Golpo Love or hate romantic golpo

Love or hate পর্ব ৬


Love_or_Hate

ইভেলিনা_তূর্জ

পর্ব_৬

❌কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষেধ❌

রোজ তৎক্ষনাৎ খেয়াল করে ইউভানের হাতের কিসের যেনো একটা কাগজ। রোজ ভ্রু কুচকিয়ে ইউভানের হাতের মুঠো থেকে কাগজটা নিতে হাত বাড়ায়,কাগজটা একটানে হাতে নিয়ে তাতে চোখ বুলাতেই রোজের চক্ষু চরক গাছ হয়ে যায়।রিক চৌধুরী যে ঠিক কতোটা নিচে নামতে পারে তা রোজ স্পষ্ট বুঝতে পারলো।পেপারটা একটা “Contract Marriage” এর তাতে দশ বারোটার মতো শর্ত দেয়া তাও আবার এক পাক্ষিক সব কিছু নিজের নিয়মে চালানোর উদ্দেশ্যে রোজের উপর জোরজুলুম করার শর্ত। রোজের হাত কাঁপতে থাকে। চোখজোড়া ঝাপসা হয়ে উঠে।রিক চৌধুরী কি আধেও মানুষের কাতারে পড়ে।পশুর সাথে মানুষের তুলনা দেয়াও ভূল মনে হলো রোজের কাছে।কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ্ কি তাদের ধর্ম দেশীয় আইনের সাথে যায়।রোজ যতটুকু জানে এটা পশ্চিমা কালচার, অবশ্য ইউভানের মতো পশ্চিমা কালচারে বড় হওয়া পুরুষ থেকে আর কি বা আশা করা যায়।

রোজের ঘৃণা আরও তিব্র বেগে বাড়লো যখন দেখলো চুক্তিতে দু’বছর দেয়া।দু’বছর পর ইউভানের রোজের প্রতি ভালোলাগা কাজ করলে বিয়ে টিকবে না হলে নয়।জীবনটা কি কোনো ছেলে খেলা।ইউভান কি তাকে কাঠের পুতুল পেয়েছে নাকি।রোজ মরে গেলেও তো ইউভানকে বিয়ে করবে না।নিজের রে’পিস্টকে স্বামী হিসেবে মেনে নেয়ার কথা মাথা আসতেই রোজের গাঁ গুলিয়ে উঠে।রোজ চোখের জল মুছে ইউভানের শার্টের কলার চেপে ধরে ডাকতে থাকে।নির্ঘুম রাত কাটানোর পর ভোরেই একটু চোখ লেগে গিয়েছিলো ইউভানের।শরীরটা বেশ্ ক্লান্ত, ইউভান রোজের অনবরত ধাক্কায় নড়েচড়ে উঠে,ঘুম গোলানো কন্ঠে উইুম!শব্দ করে হেঁচকা টানে অচেতনভাবে রোজকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে জড়িয়ে ধরতেই রোজ কেঁপে উঠে।

ইউভানের বুকে থেকে মাথা শরীর বড় বড় শ্বাস নিতে থাকে।ইউভানের শরীরের থেকে আগত পুরুষালীর গন্ধটা এতোটাই মাতাল করা যে রোজের ছুট্টো শরীরটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে প্রায়।তৎক্ষনাৎ উত্তে’জিত হয়ে ইউভানের চুল খামচে ধরে নিজের থেকে ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করতে থাকে।চুলে এতো জোরে টানের আঘাতে ইউভান ভ্রু কুচকিয়ে আধো চোখ মেলে রোজের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে।রোজের গোলাপি ফুলা ফুলা অঁধর এর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ঠোঁট দিয়ে জিভ ভিজিয়ে রোজকে বেডে শুইয়ে জোরপূর্বক ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়।ইউভানের হাতের গ্রিবায় থাকার ফলে নড়তেও পারছে না রোজ।ইউভান হুঁশ হারিয়ে উন্মাদ হয়ে রোজের অঁধরে কা’মুড় বসিয়ে দেয়।ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে রোজ।মুখ দিয়ে হালকা গোঙানোর শব্দ বের হয়ে আসে।ইউভানের কা’মুড়ের তিব্রতার ফলে রোজের অঁধর কেটে দু ফোটা গরম রক্ত গড়িয়ে পড়ে।অসহ্য যন্ত্রণায় কেঁদে উঠে উঠে।তবে ততক্ষণে ইউভান রোজের নাজেহাল অবস্থা দেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে এনে ধাক্কা মেরে রোজকে ফ্লোরে ফেলে দেয়।কোমড়ে আঘাত পেয়ে রোজ চেঁচিয়ে উঠে,

“জা’নোয়ার,মন্সটার, নরপিশাচ, একটা অমানুষ আপনি।”

রোজের কোনো কথাই ইউভানের কান অব্দি গেলো না।ইউভান নিজের চুল খামচে ধরে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করায় ব্যস্থো।হাত দিয়ে ঠোঁট মুছে। রোজের দিকে তাকাতেই রোজ উঠে দাঁড়িয়ে পেপারটা ইউভানের মুখের সামনে ধরে বলে,

“আপনার মধ্যে ঠিক কতটুকু মনুষ্যত্ব আছে আমার জানা নেই।আপনি যে একটা অমানুষ তার আর কতো প্রমান দিবেন।এসব নষ্ট পেপারে আর নাম কেনো লিখা”

ইউভান বিরক্তি ভঙ্গিমাতে বলে,

“এইচএসসি পরীক্ষায় কি নকল করে পাশ করেছিস,কেনো লিখা পড়তে পারছিস না।? “

“না আমি পরীক্ষায় নকল করে পাশ করা মেয়ে আর না আপনার মতো অমানুষ আগে বলুন এসবের মানে কি”

“মানে টানের কৈফিয়ত রিক চৌধুরী দেয় না।কাম অন, কথা না বাড়িয়ে সাইন করে দে পেপারে। “

“সাইন ইন ইউর ড্রিম “-রোজ পুরো পেপার হাত দিয়ে মুচড়ে মুচড়ে ছিঁড়ে ইউভানের মুখের উপর ফেলে দেয়।ইউভান শুধু শান্ত সিংহের ন্যায় হাসলো।

“ইউ আর অ্যা ফা’কিং ডিজগাস্টিং গার্ল, তুই কি ভাবেছিস একটা পেপার ছিঁড়লে খেল খাতাম?,এমন একশোটা পেপার রেডি করা আমার বা হাতের খেল”

“বান্দীর বাচ্চা তোর যোগ্যতার বাহিরে গিয়ে তোকে রিক চৌধুরীর ওয়াইফ বানানোর অফার করলাম,তোর তা হজম হলো না তাই না।ওকে ফাইন, থাক আমার মে’ইড হয়ে,সাথে প্রতিরাতের নাইট গার্ল হয়ে।”

[গল্পের লিগ্যাল লেখিকা ইভেলিনা ভূর্জ, লেখিকার নাম থেকেই রোজ এর সাথে তূর্জ দেয়া।]

কতোটা বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ হলে ইউভানের মুখ থেকে এইরকম জঘন্য কথা বের হয় ভেবেই রোজ নাক ছিটকালো। অঝরে কেঁদে উঠলো।রোজের তো সকল প্রকার শান্তি হারাম হয়ে গিয়েছেই, সাথে নিজেকে মৃত লাশ মনে হচ্ছে যার শুধু প্রাণটাই আছে।একটা নারীর সবচেয়ে মহামূল্যবান সম্পত্ত সে হারিয়েছে এই পুরুষের কাছে।রিক চৌধুরীর থেকে চাইলেও সে আলাদা হতে পারবে না।দুনিয়াতে তো বাবা ছাড়াও আর কেউ নেই।তাকেও ঘৃণার তালিকায় জায়গা দিয়েছে। রোজ ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছে সবেমাত্র কয়েকমাস হলো।এখন তো তার এডমিশনের প্রিপারেশন এর সময়,তার কলেজ ফ্রেন্ডরা নিশ্চয়ই তাই করছে।অথচ এক ভয়ানক রাতের ব্যাবধানে তার পুরো জীবনের মোড় ঘুরে গিয়েছে।

ডিসেম্বরে রোজের আঠারোতম জন্মদিন, বাবার সাথে প্লেন করেছিলো তার সব বন্ধুদের রেস্টুরেন্টে নিয়ে ন্ট্রীট দিবে।শিল্পপতি ইমরান চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে বলে কথা, কলেজে বেশ্ নাম ডাক রোজের, অহংকারে মাটিতে পা পড়তো না। কোনো ছেলে গাঁ ঘেষা তো দূর চোখ তুলে তাকানোর আগে তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দ্বিতীয়বার ভাবতো না।কিন্তুু সময়ের ব্যাবধানে রোজ কেমন দূর্বল হয়ে পড়ছে।সে তো এমন না।কোনোদিনও এমন ছিলোই না।গত কতদিন যাবত কেঁদে কেঁদে কয়েক বছরের না কাঁদার উসুল ইউভান তার থেকে পুষিয়ে নিচ্ছে।শেষবার সে ফ্যামিলি এ্যালবামে তার মায়ের ছবি দেখে কেঁদে ছিলো।আর এখন তো চোখের কোণে জল জমে থাকে প্রতিনিয়ত। কথাগুলো মনের অজান্তে ভেবে ভেবে পাঁ পিছিয়ে পিছিয়ে ঠান্ডা দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেতেই ইউভানের দিকে তাকালো।ইউভান বেডে গাঁ হেলিয়ে শুয়ে আছে। পুরোপুরি সেন্স নেই। তাই হয়তো রাগে গজগজও করছে না চেচাচ্ছে না রোজের উপর।রোজ ঠোঁট উল্টিয়ে ধীর পাঁ ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে বিষন্নমনে হাঁটতে থাকে। মুখখানা ফেঁকাসে হয়ে আছে।কখন যে অচেতন ভাবে হাঁটতে হাঁটতে সামনের যে সিঁড়ি খেয়াল না করে পাঁ ফেলে হঠাৎ পড়ে যেতে নিলে একটা শক্তপুক্ত হাত রোজকে ধরে ফেলে। রোজ ভয়ে পিছনে ফিরে দেখে দামিয়ান তাকে বাঁচিয়ে নিয়েছে। রোজ এক পিছিয়ে বলে উঠে,

“দূরে সরুন।টাচ্ করবেন না আমায়।”

“ওয়েট ওয়েট।আমি তোমাকে বাঁচালাম তুমি আমাকে ভুল ভাবছো।”

“আপনারা সবাই এক দূরে থাকুন আমার থেকে।”

রোজ ভুল বুঝচ্ছে দামিয়ান তো নেগেটিভলি তাকে টাচ্ করেনি।রোজকে অস্বস্তিতে পড়তে দেখে দামিয়ান তার শার্টের খোলা দুটো গুতোম লাগিয়ে রোজের দিকে হালকা ঝুকতেই দেখে রোজের ঠোঁটের কোণে র’ক্ত জমে আছে।দামিয়ান ইউভানের বেড রুমের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢুল গিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে রোজের হাত ধরতে গেলে রোজ পিছিয়ে যায়।দামিয়ান বুঝতে পেরে ব’লে,

“সরি,বাট আমার সাথে এসো।তোমার তো মেডিসিন দরকার।ভয় পেয়োনা।”

“যাবো না, আপনি যান।আমার রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ান”

“আচ্ছা তোমাকে যেতে হবে না যাস্ট অ্যা মিনিট।নড়োনা একটু ও।”

ইউভানের রুম এর পাশেই নিচে যাওয়ার সিঁড়ি দামিয়ান তড়িঘড়ি করে নিজের রুম থেকে হেক্সিসল নিয়ে এসে রোজের কা’টা জায়গায় তুলো দিয়ে লাগাতে নিলে রোজ সরে যায়।তবে দামিয়ানের উদ্দেশ্য খারাপ না দেখে রোজ আর কিছু বলে না।তবে হাত বাড়িয়ে আমতা আমতা করে ব’লে,

“আমায় দিন।আমি লাগিয়ে নিচ্ছি।এসব ক্ষতের ত কমি ব্যথা, মনের ভিতর তার থেকে কয়েকগুন ক্ষত, সেগুলোর ব্যথা সারানোর কোনো ঔষধ হয় না? “

দামিয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে সিরিয়াস ভঙ্গিতে ব’লে

“তুমি কে চিনি না।তবে তুমি এখান থেকে চলে যাও।ভয় পেয়ো না।রিক মাত্র এক সপ্তাহের জন্যে বাংলাদেশে এসেছে। রিককে নাহয় আমরা বুঝিয়ে শুনিয়ে ডেনমার্ক নিয়ে চলে যাবো। তুমি এখানে থাকতে না চাইলে চলে যাও।”

রোজ বাঁকা হাসলো। করুণ ভাবে।রোজ কোথায় যাবে।তূর্জ হাউসে তো সে ফিরবে না।যাওয়ার জায়গা থাকলেই না যাবে।ভাঙ্গা কন্ঠে দামিয়ানকে ব’লে,

“আপনারা কারা?”

“রিকের বন্ধু”

“উহুম।সেটা বলিনি।”

“ওহ রিক, আমরা তো ডেনমার্ক এর সিটিজেন। আগে এটা বলো আমাকে দেখে কি তোমার বাঙালি মনে হয়?”

“নাহ।নন বাঙালি।আর রি…. “

“রিকও তো ড্যানিশ,তবে ও হাফ বাঙালিও। আন্টির থেকে পেয়েছে আর কি, মানে রিকের মম্।ওনি বাঙালি উই’মেন ছিলেন।”

রোজতো সেরকম ভাবে খেয়ালি করে নি ইউভানকে।লোকটা দেখতে কেমন।রুচিতেও বাঁধে কি বা দেখবে ঘেন্না হয় খুব করে।রোজের কাছে শুধুই ইউভান একটা দানব।রোজকে অন্যমনষ্ক দেখে দামিয়ান হাতে তুড়ি বাজিয়ে ব’লে

“হুয়াট হেপেন্ড। তোমার ব্যাপারে কিছু বলো আমিও শুনি।”

রোজ কোনো প্রতিউত্তুর করে না।

“ইউ আর রিয়েলি ভেরি প্রিটি,ড্যা’মইন”

দামিয়ানের কথায় রোজ বিরক্ত হয়ে জবাব দিলো,

“এ-সব পুরনো হয়ে গিয়েছে, শুনেছি অনেক।আপনার থেকে জানার কোনো ইচ্ছে নেই”

দামিয়ান রোজের কাছে এসে বলে, “রিয়েলি”-তারপর নিজ হাতে তুলোতে হেক্সিসল ভিজিয়ে রোজের ঠোঁটে কোণে লাগায়।রোজ ব্যথায় আহ!-করে সরে যেতে নিলে দামিয়ান রোজের থুতনিতে হাত রেখে আলতো হাতে হাতে র’ক্ত ক্লিন করতে থাকে আর রোজ এর যেনো ব্যথা জ্বালাভাব কমে ফুঁ দিতে থাকে। রোজ দামিয়ানকে সরানোর আগেই কেউ একজন তাদের উপর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকিয়ে আছে। হ্যাঁ ইউভান তখন থেকে বেডরুমের দরজার কাছে এসে বুকে হাত গুজে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।ভ্রু কুচকিয়ে এবার হাত ট্রাউজার এর পকেটে রেখে সামনে এগিয়ে আসতে আসতে চোয়াল শক্ত করে ব’লে,

“ক্ষততে মলম লাগানো শেষ তোর? নাও মাই টার্ন, আবার ক্ষত আপডেট করার….
.
.
.
.
.
(চলবে)

[পরবর্তী পর্ব পেতে রেসপন্স করবেন🎀]

❌গল্পটা ধৈর্য ধরে পড়ার অনুরোধ রইলো।গল্পটা আমাকে আমার মতো লিখতে দিন।আপনাদের কথা ভেবে গল্পটা এখনো দিয়ে যাচ্ছি।বিশ্বাস করুন আমার হাত চলে না।যখন দেখি গল্প কপি করে অন্যেজন নিজেদের নামে চালাচ্ছে।সেখানে লাইক কমেন্ট এর অভাব নেই।লিখতে তো কষ্ট হয় আমার। অনেক ঘন্টা লেগে যায়,আজকের পর্বটা লিখতে পারছিলাম না এসবের জন্যে হাত চলে না পারছি না। আপনারা একটু কপিবাজদের উপর আওয়াজ তুলুন।আমি মেন্টালি ডিপ্রেরেজ্ট।❤️‍🩹

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply