Love_or_Hate
| #পর্ব_১৭ |
ইভেলিনা_তূর্জ
কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ❌
অচেনা নাম। অচেনা জায়গা।আর বাইরে নরম কমলা আলোতে কারাহিসারের রাতের হালকা তুষারপাতের শব্দ। সব মিলিয়ে মাথার ভেতর গুমগুম শব্দ তুলছিলো রোজের। মনে হচ্ছিলো যেন পৃথিবীটা একটু ঝুঁকে গেছে তার নিচ থেকে।তবে কি যে লোকটা তাকে বাঁচিয়েছে তার নাম এড’শ..র’ক্তাক্ত দেহটা নিস্তেজ হওয়ার আগে রোজ নিভু নিভু চোখে একটু অবয়ব দেখেছিলো তবে তা ঝাঁপসা ছিলো, মনে হচ্ছিলো মিড নাইট পার্টির লোকটা।তবে তার নাম তো রোজ জানে না। একটা বারের জন্যে জানার আগ্রহ ও প্রকাশ করে নি।ঔ লোকটার নাম কি তবে এড’শ।পরক্ষণেই রোজের বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠলো ইউভানের কথা মনে পড়তেই।দু’হাতে মাথা চেপে ধরে বসলো।ছোট্ট মস্তিষ্কে ইউভানের হিংস্র অবয়বটা ভেসে উঠলো।দানবটা তো তার পিছু নিয়েছিলো, এখন কি করবে রোজ।যদি খোঁজে পেয়ে আবার মারে,আবার কষ্ট দেয়।এবার ধরতে পারলে নিশ্চয়ই জানে মেরে দিবে।রোজের চোখে মুখে লাল আভা ফুটে উঠেছে।চোখজোড়া খোলে যে সামনে তাকাবে তার সাহস পাচ্ছে না।যদি এটা কোনো নাইটম্যায়ার হয়।যদি চোখ খোলে আবার ইউভান নামক নরপিশাচ টার হিংস্রতার কবলে পড়তে হয় তাকে।হঠাৎ রোজকে এমন আচরণ করতে দেখে আনান কপাল ভাজ করে রোজকে স্কেন করতে থাকে। তবে কাছে গেলো না যদি আবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় তাকে রোজ।
ঠিক তখনই দরজার বাইরে কারো হাঁটার শব্দ।
শান্ত, দৃঢ়, অভ্যাসে গম্ভীর হাঁটা।রুমের আলোটা সামান্য নড়ে উঠলো।আনান বিছানা ছেড়ে লাফিয়ে নেমে বাইরের দিকে ছুটে গেলো
-“মিমি!!! -আনান হাত উঁচু করে রোজকে দেখাতে লাগলো।
-“সি হার মিমি।সি ইজ্ ক্রায়িং।হুয়াট হে’পেন্ড হার??
দরজা খুলতেই উষ্ণ আলোয় ভেসে উঠলো মিরাব মালভীয়ার মুখাবয়ব।তুরুস্কের খ্যাতিমান একজন ফি’মেল “psychiatrist” মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। শীতল রাতের মাঝে গায়ে কালো ওভারকোট গলার পাশে উলের স্কার্ফ জড়িয়ে তিনি রোজের দিকে তাকালেন।শান্ত, পেশেন্ট নিরীক্ষণ করা অভ্যাসের যেই চোখে।আনান ছোটাছুটি করে তার সামনে এসে দাঁড়াতেই তিনি এক ঝটকায় সবকিছু বুঝে নিলেন বিছানার কোণে কুঁকড়ে থাকা মেয়েটি যার নাম খুব সম্ভবত রোজ তূর্জ চৌধুরী।আমেরিকার যেই হসপিটালে তিনদিন এড’মিড ছিলো সেই হসপিটালে তার মেডিকেল রিপোর্টগুলো থেকে জেনেছে।রোজ ভয় পাচ্ছে, অতিরিক্ত ভয় পাচ্ছে, এমন ভয় যা শব্দে প্রকাশ করা যায় না। মিরাব মালভীয়া ধীরে ধীরে ভেতরে পা রাখলেন। রুমের আলো তার গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডলে উঠলো।রোজের শ্বাস দ্রুত উঠানামা করছিলো কাঁপছিলো হাত, কাঁপছিলো চোখের পাতা। বিছানার কোণায় সে যেন নিজের মধ্যেই গুটিয়ে যাচ্ছিলো,যেনো কোনো কিছু থেকে পালাতে চাইছে।
কেনোনা একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মানুষের মন পড়তে না পারলেও মন বোঝা -তে তারা প্রায় অবিশ্বাস্য দক্ষ। মিরাব তাই বুঝলো।এগিয়ে আসতেই রোজ এক লাফে মাথা তোলে, চোখ বড় বড় হয়ে তার দিকে তাকায়, ভয় আর অবিশ্বাসে তার কণ্ঠ ভারী হয়ে গেছে,
আপনারা, কে? কে আপনারা? প্লিজ!কেউ আমার কাছে আসবেন না!
আনান মিরাবের পিছন থেকে হতভম্বের মতো তাকিয়ে রইলো, কিন্তু মিরাব কোনো তাড়াহুড়া করলেন না। তিনি শান্ত, অভ্যাসগত ধীরতায় হাতের গ্লাভস খুললেন, ধীরে ধীরে টেবিলে রাখলেন, তারপর কোমল অথচ স্থির স্বরে বললেন,
-“রোজ।breathe! শুধু নিঃশ্বাস নাও!গভীরভাবে। আরো গভীর। মানুষের ভয় শব্দের মতো। শ্বাস নেওয়ার সাথে সাথে যা গলে যায়। তুমি নিরাপদ। এখানে কেউ তোমাকে আঘাত করবে না।বি ফাইন ডিয়ার।
কিন্তু রোজ মাথা ঝাঁকায়, চোখ দুটো তেজে লাল,
“না! না, আমি বিশ্বাস কিভাবে করবো। লোকটা লোকটা আমাকে মেরে ফেলবে। সে আবার খুঁজে পাবে। আপনাদেরও মেরে ফেলবে। আমাকে নিয়ে যাবে। আমি এখানে কেন? আপনারা কে?”
মিরাব এক মুহূর্তও গলা উঁচু করলেন না।বুঝতে পারলো না লেকটা বলতে রোজ কাকে উদ্দেশ্য করলো।তবে মিরাব বরং ধীর পায়ে এগিয়ে এসে রোজের সামনে বেড সমান টোল টেনে বসে পড়লো। কাছ থেকে সে রোজকে পর্যবেক্ষণ করলেন।তারপর তিনি খুব নরম অথচ কর্তৃত্বপূর্ণ কণ্ঠে বলল,
-“Listen to me, Rose…আমি মিরাব। আমি ডাক্তার। তোমার শরীর ও মন এখন দু’টোই আঘাতপ্রাপ্ত।তাই অচেনা জিনিসগুলো বড় হয়ে তোমাকে আঘাত করতে পারে। বাট। এসব নিয়ে ভেবো না,ভয় পেলে ভয় মানুষকে আরও শক্তভাবে জড়িয়ে ধরে।একটু ঠান্ডা মাথায় বলো, আই উ’ইল বি ফাইন।
রোজ একটা দীর্ঘশ্বাস টানলো।তারপর,না চাইতেও মিরাবের চোখে তাকিয়ে ঘোর লেগে গেলো।
-“হুম।আই উ’ইল বি ফাইন।
-“রিপিট এগে’ইন”
রোজ পরপর তিনবার নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো।পারলো ও।এখন একটু মাথাটা হালকা মনে হচ্ছে তার।শান্ত চোখে মৃদু মাথা নাড়লো।
-“আপনি… ডাক্তার? “
মিরাব শান্তভাবে বলল,
“-এক্সেকট’লি।-” মিরাব আনানকে টেনে এনে নিজের কোলে বসিয়ে বলে।
-“মিট দ্যা সুই’টেস্ট বয় এভার।
রোজ আনানের মিষ্টিমাখা মুখের দিকে তাকালো।সে তো এই ছেলের সাথে পরিচিতো হয়েই নিয়েছে।নামও জানা শেষ তবে।ঐ লোকটা আর সে এখন কোথায় আছে তা জানা হলো না।পরক্ষণেই মিরাব ব’লে উঠলো,
-“আমি যদি ভুল না ভেবে থাকি, তুমি নিশ্চয়ই এড’শ কে খুঁজছো??তোমার সাথে এড’শ এর কি কানেক’শন তা আমি জানি না।যাই হউক তা আমি যেনে নিবো। বাই দ্যা ওয়ে তুমি রেস্ট নাও, আমি গিয়ে বলি তোমার সেন্স ফিরেছে।”
মিরাব বাক্যে শেষ করার আগে রোজ ততক্ষণাৎ বেড থেকে উঠে স্লিপার পড়ে নেয়।যদি এড’শ নামের লোকটা পার্টির লোকটাই হয় আর তাকে বাঁচিয়েচে।তাহলে লোকটার সাথে সরাসরি রোজের কথা বলা দরকার। কপালের সাদা ব্যান্ডেজটা এখনো খোলা হয় নি।ব্যথা হয়ে আছে পুরো শরীর হাঁটার ক্ষমতা তেমন নেই।ঢুলেঢুলে পড়ছে তাও উঠে দাঁড়িয়ে বলে উঠে,
-“কোথায় এড’শ।যিনি আমায় এতো হেল্প করে যাচ্ছে।তার সাথে আমার কথা আছে।আপনি আমাকে বলবেন তিনি কোথায়??”
মিরাব একপলক রোজের দিকে তাকালো।তারপর রোজের রিপোর্টগুলো হাতে নিয়ে দেখতে দেখতে অশান্ত সুরে বলল,
“-র’ফটপে”
রোজ এগিয়ে গিয়ে আনানের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে। আনানকে ছাঁদের টেরেস টা কোথায় তাকে নিয়ে যেতে বললো।রোজ তো পেন্টহাউজের কিছু চিনে না।তার উপরে এখন রাত।তারপরও জানার কৌতূহল তার মনে বারবার বাসা বাঁধছিলো।মিরাব রোজের দিকে তাকালো,
-“পেন্টহাউসের করিডরের শেষ রুম এটাই।আর দরজার বাহিরে গেলেই সিঁড়ি উপড়ের।ভয়ের কারণ নেই।পেন্টহাউসে আমরা ব্যাতীত আর কেউ থাকে না।”
রোজ রুম থেকে বের হয়ে পেন্টহাউসের রফ’টপের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলো।চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে।ফেঁকাসে হয়ে আছে মুখ।হসপিটালের দু বেনুনি করা চুল এখনো সেভাবেই আছে।রোজ রফ’টপে প্রবেশের বড় কাঁচের দরজাটা ঠেলে ভিতরে ঢুকে পড়ে।
আকাশে তখন পূর্ণ চাঁদ। তবে কুয়াশা ঢাকা শহর।রোজ টেরেসে পাঁ ফেলতেই তুষারের কণা তার কাঁধে জমতে থাকে। জমতে থাকে চুলের প্রতিটা বিনুনির ফাঁক গলে।পড়নে একটা টপ আর স্কার্ট।ঠান্ডা বাতাসে কাঁপন ধরিয়ে দেয় রোজের।তার উপরে পুরো তুরস্কে চলছে শৈত্যপ্রবাহ।চারদিকের রেলিংগুলো বরফে সাদা হয়ে আছে.ধাতব রঙের মেঝেতেও বরফের স্তর। রোজের পায়ের শব্দ সেখানে মৃদু, ভাঙা, আর আশ্চর্যভাবে অপরিচিত।
এত বড় ছাদ..অথচ কোথাও মানুষ বলে কিছু নেই। নীরবতা।রোজ একটু সামনে এগুতেই তারপরই সে দেখলো একটি অবয়ব।
রোজ একটু থেমে গেলো।ঠিক ছাদের কিনারে, পুরো পেন্টহাউসের টেরেস জুড়ে জমে থাকা সাদা বরফের রেলিং ধরে একা দাঁড়িয়ে আছে একজন পুরুষ। ধূসর আকাশের বিরুদ্ধে তার অবয়বটা যেন আরও অন্ধকার হয়ে উঠেছে। মোটা ধূসর ওভারকোটে ঢাকা কাঁধ। চাঁদের আলো তুষারের উপর পড়ে চারপাশে নীলাভ আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে, আর সেই আভা তার শরীরের চারপাশে জমে থাকা হালকা ধোঁয়ার মতো কুয়াশাকে আরও রহস্যময় করছে। রোজ ঠিক করে বুঝতে পারছিলো না লোকটা তার দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।রোজের গলা শুকিয়ে এলো।
শ্বাস আটকে গেলো পাঁজরের নিচে।
তবে কি এ-ই সেই মানুষ?
রোজের আঙুল ঠান্ডায় জমে যাচ্ছিলো,প্রচন্ড শীত।
লোকটা তখনো দাঁড়িয়েএকদম স্থির।তার কোঁকড়ানো চুল বাতাসে হালকা দুলে উঠছে, আর কোটের কলার বরফে সাদা হয়ে আছে।
রোজ আরেক পা এগুলো।
বরফ তার জুতোর নিচে চিকচিক শব্দ হলো। সেই শব্দে পুরুষটির মাথা সামান্য নড়লো।যেন দীর্ঘ ধ্যান ভেঙে উঠে কেউ ধীরে ধীরে বাস্তবে ফিরে আসছে।রোজ গিয়ে দু’হাত দূরত্ব বজায় রেখে রেলিংয়ের কাছে দাঁড়িয়ে গলা একটু খাকঁড়ানি দিয়ে বলল।
-“আপনার নাম তাহলে এড’শ।দু:খিত। আপনার নামটা জানা ছিলো
সেরকম পরিস্থিতি বা মন মানসিকতা আমার ছিলো না।
হঠাৎ রোজের উপস্থিতি কন্ঠস্বর শুনে ভীমড়ি খেলো আদ্রিয়ান। সাথে সাথে হাতের অর্ধ খাওয়া সিগারেটটা ফেলে পা দিয়ে পিষে নিলো।আদ্রিয়ান কেমন বাকরুদ্ধ হয়ে ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকালো রোজের দিকে।তবে রোজের দৃষ্টি আকাশের দিকে। মানে এখনো আদ্রিয়ানের দিকে তাকায় নি
ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে রোজের শরীর তবে এক বিন্দুও নড়লো না।আদ্রিয়ান তড়িঘড়ি করে নিজের গাঁয়ের ওভারকোটটা খুলে রোজের শরীরের উপর জড়িয়ে দিয়ে দু কদম দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো।রোজ তাতেও এক বিন্দু নড়লো না।পাথরের ন্যায় আকাশের পানে তাকিয়ে রইলো যেনো, অগনিতো তাঁরা গুলো গুনে যাচ্ছে এক মনে।আদ্রিয়ান রেলিংয়ে হাত রেখে সেদিকেই তাকালো,
-“নিচে যাও।যা জানার আছে জানতে পারবে।তবে এখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ঠান্ডা লেগে যাবে।”
মুহূর্তেই রোজের চোখ জোড়া অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো।রোজ ছলছল দৃষ্টিতে তাকালো আদ্রিয়ানের দিকে।পৃথিবীতে যে কতো রঙবেরঙে মানুষ আছে তা তার সতেরো বছরের জীবনে দেখলো।আচ্ছা সে তো মরে যেতে চেয়েছিলো। তবপ যখন মৃত্যুর মুখে গেলো তাহলে কেন বাঁচতে চাইলো।মানুষের জীবনে যখন আর কোনো চাওয়া পাওয়া থাকে না একা হয়ে যায়,পৃথিবীতে প্রায় আট মিলিয়ন মানুষের মাঝে নিজেকে একা মনে হয় বিধ্বংসী মনে হয় তখন নাকি মরতে গেলেও মৃত্যু যন্ত্রণা হয় না।তাহলে রোজ কেন বাঁচতে চাইলো।এখনো কি পাওয়ার আছে তার জীবনে।কষ্ট হয়।বাঁচতে চায়।তবে পাশে থাকা লোকটার প্রতি সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ছোটো করতে চায় না। তবে লোকটা কেন তাকে বাঁচায়। এই স্বার্থে ভরা দুনিয়াতে তার কি কোনো স্বার্থ আছে।রোজ বিধির্ণ মনে একটুখানি প্রশান্ত মনে বলল,
-“কেন বাঁচাতে চাইছেন আমায়!
বিনিময়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই আমার কাছে, আমি তো শুধু শূন্য,।
আদ্রিয়ান হাসলো।সেদিন হয়তোবা পার্টিতে রোজকে বৃষ্টি ভিজে জ্বর আসা থেকে বাঁচানোর বাহানায় তার সাথে কা’পল ডান্স করানোর কারণে রোজ এমনটা বললো।এটাও হতে পারে নাও হতে পারে।খানিক্ষন চুপ থেকে মাথায় জমে থাকা তুষার হাতের আঙুল দিয়ে ঝেড়ে মৃদু স্বরে বলল।এতোটাই আলতো করে রোজ বুঝলো না এতোটাই নিম্ন ভাবে যে শব্দ রোজ ভেদ করে কোথাও যাওয়ার কোনো কূলকিনারা নেই যেনো,বাক্যেটা রোজ অব্দি পৌঁছালো।
“-তোমায় বাঁচিয়েছি বলে ভেবো না তুমি আমার হৃদয়ের অধিকারী!
আমি তো হৃদয়বিহীন মানুষ, Crimson
যে মানুষ নক্ষত্রের নীচে দাঁড়িয়ে থেকেও আলো চেনে না।
“কেন বাঁচালাম?,
মহাশূন্যের মতো বিশাল এক শূন্যতা আছে আমার ভিতরে।সেই শূন্যতা তোমার মতো আরেকটা নিঃশেষকে চিনতে পারে।
আমি মৃত্যুকে টেনে আনি, জীবনকে নয়,
তবু সেদিন তোমাকে দেখার পর মনে হলো,
এই পৃথিবীর সব অন্ধকারও তোমার নিঃশব্দ ভাঙাচোরা চোখের সামনে তুচ্ছ হয়ে যায়।”
রোজ ম্লান দৃষ্টি দূর আকাশের চিকচিক করে জ্বলতে থাকা তাঁরকাদের দিকে,যেখানে নি:শ্বেসে পৃথিবীর সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে। পূর্ণ চাঁদের আলোর রেখা সপ্তদশীর শ্লান মুখাবয়ব মায়াবীদৃষ্টির নজর কাড়া মুগ্ধতায় এক ঝলক তাকালো আদ্রিয়ান শাহ।কারাহিসারে পশ্চিমাংশ থেকে অগত সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ এর শব্দ পেন্টহাউসের দেয়াল ভেদ করতে পারলো না আজ।
তবে রোজের চোখের কোণে আটকে থাকা অশ্রুগুলো ধীরে ধীরে গড়িয়ে পড়লো, আর সেই মুহূর্তে সে নিজেকে পৃথিবীর বিশাল জনসমুদ্রের মাঝেও ভীষণ অসহায়, ভীষণ একা মনে করলো ঠিক যেমন আদ্রিয়ান কিছুক্ষণ আগে বলেছিলো “মহাশূন্যের মতো শূন্যতা…” কথাটা যেন রোজের নিজের বুকের ভেতর প্রতিধ্বনি তুললো।
রোজ মাথা নিচু করে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললো, তারপর ধীরে ধীরে নিজেকে শান্ত করতে আনানের কথা ভেবে বললো।
“আপনার ছেলে।খুব মিষ্টি।
আর আপনার ওয়াইফ। মানে ডক্টর মিরাব।
উনিও খুব ভালো। একদম আপনার মতো।
রোজের কথায় আদ্রিয়ানের মুখে হালকা এক বাঁকা হাসি ফুটে উঠল।সেই অচেনা, নীরব, অর্ধচন্দ্রের মতো হাসি, যার কোনো শব্দ নেই; শুধু শীতের কুয়াশায় কাঁপতে থাকা উষ্ণ নিঃশ্বাসের মতো একটা হালকা দাগ।
সে খুব ধীরে বললো।
“উহ-হুঁ। মিরাব আমার স্ত্রী না।
আনানের মিমি।মানে মিরাব।ও আমার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মানুষ,বন্ধুই বলা যায়।আনানের পার্টনার।আমার নিজের ব্যস্ত জীবনের মাঝে যার হাতে আনানকে নিশ্চিন্তে রেখে যেতে পারি।”
রোজের চোখ হঠাৎ বড় হয়ে গেলো।
একটু থেমে সে ফিসফিস করে বললো
“তাহলে,আনানের মা?”
হাওয়া যেন স্থির হয়ে গেলো। পেন্টহাউসের রুফটপে জমে থাকা বরফের কণাগুলোও যেন পড়ে যেতে ভুলে গেল সেই মুহূর্তে।আদ্রিয়ান চোখ সরিয়ে গেল দূরের কুয়াশা-ঢাকা দিগন্তে। তার গলার স্বর নিস্তব্ধ, ভারী, তুষারের নিচে চাপা পড়ে থাকা আগুনের মতো,
“নেই।কেউ নেই।আমার এন্ড আনানের।আই অ্যাম হিজ্ মম্ এন্ড ড্যাড, এভরিথিং। “
এক মুহূর্তেই রোজের গলা শুকিয়ে গেলো।তার বুকের ভেতর হাহাকারের মতো উঠে এলো একটা দীর্ঘশ্বাস।ঠিক নিজের ক্ষতের মতো একই রঙের ব্যথা আনানের মধ্যে খুঁজে পেলো সে।রোজ হঠাৎ জোরে জোরে মাথা নাড়লো।
-“আই–আই অ্যাম স–সরি।আমি ওভাবে বলতে চাইনি… সত্যি চাইনি…প্লিজ কিছু মনে করবেন না.”
তার কণ্ঠ কেঁপে উঠল, চোখের নিচে লালচে ছায়া গাঢ় হয়ে উঠলো।হাওয়া আরও ঠান্ডা হয়ে উঠলো, কিন্তু রোজের বুকের ভেতর জমে থাকা দুঃখ যেন এক দমকা আর্তচিৎকার হয়ে উঠল ভেতরে ভেতরে।
সে ধীরে ধীরে আকাশের দিকে তাকালো পূর্ণ চাঁদটাকে দেখেও যেনো আর চোখে আলো ধরে রাখতে পারল না।তার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে উঠল চোখ ভরা জল জমে।আর ঠিক পরের মুহূর্তে কণ্ঠ ভেঙে ফেটে পড়লোএকটা চাপা যন্ত্রণার মতো, দুঃখের হাজার বছরের ভারের মতো,
“আমারও মা নেই।জানেন?
আমারও মা নেই।মায়ের আদর কেমন হয় জানি না।”
রোজের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
“আমি শুধু শুনেছি ম’রে গেছে।
কিন্তু আমি,কোনোদিনো,কোনোদিনও তার কবরটা পর্যন্ত দেখতে পাইনি।দেখবো কি করে!!”
রোজ এমনভাবে কাঁদতে লাগলো যেনো বুকের ভেতরে আটকানো অনেক বছরের ব্যথা একসাথে ভেঙে বেরিয়ে আসছে,
“বাবা বলতো, অ্যাক্সিডেন্টের পর আর পাওয়া যায়নি মায়ের দেহ।,পাহাড়ের খাঁদে পড়ে গিয়েছে।
উঁচু খাঁদ থেকে পড়লে কোনো মানুষ বাঁচে না।আর আমার মায়ের তো দেহটাই খোঁজে পাওয়া যায়নি আর।”
তার কান্নার জল আরও দ্রুত ঝরছিলো।আর তা দেখে গম্ভীর, তবু অদ্ভুত নরম হয়ে যাওয়া রহস্যময় আদ্রিয়ান শাহ।আজ আর বারণ করলো না।চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।আপনজনের জন্যে কাঁদলে মন হালকা হয়।কাঁদা উচিত।যদি মানুষজন কাঁদতে না জানতো তাহলে পৃথিবীর মানুষজন বুক ফেঁটেই মরে যেতো।আদ্রিয়ান তার হাতের সিলভার ওয়াচ্টা খুলে পকেটে রাখতে রাখতে জিজ্ঞেস করলো,
-“অচ্ছা।তোমার মা, ওনি এক্সিডেন্টে মা-রা গিয়েছেন??কোন পাহাড় থেকে বা জায়গার নাম জানো??
রোজ হাতের পিঠ দিয়ে অশ্রধারা মুছে গায়ে ওভারকোটটা জড়িয়ে নিলো।প্রচন্ড শীত করছে তার।
-“নাম মনে নেই।মেই’বি কাচকার দাগলারি নাম।
মুহূর্তেই আদ্রিয়ানের কপালে চারভাজ পড়ে যায়।
-“কি নাম??”
-“কাচকার দাগলারি”
-“পাহাড়ের নাম এটা??তুমি আধোও জানো এটা কোথায়।”
-“জানবো না কেন।তুরস্কে।আমার নানার বাসা।আমার মা তো তুর্কিস্।বাবাকে বিয়ে করার পর নাকি ওনারা মানে মায়ের ফ্যামিলি আর কোনো সম্পর্ক রাখেননি।তাই আমিও চিনি না জানি না তেমন কিছু। কৌতুহলও জাগেনি।জেনে কি হতো, মা নেই মায়ের ফ্যামিলি দিয়ে কি হবে।রাগ হতো যখন ছোট ছিলাম,তবে আমি একটা বিষয় বুঝতে পারিনি কখনো,আর না বাবা কোনোদিনও বলে,যে কি এমন দরকার ছিলো সেদিন যে সারাজীবনের জন্যে সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়গায় নিজেদের তিন বছরের মেয়েকে রেখে যেতে হয়েছিলো।যাই হউক এসব না হয় এখন থাক যত ভাববো মাথা যন্ত্রণা শুরু হয়ে ফেটে যায়।অসহ্য।
-“Is it coincidence”???…..you know where are you now??
-“জাহান্নামে। নরকে।আর কোথায় ডেনমার্কে।যেখানে একটা ডেবিল থাকে।
আদ্রিয়ান এক পাঁ পিছিয়ে রোজের পিছন সোজা এসে দাঁড়িয়ে একটু ঝুঁকলো।
-“উহু!তুরস্ক।
শব্দটা যেনো বজ্রপাতের মতো রোজের মাথায় আঘাত করলো। চোখ হঠাৎ বিস্ফারিত হয়ে ওঠে।ঠান্ডা রক্ত তার শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ে।শ্বাস আটকে যায়।রোজের কানে যেনো দূর থেকে বাতাসের শব্দ আসছে।আর কিছুই পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছে না।হঠাৎ করে সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেলো।মুখ গলে দুটো শব্দও বের হলো না ঢলে পড়তে লাগলো ছাঁদের ফ্লোরে,,,,,
-“ক…কিহহহহ”!!!!!!!!
মূহুর্তেই আদ্রিয়ান রোজের শরীর ছাদের ফ্লোরে পড়া থেকে বাচিঁয়ে নেয়।বাকরুদ্ধ আদ্রিয়ান শক্ত করে চেপে ধরে রোজের হাত।তিমিরে ঢাকা রাতটা আরও ঢেকে যায় অন্ধকার ছায়ায়।দূর থেকে বাতাসের শব্দে ভেসে আসা কিছু রিক্ত লাইন,,,,,,,
Yeh jism hein to kya,,,
Yeh ruh ka libaas hein,
Yeh dard hein to kya,
Yeh ishq ki taalas hein
Faana kiya mujhe,
Yeh chaane ki ass ne,
Taraa taraa sikaast hi hua,
Raja hai kiya teri,
Dil-o-jaana tabaah kiya,
Saaza bhi kya teri,
Wafaa ko bewaafa kiya,
|ডেনমার্ক |
ডেনমার্কে তখন গভীর রাত। Aarhus Hospital-এর বারোতলার জানালার কাঁচে হালকা তুষারের কণা জমে আছে,ইউভানের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট,Room 12B,যার বাইরে চারজন ড্যানিশ গার্ড টহল দিচ্ছে।দরজার ওপরে লাল আলোতে লিখা,RESTRICTED, CRITICAL PATIENT.রাহা রাত বারোটা পর্যন্ত রুমের বাহিরে থাকলেও ক্লান্ত শরীরে সেই কখন গিয়ে দশ-তলার ভিআইপি কেবিনে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।তুষারকে প্রায় এগারো বারো বার কল করে গিয়েছে তবে তুষার এক বারের জন্যে ফোন রিসিভ করে নি।
ইউভানের কেবিনে তখন লাইট পুরোপুরি অফ না,ছিমছিম আলো জ্বলছিলো।পাশের দেয়াল ঘড়ির কাটা তখন দুটো বেজে দশ মিনিট।হঠাৎ কেবিনের খোলা বেলকনি দিয়ে একটা পুরো মুখোশধারী কালো পোশাকে ছায়া মানবের ছায়া ভেসে উঠে সাদা ফ্লোরে।ভারী বোট জোতায় হেঁটে এসে দৈত্যমূর্তীর সামনে দাঁড়ায় এক মূহুর্তের অপেক্ষা না করে কর্দমাক্ত হাতে ধরা ছুৃড়িটা দিয়ে ইউভানের গলায় ধরে, ইউভানের গলদেশে ছুঁড়ি অগ্রভাগ নলের মতো ঢুকে যাওয়ার আগে, আকষ্মিক এক হাত ছুঁড়ির ধারালো অংশ ধরে ফেলে।হিটম্যান দৃষ্টিভ্রষ্ট হয়ে আঁতকে উঠে,ইউভানের অগ্নিদৃষ্টি দেখে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে আরও চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।ইউভান এক হাতে ছুরিটা শক্ত করে ধরে রাখার ফলে হাত মাঝবরাবর কে/টে রক্ত চুইয়ে চুইয়ে তার মুখে পড়তে থাকে। সিংহের খাঁচায় ঢুকে সিংহ শিকার করার ফল কতোটা ভয়ানক হতে পারে তা হিটম্যানও খুব ভালো করে জানতো তবে, তার তো জ্ঞান ফিরার পসিবিলিটি ছিলো না,তাহলে। ইউভান বা হাতের স্যালাইন নল মুখ দিয়ে টেনে ছিঁড়ে এক ঘুষি মেরে ফেলে দেয় হিটম্যানকে।ইউভানের চোখে মুখে তখন পৈশাচিক উৎফুল্লতা। হাতের নল গুলো টেনে হিঁচড়ে খুলতে শুরু করলো।রণমুর্তির ন্যায় ঘাড়ে হাত রেখে দু সেকেন্ড চোখ বন্ধ রেখে বুনো ষাঁড়ের মতো একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে পাশের মনিটরটাই হাতে তুলে হিটম্যানের মাথায় আঘাত করে।লোকটা বাঁচার তাগিদে ইউভানকে লাথি মেরে পালাতে চাইলে ইউভান পুরো রুমে তান্ডব লিলা চালাতে থাকে ইচ্ছে মতো লোকটার নাক বরাবর ঘুষি দিতে থাকে, এক, দুটো,অগনিত।মা’রের আঘাতে নাকের হাঁড় ভেঙ্গে বেঁকে যায়।মরণ যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠার আগে হাঁটু গেড়ে হিটম্যানের জি্ভটা টেনে ধরে,জিভ্টা মুখ থেকে রেনে বের করা আগে ইউভান দেয়াল কম্পিত করে চিৎকার দিয়ে উঠে,
“-Motherfk what do you think I am!!!! I’m dying?
Am I dead?”
ইউভানের দম বন্ধ করা চিৎকারে কেবিনের বাহিরের দুজন গার্ড ঢুকে পড়ে প্রায়।মূহুর্তেই ইউভান ঘাড় ঘুড়িয়ে ঠোঁটে আঙুল রেখে ইশারা করে চলে যেতে।
দাঁতে দাঁত চেপে, গলায় দম আটকে থাকা রাগে গর্জে উঠে আবারও,,,
-“son of a bi*tch!I was waiting to catch you!
ইউভানের মুখ থেকে ততক্ষণাৎ পৈশাচিক হাসির রেখা দেখা যায়।হিটম্যানের চোখ বড় বড় হয়ে মুহূর্তে বের হয়ে আসার ন্যায়।তার আল্লাহর জিভ্টা টেনে ধরে রাখার ফলে মরণ যন্ত্রণায় প্রান ভিক্ষা চাইতে থাকে সামনে থাকা পশুর ন্যায় ইউভানের কাছে,
জানা শর্তেও যে যেই রিক আলবার্ট, ইউভান রিক আলবার্ট, সন অফ রুশান আলবার্ট কাউকে প্রাণ ভিক্ষা দেয় না।ইউভান ঠোঁট বাঁকা করে হিটম্যানের ঘাড়ে হাত রেখে তার কলার টা নিচে নামিয়ে দেখলো,
“lion shamble… একটা ট্যাটু করা ঘাড়ে একটি লায়ন-এমব্লেম ট্যাটু”
ইউরোপ এন্ড নর্থ এশিয়ান সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটেরের মধ্যে অন্যতম সিম্বল।সম্ভবত রাশিয়ান।
ইউভান হিটম্যানের জিভ্ টেনে কানের কাছে মুখ নিয়ে কর্কশ কন্ঠে বলল,
-“Devils don’t die this easily”
হাতে কব্জিটাই ভেঙ্গে দিলো হাড় ভাঙ্গার মটমট শব্দে,
you fuc*kr! hell isn’t calling me today.
It’s calling YOU.”
বাক্যে শেষ করার আগেই ইউভানের হাতে জিভ্ খুলে চলে আসে।র’ক্ত ছিটকে পুড়ো মুখে লেপ্টে যায় ইউভানের।নিষ্ঠুরতার চরমপর্যায়ে গিয়ে তার চুলের মুঠি টানতে টানতে খোলার বেলকনির থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিলো বারো তলার নিচে টেরিসে যেখানে ইউভানের গুটি কয়েক গার্ড উত পেতে আছে আগে থেকেই।ইউভান ধীর পায়ে ভিতরে ডুকলো।শরীরে পেশিগুলো ভাসমান হয়ে আছে।একটা কালো হুডি হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে পাঁ বাড়ালো।মিররের সামনে দাঁড়ালো নিজে অবয়ব পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো,উন্মুক্ত শরীরের উপরের থাকা ব্যান্ডেজগুলো খুলতে থাকে, ক্ষতগুলো এখনো তাজা।পিঠ বাঁকিয়ে সেখানের ব্যান্ডেজ খুলতেই পুরো পিঠে আকাঁ মাকরশা, স্পাইডার নেটের ট্যাটু স্পষ্ট ভেসে উঠলো।পিঠ থেকে শুরু করে বা হাত পর্যন্ত। তবে হাতের ট্যাটু এনাকন্ডারের পেঁচানো।হুডির সাইড পকেট থেকে ধাতব রিং গুলো বের করে পাঁচ আঙুলে পাঁচটা পড়ে নেয়।
ঠান্ডা পানিতে মুখ ধোঁয়ার ধুয়ে হিংস্র পশুর মতো আয়নায় নিজের মুখাবয়ব এর উপর বজ্রাঘাত করতেই মিররের গ্লাস ফেটে টুকরো হয়ে মেঝেতে পড়তে ইউভান চোয়াল টানটান করে চিৎকার করে উঠে,
“রোজজজ!!!!!! তূর্জ চৌধুরী। ইউ ব্লাডি ফা’কিং রোজ।বিচ্! বিচ্! বিচ্!”
ইউভান চারদিন পর বের হলো ক্রিটিকাল রুম থেকে, ইউভান বের হওয়ার সাথে সাথে গার্ডরা তার পিছু পিছু লিফট বরাবর যেতেই,পিছনে একটা নারী কন্ঠ ভেসে আসে ইউভানের কানে,ইউভান পাঁ থামিয়ে ঘুড়তেই দেখতে পায়,
লেডি ইন্সপেক্টর মালিহা কার্সিন।জিন্স,আর ট্যান টপে দাঁড়িয়ে আছে।ফর্মাল পোশাকেও ইউভান চিনলো।ইউভান কোনো প্রকার জবাব তো দিলোই না উল্টো পথে হাঁটা দিলো।তবে পরক্ষণেই মালিহা পকেট থেকে একটা পেন্ডেন্ট বের করে বলে উঠলো,
-“বাহ।মিস্টার আলবার্ট আপনি তো দেখছি এদমি ফিট হয়ে গেলেন।নাইস ।এনি ওয়ে, সি দিস্।দেখুন তো চিনেন কি না।
ইউভান দাঁড়ালো না।মালিহা ইউভানের পিছু পিছু এসে সোজা তার সামনে দাঁড়িয়ে পড়লো।ইউভাবের মুখের সামনে লকেট টা ধরলো।যেটাতে রোজ লিখা।পেন্ডেনটা দেখতেই ইউভান তার হাত থেকে একটানে নিয়ে নেয়।ইউভান লকেটটা শক্ত করে চেপে ধরলো।
-“কোথায় পেলেন এটা।টেল মি।ফা’স্ট!আই সেই’ড টে’ল মি রাইট নাও।”
মালিহা আশ্চর্য নয়নে তাকালো,
-“আচ্ছা!মিস্টার রিক আলবার্ট আপনি আগে এটা বলুন।আপনার ব্ল্যাক মার্সিডিজ থেকে একটা ফিমেল ডে’ডবডি কোথায় থেকে আসলো।হু ইজ রোজ তূর্জ চৌধুরী??? এই লকেটটা ব্লাস্ট হওয়া গাড়ি থেকে পাওয়া।মিস্টার তুষারের সাথে কথা হয়েছে,তিনি যতটুকু বললেন এই আর কি।তবে একচুয়েলি ডে’ডবডিটা একদমি পুড়ে গিয়েছে।ডি এন টেস্ট করাও পসিবল বলে মনে হচ্ছে।আপনি কনফার্ম করুন ডেডবডি টা কার তারপর নাহয় আমরা দেখবো বাকিটা।
ইউভান ধ্বংসাত্নক ক্রোধে ফেটে পড়ে গর্জে উঠলো।
-“সা’ট আপ।যাস্ট সা’ট আপ।
ইউভান এক পাঁ এগুতে গিয়েও পাড়লো না।মালিহার জায়গায় কোনো পুরুষ ইন্সপেক্টর হলে এতোক্ষণে বডির কয়েকটা হাড় নাড়িয়ে দিতো, তবে ভিতরে থাকা ক্রোধ প্রকাশ পেলো মুখে। চোখ লাল হয়ে ফেটে পড়বে যেনো।
-“ডেডবডি??কোথায়? আপনি মনে হয়ে ভুলে যাচ্ছেন কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন।
-“আমি কিছু ভুলি নি।আপনার কার ক্রেশ হয়েছিলো।আপনার এক্সিডেন্টের সময়।তাও আবার একটা মেয়ে ছিলো ভিতরে যার ডে’ডবডির কথা বললাম আর-কি।আপনি মাথা গরম করবেন না।আপনি কি জানেন আপনার কারের ব্রেকফেল করা হয়েছিলো।সম্ভবতো আপনাকে মারার জন্যেই তবে আনলা’কিলি মিস চৌধুরী ……..
মালিহা কথাটা সম্পূর্ণ করার আগে ইউভান হাত মুষ্টি বদ্ধ করে বলল,
-“মিস্ না মিসেস চৌধুরী।
-ওনি মেরিড??ওনার ফ্যামিলি ডি’টেল দরকার। ডি এন এ টেস্ট করানোর প্রয়োজন।নাহলে বুঝার উপায়ন্তর নেই।
-“নো ওয়ে। মেয়েটা মরতে কি করে পারে এতো সহজে মরার জন্যে তো বাঁচিয়ে রাখিনি। ইম্পসিবল। লিসেন্ট। ডি এন এ টেস্ট এর প্রয়োজন হলে আমার সাথে ম্যাচ করান।যদি এক %ও মিলে তাহলে আপনাকে উপরে উপড়ে পাঠিয়ে দিবো।
আর হ্যাঁ যেকোনো মূল্য লাশটা রোজের যেনো না হয়।I said never ever!
মালিহা শান্ত চোখে তাকালো। অবাক হলো।বুকটা মুচড়ে উঠলো মুহূর্তেই।পরক্ষণেই গলা খাঁকড়ানি দিয়ে বলে উঠলেন
-“আপনার সাথে???আপনার কি হন ওনি??ব্লাডলাইন হলে কিছু পার্সেন্টটিস হলেও ম্যাচ হতে পারে।”
ইউভান রোজের লকেটটা হাতে আরও শক্ত করে চেপে ধরলো।
-“কেউ না।শিটটট!ফা’ক আর একটা শব্দ শুনতে চাই না।!
ডে’ডবডি মর্গে তো?? ওকে ফাইন।-বলেই ইউভান হসপিটালের মর্গে গেলো।মালিহাও এলো পিছন পিছন।ইউভান সোজা এগিয়ে গেলো স্টিলের ফ্রিজিং ড্রয়ারগুলোর দিকে যেগুলোর পিছনে থাকা লাশগুলো বরফের মতো জমে আছে।
মালিহা ধীরে ধীরে পাশে এসে দাঁড়ালো একটু দূরে।
মর্গ অ্যাসিস্ট্যান্ট নম্বর দেখে একটা ড্রয়ারটা খুলে দিলো।স্টিলের মোটা হাতলটা ধরে টান দিতেই
একটা ভারী শব্দে ড্রয়ারটা ধীরে ধীরে বাইরে স্লাইড করে এলো।ভেতরে থাকা লা’শটা সাদা চাদরে ঢাকা।ঠাণ্ডার ধোঁয়া উঠছে।
ইউভান একবারও পলক ফেললো না।
অ্যাসিস্ট্যান্ট চাদরটা একটু সরাতেই
পোড়া, অজ্ঞাত, অচেনা শরীরটা দেখা গেলো।চিনার কোনো উপায়ন্তর নেই।পুড়ে গলে গিয়েছে।চেহারা জ্বলসানো।।এতোটাই বিভৎসতা যে স্বাভাবিক মানুষ দ্বিতীয়বার তাকাতে পাড়বে না।তবে ইউভান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।মেশিনের মতো স্থির। মুহূর্তেই চোয়াল শক্ত করে অমানবিক নিষ্ঠুরতার সহিত ড্রয়ারটা ভিতরের দিকে ঢুকিয়ে, অদ্ভুতভাবে হাসতে লাগলো।
-“Bea’st”Bbe of a be’ast!কুত্তার বাচ্চা!শুয়োরের বাচ্চা!আই উইল কিল ইউ ড্যাময়েট।
-“এটাই ডেডবডি তাই না!”
ইউভানের চিৎকারে মালিহার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়।হালকা ধাক্কা খেয়ে পিছিয়ে যায়।ইউভান রিভলবার দিয়ে নিজের মাথা হালকা স্পর্শ করে বলল,
-“পলিড্যাকটিলি!ইজ দিস্ বডি অ্যা পলিড্যাকটিলি পারসন্?।….ইটস্ নট।”
-“ম…মানে!”
“-কেনো বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে???ব্রেন কি হাঁটুতে??”
ইন্সপেক্টর মালিহা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
-“মিস্টার আলবার্ট আপনি কি বলতে চাচ্ছেন।মিস রোজ।সরি,মিসেস রোজ পলিড্যাকটিলি??ওনার কি পাঁয়ে একাধিক আঙুল আছে??আই মিন্ ছয়টা???…….six finger girl???
-“yess! Left leg…..
.
.
.
|চলবে|
পরবর্তী পর্ব পেতে রেসপন্স করবেন। অবশ্যই গঠনমূলক কমেন্ট করবেন।|
প্রায় ৪০০০ শব্দ সংখ্যা।তাও শেষের আরও দু অংশ কাভার দিতে পারিনি।আমি লিখতাম তবে আপনারা ধৈর্য হারা হয়ে যান।তাই দিয়ে দিলাম।
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ১৪
-
Love or hate পর্ব ১৩
-
Love or hate পর্ব ২১
-
Love or hate পর্ব ১৫
-
Love or hate পর্ব ২৫
-
love or hate পর্ব ১
-
Love or hate পর্ব ২২
-
Love or hate পর্ব ২
-
Love or hate পর্ব ৫
-
Love or hate পর্ব ১১