। তৃপ্তির হাসি হাসলো ফারিস। বারো বছর কষ্ট পেয়েছে মেয়েটার জন্য। এইবার আর কেউ তাদের আলাদা করতে পারবে না। সেই হিসেব করে আটঘাট বেঁধেই ময়দানে নেমেছে ফারিস জাওয়ান। ইসরাহ হাত জোড়া মুঠোয় পুরে নেশাক্ত চোখে তাকালো ফারিস। বাম চোখ টিপুনী কেটে সে বললো;-
–” মুখে বলো সুইট হার্ট! কেউ কিছু বলবে না তোমায় প্রিন্সেস। আমি আছি।”
–” বা.. সি।”
–” বিয়ে করবে?”
–” হ্….হ্যাঁ।”
–” আমেরিকা, যাবে আমার সাথে?”
–” যাবো।”
ইসরাহর কথা শুনে বুকে ব্যথা লাগলো রওনাফের। তার ভালোবাসা, হঠাৎ একজন এসে কেড়ে নিয়ে যাবে? রওনাফ বেঁচে থাকতে তা হতে দিবে না।
–” ইসরাহ কি বলছে এসব? আংকেল আপনি কিছু বলুন? আমার কিন্তু আর ভালো লাগছে না।”
আরহাম সিকদারের দিকে তাকিয়ে রওনাফ বললো। রওনাফের কথায় আরহাম সিকদার এগিয়ে এলেন। ফারিসের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে প্রশ্ন করলেন তিনি;-
–” তুমি কি চাইছো ফারিস?”
–” আমার ওয়াইফ কে!”
ফারিসের কথা শেষ হতেই, তীক্ষ্ম কন্ঠে আসফা বেগম প্রশ্ন করলেন;-
–” ইসরাহ তোমার ওয়াইফ হলো কিভাবে?”
পকেট থেকে রঙ চটে যাওয়া একটা নীল কাগজ বের করলো ফারিস। চার ভাঁজের কাগজ টা মেলে ধরলো সবার সামনে।
–” ম্যারেজ রেজিস্ট্রি পেপার, বথ অফ আস হ্যাভ সিগনেচার। অলদো আই অ্যাম নট অব্লাইজড টু শো ইউ প্রুফ। জাস্ট শোয়িং আপ ইন অনার অফ মাই লিটল গার্ল।”
রওনাফ কাগজ টা এক প্রকার কেড়ে নিলো ফারিসের হাত থেকে। চোয়াল শক্ত করে কাগজটাতে চোখ বুলালো রওনাফ।
বরের জায়গায় গুটি গুটি ইংরেজি অক্ষরে ফারিস জাওয়ান লেখা। কনের জায়গায় আঁকা বাঁকা হাতের লেখায় ইসরাহ মুনতাসীর লেখা। নাম গুলো দেখে মিইয়ে গেলো রওনাফের চেহারা। ফারিস হাত বাড়িয়ে কাবিন নামা টা নিয়ে নিলো রওনাফের হাত থেকে। বাঁকা কন্ঠে সুধালো সে;-
–” আর কোনো ডাউট আছে মিস্টার ভূঁইয়ান?”
ফারিসের কথার উত্তর দিলো না রওনাফ। আসফা বেগমের সামনে এসে দাঁড়ালো সে।
–” এসব কি আন্টি? ইসরাহর যদি আগেই বিয়ে হয়ে থাকে তাহলে, তাহলে এসব কেনো?”
–” এই সব কিছুই মিথ্যা। ইসরাহর বাবা তুমি কিছু বলো! থামাও তোমার ছেলে কে!”
–” ছেলে মানে?”
উপস্থিত গেস্টদের মধ্যে সবাই আরো উৎসুক হয়ে উঠলো। স্টেজে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা আরহাম সিকদারের ছেলে কথাটা শুনে। আরহাম সিকদারের আগের পক্ষের একটা ছেলে আছে। এটা ওনার গুটি কয়েক আত্মীয় স্বজন আর বিজনেস পার্টনাররা জানেন। কিন্তু সে কি এই ছেলেই তা সঠিক ভাবে জানা নেই কারো।
আসফা বেগম কাঁচুমাচু মুখে আরহাম সিকদারের দিকে তাকিয়ে আছেন। মুখ ফসকে কি বলে ফেললেন তিনি। এতক্ষণ তাও মান সম্মান যা ছিলো। এখন তাও গেলো। ছেলেটা হঠাৎ বিদেশ থেকে ফিরে এসে যে, এমন গন্ডগোল পাকাবে তা জানলে; এতো বড়ো অনুষ্ঠানের আয়োজন তিনি করতেন না। তার সাথে আসফা বেগমের এটাও মাথায় এলো না, ইসরাহর এমন হঠাৎ পরিবর্তনের কারণ। ইসরাহর ভয় পেয়ে বর শিকার করার মেয়ে না। তাহলে কি, সত্যিই মেয়ে টা ফারিস কে ভালোবাসে? মূহূর্তেই মাথা থেকে বাজে চিন্তা গুলো ঝেরে ফেলতে চাইলেন আসফা। এসব হতে পারে না।
–” প্লিজ কেউ তো কিছু বলুন?”
–” বেয়াই সাহেব দয়া করে মুখ খুলুন। এতো হেয়ালি পনা ভালো লাগছে না।”
রওনাফের বাবার কথায় বিচক্ষণ চোখে ফারিস আর ইসরাহ দুজন কে একবার দেখে নিলেন আরহাম সিকদার। তিনি চান ফারিস ইসরাহ কে পাক। ছেলে – মেয়ে দুটো একসাথে খুব খুশি থাকুক। তিনি কিছুই দিতে পারেননি ফারিস কে। থেমে দৃঢ় কন্ঠে স্বীকার করলেন আরহাম;-
–” হ্যাঁ, ফারিস আমার ছেলে।”
–” আচ্ছা, তাহলে তো ইসরাহ ওনার বোন হয়। তবে বিয়ের কথা আসছে কোথা থেকে?”
–” রওনাফ ঠিক বলেছে বেয়াই সাব। শুরু থেকেই তো সব ঠিক ছিলো। তাহলে এখন এসব কি শুনছি। আমার একমাত্র ছেলের বিয়েতে নিশ্চয়ই আমাদের এসব কাম্য নয়।”
–” ইসরাহ আর ফারিসের বৈবাহিক সম্পর্ক হালাল হবে।”
আরহাম সিকদারের কথায় আঁতকে উঠলেন আসফা। অবাক কন্ঠে তিনি আরহাম সিকদারের উদ্দেশ্যে সুধালেন;-
–” বৈবাহিক সম্পর্ক হালাল মানে? কি বলতে চাইছো আরহাম? এই বিয়ে তুমি মেনে নিতে চাইছো? তোমার ছেলের অন্যায় আবদার তুমি গ্রহণ করছো?”
–” হালাল সম্পর্ক অস্বীকার করার মানেই হয় না।”
–” এটা তো কথা ছিলো না আরহাম। এখন এই ভাবে, এসব কথার কোনো মানেই হয় না।”
ওনাদের কথার মাঝেই সামনের দিকে তাকিয়ে, দু”আঙুলে তুড়ি বাজিয়ে ফারিস সুধালো;-
–” এট দ্য এভরিওয়ান, আপনারা দয়া করে খাওয়া দাওয়া করে বাড়ি যেতে পারেন। না খেলে ও সমস্যা নেই। আর নাটক অবশিষ্ট নেই। ফারিস জাওয়ানের বেশি মানুষ পছন্দ না। আপনারা আসতে পারেন।”
ফারিসের গম্ভীর কন্ঠে বলা কথাগুলোয় অপমান বোধ করলেন গেস্টরা। একে একে সবাই চলে যেতে শুরু করলো। হতাশ হয়ে আরহাম সিকদার গিয়ে সোফায় বসে পড়লেন। ওনার আর কিছুই বলার নেই। গেস্টরা বেরোতেই সোজা হয়ে বসলো ফারিস। শরীর থেকে কালো ব্লেজার টা খুলে নিলো সে। সাদা শার্টের স্লিপ গুলো ভাঁজ করে নিলো কনুই অব্দি। শার্টের উপরের দিকের দুটো বোতাম খুলে, চুল গুলো ঠিক করলো নিলো সে।
ঘাড় বাঁকিয়ে পাশে বসা ইসরাহর দিকে সরু চোখে পরোখ করলো ফারিস। মাথার লাল ওড়না টা খুলে, ফারহানা সিকদারের শাড়ির আঁচল টা নিয়ে ইসরাহর মাথার উপর ঘোমটা টেনে দিলো। ফারিসের প্রতিটা কাজ শান্ত চোখে চাইলো ইসরাহ। টু শব্দটি করলো না সে।
–” এই পেজ টা বাদ দিন কাজি সাহেব। নতুন করে লিখুন সবটা। আমি বলছি।”
এতক্ষণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করা কাজি সাহেব এবার নড়ে চড়ে বসলেন। ছেলেটা যে বেশি সুবিধার না তা ওনার বেশ ভালোই বুঝা হয়ে গেছে। তাই বিনা বাক্যে পৃষ্ঠা পাল্টে নতুন পৃষ্ঠায় লিখতে নিলেন উনি।
–” আপনি পৃষ্ঠা পাল্টাবেন না কাজি সাহেব। ইসরাহর আমার সাথেই বিয়ে হবে।”
–” কিভাবে শুনি?”
ফারিসের তাচ্ছিল্যে মাখা কন্ঠে কিঞ্চিত ভড়কালো রওনাফ। তবুও নিজেকে শান্ত রেখে রওনাফ বললো;-
–” আমি পুলিশ কে খবর দিবো।”
–” আচ্ছা..!”
রওনাফের ধমকে ধীরে সুস্থে দাঁড়ালো ফারিস। কোমরে হাত ঠেকিয়ে কালো নলের পিস্তল টা বের করে রওনাফের কপালে ঠেকালো ফারিস। চোখ বড় করে গুরুগম্ভীর কন্ঠে, সবার দিকে তাকিয়ে বললো;-
–” কেউ এক পা এগোলে, ডিরেক্ট এখানেই শ্যুট করবো। আমি কিন্তু মোটেও ভালো মানুষ না।”
–” আরহাম দেখো! থামাও তোমার ছেলেকে। এখানে এসে মাস্তানি করছে।”
–” স্টেপ মম প্লিজ স্টপ। ম্যাগাজিন ভর্তি আছে বুলেটে। চালাবো নাকি একটা বুলেট? আপনার মাথায় চালাবো? নাকি আপনার সো ক্লোড না হওয়া জামাইয়ের মাথায়?”
–” ফা..রিস? বন্দুক আপনি, খুন করেন?”
ইসরাহর কাঁপা কন্ঠে ধ্যান ভাঙলো ফারিসের।
–” শিট, নো নো ; এটা হতে পারে না কি করলাম।”
বির বির করে কথা গুলো বলে। পিস্তল টা আবার পকেটে পুরে নিলো ফারিস। তড়িঘড়ি করে ইসরাহর সামনে হাঁটু মুড়ে বসে সুধালো সে;-
–” ইটস জাস্ট ফান। লিটল গার্ল, আমরা তো এখন বিয়ে করবো সুইট হার্ট। আপাতত বিয়েতে ফোকাস দেই প্রিন্সেস?”
–” আমার ভয় করছে আপনাকে। আপনার কাছে বন্দুক আছে।”
ইসরাহর কথায় সাহস পেলেন আসফা। একটু এগিয়ে এসে মেয়ে কে বললো ;-
–” হ্যাঁ ইসরাহ চলে আসো আম্মু। তোমার তো রওনাফের সাথে বিয়ে হবে তাই না।”
–” স্টপ, শ্যুট করবো কিন্তু। আপনার লেখা হয়েছে?”
–” হ্যাঁ বাবা।”
–“বরের নাম ফারিস জাওয়ান সিকদার। কাবিনে আমি ফারিস জাওয়ানকেই লিখবেন। আমি আমার লিটল গার্লের কাবিন।”
–” কাবিনে তো টাকা দিতে হয় বাবা।”
–” আমার লিটল গার্ল কে, আমি আমার আমিটাকেই দিবো। ওটাই লিখুন, পারবেন না…?”
–” লিখছি লিখছি। তুমি শান্ত মাথায় বসো।”
–” ওকে!”
চলবে
Share On:
TAGS: She is my obsession, নবনীতা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
She is my Obsession পর্ব ৯
-
She is my Obsession পর্ব ২০
-
She is my Obsession পর্ব ২২
-
She is my Obsession পর্ব ১৯
-
She is my Obsession পর্ব ১৭
-
She is my Obsession পর্ব ১
-
She is my Obsession পর্ব ২৫
-
She is my Obsession পর্ব ২৪
-
She is my Obsession পর্ব ১০
-
She is my Obsession পর্ব ৫