Golpo Love or hate romantic golpo

Love or Hate পর্ব ৩৮


Love_or_Hate

|#পর্ব_৩৮|

ইভেলিনা_তূর্জ

⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে

ইউভান রোজের কপালে আলতো করে হাত রাখল। কোনো তীব্র জ্বর বা উষ্ণতার পূর্বাভাস নেই মেয়েটার শরীরে। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই দুর্বল দেখাচ্ছে ইউভান লক্ষ্যে করেছিলো। ইউভান রোজকে কোলে নিয়ে ক্রিপ্টিক সেলারের একপাশে রাখা একটা ভেলভেটের প্রাচীন সোফায় অত্যন্ত সন্তর্পণে শুইয়ে দিলো।মেয়েটার নিষ্পাপ পাংশুটে মুখের দিকে চেয়ে ইউভান নতজানু হয়ে বসে পড়লো তার পাশে।

​”আমায় এতো পেইন কেনো দিচ্ছিস বোকা হরিণী? চোখ খুলতে হবে না তোকে চোখ বন্ধ রেখেই অন্তত কথা বল! তাও কিছু একটা তো বল!গা’লি দিতে মন চাইলে দে না,হাজারটা দে।মারতে মন চায় তো আরও কয়েকটা ছুরির আঘাত করতে পারিস বুকে,
বাট! বাট!বাট ডোন্ট ইভেন থিংক এবাউট লিভিং মি,আই উইল ডিস্ট্রয় ফা*কিং এভরিথিং ফর ইউ!”

ইউভান হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে রোজের লালআভার গালে স্লাইড করলো।ভিতরকার চাপা তিব্র দহনে জ্বলাভূত কন্ঠে বলল।
“আমি যে পাপ তুই যে পবিত্র, পবিত্রতার মাঝেই যে নিজের ধ্বংসের ময়দান সাজিয়েছি,ধ্বংস যে অনিবার্য।”

​রোজের কোনো প্রত্যুত্তর না পেয়ে ইউভানের ছটফটানি বাড়লো। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে টেবিলের ওপর থাকা একটা হুইস্কির বোতল থেকে গ্লাসে কিছুটা তরল ঢেলে নিলো। রোজের মুখে ছিটকে দেবে বলে উদ্যত হতেই হুঁশ ফিরলো!
​”শিট! শিট! হোয়াট দ্য হেল…”

পানির বদলে মদ ছিটকাতে যাচ্ছিলো।​বুঝতে পেরে পরক্ষণেই ইউভান ওয়াইনের গ্লাসটা পাশে ছুড়ে ফেলে দিয়ে পানি নিয়ে এলো। রোজের চোখের পাতায় আর কপালে পানির কয়েক ফোঁটা ছিটিয়ে দিলো। কিন্তু না, রোজের চেতনা ফেরার কোনো লক্ষণই দেখা গেলো না। তবে রমণীর নিস্তেজ শরীরটা হঠাৎ হালকা কেঁপে উঠলো।পুরো শরীরটা ঠান্ডায় একদম নীল হয়ে জমে যেতে লাগলো।
​পরিস্থিতির আকস্মিকতায় ইউভানের ধূসর অক্ষীপল দুটো কুঁচকে যোতেই অদ্ভুত ব্যাকুলতায় রোজের ঠান্ডা বরফ হয়ে যাওয়া হাতের তালু আর পায়ের পাতা দুটো নিজের বলিষ্ঠ হাতের মুঠোয় নিয়ে সজোরে ঘষতে শুরু করলো। তপ্ত ঘর্ষণে যেনো রোজের অবশ হয়ে যাওয়া রক্তকণিকায় একটু গরমাভাব অনুভূতি হয়।

ইউভানের দৃষ্টি গেলো সেলারের সুউচ্চ জানালার দিকে। সেখান থেকে বাইরে চলমান তুষারপাতের হিমশীতল বাতাস শাঁ শাঁ শব্দে সেখানে প্রবেশ করছিলো। ইউভান এক লাফে উঠে গিয়ে সজোরে সেই প্রাচীন ভারী জানালাগুলো বন্ধ করে দিলো।
​ইউভান পুনঃরায় রোজের পাশে হাঁটু গেঁড়ে বসলো। মেয়েটার কাঁপতে থাকা নীলচে ঠোঁট আর রক্তহীন গাল দুটো দেখে পৌরুষ্যর পাষাণ হৃদয়ে যেনো এক নির্মম তলোয়ারের আঘাত লাগলো।

রোজের পড়নের শুধু একটা উলের চেরি ফ্লোরাল টপ পড়ে থাকতে দেখে বুঝতে পারলো,এই ভারী তুষারপাতে জঙ্গলে পথ বেয়ে আসার কারণে রোজের পুরো শরীর ঠান্ডায় জমে গিয়েছে। ইউভান এসব কখনোই খেয়াল করে নি আর না পরোয়া করেছে।ইউভান বিদ্রুপহীন দৃষ্টি প্রগাঢ় করে অপলক চেয়ে রইলো রোজের পানে।রোজ তো ঠিকি বলে,ইউভান তো ভীষণ খারাপ,হ্যাঁ সে পাপী এটা ইউভান নিজেও জানে,ক্রোধান্বিত পুরুষালী চোয়াল আসাড় হতেই ইউভান বিড়বিড়ালো।
“আমি তো পাপী!পাপ পূন্যের মিলন কেন ঘটলো তবে?
কোনো এক শ্রাবণের রাতে এক নারীর আঁখিদুটি দেখে বলেছিলাম আমাদের আবার দেখা হবে ধ্বংসের কোনো নতুন উৎসবে।দেখা তো হলো আর সেই নারী তুই কেন হতে গেলি রোজ!বল!এলি তো এলি আমার পছন্দের ডার্ক রোজ হয়েই এলি।”

পরমূহূর্তেই ইউভান এক আকস্মিক তীব্র টানে পড়নের হুডি খোলে রমণীর তন্বী শরীরটা নিজের লোহার মতো শক্ত লোমহীন বক্ষে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো।দুজনের মাঝে আর এক বিন্দুও দূরত্বের অবকাশ রইলো না। ​আর ঠিক সেই মুহূর্তেই, রোজক জাপটে ধরতেই ইউভান প্রথমবারের মতো অনুভব করলো একটা তীব্র ও উন্মাতাল তরঙ্গের ধ্বনি যেনো সুনামির মতো আছড়ে পড়ছে তার কানে। এ আর কিছু নয়, যা ছিলো লৌহকঠিন ব*ক্ষপিঞ্জরের মধ্যেকার তোলপাড় করা অবাধ্য হৃদস্পন্দনের শব্দ!
​প্রলয়ংকারী হার্টবিটের তীব্র স্পন্দনের শব্দে নিজের জ্বলন্ত চোখ দুটি বুজে ফেললো ইউভান। নড়লো না, রোজকে নিজের বাহুডোর থেকে এক চুলও আলগা করলো না।

❝Yeah, it’s time Yuvan feel that… Yuvan is trapped in the world of 5201314, where love doesn’t heal, it scars. And it’s a story of him, where love means pain, and to love means he has to fight against the” whole world” and against the destiny.❞

.
.
.
.
ভলচর দ্বীপের আলো আঁধারী নির্জন সমুদ্র বন্দরে বিশাল লোহার দৈত্যের মতো একের পর এক কার্গো জাহাজ এসে ভিড়ছে।চারদিকে শুধু হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর ক্রেনের যান্ত্রিক শব্দ। ইউভানের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী তুষার আজ ‘ফার্স্ট ওয়াচ’ এর দায়িত্বে। প্রতিটি কার্গো জাহাজের পে’ট ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে শত শত কাঠের বাক্স যার ভেতরে লুকোনো কোটি কোটি টাকার অবৈধ মারণাস্ত্র আর নিষিদ্ধ বিভিন্ন রকমের কেমিক্যাল ড্রাগস।
​তুষার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে প্রতিটা ডিল মনিটর করছে। কান ঘেঁষে গোঁজা ওয়্যারলেস ইয়ারপিস। পেছন পেছন জমাটবদ্ধ এক জোড়া জেদি পা ফেলে এগিয়ে চলছো রাহা। সটান তুষারের পিছনে এসে দাঁড়ালো।
​”আপনি আমাকে কিস করলেন কেনো? এক গালে দেয়া ভালো না, ভারসাম্য রাখতে অন্যে গালেও দিন!থাপ্পড় মেরেছেন।মাফ করে দিয়েছি।অন্য কেউ হলে এতক্ষণে তার চোদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে ফেলতাম। তাই ভালোয় ভালোয় বলছি, তাইওয়ান আরেকটা কিস দিয়ে দিন!”
​রাহার মুখে এমন অদ্ভুত আবদার আর বেপরোয়া কথা শুনে তুষার স্তম্ভিত হয়ে গেলো। সে কান থেকে হাত সরিয়ে ইয়ারপিসটা হালকা চেপে ধরলো।মেয়েটার অবাধ মুখরা বন্ধ করার কোনো উপায় যে জানা নেই তুষারের।
​”চুমু দিইনি, ব্যথা দিয়েছিলাম তার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েছি যাস্ট।বেশি কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ গিয়ে ওখানে বসো । ডিস্টার্ব করো না!”
​রাহার যে বেপরোয়া,উল্টো কোনো দূরত্ব না রেখে এক ঝটকায় তুষারের শার্টের কলারটা সজোরে মুচড়ে ধরলো।
​”আমি বলেছি না আরেকটা দিতে! আপনি দেবেন কি দেবেন না, বলুন?পড়ে কিন্তুু পুরুষ নির্যা/তনের মামলায় ফেঁসে যাবো!”
​তুষার এমনিতে কাজে অনড়,কাজের মাঝে অন্যমনস্ক হওয়াটা তেমন পছন্দ না তার।কিছুটা বিরক্ত হয়ে রাহার উদ্ধত হাতটা সরাতে যাবে, ঠিক তখনই রাতের নিস্তব্ধতা খানখান করে দিয়ে গর্জে উঠল কয়েকটি মারণাস্ত্র!বাতাসের বুক চিরে ছুটে এলো সাইলেন্সারযুক্ত বন্দুকের মরণঘাতী বুলেট। একটা বুলেট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তাদের ঠিক ইঞ্চিখানেক দূর দিয়ে কার্গোর গায়ে আছড়ে পড়লো।
​তুষারের শিকারী মস্তিষ্ক এক সেকেন্ডের জন্যেও সময় নষ্ট করলো না। এক ঝটকায় রাহার কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে নিয়ে নুয়ে পড়লো বন্দরের শীতল কংক্রিটের ওপর। উপর্যুপরি আরও কয়েকটি শব্দহীন ঘাতক বুলেট তাদের মাথার ওপর দিয়ে বাতাস চিরে চলে যেতে লাগলো। একের পর এক অ্যাটাক।সময় খুবই কম! তুষার কালবিলম্ব না করে রাহার হাত শক্ত করে ধরে এক দৌড়ে সামনের একটা খোলা কার্গো জাহাজের খোলের মধ্যে লাফিয়ে উঠলো।
​জাহাজের সুরক্ষিত ধাতব দেয়ালের আড়ালে এসে তুষার এক কোণ থেকে একটি অত্যাধুনিক অটোমেটিক রাইফেল তুলে নিলো। ম্যাগাজিনে বুলেট লোড করতে করতে রাহার ওপর সমস্ত রাগ মিশিয়ে হিংস্রভাবেগর্জে উঠলো।

​”তোমাকে আমি রুমে চলে যেতে বলেছিলাম না? আমার কথা কি তোমার কানে যায় না? এত অবাধ্য কেনো তুমি! তোমার কাছে কি এসব ফাজলামো মনে হয়!_রাহার গায়ে হাত তুলতে না পেরে ডান হাত টা দিয়ে ঘুষি মারলো জাহাজের দেয়ালে।

​তুষারকে এভাবে রাহা তার ওপর চিৎকার করতে দেখে বিন্দুমাত্র না পরোয়া করে রমণী তুষারের হাত থেকে ভারী রাইফেলটি নিয়ে জাহাজের ভেতরের এক ক্রিস্টাল ওয়াইন ক্যাবিনেটের ওপর সজোরে ছুড়ে মারলো। পরক্ষণেই তুষারকে জাহাজের কাঁচের দেয়ালের সাথে সজোরে চেপে ধরলো। তুষারের শার্টের দুটো কলার নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরলো।শ্বাস প্রস্বাস ততক্ষণে ঘন হয়ে এসেছে।

​”আপনি এভাবে আমার ওপর চিল্লাচ্ছেন কেনো?”

বাক্যেবিনিময়ের সুযোগ প্রদান না করেই রাহা তার জ্যাকেটের নিচে থাকা পাতলা ক্রপ টপটি এক ঝটকায় উন্মুক্ত করে দিলো। উন্মোচিত হলো রমণীর সর্পিল মেদহীন উদর। কিন্তু তুষারের অক্ষীপল ভেদ করলো অন্য জায়গায়, রমণীর ধনুকের ন্যায় বাকানো উদরদেশের মধ্যেস্তলের মধ্যেমনির উপর,পরক্ষণেই তুষার অক্ষীপল সংযত করে জিভ দিয়ে অধর ভিজিয়ে নিলো।রাহা তুষারকে দেখালো তার কোমরে বাঁধা লেদার বেল্টের পাউচে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে গোঁজা একটা প্রকাণ্ড ৭.৬৫ মিনি রিভলভার আর একটা ধারালো স্টেইনলেস স্টিলের শিকারী ছুরি।
​”নিজেকে কীভাবে প্রোটেক্ট করতে হয়, তা আমি খুব ভালো করেই জানি মিস্টার Whatever!”__রাহা ঠোঁট কামড়িয়ে হাসে তুষারের শার্টের খোলা দুটো বোতামের মাঝখান দিয়ে নিজের কোমল হাত স্লাইড করে ভেতরে ঢুকিয়ে দিলো। শরীরের চরম ও আকস্মিক সান্নিধ্যে তুষারের স্নায়ুতে বিদ্যুত তরঙ্গ খেলে গেলো। কিন্তু কঠোর পুরুষ তার আদিম পুরুষালী সত্তাকে কঠোরভাবে শাসন করে রাহার হাতটা সরিয়ে দিলো আর ক্যাবিনেট থেকে রাইফেলটা আবার তুলে নিয়ে জাহাজের বুলেটপ্রুফ জানালার এক কোণে নিশানাবাজ চোখ রাখলো। কুয়াশার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য স্নাইপারদের পজিশন লক করলো।
​রাহা নেত্রপল্লব উল্টিয়ে তুষারের কাঁধে কনুই ভর দিয়ে জিজ্ঞেস করলো।
​”কাদের লোক এরা?আই মিন হিডেন স্নাইপারগুলো”
​ঠিক তখনই এক গার্ডের আকস্মিক প্রবেশ হতে রাহা পিছন ঘুরে তাকালো। গার্ডটি এক দৌড়ে এসে একটা সুরক্ষিত মিলিটারি-গ্রেড ল্যাপটপ এনে জাহাজের মাঝখানের স্টিল টেবিলটার ওপর রাখলো। অত্যন্ত কাঁপাকাঁপা গলায় তুষারের দিকে তাকিয়ে বললো
​”বস!”
​তুষার সজোরে উত্তর দিলো— “ইয়েস!”
​তুষার জানালার দিক থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে টেবিলের দিকে তাকালো। আর তাকানোমাত্রই তুষারের ব্ল্যাক চোখের মণি জোড়া অন্যরকম আশঙ্কায় সংকুচিত হয়ে এলো, ল্যাপটপের স্ক্রিনে অলরেডি একটা লাইভ ভিডিও কনফারেন্স চালু হয়ে আছে। আর স্ক্রিনের ওপারে গম্ভীর ও নিষ্ঠুর দৃষ্টি নিয়ে বসে আছেন ইতালিয়ান মাফিয়া সাম্রাজ্যের অন্যতম ত্রাস, মার্বেল ব্রিস্ট!

মার্বেল ঝুঁকে এলো স্ক্রিনের দিকে।অসভ্যের মতো সবকপাটি দাঁত কেলিয়ে হাতছে।ওয়াইনের গ্লাসের বহিঃরাংশ জিভ দিয়ে চে*টেপুটে তুষারকে উদ্দেশ্য করে বললো।

“মার্বেল মাঠে নামার আগে ঝড়ের পূর্ভাবাস এমনি বারুদ হয়ে নেমে আসে।রিক কই! এই এই রিক কই??গাল টেনে একটা চুমু খাবো।রিককে ডাক তুষার।”

তুষারে পিছন থেকে রাহা খপ করে ল্যাপটপের সামনে এসে দাঁড়িয়ে রেগেমেগে ভ্রু কুচকিয়ে অকাট্য ভাষায় বললো।

“শা*লা তুই আমার ভাইকে চুমু খাবি মানে,তুই কি গে নাকি??”_মার্বেলের কন্ঠ শুনেও চিনতে না পেরে স্ক্রিনে তাকিয়ে মার্বেলকে দেখে রাহা দুপা পিছিয়ে গেলো।চোয়াল শক্তি হয়ে এলো রমণীর।রাহাকে দেখতে পেয়েই মার্বেল মাথার পিছনে দু’হাতে রেখে আয়েশী ভঙ্গিতে বসলো।

” আরে আমার রাহা ডার্লিং নাকি!লং টাইম নো সিন বেবি।খুব শীঘ্রই আসছি তোমার কাছে ডার্লিং, নিজের চোখেই দেখে নিও গে নাকি না।খায়েশ মিটিয়ে দিবো।”

মুহূর্তেই এক চরম শিকারি সিংহের মতো গর্জে উঠলো তুষার। তার হাতের মুষ্টি ক্রোধের তাড়নায় কাঁপছে। হিংস্র পশুর ন্যায় ভয়াবহ গর্জন তুলে বাঘের থাবার মতো ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে ঝুঁকে এলো।
​”মার্বে…ল! ইউ ব্লাডি অ্যা*সহোল! পিপীলিকারও পাখা গজে মরিবার তরে। কথাটার মানে জানিস নিশ্চয়ই??”

​”এই এই এই!”
​মার্বেল খ্যাক খ্যাক করে এক পৈশাচিক হাসি হেসে উঠলো। রাহার তন্বী নারীমূর্তির দিকে এক লোলুপ পশুর ন্যায় ক্ষুধার্ত দৃষ্টি ফেলে নিজের দাঁত দিয়ে যেনো অবলীলায় রমণীকে চিবিয়ে খেতে চাইলো। নিজের ক্রুর নেশাতুর কণ্ঠে আওড়ালো

​”রিকের বোন আমার বউ, আমার বউ রিকের বোন। রিকের বউ আমারও বউ। এভাবেই তো আমাদের জগৎ সংসার। রাহা ডার্লিং আই লাভ লাভ লাভ ইয়্যাু জান।”

​রাহার ভেতরের সমস্ত সংযম আদিম আক্রোশে পরিণত হলো। দাঁতে দাঁত পিষে সোজা তার ৭.৬৫ মিনি রিভলবারটা বের করে ল্যাপটপের স্ক্রিন বরাবর তাক করলো। ​”ফাক’ড আপ মার্বেল। শুয়োরের বাচ্চা! ইউ নো ওয়াট, তোকে নিজ হাতে খুন করবো আমি।”

​মার্বেল কোনো এক মর্ষকামী পিশাচের মতো তার সেই কুৎসিত সংলাপ চালিয়েই গেলো।পরম সুখে চোখ বুজে বললো।
​”আহহ! ডার্লিং তোমার হাতে খুন হতেও রাজি আছি। তার বদলে না-হয় তোমার জন্যে জমাকৃত আমার সব প্রোটিন তোমায় উপহার স্বরূপ দিবো!” ​ ন্যাক্কারজনক ভিডিও কনফারেন্সটি আর এক সেকেন্ডের জন্যেও স্থায়ী হতে পারলো না। তুষার এক চরম আক্রোশে ল্যাপটপের ডালাটি ঠাস্‌ করে বন্ধ করে দিলো। প্রচণ্ড ক্ষোভে ল্যাপটপটি ছুড়ে আছড়ে ফেলে দিলো জাহাজের ধাতব মেঝের ওপর। অতঃপর, এক চরম ও নিষ্ঠুর অন্ধ আক্রোশে রাহার দুই কাঁধ নিজের শক্ত হাত দিয়ে সজোরে আঁকড়ে ধরে ঝাঁকাতে লাগলো। তুষারের সমস্ত পুরুষালী ও উ*ন্মাদ শক্তির নিষ্ঠুর প্রয়োগের ফলে রাহার সুকোমল শরীরটা তীব্র ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো। তুষার ক্ষিপ্ত ও প্রলয়ংকারী স্বরে রাহার ওপর ফেটে পড়লো।
​”সামনে আসতে কে বলেছে তোমায়??, আন্সা মি,সামনে কেনো এলে???আমাদের ইস্যু আমরা হ্যান্ডেল করে নিতাম। সব কাজে বাগড়া দেওয়া তোমার হ্যাবিট হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

পরক্ষণেই রাহা ধপ করে বসে পড়লো চেয়ারে।সজোরে জাপটে ধরলো তুষারের কোমর। তার কাঁপতে থাকা মুখটি গুঁজে দিল তুষারের সেই শক্ত বুকের পাঁজরে।এমন পরিস্থিতির মাঝে রাহার এমন এক প্রশ্ন, যা শোনার জন্য তুষার নিজেও এই মুহূর্তে প্রস্তুত ছিলো না।যা রাহা বরাবরই জিজ্ঞেস করে আসে।
​”আপনি কি অন্য কাউকে ভালোবাসেন? তাই?”

​তুষার স্তব্ধ হলো।লৌহইস্পাত কঠিন্যে হাত দুটো আসাড় হয়ে এলো।
​”তুমি কোথা থেকে কোথায় চলে যাও বলো তো! এখানে আমার ভালোবাসার কথা আবার কোথা থেকে এলো?”

​”কেন আসবে না! আপনিই তো আমায় বলেছিলেন আপনি কোনোদিন বিয়ে করতে পারবেন না,মাফিয়া গ্যাংস্টারদের সংসার হয় না।আরও কত অজুহাতই তো সর্বদা তৈরি থাকে আপনার কাছে! ভুলে গিয়েছেন সব?”

​”তো?”

​”তো? এখন যে ভাইয়া দামি ভাইয়ের সাথে আমার এনগেজমেন্ট ঠিক করলো! আপনার কি কিচ্ছু যায়-আসে না তাতে? আপনি কি…..”

​তুষার তার দৃষ্টি জানালার বাইরের কুয়াশাচ্ছন্ন সমুদ্রের দিকে নিবদ্ধ রেখে কঠিন গলায় উচ্চারণ করলো।
​”এই অবাধ্য মেয়ে… তুমি এখন যাও তো এখান থেকে। প্লিজ, আমায় আর রাগিয়ো না।”

রাহা তুষারকে ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। ছোট্ট করে জবাব দিলো__”ওকে”
*

পরদিন সকাল।রাতের রয়্যাল বিল্ডিংয়ের সুউচ্চ গথিক জানালাগুলো ভেদ করে এক চিলতে সোনালী রোদ্দুর এসে আছড়ে পড়লো রুমে।​বিশাল ভেলভেটের কোমল বিছানায় তখন গভীর ঘুমে মগ্ন রোজ। প্রভাতের অবাধ্য সূর্যরশ্মি এসে হানা দিলো রোজের দুধে-আলতা মিশ্রিত মুখশ্রীর ওপর।রোজ তার ঘুমকাতুরে আঁখিজোড়া মেলে চারদিকে তাকালো। সে দেখলো নিজের রুমে শুয়ে আছে! কিন্তু কাল রাতে তো রোজ সেলারের ক্রিপ্টিক পরিবেশে ইউভানের সান্নিধ্যে ছিলো। সে এখানে এলো কী করে? মাথায় হালকা হাত রেখে চোখ দুটো কুঁচকে এক গভীর ভাবনায় ডুবলো মেয়েটা। কাল রাতে কি প রোজ আবারও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলো?
​হক চকিয়ে বেডের অন্যপাশে তাকালো। কিন্তু সেখানে ইউভানের কোনো অস্তিত্ব নেই। রোজ দ্রুত শাওয়ার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে দাঁড়াল ড্রেসিং টেবিলের ভ্যানিটির সামনে। আর আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব ভেসে উঠতেই আতঙ্কে শিউরে উঠলো!
​তুষারশুভ্র ঘাড় আর গ্রীবা জুড়ে লালচে-বেগুনি রঙের ছোপ ছোপ র*ক্ত জমাট বেঁধে আছে।দাগগুলোর ওপর নিজের কাঁপতে থাকা আঙুল ছুঁইয়ে ওষ্ঠাধর দাঁত দিয়ে সজোরে চেপে ধরলো।বুঝতে বাকি রইলো না ইউভানের কা/মড়ের দাগ পড়ে গিয়েছে! পাষাণ ও নিষ্ঠুর লোকটার কাছ থেকে এখনও তার অনেক জবাব চাই!
​সেই জেদ নিয়ে রোজ যেমনই দ্রুতপদে রুম থেকে বের হতে যাবে, অমনি মেয়েটার দৃষ্টি আটকে গেলো মেঝের এক কোণে। খাটের একদম নিচে একটা ফাইল পড়ে আছে। রোজ আলতো করে নিচু হয়ে ফাইলটি তুলে নিলো।পড়ে দেখবে ভেবেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে ফাইলটা টেনে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারের ভেতর রেখে দিলো।

রোজ লিফটে উঠে সিক্সথ ফ্লোরের বোতাম চেপে দিলো।ষষ্ঠ তলায় লিফটের দরজা খুলতেই দেখলো এক দীর্ঘ ও শুনশান করিডোর। ধীর কিন্তু দৃঢ় পায়ে রমণী করিডোর বেয়ে সামনে এগোতেই দেখল একটা রাজকীয় ভিআইপি রুম ইউভানের
দরজার ওপর সোনালী অক্ষরে খোদাই করে লেখা_”মনস্টার ব্রিস্ট”।
​আর সেই দরজার সামনে পাহারায় দাঁড়িয়ে আছে হাতির মতো দীর্ঘ ও চওড়া দেহের দুজন কৃষ্ণবর্ণ পোশাকধারী সশস্ত্র গার্ড। কোমরে গোঁজা উদ্যত মারণাস্ত্র। রোজ সংকোচ না দেখিয়ে সোজা দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলো। কিন্তু পাহাড়সম দুজন গার্ড একযোগে হাত বাড়িয়ে রোজের পথ অবরুদ্ধ করলো। তাদের একজন অত্যন্ত ভারী গলায় বললো।
​”বসের রুমে অনুমতি ছাড়া কারোর প্রবেশ নিষেধ, ম্যাম!”
​রোজ বিরক্তিতে নিজের ভ্রু কুঁচকে অত্যন্ত গম্ভীর ও কর্তৃত্বপূর্ণ স্বরে বললো।
​”সামনে থেকে সরে যান, আমাকে ভেতরে যেতে দিন!”
​গার্ডটি তার জায়গায় পাথরের মতো অনড় থেকে মাথা নিচু করে বললো।
​”আই অ্যাম সরি ম্যাম, বাট উই ডোন্ট অ্যালাউ অ্যানিওয়ান
উইদাউট ক্যাটরিনা ম্যাম!”
​ক্যাটরিনার নাম শুনতেই রোজের দাঁতে দাঁত কিড়মিড় করতে লাগলো।রোজ ভীত হলো না সে জানতো আপাতত রোজকে কেউ কিছুই করবে না।তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা আছে।তাই ভয়ের কোনো অবকাশ নেই। অত্যন্ত ধারালো গলায় রোজ বললো।
​”আমি কে, সেটা নিশ্চয়ই তোমরা জানো?”
​গার্ড দুজন মূলত ভলচর দ্বীপেরই বিশ্বস্ত সেন্ট্রি। তারা রোজকে এমন ভারী গলায় কথা বলতে দেখে নিজেদের উদ্ধত ভাব কিছুটা কমিয়ে আনলো,কিছুটা সম্মানের সুরে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো।
​”ইয়েস ম্যাম, উই নো আপনি উড বি মিসেস ভোলকভ। গ্যাংস্টার ভোলকভের উড বি ফিয়্যান্স!”
​গার্ডদের মুখ থেকে গ্যাংস্টারের হবু স্ত্রীর তকমাটা শুনে নিজের আঁখিজোড়া ক্ষণিকের জন্য বন্ধ করলো। অতঃপর এক বুক লম্বা শ্বাস টেনে নিয়ে নিজেকে শক্ত করে বললো।
​”তোমাদের রিক বস ভেতরে আছেন নিশ্চয়ই? ডাকো উনাকে!”

“উহুম!ম্যাম, বস তো এই মুহূর্তে রুমে নেই।”
​”নেই!”
​”নো ম্যাম!”
​রোজ আর সেখানে এক সেকেন্ডও দাঁড়ানো সমীচীন মনে করলো না। চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই হঠাৎ কী মনে করে থমকে দাঁড়ালো। গার্ডদের দিকে পিছু ফিরে জিজ্ঞেস করলো।
​”মিস্টার ভলকভের রুম কোনটা?”
​গার্ড দুজন অবাক হয়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকালো। অতঃপর তাদের একজন আঙুল উঁচিয়ে বললো
​”থার্ড ফ্লোরে, ম্যাম।”


নিচতলার ডরমিটরির এক কোণে ইউভানের আদুরে নেকড়ে ড্রাকস কে নিষ্ঠুর স্পাইডারের অধিপতি ইউভান পরম মমতায় ঝুঁকে পড়ে হিংস্র পশুর কপালে এক আলতো চুম্বন এঁকে দিলো। নেকড়েটাও তার দীর্ঘ লাল জিভ বের করে বিশ্বস্ততায় ইউভানের পা চাটতে লাগলো।

প্রকোষ্ঠের মাঝখানে হাত-পা লোহার ভারী শিকলে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এক ঝানু স্নাইপারকে।এই স্নাইপারটাই কার্গো জাহাজের কাছে রাহা তুষারের উপর অট্যাক করেছিলো।স্পাইডারের গার্ডরা ট্রেপে ফেলে ধরে ফেলে সেই স্নাইপারকে।যদিও ইউভান জানে একে মেরে ফেললেও মার্বেলের কিছু যায় আসে না।উল্টো খোদার জালিম মার্বেল ইউভানকে ক্ষ্যাপাতেই এমন করেছে।ইউভানের পৈশাচিক উৎফুল্লতা মিশ্রিত হাসির শব্দে পুরো ডরমিটরি কেঁপে উঠছে।রাহার উপর আক্রমণের আক্রোশে ইউভান মার্বেলের স্নাইপারকে একটু সহ যত্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।পৈশাচিক খুনের তৃষ্ণা আর আদিম আক্রোশ তখন চরমে। পুরুষটার অক্ষিপল্লব কোনো ক্ষুধার্ত বুনো জানোয়ারের মতো টকটকে লাল হয়ে তার চেয়ে ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে। শার্টের ভেতর সুঠাম পেশিবহুল শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরা রাগে ফুলে উঠেছে, যেন এখনই শার্ট চিরে রা*ক্ষুসে পেশিগুলো বেরিয়ে আসবে।

​ইউভান এক হাতে একটা ভারী মোটা লোহার রড তুলে নিলো। ঝুলন্ত স্নাইপারটির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পুরো শক্তি প্রয়োগ করে লোহার রডটি সজোরে আছড়ে ফেললো স্নাইপারটির মুখ আর নাক বরাবর! হাড় ভাঙার এক বীভৎস মটমট শব্দে স্নাইপারের নাকটা থেঁতলে ভেতরের দিকে ঢুকে গেলো। কিন্তু ইউভান থামল না। অনবরত রড দিয়ে লোকটার মুখের ওপর আঘাত করতে লাগলো।নিষ্ঠুরতার চরম পর্যায় গিয়ে ইউভান লৌহকঠিন হাতের আঘাত পড়লো স্নাইপারের মাথার খুলি লক্ষ্য করে।

সজোরে রডের বাড়ি পড়তেই মটমট করে মাথার খুলি আর চামড়া ফেঁটে যাওয়ার এক নারকীয় আওয়াজ হলো। ফিনকি দিয়ে তাজা উষ্ণ রক্ত ছিটকে এসে আছড়ে পড়লো ইউভানের দানবীয় মুখাবয়বের ওপর। ইউভানের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো এক পৈশাচিক তৃপ্তির র*ক্তিম হাসি।স্নাইপারে চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে মানবের জিহ্বাটা টেনে বের করে এনে ছিঁড়ে ফেললো মেঝেতে। হিংস্রতা মিশিয়ে হুঙ্কার দিয়ে উঠলো।

“You can take your last breath now. But remember one thing… in hell, when you meet your boss, tell him that I am coming to take his fucking soul. No one touches my sister and stays alive.” পৈশাচিক উন্মাদনা তখন শীর্ষপর্যায়ে। ড্রয়ার থেকে একটা ধারালো শিকারী ছোরা বের করে স্নাইপারটার হাতের কব্জি পর্যন্ত এক কুপে পুরো মাংস আর চামড়া ছিঁড়ে আলাদা করে ফেললো! অসহ্য যন্ত্রণায় স্নাইপারটার কণ্ঠ চিরে এক গগনবিদারী নারকীয় আর্তনাদ বেরিয়ে এলো,দামিয়ানের নাক মুখ কুঁচকে এলো এমন বিভৎসতা দেখে! অতঃপর ইউভান ​কেটে নেওয়া রক্তাক্ত টাটকা হাতের কব্জিটা অবহেলায় ছুড়ে দিলো বুনো নেকড়ের ফিডিং বোলে। ড্রাকস ক্ষুধার্ত গর্জনে লালা মিশ্রিত জিভ বের করে ঝাঁপিয়ে পড়লো মানুষের মাংসের স্বাদ গ্রহণ করতে। তীক্ষ্ণ ধারালো চোখা দাঁত দিয়ে চামড়া ছিঁড়ে খুবলে খুবলে মাংস খেতে লাগলো। পুরো রুম জুড়ে শুধু মাং*স ছিঁড়ে খাওয়ার শব্দ হতে লাগলো।

ইউভান পকেট থেকে একটা সাদা টিস্যু বের করে মুখে লেগে থাকা তাজা র*ক্ত মুছে ক্রোধের তাড়নায় বড়বড় শ্বাস টেনে লিফট করে মাটির তলদেশে মাস্টারের কক্ষে যেতে লাগলো।

লিফটের দরজা খুলতেই মাটির নিচের হিমশীতল অন্ধকার প্রকোষ্ঠটি উন্মোচিত হলো। ইউভান বাঘের মতো ক্ষিপ্র পায়ে মাস্টারের কক্ষে প্রবেশ করেই চারপাশের প্রাচীন আসবাবপত্র আর কাঁচের শো-পিসগুলো এক মরণঘাতী আক্রোশে ভাঙচুর করতে লাগলো। ভেতরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তখন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়েছে। ক্রুর কণ্ঠস্বর ছুড়ে দিয়ে বুনো প*শুর মতো চিৎকার করে উঠলো

​”Where are you bit*ch! আপনি বলেছিলেন ভলচর দ্বীপের সুরক্ষার্থে আপনি যাবতীয় সবকিছু করবেন! এই আপনার কথা রাখার ধরন? যদি আমার বোনের কিছু হয়, খবরদার! সব শ্মশান বানিয়ে ফেলবো!”

​ইউভানের বজ্রকঠিন হুঙ্কারের রেশ কাটতে না কাটতেই আদিম অন্ধকার ছায়ার আড়াল থেকে এক গম্ভীর শীতল কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। যেনো কোনো এক অদৃশ্য প্রে*তাত্মা কথা বলে উঠলো।

​”এ ব্যাপারে আমি বিন্দুমাত্র কিছু জানতাম না! আর রাহার জন্য তুমি এতটা উদগ্রীব হচ্ছ কেনো রিক? ভুলে যেও না, রাহা তোমার সৎ বোন! আর তোমার মনে কবে থেকে দয়া-মায়ার জন্ম নিলো?”
​ইউভান ক্ষোভে তাড়নায় চিৎকার করে বললো
​”Just shut up! চুপ করুন আপনি! আপনি আপনার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন!”

​”Ohh really?”

​মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকারের অদৃশ্য কড়াল গ্রাস থেকে মাস্টার একটা কাগজ তীব্র বেগে ছুঁড়ে মারলো ইউভানের মুখের উপর। আছড়ে পড়লো সোজা ইউভানের মুখের উপর।ইউভান কুঞ্চিত ভ্রু আর জ্বলন্ত চোখ নিয়ে কাগজটা হাতের মুঠোয় ধরে আনলো। অন্ধকারের মৃদু টিমটিমে আলোয় পেপারটার উপর চোখ পড়তেই তার শরীরের প্রতিটি রক্তকণিকা যেনো জমে বরফ হয়ে গেলো! ​এ আর কিছুই নয়, এটা রোজ আর ইউভানের বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপারের মূল কপি,যা আইনজীবীর কাছে অতিরিক্ত নথিস্বরূপ জমা থাকে! স্বয়ং মাস্টারের হাতে এটা কীভাবে পৌঁছাল, তা ভাবতেই ইউভানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো।পেপারটা যেনো ইউভানের এতোদিনের করা সুপরিকল্পনাতে পাহাড় ধ্বসে ফেললো।শরীরের সমস্ত রক্তগুলো টগবগিয়ে ফুটতে লাগলো।এটা কি করে সম্ভব মাস্টারের হাতে এই পেপার পৌঁছালো কি করে?
​ইউভান কাগজটি হাতের মুঠোয় সজোরে মুচড়ে ধরে হিসহিসিয়ে উঠলো
​”কে দিয়েছে আপনাকে এটা?”
​ অন্ধকারের আড়াল থেকে মাস্টার এক তীব্র গর্জনে ফেটে পড়লেন। ত ভারী গলার চিৎকারে পুরো ভূগর্ভস্থ প্রকোষ্ঠটি যেনো কেঁপে উঠলো
​”আমি নিজের কথা রাখতে পারি না! এখন তুমি আমায় জবাব দাও রিক,এইসবের মানে কী?”
​ইউভান ক্রোধে রক্তিম অক্ষিপল্লব দুটো শক্ত করে বুজে নিজের দাঁতে দাঁত পিষলো।গোপন নথিটি মাস্টারের হাতে কে তুলে দিয়েছে, তা এই মুহূর্তে তার মস্তিষ্কে ঢুকছে না। ইউভান তার প্রলয়ংকারী শান্ত গলায় কেবল বললো।
​”যা দেখেছেন, তা-ই!”
​মাস্টার এক চরম অবজ্ঞার সুরে অন্ধকারের ওপার থেকে বজ্রকঠিন কন্ঠে বললেন।
​”তাই বলে একটা সাধারণ রাস্তার মেয়ে!রক্ষিতা বানিয়েছিলে মেনে নিয়েছি।তাই বলে এসব???”

ইউভান ভাবলো মাস্টার এখনো কিছু জানেন না রোজের সম্পর্কে।তবে ​’রাস্তার মেয়ে’ শব্দটা শোনামাত্রই ইউভান ক্ষিপ্র গতিতে তার কোমরে গোঁজা রিভলভারটা বের করে সটান তাক করলো মাস্টারের উপর। অক্ষীপলে যেনো খু*নীসত্তা জাগ্রত হয়েছে।

​”রাস্তার মেয়ে মানে!সি ইজ মাই ওয়াইফ!বান্দির মেয়ের ব্যাপারে একটাও বাজে কথা আমি বরদাস্ত করব না!নেভার!”
​মাস্টার এবার এক অবিশ্বাসে বলে উঠলেন।
​”Rickkkkk! তুমি কার ওপর বন্দুক তাক করেছো?”
​ইউভান এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ধীরে ধীরে বন্দুকটি নামিয়ে ফেললো। পরক্ষণেই এক অলৌকিক দৃশ্য রচিত হলো,যা হবার কথা ছিলো না রিক আলবার্টের এতো বছরের মানব জীবনে। জীবনের চরম অহংকারী ও দাম্ভিকতা বিসর্জন স্পাইডারের অধিপতিটি হঠাৎ ধপ করে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো মাস্টারের সিংহাসনের সামনে!অক্ষীপল লাল হয়ে ফুলে উঠেছে।

এদিকে ​মাস্টারের মাথার ওপর যেনো কোনো অদৃশ্য বজ্রপাত আছড়ে পড়লো! তিনি তো রিক আলবার্টকে এভাবে গড়ে তোলেননি! এমন এক মহাশক্তিমান দানবকে তিনি তৈরি করেছিলেন, যে কারও সামনে মাথা নত করতে জানে না।এবং কি তার সামনেও না। অথচ আজ সেই অবাধ্য অধিপতি এক নারীর মোহে তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছে! মাস্টার অন্ধকারের ভেতর নিজের চোখ দুটো অবর্ণনীয় ভঙ্গিতে বুজে ফেলে কাঁপাকাঁপা গলায় বললেন।
​”তোমাকে আমি এই শিক্ষা দিয়েছিলাম রিক? Unbelievable! তুমি আমার সেই তৈরি করা রিক? কেন করছ এমন? এইসবের পরিণতি শুধু ধ্বংসই ডেকে আনবে!”

​ইউভান অক্ষীপল বুজে পৃথিবীর সবচেয়ে বিতৃষ্ণা ভরা শব্দটা উচ্চারণ করলো।যা শোনার জন্যে মাস্টার মুটেও প্রস্তুত ছিলেন না।
​”I love her…!”
​কথাটি শোনামাত্রই মাস্টারের ভেতরের সমস্ত সংযম ভেঙে গেলো। অন্ধকারের ওপার থেকে ইউভানের পাশ বেয়ে এক তীব্র আক্রোশে আছড়ে পড়লো একটা ভারী হুইস্কির বোতল! বোতলটি সজোরে ভেঙে তার কাঁচের তীক্ষ্ণ টুকরো তরল ছিটকে গেলো ইউভানের গ্রীবার ওপর দিয়ে। একটা ধারালো কাঁচের ফালি ইউভানের গলার চামড়া চিরে গভীরভাবে চলে যেতেই ফিনকি দিয়ে উষ্ণ রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগল নিষ্ঠুর মাফিয়ার গ্রিবাদেশ বেয়ে।
​কিন্তু ইউভানের মাঝে কোনো অনুশোচনা যন্ত্রণার লেশমাত্র নেই। নির্বিকার চিত্তে সেই রক্ত আর কাঁচের আঘাতকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে পূর্ণ শক্তিতে পুনরায় চিৎকার করে উঠলো
​”Yes! I fell… I fell for her, Father! I mean, God Father!”
​ইউভানের মুখে এই প্রথমবার ‘গডফাদার’ সম্বোধনটি শুনে অন্ধকারের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা মাস্টার এক অসীম বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেলেন! কতগুলো বছর কেটে গিয়েছে, এই রিক আলবার্ট কোনোদিন তাকে কোনো নামে ডাকেনি।ভোলচরের সবাই তাকে ‘মাস্টার’ বলে কুর্নিশ করলেও ইউভান ছিলো একমাত্র ব্যতিক্রম। অথচ আজ একটা সামান্য নারীর মোহে পড়ে নিজের সব দম্ভ বিসর্জন দিয়ে ইউভান তাকে গড ফাদার’ বলে সম্বোধন করল!

মাস্টারের পাথরের মতো মুখাবয়বে এক অসীম অবিশ্বাস আর রাগ ভর করলো।
​”Manipulated করছ আমায়!ম্যানিউপুলেট তো ভালোই জানো।

” না! “

ভালোবাসো মানে? তোমার মুখ থেকে এমন কিছুও আমায় শুনতে হলো! রিক! এই অন্ধ মোহের পরিণতি শুধু শুধুই ধ্বংস! ধ্বংস হয়ে যাবে তুমি!”

​মাস্টারের সাবধানবাণী শেষ হওয়ার আগেই ইউভান তার বুকের ভেতরের সমস্ত আদিম আক্রোশ একবিন্দুতে এনে সিংহের মতো গর্জে উঠলো
​”ধ্বংস হয়ে গিয়েছি! ধ্বংস হয়ে যাব… আমি সত্যিই ধ্বংস হয়ে যাব, যদি ওকে না পাই!”
​ইউভানের এই স্পর্ধিত উচ্চারণ মাস্টারের ভেতরের শেষ সংযমটুকুও জ্বালিয়ে দিলো। তিনি নিজের সর্বশক্তি দিয়ে প্রকোষ্ঠ কাঁপিয়ে এক হিংস্র হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন।
​”গার্ডস!!!”
​মাস্টারের চরম আদেশে এক লহমায় অন্ধকারের বুক চিরে উন্মোচিত হলো এক আদিম টর্চার সেল। লোহার প্রকাণ্ড শিকল দিয়ে ইউভানের দুই হাত ওপরের দিকে টানটান করে বেঁধে দেওয়া হলো। সুঠাম পেশিবহুল উন্মুক্ত পিঠ তখন প্রস্তুত এক অমানুষিক যন্ত্রণার মুখোমুখি হতে।
​মাস্টারের আদেশে অন্ধকার থেকে স্পাইক বসানো দুটি ভারী চামড়ার চাবুক হাতে এগিয়ে এলো তাঁরই দুই বিশ্বস্ত জল্লাদ। কিন্তু এই জল্লাদদের হাত থরথর করে কাঁপতে লাগলো ইউভানকে দেখে। তারা খুব ভালো করেই জানে তারা কার ওপর আঘাত করতে যাচ্ছে! এই জল্লাদদের তৈরিই করেছিল স্বয়ং ইউভান। তার নির্দেশে এরা কত মানুষের বুক চিরেছে, অথচ আজ খোদ নিজেদের অধিপতির ওপর আঘাত হানতে গিয়ে তাদের আত্মায় যেনো পক্ষাঘাত নেমে এলো।
​ইউভান তার মুখ তুলে কাঁপতে থাকা গার্ডদের দিকে তাকিয়ে এক পৈশাচিক ও অবজ্ঞার হাসি হাসলো। অবলীলায় বললো ​”হাত কাঁপছে কেন তোমাদের? আঘাত করো! আর আপনি তো আমায় ভালো করেই চেনেন গডফাদার, এইসব চাবুকের আঘাতে রিক আলবার্টের কিচ্ছু যায়-আসে না!নেভার” ​ইউভানের তাচ্ছিল্য মাস্টারের জেদ আরও বাড়িয়ে দিলো। তিনি কর্কশ কণ্ঠে আদেশ দিলেন-“স্ট্রাইক!” ​ ​এক লহমায় স্পাইকযুক্ত ভারী চাবুকগুলো আছড়ে পড়তে লাগল ইউভানের পিঠের ওপর। প্রতিটি আঘাতে চাবুকের ধারালো স্পাইকগুলো ইউভানের চামড়া ফুঁড়ে ভেতরে ঢুকে যেতে লাগলো,পরমুহূর্তেই এক ঝটকায় টেনে তোলার সময় মাংস খুবলে খুবলে ছিঁড়ে আনতে লাগলো।ফর্সা শরীরটা বেয়ে পানির মতো গলগল করে রক্ত ঝরতে লাগলো। ​ফিনকি দিয়ে তাজা উষ্ণ রক্ত ছিটকে গিয়ে আছড়ে পড়তে লাগল প্রকোষ্ঠের শীতল পাথরের মেঝের ওপর। ইউভানের ফর্সা টানটান পিঠ মুহূর্তের মধ্যে ক্ষতবিক্ষত হয়ে এক রক্তাক্ত ক্যানভাসে পরিণত হলো। ​দৃশ্যটা এতটাই বীভৎস আর নারকীয় যে অন্য কোনো সাধারণ মানুষ হলে প্রথম দুটো আঘাতেই যন্ত্রণায় জ্ঞান হারাতো কিংবা তার দেহ নিথর হয়ে যেতো।চাবুকের প্রতিটা নৃশংস পৈশাচিক আঘাতে চওড়া কাঁধের পেশিগুলো তীব্র যন্ত্রণায় কুঁচকে উঠলেও,ইউভানের মুখাবয়বের পরিবর্তন ঘটলো না।একের পর এক আঘাত
কয়েক ঘাঁ।পরপর টানা”আশি-বার”পড়লো সেই মরণঘাতীক আঘাত।

যতবার আঘাত পড়লো চোয়াল পাথরের মতো শক্ত হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু পুরুষালী কঠোর জেদী কণ্ঠ চিরে একটা গোঙানি বা আর্তনাদ বেরিয়ে এলো না! একটাও না।টু শব্দ অব্দি করলো না ইউভান। কেবল রক্তিম চোখ দুটো শক্ত হয়ে বুজে নিজের ভেতরের অবর্ণনীয় নরকযন্ত্রণা হজম করতে লাগলো।তবে আফসোস করতে লাগলো এতো আঘাতের মাঝেও যে এ স্থানে রোজ থাকলে নিশ্চয়ই মেয়েটা তৃপ্তি পেতো খানিক।কেমন দেখাতো রোজের তৃপ্তি ভরা চাহনি তা কল্পনা করতে লাগলো ইউভান।


রোজ লম্বা করিডর বেয়ে ওয়াশরুমের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হুট করেই আড়াল থেকে একটি শক্ত হাত সজোরে টেনে ভেতরে নিয়ে গেলো! রোজ কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখলো ওয়াশরুমের ভারী দরজাটা সজোরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং তার পথ আগলে দাম্ভিক ভঙ্গিতে ভেতরে বিশাল প্রকাণ্ড আয়না আর দামি মার্বেলের বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ক্যাটরিনা।
​রোজের চোখমুখ নিমেষেই রাগে কঠিন হয়ে উঠলো।
​”পথ ছাড়ুন!”
​ক্যাটরিনা এক চুলও নড়লো না। প্রলয়ংকারী বিষাক্ত দৃষ্টি রোজের ওপর হেনে চরম তাচ্ছিল্যের সুরে বললো
​”এই মেয়ে, তুমি সিক্সথ ফ্লোরে কেনো এসেছো? এখন তো তুমি আর রিকের রক্ষিতা নও… এখানে আর একদম আসবে না!”
​রোজ কপাল কুঁচকে সটান জবাব দিলো
​”আমি কোথায় যাব আর কোথায় যাব না, তা কি আপনার থেকে অনুমতি নিতে হবে?”
​ক্যাটরিনার মতো দুর্ধর্ষ নারী মাফিয়ার ওপর রোজের এই পাল্টা স্পর্ধা যেনো আরও ক্ষেপিয়ে দিলো। রোজের দিকে এগিয়ে এসে ক্রুর গলায় বললো
​”কার সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছ জানো তো? ভুলে গিয়েছো সব?” রোজ কড়া গলায় বুক টানটান করে জবাব দিলো
​”হ্যাঁ, খুব ভালো করেই জানি। আর আপনিও নিশ্চয়ই জানেন আমি কে?”
রোজের জবাবে ​ক্যাটরিনা পৈশাচিক নাটকীয়তায় ফেটে পড়লো। নিজের একটা পা সটান তুলে ওয়াশরুমের বেসিনের ওপর রাখলো এবং অত্যন্ত কুৎসিত ভঙ্গিতে মুখে হাত দিয়ে রোজকে অবজ্ঞা করার ব্যর্থ চেষ্টা করলো। অতঃপর এক চরম মর্ষকামী হাসি হেসে বললো
​”অপ্স! মিসেস ভলকভ! অবশ্য তোমাদের মতো রাস্তার সস্তা মেয়েরা না চাইতেই অনেক কিছু পেয়ে যাও। এই যেমন ধরো আমার ‘জান’ এর সামান্য এক রক্ষিতা থেকে সোজা গ্যাংস্টার ভলকভের উড বি ওয়াইফ! তোমার কি আসলেই মনে হয় তুমি এইসব ডিজার্ভ করো?”
​ক্যাটরিনারঅপমান রোজ কিছুতেই হজম করতে পারলো না। তার সারা শরীরে অপমানের তীব্র আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো। এতোটা অপমান হজম করার মতো শক্তি তার নেই।এমন ন্যাক্কারজনক অপবাদ সহ্য করতে না পেরে রোজ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এক চরম আক্রোশে সজোরে একটা চড় বসিয়ে দিল ক্যাটরিনার গালে! ​ ক্যাটরিনা অপমানে তার চোখমুখ হিংস্র পশুর মতো হয়ে উঠলো। মাফিয়া লেডির গায়ে হাত তোলার স্পর্ধা পেলো কই এই মেয়ে।দাঁতে দাঁত পিষে হিসহিসিয়ে উঠলো ​”ইউ ফাকিং বিচ! হোর গার্ল! হাউ ডেয়ার ইউ!”
​বলেই ক্যাটরিনা হিংস্রতায় রোজের রেশমি চুল নিজের হাতের মুঠোয় পেঁচিয়ে ধরে তাকে বাথরুমের মার্বেল দেয়ালের সাথে সজোরে চেপে ধরলো অন্য হাত দিয়ে রোজের গলা টিপে ধরলো। রোজের বুক ফেটে দম আটকে আসতে চাইলো।শ্বাস নিতে পারছে না।
​রোজ নিজের গলার ওপর থেকে ক্যাটরিনার হাত সরানোর চেষ্টা না করে, বরং দ্বিগুণ আক্রোশে ক্যাটরিনার লম্বা চুলের মুঠি শক্ত করে চেপে ধরলো। নিজের শরীরের সমস্ত ঘৃণা আর আক্রোশ একবিন্দুতে এনে নাক কুঁচকে অকাট্য বাণে ক্যাটরিনার আত্মায় আঘাত হেনে চেঁচিয়ে উঠলো ​”অ্যাই পরর জাতী বেলেজ্জা বদ্দ জাত! তর মত নটির বিষ বুজি মুই। পরের মান লই হুতি থাহন তর বড্ড ভালা লাগে না? বেহায়া চোহত পানি নাই তর! তর যদি এতই মদ্দর খাঁইজ্জে ওডে, তইলে গরত যাই হনো কুত্তার লগে বিয়া গরি ফেল না কেল্লাই? পরর মান টানি আনরিল্লাই চউত কান্দিয়া খত চরের? তর মত ডাঙ্গর ফুন্দিরে বিষ হালি দি মারন পরিব!”

​রোজের মুখের তীব্র ক্ষোভের ভাষা ক্যাটরিনা বিন্দুবিসর্গও বুঝতে পারলো না। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো
​”মানে কী? এই মেয়ে কী বলছ তুমি ছাইপাঁশ!”
​রোজ এবার ক্যাটরিনাকে কোনো জবাব না দিয়ে চুলের মুঠিতে এক তীব্র হ্যাঁচকা টান মেরে তাকে বেসিনের দিকে নুইয়ে দিলো। অন্য হাত বাড়িয়ে এক ঝটকায় বেসিনের পানির ট্যাপটা ফুল স্পিডে ছেড়ে দিলো। ক্যাটরিনার পুরো মুখমণ্ডল সজোরে চেপে ধরলো সেই তীব্র ধারার পানির নিচে! ক্যাটরিনা হাত-পা ছুড়ে দম বন্ধ হওয়া যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলো। কিছুক্ষণ তাকে পানির তলে অমানুষিক শাস্তি দেওয়ার পর রোজ ঘৃণাভরে ক্যাটকে ছেড়ে দিলো।
​ক্যাটরিনা টাল সামলাতে না পেরে মেঝেতে বসে পড়লো তীব্রভাবে হাঁপাতে লাগলো। অন্যদিকে রোজ কোনো রণক্ষেত্রের হিংস্রতায় রাগে ফুঁসছে। ক্যাটরিনা কোনোরকমে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করে আবার এক চরম আক্রোশে রোজের দিকে তেড়ে আসতে চাইলো। তবে মাঝপথেই নিজের পা থামিয়ে দিলো।
​”দেখো, তোমার মতো থার্ড ক্লাস মেয়েদের পেছনে আমি আমার মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাচ্ছি না!” নিজের ঠোঁট কামড়ে আবার বলল, “এমনিতেও আজকের রাতটা আমার জন্য অনেক স্পেশাল। আমার ‘জান’-এর সাথে আজ ক্যান্ডেলাইট ডিনারের স্পেশাল ব্যবস্থা করেছি আমি। মুডটাই পুরো খারাপ হয়ে গেলো!” ক্যাটরিনা মুহূর্তের মধ্যে রাগে মেঝেতে পা আছাড় মেরে চিৎকার করে বললো, “নাহলে এই মুহূর্তে আমি তোমাকে এখানেই স্রেফ মেরে ফেলতাম!” ​ ​”মারার হলে এতক্ষণে মেরেই দিতে!” ​”শাট আপ!” “দূরে থাকবেন!” “হোয়াট? কিসের দূরে!”__কার থেকে দূরে থাকার কথা বললো রোজ?? “নাথিং!” ​ক্যাটরিনা এক ক্রুর ও ব্যঙ্গাত্মক হাসি হাসলো। রোজের একদম কাছাকাছি এসে তার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো ​”রাবিশ! রিকের সাথে এমনিতেও আমার ঘ*নিষ্ঠ মুহূর্ত অনেক! তুমি আর ভলকভ আলাদা রুমে থাকো বুঝি? আমি আর রিক তো এক রুমেই থাকি!ইউ ডোন্ট নো???”

মুহূর্তেই রোজের পিঠ গিয়ে ঠেকলো ওয়াশরুমের পেছনের দেয়ালে।ঘৃণায় নাক ছিটকালো। বুক ভরে বড় বড় শ্বাস টেনে ক্যাটরিনাকে কিছু একটা বলতে যাবে, কিন্তু তার আগেই ক্যাটরিনা ড্যাশিং ভঙ্গিতে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে লিফটের ভেতর ঢুকে গেলো। লিফটের বোতামটি প্রেস করে দিয়ে বন্ধ হতে থাকা দরজার আড়াল থেকে ক্যাটরিনা রোজের মুখের দিকে তাকিয়ে এক চরম তাচ্ছিল্য আর বিজয়ের বক্র হাসি হাসলো!

ক্যাটরিনা চলে যেতেই রোজের শরীরের সমস্ত শক্তি যেনো এক লহমায় কর্পূরের মতো উবে গেলো। দেয়ালে ভর দিয়ে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে ফিসফিস করে স্বগতোক্তি করলো।
​”তাতে আমার কী! ছিহ্ঃ!দানবটার কাছ থেকে এসবই আশা করা যায়! আমি আর এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাববো না! ছিহ্ঃ!”
​রোজ বেসিনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব ভেসে উঠতেই ভেতরের আঁটকে রাখা অশ্রু চেপে রাখতে পারলো না। দু-চোখ উপচে নোনা জলের ধারা নেমে এলো। বুকের বাঁ-পাশে এক তীব্র, অসহ্য যন্ত্রণার মোচড় অনুভব করে আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের বুকেই হাত রাখলো।
​”এমন করছি কেন আমি! একটা জানোয়ারের জন্য এত কষ্ট কেন হচ্ছে আমার! আমি কিচ্ছু ভুলতে পারবো না! পারবো না আমি! আমি ঘৃণা করি আপনাকে… আই হেট ইউ!” ​রোজ হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে সজোরে চোখের অবাধ্য অশ্রু মুছে নিলো। লিফটের তোয়াক্কা না করে সিঁড়ি বেয়েই নিচে নামতে যাচ্ছিলো, হঠাৎ অবাধ্য মনটা যেন এক চরম বিদ্রোহ করে বসলো। থমকে দাঁড়ালো। পরক্ষণেই কী এক তীব্র টানে সোজা দৌড় লাগালো ইউভানের রুমের দিকে। ​রুমের দরজার সামনে থাকা প্রকাণ্ড গার্ডরা আবারও রোজকে ।আটকাতে চাইলো। সে সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে জোর করে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়লো এবং চিৎকার করে উঠলো ​”তোকে আমি কোনোদিনও ক্ষমা করব না! শুনতে পাচ্ছিস তুই! কাপুরুষ জানোয়ার!” ​কিন্তু রুমে ঢুকতেই রোজের নেত্রপল্লবের বাদামর মণি দুটো এক জায়গায় স্থির হয়ে গেলো। বিশাল রাজকীয় বেডের ওপর এক প্রকাণ্ড পুরুষালী দেহ উপুড় হয়ে শুয়ে আছে।বুকে ভর দিয়ে। রোজ এক পা এক পা সামনে এগোতেই পাঁগুলো আসাড় হয়ে এলো। ​বিছানায় ইউভান সম্পূর্ণ খালি গায়ে শুয়ে আছে,ধবধবে ফর্সা, বলিষ্ঠ পিঠ জুড়ে ফুটে উঠেছে এক নারকীয় দৃশ্য!ফর্সা শরীরের ক্ষতগুলো একটু বেশি নজর কাড়ে যেনো।চাবুকের মরণঘাতী আঘাতে চামড়া ফেটে মাংস খুবলে উঠে এক বীভৎস রক্তাক্ত অবস্থা তার উপরে মেডিসিন প্রয়োগ করা। জমাট বাঁধা রক্তের ছোপগুলো দেখে রোজের পা দুটো আর এক কদমও নড়লো না। সে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
​পরক্ষণেই রোজ বিছানার পাশে এসে ধপ করে ফ্লোরের ওপর বসে পড়লো। হাত দুটো থরথর করে কাঁপছে মেয়েটার। ইউভান উপুড় হয়ে চোখ বুজেই শুনতে পেলো রোজের নাক টানার আওয়াজ।
​”তোর নাক টানার শব্দটা ফাকিং ডিসগাস্টিং!” ​ইউভানের যন্ত্রণাদায়ক ক্ষতবিক্ষত পিঠের ওপর রোজ অতি সাবধানে নিজের কম্পিত হাত বুলাতে লাগলো।যার ক্ষত তার থেকেও যেনো বেশি যন্ত্রণা অন্যে কোনো প্রাণস্পন্দনে হচ্ছে। রোজের হাতের কোমল স্পর্শে তীব্র য*ন্ত্রণায় ইউভানের সমস্ত মুখাবয়ব এক নিমেষে কুঁচকে উঠলো।রমণীর অশ্রুপাত আর বাঁধ মানলো না। বহুদিন পর উচ্চস্বরে ডুকরে কেঁদে উঠলো মেয়েটা।
​”হায় খোদা!কে করেছে এইসব? কীভাবে হলো?”
​ “তুই এখন যেতে পারিস, পরে ডেকে নিবো। একটু ঘুমাতে দে!”
​”যাব না!”
​ইউভান এবার নিজের সমস্ত পুরুষালী আক্রোশ আর বিরক্তি নিয়ে গর্জে উঠলো।”বলেছি না বেরিয়ে যেতে!”
​রোজও আজ বিন্দুমাত্র নড়লো না।অবাধ্যের মতো ততোধিক জেদ ফুঁপিয়ে উঠলো। “বলেছি তো যাব না!”
​রোজ এক ঝটকায় ইউভানের হাত আঁকড়ে ধরলো। পুরুষালী হাতের শক্ত পেশিতে নিজের মুখ গুঁজে দিয়ে সে ইউভানকে হালকা ঝাঁকাতে লাগলো।ক্রন্দনরত গলায় অনুনয় করতে লাগলো
​”এইইই কেন করেন আপনি এইসব! খুব কষ্ট হচ্ছে বুঝি? কোথায় কষ্ট হচ্ছে বলুন আমায় এই ইউভি…!”
​ইউভান তার অবশ হয়ে আসা হাতটা রোজের চোখের ত অশ্রুতে ভিজে যেতে অনুভব করলোচোখ বুজেই বললো—
“হয় কান্নাকাটি বন্ধ কর, নয়তো রুম থেকে বের হ! ভিজে যাচ্ছে আমার হাত!”
​রোজ কোনো প্রত্যুত্তর করল না। নিশ্চুপ হয়ে ইউভানের কাছাকাছি বসে রইলো মেঝেতে। রোজের সুকোমল শরীর থেকে ভেসে আসা মিষ্টি ভ্যানিলার পাগল করা সুবাস ইউভানের তীব্র ঘ্রাণেন্দ্রিয়কে নাড়া দিলো।অন্ধকারের মাদকতাময় সুবাসে ইউভানের সমস্ত স্নায়ু যেনো শান্ত হতে শুরু করলো। অসীম কষ্টে নিজের জ্বলন্ত অক্ষিপল্লব মেলে রোজের অশ্রুসিক্ত মুখপানে তাকালো।

​”দরদ দেখাচ্ছিস? দরদ?”

চলবে???

🙂

আগামী এক দুই পার্টের মধ্যে মাস্টারের ফেইস রিভিল করা হবে।গল্পের পাঠকসংখ্যা অনুযায়ী ঠিকঠাক রেসপন্স আসে না।লিখতেও ভালো লাগে না।মন চায় টেনে শেষ করে দি গল্প।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply