Golpo Love or hate romantic golpo

Love or hate পর্ব ৭


Love_or_Hate

ইভেলিনা_তূর্জ

পর্ব_৭

❌কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ❌

“ক্ষততে মলম লাগানো শেষ তোর? নাও মাই টার্ন, আবার ক্ষত আপডেট করার।”

ইউভান বাক্যে শেষ করে ঠোঁটের কোণে একটা পৈশাচিক হাসির রেখা টেনে দামিয়ান এর হাত থেকে শক্তটান মেরে হেক্সি’সল এর বোতলটা নিয়ে নেয়।পুরো বোতল এর তরলটা রোজের শরীরের মধ্যে ঢেলে দেয়।ইউভানের এমন কর্মকাণ্ডে দামিয়ান ইউভানের উপর বিরক্ত হয়ে রোজের কাছে যেতে নিলে ইউভান দামিয়ানের বুকের উপর হাত রেখে থামিয়ে দেয়।তারপর রোজের উপর হিংস্র দৃষ্টি ফেলে, বলে,

“ক্ষত কি শুধু ঠোঁটে নাকি পুরো শরীরেই তো, তা বাদ থাকবে কেন।”

“আর দামিয়ান তোর তো দেখছি এই নষ্ট জিনিসের উপর দরদ বেশি।ইউ’স করা মাল রিকের বন্ধু হয়ে তোর সাথে যায় না।ই’ট্স ডা’জেন্ট সুট অন ইউ”

“ছিহঃ,রিক তুই রোজের ব্যাপারে এভাবে বলতে পারিসনা।”

ইউভান কিছু বলার আগেই রোজ মাথা চেপে ধরে চিৎকার দিয়ে উঠে।
“চুপ করুন আপনারা দয়া করে “

রোজ ঠোঁটজোড়া উল্টিয়ে কেঁদে সিঁড়ি রেলিংয়ে হাত ঠেকিয়ে মার্বেল ফ্লোরে বসে পড়ে। ক’দিন যাবৎ ঠিকমতো খাবার না খাওয়ার ফলে পুরো শরীর জীর্ণশির্ণ হয়ে দূর্বল হয়ে পড়েছে রোজের।কি করেই বা খাবে মেয়েটা, গলা দিয়ে পানিই নামে নামে না ঠিক মতো।রোজের চোখজোড়া ঝাপসা হয়ে আসছে।মূহুর্তেই চোখের সামনের সব কিছু অন্ধকার হয়ে এসে রোজ বেহুঁশ হয়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ার আগেই দামিয়ান ইউভান দু’জনেই এসে রোজকে দুপাশে দিয়ে ধরে ফেলে। ইউভান দামিয়ানের দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই দামিয়ান রোজকে ছেড়ে দেয়।তার পরপরই ইউভান রোজকে কোলে তোলে নিয়ে বেড রুমের দিকে পাঁ বাড়ায়।রোজ অর্ধখোলা চোখ দিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলতে থাকে,

“না…..নামিয়ে দিন।আপনার স্পর্শে ঘেন্না হয় আমার বমি আসে।”

ইউভান রোজকে বিছানায় শুইয়ে দেয়।তারপর রোজের মুখের কাছে মুখ নিয়ে গরম নিঃশ্বাস ফেলে। রোজ মুখ ফিরিয়ে নিলে। ইউভান রোজের থুতনিতে দু আঙুল ছুঁইয়ে ঠোঁট কামড়িয়ে ব’লে,

“বমি আসে?…আমার ফ্রেশ ডিএনএ যে এতো তাড়াতাড়ি ওয়ার্ক করবে তা তো জানতাম না।আন বিলি’ভেবল”

ছিহ:!আপনার যদি বি.. বিন্দু পরিমাণ লজ্জা থেকে থাকে, রুম থেকে বের হয়ে যান, আমায় একটু একা থাকতে দিন।

“নো বেব।তোর লিপ’সগুলো অনেক হ’ট লাগছে।ভয়ে কাঁপতে থাকলে আমার আরও ফিল আসে।ক্রেভিং’স হয়”
ইউভান রোজের মুখের দিকে৷ নেশালো দৃষ্টি ফেলে অগ্রসর হয়ে চু’মু খেতে নিলে রোজ ইউভানকে সজোরে ধাক্কা মারে।ইউভান রোজের দু-হাত চেপে ধরে রোজের ঠোঁটে ওষ্ঠ ঠেকিয়ে দেয়।ইউভানের এমন জোরপূর্বক হিংস্র দানবীয় আচরণগুলো রোজকে দগ্ধ দাবানলে ছুঁড়ে পুড়িয়ে মারা মতো।রোজের চোখ বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়তে থাকে। ছটফট করতে থাকে তাও ছাড়া পায় না। ইউভান রোজের আঙুলের ভাজে আঙুল ঢুকিয়ে ঠোঁট ছেড়ে ঘাড়ে ওষ্ঠ ঠেকাতে যাবে তখনি রোজ ঠোঁট উল্টিয়ে থুথু ছুড়ে মারে ইউভানের মুখে।ইউভান মুখ সরিয়ে চোয়াল শক্ত করে রোজের গালে চড় বসিয়ে দেয়। এতোটাই জোরে আর তীব্র ভাবে যে রোজের নাক বেয়ে র’ক্ত বেরিয়ে আসে।গালে পাঁচ আঙুলের ছাপে লাল হয়ে ফুলে উঠতেই রোজ হাউমাউ করে কেঁদে উঠে। এতটাই যন্ত্রণা হচ্ছে যে হৃদপিন্ড ছিঁড়ে প্রানপাখি টা বুঝি এখুনি বেরিয়ে আসবে।ইউভানের বুক রাগে গজগজ করতে করতে উঠানামা করতে থাকে। বুনো ষাড়ের মতো নিঃশ্বাস টানতে টানতে ব’লে,

“তোর সাহস কতো বড় তুই রিক চৌধুরীর উপর থু’থু দিস।তোর ঐ থু’থু দেয়ার জিভটা টেনে ছিঁড়ে ফেলতে আমার ন্যানোসেকেন্ড ও লাগবে না”

ইউভানের রাগ তীব্র আকার ধারণ করতেই ইউভান বেড সিটে জোরে ঘুষি মেরে রোজের মাথার পিছনের চুল খামচে ধরে। রোজের ঠোঁটের ফাঁক গলে আহ!শব্দ বেরিয়ে আসার আগে ইউভান দাঁতে দাঁত পিষে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাচ্ছিল্যে করে ব’লে,

“কি বলেছিলি আমার ছোঁয়া তোর ঘৃণা হয়? “ঠিক আছে ছুঁড়ে ফেলে দিই রাস্তায়।রিক যদি একবার তোকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় না।তোর ঠাঁই ঔই রাস্তার ডাস্টবিনেই হবে।কে নিবে তোকে? আমায় ঘৃণা করিস।করতে থাক।তাতে আমার বা’ল ছেড়া যাবে।তবে রিমান্ড দ্যা’ট বাহিরের দুনিয়ায় একবার পাঁ দিয়ে দেখ রাস্তার কুকুর ছিঁড়ে খাবে তোকে।”

ইউভানের বলা প্রত্যেকটা তিক্ত সত্য কথা গুলো রোজের বুকে তীরের মতো বিঁধলো।নিঃশ্বাসটা আঁটকে আঁটকে আসছে। বুঁকের মধ্যে হাত রেখে অঝরে কাঁদতে থাকে। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়।প্যানিক অ্যাটাক হওয়ার উপক্রম। ইউভান হনহনিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে একটা কালো রঙের শার্ট পড়ে নেয়।শার্টের হাতা গুটিয়ে রোজের দিকে দৃষ্টি ফেলতেই দেখে রোজ বিছানার উপর বসে হাঁটু গুজে কেঁদে চলেছে। কোমড় অব্দি লম্বা চুলগুলো বিছানায় রুক্ষ হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।ইউভান বাঁকা হেসে কেবিনেটের ড্রয়ার খুলে একটা বন্দুক হাতে নিয়ে রোজের কাছে গিয়ে শক্ত থাবায় রোজের হাত চেপে ধরে ফেলে। রোজ বিছানার চাদর খামচে ধরে পিছিয়ে যেতে নিলে ইউভান রোজের দু-পাঁ ধরে হেচকা টানে নিজের দিকে টেনে এনে রোজের কোমড়ে হাত রেখে উচ্চশব্দে বলে উঠে,

“চলললল!”

ইউভানের চিৎকারে রোজ আঁতকে উঠে। মুখ দিয়ে টুঁশব্দও বের হচ্ছে না তার।গলা শুকিয়ে কাঠ হওয়ার উপক্রম যেনো কতো বছর পানি পান করে না।ইউভান রোজের হাত ধরে টানতে টানতে রুম থেকে বের হয়ে যেতে থাকে। রোজ শত চেষ্টা করলেও সিংহের থাবা থেকে বের হতে পারবে না।তা হবেই নিথর দেহটা নিয়ে সামনে পাঁ ফেলতে থাকে।ইউভানের চোখ ততক্ষণে রক্তিম বর্ণ ধারণ করে ফুলে উঠেছে।রোজ যে ঠিকমতো হাঁটতে পারছে না সেদিকে কোনো দৃষ্টিপাত না করে ইুভান জোরপূর্বক রোজকে টেনে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামাতে থাকে। ডাইনিং স্পেসেই সোফায় বসে ছিলো দামিয়ান,লাড়া। তাদের এভাবে আসতে দেখে দামিয়ান লাড়া বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে।তারা ইউভানের রাগের কারণ বুঝতে না পারলেও ইউভান যে রেগে গেলে ঠিক কতোটা ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে তা জানা আছে।দামিয়ান একবার রোজের দিকে তো আরেকবার ইউভানের দিকে তাকায়।রোজের জন্যে মায়া হতে থাকে, সে এখন চাইলেও রোজকে ইউভানের কাছ থেকে বাঁচাতে অক্ষম। ইউভানকে রোজের হাত ধরে থাকতে দেখে লাড়া সামনে এসেই তাদের পথ আটককে দাড়িয়ে পড়ে,
“হুয়াট হে’পেন্ড রিক।এই মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস তুই?”

“সর সামনে থেকে “

“তুই কি এই মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছিস ?…বের করে দে রিক।এমনিতেও কাল রাতে আমাদের ফ্লাইট। এই মেয়ে এখানে থেকেই বা কি করবে।আর কোনো মে’ইড এর ও দরকার নেই।”

দামিয়ান লাড়ার কথা শুনে ব’লে উঠে,

“কাল রাতে ফ্লাইট মানে।কে বললো তোকো? “

“তুষার”

কি হচ্ছে রোজ কিছু বুঝতে পারছে না।আর কাল যদি এরা সবাই বিদেশে চলে যায়।রোজের জন্যেই ভালো হবে।তবে এই নরপিশাচ, দানব তাকে এতো সহজে ছেড়ে দিবে এটা কি করে সম্ভব। রোজ ইউভানের দিকে তাকাতেই ইউভান শীতল কন্ঠে লাড়াকে উদ্দেশ্য করে ব’লে উঠে

“ইয়ে’স ডুড!কালকে পাঁচজনের ফ্লাইট। পাঁচটা ভিআইপি টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছে। “

“পাঁচজন মানে?”

ইউভান কোনো প্রতিউত্তর না দিয়েই লাড়াকে পাশ কাটিয়ে হনহনিয়ে বড় বড় পা ফেলে রোজকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে।মার্সিডিজ কারের সামনে এসে রোজকে ঠেলে গাড়ির মধ্যে বসিয়ে দেয়।রোজ নির্বাকের মতো গাড়িতে বসে।ইউভান গিয়েই গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে তীক্ষ্ণ ধারালো কন্ঠে রোজকে সিট বেল্ট বাঁধতে ব’লে। রোজ সিট বেল্ট লাগানো মাত্রই ইউভান গাড়ি হাইস্পিডে দিয়ে ঢাকা গুলশানের উদ্দেশ্য রওনা হয় যেহেতু শ্যাডো প্যালেস পুরান ঢাকায় অবস্থিত তাই ইউভানের বেশি সময় নষ্ট করতে চায় না।

ইউভানের মার্সিডিজটা সোজা এনে থামায় তূর্জ হাউসের সামনে।হঠাৎ করে ব্রেক কষায় রোজ হুমড়ি খেয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে গেলেও সিট বেল্টের কারণে বেঁচে যায়।গাড়ির জানালা দিকে চোখ ফেলতেই রোজ দেখে তার বাড়িতে নিয়ে এসেছে ইউভান তাকে।কিন্তুু কেনো।তাহলে কি ইউভান সত্যি সত্যি রোজকে রেখে ডেনমার্ক চলে যাবে।কিন্তুু রোজ তো তার বাবার কাছেও যেতে চায় না।তূর্জ হাউসে পাঁ রাখতে চায় না।ইউভান এসেই গাড়ির দরজা খুলে রোজকে টেনে বের করে সামনে এনে দাঁড় করায়।রাগ নিয়ন্ত্রণে আনার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে ইউভান রোজের হাত ছেঁড়ে দেয়।গাড়িতে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে কপাল ছুঁই ছুঁই চুল গুলো বেক ব্রাশ করতে করতে গম্ভীর কণ্ঠে রোজকে ব’লে উঠে,

“নাও গো।যাহ”

“মানে”

“কথা কি কম বুঝিস। তোর বাড়িতেই তো তোকে নিয়ে এলাম।”
“যাবো না”

ইউভান বাঁকা হাসলো।

“এই একটাই সুযোগ আমার হাত থেকে বাঁচার। আমার কাছে থাকলে যে তোর কি হাল হবে তা নিশ্চয়ই বুঝতে অসুবিধে হয়নি এতো-দিনে। তিলে তিলে শেষ করে দিবো,এতদিন যা দেখেছিস তা কেবলমাত্র ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগের হালকা ঠান্ডা বাতাস।”

রোজ নিঃশ্বাস চেপে জামা খিচে দরে দাঁড়িয়ে আছে। ইউভান ঠিক কি চাইছে রোজের মাথায় ঢুকছে না।ইউভানের দিকে চোখ তুলে তাকাতেই দেখতে পায় ধূসর রঙা চোখজোড়া তার দিকেই দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রেখেছে। চোখের পাতা বিন্দু পরিমাণ নড়ছে না।কেমন অদ্ভুত। একেবারে স্থির। ইউভান এক হাত উপরে উঠিয়ে হাতের দশ আঙুল দেখিয়ে রোজকে বাক্যে ছুঁড়ে মারে,

তোর হাতে দশ মিনিট টাইম আছে।নিজের বাড়িতে ভিতরে যা।যাওয়ার পর যদি তুই দশ মিনিটের বেশি থাকতে পারিস আমি ইউভান রিক চৌধুরী কথা দিলাম।কাল নয় আজকের ইমার্জেন্সি ফ্লাইটে ডেনমার্ক চলে যাবো।আমায় না ঘৃণা করিস।আমার এই দানবীয় মুখটা আর দেখতে পাবি না।আর যদি…..

না পারিস, তোকে আমার বানানো দাবানলে সারাজীবন পুড়তে হবে।ভিতরে গিয়ে যদি খুব বেশি কষ্ট হয় নিজের পাসপোর্ট ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে আসতে হবে আমার কাছে। দ্যান কালকের ফ্লাইটে আমার সাথে ডেনমার্ক যাবি তুই।না যেতে চাইলে কিভাবে নিতে হবে তা আমি হারে হারে টের পাওয়াবো তোকে।নাও গো।ইউ হে’ভ অনলি টু অপশান।

ইউভানের শেষর কথাটুকু বারবার কানে বাজতে থাকে রোজের। বুকটা মুচড়ে উঠে। এতোদিন যা যা হ’য়েছে রিক নামক নরপিশাচটা তার সাথে যা যা করেছে সব কিছু মনে করতে লাগলো।হাত দিয়ে চোখের জল মুছে জীবনটা নতুন করে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিলো।রোজ এটাই সুযোগ, যা হয়েছে ভুলে যা।একবার বাড়িতে গিয়েই নিজের বেডরুমে ডোর লক করে বসে থাকবে কয়েকদিন। নিজেকে মানসিক প্রিপেয়ার করে তারপর যা করার করবে।এসব নানা চিন্তা রোজের মাথায় বিচলন করতে থাকে।রোজ পিছিয়ে হাঁটতে শুরু করে। তূর্জ হাউসের দিকে দৌড় দেয়ার আগে আরেকবার পিছন ঘুরে ইউভানের দিকে তাকিয়ে নেয়।দেখে না ইউভান পিছন পিছন আসছে না।স্থির হয়ে গাড়িতেই হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে তাকেই দেখছে।রোজ স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে।

ভিতরে প্রবেশ করে সোজা সিঁড়ি বেয়ে নিজের বেডরুমে যাওয়ার উদ্দেশ্য পাঁ বাড়ায়।নিজের বাবার সাথে তার আর কোনো কথা নেই বলবে না।নিজের মতো বাঁচবে। তবে রোজের ভাবনাগুলো হয়তবা চিরস্থায়ী হলো না।ভাগ্যের চাকা দ্বিতীয়বারের মতো তখনি ঘুরে গেলো যখন দেখলো।তার বাড়িতে তার ডাইনিংস্পেসে তারই বেস্টফ্রেন্ডকে তার বাবার সাথে বসে খাবার খেতে দেখতে পায়।তিশা তার ছোটবেলার বান্ধুবী।মেয়েটার মা বাবা ছিলো না।চাচা চাচির কাছে মানুষ হয়েছে। যদিও রোজ তার ব্যাগরাউন্ড এর সাথে ম্যাচ না হলে কারোর সাথে মিশতো না।ইগো নিয়ে চলতো।তবে তিশার সাথে ছোটবেলার থেকে একসাথে স্কুল কলেজ পার হয়েছে।রোজ তিশাকে টাকা পয়সা দিয়ে অনেক হেল্প ও করেছে।নিজে যখন যা কিনতো তা আলাদা করে তিশার জন্যেও কিনতো।রোজ পিছিয়ে এসে ডাইনিং টেবিলের কাছে এসে দাঁড়ায়। রোজকে দেখে ইমরান চৌধুরী চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে ব’লেন।

“রোজ তুমি।ইউভান কই।”

রোজ একবার নিজের বাবার দিকে তাকায় তো একবার তিশার দিকে।বাবার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টো তিশার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে মারে।

“তুই এখানে?আমি নেই এসে দেখেও এতো আয়েশ করে খাবার গিলছিস।আমার কথা মনে পড়ে নি বুঝি।?”
তিশা খাবারের প্লেট সরিয়ে। রোজের দিকে রাগান্বিত হয়ে তাকিয়ে বলে।

“আমি এখানে মানে কি।এটা এখন থেকে আমারও বাড়ি। আমার স্বামীর বাড়ি। আমি এখন থেকে তোর সৎ মা।তোর বাবার ব…..”

বাক্যে শেষ করার আগেই রোজ একটা চড় বসিয়ে দেয় তিশার গালে।রোজের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। কি যা তা বলছে এই মেয়ে।সবাই কি তামাশা পেয়েছে বাকি তাকে নিয়ে।যা যা খুশি তাই করে চলছে। রোজ রাগে ঘৃণায় তিশাকে আরও কয়েকটা চড় মারতে নিলে রোজের বাবা তার সামনে এসে দাঁড়ায়।রোজ চোখ বড় বড় করে নিজের বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,

“পাগল হয়ে গিয়েছে এই মেয়ে কি যা তা বলছে।তুমি কিছু বলছো না কেন।এতো বড় সাহস।দুধ কলা দিয়ে কি আমি এতো দিন কাল সাপ পুষেছি।বমি আসছে আমার সরো বলছি।”

“তিশা যা ব’লেছে সব সত্যি। আমরা বিয়ে করেছি।পাগলামো করা বন্ধ করো।তোমাদের সম্পর্ক এখন শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ নয়।তুমি আমার ওয়াইফের গায়ে হাত তুলতে পারো না।আমি ইউভানকে কল করছি ও যেনো তোমাকে এসে নিয়ে যায়।ওয়েট।কোনো সিনক্রিয়েট করো না।”

রোজের পুরো শরীর যেনো জমে যাবে এখুনি।মাথাটা ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে।কলিজাটা পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।ঘৃণা পুরো গাঁ শিউরে ওঠেছে।এগুলো কি সব তার জীবনের দুঃস্বপ্ন নাকি। সে কি কোনো নাইট ম্যায়ার এর মধ্যে আছে।বাবা আর বেস্ট ফ্রেন্ড এর করা কুকর্ম দেখে ঠোঁট উল্টিয়ে কেঁদে উঠে। মুখ দিয়ে আর একটা শব্দ বের হয়ে আসে না রোজের।আর এক মূহুর্ত এখানে থাকলে রোজ মরে যাবে।হাত উঁচিয়ে নিজের বাবার দিকে অশ্রুভরা চোখে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় ব’লে,

“কল করার কোনো প্রয়োজন নেই।খোদা যেনো আমার মরা মুখটাও আর আপনাকে না দেখায় এই কামনা করি।”
রোজ আর একমুহূর্তও দেরি না করে নিজের বেডরুমে যাওয়া তো দূর এক দৌড়ে বাড়ির বাহিরে বেরিয়ে এসে পড়ে।গেইটের কাছে এসে অঝরে কাঁদতে থাকে। বুকের মধ্যে হাত রেখে শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে থাকে। গেইট ম্যান রোজকে এভাবে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞেস করে।

“কি হ’য়েছে ম্যাম”

“তো…তোমাদের ম্যাম মরে গেছে ইউসুফ “

রোজকে বেরিয়ে আসতে দেখে ইউভান বাঁকা হাসে।ফোন বের করে টাইম দেখে ফিসফিস করে বলে,
“সাত মিনিট ও টিকতে পারলি না।আফসোস”

ইউভান এগিয়ে এসে রোজের কোমড় জড়িয়ে ধরে আরেকহাতে শক্ত করে গাল চেপে ধরে ব’লে উঠে,

“ডুন্ট ক্রাই ডার্করোজ।এই তুই কাঁদছিস কেনো।কাঁদবি না।তুই শুধু রিকের জন্যে কাঁদবি আর কারোর জন্যে না।আমি কাঁদাবো তোকে।আর কারোর অধিকার নেই।কারোর নেই। “

চল…….
.
.
.
.
.
(চলবে)

[পরবর্তী পর্ব পেতে রেসপন্স করুন।]🎀

2000+শব্দ সংখ্যা।প্রতিদিনই গল্প দিচ্ছি।আশা করছি রেসপন্স করবেন লিগ্যাল রাইটার কে।

❌দয়া করে সম্পর্ক নিয়ে কোনো বিতর্কতা সৃষ্টি করবেন না।এমন অনেক হয় বাস্তবে।গল্প গল্প হিসেবেই নেয়ার অনুরোধ।❌

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply