Golpo Love or hate romantic golpo

Love or Hate পর্ব ৩৬


Love_or_Hate

|#পর্ব_৩৬|

ইভেলিনা_তূর্জ

⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে

রোজের বলা কন্ঠস্বরটা ইউভানের পুরুষালি গহ্বরে বিষাক্ত তীরের মতো বিঁধলো।পশ্চিমা সংস্কৃতির অবাধ বিচরণক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা নারী-পুরুষের বহুবার বিবাহের ধারাটা হয়তো একটা সাধারণ সমাজব্যাধি মাত্র, ফরেইন কালচারে সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে সময় লাগে না। রোজের ভাস্যমতে বিশেষ করে ইউভানদের মতো মাফিয়া সাম্রাজ্যের অধিপতিদের কাছে ‘বিয়ের মতো পবিত্র সম্পর্কের কোনো মূল্য নেই নিশ্চয়ই!

ইউভানকে রোজ ঘৃণা করে, দানব পুরুষটার স্পর্শ থেকে মুক্তি চায় এ কথাটা তো সত্য।তবে রোজ তো ফরেইন কালচারে বেড়ে উঠা মেয়ে না তাই হয়তো-বা ‘ডিভোর্স’ বা ‘বিচ্ছেদ’ শব্দটা রোজের মতো একজন বাঙালি ললনার কাছে অদৃশ্য হাতুড়ির আঘাতের মতো।তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিলো না কোনোকালেই তাও কিসের এতো টানাপোড়ন!

শাওয়ারের তপ্ত জল ধারায় রোজের লম্বা সিক্ত কেশরাশি মেয়েটার ললাটে অবাধ্যের মতো লেপ্টে আছে। নিভু নিভু দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো ব্রিটিশদের মতো দেখতে ড্যানিশ পুরুষ ইউভানের ফর্সা অবয়বের দিকে।পুরুষটার ঠোঁটের নিচে একটা কালো তিলক আছে ঠিক সেই অংশে যেই অংশে রোজেরও তিলক বিদ্যামান।রোজ হেঁচকি দিয়ে উঠলো, বাঁহাতে ঝর্না বন্ধ করে দূরে ঠেলে দিলো ইউভানকে।থরথর করে কাঁপা হাতে শাড়ির আঁচলটা কাঁধে জড়িয়ে আক্রোশ ভরা চাহনিতে ক্রন্দনরত অবস্থাতেই হেসে তিক্ততা ছুঁড়লো।

“ঠিক যতটা সুদর্শন আপনি ঠিক ততোটাই কুৎসিত আপনার অন্তরটা!”

​ইউভান কোনো বাক্যব্যয় করলো না। রগ ফুলে ওঠা বলিষ্ঠ হাতটা বিদ্যুৎবেগে এগিয়ে গিয়ে রোজের মুখাবয়ব সজোরে চেপে ধরলো। রোজের হাতের তালুতে হাত রেখে দেয়ালে ঘষতে লাগলো।ইউভান তার সমস্ত শরীর দিয়ে রোজকে শাওয়ারের দেয়ালের সাথে পিষ্ট করেই মেয়েটার গোলাপের পাপড়ির ন্যায় তরতাজা অঁধরের নিজের শুষ্ক ওষ্ঠা মিলিয়ে দিলো।ভারী ঝংকার হাড়কাপুঁনির ওষ্ঠাধর ঘর্ষনের শব্দ হলো।রোজ অপর হাত শাড়ি খামচে ধরে মুষ্টিবদ্ধ করে সহ্য করে নিলো নির্দয় মাফিয়াটার তৃষ্ণার্থ ওষ্ঠের ক্ষিপ্র স্বাদ।
বড্ড নিষ্ঠুর সেই তৃষ্ণা!রোজ জ্বরের ঘোরে গোঙিয়ে উঠে দেয়াল ঘেষে পড়ে যেতে নিলে ইউভান রোজের উন্মুক্ত পিঠ চেপে ধরে ফেলে।একটানে রোজের ব্লাউজের ফিতেটা খুলে দিতেই রোজ কেঁপে উঠে ইউভানের শক্ত কাঁধটায় নখ বসিয়ে জোরে চেপে ধরতেই ইউভান রোজের অঁধর ছেড়ে দিয়ে জিভ দিয়ে ওষ্ঠ ভিজালো।ভিজে চ্যাট চ্যাট হওয়া রোজের ওষ্ঠাধরও তর্জুনী দিয়ে মুছে দিলো ইউভান।

“আমার থেকে বাঁচতে চাইলে শাড়িটা চেঞ্জ করে নে!হার আপ!,একচুয়েলি ইউ লুক লাইক ডেজার্ট!ছিঁড়ে খেয়ে নিবো একদম পরে আফসোস করবি!”

ইউভান দু’কদম পিছাতে গিয়ে দেখলো রোজের হাত তার গলদেশের চেইন টেনে রেখেছে।মেয়েটার দাঁড়ানোর সক্ষমতা নেই।ইউভানের নির্লজ্জ বলিষ্ঠ হাতজোড়া বাথটাবের উপর থেকে ট্রাউজারটা নিয়ে কোমড়ের টাওয়ালটা খোলে ন*গ্ন করে দিলো পুরুষালী দেহটা ততক্ষণাৎ রোজ নেত্রপল্লব ঘুরিয়ে নিলো অন্যদিকে।ইউভান ক্রোর হাসলো।

“ইফ ইউ ওয়ান্ট টু সি,ইউ ক্যান সি ই’ট!বিলিভ মি ডার্ক কুৎসিত মন টনের কথাও ভুলে যাবি,দেখতে পারিস!
লুক! লুক! লুক!__গায়ে একটা টি-শার্ট আর ট্রাউজার জড়িয়ে রোজের ললাটের পরিবর্তে পেটে হাত রাখলো ইউভান।

“জ্বর তো ভালোই এসেছে!ঔষধ খেতে হবে!শাড়ি কি তুই চেঞ্জ করবি নাকি আমি করে দিবো??সহজ কাজটা আমি করলে তোর জন্যে খুব হার্ড হয়ে যাবে!”

রোজের রন্দ্রে যেনো ইউভানের বলা কোনো বাক্যেই আর প্রতিধ্বনি হলোনা।ঢলে পড়তে পড়তে আক্রোশ মিশিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো।

“সাট আপ!যাস্ট সাট আপ!আমার জীবনটা কেনো নষ্ট করলেন আপনি??চলে তো গিয়েছিলাম কেনো ফিরিয়ে আনলেন?জীবনটাকে তামাশা বানিয়ে ছাড়লেন একদম, একটা হার্টলেস মানুষ আপনি!”

“মানুষ?? “

“হুম হার্টলেস”
রোজ হাসলো।__” এক ধ্বংসস্তুপে গড়া জীবনে শুধু যন্ত্রনাই পেয়ে গেলাম, ভালোবেসে সংসার করা আর হলো না আমার!”

ইউভান পিয়ার্সিং করা ভ্রু উপর নিচ করলো__”বয়স কতো হলো তোর?১৮+?only eighteen!কি দেখেছিস জীবনের?,যন্ত্রনা কাকে বলে বুঝিস??!মাত্র আঠারোতে এসেই ক্লান্তি ধরে গেলো সুইটহার্ট!বাকিটা জীবনের পথ পারি দিবি কি করে?”

“মেরে তো ফেলছেন না!মেরে ল্যাটা চুকিয়ে দিলে তো আর পারি দেয়ার উটকো ঝামেলা ছিলো না!”

“না প্রানেশ্বরী তো!… কি করে মারি বল!”

কথাটা শুনে রোজ পিছাতে লাগলো।শরীরটা যেনো কেমন করে জমে যাচ্ছে, পুরো সর্বাঙ্গ বরফখন্ডের ন্যায় জমে উঠেছে, ইউভানের প্রশস্তন্যায় চওড়া বুকের উষ্ণ আর্দ্রতায় সর্বাঙ্গ রি রি করে উঠলো।কেমন যেনো গাঁ জ্বলানো ভাব__
“এসব গাঁ জ্বালানো উদ্ভট নাম যেনো আপনার মুখ থেকে আর বের না হয়!”

“আমার বয়স কতো জানিস? তাও তো জানিস না!”

“প্রয়োজন নেই জানার আর।”

“৩০+ তোর থেকে গুনে গুনে এক যুগ বড়!এ বয়সে ডজন খানেক বাচ্চার বাবা হয় পুরুষরা, আর এদিকে আরেকটা বিয়ে করতে হচ্ছে আমায়!”

রোজ নাক ছিটকালো।তাতে নিষ্ঠুর মাফিয়াটা কব্জি টেনে ধরলো রোজের, কেঁদে লাল হলেও যে কোনো রমণীকে এতোটা আকর্ষণীয় লাগতে পারে ইউভান রোজকে না দেখলে কোনোদিনও জানতই না।

“স্বামীর অধিকার না দেয়া নারী আবার সংসারের চিন্তাও করে দেখছি।”

“কেনো?? আর চার পাঁচটা নারীর মতো আমিও তো একটা সংসার ডিজার্ভ করি একটা সাধারণ জীবন।বরং আপনি তা কখনোই দিতে পারতেন না।আপনার আর আমার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। আসমান জমিনের।”

“হার্টপেইনের সুইচ অন করিস না এর ফল তোর জন্যে মঙ্গলজনক হবে ডার্ক রোজ!”

রোজ হেলিয়ে উঠে নিষ্প্রাণ গলায় মৃদু শীৎকার দিলো।ভিতরটা দহনে জ্ব*লাভূত।_”নিজের সন্তানকে কি জনাব দিতেন আপনি??তার পরিচয়ও তো সবার সামনে তুলে ধরার সক্ষমতা ছিলো না আপনার!বলতে পারতেন যে আপনিও কারোর বাবা??নাকি বলতেন আমি আপনার দাসি,রক্ষিতা।টাকার বিনিময়ে কিনে এনেছেন আমাকে?”

বাক্যেউক্তি শেষ করতেই ইউভান রমণীর চুল সরিয়ে স্পর্শ করে চেপে ধরলো গ্রীবাদেশ।

“একটা গল্প শোনাই সুইটহার্ট ? একটা দুষ্টু রাজা আছে যে তার বেগমকে অন্ধকার আর পঙ্কিল জগতের থাবা থেকে রক্ষা করতে যতটুকু পশু হতে হয়, ঠিক ততটুকুই হতে পারে।অমানুষ হতে পারে, অতঃপর পৃথিবীর সবচাইতে নিচ আর নিকৃষ্টতম সত্তা হতেও তিল পরিমাণ কোনো দ্বিধা নেই। রাজাটা ভীষণ খারাপ, অমার্জিত আর পাষাণ… তবে তার বেগম কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ফুল।”

নির্দয় মাফিয়াটা তার আঙুলের অগ্রভাগ রোজের গলার সং*বেদনশীল অংশে রেখে পুনঃরায় বাক্যে খন্ডিত করলো।
“দুষ্টু রাজার বেগমটা পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ফুল।বৃষ্টির শেষ রেশটুকু মেখে শিশিরে ভেজা সদ্য ফুটে থাকা এক স্নিগ্ধ তাজা গোলাপ।”

অতঃপর দু-মেরুর মধ্যেকার দূরত্ব চুকিয়ে রোজকে টেনে আনলো সন্নিকটে।ইউভানের এতো তীক্ষ্ণ মাদকীয় দৃষ্টি যেনো মূহুর্তেই ভস্মীভূত করতে সক্ষম সামনে থাকা লালস্যময়ী রমণীকে।আকষ্মিক মেয়েটার শ্বাসব্রেগ তীব্র হতেই উ’দরের তলদেশে বিহ্বলিত ইউভানের হাতের প্রকান্ড উষ্ণ স্পর্শ অনূভুতি হতেই হৃদপিন্ডের দূর্বার যন্ত্রটা মুচড় দিয়ে শিরশির হলো রোজের।হাজারো বৈদ্যুতিক তরঙ্গ লাবন্যময়ীর অবশ স্নায়ুগুলোকে অসাড় করে দিয়ে পাষাণহৃদয় মাফিয়াটা আরও গভীর উষ্ণতা মিশিয়ে রমণীর মুখাবয়বের সন্নিকটে এসে তীক্ষ্ণ মাদকীয় স্বরে ফিসফিসালো-
“আই থিংঙ্ক ইট’স বেটার দ্যান এনিথিং,,ফিল লাইক হেভেন! “

লালস্যময়ী বাঁধা দেওয়ার শক্তিটুকুও হারিয়ে বসে ঘোরের মধ্যে তলিয়ে যেতেই মাফিয়াটা স্পর্শের গভীরতা আরও তিব্র করে রমণীর কানের লতিতে ওষ্ঠাধর ছুঁইয়ে নেশাক্ত স্বরে মেশালো।
“ইজ’নট ই’ট কল’ড স্যাটিসফ্যাকশন হানি??”

হঠাৎ বহিঃরাগত প্রকৃতির উত্তলকরা সমুদ্রের ঢেউগুলো গর্জন করে উঠলো।দ্বীপের ঘন জঙ্গলে প্রচন্ড বেগে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে। সেই ঠান্ডা বায়ু অলিন্দনের পর্দা ভেদ করে রুমে প্রবেশ করলো।সূর্য এখনো পশ্চিম আকাশে মিলিয়ে যায় নি অথচ বৈরি আবহাওয়ায় আকাশ ছেয়ে গেলো ঘন মেঘে।পুরো দ্বীপ অন্ধকারে আপ্লূত এখন।

রোজের পুরো শরীর টলোমলো দোদুল্যমান দেখে ইউভান আচমকাই রোজকে কোলে তুলে নিলো।রোজ ধরে ফেললো ইউভানের প্রকষ্ঠ পৃষ্ঠদেশ।রমণীর নমনীয় শরীরটা শুয়ে দিলো মখমলের বেডের উপর।ইউভান উদগ্রীব হয়ে পড়লো তীব্র নেশার।ভিতরের অগত্যা দানবটা জেগে উঠতেই রোজকে আলগা করলো নিজ থেকে।মূহূর্তেই যেনো মস্তিষ্ক ফেঁটে যাবে তীব্র অন্তঃদহন আর মাদকীয় মোহে।পুরুষালী ক্ষিপ্র শ্বাস টেনে, ইউভান বেলকনিতে পিঠ ঠেকিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে ঠোঁটে পুড়ে নিলো।আয়েশী ভঙ্গিতে নিকোটিনে ধোঁয়া উড়াতে লাগলো পকেটে হাত রেখে।

ততক্ষণে রোজ শাড়িটা পরিবর্তন করে শুয়ে পড়লো সেই বেডে।ঠান্ডায় পুরো শরীর কাঁপছে।ইউভানের ধ্বংসাত্মক জরাজীর্ণ অগত্যা অন্তরটা চাইলো একবার তৃপ্তিভরা চাহনিতে পিছন ফিরে দৃষ্টি ফেলতে, ওষ্ঠাধর ছুঁয়ে কা’মড়ে ধরতে রমণীর পুরো সর্বাঙ্গ তবে খিয়ৎকাল খন্ডিত করে বেদিশাহীন ইউভান শুষ্ক ঠোঁটজোড়া নিকোটিনের কালচে আগুনে জ্ব*লাতে লাগলো।অতঃপর ড্রয়ার থেকে ঔষুধ বের করে রোজকে খাওয়াতে চাইলো।রোজ কয়েকবার মাথা নেড়ে জেদ দেখালো যে খাবে না।ইউভান এক প্রকার জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে খায়িয়ে দিলো।ঔষুধ খেয়েই রোজ বুকে ভর দিয়ে বালিশে মুখ গুঁজলো।অনবরত নাক টানার ফিসফাস শব্দ।

“রুম থেকে বেরিয়ে যান আপনি!সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য হচ্ছে না আমার, আর না আপনাকে সহ্য হয়।ইচ্ছে করে এমন করেন তাই না? আমার যা অপছন্দ আপনি তা বেশি বেশি করে করেন।”

ইউভান অঁধর কামড়িয়ে ক্রোর হাসলো।অক্ষীপল লালবর্ণ ধারণ করেছে,রোজের ভেজা চুলে শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষলো।__”Owhh Fu*ck!এই বান্দী তুই কি আমার থেকে মুক্তি পেলে শান্তি পাবি??ঠিক কতটুকু শান্তি তা পরিমাপ করে দেখার ইচ্ছে জেগেছে!”

ইউভান মেঝেতে হাঁটু ভর দিয়ে বসলো।__”বিয়েতে কাবিন কতো ছিলো??জানিস??দশকোটি।টেবিলের উপর একটা বক্স রাখা আছে তোকে তো কিছুই দেয়া হলো না সেদিন রুমে গিয়ে মেইলি জিনিসপত্রগুলোও ভাংচুর করলি,এক্সপেন্সিভ চুরিগুলোর পিন্ডি চটকালি।নে টেবিলের উপর বক্সটাতে একটা ডায়মন্ড নেকলেস আছে পড়ে নিস।একেবারে কাবিনের টাকার থেকে কয়েকগুন উসুল হয়ে যাবে!”

বেডের পাশে ছোট টেবিলটার ওপর ল্যাম্পলাইটের টিমটিমে হলদেটে আলোয় রাখা একটা নেভি-ব্লু বক্স। সেখানে জ্বলজ্বল করছে বিশ্বখ্যাত ডিজাইনার ওয়ালেস চ্যান-এর অসামান্য সৃষ্টি “এ হেরিটেজ ইন ব্লুম” [A Heritage in Bloom]প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার[২১০০+ কোটি] মূল্যের বিরল হিরের নেকলেসটা যা ইউভান রোজের জন্য নিয়ে এসেছে।

ইউভান উঠে দাঁড়ালো।বেড থেকে রোজের ফিসফাস নাক টানার শব্দ রন্দ্রে ভেসে আসতেই পুনঃরায় বলল__”আমার দেয়া যেই রিং টা নেকে ঝুলিয়ে রেখেছিস ওটা আলবার্ট বংশের ওয়াইফদের আভিজাত্যের প্রতিক।বংশ পরাম্পরায় সব বউরা এটা পড়ে এসেছে।ইউ নো ডার্ক আলবার্ট বংশের নিয়ম অনুযায়ী, এই রিংটা কেবল তারাই পরার অধিকার পায় যারা আলবার্ট পরিবারের রক্ত আর সম্মানের সাথে আজীবনের জন্য জড়িয়ে যায়। এখন এটা খুলে ফেলবি নাকি পরে থাকবি ইট’স টোটালি ডিপেন্ড অন ইউ।”

ইউভান রুম ত্যাগ করার পরপরই রোজ বালিশটা টেনে এনে মাথার উপর চেপে ধরলো।বাহিরে প্রবল বেগে বাতাসের তীব্র শব্দ আর বিদ্যুৎ কম্পনের ঝটকানি হানা দিলো। রোজ একটু ঘুমোনোর চেষ্টা করলো,মাথাটা ব্যথায় টনটন করছে।নেত্রপল্লব সহ ঠোঁটজোড়া লাল হয়ে ফুলে ফেঁপে গিয়েছে।

পঞ্চমতলায় রোজের রুমের অপরপ্রান্তে পাশাপাশি দুটো রুমে একটায় আছে হায়া আরেকটায় রাহা।বেশিক্ষণ জার্নি করলে হায়ার ঘুম পায় ক্লান্ত লাগে তাই রুমে ঢুকেই একটা জমপেশ ঘুম দিয়েছে।আর রাহা অত্যন্ত সন্তর্পণে কক্ষের ভারী ডোর কিছুটা ফাঁক করে বাইরে মাথা বের করে উঁকি দিলো।দেখলো করিডোরের প্রতিটা বাঁকে আর প্রতি তলায় সুঠামদেহী সশস্ত্র গার্ডরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো টহল দিচ্ছে। তাদের হাতের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। যদিও এই দুর্ভেদ্য প্রাসাদে রাহার জন্য কোনো নিষেধের দেয়াল নেই, সে চাইলে যেকোনো নিষিদ্ধ প্রকোষ্ঠে অনায়াসে বিচরণ করতে পারে। কারণ, সে মাফিয়া সাম্রাজ্যের দণ্ডমুণ্ডর কর্তা রিক আলবার্টের ওয়ান এন্ড অনলি সিস্টার।
​তবে এই রাজকীয় খাতির আর নিরাপত্তার ঘেরাটোপ রাহার কাছে বরিং মনে হয়।দিন দিন যেনো তার সুনিপুণ ফাইটিং স্কিল আর রণকৌশলগুলো মরিচা ধরা অস্ত্রের মতো অলস পড়ে আছে।

রাতের আঁধার তখন ঘনীভূত হয়ে পৌনে দশটার কাঁটা ছুঁয়েছে। রাহা ডিনার শেষ করে হায়ার কক্ষের দিকে পা বাড়ালো বান্ধবীকে জাগিয়ে তোলার জন্য। দ্বীপে পাঁ রাখার পর থেকে রুম থেকে আর বের হওয়া হয়নি কারোর -ই। সোনালী কেশবতী বাবল টি স্ট্র দিয়ে খেতে খেতে হাঁটচে। হঠাৎ কী ভেবে যেনো গন্তব্য বদলে ফেললো।হায়ার রুমে না গিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দৃপ্ত পায়ে সোজা উঠে এলো ‘দ্যা রয়্যাল বিল্ডিং’-এর রুফটপে। জিন্স প্যান্টের পকেটে সাইলেন্সারযুক্ত রিভলভারটার এক ধরণের শীতল সাহস দিলো।
​রুফটপের বিশাল গ্লাসডোর ঠেলে ভেতরে ঢুকে যেতেই দুজন সশস্ত্র গার্ড এয়ারপিসে হাত দিয়ে রাহাকে বাঁধা দেওয়ার দুঃসাহস দেখালো।চোখের পলকে সামনের গার্ডের বুক বরাবর এক সজোর ধাক্কা দিয়ে ঝড়ের বেগে ভেতরে প্রবেশ করলো রাহা।

​সামনেই দিগন্তজোড়া আকাশ আর রুফটপের নীল জলরাশির সুইমিং পুল।ঝড় হাওয়া বইছে শুধু। পুলের পাশে রাখা আরামদায়ক সান লাউঞ্জারে কাউকে শুয়ে থাকতে দেখে রাহা সেদিকেই তাকালো।মুহূর্তের ব্যবধানে পকেট থেকে রিভলভারটা বের করে সরাসরি লক্ষ্যভেদে তাক করলো অবয়বের দিকে। ঠিক সেই মুহূর্তে, সান লাউঞ্জারে শুয়ে থাকা অবয়বটি অত্যন্ত ধীরলয়ে নিজের চোখের কালো সানগ্লাসটা খুললো। নিস্পৃহ ভঙ্গিতে পাশের ছোট টেবিলটিতে ওয়াইনের গ্লাসটা নামিয়ে রেখে উঠে দাঁড়ালো।স্বয়ং আদ্রিয়ান। আদ্রিয়ান ভ্রু কুঁচকে রাহার দিকে তাকিয়ে এক চিলতে বিদ্রূপাত্মক হাসি হাসলো।রাহা দু ভ্রু উঁচিয়ে বলল।

“আপনি!

“বন্দুক নামাও, রাহা।”

“আপনি এখানে কি করছেন?”

” তোমার ভাই ইউভান দেখছি তোমাদেরও এখানে সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।দ্যা’টস রিয়েলি গ্রেট!অবশ্য তোমার থাকাটা তো প্রয়োজন ছিলোই”

​রাহার রাগে ফুঁসিয়ে উঠে, বন্দুকের নলটা আদ্রিয়ানের কপাল বরাবর স্থির রাখলো।

“ইউ ব্লাডি ডিজাস্টার! ফা’কিং বিচ অ্যাসহোলস!”

আদ্রিয়ানের শান্ত অক্ষীপলের কালো মণি দুটো এক মুহূর্তের জন্য জ্বলে উঠলো। এক পা এগিয়ে এসে রাহার সামনে দাঁড়ালো। এক ধরণের গাম্ভীর্য নিয়ে বললো।

“নির্ঘাত আমি নারীদের গায়ে হাত তুলি না, নাহলে আমাকে গালি দেওয়ার পর ওই মুখটা আর মুখের জায়গায় রাখতাম না। নিজের সীমা অতিক্রম করো না মেয়ে!”

আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কুটিল হাসির রেখা। যার চোখের ভাষায় প্রতিটি পদক্ষেপ যেনো এক একটি সুপরিকল্পিত চাল। রাহার চোখের অগ্নিবৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত শান্ত স্বরে প্রশ্ন করলো।

“তা এখানে কেন এসেছো জানো তো?”

“কেনো?”

“একী! ইউভান বলেনি বুঝি?”

​আদ্রিয়ানের এমন বাঁকা কথা রাহার মনে এক মুহূর্তের জন্য সন্দেহের মেঘ জমিয়ে দিলো।তাই তো ইউভান তো কখনো এই দ্বীপে তাকে নিয়ে আসে নি।এ্যাশ আলবার্টও জানতেন না ইউভানের ভোলচরে যাতায়াত ছিলো।তাহলে হঠাৎ এমন কি হলো??প্রশ্নের উত্তর নিজের ভাই থেকে নিবে তা ভেবেই সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতে গিয়েও কী ভেবে যেনো আবার ঘুরে দাঁড়ালো আদ্রিয়ানের দিকে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানের চোখের গভীরে তাকিয়ে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বললো।

“আমি একটা জিনিস নিয়ে ড্যাম শিওর!আপনি আমার গ্র্যানিকে মারেন-নি!আই মিন লায়ন লিডার।”

“তাই? বেশ বুদ্ধি তো তোমার মাথায়!বেশি বেশি কাজু বাদাম খেয়ো।”

“গ্র্যানির মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি আপনাদের ‘শাহ গ্রুপ’-এর হয়েছে, তাই না?আমি আমাদের কোম্পানির প্রত্যেকটা প্রজেক্ট টাচ আপ করেছিলাম। বিজনেস ডিলের সবচেয়ে বড় গ্রেট এমাউন্ট কয়েকশত কোটি টাকার লস তো আপনারই হয়েছে! তবে কেনো মারবেন আপনি? যাই হউক সত্যিটা তো একদিন বের হবেই তাই না।”

​আদ্রিয়ান কুটিল হাসলো!মেয়েটা দেখছি ঠিক ইউভানের মতোই চতূর মস্তিষ্কের। __”তোমার কী মনে হয়? আলবার্ট ম্যানশনের নিশ্ছিদ্র সশস্ত্র প্রহরা ভেদ করে হুট করে লায়ন সৈন্যদের অ্যাটাক দেওয়াটা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য?ইজ ইট বিলিভেবল??”

​আদ্রিয়ানের ইঙ্গিতবাহী কথাগুলো রাহার মস্তিষ্কে যেনো হাতুড়ির মতো ঘাঁ দিলো। পুরো চিন্তাধারা ওলটপালট হয়ে গেলো। হত্যার রহস্য যতটা সহজ ভাবা হয়েছিলো, তার চেয়ে অনেক বেশি অন্ধকার আর গভীর। নিজের ভেতরের অস্থিরতা আর আদ্রিয়ানের যুক্তির সামনে এক মুহূর্তের জন্য নিঃসাড় হয়ে পড়লো।​মেয়েটা আর কথা বাড়ানোর প্রয়োজন বোধ করলো না। হাতের সাইলেন্সারযুক্ত রিভলভারটা রুফটপের মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে দিলো।চাপা ক্রোধ বুকে চেপে দ্রুত পদক্ষেপে রুফটপ ছেড়ে বেরিয়ে গেলো।


নিশুতি রাতের স্তব্ধতা খান খান করে দিয়ে রোজের কক্ষের দরজায় সজোর করাঘাত হলো, তখন ঘড়ির কাঁটা দাঁড়িয়েছে মাঝরাতের লগ্নে। জ্বরের ঘোরে আচ্ছন্ন রোজ ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো।অবশ শরীরে তখনো কম্পন, কিন্তু দরজায় কর্কশ শব্দ মেয়েটাকে এক অজানা আশঙ্কায় বিছানা ছাড়তে বাধ্য করলো।ইউভান চলে যাওয়ার পর কখন ঘুমিয়েছিলো ঠিক মনে নেই।দরজার ওপাড়ে নিশ্চয়ই ইউভান হবে না,লোকটা হলে কি আর কড়াঘাত করতো!
​ধীর পায়ে দরজার কাছে গিয়ে পাল্লাটা খুলতেই নজরে এলো দুজন কৃষ্ণকায় বর্মধারী গার্ড। তাদের অবয়বে কেবল যান্ত্রিক আদেশের প্রতিফলন।কোনো অনুমতি না নিয়েই কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করলো। হাতে ধরা একটা বিশালাকার ট্রলি, যাতে অত্যন্ত সযত্নে রাখা হয়েছে এক রাজকীয় পরিচ্ছদ একটা শুভ্র ‘ভিক্টোরিয়ান বল গাউন’
চাঁদের জোছনা দিয়ে বোনা মায়াজালের মতো অপূর্ব। কারুকাজ করা ‘লেস এমব্রয়ডারি’ আর ‘সিল্ক সাটিন’।রোজ বুঝলো এটা ‘প্যানিয়ার’ যুক্ত গাউন।’স্কয়ার নেকলাইন’ আর ‘ক্রিস্টাল বিডিং’-এর দ্যুতি চকচকে।
​রোজ নিস্পৃহ নয়নে তাকিয়ে রইলো শুভ্রতার দিকে।

গার্ডরা গাউনটা একটা স্ট্যান্ডে ঝুলিয়ে দিয়ে কর্কশ স্বরে জানিয়ে দিলো কাল এটা পড়ার জন্যে। তবে রোজ দরজার বাহিরে গিয়ে দাঁড়ালো। তবে অপ্রত্যশিতভাবে তার চক্ষু ঝাঁকিয়ে উঠলো তার কক্ষ থেকে দূরত্ব বজায় রাখায় পুরুষালীর অবয়বটা দেখে।আদ্রিয়ান হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি যে রোজ এভাবে কক্ষের বাইরে বেরিয়ে আসবে। মুহূর্তের জন্য আদ্রিয়ানের দৃষ্টিতে এক প্রগাঢ় অনুশোচনার ছায়া ঘনীভূত হলো। পকেট থেকে হাত সরিয়ে সে মন্থর পায়ে এগিয়ে এলো এবং এক অস্বাভাবিক নিস্তব্ধতা চিরে একটি অপ্রত্যাশিত বাক্যে ছুঁড়ে দিলো।

“সরি…!খুব করে সরি!ঠিক ততটুকু সরি যতটুকু ক্ষমার অযোগ্য ব্যক্তির জন্যে প্রযোজ্যে!”

রোজের বাক্যস্ফূর্তির নূন্যতম সুযোগটুকু হরণ করে আদ্রিয়ান পুনরায় বলতে শুরু করলো।
“কোনো প্রশ্ন করো না রোজ।কিছু জানতেও চেয়ো না প্লিজ!”

সারাদিন কেবল এটুকু ভেবেই দগ্ধ হয়েছি যে তোমার সম্মুখে দাঁড়াবো কোন স্পর্ধায়! তুমি কি আমার প্রতি প্রলয়ংকরী মনঃক্ষুণ্ন?সেদিন সত্যিই পরিস্থিতি হাতের বাহিরে ছিলো।তোমাকে বাঁচাতে আমাকে ওটুকু করতেই হতো।ক্ষমা করবে না আমায়??চাইলে মারতে পারো!”

রোজ হতবিহ্বল হয়ে দু-পাঁ পিছালো।এতো করে প্রার্থনা করার পরও লোকটা এখানে চলে এলো।রোজ দেয়ালে হাত রাখলো।
“ক্ষমা??আমি আপনার উপর মনঃক্ষুণ্ন কেনো হতে যাবো??আমি বরাবরই আপনার উপর কৃতজ্ঞ ব্যাস্!উল্টো আমার মতো হতভাগীর জন্যে আপনার মূল্যেবান সময় নষ্ট হয়েছে!আপনি কে কি পরিচয় তা দিয়ে কি আসে যায় বলুন।আপনার প্রতি এই রোজের এক আকাশসম পরিমাণ কৃতজ্ঞতা।”

রোজের মুখে ‘কৃতজ্ঞতা’ শব্দটা আদ্রিয়ানের দম্ভী পুরুষালী হৃদয়ে যেনো কালকূটের মতো বিঁধলো। দ্রুতপদে রোজের সন্নিকটে এসে এক রুদ্ধ আক্রোশে মৃদু হুঙ্কার দিয়ে উঠলো
“কৃতজ্ঞতা?? তোমার কৃতজ্ঞতা চেয়েছি আমি??”

রোজ আঁতকে উঠে পিছিয়ে গেলো।রোজের ভারাক্রান্ত দেহ দেখে আদ্রিয়ান নিজ ঘাড়ে হাত পিষে নিয়ন্ত্রণ আনলো।

“রোজ…রেড রোজ!মরিচীকা হয়ে যেও না প্লিজ!যাস্ট লিস্টে টু মি।তুমি যা বলবে ঠিক যেভাবে বলবে তা হবে!আমি করবো।ড্রেসটা পড়ে নিও কেমন!”

আদ্রিয়ান স্লান হেঁসে হাত বাড়িয়ে রোজকে রুমের ভেতর প্রবেশ করতে বললো।রোজের ছোট্ট মস্তিষ্কে সব কিছু উলোট পালট বজ্রাঘাত করতে লাগলো।হুট করেই উদগ্রীব ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করে বসলো।

“আনান কোথায়!আমাকে নিয়ে চলুন ওর কাছে।নিয়ে এসেছেন তাই না?”

“না!”

“কেনো??”

“আবরারের কাছে তুরস্কে!এখানে আনানকে কিভাবে নিয়ে আসি বলো!রাত টা পার হউক সব কিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে!তুমি যা চাও তা করবো!এখন গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।আর হ্যাঁ এখানে কেউ তোমাকে কিছুই বলবে না।যেখানে খুশি যেতে পারো।”

আদ্রিয়ানের হেয়ালিভরা কথাগুলো রোজের বোধগম্য হলো না।কি হচ্ছে এখানে??খোদা তাকে পুনঃরায় কোন পরীক্ষার সম্মুখে এনে ফেললেন।রোজ এখনো দাঁড়িয়ে আছে দরজার গাঁ ঘেষে আর আদ্রিয়ান লিফট করে চারতলার বাটন প্রেস করে পুনঃরায় স্লান হাসলো।যেনো বহুদিন পর দহনে একটু প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছে।


ভোরের অস্পষ্ট আলোয় রাহার অবচেতন মন তখনও তন্দ্রাচ্ছন্ন।সকাল সকাল ভুলে বসে আছে যে সে ভোলচর দ্বীপে! নিজের ফার্মহাউসে না! অভ্যাসবশত টুথব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে কখন যে সিঁড়ি বেয়ে রয়্যাল বিল্ডিংয়ের নিচতলার বিশাল হলরুমের সামনে চলে এসেছে, তা তার নিজের কল্পনাতেও ছিলো না। ঘুমের ঘোরে হেঁটে হলরুমের বিশালাকার তোরণ অতিক্রম করলো, তখনই স্বর্ণকেশরীর সামনে উন্মোচিতো হলো আড়ম্বরের দৃশ্য।
​হলরুমের দৃশ্যপটে রাহার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেলো মুহূর্তেই।

হলের ছাদ থেকে ঝুলছে কয়েক হাজার ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি,পুরো হলরুমে রক্ত-লাল মখমল আর কালো রেশমি চাদরে মোড়া।

​হলরুমের একদম কেন্দ্রে, স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করা একটা বিশাল ‘প্রোটোকল বোর্ড’ রাখা হয়েছে। সেখানে যে তথ্যগুলো লিখিত আছে, তা দেখে রাহার মাথা কয়েকশতবার অদৃশ্য ঘুরপাক খেলো ইংরেজিতে অত্যন্ত দম্ভের সাথে উৎকীর্ণ-

​”THE BLOOD COVENANT & ENGAGEMENT CEREMONY”
​”Yuvan Rick Albert & Katrina Klein “

   ​"Adrian Shah volkov & Rose Turjo "

 " ​Damiyan Drak & Inaya Raha Albert "

নিচে একটা ছোট বাক্যে-
“Three Alliances, One Empire -Signed in Shadows, Sealed in Blood.

রাহা হেঁচকি তুলতেই টুথব্রাশটা খসে পড়লো মার্বেল পাথরের মেঝেতে, ইউভান আর ক্যাটরিনার নামটা কোনোমতে হজম করতে পারলেও, আদ্রিয়ানের সাথে রোজের নামটা দেখে মেয়েটার ভ্রু কুঁচকে গেলো ঠিকি কিন্তু তালিকার একদম শেষে নিজের নামের পাশে ‘দামিয়ান’ শব্দটা দেখা মাত্রই রাহার মস্তিষ্কের সমস্ত নিউরন যেনো একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করলো।

” ওহহহহহ নো!দামি ভাই????নাহহহহহ!দামি ভাইয়ের সাথে আমাকে বাসর করতে হবে?? শীট!It’s totally Dangerous & horrible scene!নো! নো! নো!আই কান্ট ইমাজিন!”

“owhh gosh!কেমন ভাই আমার??নিজের বোনকেও বলির পাঠা বানাতে দু’বার ভাবে না!ছ্যাহ্ঃ রিক ব্রো আজ বুঝতে পারলাম ঠিক কিসের জন্যে বউয়ের কাছে পাত্তা পাও না।you deserve it,
সমস্যা তোমার মেশিনে না তোমার মাথায়!”

পড়নের লাল নাইটির কটিটা কাঁধ থেকে আলগা হতেই রাহা টেনে তুলে ফোন কল করে হায়াকে নিচে আসতে বলো।ফোনের মাঝে রাহার কন্ঠহুঙ্কার শুনে হায়া তড়িৎগতিতে নিচে নেমে এলো। রাহার পিছনে এসে দাঁড়াতে ঠোঁট ফাঁক হয়ে গেলো হায়ার।
“কি হয়েছে দোস্ত! “
“দেখছিস না??চোখে কি এলিয়েন পটি করে দিয়েছে নাকি??ওয়াশ করে এসে দেখ!”

হায়া প্রটোকল বোর্ডের দিকে দৃষ্টি দিতেই এক বিশাল হেঁচকি তুললো। তার নজর প্রথমেই গেলো তালিকার শেষ নামের দিকে।অঁধরে আঙুল ঘষে জবান কোনো রকম সামলালো।তাহলে প্রকৃত উদ্দেশ্যে এটাই!একটু গলা খাঁকড়িয়ে হায়া বলল।
“ঠিকি আছে অন্যের সংসারে আগুনে ঘি ঢালতে গেলে এমনি হবে।ভাইকে না বিয়ে করাতে চাস নে এবার মিস্টার দামিয়ানের সাথে এনগেজ’ড হয়ে যা।”
“চুপ করবি তুই। মাথাটা হট করবি না একদম।”
“তুই তো নিজেই অনেক হ’ট মাথা আর কি হ’ট হবে।ঠান্ডা মাথায় গিয়ে রিক ভাইয়ার সাথে কথা বল।”
“কোনো লাভ হবে না!”
“তো করে নিস!তুই তো তোর ভাইয়ের কাছেই থাকতে চেয়েছিলি ইনু।এখন তো আরও সুবিধা হয়ে গেলো।সমস্যা কোথায়!”
“যাস্ট সাট আপ!অনেক প্রব্লেম হায়া, অনেক!মগের মুল্লুক নাকি??এতো সোজা??ইম্পসিবল! নো ওয়ে!অ্যাম সিরিয়াস, বুঝতে পারছিস না!”

​পরক্ষণেই হায়ার হাত ধরে একপ্রকার টেনে নিয়ে রাহা দামিয়ানের রুমের দিকে ধাবিত হলো। রুমে ঢুকে দেখলো দামিয়ান নেই, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই দরজায় দেখা মিললো দামিয়ানের। দামিয়ান ভেতরে ঢুকতেই রাহা বিদ্যুতের বেগে এগিয়ে গিয়ে দামিয়ানের গলার কলার আর গ্রীবাদেশ জাপটে ধরে নিজের দিকে প্রায় নুইয়ে আনলো।
​”horrible scene টা দেখেছো দামি ভাই?”
​দামিয়ান ভ্রু কুঁচকিয়ে ঘাড়ে হাত ঘষে ঘষে পায়চারি করতে করতে বললো,
“আমি রিকের সাথেই কথা বলে এলাম।রিক সাফ জানিয়ে দিয়েছে এই টপিকে যে টুঁ শব্দ করবে তাকেই কঠোর শাস্তি পেতে হবে। ইনফ্যাক্ট সিস্টার তোকেও।”

​”কী! তুমি না আমার ভাই!” রাহা অস্ফুটস্বরে বলল।

​দামিয়ান গভীর চিন্তায় মগ্ন। তবে এতোটাও গুরুত্ব রাখলো না।আর না তার অবয়বে কোনো চিন্তার ছাপ ছিলো।পায়চারি থামিয়ে রাহার সামনে দাঁড়ালো,
“হুম সিস… তুই তো আমার সিস্টার,রিক ইট’স নো বেটার।

দামিয়ান শার্টের হাতা গুটিয়ে গলা খাঁকড়ালো“দেখ দেখ, আমার শিরার রক্তগুলোও বলে যে তুই আমার সিস্টার উফফ! কিন্তু রিকের আদেশ অমান্যে আর মুখের উপর কথা কি করে বলতাম।” ​রাহা এবার রাগে হতাশায় ধপ করে দামিয়ানের বেডের ওপর পা তুলে জাঁকিয়ে বসে পড়লো। “কিছু একটা করো দামি ভাই!

রাহা নেত্রপল্লব সরু করে ক্ষ্যাপালো_” আমাকে চিনো তো নাকি? আমাকে বিয়ে করলে বাসর রাতেই তোমার মেশিন কাটিং করে ছাড়বো।”

​”তওবা তওবা সিস্টার!” দামিয়ানে অক্ষীপল কপালে তুললো।মেয়েটা তাকে এভাবে ইনসাল্ট করলো তাও নিজের বান্ধবীর সামনে।
​রাহা ভ্রু কুঁচকে দামিয়ানের সন্নিকটে এলো।
“না না না! তোমাকে নিয়ে ওসব রোমান্টিক সিন আমি ইমাজিনও করতে পারছি না।”
​রাহা হঠাৎ করেই গলার স্বর খাঁকড়ালো চরম হতাশার রাগকে সাইড করে রুমের ভেতর অস্থিরভাবে পায়চারি শুরু করে। হঠাৎ করেই দামিয়ানের কাঁধে হাত রেখে কানে হাত রেখে গুনগুনালো__

       Remix!Remix!Remix!

​”আমি হলাম রুহ- আফজা, তুই হলি প্রেম-ওয়াটার…
লোডশেডিং-এ আমি তোর দিলের ইনভার্টার!
কত এল কত গেল তোর মতো মাওয়ালি…
ভাইজান দেখতে পেলে দেবে তোকে কোপ কোপ কোপ!”

​দামিয়ান হায়া একসঙ্গেই হেঁসে উঠলো। সিরিয়াস ইশ্যুতে রমণীর তাঁরকাটা লিরিক্স শুনে দামিয়ান কপালে হাত দিয়ে বিলাপ করার ভঙ্গিতে বললো,

“আহহহহহহহহহ! তোর ভাইজানই তো এই নাটের গুরু রে পাগলি!”
​পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হায়া তখন হাসতে হাসতে প্রায় শেষ। নিজের মুখ চেপে ধরে সে কতবার যে হাসিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলো তার হিসেব নেই। রাহা হঠাৎ গান থামিয়ে দামিয়ানের দিকে তাকিয়ে তাগাদা দিলো,
“ধ্যাৎ! পরের লিরিক্সটা গাও তো!মুড রিফ্রেশ করতে হবে!”
​দামিয়ান হাত তুলে আত্মসমর্পণ করলো, “পারি না আমি… তোর মতো এমন ট্যালেন্ট আমার নেই সিস্টার!”
​”ধ্যাৎ! সবকটাই অপদার্থ!”
রাহা রাগে গজগজ করতে করতে বললো।রাহার উত্তপ্ত মস্তিস্কে হুট করেই বুদ্ধির বিদ্যুৎ খেলে গেলো। অগ্নিশর্মা চেহারাটা মুহূর্তেই বদলে গিয়ে এক কুটিল প্রশান্তিতে রূপ নিলো।ঠোঁটের কামড়িয়ে এক চিলতে হাসি হেসে ঝুলিয়ে বেডের বসে এক পায়ের ওপর অন্য পা তুলে বসলো।
​পার্শ্ববর্তী ক্যাবিনেট থেকে ওয়াইনের বোতলটা তুলে নিয়ে টলটলে তরল ঢেলে নিলো গ্লাসে।পুনঃরায় ঠোঁট দাঁত দিয়ে কামড়ে হেসে বললো।
​ “সোজা আঙুলে যখন ঘি উঠবেনা,ভাবছি আঙুলটা একটু বাঁকা করে দেখবো। একটা ত্যাড়া রাস্তা আমার মাথায় আছে… ওই যে কালো জাদু বংশের মেয়েটা আছে না?”
​রাহার এই আচমকা কথা শুনে হায়া ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। বিস্ময়ভরা আখিঁপল্লব উঁচিয়ে বলল-
​ “কে? রোজ? তুই কি রোজের থেকে সাহায্য নেওয়ার কথা ভাবছিস নাকি?”

“ওহ শীট!After all she is my brother wife!প্রব্লেম কোথায়।ওকে দিয়েই রিক ব্রো এর সাথে কথা বলিয়ে দেখবো”

“কিন্তু ভাইয়া তো ক্যাটরিনার ওই যে রুশ মাফিয়া মেয়েটাকে বিয়ে করবে!রোজকে কি ছেড়ে দিবে??ওহহহ গড এসব হচ্ছে টা কি!__হায়া ধপ করে রাহার পাশে বসে পড়লো।


সময় সাতটা বেজে পয়তাল্লিশ মিনিট। সন্ধ্যার আঁধার নামতেই রয়্যাল বিল্ডিংয়ের হলরুমটা এক বিভী*ষিকাময় সৌন্দর্যে আপ্লূত। চারপাশের শ্বেতপাথরের মূর্তিগুলো সাজানো।সেই হলরুমের এক কোণে, একটা বিশাল সাদা শ্বেত মূর্তিতে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্পাইডার লিডার_ ইউভান রিক আলবার্ট।
​পরনে আজ একদম নিখুঁত গেটআপ,স্যুট,প্যান্ট।কোর্টের নিচে সাদা শার্টের কলারের নিচে হাত দিয়ে বাঁধা ব্ল্যাক বো-টাই, হুইস্কি গ্লাসে চুমুক দিয়েই হাতের রোলেক্স ঘড়িটায় সময় দেখলো। ঠিক তখনই প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে হলরুমে ঢুকলো আদ্রিয়ান শাহ ভোলকভ।তবে দু প্রতিপক্ষে অগ্নিচোখের মাঝে শারীরিক লড়াইয়ের ল্যাস মাত্র নেই। ইউভানের ঠিক সামনে দিয়ে কোনো কথা না বলে তাকে পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে গেলো আদ্রিয়ান, কিন্তু ইউভান হুট করেই আদ্রিয়ানের সামনে একটা গ্লাস হুইস্কির গ্লাস বাড়িয়ে ধরলো।পৈশাচিক ক্রোর হেসে ঠোঁট গোলাকৃতি করে বললো।

“চেয়ার্স!ভোলকভ।আসলে কি বল তো রিক আলবার্ট নিজের পথে চলে, কারোর বানানো পথে পাঁ বাড়ায় না। ফা*কিং রুলস আমাকে দিয়ে হয় না, রুলস আমি তৈরি করি!”

​আদ্রিয়ান ব্ল্যাক কোর্ট ঝাঁকড়ানি দিয়ে থামলো। ইউভানের হাত থেকে গ্লাসটা ছোঁ মেরে নিয়ে নিলো।
“সেটা তো সময়ই বলে দেবে ইউভান।আগে জাল অতিক্রম কর।আপাতত…ইউর ফা’ক অফ চেয়ার্স!”

ঠিক সেই মুহূর্তেই ড্রেসিং রুম থেকে বের হয়ে এলো রাহা। সামনে তুষারকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রাহা একবার তিতিবিরক্ত হয়ে মুখটা বাঁকালো।তুষার নিজেকে অতিরিক্ত দায়িত্বপরায়ণ মনে করে, আর তার এতো গাম্ভীর্যতায় রাহা বিরক্ত। রাহা আগ বাড়িয়ে কথা না বলে দেখলো,তবে তুষার স্বর্ণকেশরীর ছায়াও মারালো না।হলরুমের উপস্থিত সকলের মাঝে অনুপস্থিত রোজ, ক্যাটরিনা।ক্যাটরিনা রাশিয়ার সিটিতে ছিলো সপ্তাহখানিক ধরে।এখনো ভোলচরে পদাঘাত হয় নি রুশ মাফিয়া লেডির।

ভায়োলিনের টুংটাং শব্দে সন্ধ্যার পরিবেশে হলরুমের বিশাল ওক কাঠের দরজাটা সশব্দে খুলে গেলো, তখন করিডোরের আলো-আঁধারি লাইটিং ছাঁপিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল এক মানবী যার বাদামী কেশ আর হানি ব্রাউন নেত্রপল্লব যেকোনো পুরুষের মনে দাগ কাটতে সম্ভব। ,যার উপস্থিতিতে পুরো হলের রাজকীয়তাও যেনো ম্লান হয়ে এলো। সে আর কেউ না রোজ।উপস্থিতিটা আজ অনেকটা অন্য রকম।যে কেউ দেখলে ভাববে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী অধিপতির যোগ্য সঙ্গিনী।চোখের মাঝে একরাশ ক্লান্তি থাকলেও হাঁটার ভঙ্গিমা যেনো অন্যরকম।

পরনে শুভ্র ‘ভিক্টোরিয়ান বল গাউন’, যার ‘অফ-শোল্ডার’ নেকলাইন দিয়ে ঝরে পড়ছে লাবন্যময়ীর ধবধবে ফর্সা কাঁধের আভা। গাউনের সুক্ষ্ম লেস আর এমব্রয়ডারির কারুকাজে নারী দেহের প্রতিটা ভাঁজ দৃশ্যমান।রংচটা করা চুলে সযত্নে করা একটা উঁচু ‘বান’ আর তাতে গোঁজা একটা ছোট সাদা রিবন।ডাগর অক্ষীপল দুটো পরিবেশের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিলো কয়েকগুন।

মার্বেল মেঝেতে YSL এর হিল পরে ঠুক্ ঠক্ করে এগিয়ে এলো, উপস্থিতির প্রত্যেকের দৃষ্টি তার ওপর আঠার মতো আটকালো। নিঃসন্দেহে রমণীর রূপ,এমন ব্যক্তিত্ব যেনো কোনো মরণনেশার চেয়েও বেশি মাদকীয়। এক অদ্ভুত আবেশ ছড়িয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো সেই দুই প্রবল প্রতিপক্ষের দিকে।
​আদ্রিয়ানের অক্ষীপলে দিকে তাকিয়ে রোজ একবার খুব মৃদু সলজ্জ হাসি হাসলো। অতঃপর কোনো সংকোচ ছাড়াই সরাসরি গিয়ে দাঁড়ালো ইউভানের একদম মুখোমুখি। ইউভান তখনো বিস্ময়ে বিমূঢ়, হুইস্কির গ্লাসে পুনঃরায় চুমুক বসিয়ে ক্রোর হাসলো। রোজ হুট করেই ইউভানের হাত থেকে হুইস্কির গ্লাসটা এক ঝটকায় কেড়ে নিয়ে রোজ ইউভানের গ্লাসটাতেই চুমুক বসালো। অতঃপর গ্লাসটা সামান্য উঁচিয়ে ধরে ইউভানের অগ্নিধূসর অক্ষীপলে ন্যানো সেকেন্ড দৃষ্টি রাখলো।

“চেয়ার্স টু!মিস্টার ইউভি..!”

​ইউভানের ঘোরের রেশ কাটলো না। অপলক মাদকীয় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখলো সামনে থাকা রমণীর পানে।তার গোলাপটার পাঁপড়ি আজ একটু বেশি বিষাক্ত রঙে রাঙানো। ইউভান এক প্রকার ক্রোর হাসি হাসলো, ইউভান চায় রোজ আরও কিছু বলুক।রোজ পুনঃরায় বললো।

“গুড ইভনিং মিস্টার মাফিয়া! কী হলো, আমাকে কি দেখতে বিচ্ছিরি লাগছে? অ্যাম আই নট বিউটিফুল?”

দুজোড়া নয়নের মাঝে মিলল ঘটতেই সময় যেনো তার গতিপথ বদলে কোনো এক অপার্থিব মায়ার জগতে প্রবেশ করলো। কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজছে না ঠিকি অথচ বাতাসের প্রতিটি অণুতে এক বিষণ্ণ আর মাদকীয় সুরের ঝংকার অনুভূত হলো।আদ্রিয়ান এগিয়ে এলো।ঠিক যেনো ত্রিকোণ পৃথিবীর গভীর কোনো অতলান্ত কোণ থেকে কয়েক লাইন সুর ভেসে এলো__

 Tell me the truth!

    This is the end.

I feel like loosing myself..

Can't find my way!
To not loosing you!

Why it is so complicated???

Nothing Makes me confused!
No wonder why,i am still in hell!

This is the moment, come!
Now It’s time to choose!

চলবে????

ost lyrics perfectly match guys!😩🤌

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply