Love_or_Hate
ইভেলিনা_তূর্জ
পর্ব_৮
❌কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ❌ ❌কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ❌
“ডুন্ট ক্রাই ডার্করোজ।এই তুই কাঁদছিস কেনো।কাঁদবি না।তুই শুধু রিকের জন্যে কাঁদবি আর কারোর জন্যে না।আমি কাঁদাবো তোকে।আর কারোর অধিকার নেই।কারোর নেই।”
“চল”
ইউভান এলোপাতাড়ি রোজের চোখের পানিগুলো হাত দিয়ে মুছতে শুরু করে।এই মেয়ে অন্যে কারোর জন্যে কেন কাঁদবে। এসব ইউভান কখনো সহ্য করবে না ইহকালেও না।ইউভানের হাতের তালুর স্পর্শে রোজের চোখের গাজল লেপ্টে গিয়েছে। ইতিমধ্যে রোজ প্যানিক অ্যাটাক করতে শুরু করে, হাত, পাঁ অনবরত কাঁপতে শুরু করে। নিঃশ্বাস আটকে শ্বাসকষ্ট শুরু হ’য়ে গিয়েছে।বিগত কদিন যাবতের ট্রমার আর আজ বজ্রাঘাতের ন্যায়ের জঘন্য সত্যের মুখোমুখি হয়ে দুনিয়াটা এখন রোজের কাছে নরক যন্ত্রণার থেকে কম মনে হচ্ছে না।হয়তোবা আজকের পর থেকে রোজ মনে কখনো কারোর প্রতি বিশ্বাস ভালোবাসা জন্মানো তো দূর ছায়া মারা তেও দশবার ভাববে।
ইউভানের বলা তিক্ত সত্যটা মস্তিষ্ক বার বার ঘূর্ণিপাক খেতে থাকে। ইউভানকে ছাড়া তোর জায়গা রাস্তার ডাস্টবিনে হবে।রাস্তার কুকুর ছিঁড়ে খাবে।রোজের গলা দিয়ে আর শব্দ বের হচ্ছে চাইলেও এখন আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠতে পারছে না।অশ্রুশিক্ত নয়নে ইউভানের দিকে দৃষ্টি ফেলে। ইউভানএতোটাই শক্ত করে রোজের হাত চেপে ধরে আছে যে ইউভানের হাতের গিট সাদা হয়ে উঠেছে। রোজ আচমকা ইউভানের শার্টের মাথা গুঁজে দিতে ইউভান হালকা নড়ে উঠে। পিছনে পাঁ ফেলে সরে যেতে নিলে রোজ ইউভানের পাঁ আঁকড়ে ধরে মাটিতে বসে পড়ে।ইউভানের পাঁ ধরে বড় শ্বাস টেনে টেনে আকুতি ভরা মুখ নিয়ে ব’লে উঠে,
“আ….আপনার দুটো পায়ে .. ধরি আমাকে আমার মতো বাঁচতে দিন।একটু শান্তি চাই।মরে যাবো আমি। একটু করুণা করুন।”
“আপনি আমায় এনজিও তে দিয়ে আসুন।আমি সেখানে থাকবো দয়া করুন।আমাকে Shelter Home for the Destitute(নিরাশ্রয় আশ্রম) এ রেখে আসুন।আ….আপনি অনেক মেয়ে পাবেন। আমাকে তো এখন আর দরকার নেই।চাহিদা মিটিয়ে নিয়েছেন শেষ।তা….তাহলে আর কি।আমি একটু একা থাকতে চাই”
রোজের প্রত্যেকটা কথা ইউভান মনোযোগ সহকারে শুনলো।ঘাড় কাত করে রোজের দিকে চোয়াল শক্ত করে তাকালো।মূহুর্তেই পাঁ দিয়ে রোজকে ঠেলে সরিয়ে নিজেই রোজের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে হাতের বন্দুক দিয়ে রোজের কপালের উপর পড়ে থাকা বেবি হেয়ার গুলো সরিয়ে রোজের ঠোঁটে চুমু খেতে অগ্রসর হলে রোজ মাটি আঁকড়ে পিছিয়ে যেতে নেয়।তখনি ইউভান হেঁচকা টানে রোজের পোনিটেল এর রাবার খুলে চুল গুলো খুলে দেয়।রোজের কোমড় জড়িয়ে ধরে দু’হাতে রাবার দিয়ে বেঁধে সোজা কোলে তোলে গাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করে। রোজ ইউভানের কোলের মধ্যে হাত পাঁ ছুড়তে থাকে।ইউভান গম্ভির কন্ঠে ব’লে উঠে,
“না মিটে নি চাহিদা,মিটবেও না ইহকালেও,আমি আবার এক জিনিস বার বার টেস্ট করি না,তবে তোর মধ্যে আলাদা একটা ফ্লেভারে আছে।সো এসব ইউস’লেস কথা মুখে আনলে চোখে সরষে ফুলের বদলে শুধু রিক দেখবি।”
ইউভান গাড়ির ব্যাক সিটের ডোর খোলে ছুঁড়ে ফেলে রোজকে।রোজ শুকনো ঢুক গিলে। নিঃশ্বাস আটকে ইউভানের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে নিজেকে মানসিক প্রস্তুুত করতে থাকে।চোখ বেয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছে।রোজ চাইলেও এখন এই নরপিশাচ থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবে না ভেবেই কলিজাটা মুচড়ো দিয়ে উঠে তার।ইউভান রোজের আস্তে আস্তে রোজের দিকে ঝুঁকতেই রোজ আটকে রাখা নিঃশ্বাস ছেড়ে বড় বড় শ্বাস টানতে থাকে।ইউভান রোজের গালে হাত রেখে অধরে আঙুল ঠেকিয়ে, রোজের কানের কাছে মুখ এনে হিসহিসিয়ে ঠোঁট কামড়িয়ে হেসে উঠে ব’লে,
“হুশশশ!ইংলিশ মুভির কিস্ এর সিন থেকেও তোর নিঃশ্বাসের শব্দ বেশি অ’শ্লীল। “
রোজ চোখ মেলে তাকানোর আগেই ইউভান গাড়ির ডোর লাগিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে কার স্টার্ট দিয়ে দেয়।রোজ দূর্বল হরিণীর ন্যায় গাড়ির সিটে মাথা হেলিয়ে বসে থাকে।ইউভান শুধু তাকে আঘাত করতে চায়।এই দানব লোকটা তাকে আঘাত করে শান্তি পায়।রোজের জীবনের বিধি কি তাহলে এই দানবটার কাছে সারাজীবনের বন্দিনী হওয়া।ইউভান তো তার কেউ না।ইউভান না-হয় নরপিশাচ, কাপুরুষ, নিষ্ঠুর মানব,তার জীবনের কিন্তুু তার নিজের লোকদের কথা ভেবেই বারবার গাঁ গুলিয়ে উঠছে।ইউভানের কাছে না-হয় সে শারীরিক যন্ত্রণাই পাবে তবে নিজের লোকদের দেয়া মানসিক যন্ত্রণার কাছে এ যে বড় ঠুনকো মনে হলো তার।চোখ ফুলে লাল হয়ে আছে।বন্ধ করার বৃথা চেষ্টা করেও পারছে না।
ইউভানের কালো মার্সিডিজটা পুরান ঢাকার রাস্তা দিয়ে না গিয়ে পথ বদলানো। গাড়ি ফুল স্পিডে চালিয়ে হঠাৎ ব্রেক কষতেই রোজ নিভু নিভু চোখে বাহিরে তাকাতেই কলিজার পানি শুকিয়ে আসা উপক্রম। হাতের বাঁধন খোলার প্রানপন চেষ্টা চালাতে লাগলো।ইউভান গাড়ি থেকে নেমেই রোজের বাঁধন খুলে হাত শক্ত করে চেপে ধরে টেনেহিঁছড়ে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামালো।রোজ ইউভানের শার্ট খামচে ধরে কিল-ঘুষি মারতে থাকে।
চোখের সামনে রেজিস্ট্রার অফিস দেখে পায়ের তলার মাটি সরে গেলো রোজের। সাইনবোর্ডে বড় বড় অক্ষরে লিখা।
“গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
ঢাকা সদর জেলা,
রেজিস্ট্রার (বিবাহ ও পাসপোর্ট) অফিস
বিবাহ নিবন্ধন শাখা, সদর উপজেলা
ঠিকানা: রেসিডেন্স রোড, ঢাকা”
রোজের পা দু’টো অবশ হয়ে অসে।সামনে এগুনোর বিন্দু পরিমাণ বোধশক্তি নেই।ইউভান কি চায় কেন করছে এমনটা তার সাথে। সে কি কোনো মোমের পুতুল।বিয়ের মতো পবিত্র জিনিসকে কেন নিজের নোং*রা খেলার গুটি বানাতে চাইছে।ইউভান রোজকে একপ্রকার জোর করে টানতে থাকে।রোজ না পারছে নিজেকে ছাড়াতে আর না পারছে চিৎকার করে উঠতে।পুরো শরীর জমে বাক্ ‘রুদ্ধ হয়ে গিয়েছে রোজ।সিঁড়ি বেয়ে উপরে পাঁ বাড়াতেই বিরক্তি সুরে ইুভান ব’লে উঠে,
“এদেশের মানুষগুলো যেমন ডিজগাস্টিং জায়গায় গুলো আরও বেশি। টু মা’চ ফা*কিং ছোটলোকী পরিবেশ ।”
“কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমায়।ছেড়ে দিন বলছি।”
“জাহান্নামে। আয়”
“আপনার তো সেখানেও ঠাঁই মিলবে না।”
“কার কোথায় ঠাঁই মিলে তা তো সময় ব’লে দিবে”
ইউভান দো’তলার রুমে ডুকেই রোজকে চেয়ারে বসিয়ে দেয়।সেখানে আগে থেকেই তুষার ছিলো।তুষারকে দিয়ে ইউভান সব ব্যাবস্থা করে রেখেছে,লইয়ার আর কাজী পাশে বসা।ইউভান রোজকে বিয়ে করতে নিয়ে এসেছে রেজিস্ট্রার অফিসে।ইউভান যদিও বিয়ের ব্যপারে বিশ্বাসী না।শুধুমাত্র রোজকে নিজের কাছে আটকে রাখার জন্যে তুষারকে দিয়ে বিয়ের বন্ধাবস্থা করেছে।ইউভান জানে ইউভানকে বিয়ে করা রোজের শরীরে আরও বেশি আগুন ধরাবে। আর রিক চৌধুরী তো ঠিক এটাই চায়।ইউভান রোজের ঘাড়ে হাত রেখে টেবিলের উপরের পেপারটা সামনে এনে ধরে,রোজ এবার মনের অজান্তেই ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। সে ইউভানকে বিয়ে করবে না কখনোই না।নিজের রে’পিস্টকে স্বামী রূপে গ্রহণ করে বাঁচার থেকে মৃত্যুর স্বাদ নেয়া তার জন্যে উত্তম। রোজ মাথা নাড়িয়ে অসম্মতি জানাতে থাকে।তুষার রোজের দিকে একবার তাকিয়ে ইউভানকে ব’লে উঠে,
“তুই কি সিরিয়াস রিক..আরেকবার ভাবে দেখ,তোর দাদি জানতে পারলে কি হবে ভেবে দেখেছিস।না জানিয়ে কিছু করা ঠিক হবে না। “
“উহু।তুই তোর মুখটা বন্ধ রাখলেই হয়।That’s it। আর রিক চৌধুরী এসবে পরোয়া করে না।এ কি এমন আহামরি কিছু একটা সাইনই তো খাতাম।”
“তুই পাগল হয়ে গিয়েছিস,সেন্সে নেই।বিয়েকে নরমালি নিস না।”
“সা’ট আপ”
ইউভান কাজীর দিকে হিংস্র দৃষ্টি ফেলে বলে উঠে,
“আপনাকে কি বা’লের কারণে এখানে আনা হ’য়েছে।বিয়ে পড়ান, ফাস্ট। “
ইউভানের ধমকে কাজী ভয় পেয়ে নড়েচড়ে বসে রোজের দিকে তাকাতেই দেখতে পায় রোজ একনাগাড়ে কেঁদেই যাচ্ছে। চোখের পানিতে রেজিস্ট্রার পেপার ভিজে গিয়েছে। কাজী সাহেব বুঝতে পারলেন এরা রোজকে জোর করে ধরে এনেছে। মেয়েটার কোনো প্রকার সম্মতি নেই।হঠাৎই রোজ ঠোঁট উল্টিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠতে যাবে ইউভান সাথে সাথে রোজের কপালে গান পয়েন্ট করে।কপালে বন্দুক তাক করতেই রোজ ধপ্ করে চেয়ারে বসে ঘৃণা চোখে তাকিয়ে ব’লে উঠে,
“চালান গুলি।মুক্ত করে দিন। প্লিজ সু’ট মি।তারপরেও আপনার মতো অমানুষকে বিয়ে আমি করবো না।জীবন দিয়ে দিবো তাও না।”
“কে বললো।আমি তোকে মারবো? “-কথা শেষ করতে করতে ইউভান একটা পৈশাচিক হাসির রেখা টেনে বন্দুক সোজা বৃদ্ধ কাজীর কপালে ধরে।কাজী ভয়ে গুটিয়ে যায়।বিয়ে পড়াতে এসেও ফেঁসে গিয়েছে লোকটা।রোজ তীব্র ঘৃণায় নাক ছিটকিয়ে ভাঙ্গা গলায় কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে ব’লে উঠে,
“ছিহহ্।আপনি কি মানুষ? আর কতো নিচে নামবেন।কোন কুলাঙ্গারের ঘরে জন্ম আপনার খোদা জানে।অমানুষ, অসুস্থ পরিবেশে বেড়ে উঠা শয়তান। “
রোজ বাক্যে শেষ করার আগে একটা তিব্র চড় এসে পড়ে তার গালে।ইউভান রোজের চুলের মুঠি চেপে ধরে গর্জে উঠে,
“বান্দীর বাচ্চা তোর মতো ন’ষ্টা নারীকে আমার বউ বানাতে চেয়েছিলাম। ভুলেই গিয়েছি তুই যে এসবের যোগ্যই না।তোর জিভ টা টেনে ছিড়ে তে পারলে শান্তি লাগতো।র’ক্ত গরম করে দিয়েছিস।শালীর ঘরে শালী।কু’ত্তার বাচ্চা।”
“ভালোয় ভালোয় বলছি যদি চাস তোর কারণে দুটো তাজা প্রাণ না যাক, চুপচাপ বিয়েতে রাজি হ।”
রোজ পাগলের মতো এবার নিজের গালে নিজে চড় মারতে থাকে।গলা চেপে ধরে। শ্বাস আটকে আসছে তার।,কাঁশতে শুরু করে।খোদা এ কোন পাপের শাস্তি দিচ্ছে তাকে।দুনিয়াতেই মরণ যন্ত্রণা।ইউভান র’ক্তিম দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকাতেই কাজী ভয়ে শুকনো ঢুক গিলে বিয়ে পড়াতো শুরু করে।
“আ…আজ ইউভান রিক চৌধুরীর সাথে রোজ তূর্জ চৌধুরীর নিকাহ সম্পন্ন করা হবে।”
“কাবিন কতো করবে বাবা।”
“আমি আপনার বাবা না।আমি রিক।কাবিন টাবিনের দরকার নেই।শুরু করুন”
“কাবিন ছাড়া বিয়ে হবে না।”
“লিখে দিন রোজ ইহকালেও রিককে ছাড়তে পারবে না।ডিভোর্স দিতে পারবে না।”
ইউভানের এহন কথায় তুষার কপালে হাত রাখে।ইউভানের কর্মকান্ডে একটুও আশ্চর্য হলো না।তাকে ছাড়া ইউভানকে আর কে বা ভালো করে চিনবে।কাজী তোতলাতে তোতলাতে ব’লে
“এসব দিয়ে কাবিন হয় না “
কি দিয়ে হয়,টাকা?, ওকে নো প্রব্লেম। একে এমনিতেও পাঁচকোটি টাকার বাড়ির বিনিময়ে কিনে এনেছি। আরও না-হয় দিলাম,
ইউভান রোজের দিকে তাচ্ছিল্যে হেসে বলে,-একের সাথে আটটা শূন্যে লাগিয়ে দিলে চলবে তো,নাকি আরও লাগবে তোর,বল যত চাস ততই পুষিয়ে দিবো!
রোজ কোনো প্রতিউত্তর না করে ফুঁফাতে থাকে।বুকটা ছিঁড়ে যাচ্ছে তার।শরীরটা জ্বলে উঠছে বার বার।কাজী রোজকে উদ্দেশ্য করে বলে,
রুশান আলবার্ট এবং ইভেলিনা তূর্জ চৌধুরীর একমাত্র ছেলে ইউভান রিক চৌধুরীকে স্বামী রূপে গ্রহণ করে বলো মা
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল! “
রোজ আরও জোরে কেঁদে উঠে। ইউভান চিৎকার করে বলতে বললে,কাঁপা গলায় ব’লে
ক…কবুল,কবুল কবুল।
রোজের মুখে কবুল শুনে ইউভান ব’লে,
“আস্তাগফিরুল্লাহ”
“নাউজুবিল্লাহ! বাবা, একি বলছো।আলহামদুলিল্লাহ বলতে হয়।”
ইউভান তুষারের দিকে দৃষ্টি ফেলে ব’লে,
“জীবনে অতিরিক্ত শান্তি খুঁজে পেলে, বিয়ে করে নিন।দেখবেন,শান্তি ঘরের জানালা দিয়ে পালিয়েছে”
“না ভাই তুই কর।ক্ষমা।অ্যাম ন’ট ইন্টারস্টেড। “
ইউভান একটানে তিনবার কবুল বলে। পেপারে সাইন করে,রোজের দিকে ছুঁড়ে মেরে ক্ষ্যাপা ষাড়ের মতো ব’লে,
“সাইন করতে পারিস তো নাকি।না পারলে বল তোর আঙুল কেটে র’ক্তে ছাপ লাগিয়ে দিবো।”
রোজের চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা হয়ে আসছে।মেয়েটার চোখ অশ্রুরে ভরে উঠার ফলে সামনের পেপারের লিখাগুলোও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে না।কাঁপা হাতে কলম ধরে নিজের নামটা লিখেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আগে ইউভান রোজকে পাঁজ কোলে তুলে নেয়।
রাত প্রায় নয়টা বেজে দশ মিনিট।এখনো শীত শুরু হয়নি।তারপরেও রাতে হালকা হালকা কুয়াশা দেখা যায়।ইউভান রোজকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছিলো ডুপ্লেক্স বাড়িতে।তবে রোজ বেহুঁশ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে ইউভানের তাতে কোনো খেয়াল নেই।এই বিয়ের ব্যপারে শুধু তুষার জানে আর কেউ না।ইউভানতো কখনোই রোজকে নিজের বউ বলে পরিচয় দিবে না।মস্তিষ্কে নানা ভাবনা বিচলন করতে করতে ইউভান গার্ডেনের এক কোণে বসে সিগারেট টানতে থাকে।শরীরটা বড্ড ক্লান্ত দেখাচ্ছে।রোজকে নিয়ে আসার পড় আর বেড রুমের দিকে পাঁ বাড়ায় নি ইউভান।
বিয়ের প্রথম রাত।তবে ইউভান এসবে গুরুত্ব দেয় না।ভোরে ডেনমার্কের ফ্লাইট। বিদেশ ফিরে যাওয়ার পর কিভাবে কি করবে তা নিয়ে মাস্টার প্ল্যান সাজাতে থাকে।পাশে থাকা হুইস্কির বোতল হাতে নিয়ে গ্লাসে ঢেলে ঢক ঢক করে খেতে শুরু করে।তিন গ্লাস খাওয়ার পর আরেক গ্লাস শেষ করার আগেই উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে,সামনে থাকা ল্যাপটপের ডালাটা অফ করে হনহনিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে থাকে। ম’দের তেমন একটা নেশা ধরে না তার।তাও ক্লান্ত শরীর কিছুটা ঢুলে ঢুলে পড়ছে।দু’তলার সিঁড়ি বেয়ে উপরে বেড রুমের দিকে পাঁ বাড়ায়। হাতের সিলভার ব্রেসলেটটা খুলতে খুলতে রুমে প্রবেশ করতে গিয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে পড়ে।দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে থমকে উঠে ইউভান, বুকে হাত গুজে এক দৃষ্টিতে রোজকে দেখতে থাকে, চোয়াল শক্ত করে মুখে কর্কশ হাসির রেখা টানে।
রোজ এশার নামাজের বিছানায় সিজদাহ্ দিয়ে অঝড়ে কেঁদে কেঁদে সৃষ্টিকর্তার কাছে আর্তনাদ করছে।রোজকে এভাবে নামাজের বিছানায় কাঁদতে দেখে ইউভান শীতল কন্ঠে ব’লে উঠে,
“বান্দী।বদ’দোয়া দি’চ্ছিস আমায়।
কি চাইছিস সৃষ্টিকর্তার কাছে? আমার মৃত্যু?
আমি যেনো মরে তোকে মুক্তি দিয়ে দি……. “
.
.
.
.
.
(চলবে)
[পরবর্তী পর্ব পেতে রেসপন্স করবেন ]
❗ইনবক্সে এতো এতো ম্যাসেজ্ পেয়ে আর না দিয়ে থাকতে পারলাম না।লিখবো যে সেটার ইচ্ছা অনূভুতি কিছুই কাজ করছে না আমার।কষ্ট করে লিখে গল্প অন্যের নামে দেখতে সত্যি খারাপ লাগে।আপনাদের কথা ভেবে না হয় আমি দিলাম তবে আপনাদেরও বেশি বেশি রেসপন্স চাই।
আপনারা যদি বেশি বেশি লাইক,কমেন্ট শেয়ার করেন তাহলে আমার পোস্টাই সবার সামনে যাবে।২k +রিয়েক্ট চাই আমি।চুপিচুপি পড়ে চলে যাবেন না দয়া করে।❗
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ২৪
-
Love or hate গল্পের লিংক
-
Love or hate পর্ব ১১
-
Love or hate পর্ব ২
-
Love or hate পর্ব ২২
-
Love or hate পর্ব ১৭
-
Love or hate পর্ব ৯
-
Love or hate পর্ব ৪
-
Love or hate পর্ব ১০
-
Love or hate পর্ব ২৩