Golpo Love or hate romantic golpo

Love or Hate পর্ব ৩৩


Love_or_Hate

|#পর্ব_৩৩|

ইভেলিনা_তূর্জ

⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে

রোজকে কাঁদতে দেখে ইউভান অঁধর কামড়িয়ে শুকনো ঢুক গিলে নিলো।রোজ ভেবাচেকার মতো প্রশ্ন করে বসলো।
-“রেইনবো! রেইনবো কিস আবার কি!ফালতু লোক।

ইউভান জিভ দিয়ে গাল স্পর্শ করে বলল-
“সাত রঙে রাঙিয়ে তোলা চুমুই রেইনবো কিস,আয় বায়োলজি ক্লাস করে দেখাই!কাম!প্রেক্টিক্যালি না দেখালে বুঝবি না বেবস্।”-মাফিয়াটার চক্ষুদ্বয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কালো রঙা শাড়ি পরিহিতা রোজকে খানিক নেশাতুর দৃষ্টিতে পরক করলো ইউভান।কপালে গুঁড়িগুড়ি ঘাম ঝরতেই প্রবল বেগে ড্রা*গের নেশা চড়ে বসলো ইউভানের।হাতের আঙুল দিয়ে নিজের নাক সজোরে ঘষে সে এক দীর্ঘ শ্বাস টেনে নিলো।-
“সিরিয়াসলি ডার্ক!ইফ ইউ ডোন্ট হেভ এনি প্রব্লেম উ’ই ক্যান ট্রাই দিস্।ইউ ওয়ান্নাহ্??”

কিছুদিন হলো রোজের মিসক্যারেজ হলো।এমনিতেই শরীরের অবস্থা ফলস্বরূপ ততোটাও ভালো না।ইউভানের মুখ থেকে আগত অস্পষ্টস্বরের কথাগুলো শুনে রোজের পুরো দেহাবয়ব শিরশির কাঁপন দিলো।
“আপনি মানুষের জাতের মধ্যেই পড়েন না।”

“সাট আপ ফা*কিং ডার্ক!যাস্ট আন্সা মি রাইট নাও।”
-ইউভান নেশাতুর ভঙ্গিমায় বলল-
“ক্যান উ’ই!??

“ছিহ্ঃ!কান জ্বলে গেলো আমার।আপনার মতো অসভ্য পুরুষ আমি আমার বাপের জন্মেও দেখিনি।অসভ্য লোক!জাত অসভ্য!”-রোজ এলোপাতাড়ি দেহের ভাঁজে শাড়ির আঁচল জড়িয়ে দাঁতে দাঁত পিষতে লাগলো।কান দু’টো থেকে যেনো তপ্ত গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে তার।ইউভানের নেত্রপল্লব দু’টোতে তাকানোর সাহস পেলোনা আর রোজ।কেমন যে লাল লাল হয়ে আছে।

রোজ বাক্যেখন্ডিত করার ইতিপূর্বেই ইউভান নিজের অগ্নিধূসর অক্ষীপল বড়সড় করে খাঁক করে উঠলো।
-” দেখবি কি করে রিক পৃথিবীতে এক পিস-ই আছে।আর যদি থাকতো ও তোর কি মনে হয় ডার্ক রোজ আমি তোকে তাদের দেখতে দিতাম?দেখার আগেই তোর ঐ হরিণীর চোখ দুটো খুবলে টেঁনে ছিঁড়ে দিতাম আমি।”

“এখনি টেনে ছিঁড়ে দিন।অন্ধ করে দিন।তারপর আর আপনার মুখটা আমায় দেখা লাগবে না।”

“আহা!আমার মুখ দেখতে কে বলেছে সুইটহার্ট! তুই তোর দৃষ্টি একটু নিচ এ্যাঙ্গেলে নামিয়ে আন।একটু! আর একটু,দেখবি পৃথিবীর দামী সম্পদটাই দেখতে পাবি!ইউ ওয়ান্নাহ্ সি দিস? “

“ম..মা…ম..মানে??”

ইউভান এক পাঁ দু পাঁ করে একটু একটু শব্দহীন পায়ে এগুতে লাগলো।ঠোঁট কামড়িয়ে হাসলো।
“-your personal treasure। খাজানা।মাটি খুঁড়ে সেই খাজানা বের করতে হবে না তোকে, ইউ নো ডার্লিং!তোকে দেখলেই অটোমেটিক খাজানাটা হুটহাট বেরিয়ে আসতে চায় জমিন ছেঁড়ে।”

পরমুহূর্তেই ইউভান চট করে রোজের শাড়ির আঁচলটা আলতো করে ঠিক করে দেওয়ার ভান করলো, পরক্ষণেই মাফিয়া বস্ তার বলিষ্ঠ ট্যাটু করা হাত দুটো রোজের মেদহীন কোমড়ে এনাকন্ডা সাপের মতো প্যাঁচিয়ে ধরলো। এক প্রচণ্ড হ্যাঁচকা টানে রোজকে নিজের শক্ত বুকের সাথে পিষে ফেলতেই রোজের শরীরটা লৌহমর্ষক কম্পনে কম্পিত হলো। রমণীর দীর্ঘ নেত্রপল্লব বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রু লাল আভার গাল দুটোকে ভিজিয়ে দিয়েছে। রোজ নাক-মুখ কুঁচকে, তীব্র বিরক্তির স্বরে ফিসফিস করে বলল-
​”আমেরিকাতে পাঁচ হাজার পারমাণবিক বোমা আছে, তার মধ্যে একটা বোমাও কি খোদা আপনার ন’ষ্ট মুখের ওপর ফেলতে পারে না?”

​ইউভান বাঁকা হেঁসে নিজের উষ্ণ বৃদ্ধাআঙুল রোজের নরম ওষ্ঠাধরের ওপর দিয়ে চেপে ধরে স্লাইড করতে লাগলো।
​”হোয়াই! ইউ ব্লাডি ডার্ক রোজ! আমার সামনে তো ‘আইটেম বম্ব’ দাঁড়িয়ে আছে, পারমাণবিক বম্ব কেন পড়বে? ফা*কিং বম্ব যদি পড়তেই হয়,দ্যান ডেফেনেটলি আমার সামনে থাকা এই ‘আইটেম’টাই পড়ুক।কাম লিটল বেবিগার্ল!এন্ড সি’ট অন মাই মাউথ।”

​কথাটা বলেই ইউভান রোজকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো। রোজ তখন বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলো।পুরুষটার উদম বুক থেকে আগত স্পাইসি ল্যাবেন্ডারের গন্ধটা অত্যাধিক ঝাঁঝালো।রোজের প্রায় ধম বন্ধ হওয়ার ন্যায় অবস্থা। ইউভানের পাশবিক আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়াতে ঘৃণা আর ক্রোধ মিশিয়ে চিল্লিয়ে উঠলো রোজ।
​”একদম অসভ্যতা করার চেষ্টা করবেন না! কতবার বলব আমাকে ছুঁবেন না! আপনাকে আমি ছোঁয়ার অধিকার দিইনি! আর কোনোদিনও দেব না!”

ইউভান নিজের তর্জনী দিয়ে রোজের ললাট থেকে চুল সরিয়ে কন্ঠনালীটা চেপে ধরে বিড়বিড়ালো।
“-এই শেষ নাগিনের বংশধর! ইউর ফা*কিং অধিকার আমার দরকার নেই।তুই কি বুঝতে পারিস না?? নাকি না বুঝার ভান ধরিস?যদি তোর ভালোবাসার প্রয়োজন হতো আমার, সেই ডিজগাস্টিং জিনিসের অভাবে আমি রিক এতোদিনে পুড়ে ছাই হয়ে মাটিতেই মিশে যেতাম।এসব ফা’কিং লাভ টাভ এর দরকার নেই রিকের।”

রোজ ইউভানের কব্জিতে নোখ বসিয়ে এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে নিজের গলায় হাত দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস ঘন করে বলল-
“-ভালোবাসা??ভালোবাসা নামক পবিত্র চার অক্ষরটা আপনার অপবিত্র মুখে যেনো দ্বিতীয়বার না শুনি আমি।”

রোজকে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলো।তবে তার ঠোঁট গলে কথাগুলো ইউভানের মস্তিষ্কে ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসও সিডর থেকেও ভয়াবহতা বয়ে আনলো।ক্ষিপ্ত হয়ে রোজের গালে চড় বসিয়ে দিলো।শক্ত হাতের চড়টা ভীষণ গভীরভাবেই আঘাত আনলো রোজের লালচে আভার গালে।পরক্ষণেই তড়তড় করে আরোও রক্তিম হতে লাগলো গাল।ইউভান নিজের রণমূর্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে ফেললো। রোজের গালে তার হাতের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।পরপর আরও একটা চড় বসানোর আগেই হস্ত থামিয়ে দিলো ইউভান।ব্যথায় সিক্ত হয়ে রোজ নিজের কাঁপতে থাকা অঁধর গলিয়ে এক প্রকার চিল্লিয়ে উঠলো।
“কি হলো থামলি কেন!থামলি কেন তুই!মার! তোর কাছে এর চেয়ে বেশি কি বা আশা করবো আমি।”

“আই অ্যাম ইউর হাসবেন্ড নট ব্রাদার।আরেকবার তুই তুকারি করলে জিভ টা টেনে ছিঁড়ে ফেলবো তোর”-ইউভানের অনড় দৃষ্টি পড়লো রোজের ঠোঁটের কোণের পাতলা চামড়া ভেদ করে রক্তের উপর ইউভান দ্রুততর তা গড়িয়ে পড়ার আগে জিভ দিয়ে চেটে নিলো।অতঃপর রোজের কানের কাছে মুখ নিয়ে, মেয়েটার গালের দাগটাতে আলতো করে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে হিসহিসালো।
​”আহা সুইটহার্ট! মারবো না!, এবার একটা ঠাসসস্ কিস্ দিয়ে ব্যথার ঘাঁ কমিয়ে দিবো… কাম অন, লেটস ডু এ ‘ফ্রে’ন্স কিস’!”

রোজকে কোনো কথা সুযোগ প্রদান না করে ইউভান এক অবদমি চুমু প্রয়োগ করলো রোজের ঠোঁটে।রোজ দু-একবার বাধা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলো, কিন্তু ইউভানের পাথরের মতো শক্ত হাতের নিচে তার কব্জি দুটো অবশ হয়ে এলো।আধ-ঘণ্টা ধরে চলা অবিরাম ঘর্ষণে রোজের শ্বাস-প্রশ্বাস স্তব্ধ হয়ে এলো।অতঃপর আধ-ঘন্টা পর ইউভান রোজকে ছেঁড়ে তর্জনী দিয়ে ঠোঁট মুছে রোজকে নিজের কাছ থেকে আলগা করে দিলো।মেয়েটাকে খুব জোরে হাঁপাতে দেখে ক্রর হাসলো ইউভান।ইউভান রুমের ক্যাবিনেটটার দিকে এগিয়ে গেলো বাহ্যিকভাবে ওটা কেবল একটা সাধারণ দেয়াল ফিটিং আলমারি মনে হলেও, তার কারুকাজের আড়ালে লুকানো আধুনিক নিগূঢ় প্রযুক্তির ইউভান ক্যাবিনেটের এক কোণে তার হাতের পাঁচ আঙুল রাখতেই একটা সূক্ষ্ম যান্ত্রিক শব্দ হলো। বায়োমেট্রিক সেন্সরে ইউভানের আঙুলের ছাপ মিলে যেতেই ক্যাবিনেটের ভারী পাল্লাটা নিঃশব্দে স্লাইড করে সরে গেলো।
​রোজের বিস্ময় আর ভয়ের সীমা রইলো না যখন সে দেখলো, ক্যাবিনেটটা আসলে একটা গোপন সুড়ঙ্গপথের দরজা! ইউভান কোনো কথা না বলে রোজের কনুই চেপে ধরে তাকে হিঁচড়ে সেই দরজার ওপাশে নিয়ে গেলো। ভেতরে পা রাখতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠল শত শত উজ্জ্বল আলো।সবগুলো কালারফুল লাইটিং।এই প্রথম মাফিয়াটার কোনো কিছু রঙিন আভার দেখলো রোজ।না-হলে ইউভানের যাবতীয় সকল কিছু বিদঘুটে কালো রঙের।
​রোজের চোখের সামনে উন্মোচিত হলো এক বিশাল কক্ষ এক রাজকীয় ফিমেল ড্রেসিং রুম। কক্ষটির আভিজাত্য দেখলে যে কারোর চোখ ধাঁধিয়ে যেতে বাধ্য। রুমের প্রতিটি কোণ যেনো বিলাসিতার চাদরে মোড়া। সেখানে কী নেই!একজন নারীর যাবতীয় যা প্রয়োজন সব আছে। একদিকের বিশাল শেলফ জুড়ে সাজানো রয়েছে অগ্নিরঙা লাল, মধ্যরাতের নীল আর পান্না সবুজ রঙের দামী সিল্কের শাড়িগুলো।সব কালারের শ-খানিক শাড়ি। অন্যপাশে কাঁচের আলমারিতে সারিবদ্ধভাবে ঝোলানো রয়েছে আধুনিক বডিকন ড্রেস আর ভিক্টোরিয়ান স্টাইলের রাজকীয় গাউনগুলো।
​রোজ হতভম্ব হয়ে দেখলো, প্রতিটি পোশাকের সাথে মানানসই ব্রেন্ডের গহনা, জুতো এবং প্রসাধনী আলাদা আলাদা ভাবে সেট করে রাখা হয়েছে। হীরা, জহরত আর মুক্তোর অলঙ্কারগুলো। পুরো রুম জুড়ে শুধু মেয়েলি জিনিসের ছড়াছড়ি।পারফিউমের মিষ্টি সুবাস থেকে শুরু করে দামী মেকআপ ব্র্যান্ড লা প্রেরি,চ্যানেল,প্যাশন ডিয়র বিউটি,টম ফোর্ড বিউটি।
​রোজের মস্তিষকে হাজারো প্রশ্ন আঁটিপাতলো গোপন কক্ষটি ইউভান কবে তৈরি করলো? কার জন্য এই আয়োজন?
তবে রোজ সেই রাজকীয়তাকে এক পলক দেখে ঝকঝকে দাঁত বের করে বিদ্রূপের হাসি হেঁসে উঠলো অদ্ভুতভাবে। কণ্ঠস্বর তীরের মতো ধার-
​”আপনার কি আমাকে গোল্ড ডিগার মনে হয়? এসব কেন দেখাচ্ছেন? দুদিন আগে যে পুরুষ নিজের বউকে মর্যাদা তো দেয়নি, উল্টো মেইডের পরিচয়ের সাথে মেইডদের জামাকাপড় পরিয়ে রেখেছিলো।সেসব কি আমি ভুলে গেছি?”

​ইউভান কথা বাড়ালো না। সে ক্যাবিনেটের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়ে একদৃষ্টে রোজকে দেখছিলো। তার ঠোঁটের কোণে নিকোটিনের ধোঁয়া পাক খেতে লাগলো, আর চোয়াল শক্ত হয়ে আসে প্রচণ্ড রাগে।
​”যাস্ট সাট ইউর ইউজ্ল্যাস ফা*কিং মাউথ
গোল্ড ডিগার শব্দটাও চিনিস দেখছি।কথা বাড়াবি না একদম, অতিরিক্ত পকপক্ করা আমার পছন্দ না।”
​ইউভানের অপরিচিত শান্ত কিন্তু বিষাক্ত মেজাজ রোজের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিলো। রোজ উ’ন্মাদের মতো পাশের এক সাদা ক্যাবিনেট থেকে কয়েক জোড়া কাঁচের চুড়ি হাতে নিয়ে সজোরে মেঝেতে আছাড় মারলো। পরপর ছুঁড়ে মেঝেতে ফেলতে লাগলো আঁছড়ে। কাঁচ ভাঙার তীব্র শব্দে রুমটা কম্পিত হলো। রোজ পাগলের মতো একে একে সব ভাঙতে শুরু করলো আর চিৎকার করে বলতে লাগল-
​”এসব চাই না আমার! চাই না! ঘৃণা হয় আমার!”

​রোজ এবার ক্রন্দনরত অবস্থায় করুণ হাসলো।
​”যেই দেখলেন একজন পরপুরুষ আপনার থেকে আপনার বিয়ে করা মর্যাদা না দেয়া বউকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, দামি দামি পোশাক আর খাবার খাওয়াচ্ছিলো , অমনি বুকে জ্বালা ধরে গেলো তাই না? তার আগে কোথায় ছিল আপনার এই নাটক?কি এমন পাপ করেছিলাম আমি বলুন।এসবের উত্তর আর এখন চাই না আমার।কোনো লাভ নেই জানি।”

​মুহূর্তের মধ্যে ইউভানের পৈশাচিক রূপটা বেরিয়ে এলো। সে এক লাফে এসে রোজের গলদেশ চেপে ধরে দেয়ালের সাথে পিষে দিলো। সিংহের মতো গর্জন করে ইউভান ফুঁসালো।
​”এই কুত্তার বাচ্চা, জানোয়ারের বাচ্চা!তুই কেন ওই শুয়োরটার কথা তুললি? এই মুহূর্তে বলবি যে আদ্রিয়ান তোর মায়ের পেটের ভাই লাগে! বল তোর ভাই! না না, ভাইয়ের মধ্যেও তো আজকাল ভেজাল থাকে…এই শালি, বল যে ওই শু*য়োরটা তোর মায়ের পেঁটের ভাই লাগে! বল, বল বল!”

​রোজের শ্বাস বন্ধ হয়েএলো, মুখাবয়ব নীলচে হয়ে উঠলো। মরণযন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে সে ধিক্কার দিয়ে কোনোমতে বললো
​”তুই অমানুষের বাচ্চা… ডেমোন… ডেভিল..ছিহ্ঃ .”
​হঠাৎ ইউভান নিজেকে সংকুচিত করে সংযত করে নিলো আপন সত্তা।ড্রাগের নেশা মাথায় হাতুড়ি আঘাত করতে লাগলো। হাতের আঙুল দিয়ে নাক ঘষতে ঘষতে সে নিজেকে সংযত করলো।তার এমন ছটফটানি দেখে রোজ আঁতকে উঠলো। সে নিজের মুখে হাত চেপে ডুকরে কেঁদে উঠলো। ইউভান টলমল পায়ে এসে রোজকে জাপটে জড়িয়ে ধরলো।জড়িয়ে ধরার মাঝে মাফিয়াটার কোনো কোমলতা না থাকলেও এমনভাবে ধরলো রোজকে যেনো একটু প্রশ্বান্তি প্রয়োজন তার।

রোজের নেত্রপল্লব থেকে গড়িয়ে পড়া তপ্ত জল ভিজিয়ে দিলো ইউভানের পেশিবহুল ব’ক্ষদেশ।
​”এ..এমন করছেন কেনো আপনি??এসব ছাইপাঁশ না খেলে হয় না? কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা সেই ব্যক্তিদের দিকে ফিরেও তাকাবেন না যারা নেশা করে!”

​ইউভান নাক টেনে রোজের বাদামি কেশরাশির ঘ্রাণ নিয়ে নেশাতুর গলায় বিড়বিড় করলো।
​”আফসোস হয় না?কিসের নেশার কথা বলছিস আমি যে তোর নেশায় নেশাখোর হয়ে এখন মাতলামো করে চলছি।এর দায়ভার কি তুই নিবি??বল নিবি!তারপর ভেবে দেখছি।”

​রোজ ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো ইউভানকে।
​”আপনি আসলেই পাগল!ম্যান্টালি সিক্ পারসন। আপনার মা আপনাকে মানুষ করতে পারেননি!”

​”চুপ!” ইউভান গর্জে উঠলো।
“আমার কোনো মা নেই! ভিলেনদের কোনো মা হয় না! আমার জীবনে কেবল একটা নারীর অস্তিত্বই আছে,মায়া আছে, তা কেবল তুই!”
“Only you!Fu*king you!& we are Rickrose”

“Shit!Mrs. Rickrose look like RockRose Flower”

রোজের ফুলের পাপড়ির ন্যায় নরম গোলাপি ঠোঁট গলে বেরিয়ে এলো একটুকরো শব্দ -“Crazy Man!”

​পরক্ষণেই রোজ তার উন্মুক্ত কাঁধে উষ্ণ কোনো তরল পদার্থের ছোঁয়া অনুভব হলো। রোজ ভয়ে ভয়ে আঙুল দিয়ে স্পর্শ করতেই দেখল টকটকে লাল রক্ত। পুরো শরীরে হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল মেয়েটার। দেখল, ইউভানের নাকের কার্নিশে র’ক্ত লেগে আছে।ইউভান তা রোজের ঘাড়ে ঘষে মুছে নিলো।রোজ একবার হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করতে গিয়েও থেমে বলে উঠলো।
​”কী… কী হয়েছে আপনার? দেখি তো…নাকে ব্লিডিং হলো কেন!”

তবে ​ইউভান হিংস্রভাবে পিছন সরে গেলো।পাগলের মতো মাথায় হাত দিয়ে পায়চারি করে ইউভান হিংস্রভাবে পিছিয়ে গিয়ে ড্রয়ার থেকে একজোড়া ঘুঙুর বের করে রোজের পায়ের কাছে ছুড়ে মারল। ধাতব শব্দের সেই ঝনঝনানি ঘরটার দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। ইউভান টলমল পায়ে হেঁটে গিয়ে হুইস্কির বোতলটা হাতে নিল। গ্লাসে ঢালার সময়টুকুও যেন তার তর সইছিল না, সরাসরি বোতলেই এক দীর্ঘ চুমুক দিয়ে সে জ্বালাময়ী কণ্ঠে বলে উঠল—
​”নাচ! নেচে দেখা… পরপুরুষদের তো অনেক নেচে দেখালি, এবার না হয় তোর ‘Beloved Husband’-কে একটা হট ডান্স দিয়ে পাগল করে দে!”
​রোজ একচুলও নড়ল না। তার এই মৌনতা ইউভানকে আরও খ্যাপিয়ে তুলল। সে গলার রগ ফুলিয়ে ধমক দিয়ে উঠল, “কী হলো! স্টার্ট রাইট নাউ! একটা সেক্সি নাইট তো বানানো যায়, কী বলো মাই ডিয়ার ওয়াইফি!”
​ঠিক সেই মুহূর্তে রোজের ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত, রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। সে নিচু হয়ে মেঝেতে পড়ে থাকা ঘুঙুরগুলো হাতে তুলে নিল। তার দু-চোখে তখন এক অন্যরকম তেজ, যা ইউভানের নেশার ঘোরকেও যেন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল। রোজ ধীরলয়ে বলতে শুরু করল-
​”কী বললেন, ওয়াইফি? আজ নেশাটা একটু বেশিই করে ফেলেছেন মনে হচ্ছে। স্বামী যখন কিছু হুকুম করেছেন, তা অমান্য করার সাধ্য কি এই অভাগীর আছে? যেহেতু বললেনই যে আমি আপনার ‘ওয়াইফি’!”

​রোজ এক পা এক পা করে ইউভানের দিকে এগোতে লাগল। প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল এক অদম্য আভিজাত্য। ইউভানের দেওয়া সেই ধাক্কায় পায়ে চোট পেলেও সে তা বিন্দুমাত্র প্রকাশ হতে দিল না। ছয় ফুট দুই ইঞ্চির সেই বিশালদেহী মাফিয়ার সামনে পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চির রোজকে খুব নগণ্য মনে হলেও, তার ব্যক্তিত্বে তখন এক আগ্নেয়গিরির দহন।

​রোজ আচমকা ইউভানের গলার সিলভার চেইনটা এক হ্যাঁচকা টানে মুঠোয় পুরে নিল। ইউভান কিছু বুঝে ওঠার আগেই রোজ তাকে সজোরে একটা ধাক্কা মারল। অপ্রস্তুত ইউভান টাল সামলাতে না পেরে পেছনের সাদা স্টুলটার ওপর ধপাস করে বসে পড়লো।
​ইউভানের তপ্ত, নেশাতুর দৃষ্টি তখন রোজের সিল্কের শাড়ির ভাঁজ ভেদ করে তার উন্মুক্ত উদরের মধ্যেবিন্দুর কাছে আটকাতেই রোজের কোমর আঁকড়ে ধরতে চাইলো, রোজ বিদ্যুৎবেগে নিজের পা তুলে ইউভানের বুকের পাঁজরের ওপর চেপে ধরল। ইউভানের পিঠ গিয়ে ঠুকল পেছনের ভ্যানিটিতে।
​রোজ তার ওষ্ঠাধরে এক ক্রূর হাসি ঝুলিয়ে বিদ্রূপের স্বরে বলল-

​”তো মিস্টার ই-উ-ভি, আপনি যে আমার স্বামী, আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম!”
​ইউভান যখনই রোজের পায়ে হাত দিয়ে সেই স্পর্শ অনুভব করতে চাইল, রোজ তার পাঁজরে আরও জোরে চাপ দিয়ে তাকে স্থির করে দিল। সে হাতের ঘুঙুরগুলো অবজ্ঞার সাথে ইউভানের কোলের ওপর ছুড়ে মারল।

​”আজ্ঞে! স্বামীসেবা করা তো সকল নারীর ধর্ম। ঘুঙুরটা না হয় নিজ হাতেই পরিয়ে দিন। আর হ্যাঁ, মনে রাখবেন
রোজ তূর্জ চৌধুরী যেমন নাচতে পারে তেমন, নাচাতেও পারে!”

ইউভান ক্রোর হাসলো। ভিতরের আগ্নেয়গিরি অগ্নুৎপাতপর মতো জলতে থাকা ক্রোধকে ভিতরেই পিষে রাখলো। রোজের পায়ের তলায় পিষ্ট হয়েও ইউভানের অক্ষীপলে কোনো পরাজয়ের ল্যাশ মাত্র নেই। অর্ধাঙ্গীনির ফর্সা পায়ের পাতায় নিজের শুষ্ক ওষ্ঠাধর চেপে ধরে চুমু খেলো।উষ্ণ ছোঁয়ায় রোজের সর্বাঙ্গে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ বয়ে যেতেই দ্রততর পাঁ সরিয়ে নিতে উদ্বৃত হলে ইউভান রোজের পাঁ নিজের হাত শক্ত করে চেপে স্থির করে ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামাতে শুরু করলো।রোজের পায়ের কোমলতা ইউভানের শক্ত উরুর মধ্যে সন্ধিস্থলে গিয়ে স্পর্শ করতেই রোজের শরীর এক হাড়কাঁপানো উত্তাপে কেঁপে উঠলো।মূহুর্তেই পাঁ সরিয়ে।
সোজা রুমের দিকে দৌড় লাগালো রোজ।বমি উগ্রে মূহূর্তেই বেরিয়ে আসবে যেনো।রোজ মুখ ভরে ওয়াক্ করতে লাগলো।

ইউভান ঠোঁট কামড়িয়ে পিছন পিছন গিয়েই রোজকে পিছন থেকে ধরে ফেললো।রোজের পিঠ ঠেকলো ইউভানের বুঁকে।
“উফফ!বান্দী নাটক না করে রেডি হয়ে নে।বের হবো একটু পর।”


ফার্মহাউসের জিম রুমে এসির মৃদু গুঞ্জনে মুখর। ব্রিটিশ চেহারার দামিয়ান তার ঘর্মাক্ত শরীরে একটা ব্ল্যাক স্লিভলেস গেঞ্জি পরে বারবেল হাতে নিয়ে বাইসেপ কার্ল করছে। হাতের শিরাগুলো ফেঁপে ফুলে উঠেছে।গেঞ্জির ফাঁক দিয়ে স্পষ্ট হলো বুক আর কাঁধের সুগঠিত পেশি।
​পাশে ট্রেডমিলে রাহা। সেটার উপর দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপিয়ে উঠে দামিয়ানকে জিজ্ঞেস করলো।
​”দামি ভাই, বনপাঠাটাকে তো দেখছি না ! কই গেলো? পৃথিবীর বাইরে নাকি?এলিয়েনটা অবশ্য পৃথিবীর বাহিরেই মানায়।”

​দামিয়ান বারবেল নামিয়ে ফ্লোরে বসে পুশ-আপ শুরু করলো। মাটির সাথে বুক ঠেকিয়ে উপরে ওঠার সময় দাঁতে দাঁত চেপে বাঁকা হেসে বললো-
​”মিস করছিস নাকি?”
​রাহা ট্রেডমিলের স্পিড কমিয়ে দিয়ে তাচ্ছিল্যের সুরে বললো
​”আমি? হাহ্, নেভার!”
​দামিয়ান ঘাম মুছতে মুছতে নির্লিপ্ত স্বরে বললো-
​”তো জেনে কী করবি?”

​রাহা চোখ উল্টে ট্রেডমিল থেকে নেমে ওয়াটার পট থেকে ঢকঢক করে পানি খেয়ে নিলো। দামিয়ান লম্বা শ্বাস ফেলে হায়হুতাশ করতে লাগলো।
​”মেয়েটার ওপর তোর ভাই যে কী ঝড় তুলছে কে জানে!”

​রাহা পানি খাওয়া থামিয়ে বিরক্তিমিশ্রিতস্বরে বললো।
​”কিচ্ছু করবে না দেখে নিও… আমি ড্যাম সিওর! ফালতু মেয়েটাকে ভাই কিচ্ছু করে না, স্রেফ ভয় দেখায়।”
​কথাটা শুনেই দামিয়ান বিষম খাওয়ার মতো কেঁশে উঠলো।
​”কী বললি সিস্টার? এর থেকে ভালো ছিলো বলতি যে দামি ভাই সূর্য পশ্চিম দিক দিয়ে ওঠে, আমি বিশ্বাস করে নিতাম! রিক কিচ্ছু করবে না? হাস্যকর!দেখ গিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে।”

​রাহা একটু গম্ভীর হয়ে ভাবলো, তারপর অদ্ভুত এক প্রশ্ন করলো।যা শুনে দামিয়ানের ফ্লোরে বসে হেঁসে গড়াগড়ি খেতে মন চাইলো।রাহা বলল।
​”ওহ্ গড! আচ্ছা, ওই রোজ কি কোনো কালাজাদুর বংশের নাকি? কোনো ব্ল্যাক ম্যাজিক-ট্যাজিক করে নাকি?”

​ঠিক তখনই পেছন থেকে হায়া জিম ড্রেস পরে আয়নার সামনে এসে দাঁড়ালো।চুলগুলো পনিটেইল করতে করতে সে দামিয়ান আর রাহার আলোচনার-সমালোচনার মাঝখানে ঢুকে পড়লো।

​”কালাজাদু? ওই যে ইন্দোনেশিয়ান আর তুর্কিশ মুভিতে যেমন দেখায় ওগুলো নাকি? আসলে কি এগুলো হয় নাকি হুদাই?”

​হায়াকে দেখেই দামিয়ান নাক-কপাল কুঁচকে বিরক্তির চরম সীমায় পৌঁছে গেলো।
​”ওই চলে এসেছে বেহায়াটা! জিম রুমে এসেও শান্তি নেই! চুইংগামের মতো চিপকাতে চলে আসে সারাক্ষণ!”

​হায়া আয়না থেকে চোখ সরিয়ে তড়তড়িয়ে বলে উঠলো-
​”হোয়াট ডু ইউ মিন বাই বেহায়া! দেখুন, আপনাকে কতবার বলেছি আমার নাম ‘হায়া’, বেহায়া না!”

​”ওরিব্বাশ! তোমার সাথে ‘বেহায়া’ নামটাই পারফেক্টলি যায়। যে-ই না চেহারা নাম রাখছে বেহায়া।”

​”আর আপনি কী? নাকউঁচু লোক একটা! আপনার নাকটা দেখুন, খাম্বার মতো লম্বা!”
​রাহা মাঝখানে এসে থামানোর চেষ্টা করলো।
​”উফ্, তোরা থামবি? হায়া, আমার ফোনটা দে তো…”
​হায়া ফোনটা এগিয়ে দিতেই রাহা দ্রুত কল দিতে শুরু করলো। দামিয়ান আর হায়া একযোগে বললো।
​”কাকে কল দিচ্ছিস?”

“তাইওয়ানকে”
​দামিয়ান এবার জিম শেষ করে পাউরুটিতে মাখন মাখাতে মাখাতে অবাক হয়ে বললো।
​”তুষারের জন্য হঠাৎ তোর এত দরদ উথলে উঠছে কেন?”
​রাহা ফোনের রিং হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে দাঁত কিড়মিড় করে বললো
​”দরদ না, মার্ডার করব! হাত চুলকাচ্ছে একদম!”

​”কীহ্!”

“নিকোলাস গায়েব হলো কী করে বুঝতে পারছি না!”
​দামিয়ান ভ্রু কুঁচকে কথার পুনরাবৃত্তি ঘটালো।

“নিকোলাস? ওই যে তোর বন্ধু?”

“আহ্, ফাক্’ড আপ!ছিলো এখন না”

​হায়া তখনই প্রসঙ্গ পাল্টে বলল, “ওই নিকোলাস বেটা না, কোন হোটেলে দুটো মেয়ে নিয়ে ধরা খেয়েছিলো? একটা মহিলা নাকি বিবাহিত ছিলো!শালার কারেন্ট কতো ভাবা যায়। সেই নিকোলাস না?”
​রাহা বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে বললো, “হ্যাঁ! মাদারফা*কার!,আমার সাথে এখন যোগাযোগ নেই, কিন্তু স্লাটটা নাকি উধাও।আই মিন গায়েব,জানতাম না আমি।”
​দামিয়ান পাউরুটিতে শেষ কামড় দিয়ে প্রশ্ন করলো, “তো এর সাথে তুষারের কী লেনদেন? তুষার কেন এর মাঝে আসবে?”
​রাহা এবার একটু গোপন স্বরে বললো যেনো কথা ঘুনাক্ষরেও জিম রুমের বাহিরে না যায়।

“ইয়েস্ অনেক লেনদেন…তাইওয়ান একবার মেরেছিলো নিকোলাসকে।

“কী বলিস! এই ঘটনা আবার কবে ঘটলো।সাব্বাস।লিলা খেলা শুধু তোরাই দেখিয়ে গেলি।এই খবর তো জানতাম না,তুই তো বলিস নি।!”

“আস্তে বলো!ডেনমার্কের কাহিনী।”


ফার্মহাউসের পেছনের গ্যারেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইউভান। পড়নে কালো চামড়ার জ্যাকেট, সুঠাম, পেশিবহুল শরীরের ওপর যেনো দ্বিতীয় চামড়ার মতো লেপ্টে আছে। রাতের আঁধারে গ্যারেজের আবছা আলোয় পুরুষটার তীক্ষ্ণ চোয়াল আর চোখের ভেতরের সেই পৈশাচিক দ্যুতি তাকে আরও বেশি অভিশপ্ত দেখাচ্ছিলো।​রোজ পেছন থেকে গ্যারেজের দিকে এগিয়ে এলো।ইউভানের অকম্পিত পিঠের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “আমাকে এখানে কেন নিয়ে এলেন?”
​ইউভান কোনো কথা না বলে রোজের কোমড়ে প্রকম্পিত টানে নিজের শক্ত হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলো। গ্যারেজে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ইউভানদের নানারকম গাড়িগুলো। একদম সামনেই একটা গাড়ি সাদা কাপড়ে ঢাকা। ইউভান রোজকে নিয়ে সেই গাড়িটার সামনে দাঁড়ালো। মুহূর্তের মধ্যে কাপড়ের ওপর থেকে হাত সরিয়ে নিলো সে।
​নিচে ঢাকা পড়ে থাকা গাড়িটা উন্মোচিত হতেই রোজের নেত্রপল্লব বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে উঠলো একদম টকটকে রেড ওয়াইন রঙের একটা স্পোর্টস কার! গাড়ির চকচকে বডি থেকে প্রতিফলিত হচ্ছে লাইটের আলো। ইউভান রোজের হাত ধরে তার অনামিকা আঙুলে ধাতব কিছু একটা পরিয়ে দিলো।ধাতব কিছুর স্পর্শ পেতেই রোজ বিস্ফোরিত আঁখিপল্লবে নিজের হাতের তালু উল্টে দেখলো, গাড়ির চাবির রিং। ইউভানের অগ্নিধূসর চক্ষুদ্বয়ের দিকে তাকানোর আগেই মাফিয়াটা ক্রূর হেসে তার খসখসে কণ্ঠে আদেশ দিলো।
​”উঠ, গাড়িতে উঠ!”

​”আমি যাব না আপনার সাথে!

“আমার সাথে যেতে কে বলল? তুই গাড়িতে ওঠ, আমি যাবো বাইকে!”

​ইউভান দ্রুত পায়ে পেছনে গিয়ে তার হেভি বাইকে উঠলো, মাথায় হেলমেট চাপিয়ে নিলো। রোজ ইতস্তত করতে থাকলো ইউভান ধমক দিলো, “তুই কি নিজেই উঠবি, নাকি জোর করে ওঠাব আমি?”

“পালানোর সুযোগ দিচ্ছেন নাকি?ভয় হয় না? যদি গাড়ি নিয়ে চলে যাই।আপনার অন্ধকার গোলোক ধাঁধা থেকে।”
​ইউভান হেলমেটের ফাইবার গ্লাসের আড়াল থেকে বিড়বিড় করলো, “রাইট!পালানোর সুযোগ দিচ্ছি।কান ডাউন স্টার্ট রাইট নাও।”

“ওকে ফাইন! রেসের জন্য প্রস্তুত হন!”
​রোজ দ্রুত স্পোর্টস কারটিতে গিয়ে বসলো। ইউভানের ইশারায় দুইজন গার্ড মেইন গেট খুলে দিলো। রোজ গাড়ির এক্সেলারেটরে চাপ দিতেই বাইক নিয়ে ইউভান এসে দাঁড়ালো রোজের সমান্তরালভাবে। রোজ এক পলক ইউভানের দিকে দৃষ্টি অগোচর করেই গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিলো, মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি বাতাসের গতিতে ছুটে চললো। ইউভানের বাইকও তার পিছু নিলো।​ক্যালিফোর্নিয়ার সরু, নির্জন জঙ্গলের রাস্তায়। দুই পাশে উঁচু উঁচু পাইন গাছ, মাঝখানে পিচের রাস্তা। রোজ গাড়ির গতি আরও বাড়াতেই ইউভানের বাইক তীব্র গতিতে গাড়ির সোজা সমান্তরালে চলে এলো। বাইকের গর্জন আর গাড়ির ইঞ্জিনের আওয়াজ জঙ্গলের নীরবতা চুরমার করছে।।
​হঠাৎ, ইউভান বাইকটা চলন্ত অবস্থায় ছেড়ে দিয়ে লাফ দিলো! বাতাসের মাঝে এক মুহূর্ত ভেসে থেকে সে সরাসরি রোজের স্পোর্টস কারের ছাদের ওপর ল্যান্ড করলো। গাড়ির গতি তাতে বিন্দুমাত্র কমলো না, বরং ইউভান ছাঁদ আঁকড়ে ধরে জানলা দিয়ে রোজের চোখের দিকে তাকিয়ে এক হিংস্র হাসি হাসলো।যেনো সিংহের খাঁচা ত্যাগ করার উপায়ন্তর রোজের আর নেই।তীব্র বাতাসের তোড়ে ইউভানের অবাধ্য চুলগুলো কপালের ওপর এসে পড়ছে। চলন্ত গাড়ির ছাদ থেকে ঝুঁকে পড়ে রোজের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো
“ডোর ওপেন কর!”
​রোজ জানলার কাঁচ নামাতেই ইউভান ক্ষিপ্র গতিতে গাড়ির ভেতরে ঢুকে আয়েশ করে বসে পড়লো।
“আহ্! যাস্ট ফিল লাইক এ পার্সোনাল ড্রাইভার!”
​রোজ বিরক্তি ভঙ্গিমায় ক্ষিপ্তকন্ঠে বললো-“আপনি চাইছেনটা কী!”
​ইউভান খপ্ করে রোজের উপর ঝুঁকে পড়লো রোজের কার্ণিশে পুরুষালি ওষ্ঠাধর দিয়ে ঘর্ষণ করে , নেশাতুর কণ্ঠে হুঙ্কার দিলো-, “কতকিছুই চাই… দিবি নাকি? কিস্ মি ডার্লিং!”
​”অসহ্য!” -​রোজের নাক-মুখ কুঁচকে উঠলো। ইউভান নিজের প্যান্টের পকেট থেকে একটা রিভলবার বের করলো।তারপর সযত্নে আঙুল দিয়ে বন্দুকের নলটি ঘষতে ঘষতে বললো।

“কার ড্রাইভিং শিখেছিস কোন মাদারফাকার থেকে?”-মুহূর্তেই ইউভানের অক্ষীপলে পৈশাচিকতা ছাপ ফুটে উঠলো।
​রোজ গাড়ির চালনায় মন দিয়েও আচমকা বলে উঠলো, “শিখেছিলাম একজন ট্রেইনার থেকে… তবে কী থেকে যে কী হয়ে গেলো… ওনার হাত দুটো এক্সিডেন্টের কারণে কেটে ফেলতে হয়েছে… খুব খারাপ লেগেছিলো… দুটো হাতই নেই আর।”
​ইউভান রিভলবারের ঠান্ডা নলটা রোজের চুলের ওপর দিয়ে স্লাইড করতে করতে বলল, “ওহ্ শিট ফা’ক! তারপর তারপর… বেচারা! ইশশ!”
​রোজ দাঁতে দাঁত পিষে বিরক্তিস্বরে বলল, “আপনাকে কেন এসব বলছি আমি! কোথায় যাচ্ছি সেটা বলুন!”
​ইউভান খাক্ খাক্ করে উঠলো,- “গাড়ি কি আমি চালাচ্ছি নাকি তুই?”
​আচমকা রোজের মস্তিষ্কে হানা দিল ঠিকই তো, গাড়ি তো সে-ই চালাচ্ছে! তবে কোথায় চলে এলো? গাড়িটি ঘন গভীর জঙ্গলের ভেতর ঢুকে পড়েছে। বিশাল বিশাল পাইন আর ফার গাছের ভিড়ে দিনের আলোও এখানে এসে পৌঁছায়ও না। ডালপালার আড়ালে আকাশ ঢাকা, জঙ্গল থেকে ভেসে আসছে অদ্ভুত সব পশুপাখির ডাক,বুনো নেকড়েদের ভয়ানক হুঙ্কার। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দের রোজ ভয়ে থুথু গিলে ইউভানের দিকে তাকালো।
​হঠাৎ গাড়ির সামনে বেশ কয়েকজন কালো পোশাক পড়া লোক দাঁড়িয়ে পড়লো। রোজ ব্রেক কষে গাড়ি থামিয়ে ফেললো। আতঙ্কিত রোজ ইউভানের দিকে দৃষ্টি ফেললো।
“কা… কে এগুলো!

“ফা’কিং ডোন্ট নো…”

​ইউভান গাড়ির উইন্ডো দিয়ে মাথা বের করে কালো পোশাকধারী লোকগুলোর দিকে তাকালো। পুরো জঙ্গল ঘিরে রেখেছে শক্তিশালী স্নাইপাররা, তাদের রাইফেলগুলো নিশানা করে আছে রোজের গাড়ির দিকে। ইউভান সামনের লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ চোখের ইশারা করলো।রোজের দৃষ্টির অগোচরে!

গাড়ির দরজা খোলার সাথে সাথে ইউভান ঝড়ের বেগে বেরিয়ে এলো, তার ঠিক পরেই রোজ। গভীর জঙ্গল তিমিরে ঢাকা অন্ধকার।টিমটিমে চাঁদের আলোর আবছা রেখা গাছের ফাঁক দিয়ে এসে পড়ছে। রোজ বের হতেই ইউভান চট করে গাড়ির চাবিটা খুলে গাড়ির টায়ারের নিচে ফেলে দিলো।
​রোজ ভয়ে থরথর করে কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলো, “ল… লোকগুলো কি আপনার?”
​ইউভান নির্বিকারভাবে বলল, “না!”
​রোজ ভয়ে দ্রুততর ইউভানের কাছাকাছি চলে এলো। তীব্র বাতাসে রোজের অবাধ্য চুলগুলো উড়ে এসে তার মুখে পড়ছিলো। চুলে হাত দিয়ে সেগুলো সরিয়ে রোজ আর্তস্বরে বললো, “চলুন এখান থেকে! এরা কি আপনার শত্রু? মারতে চায়? এখানে থাকা একদমই সেফ হবে না!হায় খোদা! কোথায় চলে এলাম।”
​ইউভান কোনো উত্তর না দিয়ে আবার স্নাইপারদের দিকে তাকালো। তার চোখে এক মুহূর্তের তীক্ষ্ণ ইশারা! পরক্ষণেই স্নাইপাররা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলো। গুলির শব্দে জঙ্গলের নীরবতা চুরমার হয়ে গেলো। রোজ আতঙ্কে চিৎকার করে ইউভানের শক্ত জ্যাকেট খামচে ধরলো।
​কিন্তু ইউভান তো ইউভানই। সে রোজকে জড়িয়ে ধরে ৩৬০° অ্যাঙ্গেলে ঘুরিয়ে দিলো, রিভলবারটা রোজের ডান হাতের মুঠোয় সজোরে গুঁজে দিলো। রোজ কিছু বোঝার আগেই ইউভান নিজের হাত দিয়ে রোজের হাতটা পেঁচিয়ে ধরলো, যেনো সে নিজেই বন্দুক ধরে আছে।​ইউভানের তপ্ত নিঃশ্বাস রোজের কানের কাছে এসে ফিসফিসাল,
“কোল ডাউন! ভয় পাস না, শুধু ট্রিগারে চাপ দে!”
​ইউভান রোজের হাত দিয়ে স্নাইপারদের দিকে একের পর এক গুলি ছুড়তে লাগলো। প্রতিটি গুলির শব্দে রোজের শরীর কেঁপে উঠলো।রোজ কাঁদতে কাঁদতে বললো।
“-এরা কি মেরে ফেলবে আমাদের??”

ইউভান রোজকে নিয়ে গাছের আড়াল থেকেই রোজের হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে প্রতিটি অ্যাঙ্গেল থেকে স্নাইপারদের দিকে গুলি চালালো।
“-একত্রে মরতে কি খুব বেশি অসুবিধে হবে তোর?”

ঘন জঙ্গলের তীব্র বাতাস, গুলির কড়া গন্ধ আর বারুদের বিকট শব্দের মাঝে ইউভান রোজের কানের কাছে মুখ নিয়ে, রোজের ঘন বাদামী কেশযুগল আলতো করে সরিয়ে দিয়ে, এক ভয়াবহ শান্ত স্বরে ফিসফিসালো।ইউভানের পাথুরে মন ভেদ করে এক সিম্বলিক শব্দ বের হলো।
-“Rose 5201314.< 3”

চলবে??

গল্পটা কি একেবারে ঈদের পর দিবো??কারণ কোনো কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব না।আমিও বুঝতে পারছি না।আপনারা আজকে অন্তত সাইলেন্ট না থেকে বলুন।কন্টিনিউ করবো??সমীকরণ মিলিয়ে যদি দেখি যে আপনারা চান তাহলে দিবো।আর না হলে একেবারে ঈদের পর।🙂

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply