Love_or_Hate
|#পর্ব_৩৫|
ইভেলিনা_তূর্জ
⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে
কক্ষের আবছা আলোয় দেখা যাচ্ছে দিমিত্রি বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষ নয়, টেবিলের ওপাশে দাবার ঘুঁটি হাতে যে বসে আছে, সে স্বয়ং আদ্রিয়ান শাহ। একদিকে ‘R.C Group of Industries’-এর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘Shah Group of Industries’-এর মালিক, অন্যদিকে মাফিয়া জগতের ত্রাস, দুর্ধর্ষ ‘লায়ন লিডার’__ভোলকভ।
আজকে মাস্টারের কক্ষের পরিবেশটা একেবারেই ভিন্ন, এক থমথমে নিস্তব্ধতা যেনো পুরো রুমটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। ইউভান একবার অন্ধকারের আবছা আলোয় সোফার দিকে তাকালো। সেখানে মাস্টার ভীষণ আয়েসী ভঙ্গিতে বসে আছেন, যেনো এটা কোনো মহানাটকের দৃশ্য! আদ্রিয়ান ভোলচরে এসেছে শোনা মাত্রই ইউভানের পায়ের রক্ত টগবগিয়ে মাথায় চেপে বসেছিলো। প্রতিটি শিরা-উপশিরায় আদিম জিঘাংসা। অথচ আদ্রিয়ানকে এমন আয়েস করে একা একা দাবার ঘুঁটি চালতে দেখে ইউভান বেশ অবাক হলো।
ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে আদ্রিয়ান তো জানতই যে ইউভান ক্যালিফোর্নিয়ায় তার ফার্মহাউসে আছে; পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিলো। তবে আদ্রিয়ানের হুট করে এই দ্বীপে আসার কারণ ইউভানের অজানা থাকলেও, স্পাইডার লিডার রিক আলবার্টের ধূর্ত মস্তিষ্ক আর ষষ্ঠেন্দ্রিয় বরাবরই সচল থাকে সে বুঝতে পারলো কিছু তো একটা ঘাবলা আছেই!
ইউভানের ভেতরের পৈশাচিক সত্তাটা হঠাৎ গর্জে উঠলো।ঝড়ের গতিতে এগিয়ে গিয়ে এক ঝটকায় আদ্রিয়ানের শার্টের কলারটা মুচড়ে ধরলো। দাবার ঘুঁটিগুলো টেবিলের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়লো। ইউভানের চোখের মণি তখন আগুনের গোলার মতো লাল।
__“মাদারফাকার!তোর মৃত্যু তোকে তোর যমের কাছে নিয়ে এসেছে, শুয়োরের বাচ্চা। নর্দমার কীট!রিক আলবার্ট হিসেব চুকাতে বরাবরের মতো পারদর্শী ইউ নো অ্যাসহোল! একেবারে কড়ায়গণ্ডায়!”
ইউভানের হাতের শিরাগুলো ফুলে উঠেছে, সে আদ্রিয়ানকে প্রায় টেবিল থেকে তুলে ফেলার উপক্রম করলো। কিন্তু আদ্রিয়ান? শান্ত নির্বিকার। ঠোঁটের কোণে কুটিল হাসি, যাতে কোনো ভয় নেই।যার হাসির কারণ চোখের পরিভাষা বোঝার ক্ষমতা করোর নেই।আদ্রিয়ান কোনো প্রতিরোধ করলো না, বরং অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে ইউভানের কব্জিটা চেপে ধরে নিজের কলার থেকে সরিয়ে দিলো।
__“হাতটা সরা ইউভান। আমি এখানে তোর সাথে শক্তি পরীক্ষা করতে আসিনি। কলারটা ছাড়, শার্টটা অনেক যত্নে ইস্ত্রি করেছি!আমি আদ্রিয়ান আমার আবার নিজের জিনিসে অন্যে কারোর স্পর্শ মেনে নিতে পারি না।”
আদ্রিয়ানের এই অতিপ্রাকৃত নির্লিপ্ততা ইউভানকে আরও বেশি ক্ষিপ্ত করে তুললো। সে যখন আদ্রিয়ানের ওপর আরও চড়াও হতে যাবে, ঠিক তখনই সোফার অন্ধকার কোণ থেকে ভোলচরে দ্বীপের মাস্টারের সেই ভারী আর কর্তৃত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর চাবুকের মতো আছড়ে পড়লো।
__“রিক!তুমি কি ভুলে যাচ্ছো?তুমি কি করেছো??তোমাকে যে চাইলে আমি শাস্তি দিতে পারি তাও নিশ্চয়ই জানো??”
ইউভান খ্যাঁক করে উঠলো।
__’ফা’ক অফ!আপনিও নিশ্চয়ই ভুলে যাচ্ছেন আমি নিজ মর্জিতে চলা যম??ইউভান স্তম্ভিত হয়ে মাস্টারের দিকে তাকালো। মাস্টার এবার চুরুটের ধোঁয়া ছেড়ে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে বলতে শুরু করলেন— “তুমি আমার অবাধ্য হতে পারো না রিক!ভুলে যেও না, তোমার সব কিছুর পেছনে অবদান আমার।আমার প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো না তুমি!”
মাস্টারের হঠাৎ এমন ঘুরিয়ে-প্যাঁচিয়ে কথা বলা ইউভানের মনে সন্দেহের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিলো। ব্যপারটা মোটেও স্বাভাবিক নয়, অত্যন্ত সন্দেহজনক!
ইউভান তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো আদ্রিয়ানের উপর। সচরাচর ইউভানের ডিকশনারিতে ‘ধৈর্য’ বলে কোনো শব্দ নেই, হুটহাট ক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়া আর ধ্বংসলীলা চালানোই তার পরিচিত স্বভাব। কিন্তু আজ যেন সেই পরিচিত চরিত্রের মেরু বদল ঘটলো। নিজেকে যথা সম্ভব সংযত করলো, ভেতরের সেই আদিম পশুকে শিকলবন্দি করে অত্যন্ত ধীরলয়ে আদ্রিয়ানের মুখোমুখি চেয়ারটা টেনে বসলো ইউভান।
দুই বিপরীতমুখী মেরুর মানবের এভাবে এক টেবিলে বসা যেনো কোনো এক অসম্ভব মহাজাগতিক ঘটনার মতো। সূর্য যেমন কখনো পূর্বদিকে অস্তমিত হয় না, এদের একত্রে দেখাও তেমনি ছিলো অনিবার্য তিক্ততার নামান্তর। এদের দুজনের মধ্যেকার বৈরিতা কোনো সাধারণ শত্রুতা নয়, এ যেন জন্ম-জন্মান্তরের বিষ। তবুও, নিয়তির পরিহাসে আজ তারা মুখোমুখি। কখনো কখনো আমাদের চরম তিক্ততার পথেও হেঁটে দেখতে হয়, যদি সেখানে কোনো মোক্ষম উদ্দেশ্য বা বৃহত্তর কোনো স্বার্থ লুকিয়ে থাকে।
ইউভান পায়ের উপর পাঁ তুলে চেয়ারে নিজের বলিষ্ঠ শক্তপুক্ত পিঠটা হেলান দিলো।ফর্সা মুখটা রাগে টকটকা লালবর্ণ ধারণ করে আছে।আদ্রিয়ান তলিযুক্ত বাঁ গালে হাসির রেখা টানলো।দুজনের কন্ঠস্বর শুধু মাত্র দুজনের শোনার উপক্রম।আদ্রিয়ান একটা গুটি চাল দিয়ে বললো।
__“চরম মূল্য কি জিনিস তা তোকে আমি শিখাবো।কিছু কিছু ফুলের গায়ে কখনো হাত দিতে নেই কাঁটা ফুটে যায় জানিস নিশ্চয়ই??।”
ইউভানের শার্প চোয়াল মুহূর্তেই টানটান হয়ে মটমটাতে লাগলো।
_“কিছু কিছু ফুলের কথা তো জানি না তবে একটা বিষফুল আছে, যার থেকে নির্গত বিষ রিক আলবার্ট খেয়েও জ্যান্ত বেঁচে আছে।যেই বিষ পান করার ক্ষমতা তোর মতো জোচ্চর বেজ*ন্মাদের নেই!”
ইউভানের কথাগুলোতে তেমন একটা গুরুত্ব প্রদান করলোই না আদ্রিয়ান। উল্টো চেয়ার ছেড়ে একটু ঝুঁকে এলো ইউভানের সামনে।ভারীকন্ঠটা দিয়ে হাড়হিম করা গলায় বলল-
_“তোর কাছে যদি রোজ ভালো থাকে, যদি রোজ নিজে আমাকে এসে বলে যে সে তোর সাথে থাকতে চায়,তবে রোজের খুশির জন্য আমি আদ্রিয়ান স্বেচ্ছায় তাকে ছেড়ে দেবো। তোর মতো অপবিত্র কু’ত্তার বাচ্চার কাছে যদি পবিত্র আত্মাটার শান্তি মিলতো তবে এতোদিন ধরে এতো কাঠপোকড়া পোহাতে হতো না আমার।আমার অন্তর আত্মাটা জ্বলে যায়,তার চোখের একটা অশ্রু গড়ানোর আগে তোকে মাটিতে পিষে ফেলবো ইউভান।”
হঠাৎ কক্ষ কাঁপিয়ে এক পৈশাচিক অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো ইউভান। হাসতে হাসতে ব্রেসলেট পড়া হাত দিয়ে অনায়াসে আঘাত করলো দাবার বোর্ডে। আদ্রিয়ানের অক্ষীপলে দিকে সরাসরি তাকিয়ে ইউভান ফিসফিসিয়ে উঠলো।
__”ত্যাগের মহিমা শুনিয়ে নিজেকে হিরো প্রমাণ করতে চাইছিস তুই? বাট গেস হোয়াট? আই অ্যাম দ্য ভিলেন অব হার স্টোরি! আর ভিলেনরা কখনো স্যাক্রিফাইস করে না, শুধু দখল করতে জানে।”সো, ডোন্ট টক অ্যাবাউট হার হ্যাপিনেস।
বান্দীর বাচ্চা পঁচে গলে মরুক আমার বুকে থেকেই,আমার কাছে থাকতে চাক বা না চাক হু ফা’কিং কেয়ার।রিক এসবে বা’ল বলেও দাম দেয় না।নেভার।”
আদ্রিয়ানের চোয়াল টানটান হয়ে উঠলো।নিজেকে সংযত করে দাঁতে দাঁত পিষে ঠান্ডা গলায় বললো।
–“খুব জোর তোর গলায় তাই না?তোর গলা আর গলার জায়গায় রাখবো না আমি শুধু দেখবি তুই।”
ইউভান পুনঃরায় হাসলো, শয়তানি হেসে টেবিলের উপর থুতনি ঠেকিয়ে চুলে হাত রেখে ঘষতে লাগলো অনবরত।
_“কি! কি দেখবি তুই?রোজের শরীরে কয়টা কা’মুড়ের দাগ আছে আমার,কয়বার ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়েছি সেগুলো??এই দেখ কালও চুমু খেলাম রেশ কাটেনি এখনো।”
আদ্রিয়ান ধপ্ করে উঠে পড়লো চেয়ার ছেড়ে, কান থেকে যেনো রক্তিম ধোঁয়া বের হচ্ছে। লাথি মেরে চেয়ার ফেলে দিলো।মেঝেতে থুথু ছুঁড়ে হুঙ্কার দিয়ে উঠলো।
_“এই জানো*য়ারের বাচ্চা।মেয়েটাকে নিয়ে আর একটা নোং’রা মন্তব্যে করবি না।তুই যে-সবের কথা বলছিস না সেগুলোকে রে’প বলে,আর তুই একটা ব্লাডি রেপিস্ট ডিজাস্টার!”
মুহূর্তেই আদ্রিয়ান ইউভানের কলার চেপে ধরার আগে একটু দূরত্বে থাকা মাস্টার গলা ছাড়লেন। তিনি অন্ধকারের আড়াল থেকে ইউভান আদ্রিয়ানের কথোপকথন না শুনতে পেলেও এবার সিরিয়াস ভঙ্গিতে চুরুটে ধোঁয়া উড়িয়ে বলতে লাগলেন।
_“রিক আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ক্যাটরিনার ফাদার ভ্লাদিমির ক্ল্যান আর রুশান আলবার্ট ১৯৯৮ তে যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তা সম্পন্ন করার!”
ইউভান এক মূহুর্ত সময় অপচয় করলো না।দু আঙুলের ফাঁকে একটা সিগারেট ধরিয়ে ঠোঁটে পুড়লো।
_“হ্যাঁ সম্পন্ন করুন।ক্যাটরিনা তো রিক আলবার্টের ফিয়্যান্সে ওয়েডিং এর প্রি-প্ল্যানিং য়ের আগে একটা এনগেজমেন্ট পার্টি দরকার কি বলুন!তবে অবশ্যই একটা নয় দু’টো। দু’টো এনগেজমেন্ট আর ওয়েডিং সিরেমনি হবে।”
ইউভান আদ্রিয়ানের দিকে তাকালো।
__”একটা রিক আলবার্টের আরেকটা ভোলকভ ্ঙ্্ঁঝস্বার্থের জন্যে সব কিছু করতে পারে।সামান্য একটা বিয়েই তো তা কি এমন ব্যপার।ভাবছি একটা কেনো হবে দু’জন মাফিয়া আর গ্যাংস্টারের মধ্যে হলে ক্ষতি কি!সব কিছুতে শুধু লাভ আর লাভ।”
ইউভানের এমন চতুরতার সমেত কথাগুলো শুনেই আদ্রিয়ান রাগে কটমট করতে করতে বললো।
_”এসবের মধ্যে রোজকে একদমি টানবি না!”হঠাৎ মাস্টার আদ্রিয়ানকে ইশারা করলো।আদ্রিয়ানের মূল পরিকল্পনা ছিল মাস্টারের সহায়তায় রিক আলবার্ট তথা ইউভানের সাথে রাশিয়ান ক্ল্যান পরিবারের উত্তরাধিকারী ক্যাটরিনার বিয়েটা সম্পন্ন করা।মাস্টারও জানতো ইউভানকে এতো সহজে রাজি করানো যাবে না যার কারণে আদ্রিয়ান মাস্টারকে আশ্বস্ত করেছিল আর আদ্রিয়ানের শর্ত ছিলো অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কঠিন, মাস্টার যেনো কোনোভাবেই ব্লু-ভেইল তথা রোজের গায়ে আঁচড়ও না কাটেন। তবে এতো সহজে ইউভানের বিয়েতে রাজি হওয়া অকল্পনীয় হলেও রোজকে মাঝ থেকে টেনে আনবে তা আদ্রিয়ানেরও সাতকূল ভাবনারও আগে।তবে মাস্টারের ইশারায় আদ্রিয়ান দানবের মতো বড় বড় পাঁ ফেলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলো।
মাস্টার ইউভানকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো।যেনো ইউভানের এমন সিদ্ধান্তে মাস্টার আশাহত হলেন।
_“ব্রেবো!আমি জানতাম রিক তুমি ক্ষমতা চাও।আমিও তা চাই।এটা তোমারই প্রাপ্যে।”
মাস্টার অট্টহাসিতে ফেঁটে পড়লেন।
__”তুমি তো জানই ক্যাটরিনাকে গ্রহণ করার অর্থ হলো ইউরোপের বুকে রুশ সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা। ক্যাটরিনার বাবা ভ্লাদিমির আলবার্ট কেনো তোমাকে তার জামাতা হিসেবে পেতে মরিয়া ছিলেন।তখন ১৯৯৮ তে ক্যাটরিনা শুধু নবজাতক শিশু ছিলো।রাশিয়ার সেই প্রাচীন মাফিয়া রক্তের ক্ল্যান পরিবারের উত্তরাধিকারী, যার শেকড় ক্রেমলিনের অন্দরমহল পর্যন্ত বিস্তৃত।আলবার্ট আর ক্ল্যান পরিবারের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে দু’পক্ষেরই বিশাল অঙ্কের লাভ ছিলো।তাইতো ক্যাটরিনাকে তোমার বাগদত্তা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিলো।
মাস্টার এবার আসল চালটা প্রকাশ করলো।
__“যদি এই বিয়ে সম্পন্ন হয়, তবে রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন থেকে শুরু করে ইউরোপের ড্রাগ রুট সবই থাকবে তোমার কব্জায়। মার্বেল পুরো ইতালিয়ান সাম্রাজ্যে চালায়,আর ক্যাটরিনা আর তুমি মিলে ডেনমার্ক রাশিয়া সহ পুরো ইউরোপে রাজত্ব বিস্তার করতে পারবে।লন্ডনের ক্যাসিনো থেকে ইতালির বন্দর কোথাও কোনো চাল তোমার অনুমতি ছাড়া পড়বে না।তুমি তো ক্ষমতাই চাও তাই না??”
ইউভান দাবার ঘুঁটিটা হাতের মুঠোয় এমনভাবে পিষে ফেললো যে কাঠের সূক্ষ্ম কণাগুলো চামড়া ছিঁড়ে বিঁধে গেলো হাতে।অগ্নি-ধূসর চক্ষুদ্বয় কক্ষের সেই টিমটিমে হলদেটে আলোয় এক পৈশাচিক আবেশে জ্বলে উঠলো।হাতের জ্বলন্ত সিগারেটটা তখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি, কিন্তু ইউভান চরম অবজ্ঞায় তা মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে পায়ের তলায় পিষে দিলো, অতঃপর কক্ষের ভারী নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে কোনো বাক্যব্যয় ছাড়াই বলিষ্ঠ কদমে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।ইউভানের এই অতলান্ত নীরবতাই বলে দিলো বিয়েতে তার সম্মতি।
__”এত রাতে আমার রুমে কেনো এসেছো ইনায়া??”
_ “হাহ! তার কৈফিয়ত কি আমি আপনাকে দেব?”রাহা চট করে নিজের স্লিপারগুলো পড়ে নিলো।রাহা রাতে বেশিক্ষণ ঘুমোতে পারে না।কখনো কখনো স্লিপিং পিল নিতে হয়।তবে ইদানীং ঔষধ খেয়েও ঘুম আসতে চায় না। রাহা তুষারকে নিকোলাসের ব্যপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই রুমে এসেছিলো তবে তাইওয়ান তখন রুমে ছিলো না।আর স্বর্ণকেশরীও তাইওয়ানের বেডে শুয়ে পড়ে।গম্ভীর লোকটা থাকলে অবশ্য রাহা এমনটা কখনোই করতো না।
তুষার এক পাঁ এগিয়ে এলো।চোয়ালখানা পাথরের মতো শক্ত, কণ্ঠস্বরে আক্রোশ নিয়ে পুনঃরায় বললো।
“যা জানতে চাইছি তার উত্তর দাও। আমার রুমে কেন ঘুরঘুর করছো?” রাহা অত্যন্ত নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে নিজের অবিন্যস্ত চুলগুলো ঠিক করে নিলো।আশ্চর্য এভাবে রেগে যাওয়ার কি আছে।রাহার উপর অন্যে কেউ গলাবাজি করলে কখনোই তা মেনে নেয় না মেয়েটা।তবে কেন যে হুটহাট তুষারের এমন হুঙ্কারগুলোর বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করে উঠতে পারে না।তপ্ত সরবরের মতো পুরো অঙ্গ যেনো লাফিয়ে উঠে। “এখন কি আমার বাড়িতে আমার ঘুরঘুর করা নিষেধ! হাউ ডিজগাস্টিং!”
তুষারের ধৈর্য যেনো ক্ষণে ক্ষণে বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।বলিষ্ঠ শক্তপুক্ত শরীরটা নিয়ে রাহার ব্যক্তিগত পরিসরের ঠিক সীমানায় এসে দাঁড়ালো। রুমে বাতাসের উত্তাপ যেনো মুহূর্তেই কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দিয়েছে সে।
“বাড়ির যেখানে খুশি সেখানে যাও, আই ডোন্ট কেয়ার অ্যাবাউট ইউ! তবে আমার রুমে আসবে না!” রাহা নাক মুখ কুঁচকিয়ে তুষারের দিকে ঝুঁকে এলো।রাহার নিশ্বাসের ঘ্রাণ তুষারের স্নায়ুতে এসে আঁচড়ে পড়লো।রাহা নিজের পিয়ার্সিং করা ভ্রু উঁচিয়ে বলল- “আপনি আমার সাথে এতটা রুড হতে পারেন না।”
“ইয়েস আই ক্যান! নিজের রুমে যাও।”নিজের শার্টের হাতা গুটাতে লাগলো তুষার।
রাহা এক চুলও নড়লো না। মধ্যেকার সূক্ষ্ম প্রাচীরটা যেনো মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে বারবার।
__ “আজ নতুন এলাম? চাইল্ডহুড থেকেই তো আসি!”
“আগে ছোট ছিলে, এখন যথেষ্ট ম্যাচিউর হয়েছো। লিসেন্ট! তোমাকে কেউ কিছু বলে না তার মানে এই না যে যা খুশি তা করবে।” “অন্যেরা কী বলবে? আপনি তো একাই চারশো-বিশ!”
তুষারের তপ্ত নিশ্বাস রাহার ললাট স্পর্শ করতেই রাহা হঠাৎ দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে নিলো।তুষার আর কথা বাড়াতে চাইলো না। ক্লান্ত মস্তিষ্ক আর শরীরের ওপর রাহার এই উপস্থিতি এখন বিষের মতো বিঁধছে।
“তোমার সাথে তর্ক করার এনার্জি নেই আমার! সো ইউজল্যাস!” “ড্যাম বিচ! এনার্জি কোথায় শেষ করে এলেন?? কয় রাউন্ড হলো? ফিলিংস কেমন?”
তুষারের পুরুষালী শরীরটা রি রি করে উঠলো। এক ঝটকায় রাহাকে সরিয়ে দিতে চাইলো।কখন থেকে মুখ থেকে যা বের হচ্ছে তাই বলে যাচ্ছে মেয়েটা।লাগামটানার কোনো নাম নেই।
“তুমি কি রুম থেকে যাবে! রাত কয়টা বাজে জানো?” রাহা এক মুহূর্তও বিচলিত হলো না। বরং বিছানার এক কোণে আয়েশী ভঙ্গিতে শরীর এলিয়ে দিলো। “না যাব না! হায়াটা আজকাল বড্ড নাক ডাকে, ভাবছি এই রুমেই থাকবো।”
তুষার হাতা গুটানো বন্ধ করে অত্যন্ত ধীরলয়ে শার্টের বোতামগুলো একটা একটা করে খুলতে লাগলো।রাহার বুকের ভেতরের ধুকপুকানি যেনো পাল্লা দিয়ে বাড়তে লাগলো।শার্টটা আলগা হতেই তুষার দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে শয্যায় বসা রমণীর ওপর ঝুঁকে পড়লো।
তুষারের এই আগ্রাসনে রাহা দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়লো।হাতের ওপর ভর দিয়ে পিছিয়ে যেতে চাইলো, কিন্তু তুষারের দীর্ঘদেহী অবয়ব তাকে বিছানার কোণে এক প্রকার বন্দি করে ফেলেছে। তুষার একেবারে রাহার মুখাবয়বের কাছে নিজের তপ্ত নিশ্বাস ছেড়ে এক গম্ভীর, পুরুষালী হাস্কি স্বরে বলে উঠলো__
“ভয় হচ্ছে?” রাহার নিঃস্বাসের গতিবেগ ততক্ষণাৎ বাড়তে লাগলো।তুষারের সুঠাম গলদেশে নিজের কোমল হাত স্পর্শ করলো। স্পর্শটা লাগামছাড়া বিদ্যুতের মতো তুষারের স্নায়ুতে আছড়ে পড়তেই সে এক ঝটকায় হাত সরিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।টেবিল থেকে টাওয়ালটা তুলে নিয়ে শাওয়ার নেওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতে যাবে, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় কাণ্ড ঘটলো। রাহা বিদ্যুৎবেগে এগিয়ে এসে তুষারের গলায় ঝুলতে থাকা টাওয়ালটা ধরে সজোরে এক টান মারলো। তুষার বাধ্য হয়ে আবার রাহার মুখোমুখি স্থির হলো। “ভয় বলে কোনো শব্দ ইনায়ার ডিকশনারিতে নেই তা খুব ভালো করেই জানে তাইওয়ান।”
এমন কিছু করো না যেনো তোমাকে আমাকে নিয়ে বাকিরা নেগেটিভ মন্তব্যে করে আর রিকের কাছে আমাকে ছুটো হতে হয়।তুষার রাহার হাত সরিয়ে দিলো। ততক্ষণাৎ টেবিলের উপরে থাকা ওয়াকিটকিতে দামিয়ানের কন্ঠস্বর ভেসে আসে দামিয়ান ফার্ম হাউজের নিচ থেকে তুষারে ওয়াকিতে সিগন্যাল পাঠালো। ফার্ম হাউজের রফটপে পরপর কয়েকটা হেলিকপ্টার প্রস্তুত হয়ে ল্যান্ড করলো।
ভোরের প্রথম আলো তখনো দিগন্তের হানা দেয়নি।অন্ধকারের শেষ প্রহর যেনো ধরণীকে এক মায়াবী নিস্তব্ধতায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে রেখেছে, প্রতীক্ষায় আছে এক তপ্ত সূর্যোদয়ের।কক্ষের ভেতরে টিমটিমে আলোর মায়াজাল চিরে রোজের অস্ফুট কণ্ঠস্বর ভেসে আসছিলো। ঘুমের ঘোরে বিড়বিড় করাটা রোজের অতি শৈশবের এক অদ্ভুত অভ্যাস। একটা সময় ছিলো যখন মেয়েটা ঘুমের মাঝেই হাঁটতে শুরু করতো, কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই অভ্যাসে কিছুটা পরিবর্তন এলেও তার অবচেতন মনের ব্যাকুলতা কমেনি।নিজের মৃত মায়ের সাথে কথা বলতো।আজও তার ব্যতিক্রম হলো না জ্বরের ঘোরে বিড়বিড়ালো,হায়া সেই না ঘুমিয়ে রোজের পাশে বসে ছিলো।জ্বর কমার নামও নিলো না।তবে হায়া খানিকক্ষণ আগেই রোজের কপালে হাত রেখে জ্বর কমেছে কিনা দেখলো,গাঁ পুড়ে যাওয়া ভাবটা এখন একটু কমে এসেছে।রোজ ঘুমের ঘোরে কিসব কথা যেনো অস্পষ্ট স্বরে বিড়বিড় করছে হায়া বুঝতে পারলো না শুধু ইউভানের নামটাই শুনতে পেলো।হঠাৎ রুমের মধ্যে রাহার আগমন ঘটলো।ঢুকেই রাহা ট্রলি নিয়ে বেডের উপর এনে ধপ করে ফেললো।আঁড়চোখে একবার বেডে শুয়ে থাকা রোজকে দেখলো।
__”হোয়াট হেপেন্ড?”
_”রোজের জ্বর এসেছিলো রাতে তুই কোথায় ছিলি দোস্ত?? “রাহাকে ট্রলির মধ্যে ড্রেস গুছাতে দেখে হায়া রাহার পাশে এসে দাঁড়িয়ে পড়লো।
__” একটা জলহস্তী আছে না তার রুমে।”
__”তুই তুষার ভাইয়ার রুমে গিয়েছিলি?”
__”সে-সব বাদ দে! রোজকে উঠতে বল।রাশিয়া যাচ্ছি আমরা আজ। “
হায়া আবাক হয়ে প্রশ্ন করলো_”রাশিয়া??হঠাৎ রাশিয়া কেনো??”
__”রিক ভাইয়া বলেছে তাই!কিসের জন্যে তা তো জানি না।আমার ভাইটাও না জানিস কখন কি করে কে জানে।তবে আমি ড্যাম সিউর এভরিথিং ইজ্ নট ফাইন রাইট নাও।”
রাহাকে খুশি দেখে হায়া কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে বললো__”তা তুই এতো খুশি কেনো??”
__”বা*ল!কতোদিন পর একটা এডভেঞ্চার হবে বল।ভাইয়ার জন্যে কোথাও যেতে পারি??।আই লাভ ঘুরাঘুরি।আমার তো হেব্বি লাগছে।রাশিয়া কখনো যাওয়া হয়নি।শুনেছি পাপার নাকি একটা দ্বীপ আছে সেখানে।মনে হয় আমরা সেই ভোলচর দ্বীপেই যাচ্ছি।”
__”এমন নামের দ্বীপ রাশিয়াতে আছে? কোনোদিনও তো শুনিনি”
রাহা বেনিটির সামনে দাঁড়িয়ে চুলে ফ্রান্স বিনুনি করতে করতে করতে বলল__”জানবি কি করে ওটা তো আন্ডারওয়ার্ল্ডে।মাফিয়াদের! গুগুলে ওটা এক্সিস্ট করে না দোস্ত। কথা না বাড়িয়ে রেডি হয়ে নে।অ্যাম সো সো এক্সাইটেড।”
এমন ভয়ানক মাফিয়াদের ডেরায় যেতে আবার কেউ এক্সাইটেড হয় তা রাহাকে না দেখলে জানতই না হায়া।ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে নিয়েছে।তবে রোজকে বললো না তারা কোথায় যাচ্ছে। মেয়েটার এমনিতেই জ্বরের ঘোরে নেত্রপল্লব মেলে তাকাতে সক্ষম হচ্ছে না তার মাঝেই হায়া রোজের শাড়ি টা পরিবর্তন করে দিলো।ভোরের এই ধূসর প্রহরে রোজের মনটা বড্ড ব্যাকুল হয়ে উঠলোএক কাপ কড়া লিকারের দুধ চা যদি পাওয়া যেতো! উষ্ণ পানীয়ের স্বাদটা হয়তো তার তীব্র মাথাব্যথা আর শরীরের জড়তাকে কিছুটা হলেও উপশম করতো। শাড়ির আঁচলটা অবাধ্যের মতো বারবার কাঁধ থেকে খসে পড়ছে। হয়তো দ্রুততার কারণে হায়া শাড়িটি ঠিকভাবে পড়াতে পারেনি। রোজ একবার চেষ্টা করলো খসে পড়া শাড়ির আঁচলটা ঠিক করে নিতে, কিন্তু পরক্ষণেই তার হাত দুটি নিস্তেজ হয়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়লো। নিজের শাড়িটুকু টেনে পরার মতো নূন্যতম শক্তিও রমণীর শীর্ণ দেহে অবশিষ্ট নেই।এদিকে রাহা হায়া সহ প্রত্যেকে হেলিকপ্টারে চড়ে বসলো।তবে রাহা দামিয়ান তুষারের হেলিকপ্টারের ককপিটে কোনো পাইলট নেই তারা প্রত্যেকেই আকাশযান চালোনায় পারদর্শী। পরপর কন্ট্রোল প্যানেলের সুইচ গুলো অন হতেই সব গুলো আকাশযানগুলো শূন্যে ভাসতে শুরু করলো।তবে রোজের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এক অত্যাধুনিক প্রাইভেট জেটবিলাসবহুল আকাশযান।
|ভোলচর,রাশিয়া|
|দ্যা রয়্যাল বিল্ডিং|
গোধূলিবেলার সূর্যের অন্তিম কিরণ সাইবেরিয়ার দূরপাল্লার বরফের প্রান্তরে আছড়ে পড়ছে, তখন রয়্যাল বিল্ডিংয়ের চূড়া থেকে দেখা যায় এক অপার্থিব মায়াজাল। গোধূলির এই ক্ষণস্থায়ী আলোয় চারপাশের পরিবেশটা এক গাম্ভীর্যে অদ্ভুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঢাকা।চারপাশে সমুদ্রের নীল পানির গর্জন। রয়্যালের পাঁচতলার একটা রুম রোজের জন্যে বরাদ্দ করা হলো।রোজ সেই কক্ষের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে।কোনো কিছুই তার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ভেদ করতে পারছে না।জায়গাটা সম্পূর্ণ তার অপরিচিত।রোজ বুঝতেই পারলো না সে আরও একবার ভোলচর দ্বীপে এসেছিলো।অন্যভাবে অন্যরূপে।রুমে ঢুকেই রোজ বেলকনি দিয়ে কিছুক্ষণ বহিঃরাগত পরিবেশটা দেখলো।ঠান্ডা বায়ুটা হিমশীতল হলেও রোজের ভালোই লাগলো।রুমের মধ্যেটা অদ্ভুত রকমের হলেও রোজ দেখলো শাওয়াররুমের পাশে একটা বিশাল আকৃতির মিরর,ড্রাগন ডিজাইন করা।রোজ সংকীর্ণ পায়ে এগিয়ে গেলো সেদিকে।হাঁটার সক্ষমতা ক্রমশ লঘু হচ্ছে।
বিশাল মিররের সামনে যেতেই হঠাৎ শাওয়ার রুম থেকে একটা ফুলোফুলো নীলচে হওয়া রগের বলিষ্ঠ হাত রোজের শাড়ির আঁচলটা প্যাঁচিয়ে ধরলো সেই হাতে।ভেতরে ঢুকতেই শাওয়ারের ধারাস্নান রোজের অবশ শরীরটাকে এক নিমেষে সিক্ত করে দিলো।হট শাওয়ারের বাষ্পে রোজ নিজের নিভু নিভু আঁখিপল্লবে দেখলো এক জোড়া জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডের মতো অগ্নিধূসর অক্ষীপলইউভান।উর্ধাঙ্গ ন*গ্ন শুধু একটা টাওয়াল জড়ানো কোমড়ে।মূহূর্তেই রোজের শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ইউভান রোজের রোজের শাড়ির ভাঁজে হাত ঢুকিয়ে লাতানো পেট চেপে ধরে শূন্যে ভাসিয়ে তুললো।বুড়ো আঙুল দিয়ে পেট স্লাইড করে নেশালো স্বরে বললো। “শরীর এতো গরম কেনো??জ্বর এসেছে?”
ইউভানের হাতের স্পর্শে রোজের সর্বাঙ্গে বিদ্যুৎ কম্পন বয়ে গেলো।যন্ত্রনাময় কেমন যে এক শিরশির কাঁপন।ইউভান নামিয়ে ধরলো রোজকে।
__”চুপ করে আছিস কেনো আন্সা মি ডার্ক।”
অনবরত পানির নিচে শরীর থাকায় রোজের শরীরটা আরও নেতিয়ে পড়তে লাগলো।অবচেতন হয়ে পড়লো।হঠাৎ কিছু না ভেবেই পুরো শরীর শরীরটা হিলহিলিয়ে পড়লো ইউভানের বলিষ্ঠ বক্ষপিঞ্জরের উপর।কেঁদে কেঁদে ভিজিয়ে দিলো সেই স্থান। জ্বরের ঘোরে ইউভানের গলা জড়িয়ে ধরে গোঙিয়ে উঠলো।
__”জ্বর তাতে আপনার কি??আপনার মতো নিষ্টুর নিকৃষ্ট পুরুষের আমার যন্ত্রণায় কিছু যায় আসে??আমাকে প্রশ্ন বিত্ত করার রাইট আপনার নেই মিস্টার মাফিয়া।এই যে আমাকে স্পর্শ করে আছেন জ্বলে যাচ্ছে আমার শরীর।”
ইউভানের সিক্ত দেহ থেকে চুইয়ে পড়া পানি আর গায়ের তপ্ত উত্তাপ রোজের স্নায়ুকে অবশ করে দিলো।
_”গলা জড়িয়ে ধরে আছিস আবার বলছিস গাঁ জ্বলে যায়??”অতঃপর ইউভান রোজকে দেয়ালের সাথে সজোরে চেপে ধরলো।সিল্কের বাদামী শাড়িটা ভিজে পুরো নারীদেহের প্রতিটা ঢেউখেলানো ভাজগুলো দৃশ্যমান। ইউভান নেশালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিজেকে সংযত করলো।পৌরুষত্বের তৃষ্ণাটা যেনো ক্রমাগত বাড়তে লাগলো।রোজ এক ঝটকায় ইউভানের হাত টেনেটুনে সরিয়ে ইউভানের বুকের গহব্বরে আঁচড়ে পড়লো।হেঁচকি টেনে কেঁদে উঠলো।নেত্রপল্লব সহ পুরো মুখটা লাল হয়ে উঠেছে।ইউভানের বুকে নাক ঘষে ঘষে পুরুষালীর ঘ্রাণ টেনে টেনে অনবরত গোঙাতে লাগলো।
“দূরে সরুন বলছি।”ঝর্ণার থেকে ঝরা বারিধারা দু’জনের নাজেহাল অবস্থা।
ইউভান রোজের চুলের মুঠি ধরে নিজের থেকে সরিয়ে দিয়ে। কামনার তিব্র দহনকে সংযত করে রোজের দুই কব্জি এক হাতে মুঠো করে মাথার ওপর দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো।রোজ মাথা নাড়িয়ে নিজেকে মুক্ত করতে চাইলো, কিন্তু ইউভানের নীলচে রগ ওঠা হাতের বাঁধন আরও দৃঢ় হলো।রোজের শাড়ির বাঁধনটা পানির ভারে আলগা হয়ে আসছে।ইউভান রোজের ব’ক্ষেরমধ্যোংশে ওষ্ঠ ছুঁয়ে তার রেশ ক্রমাগত নিচে নামাতে লাগলো।মূহূর্তেই অগ্নিধূসর অক্ষীপল বন্ধ করে রোজকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে ভেজা ঠোঁট তর্জুনি দিয়ে মুছে নিলো।
ইউভান এবার রোজের চিবুকটা সজোরে চেপে ধরলো। তার চোখের সেই অগ্নি-ধূসর চাহনি যেনো মেয়েটার হৃৎপিণ্ড ভেদ করে যাচ্ছে। ইউভানের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিষাক্ত হাসি ফুটে উঠলো। সিক্ত ভাঁজে কাঁমড়ে ধরে র*ক্ত বের করে আনলো।রোজ যন্ত্রণায় মৃদু গোঙিয়ে উঠলো। ইউভান রোজের গাল দু’হাতে চেপে কেমন যেনো দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো।
__”ছেড়ে দিতে বলছিস দিলাম ছেঁড়ে! গেলাম সরে।ডিভোর্স দিবো তোকে।আর ক্যাটরিনাকে বিয়েও করবো।হ্যাপি?”
রোজ জ্বরের ঘোরে শরীরে ভার সামলাতে না পেরে পুনঃরায় হিলহিলিয়ে পড়লে ইউভানের উপর।সশব্দে কেঁদে উঠলো।মৃদু চিৎকার দিয়ে বলল।
“__দিয়ে দিন। আমি চাই। আপনার মতো জন্তুুর থেকে মুক্তি চাই।দু’দিন ওয়াইফি বলে আবার পরনারীকে বিয়ের কথা বলছেন,এসব আপনার মতো অমানুষের সাথে যায়।যা খুশি তা করুন, ছেঁড়ে দিন আমায়।”
ইউভান রোজের ললাটে নিজের শক্তপুক্ত কপাল ঠেকালো।কন্ঠটা আজ একটু বেশি রাশভারী শুনালো।পৃথিবীর সমস্ত ক্ল্যাশ ধ্বংস করে যন্ত্রমানব অনুভূতি কম্পিত করে হাসলো।
__”ফাইন! ফাইন! ফাইন!মঞ্জুর সুইটহার্ট। চাইলে কলিজাটা ছিঁড়ে নিয়ে নিস।”
রোজের জ্বলজ্বল করা বাদামী আখিঁপল্লব থেকে গড়িয়ে পড়া অশ্রুকণা শাওয়ারের পানির সাথে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে।ইউভান রোজের হাত নিয়ে তা ঘষে ঘষে মুছে দিলো।
__”ফাক অ’ফ ড্যাময়েইট!সহ্য করতে পারবি তো?”
রোজ ইউভানের বক্ষপিঞ্জরের নাক ঘষে নাক ছিটকালো। ঘোরের মধ্যে বিড়বিড়ালো।
__”সহ্য করা কঠিন হতো ভীষণ কঠিন যদি আমি আপনাকে ভালোবাসতাম।আপনাকে শুধু ঘৃণাই করা যায় ভালোবাসা অসম্ভব। তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন আমি ভীষণ একা এই ধরনীতে,শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা ছাড়া আমার আর কোনো আশা ভরসা নেই জীবনে।জানেন যদি আপনি নরপশু না হতেন আমাদের বিয়েটা স্বাভাবিক হতো তবে আমি রোজ এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভালো আপনাকেই বাসতাম।”
“আপনি ভালোবাসার অযোগ্য! না কোনোদিন কাউকে ভালোবাসতে পারবেন আর না ভালোবাসা পাবেন!”
চলবে?? 🙂
জানি চলবে না চালিয়ে নিন!🧛♀️
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or Hate পর্ব ৩২
-
Love or hate পর্ব ১৩
-
Love or hate পর্ব ১৪
-
Love or hate পর্ব ১২
-
Love or hate পর্ব ২১
-
Love or hate পর্ব ২২
-
Love or hate পর্ব ৩
-
Love or hate পর্ব ১৫
-
Love or Hate পর্ব ২৯
-
Love or hate পর্ব ১৭