Golpo Love or hate romantic golpo

Love or Hate পর্ব ৩২


Love_or_Hate

|#পর্ব_৩২|

ইভেলিনা_তূর্জ

⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে

ফেব্রুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ায় বেশ ঠান্ডাই থাকে। তবে তেমন হাড়কাঁপানো শীত বলা চলে না বরং একটা ‘Crisp & Cool’ আবহাওয়া। দিনের বেলা তাপমাত্রা ১৫°C থেকে ২০°C এর মধ্যে থাকে,এবং রোদ ঝলমল আকাশে থাকলেও সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার সাথে সাথেই তাপমাত্রা যেন দ্রুতলয়ে নিচে নামতে শুরু করে। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল পৌনে পাঁচটা। গোধূলির শেষ রেশটুকু জানলার কাঁচ ভেদ করে ঘরের ভেতর আছড়ে পড়ছে।
​রোজ ঘুম থেকে উঠেছে ঘণ্টা দুয়েক আগে। গত রাতে ঘুমের ঘোরে কখন তলিয়ে গিয়েছিলো, তার হিসেব নেই অষ্টাদশীর। কিন্তু আজ বড্ড অসময়ে দীর্ঘ সময় ঘুমিয়েছে সে।পড়নে সাদা-লাল চেরির নকশা করা উলের কার্ডিগ্যান আর লং স্কার্ট নিয়ে সে জনমানবহীন বিশাল ফার্মহাউসটিতে পায়চারি করছে। বাড়িটা অদ্ভুতভাবে খাঁ খাঁ করছে,কেউ নেই।শুধু বাহিরে কালো পোশাকধারী জলহস্তীর মতো লম্বা লোকগুলো বাদে। ইউভানদের না দেখতে পেয়ে রোজের মন কিছুটা স্বস্তি দিলো।শয়তানটা না থাকলেই তার শান্তি।প্রচণ্ড ক্ষুধার তাড়নায় অবশেষে সে কিচেনের দিকে পা বাড়ালো।এতো বড় বাড়িতে একটা পরিচারিকা নেই আশ্চর্য! ডেনমার্কে তো লিসা মোনা ছিলো।ইশশ!রোজ লিসাকে মিস্ করছে।সে এখানে থাকলে খুব ভালো হতো।
​ক্যাবিনেট হাতড়ে এক প্যাকেট স্প্যাগেটি আর ফ্রিজ থেকে একে একে পারমেজান চিজ, চেরি টমেটো, মাশরুম আর এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল বের করল রোজ। রন্ধনশৈলীতে তার জ্ঞান অতি সামান্য! প্যাকেটটা হাতে নিয়ে যখন সে মহাযুদ্ধের প্রস্তুতির মতো পেঁয়াজ কাটতে শুরু করলো, ঠিক তখনই পেছনে কারো পায়ের শব্দ পেল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখল এক তন্বী কিশোরী খুব সাবলীল ভঙ্গিতে লাফ দিয়ে কিচেন ক্যাবিনেটের ওপর আয়েশ করে বসে পড়েছে।
​ড্রপ-শোল্ডার ব্ল্যাক টি-শার্ট আর ছোট করে ছাঁটা চুলে মেয়েটির চাহনিতে এক বেপরোয়া চপলতা। রোজকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেয়েটি মুচকি হাসলো।
__​” হায়া… হায়া সোলেমান!”

_​ “রাহার বন্ধু? “

“ইয়া”-মেয়েটির প্রাণবন্ত ভঙ্গি রোজের ভালো লাগলেও এই বাড়ির কাউকেই সে বিশ্বাসের চোখে দেখতে পারছে না।এরা সবাই একি রকম।
​হায়া ক্যাবিনেট থেকে নিচে নামলো। রোজের হাতে ধরা কাঁচা পেঁয়াজ আর স্প্যাগেটির প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে এক গাল হেসে বললো, “রোজ! তুমি মনে হয় রান্না একদমই পারো না, তাই না? চাইলে আমি হেল্প করতে পারি!”
​রোজ কিছুটা দ্বিধায় পড়লো। তবুও নিজের ক্ষিদের কথা চিন্তা করে সে একটু নরম গলায় বলল, “তুমি লাঞ্চ করোনি?”
​হায়া মাথা নেড়ে জানালো সে-ও মাত্রই উঠেছে। “নাহ! আমি তো জমিদারের বংশধর, উঠলাম এই কিছুক্ষণ আগে। রাহা তো সকালে ওর ইউনিভার্সিটিতে চলে গিয়েছে,আমাকে না বলেই।”

_”আর… মানে বাকিরা?”

হায়া হাসলো। “আর কে? রিক ভাইয়া? ওনাদের খবর আমি জানি না। হবে হয়তো কোনো কাজ নিয়ে ব্যস্ত।হু নো’স!” ​রোজ ভ্রু কুঁচকিয়ে দ্রুত উত্তর দিলো, “আমি ডেবিলটার কথা জানতে চাইনি!”

হায়া রোজের হাত থেকে ছুরি আর পেঁয়াজটা নিলো। খুব দক্ষ হাতে পেঁয়াজ কুঁচাতে কুঁচাতে হায়া হেসে বলল,_”Ummh!! রিক ভাইয়ার সাথে তোমার রসায়নটা বোধহয় খুব একটা জুতসই না, তাই না?”

​রোজ ইলেকট্রিক চুলাটা জ্বালিয়ে তাচ্ছিল্যের এক বাঁকা হাসি হাসলো। তার কণ্ঠে ঝরে পড়ল জমাটবদ্ধ তিক্ততা
“থাকার কথা নাকি? ওনার মতো একজন পাষাণ পুরুষ, স্বার্থবাজ লোকের সাথে কোনো সুস্থ মানুষের সম্পর্ক কি স্বাভাবিক হতে পারে? যার হৃদয়ে পাথরের রাজত্ব, তার সাথে আর যাই হোক স্বাভাবিকতা চলে না।”

​হায়া আলতো করে রোজের মাথায় হাত রাখলো। শান্ত স্বরে বলল, “সৃষ্টিকর্তা চাইলে এই পৃথিবীতে অনেক কিছুই সম্ভব রোজ। এই যে আমি এখানে, এটাও কি কম আশ্চর্যের? রাহা আর আমি স্রেফ সোশ্যাল মিডিয়ার ফ্রেন্ড ছিলাম। সামনাসামনি দেখা হয়েছে যাস্ট একবার ডেনমার্কে। অথচ দেখো,সেই পাকিস্তান থেকে স্রেফ একটা অনলাইন ফ্রেন্ডের কথায় বিয়ে থেকে পালিয়ে আমি আজ সাতসমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে এই ক্যালিফোর্নিয়ায়। অদ্ভুত লাগছে না শুনতে?”
​রোজ অবাক চোখে হায়ার দিকে তাকালো। কৌতূহল মেশানো গলায় জিজ্ঞেস করল, “কিন্তু… তোমার অস্বস্তি লাগে না এখানে থাকতে?
​হায়া এবার প্রাণখোলা এক হাসি হাসল, যেন তার কাছে এসব খুব সাধারণ। সে স্প্যাগেটিগুলো ফুটন্ত জলে ছাড়তে ছাড়তে বলল, “কই, না তো! আমার তো বরং বেশ ভালোই লাগে।পাওয়ার অরা তে আছি বলেই এখন নিজেকেও পাওয়ারফুল মনে হয়।আর রাহা আমার কলিজার টুকরো। ভাগ্যক্রমে একটা ফ্রেন্ড পেয়েছি মাশাল্লাহ মুখ চলার থেকে বেশি হাত চলে।ন*ষ্টের চেয়েও ন’ষ্ট আমার বেস্টি ন’ষ্টামিতে শ্রেষ্ঠ। “

_“তোমরা বিপরীতমুখী!”

_“কিভাবে??”

_“এই যে তোমার জায়গায় এতোক্ষণ নিঃসন্দেহে ওনার বোন থাকলে আমায় দু’চারটে কথা শুনিয়ে যেতো।”

হায়া চোখ উল্টোলো-“হাহ!তুমি রাহার কথায় রাগ করো না।মনের দিক থেকে ও অনেক ভালো! রিক ভাইয়া যা বলে তা ঘুনাক্ষরেও অমান্যে করে না,যদি ভাইয়া নিষেধ করে দেখবে আর পিন্চ মারবে না তোমায়।”

হায়ার কথাগুলো শুনতে শুনতে রোজের অবচেতন মনটা হঠাৎ যেন সময়ের অতল গহ্বরে ডুব দিলো। সবার জীবনেই তো এক-আধজন বিশ্বস্ত বন্ধু থাকে।অনেকদিন পর আজ আনানের মুখটা বড্ড বেশি মনে পড়ছে তার। ছোট্ট বাচ্চা ছেলেটা কি এখন রোজকে খুব মিস করছে? নাকি রোজের এই নিরুদ্দেশ হওয়া তাকে এক পাহাড় অভিমানে পাথর করে দিয়েছে?কি মিষ্টি করেই না রোজ বলে ডাকতো।এড’শ? মানুষটা ভালো।বয়সের বিশাল তফাৎ হলেও একেই মনে হয় বলে বন্ধুত্ব।যদি তাই হয় এড’শ রোজের জীবনে সেই বন্ধুই।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রোজ মনে মনে ভাবলো ভালোই হয়েছে তারা নেই,ভালোই হলো রোজকে ইউভান নিয়ে এসেছে। তার এই কালিমালিপ্ত জীবনের দীর্ঘ ছায়া ঐ দুটো মানুষ কেন পৃথিবীর আর কারোর ওপর পড়তে দিতে চায় না আর।

লোকে তো ঠিকই বলে, হতভাগী যে ঘাটে যায়, সে ঘাটের জলই শুকিয়ে যায়।
তবে খুব করে প্রার্থনা করলো দুটো মানুষ যেনো ভালো থাকে খুব ভালো।এড’শ যেনো তার খুঁজ ইহো জীবনেও আর না করে।

রোজের বিভ্রমকে ভেঙ্গে ঠিক সেই মুহূর্তে বাড়ির বাহিরে একটা মার্সিডিজের শব্দ হলো অতঃপর রান্নাঘরে হন্তদন্ত হয়ে ঢুকল রাহা।ইউনিভার্সিটি থেকে চলে এসেছে।মুখাবয়বের চুরোত ততোটাও সুবিধার না যেনো আবার কোন ঝামেলা পাকিয়ে এসেছে।তার মুখভঙ্গি দেখলেই বোঝা যায় সে বিষ উগড়ে দেওয়ার জন্য সর্বদা তৈরি। রাহা হায়াকে ডেকে ভিতরে ঢুকে রোজকে স্প্যাগেটি বানাতে দেখে বলল, “আমার জন্য একদমই বানাবে না! তোমার রান্না আমি খাব না… ডিসগাস্টিং!”
​রোজ রাহার দিকে না তাকিয়েই স্প্যাগেটির ফুটন্ত পানির দিকে মন দিল।
“আশ্চর্য তো তোমার জন্য কে বানিয়েছে? আমি আমার নিজের জন্য বানাচ্ছি,আর হায়া ওনি খাবে।!”
​রাহা রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে রোজের দিকে তেড়ে যেতে চাইল।
“হায়া আমরা রাতে ডিনারে সান্তা ক্লারায় যাবো।”

কিন্তু এক মুহূর্তের হায়া এসে খপ করে রাহার হাত ধরে!। তার শক্ত গ্রিপ রাহাকে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করলো।
​রাহা নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে রোজের পিঠের দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি রুম থেকে বের হলে কেনো??তোমার মুখটা দেখলে আমার অসহ্য লাগে!…তোমার মতো মেয়ে আমার ভাইকে ডিজার্ভ করে না! আমার ভাইয়ের পেছনে মেয়েরা লাইন ধরে থাকে!”

​রোজ এবার হাতের কাজ থামিয়ে রাহার মুখোমুখি দাঁড়ালো। চোখের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে বলল, “তাই? যারা লাইন ধরে থাকে তাদের কাছে পাঠিয়ে দাও পার্সেল করে! আমাকে কেন আটকে রেখেছে তোমার ভাই? কষ্ট দিতে?”
​পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হায়া ঠোঁট চেপে হাসি থামালো-“প্রথম স্ত্রী অনুমতি দিলে নাকি দ্বিতীয় বিয়ে করা যায়??”

রোজ এক পলক হায়ার দিকে তাকালো খানিক চুপ থেকে বললো- একটা কেন, একশটা বিয়ে করাও! বেঁচে যাই আমি”
​রাহা এবার রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল, “মন চাচ্ছে এখনই বের করে দিই তোমায় বাড়ি থেকে!কি এমন আছে এই মেয়ের মধ্যে আই ডোন্ট নো।লারা ফার ফার বেটার দ্যান ইউ!”
​রোজ এবার রাহার চোখের দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে জবাব দিল, “আচ্ছা!আমায় বের করার আগে নিজের কথা চিন্তা করো।তোমার সময় এসেছে বাড়ি ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার!”
​রাহা চিৎকার করে উঠলো, “ইউ ব্লাডি ইডিয়ট!”
​রোজ চুলগুলো কানের পিছে গুঁজে দিয়ে প্রতিধ্বনি করল, “ইউ অলসো!”

রাহা ততক্ষণাৎ উত্তেজিত হয়ে পুরোপুরি হাইপার,পড়নের জ্যাকেটটা খুলেই রোজের উপর ছুঁড়ে মারলো।হঠাৎ রাহার এহন কান্ডে রোজ প্রায় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে যেতে বেঁচে গেলো।অতঃপর হায়ার হাত ধরে হিড়হিড়িয়ে টেনে টেনে নিয়ে যেতে যেতে রাহা বলল-
“রোজের সাথে এতো চিপকাচ্ছিস কেন?ডিজগাস্টিং মেয়েটার ধারে কাছেও ঘেঁষতে যেনো না দেখি তোকে।”

__”এতো রেগে আছিস কেন??”

_”রুমে চল বলছি”

__”কি হ’য়েছে বলবি তো!”

রাহা দাঁতে দাঁত চেপে আলমারি থেকে নিজের পোশাক বের করতে করতে গর্জে উঠল,_“তুই জানিস রিক ব্রু আমাদের R.C group of industries এর চেয়ারম্যান উইমেন রোজকে বানিয়েছে!”

__”তো কি হয়েছে দোস্ত! তুই ও তো C.E.O”

__”What the hell is thiss!আমার এসবে ইন্টারেস্ট ছিলো না!ডেনমার্কে রিক ভাই যখন আমাকে C.E.O বানানোর উইল করেছিলো আমি সেইদিনই বারণ করেছিলাম যে আমি ভাইয়ের জায়গায় যেতে চাই না।তাও C.E.O বানালো আমায়। তাই বলে সেই উইলের সাথে ভাই গ্র্যানির জায়গা রোজকে দিবে??Chairman women like seriously!…একটা সাধারণ মেয়ে,কি আছে ওর মধ্যে। যাস্ট ফা*ক অফ।”

__”রিলাক্স দোস্ত! হাইপার হোস না।একটা হ’ট কফি বানিয়ে আনি তোর জন্যে?? খেলে ভালো লাগবে।”

__”না একটা হ’ট বয় নিয়ে আয় খেয়ে মরে যাই।”

__”কিহহহহ!”

__”সরি ন’ট বয়! obviously Man!প্লে-বয়গুলো শুধু লাগানোর ধান্দা খোঁজে বাট রিয়েল ম্যানরা বেড উইথ অ্যাদার সাইডেও পারফেক্ট! “

_“কি লাগায়??”

রাহা আড়চোখে তাকালো হায়ার পানে শুষ্ক কেঁশে বলল-
__”আ..হুম!ব্লুটুথ!”

হায়ার কান টমেটোর মতো লাল হয়ে রীতিমতো ধোঁয়া উড়তে লাগলো দু’হাতে কান চেপে বললো-
_“থাম!তুই শাওয়ার নিতে যা।মাথাটা পুরো ঝং ধরে আছে তোর।”

_“ঝং ধরবে কেনো সুইটু।আমার শিরায় শিরায় প্রতিনিয়ত হাই-ভোল্টেজ কারেন্ট বহমান। সো ঝং ধরার নো এনি চান্স! “

_“মাফ কার দে ম্যারি মা!”

_“অবিবাহিত নারীকে মা ডাকতে লজ্জা করে না তোর?”

_“জামাকাপড় পড়েই তো বসে আছি,লজ্জা কেন করবে??”

“খুলে ফেল!”

হায়া চ’ট করে মাথায় টাওয়াল জড়িয়ে দু’হাত উঁচিয়ে আর্তনাদ করার ভান ধরলো_“ছ্যাহ্ঃ রাহ!তুই আমার দেহ পাবি মন পাবি না।”

_“দেহই দরকার!”

_“কি দিনকাল এলো শেষমেশ তুই তোর বান্ধবীকে কুপ্রস্তাব দিচ্ছিস??ছ্যা্ঃহ্হহহ! লেসবু না আমি!”

_“চেংরির মেয়ে! আমিও না।উফফ!ম্যানদের এতো হ’ট সে’ক্সি বাইসেপ রেখে কেন যে ন’টি গুলো লেসবু হয় কে জানে?রস কষের বড়ই অভাব বুঝলি হায়া।”

_“তোর থেকে ধার দিলেও পারিস।”

“এই না পড়ে তোর ফিউচার দুলাভাই গলা শুকিয়ে ম’রে যাবে।”-অতঃপর একটু ম্লান হেসে রাহা তার স্লিভলেস টপটা শরীর থেকে আলগা করে বিছানায় ছুঁড়ে মারলো, নিজের মেইলি লাভ সেইপের ঠোঁটযুগল কাঁমড়িয়ে শাওয়ার রুমের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় বলল- “”Maybe! i like a man who doesn’t care about me! Hah! Bloody disaster… such a bull*shit he is!”

প্রেম?!হাতের মুঠোয় থাকা বসন্তকে তুচ্ছজ্ঞান করে আমরা সর্বদাই ওই দূর আকাশছোঁয়া কালবৈশাখীর প্রেমে পড়ি। হয়তো আমরা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেয়ে, কারোর অবহেলায় ধ্বংস হতেই বেশি ভালোবাসি।আমরা আজীবন সেই সব মানুষদেরই আরাধনা করি, যারা আমাদের নাগাল থেকে যোজন যোজন দূরে থেকেও হৃদয়ের গহীনতম প্রকোষ্ঠে একচ্ছত্র রাজত্ব চালায়!ঠিক যেমন অতল সমুদ্রের ঢেউগুলো সারা রাত জেগে কেবল দূর আকাশের ওই চাঁদটাকেই ছুঁতে চায়।ঠিক তেমন!”
____~_ “তুই এটা করতে পারলি রিক?” ​ইউভান তার হাতের দামী রিভলভারের নল দিয়ে লারার চিবুকটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরলো। তার ঠোঁটে সেই চিরচেনা পৈশাচিক হাসির রেখা। সে নিচু, গম্ভীর স্বরে জবাব দিলো- “আমি আরও অনেক কিছু পারি লারা। আজ শুধু আঙুলগুলো কেঁটেছি, তুই চাইলে তোর গলাটাও কেটে আমি দেখাতে পারি। দেখবি?”
​লারা দামিয়ানের হাত থেকে ব্যান্ডেজ নিয়ে রক্ত মাখা হাতে পেঁচাতে পেঁচাতে আক্রোশ মিশিয়ে বলল-
“শুধু তোর চুলে হাত দিয়েছি বলে তুই আমার আঙুলগুলো কেটে দিবি? স্রেফ এই কারণে?”
রেড ভেনম ক্লাবের নিয়ন রেড লাইটগুলোর ড্রামাটিক আলোয় ইউভানের অগ্নিধূসর চক্ষুদ্বয় যেনো আরো পৈশাচিক উৎফুল্লতায় আগ্নেয়গিরি অগ্নুৎপাতে কেঁপে উঠছে। ​ইউভান এবার রিভলভারের শীতল নলটা লারার কপালে সজোরে চেপে ধরলো।হিসহিসিয়ে বলল—
“হ্যাঁ দিলাম। নেক্সট টাইম যেনো তোর ওই আঙুলগুলো আমার চুল ধরার স্পর্ধা না করে। রিক আলবার্টকে ছোঁয়ার যোগ্যতা সবার নেই।” ​লারা হাতের অসহ্য যন্ত্রণার মাঝেই মরণকামড় দেওয়ার মতো করে বলে উঠলো, “আজ নতুন ধরেছি? আগে তো কতবার! বাক্যেক্তি শেষ করার আগেই ​ইউভানের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। সে লারাকে এক ঝটকায় সরিয়ে তিক্ত গলায় হুঙ্কার ধ্বনি মিশিয়ে বললো-
“আগে ব্যাপার অন্য ছিলো আর এখনকার ব্যাপার আলাদা। অন্য কারো স্পর্শ আমার কাছে এখন বিষের মতো লাগে।একজনের স্পর্শ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাটা দিন দিন আমায় আরো জা*নোয়ার বানিয়ে দিচ্ছে। “

_“বন্ধু হিসেবেও কি!”

_“কে বন্ধু!ভুলে যাস না যে তুই স্রেফ স্পাইডার গ্যাং এর একজন ফিমেল স্পাই লিডার। তোর আইডেন্টিটি সব এই রিক আলবার্টের তৈরি করা।”

হ্যাঁ বাইরের দুনিয়া লারাকে সবাই জানে ড্যানিশ ইন্সপেক্টর হ্যান্সেনের মেয়ে হিসেবে, যে কি না ডেনমার্কের অত্যন্ত মেধামী একজন ডিটেক্টিভ।বড় মেয়ে ইন্সপেক্টর মালিহা আর ছোট মেয়ে লারা।​বছক কয়েক আগে ডেনমার্কের লিয়িস্টার পরিবারের মেয়ে লারা এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়, ঠিক তখনই ইউভানের নজরে আসে এই নোহা যে কিনা আরহুসের ছোটখাটো একটা গ্যাং এর হয়ে কাজ করতো লেডি মাস্তান হিসেবে।নোহার চেহারার সাথে মৃত ড্যানিশ তরুণী ডিটেক্টিভ হ্যান্স লিয়িস্টার এর মেয়ে লারার হুবহু মিল দেখে ইউভানের সুনিপুণ পরিকল্পনায় নোহা হয়ে ওঠে ইন্সপেক্টর হ্যান্সেনের হারিয়ে যাওয়া সেই মেয়ে আর লেডি মাস্তান থেকে স্পাইডারের স্পাই।অতঃপর নোহাই লারা হয়ে হ্যান্সের বাড়িতে থাকছে ইউভানের কথায় স্পাইডারের এক দক্ষ স্পাই হিসেবে। তার কাজই ইন্সপেক্টরের ঘরের ভেতর এক অদৃশ্য স্পাই হিসেবে থাকা। ড্যানিশ ইন্সপেক্টরের ড্রয়ার থেকে অতি গোপন ফাইলগুলো চুরি করে ডেনমার্কের পুলিশ ডিটেক্টিভদের গোপন প্ল্যানিং গুলো ইউভানের টেবিলে পৌঁছে দেওয়াই ছিলো তার আসল কাজ। তার সাজগোজ, তার লাক্সারিয়াস লাইফ স্টাইল, এমনকি তার ডিটেক্টিভ হওয়ার গৌরব সবই ইউভানের দয়া।

​ইউভান আজ তাকে মনে করিয়ে দিলো, সে কোনো বন্ধু নয়, বরং রিক আলবার্টের দাবার ছকের এক বিশ্বস্ত গোলাম মাত্র। লারা এক নিঃশব্দ আক্রোশে দাঁড়িয়ে রইলো। সে জানত, ইউভানের ব্যক্তিগত সীমানায় ঢোকার চেষ্টা করলে তার পরিণতি ডেনমার্কের সেই মেয়েটির চেয়েও ভয়াবহ হবে।
​ইউভান নিজের কোটটা ঝাড়তে ঝাড়তে শেষ বারের মতো সতর্ক করলো-
_“তুষার তোকে ডেকেছে ক্লাবের কাজের জন্য, আমার চুলে হাত দিয়ে প্রেম নিবেদন করার জন্যে নয়।পরেরবার যদি ভুল করেও আমার ব্যক্তিগত সীমানায় ঢোকার চেষ্টা করিস, তবে তোকেও একটা ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবেই পৃথিবীর বুক থেকে সরিয়ে দেবো।

দামিয়ান পরিস্থিতি সামাল দিতে লারাকে ইশারা করে রুম থেকে বের হতে বললো।লারা দাঁতে দাঁত পিষে রাগে কটমট করতে করতে বের হলো।দামিয়ান সোফার এক কোণে বসে ইউভানের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো-
_”এতোটা রিয়েক্ট করা কি উচিত হলো তোর রিক??ভোলকভ, মার্বেল হামজা সব শয়তানগুলো আমাদের বিপক্ষে, দুর্দান্ত চাল চালছে। দামিয়ান টেবিলের ওপর রাখা ম্যাপটার দিকে আঙুল নির্দেশ করে আরও তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা দিলো- ​”ইতালির পালেরমো থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের ড্রাগ রুট পর্যন্ত সবখানে আমাদের সাপ্লাই চেইন ব্লক করা হচ্ছে। মার্বেল জেনে গেছে হিরে গুলো নকল ছিলো। তোর অনুপস্থিত থাকাকালীন ওরা আমাদের চারটে সেফহাউসে রেইড করিয়েছে। এখন তোর এই রেড ভেনম ক্লাবে বসে থাকাটাও নিরাপদ নয়। যে-কোনো সময় আমাদের মেইন প্যালেসে ওরা ব্ল্যাক-অপারেশন চালাতে পারে। যদিও আমি সিকিউরিটি আরও দশগুণ বাড়িয়ে দিয়েছি, ক্যালিফোর্নিয়ার সেরা স্নাইপারদের পজিশন নিতে বলেছি, তবুও রিক শত্রু যখন ঘরের দরজায়, তখন মাথা গরম করা মানেই বোকামো না??।” ​দামিয়ান ইউভানের চোখের দিকে তাকিয়ে শেষ সতর্কবার্তা দিল- ​”যা করার এখন ঠান্ডা মাথায় করতে হবে। লারা আমাদের ডিটেক্টিভদের ভেতরের চোখ, তাকে এভাবে অপমান করে দূরে ঠেলে দেওয়াটা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় স্ট্র্যাটেজিক ভুল। মার্বেল যদি জানতে পারে তুই মানসিকভাবে রোজকে নিয়ে এতোটা ডেসপ্যারেট, তবে সে তোর এই দুর্বলতাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে। তুই জানোয়ার হতে চাস হ, কিন্তু শিকারি হওয়ার আগে নিজেকে শান্ত কর। নাহলে দাবা খেলায় আমরা কিস্তিমাত হওয়ার আগেই হার চলে আসবে।”

​ইউভান কোনো উত্তর দিলো না। সে ধীর পায়ে জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। বাইরের নিওন আলোয় তার মুখটা এখন এক প্রাচীন পাষাণ মূর্তির মতো লাগছে। আচমকা সে হিসহিসিয়ে উঠলো-

_​”শালী বান্দীর ঘৃণা আমায় জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দিচ্ছে দামিয়ান! মন চায় কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে নিই। এই দুনিয়ার সব এখন ত্যক্ত লাগে আমার। ঘৃণা! ঘৃণা আর ঘৃণা করি! এই শব্দটা শুনতে শুনতে আমার কানে পচন ধরে গেলো। শালী কু*ত্তার বাচ্চা… আমার বাচ্চাটাকেও পেটের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে পারল না! শূন্যতায় বেঁচে থাকা এই আমিটাকে সে আরও বেশি শূন্য করে দিয়ে গেল।”

দামিয়ান একটু ইতস্তত করে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করলো-
“তুই কি সত্যিই মনে করিস রোজ নিজ থেকে এমন কিছু করেছে… মানে বাচ্চাটা নষ্ট করার পেছনে ওর ও হাত আছে?” ​ইউভান এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো। তারপর অট্টহাসি দিয়ে উঠলো সে হাসি যেনো কোনো প্রেতাত্মার বিলাপ। ​”নেভার! ওই বান্দী কি আমার মতো অমানুষ জানোয়ার না তো???তাহলে!বাট ও তো নিজেই আমায় মানুষ মনে করে না!বান্দীর চোখে আমি রেপিস্ট!”
​ইউভান এবার রিভলভারটা সরিয়ে রেখে পকেট থেকে একটি অ্যান্টিক লাইটার বের করলো। শিখাটা জ্বলে উঠতেই তার চোখে এক উন্মা*দনার ঝিলিক দেখা গেলো। সে নিকোটিনের প্রথম টানটা দিয়ে কালচে ধোঁয়া বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে নিজের চুলের উপর হাত ঘষতে ঘষতে বলল-

​”হ্যাঁ, রেপিস্ট! রেপিস্টই আমি! যদি আমার কোনো অধিকার না থেকে থাকে ঐ বান্দীর উপর, তবে তাকে ছোঁয়ার অপরাধে যদি রেপিস্টই হতে হয় তবে আমি ইউভান একবার নয়, সহস্রবার রেপিস্ট হতে রাজি! সহস্রবার!” ​ইউভানের গলার শিরদাঁড়াগুলো সাপের মতো ফুলে উঠলো। সে সিগারেটের ধোঁয়াটাকে হাতের মুঠোর ভেতর বন্দি করে খুব ঠান্ডা, ক্রুর গলায় শেষ কথাটা বলল- ​”একটা জানোয়ারের বাচ্চাকে আমি কবর থেকে তুলে নিজের হাতে জবাই করবো।
পরক্ষণেই একজন গার্ড এসে দামিয়ানের হাতে একটা ম্যাপ দিয়ে গেলো। দামিয়ান একটি ম্যাপের ওপর আঙুল ঠেকিয়ে বললো-

_“ভোলকভ তার নিজস্ব ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে অলরেডি জেনে গেছে রোজ এখন ক্যালিফোর্নিয়ায়।খবর আছে, তার সেরা ‘হিটম্যান’ টিমকে অলরেডি ক্যালিফোর্নিয়ার বর্ডারে মোতায়েন করেছে।স্ল্যাট টা রোজকে তোর থেকে কেড়ে নিয়ে তোকে জ্যান্ত কবর দিতে চায়।এন্ড রোজ অলসো ট্রাস্ট হিম।চেকমেট!হ্যাঁ দাবা খেলায় দুটো পক্ষ থাকে দু’পক্ষেরই দু রাজা থাকে সেনাসদস্য ঘোড়া থাকে তবে সেই খেলায় কিন্তুু দু’টো রানীর গুটিও থাকে!তবে তোর চেকমেটে শুধু একটাই রাণী!”

__”All of us in the world are part of some game. I Know He obsessed with Her. But She is already mine. What’s mine is mine, Rick Albert never gives anyone his share!…..Who the hell Fuking cares if Dark Rose wants/choose me or not.I will not give her chance to choose any option”-ইউভান হাসলো।-“আদ্রিয়ান রোজের কোনো ক্ষতি করবে না।আর পাবেও না।আমি তা হতে দিবো না।আদ্রিয়ানের সাথে তো এখন আর আমার অস্ত্রের খেলাই না অন্যে গ্যাংস্টারদের মতো।জানো’য়ারের বাচ্চার সাথে এখন শুধু আমার মাইন্ড গেইম চলবে।শুয়োরটাকে মাটিতে পঁচিয়ে সার বানাবো আমি।”

দামিয়ান নিজের বুঝলো ভোলাকভের সাথে লড়াইটা এখন আর মাফিয়া সংক্রান্ত না।তবে ফার্মহাউসের চারদিকে যে ল্যান্ডমাইন আর সাইলেন্ট কিলাররা ওত পেতে আছে, তাদের টপকে রোজের কাছে পৌঁছানো মানে যমরাজের সাথে আলিঙ্গন করা।অপরদিকে ইউভানের কপালের শিড়াগুলো ফুলে ফেঁপে উঠেছে।রেড ভেনম’ ক্লাবের কক্ষে বসেই সে ফার্মহাউসের সিকিউরিটি নেটওয়ার্কের এক্সেস নিলো।​বিশাল স্ক্রিনে একে একে ভেসে উঠল ফার্মহাউসের প্রতিটি কোণের সিসিটিভি ফুটেজ।​অবশেষে ক্যামেরা নম্বর সেভেনে রোজকে দেখা গেল।
“I will never let her belong to anyone else in this world,.Not even her own.” ________→←_
|কাশ্মীর,পাকিস্তান |

পাকিস্তানের কাশ্মীরের ধূসর আকাশ থেকে তখন পেঁজা তুলোর মতো বরফ ঝরছে। তুষার আজ ভোরেই পাকিস্তান নিজের পদার্পন ঘটিয়েছে।কাশ্মীরপুএ প্রতি বছর এ-সময়টাতে একদিনের জন্যেই পাকিস্তান আসে।পাহাড়ি পাইন বনের নির্জনতা চিরে তুষার ছোট্ট একটা গোরস্তানে এসে দাঁড়ালো, উল্ফ কাট কেশরাশি আর কবরের ওপর জমে থাকা শুভ্র বরফটুকু সরিয়ে তুষার মোনাজাতে হাত তুললো,গ্যাংস্টার হৃদয়ের কোথাও যেনো এক অদৃশ্য চ্যুতি ঘটলো।কিছু কিছু স্মৃতি বড্ড বেশি ধারালো হয়ে বিঁধে যেনো।কবর জিয়ারত শেষ করে তুষার আশ্রমের দিকে পা বাড়ালো।​তুষার যখন আশ্রমের বারান্দায় রাখা বড় বড় ডেকচি ভর্তি খাবারের ব্যবস্থা তদারকি করছিলো, তখন আশ্রমের বয়োবৃদ্ধ কর্তা জালাল ধীর পায়ে তার পাশে এসে দাঁড়ালেন। বাচ্চাদের হুল্লোড় আর আনন্দের মাঝে তিনি তুষারের কাঁধে হাত রেখে খুব নিচু স্বরে বললেন-
​” বাবা… আজ দশটা বছর কেটে গেলো। প্রতি বছর ঠিক এই দিনটিতে তুমি এই কাশ্মীরের দুর্গম উপত্যকায় আসো। এই অনাথদের মুখে তৃপ্তির অন্ন তুলে দাও, তাদের গায়ে গরম কাপড় জড়িয়ে দাও। কিন্তু আজ পর্যন্ত তুমি একবারও নিজের পরিচয়টা খোলাসা করলে না। কার মৃত্যুবার্ষিকীতে তুমি এই ভোজের আয়োজন করো? কার স্মৃতি তোমাকে প্রতি বছর এখানে টেনে আনে? আমরা তো তোমার জন্য দোয়া করতে চাই, কিন্তু কার নামে করবো?”

ওনাকে কিছু বলে লাভ হবে না বাবা! ওনি কিছুই বলবেন না।তুমি কেন যে শুধু শুধু প্রশ্ন করেই যাও।-পিছন থেকে একটা নারীকণ্ঠ ভেসে এলো।কাঠের ফলক ঠেলে ঠুকলো ফায়জা।আশ্রমকর্তা জালাল এর মেয়ে।কাশ্মীরকন্যা ​ফায়জা দেখতে তুষারশুভ্র উপত্যকার এক জীবন্ত কবিতা।মেয়েটার পরনে কাশ্মীরি ঐতিহ্যের গাঢ় মেরুন রঙের ফিরান যার গলায় আর হাতার ওল্টে থাকা অংশে সাদা সুতোর সূক্ষ্ম ‘তিল্লা’ কাজ করা। ঢিলেঢালা ছিমছাম পোশাকের ভাঁজেও মেয়েটার ফর্সা গড়ন চমৎকার।পবিত্র মায়াবী টানাটানা নেত্রপল্লব মেলে তুষারে পাশে এসে দাঁড়ালো।তুষার কোনো জুতসই না করেই আশ্রম ত্যাগ করতে পাঁ বাড়ালেই।ফায়জা এক গাল ম্লান কিন্তু স্নিগ্ধ হাসলো। তুষারের কাছে এসে তাকে আঁটকে দাড়ালো। তুষারের কাঁধে জমে থাকা বরফগুলো নিজের নরম আঙুলে ঝেড়ে দিতে দিতে খুব আলতো স্বরে বলল—

” ভাইজান, আপনি কি প্রতিবার এভাবেই পালিয়ে যাবেন? না খেয়েই চলে যেতে চাইছেন কেন?”
​তুষার কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে দু-পা পিছিয়ে গেলো।মাকড়শার ট্যাটু আঁকা হাত দিয়ে জ্যাকেটের বুক পকেট থেকে একটা সোনালী লাইটার বের করে আঙুলের ডগায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ধীর স্বরে বলল,
“সময় নেই!কাজ শেষ।যেতে হবে।”
​ঠিক তখনই আশ্রমকর্তা জালাল পেছন থেকে গমগমে গলায় বললেন, “আজ রাতটা অন্তত থাকো।বাহিরে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। কাল ভোরে না হয় যেও।”
​ফায়জা এবার চোখ বড় বড় করে তুষারের দিকে তাকালো।
“বাবার কথা কি ফেলবেন? আজ রাতটা অন্তত থেকে যান। আমি আপনার পছন্দের কাশ্মীরি পদগুলো রেঁধেছি। আপনার জন্য নিজের হাতে ডাল-মাখনি আর ফিরনি বানিয়েছি।”
তুষার খানিকক্ষণ চুপ থেকে আশ্চর্য হলো।-“আমার পছন্দের কোনো ডিশ্ নেই।আমি ড্যানিশ ফুড খেয়ে অভ্যস্থ।”

তবে ফায়জা হেসে উঠলো-
–“আজিব তো!বিদেশি খাবার খেয়ে পেটই ভরাতে পারবেন তৃপ্তি আসবে না যতই খান।তবে আশ্চর্য হলেন??আপনি আজ আসবেন আমি জানতাম।আর কনফার্মও ছিলাম।তাই রেঁধে রেখেছি।বসুন এখানে”

-“পরবর্তীতে আর এমন কাজ করবে না,অতিরিক্ত কোনো কিছুই আমার পছন্দ না।”তুষার টুলের উপর বসলো।

“সেটা তো আমার ইচ্ছা ভাইজান!”__ফায়জা একটা তোয়ালে এনে তুষারকে দিলো চুলে বরফ পড়ে ভিজে গিয়েছে সেগুলো মুছে নিতে।তুষার আজ রাতটা কাশ্মীরে থেকে কাল ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরবে সেই ভেবেই ইউভানকে একটা টেক্সট পাঠালো।শৈত্যপ্রবাহের অযুহাত যদি জালাল না দিতো তবে কখোনোই তুষারকে এক রাত কেন এক ঘন্টাও আটকিয়ে রাখতে পারতেন না।তুষারের অনিচ্ছাকৃত সম্মতিসূচক হ্যাঁ তে ফায়জা বেশ খুশি হলো।তড়িঘড়ি করে খাবার নিয়ে এলো।

” হাতটা কি ধুয়ে দিবো??”

“প্রয়োজন নেই!”__তুষারের সংক্ষিপ্ত জবাব।

জালাল এসে তুষারের দিকে একবাটি ফিরনি আগ বাড়িয়ে দিলো।তবে তুষার হাতের তর্জনী দিয়ে তা সরিয়ে দিলো যেনো মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি তার আজন্ম অনীহা। আগুনের কুণ্ডলীর পাশে বসে তুষার কাশ্মীরের সেই ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো মুখে তুলতে লাগলো, বাইরে তখন তুষারপাত আরও বাড়ছে।তাতেও কাশ্মীরের সৌন্দর্য এক বিন্দু অব্ধি কমলো না।পৃথিবীর স্বর্গরাজ্যে কি শ্বাধে বলা চলে!এখানে মৃত্যুও যেন এক অপূর্ব শিল্প, আর জীবন যেনো কোনো এক বিবাগী কবির অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি।


মিরাবের আত্মহত্যার পর কেটে গিয়েছে সাপ্তাখানিক সময়।আদ্রিয়ান তুরস্কে পদচারণ করার আগ পর্যন্ত মিরাবের লাশটা হিমাগারে ফ্রিজিং করে রাখা হয়েছিলো।যেহেতু এটা আত্মহননপর ঘটনা তাই মিরাবের লাশকে ময়নাতদন্ত করা হয়েছিলো।তুশনারীর উজ্জল শরীরটা কাটাছিঁড়া করে দেহটাতে যেনো আর কোনো কিছুই অবশিষ্ট রাখা হলো না।এটাই তো আইনি নিয়ম।

মৃত্যুর স্বাদ আমাদের প্রত্যেককেই গ্রহণ করতে হবে, সেটি মহাকালের এক অমোঘ বিধান। কিন্তু আত্মহত্যা? আত্মহত্যা কখনোই কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না, বরং এটা যেনো এক অসমাপ্ত উপন্যাসের পাতা ছিঁড়ে ফেলার মতো এক নিষ্ঠুর পরাজয়।

এই কটা দিন ছোট্ট আনানকে সামলাতে আবরার বেশ হিমশিম খেয়ে গিয়েছে। ওইটুকুনি একটা বাচ্চা ছেলে, কী-ই বা বুঝবে সে?মৃত্যু কী জিনিস, তা বোঝার ক্ষমতা স্রষ্টা তাকে এখনো দেননি। তাকে শুধু ভুলিয়ে-ভালিয়ে মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে গিয়েছে আবরার।বাচ্চা ছেলেটা যেনো পুরোপুরি এখন একা হয়ে গেলো।মাথার উপর বিশাল বড় ছাঁদ থাকলেও কোলে মাথা রেখে ঘুমানোর মতো কেউ নেই আর।

মিরাবের দাফনকার্য গডকাল শেষ করা হয়েছে।মিরাবের এ আত্মহনন যেনো প্রত্যেকের মনে একটা দাগ কেটে গিয়েছে। হঠাৎ তার এমন নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তের পিছনের কারনটা আসলে কি??? আদ্রিয়ান আজকে একবার গোরস্তানের এসে বেশ কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। পরমূহূর্তেই রেড কালারের বিএমডাব্লিউ করে তুরস্কের নির্জন পাহাড় ঘেরা পুলিশ স্টেশনে এসে ব্রেক কষিয়ে দেয়।গাড়ির মধ্যে আবরারকে আনানের কাছে রেখে।আদ্রিয়ান ভিতরে প্রবেশ করলো।লম্বাগড়নের পুরুষটার ডার্কব্ল্যাক রঙা মণি জোড়া যেনো কালো তিলককেও হার মানিয়ে দেয়।

আদ্রিয়ান খুব আয়েশ করে পুলিশ স্টেশনের ইন্সপেক্টরের খাস কামরায় ঢুকে তাঁর সামনের চেয়ারটায় টেনে বসলো। কোনো অনুমতি নয়, বরং এক আদিম আধিপত্য নিয়ে সে পায়ের ওপর পা তুলে দিয়ে আরাম করে হেলান দিলো।কপাল ছুঁয়া চুলগুলো বেকব্রাশ করে নিলো। পরনে তার দামি ব্ল্যাক ওভারকোট,শ্যাম লম্বাটে মুখে কয়েক দিনের না কামানো দাড়ি তার পুরুষত্বকে যেনো আরও ধারালো করে তুলেছে।যেনো হলিউডের কোনো হিরো।বুক পকেটে নিজের সানগ্লাশটা রেখে হাতের আঙুলে হিরের আংটিটা খুলে ইন্সপেক্টরের দিকে ঠেলে দিলো।অতঃপর ইন্সপেক্টরের চোখের দিকে সরাসরি তাকালো। আদ্রিয়ানের সেই তীক্ষ্ণ চাহনি দেখে ঝানু ইন্সপেক্টরও একবার ঢোক গিললেন।আদ্রিয়ান এমনভাবে নিজের ওভারকোটের হাতা গোটাতে লাগলো যেনো কোনো শিকারী তার শিকার ধরার আগে আঁটসাঁট বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে।
​আদ্রিয়ান নিকোটিন ধরিয়ে তা নিজের তামাটে ঠোঁটের না পুড়ে পায়ে পিষে ফেলে নিচু আর গম্ভীর গলায় বলল—
“একটা ইনফরমেশন লাগবে আমার ২০০৮ সালের একটা এক্সিডেন্টের কেইসের ফাইল। তোরোস দাগলারি পাহাড়ের।২০০৮ য়ে একটা গাড়ি দুর্ঘটনা হয়েছিলো, মনে আছে?সেই কেইসটা এই পুলিশ স্টেশনের একজন ইন্সপেক্টর তদারকি করছিলেন।একজন মহিলা যার লাশের দেখা মেলেনি, তাই পুলিশ একসময় হাল ছেড়ে দিয়ে তাঁকে মৃত ঘোষণা করে ফাইল বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমি সেই কেসের ডিটেইলস জানতে চাই।”

​ইন্সপেক্টর দীর্ঘশ্বাস ফেলে অসহায় ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন। তিনি কাঁপাকাঁপা গলায় বললেন—
“মি. আদ্রিয়ান, আপনি যে সময়ের কথা বলছেন তখন এই স্টেশনটা এরকম ছিলো না। ২০১০ সালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরনো স্টেশনের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল।সব ফাইল, নথিপত্র আর প্রমাণও আগুনের গ্রাসে পুড়ে গেছে। এখনকার এই আধুনিক স্টেশনটা তো তারও পরে তৈরি করা। তাই আগেকার কোনো তথ্যে আমার পক্ষে দেয়া তো পসিবল না।যদি ফাইলগুলো থাকতো আমি অবশ্যই বের করে দিবো।”

​আদ্রিয়ানের চোখের কালো মণি দুটো মুহূর্তেই সাপের মতো সরু হয়ে এলো। ধীর স্বরে বলল—

“আমাকে চিনেন নিশ্চয়ই?? আমি কি করতে পারি তার সম্পর্কে ধারণা আছে নিশ্চয়ই?? যেভাবে হউক আমাকে ২০০৮ এর দাগলারি পাহাড়ের দূর্ঘটনার ইনফরমেশন চাই।কোনো কোন ইন্সপেক্টর সেই কেস এর তদারকি করেছিলেন,অল ডিটেইলস। “

ইন্সপেক্টরের হাত কাঁপতে লাগলো। পানির তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে এলো।হাতের কাছে থাকা পানির গ্লাসটা কাঁপা হাতে তুলে ঢকঢক করে পুরোটা সাবার করে নিলেন।তাকে এভাবে কাঁপতে দেখে আদ্রিয়ান স্লান হেঁসে একটু ঘাড় নুইয়ে টেবিলের নিচে তাকালো।ইন্সপেক্টরের প্যান্টসহ পুরো টেবিলের নিচ ভিজে যাতা অবস্থা। আদ্রিয়ান চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে ওয়াশরুমের দিকে ইশারা করলো।

“দ্রুত ওয়াশরুম থেকে চেঞ্জ করে আসুন ইন্সপেক্টর সাহেব। কবরস্তান থেকে সোজা খালি হাতে এসেছি আমি তাতেই এমন বিচ্ছিরি অবস্থা!ছ্যাৎ”

__________→←_____

একজন গার্ড দিয়ে রোজকে ডাকা হলো।হঠাৎ রোজকে কে ডেকে পাঠালো তা ভেবেই রোজ শাড়ির আঁচলটা ঠিক করে পাঁ বাড়ালো ফার্মহাউজের গার্ডেনের দিকে। শাওয়ার শেষ করে একটা কালো রঙের শাড়ি পড়েছে।বাদামী কেশযুগল থেকে এখনো টপটপ করে পানি ছুঁইয়ে পড়ছে।সারাদিন ইউভানের দেখা নেই, আর সারাদিনের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি রোজের জন্য ছিলো এক পরম স্বস্তির নিঃশ্বাস। ইউভানের সেই গম্ভীর উপস্থিতি ছাড়া দিনটা সে বেশ প্রশান্তিতেই কাটিয়েছে অষ্টাদশী তম্বী রমণী।
​ফার্মহাউসের পেছনের বাগানটা যেনো প্রকৃতির এক গোপন স্বর্গ। পিছনে একটা ছোট্ট ঝিল আছে।বুনো লতাওাতায় ঘেড়া।রোজ ঝিলের ধারে আসতেই তার চোখ জুড়িয়ে গেলো। শান্ত সেই ঝিলের জলে গোধূলির শেষ সোনাঝরা আলো হিরের কুঁচির মতো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। টলটলে জলের বুকে রাহার পোষা সাদা রাজহংসীগুলো সাঁতার কাটছে।তাদের ডানা ঝাপটানো শব্দগুলো যেনো প্রশান্তীর।
​ঠিক সেই মুহূর্তে, রোজের উদোম পিঠের ওপর একজোড়া ঠান্ডা হাতের স্পর্শ অনুভব করলো সে। ব্লাউজের ফিতেগুলো রোজ নিজে বাঁধতে পারে না বলে আলগা করেই রেখেছিলো, যা শাড়ির আঁচলের লুকিয়ে বেরিয়েছিলো। নিপূণ দক্ষতায় কেউ একজন ফিতেগুলো টেনে মজবুত করে বেঁধে দিলো তার। চমকে উঠে পেছনে ফিরতেই দেখলো হায়া দাঁড়িয়ে আছে।তারমানে হায়াই তাকে ডেকে পাঠিয়েছে।
​কিন্তু তখনই রোজের কান অবশ করে দিয়ে ভেসে এলো গিটারের এক অপূর্ব ঝঙ্কার। ঝিলের পাড়ে একটা পাথুরে সাদা বেঞ্চে বসে আছে সোনালি কেশের এক অপরূপা রমণী__ রাহা।
​গোধূলির শেষ সূর্যরশ্মি যখন রাহার মুখে এসে আছড়ে পড়ছে, রোজ বিস্ময়ে লক্ষ্যে করলো রাহার ধূসর নেত্রপল্লব দুটো ঠিক ইউভানের মতোই উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে। মেয়েটার কন্ঠস্বর সূমধুর।হবেই বা না কেনো।প্রফেশনাল সিঙ্গার তো। সোনালী কেশ রমণীর আঙুলের প্রতিটি ছোঁয়ায় গিটারের তারগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠছে। সবচাইতে অবাক করা বিষয় হলো রাহার হাসি। সুরের তালে তালে রাহা যখন প্রাণখোলা হাসিতে মেতেছে, তার দুই গালে গভীর টোল (dimple) ফুটে উঠছে। ইউভান কোনোদিনও এভাবে হাসে না, তার সেই পাথুরে মুখে এমন হাসির লেশমাত্র নেই বলেই হয়তো-বা টোলগুলো কোনোদিনও নজরে আসেনা।
​রাহা এবার গিটারে ধুন তুলে গান শুরু করলো। মেয়েটার কণ্ঠ যেনো ঝিলের জলের মতোই স্বচ্ছ আর মধুর।

Jimmy pulls up his blue cherry Nova!

   ~~~I've been dyin~~~

~~For him to come over~

~I am in my Party dress

~He say you such a mess~

ঝিলের পাড় ঘেঁষে ফুটে থাকা বুনো ফুলের সুবাস আর হিমের পরশ রোজকে এক মুহূর্তের জন্য ভুলিয়ে দিলো যে সে ইউভানের তৈরি এক নিষিদ্ধ খাঁচায় বন্দি।রোজ একটুএকটু করে সামনে এগিয়ে গেলো।রোজ সম্মোহিতের মতো পা বাড়াল ঝিলের দিকে। সেখানে ফুটে আছে রক্তিম ‘ক্যালিফোর্নিয়া পপি’ আর নীলচে ‘লুপাইন’। ঝিলের ধারের আর্দ্র মাটিতে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা সাদা ‘ক্যামেলিয়া’ আর সুগন্ধি ‘উইন্টার জেসমিন’…..রোজ নরম চন্দনের মতো সেই বুনো ফুলের পাপড়িগুলো আঙুলের ডগায় স্পর্শ করতেই তার মনের ভেতর জেগে উঠলো এক চিরচেনা সুর। রাহার পশ্চিমা সুরের মাঝেই রোজের অবচেতন মন গেয়ে উঠল বাংলার রবীন্দ্রনাথের সেই কালজয়ী সুর—

~~​”মায়াবনবিহারিণী হরিণী~
~~গহন স্বপনসঞ্চারিণী~কেন তারে ধরিবারে করি পণ অকারণেমায়াবনবিহারিনীথাক থাক নিজ মনে দূরেতে~ আমি শুধু বাঁশরীরও শুরেতে~ পরশ করিব ওর প্রান-মন অকারণমায়াবনবিহারিনী~~

নিভৃত এই উদ্যানে রোজ নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেললো। শাড়ির আঁচলটা এক হাতে সামান্য উঁচিয়ে ধরে সে গোধূলির আলোয় ছন্দে ছন্দে নিজেকে দোলাতে লাগলো।গানের ছন্দে নাচতে নাচতে রোজ ফার্ম হাউজের সামনের বাগানে আসতেই পিছনের হঠাৎ কয়েকটা গাড়ির খাঁক খাঁক আওয়াজ ভেসে এলো।

রোজ আঁতকে পিছনে ফিরতেই দেখলো ইউভান দাঁড়িয়ে আছে।বুনো ষাঁড়ের মতো ফুঁপাচ্ছে।যেনো গাড়ি হাই-স্পিড ব্রেক কষেই এসে দাঁড়িয়ে রোজেকে দেখছিলো ঝড়ের আগের স্তব্ধতার মতো তার সারা শরীর কাঁপছে প্রচণ্ড ক্রোধের তাড়নায়। দ্রুত গাড়ি চালানোর উ*ত্তেজনা আর মনের ভেতর জ্বলতে থাকা আগুনের দাবদাহে তার বলিষ্ঠ পুরুষালি শরীরটা থরথর করে কাঁপছে দ্রুততর। ইউভানের অগ্নিদূসর চাহনিতে সর্বগ্রাসী ক্রোধের দহন।যার নিঃশ্বাসে আজ পুড়ে ছাই হয়ে যাবে রোজের এই ক্ষণিকের স্বাধীনতা।

তাম্বী রমণী ​রোজ এক ঢোক শুকনো থুতু গিললো। সে দ্রুত ঘুরে ফার্মহাউজের ভেতর ঢুকে যেতে চাইলো, কিন্তু ইউভানের ক্রোধের চেয়ে দ্রুতগামী আর কিছু হতে পারে না।
​মাত্র দুই কদম! সিংহ যেমন তার শিকারকে এক ঝাঁপেই কব্জায় নেয়, ইউভান ঠিক তেমনি করে ধেয়ে এলো। রোজের পালানোর সব পথ বন্ধ করে দিয়ে ইউভান তার বলিষ্ঠ হাত রোজের শাড়িতে মোড়ানো পেটের ভিতর ঢুকিয়ে দিলো।এক ঝংকার কাঁপুনি দিয়ে রোজের শক্তি ফুরাতে লাগলো। কোনো সময় না দিয়েই, মাফিয়াটা এক ঝটকায় রোজকে শূন্যে তুলে নিলো এবং সোজা নিজের চওড়া কাঁধে আছড়ে ফেললো।

“আমি যাবো না আপনার সাথে! একটু শান্তিতে ছিলাম সহ্য হলো না আপনার।ছাড়ুন। অমানুষের মতো আচরণ করা বন্ধ করুন।দানব একটা।”

রোজ ইচ্চেমতো কিলঘুষি মারতে লাগলো ইউভানের বলিষ্ঠ পিঠে।ইউভানের এড্যামস এ্যাপল অনবর তরঙ্গ ধ্বনীর ন্যায় উপরনিচ উঠানামা করতে লাগলো।

রুমে প্রবেশ করেই দরজাটা লাথি মেরে খুলে ইউভান রোজকে সজোরে আছড়ে ফেললো বিশাল কিং-সাইজ বেডের উপর। কালো শাড়ির ভাঁজ এলোমেলো হয়ে যেতেই আলুথালু চুলে রোজ উঠে বসার চেষ্টা করতেই ইউভান নিজের শার্টের বুতোম খুলে ছুঁড়ে মারলো মেঝের ওপর।​ইউভানের ফরসা কপালে রাগের নীল শিরাগুলো স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। সে ধীর পায়ে রোজের দিকে এগিয়ে এসেই খপ করে বেডে লাফিয়ে উঠেই রোজকে দু’হাতে অবরুদ্ধ করলো।রোজের কন্ঠনালী চেপে ধরেই সিংহের ন্যায় গর্জন করে উঠলো-
“এই শালী বান্দীর ঘরে বান্দী!এতো নাচার শখ কেন তোর বল!জবাব দে! কু*ত্তার বাচ্চা!”

রোজের শ্বাস আঁটকে মুখাবয়ব কালচে হয়ে উঠলো।ইউভানের বলিষ্ঠ ফুলো ফুলো বডিতে খামচে নোখ বসিয়ে দিতেই ইউভান নিজের হাত দিয়ে রোজের দু-হাত চেপে ধরলো।রোজ কেঁশে উঠেই ইউভানের গালে রুদ্ধ চড় বসিয়ে দিয়ে চিল্লিয়ে উঠলো-
“শয়তানের বাচ্চা।মেরে ফেল একবারে!শান্তি মতো বাঁচতে তো দিবি না।মেরে ফেল!”
ইউভান হাসতে লাগলো।রোজের চুলে মুখ ডুবিয়ে গভীর শ্বাস টেনে হিসহিসিয়ে হিমাঙ্কের মতো স্তব্ধতা মিশিয়ে হিসহিসালো।
–“না!মারবো কেনো সুইটহার্ট। তোকে মেরে নিজেই মরে ছাই হয়ে যাবো।”

পরক্ষণেই ইউভান উন্মাদনার চরম শিখরে পৌঁছে রোজের মসৃণ শুভ্র ঘাড়ে নিজের তৃষ্ণার্ত ওষ্ঠাধর চেপে ধরলো। এক আদিম আধিপত্যের মিশালো। কামড়ে ধরলো রোজের তন্বী স্কন্ধ, ততক্ষণ পর্যন্ত দাঁত বসিয়ে ধরে রাখলো যতক্ষণ না মেয়েটার ফর্সা চামড়া চিরে লোহিত রক্তকণিকা চুইয়ে পড়লো। যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়ে রোজ যখন ইউভানের চুল খামচে ধরলো, তখন দেখলো ইউভানের সেই পরিচিত কার্টেন কাট চুলগুলো সে ছোট করে ফেলেছে। ইউভান নেশাতুর চোখে তাকিয়ে বলল- “কেটে ফেলেছি শালার চুল! সব বিসর্জন দিয়েছি তোর জন্য।যেই জিনিসে তোর স্পর্শ মিলে না যে জিনিস রেখে লাভ নেই।যাস্ট ফাক অফ”
​উন্মাদনা এক নতুন মাত্রা পেলো যখন ইউভান রোজের ললাটে এক গাঢ় দহনমাখা চুম্বন দিয়ে বলল-
“আমলকী খেয়েছিস সুইটহার্ট? আমি ইউভান ঠিক আমলকীর মতো। খেতে তিতা হলেও বড় উপকারী। Wanna test Amlaki?”
​রোজ এক ঝটকায় ইউভানকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল। এলোমেলো শাড়ির আঁচলটা টেনে নিতে নিতে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো মেয়েটা।
“আমি ঘৃণা করি আপনাকে, ঘৃণা করি!”
রোজ রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নিলেই ইউভান পেছন থেকে সাপের ন্যায় রোজকে প্যাঁচিয়ে ধরলো। পুরুষালীর ওষ্ঠাধর দিয়ে রোজের ব্লাউজের ফিতেগুলো একে একে আলগা করতে লাগলো। রমণীর অন্তরাত্মা এক অজানা কম্পনে কেঁপে উঠলো।রোজের চুলে নাক ঘষে ঘ্রাণ টেনে নিয়ে ইউভান বিড়বিড়ালো-
“চুলে কী তেল ইউজ্ করিস ডার্ক রোজ? পাগল করে দে আমায়।”

​”তেল??তুই আমার জীবনে আসার পর থেকে সব শেষ হয়ে গিয়েছে আমার! শয়তান, জাহান্নামেও তোর ঠাঁই হবে না!”
ইউভান চোয়াল শক্ত করে নিজের ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ এনেই রোজকে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড় করিয়ে ওষ্ঠাধর নিজের দখলে নিলো। ইউভানের অবাধ্য হাতগুলো রোজের শাড়ির আঁচল বেধ করে পেটের ন*গ্ন অংশে কামড়ে ধরলো। সে হাঁটুকে ভাঁজ করে নিচে বসে রোজের উদর বরাবর উষ্ণ স্পর্শ দিতেই রোজের শ্বাস আটকে এলো।সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠে শরীর অবস হয়ে দেওয়াল বেয়ে গড়িয়ে পড়তে নিলেই ইউভান তাকে শক্ত করে ধরে নিজের শরীরের সাথে ঝাপটে ধরলো।

“ইউ লুক লাইক মাশাআল্লাহ্, সো মি অলসো! লে’টস ডুয়িং সাম আস্তাগফিরুল্লাহ্ টু মেক ইট আলহামদুলিল্লাহ্!”

ইউভান শাড়ির আঁচলটা রোজের কাঁধ থেকে সরিয়ে দিল। রোজের নেত্রপল্লব বেয়ে দুই ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়তেই ইউভান মাথার চুলে হাত দিয়ে দু-পা পিছিয়ে গেলো
“ওহ শিট, শিট, শিট!ভুলেই গিয়েছিলাম ওহহ নো!বাই দ্যা ওয়ে বেবি রেইনবো কিস তো করাই যায়।”

চলবে?

পরবর্তী পর্ব পেতে রেসপন্স করবেন। – – <3

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply