Golpo Love or hate romantic golpo

Love or Hate পর্ব ৩৭


Love_or_Hate

|#পর্ব_৩৭|

ইভেলিনা_তূর্জ

⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে

মানুষ বলে, চোখের মণি নাকি হৃদয়ের অবাধ্য দোভাষী মুখ যা লুকিয়ে রাখতে চায়, চোখ তা নিঃসংকোচে বলে দেয়। কিন্তু ইউভানের ইস্পাত-কঠিন ধূসর আঁখিপল্লব যেনো এক প্রাচীন দুর্গের রুদ্ধ কপাট। রোজ শত চেষ্টা করেও কেন সেই চোখের ভাষা পাঠ করতে পারছে না?
রোজ কি তবে বুঝতে পারছে না? নাকি ইউভান চায় না সে বুঝুক??

ইউভানে পৃষ্টে ​কতগুলো নির্ঘুম রজনী আর হাহাকারের মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলো, অথচ রোজ আজও সেই মরীচিকারূপী পিঞ্জরের বন্দিনী।ধরেই নিয়েছিলো হয়তো কোনো এক মোহমায়া কাটিয়ে এই বিষাক্ত সম্পর্কের যবনিকা ঘটবে, কিন্তু নিয়তি যেনো তাকে আরও গভীর এক গোলকধাঁধায় নিক্ষেপ করতে বদ্ধপরিকর।

রোজ ইউভানের হাত থেকে নেয়া হুইস্কির গ্লাসে আরেকটা চুমুক বসিয়ে নাক কুঁচকালো।এতো বিদঘুটে স্বাদ নাকি এই লোকটার তৃপ্তি মেটায়।এতো জঘন্য খেতে।ইউভানকে চুপ থাকতে দেখে রোজ এক চিলতে বিষাক্ত হাসি হেসে ইউভানের ধূসর অক্ষীপলে দিকে তাকালো।
“বোকা আসলে আমি না আপনি! পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বোকা পুরুষ হবেন আপনি। তার প্রমাণ আমিও আপনাকে দিয়ে যাবো, তখন মিলিয়ে নিবেন হুহ!আচ্ছা মিস্টার মাফিয়া… আপনি কি ‘Pyrrhic Victory’ (পিরিক ভিক্টরি) শব্দটার মানে জানেন?,ওই যে বলে না এমন এক জয় যা পরাজয়ের চেয়েও কয়েকগুন ভয়ানক। যুদ্ধে জিতেও আপনি সবকিছু হারিয়ে ফেলবেন।”

ইউভানের হাতে থাকা গ্লাসটায় রোজের লিপগ্লস ঠোঁটের ছাপ স্পষ্ট হয়ে আছে,ইউভান সেই রেখাংশে চুমুক দিয়ে পুরোটা গ্লাস খালি করে ফিসফাসালো।
“মৃত্যু ভয় নেই যার মাঝে তাকে তুই জয় পরাজয়ের সমীকরণ শিখাচ্ছিস??”

রোজ অধর কামড়িয়ে তিক্ত হাসলো।​শুভ্র ভিক্টোরিয়ান গাউনের ঘের সামলে রোজ পিছু হেঁটে হলের মধ্যস্থলে পা রাখলো, মেয়েটার তীব্র ব্যক্তিত্বের বিচ্ছুরণে উপস্থিত প্রত্যেকের দৃষ্টি যেনো স্থবির হয়ে গেলো।হায়া একবার এসে রোজকে ধরতে গিয়েও পাঁ থামিয়ে দিলো। অত্যন্ত ধীরলয়ে, রাজকীয় ভঙ্গিতে উপস্থিত সকলের মুখের ওপর দিয়ে নিজের দৃষ্টি বুলিয়ে নিলো রোজ। কিন্তু ঠিক তখনই তার নজর গিয়ে স্থির হলো সামনের ‘প্রোটোকল বোর্ড’ ওপর।

​মেয়েটার পায়ের তলার মসৃণ মার্বেল মেঝেটা যেনো হঠাৎ এক প্রলয়ংকারী কম্পনে দুলে উঠলো। এক পলক ইউভানের দিকে তাকালো, রোজ তো নিজেকে কেবল এক দর্শকের ভূমিকায় পালন করতে এখানে উপস্থিত হয়েছিলো তাহলে এখানে তার নাম কেনো ? ডাগর চোখের মণি দুটো অপলক হয়ে রইলো সেই বোর্ডে নিজের নামের পাশে আদ্রিয়ানের নাম দেখে। কোনো সম্পর্কের সমাপ্তি কি এতটাই বিদঘুটে হতে পারে?রোজ পুনঃরায় তার মাফিয়া স্বামীর দিকে তাকালো।লোকটার এতো বড় ধৃষ্টতা হয় কি করে!নিজে যা খুশি তা করুক তাই বলে তাকে এমন তামাশার শিকার না বানালে হতো না!তবে রোজ পুনঃরায় উপস্থিত সকলের দৃষ্টিতে দৃষ্টি রেখে হেসে উড়িয়ে দিলো সব ঝংকার।

রোজ বুঝলো এনগেজমেন্ট পার্টিটা আরও সপ্তাহখানিক পর আজকে থেকে একটু টুকিটাকি প্রি-প্ল্যানিং চলছে।রাজকীয়তা বলে কথা, বিরাট আয়োজন তো হবেই।মাফিয়াদের পার্টিতে নিশ্চয়ই মাফিয়ারাই উপস্থিত থাকে।চরম অস্বস্তির মাঝে রোজ আদ্রিয়ানের সন্নিকটে এসে দাঁড়ালো।রোজ একবার আড় চোখে ইউভানের দিকে তাকালো, যখন দেখলো ইউভানের দৃষ্টি এখনো তার দিকেই নিবন্ধীত, রোজ চোখ সরিয়ে নিলো।রোজের আখিঁপল্লব কেমন যেনো ঝাঁপসা হয়ে এসেছে এই বুঝি গলগল করে সমুদ্রের ঢেউগুলো চুপসে পড়বে সারা মুখাবয়ব জুড়ে।পরিবেশটা কেমন যেনো গোলাকৃতির মতো, প্রত্যেক কোণায় একেকজন করে দাঁড়ানো।

আদ্রিয়ানকে ওয়াইনের গ্লাসে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে চুমুক বসাতে দেখে রোজের মনটা খচখচ করতে লাগলো।এমন আদ্রিয়ানকে তো রোজ চিনে না।তিনি কেনো এসবে বাঁধা প্রয়োগ করছেন না।রোজ বেশ আশ্চর্য হলো তাকে কিছু না জানিয়ে এতো বড় সিদ্ধান্ত আদ্রিয়ান নিলো কি করে।হলরুমে রাহা হায়া ব্যতীত প্রত্যেকের মুখাবয়ব এতোটা স্বাভাবিক কি করে হতে পারে রোজের মস্তিষ্কে ঠাঁই হলো না তা।রোজের কপাল বেয়ে গুঁড়িগুড়ি ঘাম ঝরতে লাগলো।তবে কন্ঠটা স্বাভাবিক রেখে আদ্রিয়ানকে প্রশ্ন করলো।
“আপনি তো সব কিছু জানতেন এড’শ তাহলে এসবের মানে কি??”

রোজ কি জানার কথা বললো তা আদ্রিয়ান জিজ্ঞেস করতে যাবে তৎক্ষনাৎ ইউসুফ এসে আদ্রিয়ানকে এক সাইডে নিয়ে গিয়ে কিছু ফাইল দেখাতে থাকে।আদ্রিয়ান রোজের মাথায় হালকা হাত বুলিয়ে সেদিকে যায়।

ঠিক সেই মুহূর্তেই হলরুমের ভারী সদর দরজাটা এক প্রচণ্ড শব্দে উন্মুক্ত হলো। দরজার বিশাল তোরণে আলোর বিপরীতে ভেসে উঠল এক বিধ্বংসী নারীমূর্তি।
রাশিয়ান ​মন্সটার ক্যাট সাম্রাজ্যের ত্রাসক্যাটরিনা ক্ল্যান। ​রুশ লেডি একটা ভয়ংকর সুন্দর বোল্ড ‘বডি-কন’ ড্রেসে আবির্ভূত হয়েছে। কালো বডিকনের কাঁটা অংশ দিয়ে উঁকি দিচ্ছে আঁধারের রাণীর সুঠাম পায়ের উ*ন্মুক্ত শুভ্রতা। হলরুমের সবার দৃষ্টি রাশিয়ান নারীর দিকে স্থির হয়ে গেলো। কিন্তু ক্যাটরিনার সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, তার শিকারি চোখের মণি দুটো স্থির হয়ে আছে কেবল একজনের ওপরইউভান রিক আলবার্ট।
​উচু পিন্সিল বুট হিলের ‘খটখট’ শব্দে ক্যাটরিনা সগর্বে এগিয়ে গিয়ে কোনো ভূমিকা ছাড়াই ইউভানের হাতের স্পর্শ করে দাঁড়াতে চাইলে ইউভান একটু পিছিয়ে গেলেও ক্যাটরিনা ধরে ফেলে ইউভানের হাত।

ক্যাটরিনার অবহয়বটার দিকে দৃষ্টি যেতেই রোজের মনে পড়ে যায় সেই জঘন্যে রাতের কথা। পরনের শুভ্র গাউনটা নিজের অজান্তেই মুষ্টিবদ্ধ করে খামচে ধরলো রোজ।অবাধ্য বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে মুহূর্তেই,ঘৃণায় রি রি করে উঠলো সর্বাঙ্গ। ইউভান রোজের বিধ্বস্ত চাহনির দিকে একবার নির্লিপ্ত নয়নে তাকালো, তারপর ক্রোর হেসে তাকালো ক্যাটরিনার দিকে।
​ক্যাটরিনা পুরো হলের নিস্তব্ধতা চিরে গম্ভীর ও দম্ভভরা স্বরে ঘোষণা করলো
“লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান! বি অ্যাটেন্টিভ!”

​রুশ লেডি ইউভানের দিকে ফিরে এক পৈশাচিক তৃপ্তির হাসি হেসে বললো।
“আনবিলিভেবল রিক!__একটু ফিসফাস করলো।
তুমি সত্যি বিয়েটা করবে তো??যদি সত্যি হয় আই অ্যাম হ্যাপিয়েস্ট পারসন এভার!”

ইউভান রোজের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধন করে বাঁকা হাসলো।
“_কেনো নয়??

তাহলে এতোদিন গুরুত্ব দাও নি কেন বেব?কোনোদিন নত স্বীকারই করলে না যে আমি তোমার ফিয়্যান্স।অথচ তোমাকে দু-চক্ষে না দেখেও I am just obsessed with you!”

“আগে প্রয়োজন মনে হয় নি তাই!”

“মাস্টার ও রাজি হয়ে গেলেন!”

“সেটা মাস্টারকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর।”

“মাস্টারের কক্ষে আমার যাওয়ার অনুমতি নেই জানো না না-কি!”

অতঃপর আঁধারের রাণী ক্যাটরিনা একটু দূরত্বে থাকা রাহার দিকে তাকিয়ে ভ্রু উঁচালো।হাত এর আঙুলগুলো নাচিয়ে বললো।
“hello!sister in- law!congratulations.

রাহা চোখ উল্টিয়ে হেঁসে মুখ বাঁকালো।লাল বডিকন ড্রেসটা গায়ে ফিটিং হয় নি বলে মুড এর এমনিতেই বারোটা বেজে আছে।তার উপরে একজনের উপর প্রচন্ড লেভেলের ক্ষ্যাপা সে।সোনালী চুলগুলোও আজ অগোছালো।না করেছে ব্লু ড্রাই আর না আছে রমণীর মুখাবয়বে কোনো পরিপাটি সাজ।চুলগুলোও উষ্কখুষ্ক।

রাহা এগিয়ে এসে মুখ বাঁকালো ক্যাটরিনাকে দেখে।রাহার একেবারেই পছন্দ হচ্ছে না ক্যাটরিনাকে।অবশ্য এই মেয়ের ছবি রাহা আরও একবার তাদের আলবার্ট ম্যানশনে কোনো একটা অ্যালবামে দেখেছিলো,এইটুকু মনে আছে।রাহা ইউভানের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বিরক্তভরা কন্ঠে বলল-
“ভাই আমি আজকে ক্যালিফোর্নিয়াতে ব্যাক করবো। কাল আমার কনসার্ট আছে।”

ইউভান হাতে থাকা নিজের রোলেক্স ঘড়িতে টাইম দেখতে দেখতে ভ্রু কুঁচকিয়ে তুষারকে ইশারা করে বললো।
“কনসার্টটা দশদিন পিছিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা কর তুষার।”

তুষার রাহার সন্নিকটে এগিয়ে এসেই ফোনের মধ্যে আঙুল ঘুরিয়ে পুরো আইফোনটাই রাহার মুখের সামনে ধরে দেখালো।রাহা দেখলো তুষার অলরেডি রাহার কনসার্টের তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিয়েছে। ততক্ষণাৎ রাহার পায়ের রক্ত টগবগিয়ে মাথায় চড়ে বসলো ইউভানের সামনে কিছুই বলতে পারবে না দেখে গাঁ জ্বলে যাচ্ছে, অনবরত দাঁতে দাঁত পিষে হাইহিল চেপে ধরলো তাইওয়ানের পায়ে।তবে তাতেও তাইওয়ানের চোখের পাপড়িতেও কোনো প্রকার পরিবর্তন না দেখে রাগা গটগটিয়ে হাঁটতে লাগলো।পিছু পিছু তুষারকে আসতে দেখে ফুঁসিয়ে বলল –
“আপনার সমস্যাটা কি তাইওয়ান??”

তুষার ফোনের স্ক্রিন অনবরত স্ক্রোল করতে করতে বলল__”সমস্যাটা মনে হচ্ছে আমার থেকে বেশি তোমার ইনায়া।”

“ফা’ক ইউর সমস্যা!আপনি নিঃসন্দেহে একটা বনপাঠা,জঙ্গলে গরিলা, আমার ব্যপারে ইন্টারফেয়ার কেন করছেন?এসব কিছু আপনার কারসাজি তাইনা??”

তুষার একজন ওয়েটারের হাত থেকে একটা গ্লাস হাতে নিয়ে ভ্রুক্ষেপহীন ভঙ্গিমায় জবাব দিলো__”সিদ্ধান্তদাতা কি আমি নাকি রিক??”

“আমাকে কি গাঁধার বাচ্চা মনে হয় আপনার??শেরনি আমি,আমার সাথে এসব নাটকবাজি চলবে না!”

তুষার ফোনের দিকে দৃষ্টি রেখেই হাতের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলল__”উহুম!আম ওকে!আচ্ছা।”

রাহা চট করে একটা টেবিলের পাশে চেয়ার টেনে বসলো পায়ের উপর পাঁ তুলে।টেবিলে কনুই ঠেকিয়ে গালে হাত রেখে থুতনি কাঁটা গম্ভীর পুরুষটার দিকে গাঢ় দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল__”একেবারে সব লন্ড-ভন্ড করে দিবো!গড প্রমিস!”

মুহূর্তে তুষার এক প্রকান্ড ধাবা ফেললো টেবিলের উপর।মৃদু হুঙ্কার দিয়ে ভ্রু কুঁচকিয়ে বলল__”উল্টোপাল্টা কিছুই করবে না তুমি ইনায়া!না-হলে এর ফল ভালো হবে না।”
-“হাহ শাট!আমি কি আপনাকে ভয় পাই??”
-“প্রয়োজন নেই!”
-“বিরক্তিকর! “
-“গুড!”
-“পাঠারবাচ্চা!”
-“তুমি ভালো হলেই এনাফ!”

অন্যদিকে হাজারো ঝাড়বাতির আলোয় ক্যাটরিনা ইউভানের সন্নিকটে দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করলো।

” তুমি তো জানোই, ক্যাটরিনা পুরো দুনিয়ার কাছে এক নিষ্ঠুর আধারের রানি হতেই পারে, কিন্তু রিকের পায়ের কাছে মাথা নত করতেও তার দ্বিধা নেই।তুমি বুঝতে এতো দেরি কেন করলে বেব।”
​ইউভান সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলো।
“আই নো।”

​রোজের পিঠ ঠেকলো দেয়ালে, হাতটা দেয়ালে ঘষে আর এক মুহূর্তও এই নরককুণ্ডে দাঁড়াতে চাইলো না।রোজ যখন টলমলে পায়ে করিডোরের দিকে এগোতে লাগলো,ইউভান সেদিকে তাকিয়ে রইলো,একজন ক্লাইন্টের সাথে কথা বলতে থাকা আদ্রিয়ানের দৃষ্টি রোজের টলমলায়ন শরীরের উপর পড়তেই দ্রুত এসেই তার পথ আগলে দাঁড়াল। ইউভান দূর থেকে সেই দৃশ্য দেখছিলো, কিন্তু তার আর রোজের মাঝে তখন হাজার মাইলের অদৃশ্য দূরত্ব।

​”কোথায় যাচ্ছো রোজ? যেও না!” আদ্রিয়ান বলল।
​রোজ চোখ তুলে তাকালো না।
“প্লিজ, আমার পিছু আসবেন না।”
​আদ্রিয়ান নড়লো না, বরং পাথরের দেয়ালের মতো রোজের সামনে দাঁড়িয়ে পড়লো। রোজ এবার পাগলের মতো চিৎকার করে উঠলো,
“প্লিজ এড”শ! আপনি ওই লোকটার ফাঁদে পা দেবেন না! আপনার আর আমার এনগেজমেন্ট? এসব কী তামাশা শুরু করেছেন আপনারা?”
​আদ্রিয়ানের স্থির চাহনি রোজকে বিদ্ধ করলো। সে অত্যন্ত ধীর অথচ গভীর স্বরে বললো।
“রাজি হয়ে যাও রোজ। তোমাকে জোর করার ক্ষমতা বা ইচ্ছে আমার নেই। কিন্তু বিশ্বাস করো, জীবনে যতটুকু সুখ তুমি চাও, তা আমি দেব। যতটুকু শান্তি তোমার প্রাপ্য, তা পাওয়ার জন্য যা করা দরকার আমি সব করবো।”
​”এড’শ! এসব কী আবোল-তাবোল বকছেন? প্লিজ সামনে থেকে সরুন!” রোজ জেদ ধরে কাঁপা গলায় হুঙ্কার দিলো।

​”তুমি কি ভালো থাকতে চাও না রোজ?তুমি জানো আমি শুধু সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম। তুমি যেভাবে চাইবে, সেভাবেই হবে। না করো না প্লিইইইইজ!” আদ্রিয়ান রোজের সন্নিকটে এসে দাঁড়ালো।
​রোজ আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। দুই হাতে নিজের মাথা চেপে ধরে পাগলের মতো মাথা নাড়াতে নাড়াতে বললো।
“সম্ভবই না! এটা সম্ভবই না! আপনি আমার চেয়ে অনেক ভালো কাউকে ডিজার্ভ করেন এড’শ।আমার অসহ্য লাগছে এসব দম বন্ধ হয়ে আসছে।এসব জঘন্য তামাশার মধ্যে আপনি নিজেকে আর আমাকে জড়াবেন না দয়া করে।”
​রোজকে এমন অবস্থা দেখে আদ্রিয়ান আর স্থির থাকতে পারলো না! পরম মমতায় রোজের সিক্ত গাল দুটো নিজের করতলবন্দি করলো। আঙুলের ডগায় লোনা জল মুছে দিতে লাগলো।এই গত কয়েক মাসের নগণ্য সময়টুকুই হয়তো-বা এই পুরুষটার জীবনের শ্রেষ্ঠ এবং নিকৃষ্টতম অধ্যায়। যে আদ্রিয়ান শাহ ভলকভ একসময় ছিল ধ্বংসের প্রতিশব্দ, যার ক্রোধে থরথর করে কাঁপত শত্রুশিবির, সেই মানুষটি এই এক রমণীর মায়াবী চোখের মণির কাছে এসে কতটা অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করছে!সত্যের সন্ধান না করেই!নিয়তি কি একে হাস্যকর খেতাবে ভূষিত করবে না!

আদ্রিয়ান এক মূহূর্তের মনে মনে ভাবলো এই কটা মাস সে কী না করলো? নিজের মজ্জাগত রাগ দমন করলো, রক্তপিপাসু জেদ বিসর্জন দিলো, মরুভূমির মতো ধূসর হৃদয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলল অসীম ধৈর্যশক্তি।পুরুষটাতো ভালো থাকতে শেখেনি কোনোদিন, কিন্তু রোজের সান্নিধ্যে সে ‘ভালো রাখার’ এক অদ্ভুত পবিত্র নেশায় বুঁদ হলো। ভালোবাসার সংজ্ঞাহীন প্রান্তরে দাঁড়ালো।

অথচ নিয়তি কী নির্মম! আদ্রিয়ান যতবারই সেই স্নিগ্ধ গোলাপের পাপড়ি ছোঁয়ার জন্য এক পা এগিয়েছে, ভাগ্য তাকে সহস্র পা দূরে ছিটকে ফেলে দিয়েছে। তাকে ধ্বংসের পথে হাঁটিয়ে এনেও যেনো নিয়তির তৃষ্ণা মেটেনি। তাই হয়তো আজ এই বিষণ্ণ লগ্নে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই অমর লেখনী হৃদস্পন্দনে প্রতিধ্বনিত হলো।
__​”আমি যাহাকে কেন্দ্র করিয়া ঘুরি, না পাইলাম তাহার কাছে আসিবার অধিকার, না পাইলাম দূরে যাইবার অনুমতি।”

আদ্রিয়ান পুনঃরায় শুধালো।_“কেঁদো না রোজ, তোমার অশ্রু দগ্ধ করে আমায়। কেন করতে চাও না? সময় নাও, হাতে অনেক সময় আছে। ভাবো!ভাবো রোজ।তোমাকে পেতে না বরং আমি তোমার ভালো থাকাটা চাই তা যদি হয় তোমাকে নিজের জীবনের সাথে জড়িয়ে তাহলে তাই করবো।নাহলে পাশে থাকার সে অধিকারটুকুও যে আমি পাবো না রোজ।
তোমার জন্য সব করব। তোমাকে অন্ধকারের ছায়া থেকেও অনেক দূরে নিয়ে যাব, যেখানে থাকবে না কোনো অশুভ ছায়া। এইটুকু অধিকার চাওয়া কি ভুল?”

হঠাৎ শান্ত স্তব্ধতা ভায়োলিনের শব্দকে খানখান করে দিয়ে কাঁচ ভাঙার এক বীভৎস শব্দে পুরো হলরুম থমকে গেলো। রোজ আতঙ্কিত হয়ে পিছনে ফিরতেই দেখলো, ইউভানের হাতের মুঠোয় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়া গ্লাসের অবশিষ্টাংশ। তার শক্তপোক্ত আঙুলের খাঁজ বেয়ে তাজা লাল রক্ত গড়িয়ে পড়ছে ধবধবে সাদা মার্বেল মেঝেতে, যেন শ্বেতপাথরের বুকে কেউ রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছে।
​পরিবেশটা মুহূর্তেই বিষিয়ে উঠলো। ক্যাটরিনা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ইউভানের ক্ষতবিক্ষত হাতটা ধরতে গেলো, কিন্তু ইউভান তাকে এক ঝটকায় সরিয়ে দিলো।নির্দয় মাফিয়াটা নিজের হাতের তালুতে বিঁধে থাকা কাঁচের ক্ষুদ্র টুকরোগুলো অত্যন্ত ধীরলয়ে টেনে বের করতে লাগলো। চেহারায় ব্যথার লেশমাত্র নেই, হায়ার দিকে দৃষ্টি রেখে ইশারা করলো। হায়ার দিকে নিক্ষিপ্ত তার সেই তীক্ষ্ণ ধারালো দৃষ্টি যেনো কোনো শিকারি বাজের নখরের চেয়েও ভয়ানক।
​হায়া একবার ইউভানের সেই র*ক্তচক্ষুর দিকে তাকালো, পরক্ষণেই তার নজর গেল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া রোজের দিকে।মেয়েটার অন্তরটা যে জ্বলাভূত হয়ে আছে তা তার চোখে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।এমন পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে হায়ার এক পলক সময় লাগলো। সে দ্রুতপায়ে এগিয়ে এসে রোজকে আগলে ধরলো, যেন এক অদৃশ্য বর্ম দিয়ে বিষাক্ততা থেকে আড়াল করতে চাইছে।

​হায়া আদ্রিয়ানের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে অত্যন্ত দৃঢ় অথচ বিনম্র স্বরে বলল, “মিস্টার আদ্রিয়ান, আসলে রোজের শরীরটা একদমই ভালো নেই। জ্বরে এসেছিলো। আমার মনে হয় কি ও বরং উপরে গিয়ে একটু বিশ্রাম নিক, কেমন?”
​রোজ কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল, “না , তেমন কিছু না! আমি ঠিক আছি…”
​আদ্রিয়ানের শান্ত অবয়বে মুহূর্তেই ঝড়ের পূর্বাভাস দেখা দিলো।পুরুষালী নিঃশ্বাসের বেগ তীব্র হয়ে উঠলো, ললাটে ফুটে উঠলো দুশ্চিন্তার পাঁচটি গভীর ভাঁজ। সে রোজের অতি সন্নিকটে এসে দাঁড়ালো, কণ্ঠে একাধারে অভিমান আর তীব্র উদ্বেগ ঝরে পড়লো।
​”রেড রোজ! তোমার জ্বর এসেছে আর তুমি সেটা আমাকে এতক্ষণ বলোনি? জানলে তোমাকে এখানে আসতে নিষেধ করতাম।!”
​আদ্রিয়ান চারিদিকে একবার চোখ বুলালো। এই মুহূর্তে হলরুম ছেড়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব, মাফিয়া প্রোটোকল আর ইউভানের উপস্থিতিতে ময়দান ছেড়ে দেওয়া মানেই পরাজয়। সে না চাইতেও হায়াকে এক পলক দেখে নিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর স্বরে আদেশ দিলো।
​”নিয়ে যাও ওকে। কিন্তু মনে রেখো ,রেড রোজের যেনো তিলমাত্র কোনো ক্ষতি না হয়। ওর নিশ্বাসের নিরাপত্তাটাও যেনো নিশ্চিত থাকে।”


.
.
.
.
রাত প্রায় নয়টা বেজে পয়তাল্লিশ মিনিট।রয়্যাল বিল্ডিংয়ের পাঁচ তলায় একটা ডরমিটরি আছে।সেই বিশাল কক্ষের মাঝে বিলিয়ার্ডস গেইমের টেবিল রাখা।কিউ হাতে ইউভান একটা 8 number বল টার্গেট করতেই তা পকেটে গিয়ে ঢুকে পড়ে।বিলিয়ার্ডস গেইমে ইউভান বড়াবড়ই পারদর্শী। তুষার দামিয়ানের প্রায়শই তাকে হারানো কঠিন হয়ে পড়ে।তুষার একটা 10 number বলে কিউ দিয়ে এট্যাক করে নিশানাবাজ অক্ষীপল্লব সরু করলো।

তুষার আর ইউভানকে আধঘন্টা ধরে বিলিয়ার্ডস খেলা খেলতে দেখে চলছে দামিয়ান।মিনি চিকেন বার্গারে একটা বড়সড় কামুড় বসিয়ে নাক ছিটকালো।
“রিক তোর বোন যদি আমাকে জবাই করে এর দায়ভার কি তুই নিবি??এ প্রথম দেখলাম কোনো ভাই তার বোনকে বন্ধুর হাতে তুলে দিতে গিয়ে সব কপাটি দাঁত দেখিয়ে কেলাচ্ছে।”

তুষার এক পলক দামিয়ানের দিকে দৃষ্টি প্রখর করে তাকালো।ঘামে সিক্সপ্যাকওয়ালা বডি ভিজে উঠেছে কারণ ইউভান এসি অফ করে রেখেছে ডরমেটরির।বাহিরের পরিবেশ ঠান্ডা আর ভিতরে যেনো তৃপ্ত লাভা ফুটছে।
“তোর সাথে ইনায়ার বন্ডিং ততোটাও খারাপ না আমার মতো যে তোকে মেরে ফেলবে!”

দামিয়ান নাক কুঁচকে বার্গারের অবশিষ্ট অংশটা তুষারের মুখে ঠেসে ধরলো। তুষার ভাবলেশহীনভাবে সেটা চিবোতে চিবোতে পকেট থেকে টিস্যু বের করে ঠোঁট মুছল।
“টেস্টি আছে, তবে বিফ হলে স্বাদটা জমতো ভালো!”

​”বিফ-এর সাথে বিষ মিশিয়ে দিলে স্বাদটা আরও দ্বিগুণ হতো শালা শু*য়োর!”_দামিয়ান বলল।

কথার মাঝে হঠাৎই ইউভান তার কিউ-টা টেবিলের ওপর রেখে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। তুষারের দিকে ফিরে অত্যন্ত গম্ভীর আদেশ দিলো।
​”তাই, প্রিপেয়ার ইয়োরসেলফ। ফার্স্ট ওয়াচ এর সময় হয়ে এসেছে। রাতের প্রথম প্রহরে সমুদ্রতটে কয়েকটি বিশেষ কার্গো জাহাজ নোঙর করবে। আমি চাই তুই নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবি। প্রতিটা ডিল যেনো সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র হয়।বি কেয়ারফুললি! ওখেই ম্যান??”

​তুষার মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। তাইওয়ান জানে, ইউভানের আদেশ মানেই অলঙ্ঘনীয় নিয়ম। ইউভান দামিয়ানের দিকে তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ঘোরালো।
​”আর দামি! তোর কাজ হবে পুরো ব্রুস্টার প্যালেস আর রয়্যাল বিল্ডিংয়ের প্রতিটি ইঞ্চিতে নজর রাখা। সিসিটিভি ফুটেজের একটা ফ্রেমও যেন তোর নজর না এড়ায়। বিশেষ করে লায়ন টিমের উপর থেকে।দরকার পরলে মাস্টারও বাদ যাবে না।একটা পিঁপড়ে হলে সেটাতেও।কোনো ফাঁকফোকর যদি করিস তোর হাতের বার্গারটাই হবে তোর শেষ খাবার, মনে রাখিস!”

ইউভান দরজার দিকে পা বাড়ালো, দামিয়ান বার্গারের শেষ অংশটুকু মুখে পুরতে পুরতে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো, “কিরে রিক?সবি তো বুঝলাম খেলা তো এখনো শেষ হয়নি, তুই আবার কোন চুলোয় যাচ্ছিস?”
​ইউভান দরজার হাতলে হাত রেখে একবার ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো।ইউভানের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে পৈশাচিক আর তৃপ্ত হাসি। চোখেমুখে এক ধরণের আদিম নেশার ঘোর।মাফিয়ারা চুল বেকব্রাশ করে খুব ধীরলয়ে, অনেকটা স্বগতোক্তির মতো বলল,
“সুধা পান করতে।আই মিন মধু!”

​দামিয়ান ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গলার খাবার প্রায় আটকে যাওয়ার জোগাড়। বিষম খেয়ে নেত্রপল্লব বড় বড় করে তাকালো, “মধু? কিসের মধু? আর কোথায় পাবি এখন?জঙ্গলে কি কোনো মোমাছির দল বাসা বাঁধলো নাকি।তবে তাপমাত্রা তো – এ”
​ইউভান এবার পূর্ণ দৃষ্টিতে দামিয়ানের দিকে ফিরে ক্রূর হাসলো। ধূসর নেত্রপল্লব যেন অন্ধকারের মায়াজাল বিস্তার করলো সারা রুমজুড়ে। রহস্যময় স্বরে উত্তর দিলো,
“রিকের মৌচাক যেখানে রাখা আছে,সেখানেই!”
​তুষার এতক্ষণ চুপচাপ তার কিউ-টা পরিষ্কার করছিলো। ইউভানের রূপক কথার অর্থ বুঝতে ষষ্ঠইন্দ্রিয়সম্পন্ন তাইয়ের তিলমাত্র দেরি হলো না। নিস্পৃহ অথচ সজাগ কণ্ঠে যোগ করলো,
“রোজের রুমে যাচ্ছে আর কোথায়!ফ্লোর ফিফ’থ য়ে”

​তুষারের কথা শুনে দামিয়ানের আক্কেলগুড়ুম। ইউভান ততক্ষণে লম্বা কদমে করিডোর দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো।দামিয়ান সেই যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে মুখভঙ্গি করে ফিসফিসিয়ে উঠলো,
“শালা আস্ত একটা দাগাবাজ! পাক্কা খিলাড়ি! 4 2 0! এদিকে বিয়ে করবি ক্যাটরিনাকে, আর ওদিকে রাতে মৌচাকের মধু খেতে যাচ্ছিস? ছ্যা্ৎ! “
​দামিয়ান পুনঃরায় বলল “শালা, ওই ফুলের মতো পবিত্র মেয়েটাকে অপবিত্র করিস না, বলে দিলাম!কে বলেছে কিউটি পাইয়ের সাথে নাক মোটা ভোলকভের সাথে এনগেজমেন্ট ঠিক করতে! তার থেকে ভালো ছিলো আমার সাথে দিতি।শা………..লা।”

দামিয়ানের বাক্যে শেষ হওয়ার আগেই এক জোড়া ইস্পাত-কঠিন হাত তার স্লিভলেস গেঞ্জির পেছনের কলার ধরে টান মারলো।অতঃপর তুষার বলল।
–ডরমিটরির কন্ট্রোল রুম থেকে সবকটা পেরিমিটার লক করবি।দরকার পরলে চোখে মুভ লাগিয়ে রাখ।তাও ঘুমানো যাবে না।”

তুষার ডরমিটরি থেকে যাওয়ার আগে দামিয়ানের কানে মুখ এনে হিসহিসিয়ে প্ল্যানিং সম্পর্কে ধারণা দিলো।


রোজ ফ্রেশ হয়ে মুখের মেকাআপ গুলো রিমুভ করে ফ্লোরাল প্রিন্টেড লং স্কার্ট আর একটা টপ’ পড়ে নিয়েছে। এতো রাতে আর চুল ভিজায় নি।এমনিতেই গায়ে এখনো হালকা জ্বরভাব আছে।আরো ঠান্ডা লেগে গেলে তখন!

​রোজ বেনিটির সামনে দাঁড়াতেই তার নজর কাড়লো বেডের পাশে রাখা একটা রুপোলি ট্রলির ওপর। ঢাকনা সরাতেই এক অপূর্ব সুগন্ধ মেয়েটার নাসারন্ধ্রে আঘাত করলো হবেই বা না কেনো প্লেট ভর্তি যে মাটান বিরিয়ানি!আজকে রাতের ডিনার মেনুতে এখানে মাটান বিরিয়ানি ছিলো রোজের কেমন যেনো বিশ্বাস হলো না।বহিঃবিশ্বে পাঁ রাখার পর থেকে এখানকার খাবার খেয়ে খেয়ে কেমন যে তিক্ততা ধরে গিয়েছিলো তার।খাওয়ার মন না থাকলেও রোজ লোভ সামলাতে পারলো না আর।খেয়ে নিলো।কয়েক লোকমা মুখে দিতেই এক অদ্ভুত তৃপ্তি মেয়েটার সারা শরীরে খেলে গেলেও,
​ঠিক তখনই বেলকনির ভারী সিল্কের পর্দাগুলো হঠাৎ এক অশুভ ছন্দে নড়ে উঠলো যেনো।রোজ কি ডোর লক করতে ভুলে গিয়েছে??দেখতে তো বন্ধই মনে হচ্ছে। তবে এই বদ্ধ প্রকোষ্ঠে কার পদধ্বনি অনুভূত হচ্ছে?

রোজ সজাগ দৃষ্টিতে ব্যালকনির দিকে তাকালো। কাঁচের ওপারে চাঁদের ম্লান আলোয় আবছা একটা দীর্ঘ অবয়ব যেনো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আতঙ্কে রোজের গলার খাবারটুকুও যেনো পাথর হয়ে আটকে গেলো।

​নিজেকে সামলে নিয়ে হাত ধুয়ে এসে বেডসাইড টেবিলের ওপর রাখা ‘ইন্টারকম টেলিফোন’-টির দিকে হাত বাড়ালো রোজ।বিল্ডিংয়ের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম তো এটি। কাঁপাকাঁপা আঙুলে রোজ হায়ার রুমের নম্বর ডায়াল করলো, কিন্তু ওপাশ থেকে ফোনটা ‘অফ’ দেখাচ্ছে। রোজের ভ্রু কুঁচকে গেলো। যদি মূল নেটওয়ার্ক বা কানেকশন বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে, তবে পুরো বিল্ডিংয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকার কথা। তবে তার কক্ষের এই ফোনটিতে সংকেত বা নেটওয়ার্ক এলো কী করে???

অস্থিরতা বাড়তে থাকায় রোজ একবার ভাবলো ইউভানের ফ্ল্যাটে কল দেবে। ডায়াল প্যাডে হাত রেখেও সে থমকে হাত থামিয়ে দিলো। উদ্ধত, পাষাণ মাফিয়াটার কাছে সাহায্য চাইবে কেন??সন্ধ্যার ঘটনা কি ভুলে বসে আছে সে??না! রোজ ততটা নির্লজ্জ হতে পারবে না! তীব্র ঘৃণায় রিসিভারটা সশব্দে নামিয়ে রাখলো। নাক সিটকে বিড়বিড় করল- “বেহায়া হব না আমি, কিছুতেই না!”

কিছুটা ভয়েই রোজের শরীর অবশ হয়ে আসছে। রোজ বেলকনির দিকে হেঁটে যেতেই তীব্র ঠান্ডা বায়ু উড়িয়ে দিলো রমণীর হাঁটু অব্দি চুলগুলো।রোজ চুলগুলো আগলে রাখার প্রয়াশে একটা কালো রাবার ব্যান্ট দিয়ে পোনিটেল করে বেঁধে নিতেই,

হঠাৎ বিদ্যুতের বেগে ব্যালকনির অন্ধকার চিরে এক জোড়া লৌহকঠিন হাত মেয়েটাকে হেঁচকা টানে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো।রোজ আর্তনাদ করে চিৎকার দিয়ে ওঠার আগেই রমণীর গোলাপের পাপড়ির ন্যায় কোমল অঁধরে চেপে বসলো এক বলিষ্ঠ করতল।
​ডাগর ডাগর নেত্রপল্লব মেলে রোজ উপরে তাকাতেই সেই পরিচিত দহনের দেখা পেলো। এক জোড়া অগ্নিধূসর অক্ষীপল তার দিকেই নিবদ্ধকালো হুডি, মাস্ক আর ক্যাপে ঢাকা সেই পুরুষালী অবয়বটি চিনতে রোজের তিলমাত্র দেরি হলো না। এ যে স্বয়ং ইউভান!পুরুষটার দেহের উত্তাপ আর পৈশাচিক স্পাইসি ল্যাবেন্ডারের ঘ্রাণ রোজের স্নায়ুগুলোকে অসাড় করে দিলো এক মূহুর্তেই। ​ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে কক্ষের ডোর খোলার কর্কশ শব্দ হলো। ল্যাম্পলাইটের সোনালী আভার বিপরীতে ফ্লোরে একটা দীর্ঘ ছায়া উন্মোচিত হতেই দেখা গেল আদ্রিয়ানকে। হাতে দুটো ফাইল ধরা।টিমটিম আলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ফাইলগুলো ২০০৮ সালের। একটা অমীমাংসিত কেসের ফাইল নিয়ে আদ্রিয়ান ধীর কদমে ভেতরে প্রবেশ করলো। আদ্রিয়ানের কণ্ঠে ছাড়লো গাম্ভীর্যতার সহিত।এতো রাতে রোজের রুমে আসায় খানিক ইতস্ততবোধ করলেও চোখের বলি রেখায় ধরা পড়লো যেনো কোনো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তাগিদেই এসেছে। “রো..জ! তুমি কি জেগে আছো? এই ফাইলগুলো তোমার দেখা প্রয়োজন ছিলো।” ​আদ্রিয়ানের ডাক বেলকনিতে থাকা রোজের কানে পৌঁছালেও মুখ ফুটে কথা বলার সক্ষমতা হারিয়েছে ইউভানের হাতের প্রবল চাপে। ততক্ষণে ইউভান রোজের মসৃণ গ্রীবাদেশে নিজের মুখ ডুবিয়ে এক নিষিদ্ধ পৈশাচিক স্বরে ফিসফিসিয়ে উঠলো_ “হিশশশশ!”
​ইউভানের প্রকষ্ঠ হস্ত রোজের উ*ন্মুক্ত উদর আর টপের অন্তরালে প্রবেশ করিয়ে মেয়েটাকে দেয়ালের সাথে পিষ্ট করে ধরেছে। রোজের অবাধ্য হাত দুটোকে নিজের এক মুঠোয় বন্দী করে নড়াচড়ার প্রতিটি পথ রুদ্ধ করে দিলো। ব্যালকনির পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে রোজ অনুভব করতে লাগল তার হৃদপিণ্ডের প্রবল ধুকপুকুনি।

আদ্রিয়ান বেডের কাছে এসে রোজকে দেখতে পেলো না।ধক্ করে উঠলো পুরুষালীর অবান্তর মন।নিভৃত স্বরে কয়েকবার রোজকে ডাক দিলো।তখনও শাওয়ার রুম থেকে অনবরত টুপটুপ জলধারার শব্দ হচ্ছিলো।আদ্রিয়ান ফাইলগুলো বেডের উপর রেখে সেদিকে এগিয়ে গেলো।সন্ধিক্ষণে ইউভান রোজের ঘাড় থেকে মুখ সরিয়ে ঘাড় কাত করে রুমের দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে পৈশাচিক উৎফুল্লতা হাসতে লাগলো।

আদ্রিয়ান শাওয়ার রুমের কার্নিশে দাঁড়িয়ে রোজ শাওয়ার রুমে কি-না তা জানার প্রয়াসে জিজ্ঞেস করতে যাবে তখনি আদ্রিয়ানের সেলফোন বেজে উঠে।তুরস্ক থেকে আবরার কল করেছে।আদ্রিয়ান কল ধরতে গেলে দেখতে পায় রুমে নেটওয়ার্ক কানেকশন ডেড।হটাৎ আবরার কল করেছে ভেবে, আদ্রিয়ান বেডের উপর পড়ে থাকা ফাইলগুলো কথা ভুলে গিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

আদ্রিয়ানের পদধ্বনি মিলিয়ে যেতেই ব্যালকনির দমবন্ধ করা পরিবেশে ইউভান রোজের মুখের ওপর থেকে নিজের বলিষ্ঠ হাতটা সরিয়ে নিলো। বাধনমুক্ত হতেই রোজ তৃষ্ণার্থ চাতকীর মতো হাঁপাতে লাগলো। ফর্সা গালে ইউভানের থাবার স্পষ্ট রক্তিম ছাপ পড়ে গিয়েছে। রোজের শরীরের প্রতিটা স্নায়ু ক্রোধে রি রি করে উঠলো। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে সজোরে পর পর দুটো থাপ্পড় বসিয়ে দিলো ইউভানের সার্প গালের কঠিন পেশিতে।
​”লজ্জা করে না আপনার? চোরের মতো আমার রুমে কেন এসেছেন?,আপনি যা শুরু করেছেন না, আপনার ওপর খোদার লানত পড়তে বেশি সময় লাগবে না!”

​ইউভানের মুখে কোনো বিকারের ল্যাশ নেই।উল্টো রোজ ভেতরের দানবটাকে আরও উসকে দিলো।ইউভান এক ঝটকায় রোজকে পাঁজাকোলা করে নিজের পায়ের ওপর দাঁড় করিয়ে দিলো। ইউভানের তপ্ত নিঃশ্বাস রোজের কপালে আছড়ে পড়তেই খুব নিভৃতে, এক পৈশাচিক মায়ায় রোজের অশ্রুসিক্ত নেত্রপল্লবে দিকে তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে উঠলো।
“আহহহ! তোর চোখে জল কেনো ডার্ক? একটা শয়তানের জন্য অশ্রু বিসর্জন দেওয়াটা একদম ঠিক হচ্ছে না, ইটস নট ফেয়ার!”

​”বেরিয়ে যান আপনি! গেট লস্ট!” রোজ ইউভানকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে চিৎকার করে উঠলো।

​ইউভান রোজের কোমরে নিজের হাত আরও শক্ত করে চেপে ধরে তার অতি সন্নিকটে এলো। ক্রূর হেসে প্রশ্ন করলো
“এই!তোর কি জ্বলন হচ্ছে না? ঠিক যেমনটা আমার হয়? হচ্ছে না বল?”

​”না, হচ্ছে না! আপনার মতো কুৎসিত মনের মানুষের জন্য আমার তিলমাত্র কোনো অনুভূতি নেই!” রোজ মুখ ঘুরিয়ে উত্তর দিলো।আঁখিপল্লব বাঁধ মানলো না টপটপ করে অশ্রু গড়িয়ে গলদেশ ভিজিয়ে দিলো।
“আপনি কি করে পারছেন এমন করতে!আপনার সন্তানও গর্ভে ধারণ করেছিলাম।তা আপনি জানতেনও।আপনি বুঝলেন না আমায় আর বুঝার চেষ্টাও করলেন না!আর কতো নির্দয় হবেন আমার সাথে।”

“তোর তো কিছু যায় আসার কথা না!ইউ ফা*কিং কেয়ার এবাউট ইট??রিয়েলি??”

“নেভার!আপনার যা ইচ্ছে করুন।আমাকে একা ছেড়ে দিন।নিজের মতো বাঁচতে দিন।”

ইউভান খামচে ধরলো রোজের টপের কলার।উঁচিয়ে শুন্যে ভাসিয়ে তুললো রমণীর নারীদেহ।অগ্নিস্ফুটলিঙ্গের মতো রক্তিম অক্ষী নিক্ষেপ করে তপ্ত গলায় খেঁক করে উঠলো।
“ইউর পেইন ডিসটার্ব মি লিটল সুইট! হুআই আর ইউ ক্রাইং??বাঙালি নারীরা বুঝি স্বামীর পাশে অন্যে নারী টলারেট করতে পারে না??কই তোর মাঝে তো কখনো তেমন কোনো অতিক্রিয়া দেখি নি।এখন কেন এমন করছিস? পেইন হচ্ছে?? “

​”কই, দেখা তো! কোথায় হচ্ছে ?উয়্যার ইজ ইউর ফা*কিং পেইন” ইউভান যেনো বেদিশাহীন নির্লজ্জ। নির্লজ্জভাবে রোজের উন্মুক্ত ব’ক্ষের দৃশ্যমান অংশে নিজের তপ্ত করতল চেপে ধরলো।পুরুষালীর আঙুলের স্পর্শে রোজের সারা নারীদেহ বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো কেঁপে উঠলো। ইউভান নেশাক্ত স্বরে রোজের কানের লতিতে ওষ্ঠাধর ঠেকালো।
“এখানে? এখানে কি খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে? একটা চুমু দিবো? দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে!লিটা’রালি ইউর পেইন ডিসটার্ব মি।আই ক্যান্ট টলারেট ই্যাট।”

​রোজ পুনঃরায় হাত তুললো ইউভানকে চড় মারার জন্যে। কিন্তু এবার ইউভান আর তাকে সুযোগ দিলো না। বিদ্যুৎবেগে রোজের কব্জি চেপে ধরে হিড়হিড় করে টেনে তাকে কক্ষের বাইরে নিয়ে এলো। রোজের টলোমলো শরীরটা নিয়ে লিফটের তোয়াক্কা না করে সিঁড়ির অন্ধকারের দিকে ধাবিত হলো। রোজ আপ্রাণ চেষ্টা করলো নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার, ইউভানের বলিষ্ঠ পিঠে আর কাঁধে এলোপাথাড়ি কিল-চড় বসাতে লাগলো।রোজ মুখ খোলার উপক্রম করতেই ইউভান ক্ষিপ্র গতিতে রোজের ঠোঁটের ওপর নিজের হাতের তালু দিয়ে এক প্রচণ্ড ‘ট্যাপ’ লাগিয়ে দিলো।​ ধৈর্য হারিয়ে এক ঝটকায় রোজের নমনীয় শরীরটা নিজের কাঁধে তুলে নিল।অতঃপর সিঁড়ি বেয়ে নামতে লাগলো।এদিকে পুরো ফ্লোরে টাটকা রক্তের ছাপ স্পষ্ট। যেনো কাউকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।রোজের পেট উগ্রে বমি আসার উপক্রম হলো তখনি যখন একটা বিদঘুটে ধলাপাকা পঁচা মাং/সের গন্ধ নাকে ভেসে এলো।


ক্লান্ত বরফে ঢাকা রজনী।তিমিরে ঢাকা নিশীথ লগ্নে খোলা আকাশে তারকারা জ্বলজ্বল করছে।সামনে রাখা কয়েকটা কাঠে আগুন জ্বালিয়ে কৃত্রিম ফায়ার প্ল্যাস বানানো।পাশেই বালুর উপর হাত ঠেকিয়ে বসে আছে তুষার।দৃষ্টি একনাগাড়ে আকাশের তারকারাজদের পানে।চাঁদের আলোতে টিমটিমে রুশনাইতে আচ্ছাদিত সমুদ্র তট।সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জের সাথে যেনো বুকের ভেতরের তাজা রক্তগুলো ঢেউখেলায় মগ্ন।

হঠাৎ বিস্মিত হয়ে উঠলো পুরুষালী রন্দ্র।পিছনে কোনো নারীর কন্ঠ স্বর শুনে মাথাটা ঘুরালো।মাঝরাত্তিরে রাহাকে সমুদ্রতটে দেখে বিস্মিত হওয়ারই ছিলো বৈকি।অন্তরের তারনায় প্রশ্ন করে বসলো।

“তুমি এখানে কেনো এসেছো??ঘুমোও নি??”

“না-তো! আমি তো কফি খাইনি!ততোটাও বোকা নই আমি।দামি ভাই বললো আপনি এখানে তাই এলাম।জানি আপনার অসুবিধে হবে। বাট আই ডোন্ট কেয়ার!” __রমণীর হাতে দুটো ওয়ানটাইম রেমেনের প্যাকেট।তুষারের শিয়রে এসে বসে পড়লো।একটা প্যাকেট বোল তুষারের দিকে আগ বাড়িয়ে দিয়ে বললো।

“খেয়ে নিন, রাতে ডিনার না করেই চলে এসেছেন।”

“এই মুহূর্তে রুমে চলে যাওয়া শ্রেয়!”

“আপনার সাথে আমার কথা ছিলো।”

ড্যানিশ কন্যার পানে এক রুগ্ন চাহনি নিক্ষেপ করে আদেশ করলো।

“তোমার কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে আমি বাধ্যে নই ইনায়া।”

রাহা বাড়িয়ে রাখা হাতটা থেকে ক্রোধান্তিত হয়ে রেমেন এর প্যাকেটটা সমুদ্রে ছুঁড়ে মারলো।

“ইয়েস তাইওয়ার আপনি বাঁধ্যে। মানুষ কখন দূরত্ব বজায় রাখে জানেন যখন কোনো কিছুর থেকে পালাতে চায়!আপনি যেই দূরত্বটা বজায় রাখার জন্যে এতো কলাকৌশল আঁটছেন তার জবাব চাওয়া অপরাধ না।”

প্রতিউত্তরের প্রয়াসে কিছুক্ষণ অপেক্ষারত হলো রাহা।তবে পরিবেশটা নৈঃশব্দ্যেপূর্ণ।রমণী এহন আগ্রহ দেখে পকেট থেকে একটা লাইটার বের করে সিগারেট ধরিয়ে রাহার দিকে এগিয়ে ধরলো।রাহা সিগারেটটা নিয়ে ঠোঁটে লাগাতেই তুষার শুষ্ক ঢুক গিলে জিভ দিয়ে অধর ভিজিয়ে বলে উঠলো।

“সিগারেটটা যদি সমুদ্রে ছুঁড়ে মারতে তোমার একটা প্রশ্নের জবাব দিতাম!বাট তুমি তা করোনি।আচ্ছা!তোমার থেকে দূরত্ব বজায় রাখলাম কই??তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম বয়স কতো ছিলো জানো সাড়ে ছয় বছরের বাচ্চা একটা মেয়ে এমন।আগলে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলাম।রিক বললো সব কিছুর থেকে আড়াল করে রাখতে সাধারণ মানুষের মতো জীবন দিতে তাও করা হলো।”

“আপনি আরেকটা কথাও ভুলে গিয়েছেন দামি ভাই আর আপনি শুধুমাত্র রিক ভাইয়ার কথাই মান্যে করে গেলেন গত পনেরোটা বছর ধরে।না-হলে আপনারা ওইটুকুনিও করতেন না।”

রমণী উঠে দাঁড়ালো।নৈঃশব্দতার বাজ ডিঙিয়ে কড়াল ভাঙ্গা কন্ঠে বললো।

“আপনাদের সবার ঘাড়ে আমি একটা বোঝাই ছিলাম।স্টিল রাইট নাও অলসো।রিক ভাইয়া শুধু তার দায়িত্ব তেই প্রগার ছিলেন ব্যাস্।নাহলে নিজের স্টেপ সিস্টারকে আঠারো বছর আগে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে কেন দিলেন না!যেভাবে মেরেছিলো আমার মাকে সেভাবে আমাকেও মেরে দিলে পারতো।”

রাহার কথা শেষ হওয়ার অবকাশটুকুও মিললো না। নিশীথ লগ্ন আর সমুদ্রের গর্জন ছাপিয়ে এক প্রচণ্ড চপেটাঘাত আছড়ো পড়লো ড্যানিশ রমণীর ফর্সা গালে। সেই শব্দের প্রতিধ্বনি যেনো বালুকারাশিতে এক বিষণ্ণ কম্পন তুলে দিলো। রাহার গায়ে এ প্রথম হাত তুললো তুষার।যা আজ অব্দি ইউভানও করেনি তা করলো তুষার।
​চড়ের তীব্রতা একটু বেশি আঘাত হানলো। মাথা ঝিমঝিমিয়ে উঠলো।, চোখের সামনে তারকারাজিরা যেনো দিশেহারা হয়ে ছুটতে লাগলো।তুষারের বুকেরপাটা এতো তিব্রতায় উঠানামা করতে লাগলো যা দেখে রাহা দু পাঁ পিছালো।

“নামরা আলবার্টকে রিক মেরেছে নাকি মহিলা জেল থেকে পালাতে গিয়ে মরেছে??”

বিপরীত পক্ষ কোনো জবাব আনলো না।তুষারের প্রশস্ত আঙুলের রক্তিম ছাপ বসালো রমণীর শ্বেতশুভ্র গালে। দুই ফোঁটা তপ্ত অশ্রু তার অতিশয় ফর্সা গাল বেয়ে গড়ালো।মায়ের প্রতিও ততোটা বিদ্বেষ জমা হয় নি যতোটা না তুষারের চড়েঘাতে দহনে জ্বলাভূত হলো আন্তরটা আজ।রাহা এক ঝটকায় পাশেই জ্বলতে থাকা ফায়ারপ্লেসের জ্বলন্ত কাষ্ঠখণ্ডে সজোরে লাথি মেরে ওলটপালট করে দিলো।মেয়েটা রণচণ্ডী মূর্তিতে ওখান থেকে চলে যেতে চাইলো, তুষার বিদ্যুৎবেগে রাহার কব্জি চেপে ধরে তাকে নিজের অতি সন্নিকটে টেনে আনলো।
​রাহার টলটলে ধূসর আঁখিপল্লব মণি দুটোর দিকে তাকিয়ে তুষারের পাথুরে হৃদয়ে যেন এক মরণ-কামড় বসালো। দেখলো, চড়ের তীব্রতায় রাহার ওষ্ঠাধরের কার্নিশ বেয়ে ফোঁটা তাজা র’ক্ত চিবুক স্পর্শ করতে চাইছে। তুষারের ক্রোধ আর অনুতপ্ততায় কাঁপাকাঁপা বুড়ো আঙুল দিয়ে র’ক্তটুকু মুছে দিলো। রাহার জ্বলতে থাকা গালে হাত বুলিয়ে দিতে রাহা সরে যেতে চাইলে কব্জি টেনে ধরলো আরও প্রকষ্ট চাপে।

​” ইনায়া!তুমি কেনো পুরনো কথা টেনে আনলে বলো??”

নৈঃশব্দ্যের বাঁধ ভেঙে তুষার রাহার গালে বুড়ো আঙুল স্পর্শ করলো।অনুতপ্ত মিশিয়ে যান্ত্রিকতাবাদকতা খন্ডিত করে অনায়াসে প্রগাড় কন্ঠে বলল।

” আমি শূন্য ,ধ্বংস! একটা ধ্বংসস্তূপ! স্পাইডারের অস্তিত্ব ব্যতীত আমি সত্যিই এক অন্তঃসারশূন্য ছায়ামাত্র। আমি কোনো মিলিওনিয়ার না, আর না আমার কাছে কোনো সুকোমল হৃদয় অবশিষ্ট আছে।আমার থেকে কিছু আশা করাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই না!”

রাহা তার তপ্ত ওষ্ঠাধর কামড়ে ধরে ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আওড়ালো।
​”A wolf in sheep’s clothing is dangerous, but a heart in iron plating is a tragedy.” > (ভেড়ার ছদ্মবেশে নেকড়ে বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু লৌহবর্মে আবৃত একটা হৃদয় হলো একটা জীবন্ত বিয়োগান্তক নাটক।”

রাহা জানালো।তুষারের অস্পষ্টআাক্যে গুলো রাহার বুঝতে তেমন অসুবিধে হলো না তবে আশ্চর্য হলো, কতো নিখুঁত অভিনয় জানে মানুষ, সব বুঝেও না বুঝতে ভান ধরে গেলো আজীবনপন।

“আপনি একটা অদ্ভুত প্রাণী, ইতিহাস তো সাক্ষী থাকবে আপনার মতো আস্তাকুঁড়ে জীবের জন্যে যে কোনো রমণী দিনগুনে গিয়েছে।উশৃংঙ্খল হয়েছে, ভেতরের জমা তাড়নাগুলো ছাই করতে কতো পুরুষের সন্নিকটে গিয়েও ফিরে এসেছে!”

অতঃপর রমণী একটা সুউচ্চ দীর্ঘশ্বাস টানলো,রোবটিক যন্ত্রকে অন্তরাত্মার কথা বলা এক প্রকার বোকামো নই বৈকি??? ।_”হুয়াট এভার।”

প্রবল বেগে এক ঘন বাতাস সমুদ্রপৃষ্ঠে বয়ে যেতেই হুট করে রাহা গালে শুষ্ক ওষ্ঠের স্পর্শ পেলো।মেয়েটার রক্তিম হওয়া লাল আভার গালে অনুতপ্ততা মিশিয়ে নিজের উষ্ণ ওষ্ঠাধর ছোঁয়ালো তুষার।কোনো এক মরণঘাতীক তৃপ্তি যেনো আঘাত আনলো কোনো তরঙ্গধ্বনির ন্যায় কম্পিত নারীদেহে। স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।বুজে আসা বুজে আসা নেত্রপল্ল্ব ধীরে ধীরে মেলতেই সমুদ্রের বিশাল জলরাশির গর্জন ছাপিয়ে কয়েক লাইন সুর ভেসে এলো,রমণীর কম্পিত তরঙ্গধ্বনির মধ্যেখান বেয়ে।

Sambhal ke rakha woh phool mera tu…
Meri shayari mein zaroor raha tu.
Jo aankhon mein pyaari si duniya basayi,
Woh duniya bhi tha tu… woh lamha bhi tha tu.”

​”Han lagte hain mujhko woh kisse satane…
Deta na dil mera tujhko bhulane.”


নিশীথ প্রহর। ভোলচরের আদিম অরণ্য তখন তিমিরবসনাবৃতা, এক নিচ্ছিদ্র অন্ধকারে নিমজ্জিত। চারিদিকে অচেনা নিশাচর প্রাণীদের কর্কশ ডাক আর পত্রপল্লবের মর্মরধ্বনি মিলেমিশে এক বিভী*ষিকাময় ঐকতান সৃষ্টি করেছে।অরন্যের আরও গভীরে ব্রুস্টার প্যালেসটা।এই দ্বীপের চারপাশে ঘেরাও করা রাশিয়ান জলরাশি।

আকাশলীন মহীরুহদের ফাঁক গলে চাঁদের ম্লান আলো যখন মাটির বুক স্পর্শ করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই ভোলচরের অরণ্যের নীরবতা ভঙ্গ করে ভেসে এলো অশ্বখুরের শব্দ।
​ঘন কুয়াশার চাদর চিরে আবির্ভূত হলো এক অশ্ব। তার পৃষ্ঠদেশে আসীন ইউভান।তার বলিষ্ঠ বাহুবন্ধনে আবদ্ধ রোজ। ইউভান তাকে নিজের মুখোমুখি করে বসিয়ে রেখেছে। রোজের ফর্সা মুখমন্ডল তখন আতঙ্কে পাংশুবর্ণ, তার ডাগর চোখে অশ্রুর ঢল। কিন্তু আক্ষেপ, মুখে কালো ট্যাপের কারণে কোনো কথা বলতে পারছে না।

“থাম্বেল এর পিঠে আজ প্রথম কোনো নারী চড়ে বসলো।আর ইয়্যাু ফিলিং গুড থাম্বেল???”__অশ্বের কেশরাশিতে হাত বুলালো ইউভান।ঘোড়াও কেমন যে ডেঁকে উঠলো।যেনো বোবা প্রানীটাি তার মালিকের কথা বুঝতে সর্বদা সক্ষম।

রোজ এক ঝলক তাকালো ইউভানে অক্ষীপলে।কয়েকমিনিটের নৈঃশব্দ্য কাটিয়ে ইউভানের জবানিকা খোলায় বিহ্বলিত হলো মেয়েটা।আচমকা ইউভান রোজের মাথার পেছনে থাকা কালো রাবার ব্যান্ডটা এক ঝটকায় খুলে ফেললো।বাধনমুক্ত হতেই রোজের জানু অবধি লম্বা, ঘন কৃষ্ণকেশরাশি বন্য বাতাসের উন্মত্ততায় চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো।অতঃপর খুলে দিলো রোজের মুখ থেকে কালো ট্যাপ।

রোজ উ’ন্মাদের মতো অশ্বপৃষ্ঠ থেকে নামার চেষ্টা করতেই ইউভান তার শক্ত হাতে রোজের স্কার্ট ওপরে তুলে ধরে উরুদ্বয় নিজের বলিষ্ঠ বাহু দিয়ে সজোরে চেপে ধরলো।
​”নামিয়ে দিন বলছি! আমার কাছে কেন এসেছেন? কী চাই আপনার? আপনার তো ফিয়্যান্সে আছে, ওই মহিলার কাছে যান না!আপনি একটা মিথ্যাবাদী!আপনার বাগদত্তা থাকার পরও কেন সেদিন বলেছিলেন আমি ব্যতিত অন্যে কোনো নারী নেই আপনার জীবনে??”__মায়াবিনীর মুখশ্রী ফ্যাকাঁশে হয়ে আঁখিদুটি ফুলে ভ্যাপে উঠেছে।এতো সুন্দর দু’টি আঁখিতে যে অশ্রু মানায় না তা কি বুঝতে পারে না সন্নিকটে বাহুবন্ধনে থাকা ড্যানিশ পুরুষটা?

​ইউভানের অক্ষীপল যেনো আগ্নেয়গিরির তপ্ত লাভার মতো লাল হয়ে উঠল। এক চরম পৈশাচিক আবেশে রোজকে অশ্বপৃষ্ঠেই শুইয়ে দিলো।রমণীর রেশমী চুলের গুচ্ছ নিজের মুষ্টিতে শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে গলদেশের খাঁজে মুখ গুঁজে দিলো ইউভান।অতঃপর নেশাতুর কন্ঠে নিজ মাতৃভাষায় পৃথিবীর সমস্ত দহন ক্ল্যাশ ধ্বংস করে অমোঘ মন্ত্র আওড়ালো।

  “ইয়াই ভিল কুন হ্যাভে দাই… ভিস দ্যার স্কেয়ার দাই নোয়েট, ইয়াই গোর তিল গ্রুন্নে, কোনে।”

রোজের কর্ণকুহরে অপরিচিত ভাষার শব্দগুলোর অর্থ উদ্ধার করতে পারলো না ঠিকি, কিন্তু ইউভানের সেই প্রগাঢ় কণ্ঠস্বরের কম্পন আত্মার অতল স্পর্শ করলো রমণীর।রমণী না চাইতেও তার হাত স্পর্শ করলো ইউভানের গাল।অশ্ব দাঁড়িয়ে পড়লো ততক্ষণাৎ।

“আপ..আপনার কি শরীর খারাপ লাগছে??কি হ’য়েছে বলুন।এভাবে তাকাবেন না দয়া করে।আমার অস্বস্তিবোধ হচ্ছে!”

“উহুম!নাথিং।”

রোজ এক বুক বিস্ময় নিয়ে ইউভানের সেই অগ্নিধূসর অক্ষিপল্লবের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকালো।
​ইউভানের ইস্পাত কঠিন্যে চোখের গভীরে এর আগে রোজ যতবারই তাকিয়েছিলো, দেখেছে এক হিমশীতল শূন্যতা কিংবা পাথুরে দৃঢ়তা। যেখানে চোখের পাপড়িগুলো পর্যন্ত কখনো অবাধ্য হয়ে কাঁপেনি। কিন্তু আজ? আজ সেই কঠোরতার বর্ম ফুঁড়ে এক অদ্ভুত ব্যাকুলতা বেরিয়ে আসছে।পুরুষটা কি চায় রোজ আজও বুঝে উঠতে পারছে না।তবে আজ ইউভানের দীর্ঘ ঘন পল্লবগুলো অবাধ্য হয়ে কাঁপছে।রোজ যতক্ষণ সেই চাহনিতে নিজের দৃষ্টি নিষিক্ততায় বেঁধে রাখলো ঠিক সেভাবেই! হয়তো-বা অন্তঃগহিনে থাকা এই নিছকতার জন্যেই কোনো এক স্বরলিপিতে কবিগুরু ব’লেছিলেন-

 ^হৃদয় যত নিষেধ হানে, নয়ন ততই কাঁদে। 
 দূরে যত পালাতে চাই, নিকট ততই বাঁধে। ~

বিভ্রম থেকে বের হতেই ইউভান তার হাতের শক্ত প্রগাঢ় চাপে টেনে ধরলো রোজের চুল। তীব্রটানে রোজের মাথাটা পেছনের দিকে হেলে পড়লো।অশ্ব থেকে লাফিয়ে নামলো ইউভান।নামিয়ে দিলো রোজকে।ঝংকার দ্বনি আর পাতার খচখচ শব্দ মিশিয়ে হিড়হিড়িয়ে টেনে নিয়ে ব্রুস্টার প্যালেসের দ্যা সেলারের ভিতর নিয়ে যায়। চারদিক গুমোট অন্ধকারে আপ্লূত।রোজ ইউভানকেও দেখতে পাচ্ছে না আর।সেলার টা অনেক পুরনো মনে হলো তার কাছে।অন্ধকারে ব্রুস্টার প্যালেসটাও চিনলো না।হঠাৎ একটা ক্যান্ডেলের আলো জ্বলে উঠতেই রোজ মৃদু চিৎকার দিয়ে উঠলো।

পিছন থেকে ​ইউভান সেই চিৎকারে কর্ণপাত করলো না।রমনীর মসৃণ উদর পরিপূর্ণ করে চেপে টেনে আনলো সন্নিকটে।পুরুষালী নাসাগ্র রোজের ব’ক্ষপিঞ্জরের মধ্যিখানে ঘষে এক মাদকতাময় ঘ্রাণ নিলো।তপ্ত সরবরীয় নিশ্বাসে বেঘুরে রোজের শরীর এক হাড়কাঁপানো শিহরণ জাগতেই রোজ নিজেকে সংযত করে ঠেলতে লাগলো সামনে থাকা পুরুষটাকে।তবে ইউভান ঘোরের মধ্যে বিড়বিড় করে উঠলো-
​”তোর চোখ দুটো এত মনমাতানো কেনো রোজ, হোয়াই? এই চোখ দুটোর প্রতি তো আমার চরম ঘৃণা হওয়ার কথা ছিলো! তবে কেন এরা আমাকে বারবার তোর কাছেই টেনে আনে?”

​রোজ নিজের মুখ সরিয়ে নিলো, তার দু-হাত দিয়ে ইউভানের বুকের বাম পাশে ঠেলে ধরে আটকানোর চেষ্টা করলো।ঠিক সেই জায়গাটায়, যেখানে পাষাণ হৃদয়ের প্রাণের স্পন্দন বিরাজ করে। রোজ অনুভব করলো, তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, বুকের ভেতরটা যেনো এক অব্যক্ত বেদনায় দুমড়ে-মুচড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে।বিষাদীনি অশ্রুসিক্ত চোখে ইউভানের দিকে না তাকিয়ে মরণপণ আকুতিতে বলে উঠলো।

​”স্পর্শ কেন করছেন আমায়।ঘৃণা হয়। আপনাকে ঘৃণা করার অনেক কারণ আছে। তবে আমাকে ঘৃণা করার একটা কারণ অন্তত আপনি আমাকে দেখাবেন? এই শেষ অনুরোধটা রাখুন… নাহলে যদি কোনোদিন মরে যাই, আমার আত্মাটাও শান্তি পাবে না! কেন এত কষ্ট হয় আমার?পাথর হওয়ার শক্তিটুকুও যে পাচ্ছি না!”

ইউভান হাঁটু গেঁড়ে বসলো রমণীর পদতলে।রমণীর পড়নের টপ উদরদেশ থেকে সরিয়ে, অতিশয়ে রোজের কোমরে চন্দ্রহার পড়িয়ে দিলো'(কোমরবন্ধনী’)। হীরের সূক্ষ্ম কারুকাজে গাঁথা রমণীর নমনীয় তনু স্পর্শ অসহ্য সুড়সুড়ি আর নেশাতুর আবেশে রোজের শরীর ধনুকের মতো বেঁকে উঠলো।

​”সামলাতে পারবি তো ? “

ইউভানের এহন কাজে ​রোজের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ, অস্ফুট স্বরে কাঁপাকাঁপা ঠোঁটে প্রশ্ন করল,
“সামলাতে বলছেন কী এটা? খুব মূল্যবান কিছু বুঝি? কেন পরালেন আমায়?”

​ “অবসিডিয়ান শিরা!”

​রোজের চোখ বিস্ময়ে ছানাবড়া হয়ে গেলো।এগুলো তো সেই হীরেগুলো। রোজের চিনতে অসুবিধে হলো না।

​”আমাকে কেন দিলেন? আমাকে তো ছেড়েই দিবেন।ভুলে গেলেন?? এগুলো নিশ্চয়ই অনেক মূল্যবান আপনার কাছে?”

“নট মোর দ্যান ইয়্যাু!”

কি??আপনার এনিমিস রা যদি জানতে পারে তখন??”

“জানবে না!”_ইউভানের মৌনতা যেনো হাজারো তপ্ত আগ্নেয়গিরির চেয়েও ভয়ঙ্কর। রোজের সিক্ত উদরের কিনারা ধরে তপ্ত নিশ্বাসে ওষ্ঠাধরের উষ্ণতা মিশিয়ে ক্রমাম্বয়ে ওপরের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো। রোজ সেই স্পর্শে যন্ত্রণা নাকি সুখের তৃপ্তি পাচ্ছে, তা বুঝে ওঠার আগেই এক প্রবল শিহরণে দূরে সরে যেতে চাইলো। কিন্তু ইউভান,
​এক প্রবল ঝটকায় রোজকে পেছন থেকে নিজের বলিষ্ঠ বাহুবন্ধনে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো। রোজের পিঠ আছড়ে পড়লো ইউভানের প্রশস্ত ব’ক্ষে। ইউভান তার এক হাত দিয়ে রোজের জানু অবধি লম্বা রেশমী চুলগুলো একপাশে সরিয়ে দিয়ে উ’ন্মুক্ত করে দিলো শ্বেতশুভ্র ঘাড়ের মায়াবী খাঁজ। সেখানে নিজের তপ্ত ওষ্ঠাধর নামিয়ে এক গভীর, নেশাতুর চুম্বন অঙ্কন করতেই
​রোজের অক্ষিপল্লব এক তীব্র আবেশে বুজে এলো। তার চোখের কোণ বেয়ে ফোঁটা ফোটাঁ তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে নামলো গলদেশ বেয়ে।

​”I hate myself… because you are my Achilles’ heel, Dark!.”

রোজ ঘুড়ে দাঁড়ালো ইউভানের দিকে।ঘোর লাগা দৃষ্টিতে চেপে ধরলো ইউভানের দুটো বুতোম খোলা শার্টের কলার।রমণীর নিভৃতে অন্তরাত্মটা আজ জ্বলাভূত।গলায় আটকানো কথা গুলো বড্ড পীড়াদায়ক।

“বন্ধ করুন তামাশা।আর কতো যন্ত্রণা দিবেন আমায়।ঐ মহিলাকে বিয়ে করবেন না দয়া করে।খোদাও তো শিরক অপছন্দ করেন।আমরা তো সেই খোদাররই সৃষ্টি,আমি কি করে সইবো??”

ইউভান রোজকে ছেড়ে দিয়ে যা বললো তা শুনে রমণীর শরীরটা হেলে উঠলো।শক্ত করে চেপে ধরলো রোজের চোয়াল।

“ইট’স নট পসিবল!”

রোজ নিজের সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে, ইউভানের গালে
​সজোরে এক থাপ্পড় কষিয়ে দিলো!পরক্ষণেই ইউভানের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো, নাসারন্ধ্র স্ফীত ক্রোধে।

​রোজের ভেতরকার সাময়িক তেজ মুহূর্তেই অসহ্য যন্ত্রণায় রূপ নিলো। ফুঁপিয়ে উঠলো বিষাদীনি তার মনে হলো এই আঘাতটা সামনের পুরুষটাকে নয়, বরং নিজের গাল আর নিয়তিকেই করা উচিত ছিলো। হাতদুটো থরথর করে কাঁপছে। সমুদ্রের ঢেউগুলো যেনো দূর থেকে বেলাভূমিতে আছড়ে পড়ে বারবার পরিহাস করছিলো রোজকে। তার তো পাথর হওয়ার কথা ছিলো, তবে এই অগ্নিকুণ্ড সে কোথায় লুকোবে? এই নির্দয়, পাষাণ পুরুষের জন্য নিজের হৃদয়কে পুড়িয়ে ছাই করা কি চরম ধৃষ্টতা নয়?
​রোজ তার ভিজে যাওয়া অক্ষিপল্লব মুছে এক উ’ন্মত্ত আবেশে প্রকোষ্ঠ থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলো। এক পা ফেলার আগেই ইউভান এক ক্ষিপ্ত সন্ডের ন্যায় গর্জে উঠে জাপটে ধরলো রমণীর তাম্বী শরীর।

​”কোথায় যাচ্ছিস তুই? তোকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছি আমি?”
​রোজ তখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য।ইউভানের কলার ধরে সজোরে ঝাঁকাতে লাগলো।
​”আপনি আসলেই একটা অমানুষ! মরে যাব আমি! আপনি তো এটাই চান,
আমি যেনো আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করি, তাই না?”

​ইউভান ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ হলো। তার আঙুলগুলো রোজের গাল বেয়ে নামা তপ্ত অশ্রুগুলো ঘষে মুছে দিতে লাগলো।

​”ডোন্ট ক্রাই! একবার বলেছি না কাঁদবি না!বলেছি না ইয়্যাুর ক্রাইয়িং ডিস্টার্ব মি।”

​এক ঝটকায় ইউভান রোজকে দেওয়ালে চেপে ধরলো। অন্ধকারের মাঝে প্রকোষ্ঠ হাত চলে গেলো সুইচবোর্ডের দিকে। একটা যান্ত্রিক শব্দে জ্বলে উঠলো সেলারের টিমটিমে হলদে আলো। সেই আলোয় মুহূর্তেই অন্ধকার অপসৃত হলো, আর স্পষ্ট হয়ে উঠলো সেই প্রকোষ্ঠের বিভীষি*কাময় রূপ।
​রোজের ঝাপসা দৃষ্টি হঠাৎ স্থির হলো সামনের দেওয়ালে। সেখানে এক বিশাল তৈলচিত্র__রুশান আলবার্টের। তবে পাশে আরও কিছু ছবি দেখে নেত্রপল্লবের সামনে পুরো পৃথিবীটা যেনো ঘুরতে লাগলো। যন্ত্রণার আতিশয্য রোজের শরীরটা নিস্তেজ হয়ে এলো। এক মুহূর্তের জন্য দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে অবশতায় এলিয়ে পড়লো ইউভানের চওড়া বুকের ওপর।

তৎক্ষনাৎ ইউভান হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়লো সেই মার্বেল মেঝের ওপর। নিজের বলিষ্ঠ উরুর উপর তুলে নিলো রোজের অবশ শরীরটা। এক হাতে রোজের ঘাড় আগলে ধরে অন্য হাতে ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া গাল দুটো আলতো করে স্পর্শ করলো।পরাজিত সৈন্যের ন্যায় আওড়ালো।
​”রো…রোজ! এই জান! তুই তো আমার সব… তুই কি একবারও তা বুঝতে পারিস না? তোকে কষ্ট দিয়ে আমি নিজে ভালো থাকতে পারি বল?ইয়োর পেইন ইজ হার্টিং মি অলসো! স্পিক আউট রে জান।. কথা বল আমার সাথে! ড্যাময়েইট…”

রোজ থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তপ্ত ওষ্ঠাধর রোজের হিমশীতল ললাটে সজোরে চেপে চুমু খেলো। ​অতঃপর, এক নিবিড় আবেশে ইউভান রোজকে নিজের দুই বাহুতে পাঁজাকোলা করে তুলে নিলো।

চলবে??

একটু কাতরা দিয়ে হিন্ট দিলাম।কারণ সামনে বড়সড় কিছুমিছু আসবে।আর হ্যাঁ গল্পতে পরকিয়া রিলেটেড কিছু দেখেছেন এখনো পর্যন্ত??তাহলে??বিতর্কতা সৃষ্টি করে গল্পের মান ক্ষুন্ন করবেন না দয়া করে।ইট’স কলড যাস্ট অ্যা মিস্টেক। মেইন লিড রিকরোজ আগেই বলা ছিলো।

অনেকদিন পর,আশা করছি রেসপন্স করবেন।লিখার আগ্রহ পাই ভালো রেসপন্স এলে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply