Love_or_Hate
|#পর্ব_২৮|
ইভেলিনা_তূর্জ
⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে
বাহ্যিকদূরত্ব খণ্ডিত করতে পারলো না রোজ। পিছন ঘুরতেই তপ্ত সরোবরের একটা অবউষ্ণ হাত চেপে ধরলো তার কব্জি।রোজের সরু হাতের কব্জির মধ্যেখানের হাড় যেনো মুহূর্তেই কটমট শব্দ করে উঠলো।এতো শক্ত হাতের চাপে পিছন ঘুরে তাকানোর সাহস হয় উঠলো না তার।বুক ভরে একটা জোরালো শ্বাস টানলো।অতঃপর পাশ ফিরতেই দেখলো ইউভান তার ফক্সিচক্ষুদ্বয় বন্ধ করেই রোজের হাত চেপে ধরেছে।আশ্চর্য কারবার নিষ্টুর মানবটা ঘুমে তলিয়ে থেকেও বুঝে গেলো রোজের উপস্থিতি।ইউভান কতোটা চালাক আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সম্পন্ন যে চোখ বন্ধ করেও মানুষের উপস্থিতি টের পায় আর রোজ হলে সেটা তো আলাদাই ব্যপার।আধেও ঘুমিয়ে আছে তো নাকি জেগে আছে তা বোধগম্য হওয়ার সুযোগটা অব্দি পেলো না মেয়েটা।তার আগেই আঁচড়ে পরলো ইউভানের পেটের উপরিভাগে।
রোজ হতবিরল দৃষ্টিতে ইউভানের দিকে তাকালো।চক্ষু চরক গাছের ন্যায় ইউভান তার স্থির হওয়া নেত্রপল্লব বন্ধ রেখেই রোজের চুল পেঁচিয়ে ধরে নিজের পেটে চেপে ধরলো তাতেই রোজের নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা।সেই আগের ন্যায় রোজের রন্ধ্রে ভেসে এলো পুরুষালির ভীষণি কড়া স্পাইসি ল্যাবেন্ডারের সুঘ্রাণ।তবে রোজ অবিলম্বে চা’তক পাখির ন্যায় ছাড়া পেতে ছটফট করতে লাগলো তবে, সুঠাম দেহীর পুরুষের কাছে বরাবরই তার নারীশক্তী যে নগন্য।
“টাওয়াল নিয়ে আয় সুইটহার্ট, মুখ ভিজিয়েছিস বুক কেটেছিস, ফলস্বরূপ নিজ হাতে মুছে দিবি,পাশাপাশি তোর নরম তুলতুলে হাত দুটো দিয়ে সহ যত্নে ড্রে’সিং করিয়ে দিবি।যা গো নাও।”
রোজ ললাটে পাঁচভাগ টেনে চোখ সরু করে তাকালো ইউভানের পানে।রোজ ভারাক্রান্ত মনে আওড়াতে থাকলো, প্রশ্নবিদ্ধ করলো আপনসত্তাকে লোকটা আসলেই কি কোনো ডেবিল নাকি নাহলে এতো গভীর আঘাতের পরও চোখেমুখে তার কোনো ক্লেশ নেই।নেই কোনো ভারাক্রান্ততার ছাপ।এতো পাথর হৃদয় নিয়ে কোনো মানব জন্মাতে পারে বৈকি! নাকি নিজেই সৃষ্টি করেছে বিষদ সত্তা??।
তৎক্ষনাৎ ইউভান রোজের হাত ছেড়ে দেয়।নিভৃত ভঙ্গিমায় বা-হাত টেনে ফক্সিচক্ষুদ্বয় ঢেকে ফেলে।সূর্যের আলো সহ্য করতে সক্ষম হচ্ছে না যেনো।ফ্লোর-টু-সিলিং টেম্পারড গ্লাস রেলিংয়ে তৈরি বেলকনির থেকে আগত দীপ্তীময় সূর্যরশ্মী ইউভানের মুখাবয়বেই হানা দিচ্ছে।রোজ সূর্যরশ্মী অনুসরণ করে বেলকনির বহিঃপরিবেশে তাকালো।জায়গাটা ভারী অপূর্ব, ভীষণই মন মাতানো কতো চমৎকার কাচের ওপারের ক্যালিফোর্নিয়ার ফরেস্ট লাইন, রেডউড আর পাইন গাছের সারিগুলো।ম্যাপল নামক এরকম লাল লাল পাতার গাছ রোজ ফোনে অনেক দেখেছে।এখন তো ইচ্ছে করছে একটু ছুঁয়ে দেখার,তবে অবিলম্বে রোজের বিভ্রমকে সর্ঘ্রাস করে দেয় ইউভানের কর্কশ গলারধ্বনি।
“তব্দা মেরে দাঁড়িয়ে কেনো আছিস।হেক্সিসলের স্মেল আমার সহ্য হচ্ছে না রোজ।যা বলেছি ফাস্ট কর।আমাকে উঠতে বাধ্য করিস না।এর ফল মুটেও তোর জন্যে মঙ্গলজনক হবে না।”
রোজ কোনোপ্রকার প্রতিউত্তুর না করেই পুরো রুমটায় চোখবুলিয়ে ওয়াশরুমের দিকে পাঁ বাড়ালো।রোজকে নির্দ্বিধায় হনহনিয়ে হেঁটে যেতে দেখলো ইউভান চোখ মেলে তাকিয়ে।ঘাড় কাত করে নিজের পিয়ার্সিং করা ভ্রু কুচকিয়ে বাতাসের বেগে রোজের পদাঘাতে বাক্যে ছুড়লো।সাথে বাঁকা হাসির রেখা টানলো।
–“যতই ফন্দি আটতে থাকিস না কেনো। শুনে রাখ।তুই তোর ফাদার ইন ল” এর ভিটে ছেড়ে পালাতে পারলেও হাসবেন্ডের ভিটে ছেড়ে পালাতে পারবি না,আর সেটা ভুলক্রমে চেষ্টাও করিস না, নাহলে পায়ের জায়গায় আর পাঁ থাকবে না।”
ইউভানের অনবরত হুমকিস্বরূপ বাক্যেগুলোর প্রতিউত্তর করলোই না রোজ। কেননা রোজ খুব ভালো করেই জানে এখান থেকে সে চাইলেও বের হতে পারবে না।কেনো বের হবে?, হবে না তো।ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসির রেখা টানলো রোজ।শাওয়ার রুমের মধ্যেখানে পাঁ বাড়াতেই রোজের বাউন আইস প্রফুল্ল হয়ে জ্বলে উঠলো, এ আবার কেমন শাওয়ার রুম।বেড রুমের মতো বিশাল। মেঝে থেকে দেয়াল সবটাই ইতালিয়ান কালাকাটা ব্ল্যাক মার্বেল।রোজের মস্তিষ্ক কিলবিলিয়ে উঠলো।ব্ল্যাক হবেই না কেনো এ বাড়িও তো ভুতের বাড়ির মতো কালো।চারপাশে যা দেখে সব কালো।ভিন্ন রঙের কোনো ছিটেফোঁটাও নেই।রোজ মুখ বাকালো মাঝখানে বসানো ফ্রিস্ট্যান্ডিং বাথটাব দেখে।মন্সটার টা নিশ্চয়ই এখানেই শুয়েই নোং/রা কাজকারবার সম্পর্কে প্ল্যানিং করে।দাঁতে দাঁত পিষে কিছুক্ষুণ ইউভানের উপর ক্ষোভ পুষলো রোজ।টাওয়াল টা কই!চুল না মুছে দিতে হবে।দিবে তো।কই গেলো।
টাওয়াল খুঁজতে গিয়েই রোজের চোখ পড়লো।টবের পাশে গোল্ড-ফিনিশের ট্যাপ, যার গায়ে খোদাই করা ইউভানের নামের আদ্যাক্ষর।রোজ তা দেখে চোখ উল্টোলো।একটা বড়সর মিরের পাশে হেঙ্গারে ঝুলনো টাওয়ালটা।রোজ সেটা হাতে নিলো।কর্ণার রেকের উপর রাখা টুথপেষ্ট হাতে নিয়ে পুরো টাওয়ালে লেপ্টে দিলো পুরো পেস্ট। তবে রোজের ছোট্ট মস্তিষ্ক একবার হানা ঠেলে এমন করিস না রোজ জানে মে*রে দিবে,গলা চেপে ধরবে।আরেকবার হানা দেয় শিক্ষা দে যা হবার হউক তোকে না হুমকি দিলো, তোর সাথে যা যা করেছে তার উসুল তুলতে হবে না??……
রোজ দু’হাতে একবার উপর নিচ প্রসারিত করে লম্বা শ্বাসটানলো।টিল ব্রেথ রোজ।টিল ব্রেথ।টাওয়াল টা হাতে নিয়ে রোজ ইউভানের কিংসাইজ বেডের কাছে গেলো।একটা বড়সর হাসির রেখা টেনে বললো–
“কই দেখি তো দিন মুছে দেই চুল।”–ইউভানকে ভ্রু উঁচিয়ে বেডে হেলান দিয়ে বসে থাকতে দেখে রোজ স্ব-ইচ্ছায় কাছে যেতেই ইউভান রোজের কব্জি ধরে টান মারলো।তবে রোজ বাহ্যিক অভিব্যক্তি অপরিবর্তিত রেখে ইউভানের মসৃণ সিল্কি চুলে টাওয়াল ছুঁয়াতেই ইউভানের রন্দ্রে কিলবিলিয়ে উঠলো মিন্ট ফ্লেভারের পেস্টের গন্ধে।ষষ্ঠইদ্রিয় সম্পন্ন মানব ক্ষীর্ন হাসির রেখা টেনে রোজের অপর হাতের কব্জি চেপে ধরে টাওয়ালটা ছুঁড়ে ফেলে দিলো মার্বেল ফ্লোরে। তৎক্ষনাৎ রোজ আতঙ্কে ভিতরের রুহ ভারী করে বললো।
“আরে ফেললেন কেনো দিন মুছে দেই”—রোজ উঠেই টাওয়াল তুলতে অগ্রসর হতেই ইউভান এক ঝটকায় বিদ্যুৎস্পন্দিত গতিতে রোজকে বেডে ফেলে ঝুঁকলো সুন্দ্রি রমণীর সংকীর্ণে।রোজের দু’হাতে চেপে ধরলো নিজের এক হাতের মুঠোয়।নাকের পাটা ফুলিয়ে ষাঁড়ের ন্যায় শ্বাস টেনে বলল—
–” এই! এই! এই! বান্দীর বাচ্চা,ইউ ব্লাডি ডার্ক রোজ চালাকি করিস??।ভালো ভাবে বলছি বলে গায়ে লাগে না তাই না??জ্বালিয়ে দিচ্ছিস আমায়।ছুঁড়ি মেরেছিস জ্বালা মিটিয়েছিস।তাও জ্বালা মিটেনি তোর ??আরও লাগবে?? কি লাগবে বল।কি চাই??”
ইউভান দূরত্ব চুকিয়ে আরো আষ্টেপৃষ্টে ধরলো রোজকে।এদিকে ব্যন্ডেজের উপর চাপ প্রয়োগে বক্ষ*ভাজে ছুপছুপ র’ক্ত পাত হতে লাগলো ইউভানের।রোজ হাত বাড়াতে চেয়েও আর বাড়ালো না। ইউভান রোজের ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে দিলো।
“এই মুখে অন্যে পুরুষকে ভালোবাসার কথা বলার আগে পরেরবার ছুঁড়িটা তোর বুক ভেদ করবে তারপর আমার।
একমুহূর্তে জন্যে নির্জীব ভঙ্গিমায় নিজের অক্ষিপল বন্ধ করে রোজের নিকট সর্বোআপন সত্তা দান করে অশান্ত স্বরে ইউভান বলে উঠে-
–“শান্তি চাই??দিবো!কতটুকু চাই?
রোজ হাসলো।একমুহূর্তে দেরি না করে ইউভানের গলদেশ ঝুলতে থাকা সিলভার চেইন টেনে ধরে টান মারলো।
“কষ্ট হচ্ছে?? পেইন!”
“পুড়ে যাচ্ছি।ভিতরে আগুন নিভিয়ে দিবি বল!যাস্ট ইউ ডি’ড দিস্।
যা ইচ্ছে কর।তবে পালানোর চেষ্টাও করিস না।”
“শিয়াল মনে হয় ভুল করে মুরগি ভেবে সাপের খাচায় ঢুকে পড়েছে!সো স্যাড”
“তুই সাদা নাগিন হলেও আমায় শিয়াল না বলে বিদেশি টাইগার বলতে পারিস।”
ইউভান রোজের চুল পেঁচিয়ে ধরলো।বাউনিশ কেশযুগল এর অন্তরবিমোহীত করার ঘ্রাণ টানলো নিজের গহ্বরে।ইউভানের হাতের শক্ত চাপে ব্যথায় শিক্ত হয়ে রোজ উল্টো ইউভানের বুকে হাত রাখলো।
—“কেমন লাগলো কো/প খেয়ে??”
“ফিলিং গুড বেবি।এন্ড প্রা’উড অফ ইউ।দ্যাটস মাই গার্ল।বাঙালি পুরুষ হলে এতোক্ষণে ফলস্বরূপ দু’চারটে লুঙ্গি ডান্স দিতাম”
ইউভানের এমন লাগামহীনতায় রোজ দাঁতে দাঁত পিষে বিরক্ত হলো।
“লজ্জা করে না আপনার??”
“লজ্জা থাকলে কি তোর এক মাসের বমির কারণ হতে পারতাম।??ইট’স ডা’জেন্ট স্যাু’ট অন মি।”
বমির কথা শুনতেই রোজের মুখাবয়বে কালচে রেখা ফুটে উঠলো।সে তো সত্যি বেশ্ কিছুদিন যাবৎ বমি করছিলো।আর সেটা মিরাবকে বলেওছিলো।মিরাব একজন ডক্টর হয়ে কি তার প্রেগনেন্সি বুঝতে পারে নি??এটা কি আধেও সম্ভব,,।না না যদি বুঝতই তাহলে নিশ্চয়ই বলতো?? মস্তিষ্ক নানা প্রশ্ন হানা দিতে থাকলো রোজের। তবে একসময় লগ্নের তফাৎ এ রোজের পুরো শরীরে শিহরণ বয়ে যেতে লাগলো।উত্তাপ মরুভূমির ভাপস্য গরম তাপ যেনো গলা বেয়ে নামতে লাগলো। রোজের ঘাড় ঘ্রাস করলো ইউভান তার ওষ্ঠের স্পর্শে। ইউভান রোজের গলায় মুখ ডুবিয়ে গাঢ় চুম্বনে রেশ্ বাড়াতেই রোজের গহ্বরের নারী সত্তা অচল হয়ে পড়লো। তীব্র বেগে চুম্বনের রেশ্ কাটিয়ে ইউভান নিয়ন্ত্রণ চ্যুাত হয়ে দাঁতের আঘাতে কা/মুড় বসিয়ে দিলো রোজের গলদেশে।ইউভান গভীর শ্বাস টেনে রোজের দেহের হা’নি ভ্যানিলার সুঘ্রাণ নিজের রন্ধ্রে টেনে নিতে লাগলো যেনো এর চেয়ে মিষ্টি সুভাস আর হতেই পারে না। পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নেশাভরা কন্ঠ স্বর তুললো ইউভান।
“what A smell like Honey & like Sweetest vanilla!”
ইউভানের তর্জনী রোজের অঁধর বুলাতেই পানির তাড়ণায় শুষ্ক হয়ে উঠলো রোজের রেডচেরি লি’পস।বুকের স্পন্দন অনবরত উঠানামা করতেই রোজ সংযমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে ইউভানকে এক ঝটকায় সরিয়ে গালে চড় বসিয়ে দিলো।
—“ভুল করেও সীমা অতিক্রম করার চেষ্টাও করবেন না।কোন অধিকারে বারবার স্পর্শ করেন??”
চড়েরআঘাত অনেকটা ক্ষতেরমতো হানা দিলো ইউভানের গালে।ইউভান নিজের অগ্নিধূসর চক্ষুদ্বয় বন্ধ করে নিলো।দাঁতগুলো যেনো একে অন্যের সাথে যোদ্ধাবস্থায় স্হির।সকল সংযমতার বিনাশ রোজ ঘটালেও ইউভানের পাশবিক সত্তাকে জাগিয়ে তুললো।মাফিয়াটার গালে রোজের নরম হাতের চড় এতো তিব্র বেগে পড়লো যে পুরো পাঁচ আঙুলের ছাপ স্পষ্ট তাতে।ইউভান রোজের গলা চেপে ধরলো, অসহ্যতার সীমা ছাড়িয়ে জোরপূর্বক ওষ্ঠ ছুঁয়ে গেলো রোজের অঁধরে ফাঁকে।রোজ আত্মচিৎকার দিতেই ইউভান চোয়াল শক্ত করে জবাব দিলো।
—“এই বান্দী। তুই আমার। তোর উপর শুধু অধিকার রিকের আর কারোর না।আমি কি পারি না পারি তা সম্পর্কে তোর ধারণা হয় নি??আমার স্পর্শ ভালো লাগে না??পর-পুরুষের গুলো ভালো লাগে?”
মুহূর্তেই ইউভান বড় বড় শ্বাস টেনে চুল খামচে ধরলো নিজের।রায়হান যে আলিঙ্গন করেছিলো তা আগ্নেয়গিরির লাভার মতো তপ্তভাবে ফুটে উঠলো ইউভানের অক্ষিপলে।পরমূহূর্তেই বিকৃত হাসির রেখা টেনে রোজের গালে হাত রাখলো।
–“পাগল হয়ে যাবো আমি।পাগল।তুই কেন বলিস না যে তুই আমার???কবে বলবি??তোর রুপ সৌন্দর্য সব আমার, তোর দেহের শ্বাস-প্রশ্বাস সব আমার নামে লিখা হয়ে গিয়েছে। আর তুই আমায় বলিস অধিকার নেই??Say you are mine!”
রোজ পুরোপুরি বাকরূদ্ধ।অশ্রুসিক্ত নয়ন স্হির ইউভানের পানে।কোনো সুস্থ সবল মানুষ এমন পাশবিক আচরণ করতে পারে না।ইউভানকে পাশ কাটিয়ে রোজ চলে যেতে উদ্যম হলে ইউভান টেনে ধরে রোজের কব্জি।নিজের সুপ্রশস্থ লোমহীন বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো। রোজের ললাট থেকে একটা একটা করে চুল সরালো।অতঃপর রোজের থুতনির মধ্যেভাগ দু-আঙুলে ধরলো।গাঢ় দৃষ্টির মিলন ঘটিয়ে বলল-
–“I do anything for you!just stay with me little dove!!”
বাহিরে -ড্রিগ্রি তাপমাত্রা আর রুমের মধ্যে ঘেমে একাকার দু মেরুর দুই মানব-মানবী দুজনেই।রোজের দৃষ্টি পরে ইউভানের সৌষ্ঠব বুকের ব্যান্ডেজ ভেদ করে রক্তপাতের দিকে।শরীর নাড়াচাড়ার উত্তেজিত হওয়ার ফলেই এমনটা হয়েছে রোজ বুঝতে পারলো।তার দেওয়া ক্ষত তো শুকোয় নি এখনো।একটু ভেবে চড় মারার দরকার ছিলো, বুঝতে পারলো না মেয়েটা,ঠান্ডা মাথায় একটু ভেবে রুম থেকে বের হলেই পারতো তা না করে আবারো চড় মেরে দানবটাকে রাগিয়ে দিলো।তবে মূহূর্তেই সমগ্র ক্ল্যাশ নিয়ন্ত্রণে এনে রোজ অঁধর চেপে শান্ত স্বরে বলল।
–“রাগ করলেন নাকি??এতো হাই’পার হওয়ার দরকার নেই।
শান্ত হয়ে বসুন।স্বামী সেবা করবো।
“এখন বলুন কি খাবেন ।চা- কফি,রামেন,ড্যানিশ আইটেম,নাকি বাঙালি ফুড??কি খেতে চান??আমি বানিয়ে আনছি।”
পরক্ষনেই ইউভান রোজের পিঠ নিজের বুকে মিশিয়ে রোজের ঘাড়ে গরম নিঃশ্বাস ছেড়ে কানে মুখ নিয়ে হিসহিসিয়ে বলল–
–“তোর থেকে ডেলিশি’য়াস ফুড আর কিছু হতেই পারে না।চল তার আগে তোকে একটু সুদ্ধ করে নি!”
ইউভান নিজের হাতের বাঁধন আবদ্ধ করে রোজকে টেনে ধরলো।খাবার জাহান্নামে যাক।অতঃপর হাঁটা দিলো রোজকে নিয়েই। হঠাৎ এমন ঘটনায় রোজ হতবিরল হয়ে বলল-
–“আজব তো।কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন??”
তবে ইউভান কোনো প্রতিউত্তর করলো না।পরক্ষণেই রোজকে টেনে নিয়ে রুম ত্যাগ করলো।
এদিকে এম্পায়ারের ভিতরের ঝাড়বাতির নিচে সোফায় রাহার বান্ধবী হায়া সুলেমান উত্তর কোণে ফায়ারপ্লেসের পাশে বসে এখনো টিভির স্ক্রিনে ইন্দোনেশিয়ান হরর ফিল্ম দেখছে।একেবারে ফুল মনোযোগ সহকারে এক নাগাঢ়ে দেখেই চলছে।চারপাশের কোনো কিছুর প্রতি ধ্যান জ্ঞান খুইয়ে বসে।পাপকর্ণ খেতে খেতে হঠাৎ ফিল্মের মধ্যে এক বিভৎস সিন যেখানে এক ব্যক্তি কবর থেকে এক মৃত লাশ উঠিয়ে তার পঁচা
মাং/স খুবলিয়ে খাচ্ছে।পাশে এক বৃদ্ধ বুড়ো কালো জাদু করছে জিনের মাধ্যেমে।এই টুকু অব্দি ঠিকি ছিলো তবে অপর পাশে আরেকটা কবর থেকে হুট করে একটা লাশ বের হয়ে টিভি ভেদ করে বেরিয়ে আসবে এমন ভাবে দৌড় দেয়।লাশ তো টিভি থেকে বের হতে পারবে না তবে হায়ার ভাস্যমতে এখনি বুঝি বিকৃত চেহারার লাশ/টা বের হয়ে পড়বে, তা হওয়ার আগে হায়া এক চিৎকার দিয়ে পাপকর্ণ সোফায় ফেলে এক দৌড় দেয় প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে।
না না আবার ফিরে এসে সোফা থেকে পাপকর্ণ নিয়ে যায়।রাতে আবার খেতে হবে তা ভেবে।কারণ আজ রাতে আর এই হলরুমে আসার সাহস হয়ে উঠবে না তার।তবে এতো জোরে দৌড় দেয় মেয়েটা তাও চোখ মুখ বন্ধ করে অন্ধকারের মধ্যে, যেনো বুদ্ধিসুদ্ধি সব লোপ পেয়ে বসেছে। দৌড়াতেই হঠাৎ পায়ে হোঁচট খায়। হুমড়ি খেয়ে পরে এক লম্বাটে পিঠের উপর। আচমকা এমন ঘটনায় অপর পাশের ব্যক্তি আর হায়া দুজনেই ভারসাম্য হারিয়ে বেসামাল হয়ে পরে ফ্লোরে।ফ্লোরে পড়তেই পিঠের আঘাতে নাকে ব্যাথা পেয়ে চিল্লিয়ে উঠে হায়া।অথচ তার থাক্কায় যে একজন ফ্লোরে পড়ে আছে উল্টো হয়ে আবার সে নিজেই পড়ে আছে ঐ অগুঃন্তক ব্যাক্তির পিঠের উপর তা জ্বলাঞ্জলি দিলো মেয়েটা।নাক ঘষতে ঘষতে বলল-
“আমি কি লা*শের উপর এসে পড়লাম নাকি।ওহহ গড হেল্প মি!”
এদিকে দু’হাতে ফ্লোরে ভর দিয়ে শক্ত পুরুষালীর কন্ঠটা বলে উঠলো-
“জ্বি দয়া করে লা*শের উপর থেকে নিজের তর তাজা বডিটা সরাও,, তারপর গ’ডের কাছে কিভাবে হেল্প চেতে হয়,শিখাবো।”
“লা*শ দেখি কথাও বলে!!”—-পরক্ষণেই হায়া চট করে উঠে দাঁড়িয়ে পরে।এতক্ষণে সজ্ঞানে ফিরলো সে।বড় বড় চক্ষু মেলে হলরুমের হালকা আলোর একটা টিমটিমের লাইট জ্বালিয়ে নেয়।তবে ফ্লোরের উপর পরে থাকা দামিয়ানকে দেখে এমন অভিব্যক্তি করলো যেনো সাপের সামনে নেউল পড়েছে।এখন বাঁধবে কুরুক্ষেত্র। হায়া একটা শুকনো ঢুক গিলে উল্টো দিকে দৌড় দিতেই দামিয়ান বলল—
“তোমার সাহস তো কম না।দোষ করেছো তার জন্যে কোনো অনুশোচনা নেই।তা না করে পালাচ্ছো।তোমাকে এম্পায়ারে ঢুকতে দিয়েছে কে????বের হও গে’ট লস্ট।না-হলে লা*শ তুমিই হবে আর তা পেকেটিং করে তোমার বাড়ি পাঠাবো আমি। “
সাঙ্ঘাতিক অপমানবোধ করলো হায়া এভাবে মুখের উপর এম্পায়ার থেকে বের হতে বললো তাকে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো দেখা তার দামিয়ানের সাথে। দেখাও ঝামেলাও।ঝামেলার শুরুটাও পুনরায় হায়াকে দিয়েই।
“আপনি কে আমাকে বের হতে বলার???”
মুহূর্তে দামিয়ান রাগে গজগজ করতে করতে বলল-
“একটা গ্যাংস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে তার দিকে আঙুল তুলছো!মন চাচ্ছে এক থাপ্পড়ে তোমার বত্রিশ চা*পাটি দাঁত ফেলে দিতে “
“সরি টু সে’ ভাইয়া! বাট আমার এখনো বত্রিশটা দাঁত উঠেনি।”
“তুমি তো মেয়ে আমার ভাবনার থেকেও বড় ফাজিল!তুমি ঢুকলে কি করে এম্পায়ারে।বেহায়া মেয়ে”
“শুনুন ভাইয়া! আমার নাম হায়া ন’ট বেহায়া।”
দামিয়ান আর হায়াকে কথোপকথনের মাঝে পিছন থেকে ডাইনিং টেবিলের উপর পায়ের উপর পাঁ তুলে বসলো রাহা। ওয়াটার বোটল থেকে পানি খেতে খেতে বললো।
—“আমি এনেছি।হায়া আমার সাথেই এখানে থাকে।”
দামিয়ান ভ্রুক্ষেপহীন ভাবে বললো-
–ম’গের মুল্লুক নাকি !কেন? এই বেহায়া টার কি কোনো বাড়ি-ঘর নেই নাকি??”
–“ছিলো এখন নেই।বাসা থেকে পালিয়ে এসেছে তাও আবার বিয়ের আসর থেকে অবশ্য প্ল্যানটা আমিই দিয়েছি।”
দামিয়ান চট করে রাহার সামনে এসে দাঁড়িয়ে একবার হায়ার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।কুবুদ্ধিবাজ রাহার কথা শুনেই দামিয়ান তাচ্ছিল্য হাসলো–
–“এই কেস্ তাহলে, ছেলেটা দেখি অনেক ভাগ্যবান বেঁচে গিয়েছে….রাহা তোর বান্ধবীর ফিউচার হাসবেন্ডের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।!
দামিয়ানের এমন কথায় হায়া মুখ গোল করে রাগে কটমট করতে লাগলো কান বেয়ে ধোঁয়া উড়তে লাগলো মেয়েটার। দামিয়ান পুনঃরায় বলল-
ওয়েট! ওয়েট!পালিয়েছে মানে??তো পালালে এখানে কি প্রেমিকের বাসায় যেতে বল।মাফিয়া হাউজে কি করে??বেহায়া মেয়ে একটা।”
রাহা কপালে দু আঙুল স্লাইড করলো।প্রেমিক থাকলে তো হায়াকে সেই প্রেমিকের কাছেও পাঠাতো না রাহা।তার উপরে হায়ার তো তাও নেই।রাহা বিয়ে করতে নিষেধ করেছে তো বেশ্ হায়াও আর বিয়ে না করে সোজা বিয়ের আসর থেকে পালিয়েছে। রাহা বিয়ে করেনি হায়া কেন করবে??এরকম দুমুখো পানা রাহার ডিকশনারিতে নেই।
ইতালি, পালেরমো|
ঘন জঙ্গলে তিমিরে ঢাকা এক বিধ্বংসী প্রসাদ।আকাশের পশ্চিম পাশে ধীরে ধীরে অস্তমিত হচ্ছে দিবাকর।পালেরোমের অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রাসাদ আরও ছেয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে।প্রাসাদের ভেতরের অস্তমিত সূর্যরশ্মীর কিরণে পরিবেশটা আরোও অলৌকিক দীপ্তিময় হয়ে উঠে।
সেগুন কাঠের বড় টেবিলটার ওপর রাখা রুপোর মোমদানি থেকে মোম গলে গলে পড়ছে। দেয়ালে টাঙানো তৈলচিত্রের আকাঁ বিকৃত চোখের চাহনি যেন অন্ধকারের সাথে সাথে আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠছে। বাইরে ঝড়ের পূর্বাভাস নেই তবে মাত্রা – ছাপিয়ে ৩ ড্রিগ্রি তে এসেছে।একটা বড় হল রুম। ভেতরে সেই রহস্যময় সুগন্ধি আর আর মিউজিকের মৃদ গুঞ্জন।সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে এই ঘরটা বর্তমান পৃথিবীর কোনো চিত্রকর্ম নয়, বরং কোন ভিক্টোরিয়ান উপন্যাসের –
“অভিশপ্ত এক অধ্যায়।”
কক্ষের আধখানা অংশ জুড়ে রাখা একটা টেবিল।আর মেহগনি টেবিলকে ঘিরে বসে আছে কয়েকটা নিশ্চল অবয়ব –যাদের পড়নের দামি স্যুটের চাকচিক্য আর হাতের দামি সিগারেটের ধোঁয়া ঘরটাকে এক কুয়াশাচ্ছন্ন গোলকধাঁধায় পরিণত করেছে।
টেবিলের ওপর রাখা ক্রিস্টাল ডিক্যান্টার থেকে ঢালা পানীয়ের গ্লাসে বরফ কুচির টুংটাং শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। সেই নিস্তব্ধতার মাঝে ঘরের এক কোণে রাখা পুরোনো গ্রামোফোনে বাজছে মোৎসার্টের কোনো এক বিষাদমাখা সুর,আর সেই সুরে তালে তাল মিলিয়ে হাত নাড়াচ্ছে ইতালির ফাদার খ্যাত —
” মার্বেল ব্রিস্ট”
নারীদেহের প্রতি লোভ লালসার চড়ম পর্যায়ে যার বাস।বিকৃতভাষ্য পুরুষটার সম্পর্কে অবগত পুরো ইতালির সিটি।হাতের রেডওয়াইনের স্বাদে আস্বাদিত তার জিভ।তার পাশে দুটো আরামদায়ক চেয়ারে বসে আছে
মধ্যে প্রাচ্যের ডিলার রশিদ আল হামজা অপর চেয়ারে ডিমোনিক শ্যাফার পুরো ইউরোপ মহাদেশে নাইটলাইফে ড্রাগ ঢোকানোর মাস্টার। তবে ড্রাগের প্রধান কারবার স্পাইডার লিডারের হাতে শুধু ইউরোপ না,,, ইউভান— ইউরোপ, আফ্রিকা সহ আরও দুটো মহাদেশের মধ্যে ড্রাগ আর অস্ত্র পাচারে মূলঘাটি।
উপস্থিত তিন আধিপত্য সাম্রাজ্যের তিন ব্রাতাদের মুখে বিকৃত হাসির রেখা টানা।গ্লাসে গ্লাসে চেয়ারস করেই উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো অশুভ পশু মার্বেল ব্রিস্ট।চক্ষুদ্বয় যেনো রাগে ফেটে পড়বে তবে এমন বিভৎ*স ভরা চাহনির মূল কারণ রিক আলবার্ট। ভোলচর দ্বীপে গ’ড ফাদার মাস্টারের আস্তানায় প্রাণঘাতী অট্যাক করা চারটে খানিক কথা নয় তাই সেদিন ব্রুস্টার প্যালেসে ভোলকভের অট্যাকে যুদ্ধরত লগ্নের সূচনা হওয়ার আগেই ভোলচর দ্বীপ ত্যাগ করে মাফিয়ারা।ভোলচর দ্বীপের শাসনকর্তা শুধু মাস্টার।আর সেখানে শুধু তার দেয়া রুলস্ ফলো করা হয়।তবে ইউভান ব্যতিক্রমি সত্তার অধিকারী তার ডিকশনারীতে তার জন্যে রুলস্ কোনো ম্যাটার না। তবে সেই দিনের ঘটনা বারবার মস্তিষ্কে হানা দিতে থাকে মার্বেলের শয়তানি অবয়বে।
গায়ের উপর থেকে কৃষ্ণবর্ণের নাইটির ফিতে খুলেই মেহগুন গাছের তৈরি টেবিল থেকে অবসেডিয়ান শিরা গুলো ফেলে দেয় মেঝেতে।ঘাড় কাত করে অগ্নিময় চোখে তাকিয়ে থাকে সেগুলোর দিকে —
–“”এতো বড় ধোঁকা বাজি মার্বেলের সাথে?? নকল হিরে???অ্যাস*হোলটা আমায় নকল হিরে দিলো আর আমি হিরে পাওয়ার খুশিতে ধ্যাণ জ্ঞান সব বিসর্জন দিয়ে ফেলেছিলাম।”
মার্বেলকে রাগে গজগজ করতে দেখে ডিমোনিক শ্যাফার চোখে মুখে কপটতা ধরে রেখে বলল–
“তোমার কি মনে হয় রিক তার অধিপত্যে এতো সহজে ছেড়ে দিবে??কি পরিমাণ ধূর্ত সে তা জানা নেই??একটা সামান্য নারীর কারণে বিশ্বের মহামূল্যবান হিরে যার মালিকাধীণ তার হাতে সে জিনিস হাতছাড়া করে দিবে??”
রাশি আল হামজা হাসলো –“এক্সেকটলি।তবে এই টুকুতো কনফার্ম যে শিরাগুলো রিক আলবার্টের কাছে! ত্রিশ বছর যাবৎ হি’ডেন এই হিরে গুলো।বাট রিক খুবই ধূর্ত খুবই।”
মার্বেল উচ্চশব্দে হেসেই চেয়ার ভেঙেচুরে মেঝেতে ফেলে দিলো।
–“এতো চালাক হলে স্পাইডারের হান্টার আমার কাছে বন্দি তিনদিন যাবৎ কই সে???”—পরক্ষণেই মার্বেল তার স্পাই এর সাথে চুখাচুখি করে স্পাইডারের হান্টারকে নিয়ে আসতে বলল।
রাশিদ আল হামজা ওয়াইনের গ্লাসে গাঢ় চুম্বন করলো–
“উহুম! রিক আলবার্ট কিন্ত মস্তিষ্কের জাদুকর যার চোখ নাকি মানুষের মনের গোপনতম কুঠুরিতেও প্রবেশ করতে পারে।”
হামজার কথা মাঝ পথেই থেমে গেলো তার কালো মুখাবয়বের ছিটকে এসে পড়লো তাজা রক্তের স্ত্রোত!হামজা আর শ্যাফারের পাঁ ভিজে উঠেছে তাজা রক্তে। স্পাইডারের স্পাই এর গলার রগ ছিঁড়ে ঝুলছে মার্বেলের হাতে।মার্বেল স্পাই এর মাথা মটকিয়ে দিতেই হাড় ভাঙ্গনের মটমট আওয়াজে ফেটে পড়লো পুরো কক্ষজুরে।এমন দৃশ্য সকল গার্ডদের মুখ ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করেছে।
মার্বেল বিনাবাক্য নিজের ডান হাতের সাদা রুমাল বের করে মুখের মধ্যে লেপ্টে থাকা তাজা রক্তগুলো পরিষ্কার করলো।হান্টারের হাতের স্পাইডার ট্যাটুর উপর পাঁ ঘষলো,তাতেই চাম/ড়া সরে সাদা জমাটবাধা মাং/স ভেসে উঠলো। ঘাড়ে অংশের রগ গুলো সাপের মতো প্যাচিয়ে পড়ে আছে মেঝেতে।
মার্বেল তাতে কোনো প্রকার ভ্রক্ষেপ না করে সামনে এগিয়ে মনিটর অন করে দিলো।আর প্রজেক্টর থেকে পার্শ্ববর্তী দেয়ালে ভেসে উঠলো ব্রুস্টার প্যালেসের কিছু সিসিটিভির চিত্রকর্ম রোজ আদ্রিয়ান ইউভানকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মার্বেল ছবিগুলোর উপর হাত রেখে পৈশাচিক উৎফুল্লতা মিশ্রিত হাসির রেখা টেনে হাসলো–
“ব্লু ভেইল কে??অ্যা অর্ডিনারী গার্ল??অর ন’ট????অফকোর্স সি ইজ্ অ্যা বিউটিফুল লেডি।বাট হুয়াই হুআই?? রিক আলবার্ট ডেস্পারেট ফর হার অ’লসো ভোলকভ????”
যদি আমি যা ভাবছি তা সত্যি হয় রিক তোর কলিজা একটু একটু করে টেনে ছিঁড়বো আমি। অবসেডিয়ান শিরাও নিবো আর ব্লুভেইলের মোহনীয় লালস্য দে*হের ক্যানভাসে নিজের ঠোঁটের তুলি দ্বারা আঁকিবুকিও করবো।
রাশিদ আল হামজা দ্বিধাহীনভাবে উঠে চট করে মনিটরের স্ক্রীনে চোখ বুলালো।ছবিগুলোর সাথে কিছু বিভৎস লৌহমর্ষক অতীতের সদৃশ্যতা মিল।
স্পাইডার লিডার রিক আলবার্ট কে তা মনে আছে তো??কার কর্ণধার সে!
মার্বেল আর শ্যাফারের মস্তিষ্কে একযোগে ভেসে উঠল সেই নাম—রুশান আলবার্ট।
হুম! ডেনমার্কের সেই লৌহমর্ষক রজনী, যা আজও অপরাধ জগতের বড় বড় রাঘববোয়ালদের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়।রুশান আলবার্ট ছিলেন এক অন্ধকার জগতের অঘোষিত সম্রাট, যার পৈশাচিক কারবারগুলো নরকের বীভৎসতাকেও হার মানাত।নব্বই দশকে ইউরোপ আফ্রিকা সহ কয়েকটা ভূখন্ডে ছিলো তার রাজত্ব। লালসার এক চরম শিখরে পৌঁছে সেই উন্মাদ পুরুষ নিজের অর্ধাঙ্গিনীকে হত্যা করে ক্ষান্ত হননি!তার হৃৎপিণ্ড ভক্ষণ করার মাধ্যমে তিনি যে নারকীয় উন্মত্ততার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক কালিমালিপ্ত অধ্যায়। সেই বীভ*ৎস কৃতকর্মের পর রুশানের নিজের জীবনাবসান(আত্মহত্যা ) ছিল যেন এক চূড়ান্ত অভিশাপের পূর্ণতা।
মার্বেল পুনরায় বললো—-আলবার্ট ম্যানশন সেদিনের পর থেকে ছিলো এক শ্মশান নীরবতা। রুশান মাতা এ্যাশ আলবার্ট পারিবারীক দন্দে আহত হয়ে চলে গেলেন কোমায়। রুশান পুএ কন্যা নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়েছিলো পুরো নেট দুনিয়ায়।পনোরো বছর সেই রাজকীয় অট্টালিকায় ঝুললো এক প্রকাণ্ড তালা।ধ্বংস হলো আলবার্ট বংশ।
কিন্তু রক্ত কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করে না। বর্বরতা আর নৃশং*সতা যাদের ধমনীতে হিমাঙ্কের নিচে প্রবহমান, তাদের বিনাশ কি এতই সহজ?
শ্যাফার ওয়াইনের গ্লাসে চুম্বনরত অবস্হায় হিসহিসালো—
বহু বছরের দীর্ঘ নীরবতা ভঙ্গ করে একদিন আন্ডারওয়ার্ল্ডের দিগন্তে উদয় হলো রিক আলবার্ট।তার উপস্থিতি ছিলো অবিশ্বাস্য।নিঁখুত ভাবে রুশান আলবার্টের সেই বিষাক্ত রক্ত আর নৃ*শংস মস্তিষ্কের পূর্ণ উত্তরাধিকার নিয়ে রাজত্বে বসলো। মিসেস এ্যাশ আলবার্টও কোমা থেকে ফিরলেন আর ব্যবসায়িক নেএী হলেন।
মার্বেল নিজের বিকৃত মস্তিষ্কে হাত রেখে পৈশাচিক হাসির রেখা টেনে পুরো ওয়াইন মেঝেতে ফেলে দিলো।
“এসব ইতিহাস কে না জানে???রিক যতই কয়লা ধোঁয়ার চেষ্টা করুক না কেন যতই নেট দুনিয়া থেকে নিজের বংশের বর্বরদশা মুছে ফেলুক, কয়লা ধুলেও কি সাদা হয়??
রশিদ আল হামজা দ্বিধাহীনভাবে বলল—
“রিক কিন্তুু হ্যাকিং এক্সপার্ট!……মাফিয়া জগৎটা তো তার পৈতৃক নিবাস তবে রিকের আসল ট্যালেন্ট তো হ্যাকিং সিস্টেমে।রিক এমন এক স্তরের হ্যাকিং এক্সপার্ট, যার কাছে পেন্টাগনের ফায়ারওয়াল কিংবা সুইজ ব্যাংকের এনক্রিপশন আছে।তার তৈরি করা ‘ম্যালওয়্যার’ গুলো সাইবার স্পেসে অনেকটা জ্যান্ত ভাইরাসের মতো কাজ করে, যা বিশ্বের বড় বড় ফিন্যান্সিয়াল সার্ভারগুলোর রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে লুট করে নিতে পারে বিলিয়ন ডলারের সম্পদ যার কোনো ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা চিহ্নও খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।
মার্বেল পুরোদমে পায়চারি করতে থাকলো।
–” আ্যাস*হোলটা আমায় ধোঁকা দিলো।আমার কিন্তুু শিরাগুলো চাই চাই।আর ঐ ব্লু ভেইলের শরীরটাও।একবার টে’স্ট তো করাই যায় কি বলো,ফুলসজ্জার পালঙ্ক না-হয় মার্বেলও একটু সাজাক।মাথাটা কিলবিলিয়ে উঠছে।”
শারীরিক উত্তেজনায় ফেটে পড়ে মার্বেল তার স্পাইকে ইশারা করেই হনহনিয়ে বেডরুমের দিকে হাঁটা দিলো।কয়েকঘন্টার জন্যে তার বেডরুমে একজন রমণীর পাঠানো হলো।হামজা, শ্যাফার মাথা এপাশ ওপাশ নাড়িয়ে ওয়াইনের গ্লাসে পুনঃরায় চে’য়ারস করলো।
সন্ধ্যা লগ্নে সূর্যাস্তের লালাভ রেখা পার্শ্ববর্তী গ্লাস ভেদ করে ভিতরে প্রবেশ পুরো মার্বেল মেঝে রক্ত-সোনালী বর্ণ ধারণ করে আছে।সেই আলোর পথ গলে ইউভান রোজকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।করিডরের অপরপ্রান্তে একটা বিশাল আকৃতির লাইব্রেরি রুমে প্রবেশ করলো দু’জন। সারি সারি তাকে নৈপুণ্যে হাতে গুছনো নানা ভাষার বই।ভিনদেশীয়।রোজ বিরক্তি ভঙ্গিমায় অবচেতন মনে আওড়াতে লাগলো,মন্সটারটার তে*জ এখনো কমেনি,,,এই লোক কি তাকে বই পড়াতে নিয়ে এলো নাকি।আশ্চর্য ব্যপার তো।
“কি সমস্যা আপনার কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন??”
ইউভানতো কোনো প্রতিউত্তর করলোই না উল্টো এসে দাঁড়ালো একটা বইয়ের তাকের সামনে।এক কোণে একটা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেম।সেখানে ইউভান তার বৃদ্ধা আঙুল ছোঁয়াতেই পুরো তাক সরে যায়।ততক্ষণাৎ রোজের দু-ঠোঁট ফাঁক গলে বেরিয়ে এলো।
“সুরঙ্গ??ছাড়ুন আমার হাত আপনি কি আমাকে বেসমেন্টের নিচে বন্দী বানাবেন নাকি!! জানো*য়ার লোক।!
সুড়ঙ্গপথ ধরে রোজকে পাজকোলে তুলে নিয়েই সোজা নেমে গেলো ইউভান।এম্পায়ার অফ ডার্ক ইউভি’-এর বেসমেন্টে। কক্ষের ভেতরটা কোনো বিজ্ঞানাগার নয়, বরং এক আদিম আর পৈশাচিক রসায়নবিদ্যার কসাইখানা। চারদিকের দেওয়ালে সারি সারি কাঁচের জার, যাতে সংরক্ষিত আছে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ,,,নীলাভ ফর্মালিনে ভাসছে বিচিত্র সব বিভীষিকা।এসব চোখে পড়তেই রোজের নাড়িভুড়ি উগ্রে ব*মি চলে আসলো।মুখ চেপে ধরলো।এতো অসহ্যকর গন্ধ সে আগে কখনো অনূভুব করে নি।
রোজের বিস্ফোরিত অক্ষিপল গেলো কক্ষের ঠিক মধ্যিখানে রাখা এক প্রকাণ্ড কাঁচের প্রকোষ্ঠে কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে এক কালান্তক মৃত্যুদূতের পানে। এক বিশালাকার কৃষ্ণবর্ণের বিষধর স*র্প-নাম তার ‘ইটার অফ ফ্লেশ’ (Eater of Flesh)। এর শরীর থেকে নির্গত হওয়া কালচে আভা যেন অন্ধকারকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে।
“ছ্যা্ঃ! এটা কি দয়া করে এখান থেকে চলুন, আমার বমি চলে আসবে। ওয়াক্।অমানুষ লোক এসব কি পোষে রেখেছেন।”
“বাপের জন্মে সা*প দেখিসনি নাকি???”
রোজ চোখ মুখ খিচে ধরলো।আর এক মিনিট থাকলে নির্ঘাত বমি করে দিবে রোজ।কতোটা জঘন্য পরিবেশ।
এমন কুন্তলি পাকানো সাপ দেখে রোজের চোখের তারায় তখন কেবল হিমশীতল আতঙ্ক।কিন্তু ইউভানের চোয়ালের পেশিগুলো রাগে আর ঈর্ষায় কাঁপছে।রায়হানের স্পর্শ রোজের অঙ্গে লেগে আছে এই চিন্তাটাই ইউভানের মগজে এক সাইকোপ্যাথিক দহন তৈরি করেছে। ইউভান উন্মাদের মতো রোজের বাহু চেপে ধরে তাকে নিয়ে গেল একটা স্টেইনলেস স্টিলের বিশালাকার পাত্রের সামনে, যা টগবগ করে ফুটছে তীব্র ক্ষারীয় এসিডে।পার্শ্ববর্তী বোতলের গায়ে লিখা সালফিউরিক এ*সিড H_2 So_4, হাইড্রোক্লোরিক HCI।
ইউভান রোজের কোমড় জরিয়ে হেঁচকা টানমরলো। অতঃপর রোজের অঁধরে আঙুল চেপে ধরলো কণ্ঠে এক পৈশাচিক উন্মা*দনা ভাব ফুটে উঠলো–
”তোকে গভীরভাবে ছুঁতে মন চাইছে। একটু আদর করতে। কিন্তু সুইটহার্ট……..
বাক্যউক্তি শেষ না করেই ইউভান রোজের চুল টেনে ধরলো।
—“যে অঙ্গে পরপুরুষের অপবিত্র স্পর্শ লেগেছে, সেই ত্বক আমি আজ এই এসিডে শুদ্ধ করব!….
রোজের আর্তনাদ করার ক্ষমতাটুকুও তখন লোপ পেয়ে বসেছে। ইউভান তাকে এসিডের পাত্রের ঠিক ওপরটিতে ঝুলিয়ে ধরেতেই , যেন এক লহমায় রোজকে জলন্ত তরলে বিসর্জন দেবে।রোজ পিছন ঘুড়ে টগবগিয়ে ফুটা তরল বস্তুর দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢুক গিললো।তবে দাঁত কটমট করে ভ্রু উচালো,আত্নবিশ্বাসের ন্যায় হাসলো
–“ফেলুন।আপনি আমাকে মারতে পারবেন না।মারার হলে আরও আগে মেরে দিতেন।এখানে পড়লে আমার শরীরের এক অংশেও অবশিষ্ট থাকবে না।”
রোজের কথায় ইউভানের চোখের অগ্নিশিখা হঠাৎ কামনায় রূপান্তরিত হলো। সে তার হিমশীতল আঙুলগুলো রোজের কম্পিত কাপাঁ কাপাঁ গলার উপর দিয়ে ধীরগতিতে চালালো।গ*লদেশের মাঝে একটা গভীর চুমু দিয়েই গলাটাই চেপে ধরে ঘুরিয়ে ধরলো।মুহূর্তেই রোজের দম্ বন্ধ হয়ে এলো।নিঃস্বাস আঁটকে মৃত্যুপ্রায় রোজের উপর অগ্নিদৃষ্টি ফেললো ইউভান।
–“বান্দীর বাচ্চা আগে তোকে চুবাবো তারপর নিজেকে।বেশ্ খেল খাতাম।”
মন চাচ্ছে তোর ঐ লালস্যময়ী চেহারাটাই জ্বালিয়ে দিতে।তারপর আর কারোর নজরে পরবি না,কোনো শুয়ের বাচ্চা আর নজর দিবেন না।”
পরক্ষণেই ইউভান উন্মা*দের মতো রোজের গলা ছেঁড়ে দু’হাতে গাল ধরলো। রোজের চোখের কোণে জমা জল গাল বেয়ে গড়াতে না দিয়ে মুছে মায়াবতীর ললাটে কপাল ঠেকালো ইউভান।দূরত্ব নগন্য হয়ে উঠলো তাদের মাঝে।
আমার তোর রূপ লাগবে না। শুন! শুন! শুন!শুধু তোর আত্মাটা মিশিয়ে রাখ আমার আত্মার মাঝে।
“Cause You can the be beauty & i could be the monster”!
রোজ ইউভানের হাতের বাঁধন থেকে দূরে সরে এলো।গাঁ গিন গিন করছে তার।এমন অসুস্থ পরিবেশে থাকতে তার দম্ এমনিতেই বন্ধ হয়ে আসছে।হাতের উল্টো পিঠ কপালে জমে উঠা ঘাম মুছে বলল–
–” দূরে থাকুন।দূরে।নাহলে এসিডের আমি আপনাকে ফেলবো।”
রোজের ঠোঁটে অনবরত থরথর করে কাঁপছে। উগ্রে উঠা বমি চেপে ধরে রেখেছে। ইউভান পুনঃরায় রোজকে নিজের শরীরের সাথে সজোরে লেপ্টে ধরলো।তবে আকষ্মিকভাবে ইউভানের মুখের উপর থুঃথুঃ ছুড়ে মারলো।প্রকান্ড গতিতে একনাগাড়ে দুটো চড় মেরে ধাক্কা মারলো বুক বরারবর।রোজের ধাক্কায় ইউভানপর বুকের ব্যান্ডেজ ভেদ করে এবার গ*লগলিয়ে রক্ত গড়াতে লাগলো।রোজ মুখ ফিরিয়ে এবার উচ্চশব্দেই কেঁদে উঠলো।বুকের ভিতরটা মুহূর্তেই অসহ্যযন্ত্রণায় পুড়তে লাগলো।মাথা চেপে ধরলো।ক্রন্দনরত অবস্থায় সমস্ত ক্ল্যাশ নির্গত করে ফুপিয়ে ফুপিয়ে চেচিয়ে উঠলো—
“আপনার হাতদুটো আমাকে স্পর্শ করলে আমার গাঁ গুলিয়ে উঠে। যেই হাত আমার সমস্ত নারী সত্তা কে অপবিত্র করে কলঙ্কিত করেছে সেই হাতের স্পর্শে আমার ব*মি পায়। আপনি আমায়…….. “
বাক্যে উক্তি শেষ করার পূর্বমুহূর্তেই ইউভান রোজের ঠোঁটে ঠোঁট মিলালো। রোজের ঘাড় গলায় একের পর এক চুমু দিতে থাকলো।ইউভানের এড্যামস্ অ্যাপল তরঙ্গগতিতে উঠানামা করছে।রোজের হাত দুটো দেয়ালে এক হাতে মুঠো করে ধরে এক অদমমীয় স্বীকারোক্তি পোষণ করলো।যা শুনেই রোজের মাথায় ধ্বংসাত্মক পাহাড় ভেঙ্গে পড়লো যেনো —-
“চুপ! চুপ! চুপ শা*লী!……! ইউভান তোকে অপবিত্র হাতে ধরে নি আর না তার অনাগত প্রাণ অপবিত্র ছিলো না।তুই আমার বউ।তোর বাপের সাথে ডিল করেই তোর বাপের কাছে রেজিস্ট্রার পেপার দিয়ে বলেছিলাম তোর থেকে যেনো ভুলিয়ে বালিয়ে সাইন করিয়ে নেয়,একটু মাথা খাটিয়ে মনে কর।তুই না বুঝেই সেদিন সাইন করে ফেলেছিলি।তার একদিন পর আমি বিডি তে যাই।আর দুটো পেপারে সাইন করি একটা বাড়ির দলিল আরেকটা ম্যারিজ্।তারপর তো আবার কবুল পড়িয়ে বিয়েও করলাম,আর কি চাই তোর??তোর বাপের কাছে ঐ রেজিস্ট্রার পেপার।আরেকটা আমার কাছে।আর contract এর টা তুই নিজেই ছিঁড়ে ফেলেছিলি।
শুনে রাখ।আমি বিয়েতে বিশ্বাসি না আর না এসবের কোনো মূল্য আছে আমার কাছে।কোনো মূল্য নেই।তুই ইউভানের কাছে বন্দী হয়েগিয়েছিস সারাজীবনের জন্যে এটাই আসল সত্য।অধিকারের কথা বললে পরবর্তীতে তোর জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলবো আমি। “
আর তূর্জ হাউজও তোর নামে লিখে দিয়েছে।”
যদি চাস তোর বাপের কাছ থেকে বাড়ি ভারা নিতে পারিস।
চোখ বেয়ে দুফোঁটা অশ্রু এবার রোজের ফর্সা গাল বেয়ে গলায় পড়লো।শেষ বাক্যেগুলো যেনো তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন বাক্যেগুলোর মধ্যে অন্যতম।একজন ব্যক্তি মনে তাকে নিয়ে ঠিক কতটুকু ঘৃণা জন্মালে তার সাথে এমন নিষ্ঠুর খেলা খেলে চলেছে অনবরত।এতো যন্ত্রণার ভার কোথায় লুকোবো সে।
—“,আপনি দিনের পর দিন আমায় শুধু যন্ত্রণা দিয়ে গেলেন, কেন করলেন এমন???তার উত্তরটাও দিন।নাটকবাজ লোক।জঘন্য ,জানো*য়ার। কোনোদিনও ক্ষমা পাবেন না।আই রিয়েলি হে’ইট ইউ।আপনি আসলেই একটা অমানুষ। “
তবে তার কোনো প্রতিউত্তর না করেই ইউভান রোজের গলায় এলোপাতাড়ি ওষ্ঠ ছুঁয়ে দিলো।ইউভানের ওষ্ঠাধর রোজের গ্রীবাদেশের শ্বেতশুভ্র জমিনে অবাধ্য উল্লাসে বিচরণ করতে লাগলো,কক্ষের প্রতিটি অণু-পরমাণু যেনো এক রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় স্থবির।রোজের প্রতিটি স্নায়ু তখন অবশ হওয়ার উপক্রম।রমণীর কণ্ঠনালীর গভীর গহ্বর এক তীব্র তৃষ্ণায় খাঁ খাঁ মরুভূমি হয়ে উঠলো। এমন দহন, যা মেটানোর সাধ্য কোনো শীতল বারিধারারও নেই।মেয়েটার কোমল হাতদুটি দিয়ে ইউভানের লৌহকঠিন বাঁধন ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইলো কিন্তু ইউভানের মুষ্টি যে এক অমোঘ নিয়তি। তার হাতের প্রতিটি রেখা রোজের কব্জি পিষে দিলো এক পৈশা*চিক অধিকারবোধে।নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইউভান কামু/ড় বসালো রোজের গলদেশে।অসহ্য ব্যথায় কুঁকড়ে উঠেই রোজ ইউভানে গলায় নখ বসিয়ে দিতেই ইউভান ছেড়ে দিলো হাত।
—“ব্যথা হচ্ছে।সরুন।”
–“so what shut your fu*cking mouth!
–“অসহ্যকর।—রোজ তার ভয়ার্ত চোখের মণি দুটো স্থির করল ইউভানের সেই ধূর্ত, ফক্সি-চক্ষুর ওপর। দাঁতে দাঁত পিষে আচমকা রোজ ইউভানের গলায় নিজের ভ্যাম্পায়ারের ন্যায় ক্ষিপ্র গতিতে নিজের তীক্ষ্ণ দাঁত বসিয়ে দিলো ইউভানের গ্রীবাদেশে। এতো জোরে যে ইউভানের চা/মড়া ভেদ করে রক্ত ছুঁয়ে পড়তে লাগলো।তৎক্ষণাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ইউভান তার হাত দুটো দিয়ে পাশের দেওয়ালে এক প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করলো।পুরো সৌষ্ঠব দেহের যেনো বিদ্যুৎ তরঙ্গ বইতে লাগলো।এড্যামস এ্যাপল সেই তরঙ্গে উঠানামা করতে লাগলো।রোজ মুখ সরিয়ে নিলো গ্রিবাদেশ থেকে তার ঠোঁটের কোণে তখন ইউভানের র*ক্তের গাঢ় লাল আভা। সে এক অবজ্ঞার হাসি হেসে নিজের অঁধরের সেই রক্তিম চিহ্নটুকু মুছে ফেললো।সো হুয়াট একন কেমন লাগে বুঝুক।
“দু জায়গায় ড্রেসিং করিয়ে নিন এবার!”
রোজ এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে ইউভানকে পাশ কাটিয়ে উদ্ধত ভঙ্গিতে কক্ষ ত্যাগ করতে উদ্যত হলো।তবে ইউভানের অক্ষিপলে অভাবনীয় আসক্তি আর যন্ত্রণাময় তৃপ্তি। সে তার ভারী আর অশান্ত শ্বাস প্রশ্বাসের মাঝে দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে উঠল— ”ওহহহ শীট! বিষটা যে আমার র*ক্তে মিশিয়ে দিলি বান্দী! আরও একটা দিয়ে যা… পূর্ণতা পেতে এখনো তো অনেক বাকি!”
“Trust me! Now Alcohol & cigarette are just overrated… You are the real meaning of Addiction! Vampire queen!”
চলবে??
পরবর্তী পর্ব পেতে রেসপন্স করবেন। অবশ্যই গঠনমূলক মন্তব্য করার চেষ্টা করবেন।
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
love or hate পর্ব ১
-
Love or hate পর্ব ১৮
-
Love or hate পর্ব ৭
-
Love or hate পর্ব ৫
-
Love or Hate পর্ব ২৭
-
Love or hate পর্ব ১৯
-
Love or hate পর্ব ২৬
-
Love or hate পর্ব ১১
-
Love or hate পর্ব ১২
-
Love or hate পর্ব ২৪