Love_or_Hate
|#পর্ব২২|
ইভেলিনা_তূর্জ
🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
🚫প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্তমনস্কদের জন্যে।
এতদিন তুই যা যা করতে বলেছিস,একটাও আমি অমান্য করিনি এড’শ।
মিরাবের কণ্ঠস্বর কাঁপছে না,কিন্তু প্রতিটা শব্দের ভেতরে জমে আছে বহুদিনের না বলা ক্লান্তি।
যেভাবে বলেছিস, ঠিক সেভাবেই মেনেছি,রোজকে ভালো রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।খেয়াল রেখেছি মেয়েটার।প্যান্টহাউসে যেনো এক সেকেন্ডের জন্যেও ওর অস্বস্তিবোধ না হয়,সেটার জন্যে যা যা করা দরকার সব করেছি।
একটু থামে সে।
হ্যাঁ, এটা ঠিক, শুরুর দিকে রোজকে আমার ভালো লাগতো না।
এই স্বীকারোক্তিটা যেনো নিজের বুক থেকেই টেনে বের করে আনে।
কারণ জানিস কেন?যেই আদ্রিয়ান শাহ বছরে এক -দু’বার তুরস্কে এসে
আনানের কাছে এক রাত কাটিয়ে চলে যেতো,সে হঠাৎ করে একটা সামান্য মেয়ের কারণে
তাও আবার কেউ হয় না।তার জন্যে আমাদের কাছেই থাকতে শুরু করলো।তাও ভালো এট’লিস্ট রোজের কারণে আনান তোকে অনেকটা দিন কাছে পেয়েছে,
তবে মীরাবের গলায় এবার তীক্ষ্ণতা।
“কই, আনানকে তো আমি আমার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি।দিনের পর দিন আগলে রেখেছি।নিঃস্বার্থভাবে।তারপরেও কি কখনো অভিযোগ করেছি?কখনো কিছু চেয়েছি?কে হয় আনান আমার??।
একটু হেসে নেয় কিন্তু সেই হাসিতে কোনো উষ্ণতা নেই।
রোজকে না দেখলে আমি জানতেই পারতাম না।
একটা মেয়েকে তুই তোর প্রায়োরিটি লিস্টে
এতো উপরে জায়গা দিয়ে দিতে পারিস।খোঁজে না পেয়ে পাগলের মতো আচরণ শুরু করে দিয়েছিস
বেদিশা হয়ে পড়েছিস।
আর এখন,
এখন রাগের বশে তুই আমাকে ব্লেম দিচ্ছিস, আদ্রিয়ান?সব দোষ আমার??
সিরিয়াসলি??……….
হাত দুটো মুঠো হয়ে আসে।আদ্রিয়ান সামনে গিয়ে দাঁড়ায় মিরাব।আদ্রিয়ানের কানে মিরাবের বলা কথাগুলো পৌঁছেছে কিনা কে জানে।আদ্রিয়ান হাতের তর্জুনী দিয়ে কপাল অনবরত স্লাইড করছে।শরীরেী মাংসপেশি উত্তপ্ত হয়ে শার্ট ভেদ করে বেরিয়ে আসার ন্যায়।মিরাব আবার বলতে শুরু করলো।
তুই কি সেন্সে আছিস??তুই জানিস আমি কী করেছি, কেন করেছি সব জেনেও আমার দিকে আঙুল তুলছিস?আমি সব করেছি তোকে খুশি রাখার জন্য।আনানকে ভালো রাখার জন্যে। ছেলেটাকে ঘুম পারিয়েছি অনেক কষ্টে।রোজ রোজ বলে কেঁদেই চলেছে। এখানে আমার দোষটা কোথায় বল।তুই সব দোষ আমার ঘাড়ে কেন চাপাচ্ছিস।রোজকে নিখোঁজ ওকে বিপদে আমি ফেলছি???
“যাস্ট সাট আপ মিরাব।-আদ্রিয়ানের কন্ঠধ্বনির হুঙ্কারে এক পাঁ পিছিয়ে গেলো মিরাব।আদ্রিয়ান নিজেকে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।আদ্রিয়ানের চোখে মুখে অধীর তিক্ততার প্রতিচ্ছবি।যেনো তার তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক সবটা কিছুটা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।আদ্রিয়ান মিরাবকে উপর রাগের উপর গর্জন তুললেও মন মস্তিষ্কে নিজেকে দায়ী করছিলো যেনো সাংকেতিক ভাবে আদ্রিয়ানের কাছে রোজের নিঁখুজ হওয়ার পিছনের কারণটা স্পষ্ট হলেও ঝাপসা।ফ্লোরে পড়া নিজের মোবাইল ফোনটা তুলে ডেনমার্কে কল লাগালো।চোয়ালের পেশি থরথর করে কাঁপতে লাগলো।ওপাশ থেকে আবরারের কন্ঠ ভেসে আসে।
—–” জ্বি বস বলুন।কোনো সমস্যা হয়েছে আবার??কি করতে হবে যাস্ট অর্ডার মি।আই উইল হ্যান্ডেল রাইট নাও।যাস্ট অর্ডার মি বস্।
আদ্রিয়ানের সৌষ্ঠব বুক উঠানামা করছে অনবরত। ক্ষীণ কন্ঠস্বর হাঁকিয়ে বলল,
——“তুর্কি তে চলে আসো।তারপর বলছি।কাম ফাস্ট রাইট নাও।নাথিং ইজ্ অল রাইট।
কলের ওপাশ থেকে আবরারের কাছে আদ্রিয়ানের বিচলিত কন্ঠের পূর্বাভাস পরিলক্ষিত হলে আবরার তড়িৎ গতিতে দ্বি- শব্দে বলল,
—“ওকে বস্।
আবরারের কল কাটতেই আদ্রিয়ান ধপ্ করে সোফায় বসে পড়ে।মাথাটা ভার মনে হচ্ছে।তবে কিছুতেই কিছু মিল খোঁজে পাচ্ছিলো না।এমনটা হওয়ার কথাই ছিলো না।তুরস্ক তো সবচেয়ে সেই’ফজোন ছিলো।আদ্রিয়ান পরক্ষণেই শক্তচোয়ালের উগ্রকন্ঠে বিড়বিড় করতে লাগলো।
—“শুঁকতারার গায়ে একটা আঁচড়ও যদি লাগে, কেয়ামত দেখিয়ে ছাড়বো দুনিয়াকে।”
রোজের মাথার কাছেই দাঁড়িয়ে আছে সুঠাম দেহের দীর্ঘ অবয়ব হাঁটু ছোঁয়া বোল্ড কালো ড্রেসে রাশিয়ান নারী মাফিয়া, ক্যাটরিনা ক্ল্যান। বেসমেন্টের হলদেটে, টিমটিমে আলোটা যেনো ধীরে ধীরে রোজকেই গ্রাস করে নিচ্ছে আলো আছে, কিন্তু উষ্ণতা নেই, আছে কেবল শীতল নির্লিপ্তি। রোজের চোখ ঝাপসা, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নারীর মুখাবয়ব স্পষ্ট হয় না চারপাশে তাকাতে গিয়েই সে টের পায়, কক্ষটা খালি নয় এলোপাতাড়ি ছড়িয়ে থাকা আরও বেশ কিছু নারীদেহ নীরবতায় ডুবে আছে। কারও নিঃশ্বাস শোনা যায়, কারও যায় না জীবনের আর মৃত্যুর মাঝখানে ঝুলে থাকা এক অচেনা স্তব্ধতা।
রোজ মুখের ওপর পড়া চুল সরাতে হাত তুলতেই মুহূর্তে কব্জিটা শক্ত করে ধরে ফেলে ক্যাটরিনা।
রোজের বাঁ হাতের তালুর তলায় কালো কালি দিয়ে খোদাই করা কোড—asset R-17, blue veil ঠান্ডা দৃষ্টিতে ক্যাটরিনার পড়তে থাকে । শুধু রোজ নয়, অন্ধকার বেসমেন্টে উপস্থিত প্রতিটি নারীর হাতেই আলাদা আলাদা কোড বসানো নাম নেই, পরিচয় নেই আছে কেবল সংখ্যা, রঙ, শ্রেণিবিন্যাস। রোজের মাথার ভেতর টনটন ব্যথা জেগে ওঠে, যেন কেউ শক্ত হাতুড়ি দিয়ে বারবার আঘাত করছে। মাইগ্রেনের ঢেউ উঠতেই নীল শাড়ির রমণী নিজের শরীর নাড়াতে চেষ্টা করে সঙ্গে সঙ্গে ক্যাটরিনা নির্দয় হাতে রোজের চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে। ব্যথায় মুখাবয়ব কালচে হয়ে ওঠে রমণীর, দেহ অবশ চোখ স্থির, শ্বাস ভারী হচ্ছে ক্রমাগত। রোজ দুর্বল হাতে সেই কব্জি ঠেলে নিজেকে সরাতে চায়, কিন্তু শক্তির হিসাব এখানেই শেষ।
—–“ক… কে আপনি? আমাকে কোথায় নিয়ে এসেছেন?—কণ্ঠস্বরটা যেন তার নিজের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করছে। টেনে হিঁচড়ে আনার ছাপ নীল শাড়ির ভাঁজে স্পষ্ট, চুল উস্কোখুস্কো হয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে আছে,ফর্সা, লালস্যময় মুখটা ফ্যাকাসে,কত ঘণ্টা অচেতন ছিল, কে জানে।
ক্যাটরিনা এক মুহূর্তে রোজের মুখের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছুড়ে দেয়, ঠোঁট বাঁকায়,ঘাড়ছোঁয়া ছোট চুলগুলো অনায়াসে পিছনে ছুড়ে দিয়ে
—-“লিসেন্ট।মাফিয়া প্যালেসে নারীদের আগমন নতুন নয় তবে তোমাকে কেন জানি এক্সপেন্সিভ স্লাট মনে হচ্ছে। আজকে মেইবি বেস্ট ডিলার তুমি পাবে।চওড়া দামে উঠবে।”
কথাটা কানে বজ্রাঘাত করে রোজের।নিজের বা হাতটা মুখের সামনে এনে ঘৃণা ভরা চাহনিতে ডান হাত দিয়ে ঘষতে শুরু করে লিখাটা।
—-“আপনি একজন মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের ব্যাপারে এমন জঘন্য কথা কি করে বলতে পারেন।আমি কোনো এসেট্ নই।কোথায় নিয়ে এসেছেন কে আপনি??!
রোজের ভোলাবালা কথায় উচ্চশব্দে হেসে উঠলো ক্যাটরিনা।
—-“লাইক সিরিয়াসলি??তুমি এখনো বুঝতে পারো নি তুমি কোথায় আছো??ইউ আর ইন রাশিয়া পো’রগার্ল। মাঝ সমুদ্রে ভোলচর আইল্যান্ডে।নরকে প্রবেশ করে নরক রাণীর কাছে কৈফিয়ত চাইছো।অ্যাম অ্যা মন্সটার ক্যাট মাফিয়া কুইন।আর তোমাকে এখানে কেন আনা হয়েছে জানো??
ক্যাটরিনা নিজের নিজের বুকপকেট থেকে রিভলভারটা বের করে উন্মুক্ত থাই এর উপর স্লাইড করে ঠোঁট কামড়িয়ে বিশ্রি একটা হাসির রেখা টানলো ঠোঁটের অগ্রভাগে।হাতের ইশারা করলো রোজকে, পুরো কক্ষজোরে এতো এতো নারী দেহ পড়ে থাকতে দেখে রোজের বুক মুচড়ে উঠলো।জীর্ণশীর্ণ চাহনি নিক্ষেপ করে বলল,
—“কেনো??”
—–“পোরগার্ল আজ রাতেই টের পাবে।মহাভোজ এর আয়োজন চলছে।নিউ ইয়ার সেলিব্রিট হবে বিশাল করে এই মাফিয়া প্যালেসে।মাফিয়াদের সম্পর্কে তোমার ধারণা আছে নিশ্চয়ই??-ক্যাটরিনা উঠে দাঁড়ালো। রিভলবার তাক করলো রোজের দিকে যেনো রোজ ভয়ে সিটিয়ে যায়।রোজের উপর ক্লোরোফর্মের প্রভাব এতো তাড়াতাড়ি কেটে যাওয়ায় ক্যাটরিনা বেশ্ নির্দয় ভঙ্গিমায় কক্ষের কর্ণারের কালো রঙের কাঠের বোর্ড ক্যাবিনেটে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রিভলবার দিয়ে ঠক্ ঠক্ শব্দ করতে লাগলো।
—-“আমি আগেও বলেছি তোমাকে এক্সপেন্সিভ স্লাট মনে হচ্ছে।বড়ই অদ্ভুত যখন দেখলাম তোমার বাঁ পায়ে সিক্স ফিঙ্গার।তুমি চাইলে ডিলারদের হাত থেকে বাঁচতে পারো, আজ রাতে রয়াল বিল্ডিং থেকে এই প্যালেসে পনেরোজন মাফিয়া বস্ রা আসবে, তুমি যদি মাফিয়াদের মন খুশি করতে পারো বেঁচে যাবে ডিলারদের কাছ থেকে।আর যদি না পারো বাকিদের মতো বেচে দেয়া হবে তোমাকেও ফ’রেইনার ডিলারদের কাছে।
ক্যাটরিনার কথার তরুণ রোজের ক্ষুদ্রমস্তিষ্ক বুঝে উঠতে পারলো।এ এক জাহান্নাম পুড়ি।এক পশুরদের দরবারে খোদা এনে হাজির করেছে তাকে।বক্ষপিঞ্জরের ভিতরের দূর্বার যন্ত্রটা যেনো দৌড়পাল্লায় নেমেছে কোনো ভয়ানক অশ্বের সাপেক্ষে। হায় খোদা রেহাই কি করে পাবে এর কি কোনো পরিত্রান পাবে সে মনে মনে আওড়ালো এ কেমন কেয়ামত খোদা।কথাগুলো যেনো তার সমস্ত দেহে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে দিয়েছে।এমন অস্তিত্বকর পরিবেশের সম্মুখীন কেন হলো সে সারা শরীর ঘুলিয়ে উঠছে।কক্ষের বাহিরে থেকে কেমন বিদঘুটে তেজস্ক্রিয় পদার্থের সহিত অ্যালকোহলের গন্ধে রোজের পেটের নাড়ি, পাকস্থলীর উগরে বেরিয়ে আসবে এমন মনে হচ্ছে।রোজ ঘৃণায় আড়ষ্ট হয়ে মুখ চেপে ধরে ফেললো।রোজের এমন অবস্থা দেখে ক্যাটরিনা কপাল ভাজ করে বাঁকা হাসলো। মেয়েটা কেমন ছটপট করছে শুধু তার মুখ থেকে সামান্য কিছু শব্দ কনিকা শুনে।তবে রোজ তার মহা কাজে আসবে এই ভেবে উল্লাস হাসিতে ফেটে পড়লো ক্যাটরিনা।যেনো কোনো মে’ইলি পশু খাঁচা থেকে বের হয়ে হিংস্রহাসিতে ফেঁটে পড়েছে। ক্যাটরিনা হাতের রিভলবার হাতের মধ্যেমা আঙুলে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে রোজের কাছে এসে দাঁড়ালো।শক্ত হাতের গ্রিবায় টেনে তুললো রোজকে, রোজের শাড়ির আঁচল মেঝেতে পড়তেই রোজ আর থেমে থাকতে পারলো না টপটপ শব্দে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো গলদেশ বেয়ে।লালস্যময়ী তার অনিন্দ্যনীয় শরীরে শাড়ি আঁচল আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে ক্যাটরিণার হাত ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা চালালো।ঘটনাসমূহ দূর্বার দু নারীর মধ্যে হলেও শক্তিতে ক্যাটরিনা রোজের থেকে বহুধাপ এগিয়ে। মস্তিষ্কে যেনো এক মূহুর্তের সকল চিন্তা বাসা বেঁধে ধরেছে।শরীরের সকল প্রকার শক্তি লোপ পেয়েছে।রোজকে টেনে টেনে ক্যাটরিনা কক্ষ ত্যাগ করলো।কক্ষের বাহিরে আসতেই দেখলো এ এক বিশাল রাজকীয় প্যালেস বিশাল তার মঞ্চ। সিলিং এর উপর ঝুলছে কয়েকতালার নান্দনিক ঝাড়বাতি। রোজের নাজেহাল অবস্থায় দেখে ক্যাটরিনা পৈশাচিক উৎফুল্ল কন্ঠে বললো,
—–“আজ রাতের জন্যে প্রস্তুত করবো তোমাকে তার আগে কিছুটা অভ্যস্ত হয়ে নেয়া যাক কি বলো।লাস্যময়ী শরীরটা আজ বেশ্ কাজে আসবে তোমার।পুরুষদের বশ্ করতে এটাই মক্ষম হাতিয়ার হিসেবে কাজে আসবে তোমার।দেখা যাক কার রাতের রাণী হবে তুমি। তার আগে ওয়াচিং সাম ক্লাইমেক্স পোরগার্ল,লেট’স গো।”
রাশিয়ার ভলচর দ্বীপের সুউচ্চ রয়াল বিল্ডিং থেকে খানিক কিলোমিটার দূরে, আরও গভীর জঙ্গলের মাঝখানে ঘন বৃক্ষছায়া আর কুয়াশার স্তরে লুকিয়ে আছে —-প্যালেস অফ ব্রুস্টার। বাইরে থেকে প্যালেসটি যতটা অভিজাত ও ঐশ্বর্যপূর্ণ মনে হয়, ভেতরে পা রাখলেই সেই ভ্রম ভেঙে পড়ে,ভিতরের পরিবেশ নরকসমতুল্যে। যেখানে বিলাস মানে নিষ্ঠুরতা। আর রাজকীয়তা মানে ক্ষমতার উন্মত্ত প্রদর্শন।এই প্যালেসে রাত নামলেই শুরু হয় নীরব লেনদেন। আলো ঝলমলে হলঘর, মার্বেল মেঝে আর সোনালি কারুকাজের আড়ালে বসে থাকে এমন কিছু ‘রাজা’ যাদের পরিচয় সভ্যতার বাইরে। কামনার নামে তারা দর হাঁকে, দর কষাকষিতে উঠে আসে সর্বোচ্চ বিড—নারীদেহ এখানে পণ্য, অনুভূতি এখানে অপ্রয়োজনীয়। নিশির রাতের সেই ডিলে যদিও ছাব্বিশ মাফিয়ার নাম যুক্ত থাকে, ব্রুস্টার প্যালেসে বিড তোলার আসনে বসে কেবল পনেরোজন, নারীদেহলোভী কিছু রাজারা তাদের কামনাবাসনা পূরণে সর্বোচ্চ বিট লাগায় দ্বিগুণ অধম, দ্বিগুণ নৃশংস যাদের চোখে লোভ আর ক্ষমতার ক্ষু*ধা ছাড়া কিছুই নেই।
এই অন্ধকার উইমেন ট্রেফিকিং বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইতালিয়ান মাফিয়া যাকে আন্ডারওয়ার্ল্ডে ডাকা হয় —-দ্য মার্বেল ব্রিস্ট। নারীবাণিজ্যের এই নির্মম সাম্রাজ্যের এক নম্বর পরিচালক সে বাকিরা তার সঙ্গেই ডিলিংয়ে যুক্ত।অংশীদার। যারা আলাদা আলাদা নিজস্ব নোং/রা অপকর্মে জড়িতো।
ক্যাটরিনা রোজকে টেনে উপরের করিডর ভেদ করে বিশাল এক কক্ষে সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়।কক্ষের দরজা সম্পূর্ণ খোলা, ভিতরের দৃশ্য রোজের কোমল চোখজোড়ায় প্রস্ফুটিতো হয়ে উঠে।নয়নে উপচে বয়ে চলা অশ্রু ঝর্ণাকে উপেক্ষা করতে পারলো না আর।এ কেমন দৃশ্যের মুখোমুখি ফেললো তাকে হায় খোদা।ভিতরে সেই মেয়েটা যাকে রোজ ইস্তানবুলে মেলায় হঠাৎ গায়েব হয়ে যেতে দেখেছিলো। রোজ যদি সঠিক দেখে থাকে এই সেই মেয়ে। বুকের ভেতরে মনুষ্যত্বের তিব্র ব্যথা অনুভূতি কম্পন হতে সব উপেক্ষা করে মেয়েটার কাছে অশ্বপর ন্যায় দৌড় দিতে চাইলো তবে ক্যাটরিণার নিষ্ঠুর হাতের চাপে রোজ আড়ষ্ট হয়ে আছে।ঠোঁটের কোণ থেকে শীৎকার বের হয়ে আসতেই পিছন থেকে ক্যাটরিনা রোজের মুখ চেপে ধরে ফেলে।এমন নিষ্টুর দৃশ্য যে নরকযন্ত্রণা থেকেও কঠিন।যেনো একটা খাঁচা বন্দি পশু বহুদিন ক্ষুধার্ত থাকার পর ছাড়া পেয়ে তার শিকারীকে খোবলে খাচ্ছে।রোজের মতো পদ্মফুলের পাপড়ির মতো ব্যাথিত হৃদয় নারী হয়ে অপর নারীর ন*গ্ন শরীর দেখার মতো যন্ত্রণাপূর্ণ দৃশ্য সহ্য করার ক্ষমতা কি করে থাকবে। ফর্সা মুখে হাতের চাপে গালদুটো লাল রক্তবর্ণ ধারণ করে ফেলেছে।রোজের পেটের ভিতর কিছু একটা মুচরে উঠার শব্দে রোজ চোখ জোড়া বন্ধ করে নিলো।
এ কেমন জাহান্নাম খোদা!!!!!
একেমন অশুভ আখ্যান। মানুষরূপী পশুগুলো যেনো দুনিয়াটাকে নরকে রূপ দিয়েছে।নিজের অভিশপ্ত ভাগ্যের প্রতিফলন যেন এক।কোনো নারীর এমন ভারীক্কর শীৎকারের শব্দ রোজ আর শুনেছে কিনা জানা নেই তার।কান দুটো জ্বলসে উঠেছে।তবে বলিষ্ঠ দেহের পুরুষটার অপকর্মে রোজ ঘৃণায় লিপ্ত হলো।পুরুষটার উপরস্থ নগ্ন পিঠের এনাকন্ডা সাপের ট্যাটুটা রোজের চোখে বারবার ভেসে উঠছে।চক্ষুদ্বয় খোলার সাহস হয়ে উঠলো না আর হাঁটুজোড়া ভেঙ্গে পড়তে চাইলো মার্বেল ফ্লোরে।এতো বর্বরতাপূর্ণ নৃশংসতা!!! মেয়েটার মিনতি ভরা কন্ঠধ্বনি রোজের পুরো শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে।
তার পিছনে থাকা নিষ্টুর নারীটার যে নিজেকে গর্ব সূলভ মাফিয়া বলে দাবি করছে তার কর্মে রোজের গাঁ আরও গুলিয়ে উঠলো।কিভাবে পারছে এসবে সাই দিতে নারী হয়ে।তাকেও দেখিয়ে ন*রকযন্ত্রণা অনুভব করাতে।এদের সত্তা কি এতোটাই পৈশাচিক যে মিনতির পরোয়া করে না।বুকের ভেতর ভার জমা হতেই হতেই মদের বিদঘুটে গন্ধে বমির উপক্রমশ বাড়তে থাকে।ছটপট করেও ছাড়া পায় না ক্যাটরিনার হাত থেকে।ক্যাটরিনার শক্ত হাতের চাপে পেটেট ভেতরের আস্তরণ টায় কেমন অদ্ভুত ব্যথা অনুভূত হতে থাকে।নিঃশ্বাসের ভারী শব্দে ভিতরের নৃশংস নির্মম পুরুষ মার্বেল পিছন ফিরতেই ক্যাটরিনা রোজকে দেয়াল চেপে সরিয়ে নেয়।
তবে রোজের চক্ষুদ্য় মেলতে সামনে এমন এক দৃশ্যে ভেসে উঠে যা দেখার মতো শক্তি রোজের দেহান্তরে আর ছিলো না।হৃদয়ান্তর বীভৎস হয়ে পুড়তে লাগলো।যখন রোজের ব্রাউনিশ টোনের চোখ ক্যাটরিনাকে ভেদ করে কিছু ছবির উপর পড়ে বিশাল জাঁকজমকপূর্ণ হলের সাফেদ রঙা দেয়ালে বেশ্ কিছু ছবি যার মধ্যে একটা
❝ইউভান রিক চৌধুরীর❞স্পাইডারের বর্তমান গ্যাং লিডার মোস্ট ওয়ান্টেড টেরোরিস্ট রিক আলবার্ট।শুধুমাত্র আন্ডারওয়ার্ল্ডে যাকে চিনে সবাই।তবে এখন গোটা জগৎ আর রোজের সামনেও সব কিছু স্পষ্ট ভেসে উঠলো। আর কোনো ছবি রোজ চিনতে না পারলেও এই পুরুষটা মুখাবয়ব রোজ না চিনে কি করে থাকবে,।ইউভানের পাশের বড় ছবিটা ছিলো রুশান আলবার্টের তবে রোজ তাকে চিনে না জানলো না যে এই প্যালেসটা রুশান আলবার্টের গড়া মৃ*ত্যুপুরি।
|রয়াল বিল্ডিং,ভোলচর দ্বীপ |
“প্যালেসের খবর কিছু জানিস???”-দামিয়ানের কন্ঠধ্বনির কোনো প্রতিউত্তর করলো না ইউভান।ইলেকট্রনিক সিগারেট ঠোঁটে পুড়ে ধোঁয়া নির্গত করে অতঃপর দাঁত খিচিয়ে বলে উঠলো।
—-“আমার ধারণা যদি ভুল না হয় জানোয়ারের বাচ্চাটা আজ নিশ্চয়ই আসবে।”!
দামিয়ান একটুকরো তুষারের পানে দৃঢ় দৃষ্টি ফেলে বলল।
—-” আমি বুঝতে পারছি না রিক ঠিক কি করতে চাইছে।”
—-“বুঝার দরকার কি??”-অত:পর তুষার ইউভানের বেডের সামনে এসে হাঁটু মুড়ে বসে পড়ে।ইউভান কিংসাইজের বেডের উপর উল্টো হয়ে শুয়ে আছে।এসির ঠান্ডা বাতাস অথচ বলিষ্ঠ দেহের শার্টের প্রত্যেকটা গুতোম খুলে বেডের মধ্যিখানে শুয়ে মাথা বেড থেকে নামিয়ে বিষাক্ত ধোঁয়া ছুঁড়ে যাচ্ছে।মন মস্তিষ্ক কি বিচল ঘটছে তা ধ্বংসলিলায় মত্ত পুরুষ ব্যতিত কারোর ক্ষমতা নেই উপলব্ধি করার।চোখে অগ্নিশিখার তপ্তলাভার নাট্যমঞ্চ।নিস্তব্ধতার মাঝে ইউভানের ককর্শ হুকুম রুম জোরে এক আতঙ্ক ছড়িয়ে দিলো।
——“ব্রুস্টার প্যালেসে রিক আলবার্ট যাবে।খবর পাঠিয়ে দে। ফুল ডিটেই’লস্ আমার চাই পার্টির। পনোরো জনের মধ্যে ভোলকভের নাম নেই কেনো।স’ন অফ অ্যা বিচ্ টা নিজেকে চালাক ভাবে খুব নাকি রিক আলবার্টের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে……!!!
ইউভানের মুখ থেকে ব্রুস্টার প্যালেসের কথা শুনতেই দামিয়ানের প্রবল আতঙ্কে রুহ ভারী হয়ে উঠার উপক্রম।
——“তুই প্যালেসে যাবি??”
বা হাতের রিভলভারটা দিয়ে খানিক মাথা চুলকে নিলো ইউভান। জিভ দিয়ে গাল ঠেলে রাশভারী আওয়াজে বলল।
—–“আমার অ্যাসেটে আমার যাওয়া বারণ নাকি??”-ইউভান দামিয়ানের চোখের চাহনি দেখে নিদারুণ হাসলো।তুষার ততক্ষণে ইয়ারপিস কানে লাগিয়ে মার্বেল ব্রুিস্টকে কল লাগায়।ইউভানের ক্রোধে ভরা ভঙ্গিমা তুষার আড়ষ্ট করতে পারলেও দামিয়ান মোটেও এক সেকেন্ডও বিশ্বাস করে না।দিনে শতাধিক বার ইউভানের জবানি পরিবর্তন হয়।বুঝতে পারা বড্ড দায়।কতোটা আশ্চর্য কাল অব্দি ইউভান রোজের উপর চিৎকার করে ধ্বংসলিলা চালালো।আজ তদ্রূপ অভিব্যাক্তি ভিন্ন।পুরো আইল্যান্ডে সারিসারি গার্ড চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে দ্বীপের সুরক্ষার ক্ষেত্রে।রাতটা কতোটা ভয়ানক মৃত্যুপুরিতে রূপ নিবে তা কেবল অনুভূতিহীন মানবযন্ত্র টা জানে। দামিয়ান পুনরায় প্রশ্ন জুড়ে বসলো।
—–“তুই কি জানিস রোজ কোথায়।আই মিন তোর ব….!
বাক্যেউক্তি শেষ করতে পারলো না দামিয়ান তার আগে চোখের মাঝে ক্রোধ টেনে হুঙ্কার দিয়ে উঠলো ইউভান।
—-“সাট ইউর মাউথ দামিয়ান।লিমিট ক্রস আমার একদমি পছন্দ না।কে বউ কিসের বউ??ফাক!ফাক!ফাক! শালী আমার ওয়াইফ??লাইক সিরিয়াসলি??দুশ্চরিত্র নারীর দুশ্চরিত্র বংশ ধর।আমায় জ্বালিয়ে মারতে জন্ম নিয়েছে।বা*ন্দীর বাচ্চা।পথের কাটাঁ। কাঁটার মতো গলায় বিঁধে ধরে আছে।
ইউভান ক্রোর হাসলো নিজের চুল নিজে খামচে টেনে ধরে ভিতরের সমস্ত ক্রোধ সত্তা নিষ্ক্রিয় করে।
—–“ভিতরটা আগুনে জ্বলসে যাচ্ছে।সামনে পেলে কি করবো আই ডোন্ট ফাকিং নো।দূর থেকেও বরবাদ করে চলেছে।আই হে’ইট মাই সেলফ।অ’লসো হেইট হার। ড্রাগ নেয়া ছেড়েছি, ঐ নারীর নেশা ড্রাগ থেকেও বড্ড ভয়ানক। এতো নেশা! নেশা! নেশা!রিক আলবার্টকে সব ভুলিয়ে দিচ্ছে ।রিক আলবার্টকে বাদে পৃথিবীর সবার উপর বড্ড করুণা বিশ্বাস তাই না।ঐ বিশ্বাস যদি আমি মুচড়ে না ফেলি অ্যাম নট আ্যা রিয়েল মন্সটার। ফাকিং ডার্ক রোজ।
——-“কেন এমন করছিস রিক।মেয়েটার বিপদ বাড়াচ্ছিস।তুরস্কতে পর্যন্ত সেইফ থাকলো না।তার উপরে একবার যদি ভোলচর দ্বীপে রোজের সম্পর্কে একটা কাক পক্ষিও জানতে পারে না ধরে এনে জানে মে*রে ফেলবে।সি ইজ্ সো ইনোসেন্ট।সি ডিজার্ব অ্যা নরমাল হিউমেন লাইফ।
পরক্ষণেই দুজন গার্ড শুকনো ঢোক গিলে ভিতরে প্রবেশ করে হাতে একটা বড় সিন্ধুক। ইউভান সিন্ধুকটা হাতে নিয়ে হাতের আঙুলের ইশারা করতেই গার্ডগুলো চলে যায়।ইউভান একটা সিক্রেট পিন কোড প্রে’স করতেই সিন্ধুক এর ল’কার খুলে যায় যেটার খুলতেই চকচক করে উঠে পৃথিবীর দামী সাতটা হিরা যাকে বলে -“অবসেডিয়ান শিরা”
ইউভানের পূর্বপুরুষদের সম্পদ।পুরো পৃথিবী যেদিন নিষ্ঠুর মাফিয়া রুশান আলবার্টের মৃত্যু সংবাদ শুনেছিলো, সেদিন থেকে এই অবসেডিয়ান শিরা নিজেদের আয়ত্তে আনতে চেশেছিলো ইতালিয়ান, রাশিয়ানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মাফিয়ারা। তবে এই অবসেডিয়ান শিরাগুলো কোথায় ডেনমার্কের কুলষিতো ক্ষমতালো*ভী রুশান গ্যাংস্টার ব্যতিত কেউ জানতো না।এই অবসেডিয়ান শিরাগুলো এই ভোলচর দ্বীপে রাখা, তাও রয়াল ব্লিডিংয়ের মাটির নিচের স্তরে ইউভানের সাথে কথা বলার ছায়ামানবটার কাছে সুরক্ষিত ভাবে।মূলত তিনিই পাঠিয়েছে ইউভানের কাছে এগুলো।
মধ্যেরাতের শুরু।চারপাশে বনশু*য়োরের গাঁ ছমছম করা শব্দ। তিমিরে ঢাকা অন্ধকারের কুয়াশায় ঢাকা ঘন জঙ্গলেও আজ জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের আলো পুরো ব্রুস্টার প্যালেসকে ঘিরে ধরে রেখেছে।কুলষিত রাতটা কারোর কাছে নিউ ইয়ারের মহাভোজের রাত।নোং/রা নিশির রাতের ডিলের অংশ হয়ে আছে প্যালেসের অন্দরমহলের ভিতরে থাকা অসহায়ত্তে জর্জরিত কিছু নারী। অন্দরমহলের নাট্য মঞ্চ সাজানো হয়েছে দামী মৃল্যবাণ সম্পদে।
রোজ বিশাল ব্যানিটির মিররের সামনে বসে আছে পাথরের ন্যায়।মুখাবয়ব আগের চেয়ে দ্বিগুন ফ্যাকাসে।টানা কয়েকবার ব*মি করার পর পুরো শরীরে জ্বর চলে এসেছে।বিশাল মিররের সামনে রোজ নিজের লাস্যময়ী শরীরের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসলো।পিছন থেকে কিছু কান্নার বিরল শব্দ ভেসে আসছে।তাতে রোজ মনোযোগ প্রদান না করে ভয়ার্ত হয়ে কাঁপতে থাকা একজন মেইল আর্টিস্টকে ইংলিশে বললো,
——-“সাজিয়ে দিন।ইন্ডিয়ান সাজ পারেন।গ্রাউন পড়বো না আমি। ইন্ডিয়ান সাজে সাজিয়ে দিতে পারবেন।আপনি মনে হয় বুঝতে পারছেন না তাই না।আপনি বরং আমার চুল গুলো বেনুনি পাকিয়ে দিন।চুল গুলো বড় তাই না, সুন্দর করে একটা লম্বা বেনুনি করে দিন।”
ফিলিপিনি মেইল আর্টিস্টটা রোজের হুট করে এমন অদ্ভুত আচরণের মানে বুঝতে পারলো না।কিছুক্ষণ আগেও বমি করে অসুস্থ শরীরে পড়ে ছিলো বেডের উপর।চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছিলো কান্না করতে করতে।রোজকে ড্যাপড্যাপ চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেইল আর্টিস্টটা ভূত দেখার মতো ভয় পেতে লাগলো।
রোজ আর কোনো অভিব্যাক্তি প্রকাশ না ঘটিয়ে নৈপুণ্য হাতে চুলগুলো কানের পিছনে গুজে আয়নায় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।চক্ষুদ্বয়ে বিশাল জলরাশি উপেক্ষা করে মনে মনে উপলব্ধি করলো,ইউভান আসলে খারাপ না, একটা হৃদয়হীন জা*নোয়ার। নিজের শরীরের উপর ঘেন্নার লীলাখেলা বইতে লাগলো।এই শরীরটা কতো বার ছুঁয়েছে, না জানি আরও কতো শত নারী ভাবতেই রোজের আবারো গাঁ গুলিয়ে বমি আসার উপক্রম হলো।রোজের চোখের সামনে যেনো সব কিছু আজ স্পষ্ট।
নিষ্ঠুরতম পুরুষটা ঠিক যতটা নিচে নেমেছে, তাকে নামিয়েছে তার দ্বিগুন গুনে গুনে ফিরত দিবে রোজ তুর্জ চৌধুরী।বিড়বিড় ক্ষীণ শব্দ ধ্বনি ফুটে উঠলো গোলাপি ঠোঁটের উগ্রভাগে।
—–“প্রস্তুুত থাকুন ইউভান রিক চৌধুরী,শুরুটা আপনি করেছেন শেষটা না-হয় এই বান্দীকে দিয়ে হউক।
চলবে
পরবর্তী পর্ব পেতে রেসপন্স করুন।নেক্সট পার্ট খুব শীঘ্রই আসছে ২k+ রিয়েক্ট করে দিও।কতোটা এক্সাইটমেন্ট কাজ করছে তা আজকে বুঝা যাবে।❤️🔥👀
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate গল্পের লিংক
-
Love or hate পর্ব ১৮
-
Love or hate পর্ব ৯
-
Love or hate পর্ব ১৭
-
Love or hate পর্ব ১৬
-
Love or hate পর্ব ১০
-
Love or hate পর্ব ২১
-
Love or hate পর্ব ১৫
-
Love or hate পর্ব ২
-
Love or hate পর্ব ৫