Love_or_hate
ইভেলিনা_তূর্জ
পর্ব_২
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ইউভান রোজকে ছেড়ে দিয়ে হনহনিয়ে শাওয়ার নিতে চলে যায়।এদিকে রোজের শরীরটা নিস্তেজ হয়ে বেডে পড়ে আছে।একটা সাদা মখমলে লেপ মুড়িয়ে অঝড়ে কেঁদে যাচ্ছে। পুরো শরীর ব্যথায় চিনচিন করছে।হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ জোড়া মুছে নিজের শরীরে থাকা হিংস্র পশুর কা’মুড়ের ক্ষত চিহ্ন গুলো দেখতে থাকে।ঘৃণায় মন চাচ্ছে নিজেকে শেষ করে দুনিয়ায় মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে।মায়ের মৃত্যুর পর বাবার কোলে পিঠে আদরে মানুষ হ’য়েছে রোজ।পুরো নাম রোজ তূর্জ চৌধুরী। নিজের বাবার উপর প্রচন্ড রাগ ক্ষোভ জমা হলো মনে।যে বাবা নিজের সম্পত্তি বাড়ির জন্যে মেয়েকে একটা দানবের হাতে তুলে দিতে পারে তার মেয়ে হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে এই পশুর ন্যায় শয়তান এর কাছে না হয় জীবন বিলিয়ে দিয়া হাজার গুনে ভালো।কি না বাকি আছে জীবনে সব তো ঐ দানবটা শেষ করে দিয়েছে।মা শব্দটা উচ্চারণ করে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে রোজ।মা হারা হলে বুঝি মেয়েদের জীবন এতটা করুণ হয়।তা নিজেকে দেখলে জানতো না রোজ।গোলাপি ঠোঁট জোড়া লাল হয়ে ফুলে উঠেছে।মুখটা নীলবর্ণ হয়ে ফেঁকাসে হয়ে আছে।প্রচন্ড এসির বাতাসে শরীর টা যেনো আরও কেঁপে উঠলো রোজের।তাও এক চুল নড়লো না বিছানা থেকে।
ইউভান শাওয়ার শেষ করে কোমড়ে একটা সাদা টাওয়াল পেঁচিয়ে রুমে প্রবেশ করে। জিম করার সিক্সপ্যাক বডি দিয়ে অনবরত পানি টুপটুপ করে চুইয়ে পড়ছে।রুমে প্রবেশ করে রোজকে এখনো কাঁদতে দেখে একটা তাচ্ছিল্যে হাসির রেখা টানে।ইউভান রিক চৌধুরী তো এটাই চেয়েছিলো।কাঁদাতেই চেয়েছিলো রোজকে।এবার একটু শান্তি লাগছে তার।সামনে এগিয়ে এসে ড্রয়ার থেকে পেইনকিলার বের করে রোজের মুখের সামনে ধরে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
“নে। পেইনকিলারটা খেয়ে নে।এইটুকুতে কাঁপাকাপি শুরু করে দিলে কি করে হবে ডার্করোজ।”
ইউভানকে দেখেই রোজ ঘৃণায় নাক ছিটকালো।গায়ে জড়ানো লেপটা আরো শক্ত করে নিজের দিকে টেনে নেয়।মুখ ফিরিয়ে ওপাশ হতেই ইউভান লাফিয়ে বেডে উঠে,রোজের চুলে মুঠি ধরে নিজের মুখোমুখি করে নেয়।গাল চেপে রক্তিম চোখে তাকিয়ে বলে,
“এ বাড়িতে আমি যা বলি তা হয়।আমি বলেছি খেতে তার মানে খাবি।আমার সাথে এসব ইউস’ল্যাস তেজ দেখাতে আসবি না।”
রোজ কোনোভাবেই ইউভানের চোখে দৃষ্টি ফেলে তাকায় না।চুপ হয়ে মাথা নিচু করে রাখে।রোজকে নিরুত্তর দেখে ইউভানের পায়ের রক্ত মাথায় চেপে বসে।
“আমার দিকে তাকা।এতো ঘৃণা। কি ভেবেছিস, তুর এই ঘৃণাই আমায় শান্তি দিবে।আমি তো এটাই চাই।”
রোজ এসব তিক্ত কথা আর সহ্য করতে না পেরে। ইচ্ছেমতো কিল ঘুষি মারতে থাকে ইউভানের বুকে।রোজকে এমন বোকার মতো আচরণ করতে দেখে ইউভান নিজের এক হাত দিয়ে রোজের দু হাত চেপে ধরে, রোজের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে ব’লে,
“আহা।ইউ নো।তোর পুরো শরীর যতটা না স’ফট তুলতুলে তার থেকে বেশি হাত গুলো।তোর হাতের আঘাত আমায় আরও কাছে টেনে আনবে তোর”
বাক্যে শেষ করার আগেই ইউভান চ’ট করে রোজের কোমড় জড়িয়ে ধরে। রোজ খাঁচা বন্দী পাখির ন্যায় মুক্ত হতে প্রানপন চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে।ইউভানের চুলের ট’গা বেয়ে পানি গড়িয়ে রোজের মুখ ভিজিয়ে দেয়।রোজ জোরে জোরে শ্বাস টানতে থাকে, অসহ্য লাগছে তার।সামনে থাকা মানুষ রুপি দানবের মুখটা তাকে দিন রাত সহ্য করতে ভেবে কেঁদে উঠে। নিজের করুণ পরিণতির কথা ভেবে চেঁচিয়ে ইউভানের উ’ন্মুক্ত গলার সিলভার চেইনটা টেনে ধরে ব’লে,
কেন এতো বড় ক্ষতি করলেন আমার।কিসের “শএুতা আমার সাথে আপনার।কেন পুরো দুনিয়ায় সামনে আমায় ধ/র্ষি/তা বানালেন।গলা টিপে মেরে দিন।”
“সা’ট আপ। তোকে একেবারে মেরে শান্তি পাবো না।তোকে মেরে তারপর আমি কাকে কাঁদিয়ে শান্তি পাবো বল।তোকে আমি আমার স্পর্শে তিলে তিলে শেষ করবো।”
রোজ এসব আর নিতে পারছে না কান চেপে ধরতেই, ইউভান রোজের ঘাড়ে ও’ষ্ঠে ঠেকিয়ে দেয়।ইউভানের উন্মাদনা স্পর্শ আরও গভীর ক্ষতো আনে রোজের দুধসাদা শরীরে। ইউভান নেশালো কন্ঠে মাতাল হয়ে বলে,
“তোর শরীরে আমার দেয়া দাগ গুলো এতো জোশ্ লাগে কেনো মাই ডার্ক রোজ।”
ইউভান হাত দিয়ে ঠোঁটজোরা মুছে নিয়ে। রোজের অঁধরে আঙুল ছুঁয়ে বাঁকা হেসে বলে,
“পেইনকিলার টা খেয়ে নে।দ্যান শাওয়ার নিয়ে নিচে আয়।ফাস্ট। “
ইউভান রোজের উপর আদেশ ছুড়ে দিয়ে টিশার্ট পড়ে হনহনিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
পুরো একটা ভয়ানক রাত পার হলো রোজের জীবনে। এখনো মনে হচ্ছে যদি এটা কোনো দুঃসপ্ন হতো তার থেকে বড় খুশি আর কেউ হতো না।বিষ্’ন্ন মনে গোধুলি বেলায় বেলকনিতে বসে উদাস মনে বসে চোখের পলকে উলোট পালোট করে দেয়া কালরাএির কথা ভেবে করুণ হাসির টানতেই হঠাৎ নিচ থেকে কিসের যেনো একটা বিক’ট শব্দ কানে ভেসে আসে। ভয়ে বুকটা মোচড় দিয়ে উঠে রোজের। না চাওয়া সত্তেও কি হ’য়েছে কিসের এমন শব্দ হলো দেখার জন্যে গুটিগুটি পায়ে রুম থেকে বের হয়ে সিঁড়ির মাঝ পথে এসে থেমে যায় রোজ।গলা শুকিয়ে কাঠ হওয়ার উপক্রম।শ্যাডো এম্পায়ার যেমন বিশাল বড় লাক্সারিয়াস তার ডাইনিং স্পেস ও আরও মনোমুগ্ধকর। তবে রোজ আঁতকে উঠলো কারণ ইউভান ডাইনিং টেবিলের বসে ইচ্ছেমতো ম’দ গিলছে।এক হাত পুরো র’ক্ত ভিজে তা থেকে টুপটুপ করে র’ক্ত গড়িয়ে মেঝেতে পড়ছে।লোকটা যেনো অনুভূতিশূন্য যান্ত্রিক মানব। যন্ত্রণার ছিটেফোঁটাও চোখে নেই।রোজ শুঁকনো ঢুক গিলে এক পাঁ পিছিয়ে যায়।পুরো মার্বেল ফ্লোরে গ্লাস এর টুকরো গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।রোজের আর বুঝতে বাকি থাকে না ইউভান নিজের হাতে ভে”ঙ্গে ফ্লোরে ফেলেছে।একটা মানুষ কতোটা নিষ্ঠুর আর পাষাণ হৃদয়ের হলে অন্যেকে কষ্ট আঘাত তো দিতে পারেই তাই বলে নিজেকেও।রোজের মাথা ঘুরতে থাকে এমন দৃশ্য চোখে দেখে।ইউভান একের পর এক ড্রিংক’স্ এর গ্লাস শেষ করতে থাকে। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তখনি যখন ইউভান ডার্ক রোজ বলে উঠে। রোজ হতভম্ব হয়ে পড়ে, লোকটা তাকে না দেখে কিভাবে বুঝলো সে এখানেই আছে।এই দানবের হাতে ধরা দিবে না রোজ উল্টো দিকে মুখ করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে নিলেই ইউভান কান ডাউন স্টার্ট করে,
“তিন….দুই… এক।”-চেয়ার থেকে উঠেই রেগে রোজকে গিয়ে ধরে ফেলে। হাত ধরে টেনে নিচে নামাতে থাকে।ইউভান এতো শক্ত করে রোজের হাত ধরে রেখেছে যেনো মূহুর্তেই হাতের হাঁড় ভেঙ্গে যাবে।আহ!করে শব্দ করে রোজ। দাঁত কটমট করে বলে,
“ছাড়ুন, ছেড়ে দিন বলছি আমায়।বারবারি করলে নিজেকে নিজে শেষ করে দিবো।সুইসাইড করবো আমি শুনতে পেয়েছে। আই হে’ইট ইউ, ঘৃণা করি আপনাকে…..
বাক্যে শেষ করার আগেই রোজের গালে চড় এসে পড়ে।ইউভান রাগে গজগজ করতে করতে রোজের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে।দু’হাতে রোজের গাল ধরে ব’লে,
“আই হে’ইট ইউ মোর এন্ মোর।সারারাত এতো আদর দিলাম তাও তেজ কমলো না তোর।আরও চাই নাকি”
“ছিহ:।একটা মানুষ কতোটা নোং’রা মস্তিষ্কের হতে পারে তা আপনাকে না দেখলে জানতাম না।এতই ঘৃণা করলে আমাকে টিস্যুর মতো ব্যবহার করলেন কেন।চলে যেতে দিন আমায়। “
ইউভান রোজের দিকে ঝুঁকে রোজের ঘাড়ে হাত রেখে নিজের দিকে টেনে আনে। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে রোজের মুখের সামনে থাকা চুলগুলো আলতো হাতে কানে গুজে দিয়ে ব’লে,
“তোর মতো এতো কড়া হ’ট বিটারহার্ট কে মেরে আফসোস করতে চাই না।চলে যেতে দিলে আমি কি নিয়ে থাকবো।তুই সারাজীবন এর জন্যে বাঘের খাঁচা বন্দী হ’য়ে গিয়েছিস,আন্ডারস্ট্যান্ড?।আমাকে ছাড়া তোর হাতে অন্য কোনো অপশন আছে আর বল। কোথায় যাবি কার কাছে?? “
ঠিকি তো রোজের তো কেউ নেই।কার কাছে যাবে সে।মরে গেলেও তূর্জ হাউসে আর ফিরবে না।যন্ত্রণায় ছটফট করবে তাও না।বুকটা ছিঁড়ে যাচ্ছে রোজের। চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছে। রোজ ঢোলে পড়ে যেতে নিলেই ইউভান রোজকে পাঁজ কোলে তুলো টেবিলের উপর বসিয়ে দেয়।দু’হাতে রোজকে ঘিরে ধরে রোজের মুখের উপর ওয়াইন ঢেলে দেয়।ম’দের তিব্র ঝাঁঝালো গন্ধে রোজের সমস্ত স্নায়ু টানটান করে তুলে।এমন বিশ্রি গ’ন্ধ সহ্য করতে না পেরে নাক ছিটকালো।প্রচন্ড রাগ উঠলো।সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অমানুষটার উপর।ইউভান তাচ্ছিল্য হেসে উঠে। নিজের ট্যাটুযুক্ত কা’টা হাতটা রোজের সামনে ধরে নিজের হাতেও অ্যালকোহল ঢেলে দেয়। রোজ আঁতকে উঠে, পুরো শরীর শিরশির করে উঠে।র’ক্ত মিস্রিত হাতে ম’দ ঢেলে কি শান্তি পেলো ইনি।রোজ এবার ভয়ে কেঁদে উঠে। রোজের চোখে জল গড়িয়ে পড়তে দেখে ইউভান গালে বাঁকা হাসি টানে, রোজের ঘারে গরম নি:শ্বাস ছেড়ে চুমু খেতে থাকে একেরপর এক।রোজ ইউভানের চুল খামচে ধরে তাকে প্রানপণে সরাতে থাকে। ইউভান মাতাল হয়ে রোজের ললাটের চুল ওষ্ঠ দিয়ে সরাতেই,
মেইন দরজায় কলিং বেল এর শব্দ ভেসে আসে…..
.
.
.
.
.
(চলবে)
[পরবর্তী পর্ব পেতে অবশ্যই রেসপন্স করবেন]🌿🎀
🚫গল্পটার লিগ্যাল লেখিকা আমি। ইভেলিনা তূর্জ।অনেকে এই গল্পটা নিজের নামে চুরি করে চালিয়ে দিচ্ছে।আমার আগে চ্যাট জিপিটি দিয়ে লিখে পর্ব দিয়ে দিচ্ছে।আপনারা সাবধান হোন।আশা করছি আমার লিখার ধরণ আমার নাম আপনারা চিনবেন।⛔
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ২৪
-
Love or hate পর্ব ১৫
-
Love or hate পর্ব ৯
-
Love or hate পর্ব ১১
-
Love or hate পর্ব ১৬
-
love or hate পর্ব ১
-
Love or hate পর্ব ২১
-
Love or hate পর্ব ৭
-
Love or hate পর্ব ২৩
-
Love or hate পর্ব ১৩