Golpo Love or hate romantic golpo

Love or hate পর্ব ২৬


Love_or_Hate

|#পর্ব_২৬|

ইভেলিনা_তূর্জ

⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে

নিশানা করা ঝড়ের বেগে ছুটে আসা একটা গুলি রোজের কানের পাশঁ দিয়ে যেতেই রোজ ভয়ার্ত পায়ে দৌড় লাগাতেই একটা শক্তপুক্ত বুকের সাথে ধাক্কা লাগে রোজের কপাল।

কথায় আছে না যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়। রোজ বাঘের খাঁচা থেকে সহজে বের হতে সক্ষম হতে না পারলেও ঢুকে পড়তে পারে খুব সহজে,না চাইতেও।এই এক মূহুর্তের রোজের সমস্ত নারীস’ত্তার গহ্বরে জল কণা এক নিমিষেই শুকিয়ে এলো ইউভানের স্পষ্ট দৃশ্যমান ঢেউ খেলানো ব’ক্ষদেশে কপাল ঠেঁকতেই।ইউভান উল্টো পথে এলো ঠিক কি করে! -তা ভাবার আর সুযোগ হয়ে উঠলো না তার আগে রোজের সমস্ত চুল সা’পের ন্যায় পেঁচিয়ে ধরলো ইউভানের শক্ত ঠান্ডা হাত।ইউভানের লোম’হীন বু’কের গতিবেগ এতোটাই দ্রুত যেনো কোনো বুনো ষাঁড় একটানা দৌঁড়ে এসে হঠাৎ ব্রেককষেছে।

দু’জন দু-মেরুর মানব-মানবীর মনের মাঝে কয়েকমাইল দূরত্ব থাকলেও বাহ্যিকদূরত্ব হয়ে উঠলো নগন্য। ইউভানের বাহুডো’রে আবদ্ধ রোজের নাকে ভেসে এলো ভীষণ কড়া স্পা’ইসি ল্যাবেন্ডারের মাদকীয় পুরুষালী ঘ্রাণ।

রোজের বি’ভ্রমকে চিরতরে বিনাশ ঘটিয়ে ইউভান রিভলবারযুক্ত হাতে রোজের গাল চেপে ধরলো।চিরাচরিত কঠোর পাশবিক রূপ ধারণ করলো ইউভান।নিজের শক্ত হাতের চাপের ফলে রোজের ঠোঁটের ফাঁক গলে শব্দধ্বনী বের হওয়ার পথ রাখলো না ইউভান।অতঃপর অগ্নিময় অক্ষি’পল রোজের সাইড এঙ্গেলে ঘুরিয়ে নিয়ে পেছনের স্নাইপারদের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।সময়ের ব্যবধানে যেই স্নাইপারের রিভলবার থেকে রোজের দিকে গুলি ছুঁড়া হয়েছে ইউভান ঠিক সেই স্নাইপারের কপালের মাঝবরাবর পয়েন্ট আপ করে টানা ছ’টা বুলেট বিদ্যুৎবেগে ছুঁড়ে দেয়।

পুরো ফ্যাসিলিটি র’ক্তিমআলোতে জ্বলা এমন বিভৎস হাড়কাঁপানো দৃশ্য দেখে বিষাদিনী রোজ ক্লান্ত অক্ষিযুগল বন্ধ করে ফেলে।যন্ত্রণাময় শরীরের যন্ত্রণা আরও দ্বিগুন বাড়তে লাগলো।তৎক্ষণাৎ ইউভানের অন্তস্থলের হৃদয়হীন সত্তারা জাগ্রত হয়ে হুঙ্কার দিয়ে উঠে স্নাইপারের ছটফটানির দেহাবশেষে লাভা দৃষ্টি ফেলে-

—” সাচ্ অ্যা বুলশিট!!এতোটা স্পর্ধা তো আমি দেই নি!দিয়েছি কাউকে???…কোনো আইডিয়া আছে কার উপর গুলি চালিয়েছিস??

পুরোপুরি দৃষ্টি রোজের উপর স্থাপিত রেখে ইউভান পুনঃরায় ধ্বংসাত্নক স্বরে বলল–

–“just Remember That!nobody hurts her without me!
Mine!…
Nobody sh*it about her without me!..

অতঃপর ইউভান হাতে পেঁচানো রোজের চুলগুলো এক ঝটকায় টেনে রোজকে সামনে এনে দাঁড় করায়।পরক্ষণেই রোজের গলদেশ চেপে ধরে দেয়ালে ঠেঁসে ধরে।ইউভানের প্রসস্থ বুকের উঠানামা স্পষ্ট দৃশ্যমান। অক্ষিপল ভারী অন্তর্দহন শিখায় জ্বলাভূত।

—“এতো সাহস!!!ঘুমের ঔষধ খায়িয়ে শাওয়ার নিতে গেলাম, এর মধ্যেই যেই দেখলি দরজার বাহিরে গার্ড নেই পালিয়ে যাচ্ছিলি??এতো অশান্তিকর কেন তুই রোজ??ইউভানের সন্তানের হিসেব না চু’কিয়ে কোথায় যাবি??বল!

তৎক্ষণে রোজ ইউভানের ব’ক্ষের উপর ঘুষিরাগাত করে দম্ ছেঁড়ে কাঁদতে শুরু করে।আর কতো যন্ত্রণা সহ্য করবে এ বিষাধিনী?? ইউভানের কাছে থাকলে যে নিঃস্বাস নিতে কষ্ট হয়।দম বন্ধ হয়ে যায়।অতঃপর একটা বড়সড় নিঃশ্বাস টেনে ক্রন্দনরত অবস্থায় তেজি কন্ঠে ব’লে উঠে —

—“সমস্যা কি আপনার??বাচ্চা চাই?? তাই-তো দিবো!!।তাও দয়া করুন আমার উপর।কোনো সুস্থ মানুষের আচরণ এমন হতেই পারে না।আপনার মতো অমানুষের সাথে এক বিছানায় থাকা কি সম্ভব ??দম বন্ধ হয়ে আসে আমার।এ কেমন বন্দী জীবন বলুন তো।”

রোজ ইউভানের গলার সিলভার রঙা চেইন শক্ত করে চেপে ধরে শীৎকার দিলো–

—“বাচ্চা লাগবে তাইনা??দিবো!এরপরে আমাকে মুক্তি দিবেন তো??”

ইউভান পরক্ষণেই রোজের কোমড় জড়িয়ে ধরে বুকের সাথে আঁকড়ে ধরে।মাফিয়াটার অগ্নিধূসর চোখ কেমন যে স্হির হলো রোজের পানে।রোজের ল’লাট থেকে চুল সরিয়ে দিলো।

—“মুক্তি! তারপর??কোথায় যাবি আমায় ছেঁড়ে??কার কাছে??

রোজ দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।
“জাহান্নামে যাবো! তাও আপনার কাছে না!

তিরতির করে কাঁপতে থাকা ইউভান তার শক্ত চোয়াল স্হির রাখার চেষ্টা চালিয়ে বা-হাতে রোজের গাল চেপে ধরে কথার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে বলল–

—-“ওকে ফাইন!..মিথ্যাবাদী!আগে বল।ম’রলো কি করে সেটা জানতে চায় এই মন্সটারটা , তুই শুধু তার জবাব দে।মিথ্যা চাল চালার চেষ্টাও করবি না।ইনফরমেশন বের করতে বেশি সময় লাগবে না আমার।…আমি শুধু তোর মুখ থেকে জানতে চাই সত্যিটা।ফর গড সে’ ড্যাম’য়েইট!!!”

রোজ অনবরত ইউভানের গ্রিবা থেকে নিজেকে সরানোর চেষ্টা চালিয়ে একটা জোরালো শ্বাস টানলো।ইউভানের হাতের চাপের ফলে আটকে রাখা নিঃস্বাস একএে ছেঁড়ে কেঁশে উঠলো রোজ।যে ব্যপার সম্পর্কে রোজ নিজেই অবগত না সে সম্পর্কে সে কি বা বলবে,,,নিজের এই ছোট্ট মস্তিষ্ককতে আর কতো প্রশ্নের দানা ঘুরপাক খাওয়াবে,না পারে কিছু সহ্য করতে আর না পারে বলতে,তার কষ্টগুলোর বুঝার মতো ক্ষমতা তো তারও নেই,সহ্যশক্তি যে ফুরিয়ে এসেছে —

—“আ..আমি!হ্যাঁ আমি চা’ইনি তাই!!!!…আর কতো-বার বলবো??…. মিথ্যাবাদী তো আপনি,,দিনের পর দিন মিথ্যা,ধোঁয়াশা মধ্যে এক নোং/রা গোলোকধাঁধা ফেলে রেখেছেন আমায়।আমি না যোগ্য না আপনার??শুধু চাহি*দা মিটিয়েছেন!তাহলে এতো অযোগ্যবান নারীর গর্ভের সন্তানের জন্যে উতলা’ভাব আপনার সাথে যায় না মিস্টার ইউভান রিক চৌধুরী। ওহো নো!রিক আলবার্ট তো!…

রোজ তার ক্রন্দনরত ফুলো ফুলো চক্ষুদ্য় ইউভানের দৃষ্টিতে স্থির রাখলো।অগ্নিময় চোখজোড়ার পানে রোজ দৃষ্টি রাখতে চায় না, ইউভানের জলন্ত আগুনে লেলিহীতো চোখের দৃষ্টি ফেলা মানে ধ্বংস।তাও অনেক চেনা মনে হয় ইউভানের অগ্নিধূসর অক্ষিপল রোজের কাছে ।তবে এমনটা হতেই পারে না রোজের বিশ্বাস।অতঃপর রোজ তিরতির করে অধর কাঁপিয়ে বলল-

—-“আপনি কখনো আমাকে মানুষ বলে মনেই করেননি তাই না??…

—“কথাটা যদি আমি রিপিট করি তোকে??”

—“আপনি তো অমানুষই,স্বার্থপর,অহংকারী লোক,ক্ষমতালোভী!”

—“হুম।নিঃসন্দেহে!”

—“অসহ্যকর”!

—“সহ্য করে নিতে শিখ ব্লা’ডি ডার্ক রোজ !অ্যাই এ’ম ইউর ডে’স্টিনি।তোর ভাগ্যে কোনো নায়ক নেই,,।না আমি কোনো নায়ক!!!,যদি হতেও হয় এই ইউভানই নায়ক,খলনায়ক উভয়ই।, সেখানে থার্ড স্লা’টের কোনো ফা*কিং চান্স নেই। সকল রাস্তা আমি নিজ হাতে বন্ধ করে দিয়েছি।….”

পরমুহূর্তেই ইউভান রোজের উপর সমস্ত হিংস্রতা মিশিয়ে হুঙ্কার দেয়।

—“বলল বান্দী!সত্যিটা বল।তোর সাতকূল মাফ হয়ে যাবে।বোকা হরিণী মিথ্যা বলবি না!!!আমাকে শয়তান ভাবিস তাই না??হ্যাঁ।তোর দেহের প্রতিটা লোমকূপে এই শয়তানের বাস।এতো ক্ষমতা থাকার পর এই ইউভান কেন তোকে মা*রতে পারে না বুঝতে পারিস না তুই???তোকে মে’রে দিতে কিসের এতো টানাপোড়া এই শয়তানটার বল???…. আমার মতো একটা অমানুষ মন্সটারের যে নিজের জীবনের পরোয়া করে না সে কেন তোর মতো স্বার্থপর বেয়াদব নারীর প্রাণটা বের করতে পারে নি বল?????”

“হ্যাঁ।আমি!আমি তোকে তা’শ বানিয়েছি ইট’স ট্রু!আমি তোকে ইচ্ছে করে তুরস্কে রেখে এসেছিলাম।তুই কি ধোয়া তুলসি পাতা??তোর তো হেব্বি ভালোই লাগছিলো তাই না ঐ আদ্রিয়ানের কাছে থাকতে??হাহ!ফা**ক! বাট!বাট!বাট!…..বাস্টার্ডটা যেমন রেলওয়ের সি’সিটিভি ফুটেজ ডিক্লাইন করতে ভুলে গিয়েছিলো তেমনি তোর ভুল কোথায় জানিস??নিজের ইন্সটাগ্রাম আইডি লগ-ইন দেয়া।যাস্ট ফাক ইউ, ইয়েস ইউভান ফাক ইউ,মাটির নিচেই লুকিয়ে থাক সেখান থেকেও টেনে বের করবো তোকে।যা হবে সব আমার ইচ্ছে মতো। আমি যা চাই তা হবে।lastly i am! yesss!i am your destiny! Yeap…Dark Rose yuvan your demonic destination…. Not sweetest!Dark! Darker!Darkest….

যদি আমার কাছে কোনো সুপার-ন্যাচরাল পাওয়ার থাকতো, কথাটা তোর মস্তিষ্কে পিন পোস্ট করে দিতাম।বোকা হরিণী!!!!

রোজ কাঁদতে কাঁদতে চোখ খিচে দেয়ালে গাঁ ঘেঁষে বসে পড়তে নেয় ফ্লোরে, মস্তিষ্কের চলন যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে, না আছে কোনো হুঁশ।বোধশক্তি খোয়ে অচিরেই বলে উঠে —

” আমি সত্যিই বুঝতে পারি না।আপনি কি ক্লান্ত হন না আমাকে অপমান করতে?কাছে টেনে আবার দূরে ছুঁড়ে ফেলতে??প্রতিটা সময় তীক্ষ্ণ কথার তীর ছুঁড়তে?? আপনি কি রোবোট?আপনার মাঝে কি এসব ফাংশনই ঢুকানো হয়েছে??

ইউভান রোজকে টেনে তোলে পুনরায় দাঁড় করিয়ে গাল চেপে ধরে।রোজের গ’লদেশে ধরা ইউভানের রিভলভার টায় রোজ মুঠো করে ধরলো।চোখে একগাদা জল নিয়ে তাচ্ছিল্য হাসলো রোজ।

—-“এখন চুপ কেন??….আমি মে’রেছি!আমি!”

—“কি খেয়েছিস নাম বল! ফা’স্ট।”—ইউভান রূঢ় গলায় কথাটা বলতে গিয়ে একটু ঝুঁকলো রোজের উপর।

—“জানি না মনে নেই।”

—“ফা*কিং বিচ্।ইউ আর ল্যা’য়িং ডার্ক রোজ।চোখ নামিয়ে না আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বল!”

—“ঘৃণা হয় আমার বুঝতে পারেন না???পারলে আপনাকেও মে’রে পাপ বিনাশ করে পাপের খাতায় নাম লিখতাম।”

–“মে’রে খেয়ে নিস, ইট’স বে’টার আই থিং’ক’!

তৎক্ষনাৎ ইউভানের ঘাড়ের শিড়াগুলো ফুলে উঠে স্পষ্টভাবে, রোজের নিঃশ্বাস এর শব্দ কানে পৌঁছাতেই, ইউভানের হাতের বাঁধন নরম হয়ে আসে।অতঃপর ইউভান রোজকে কোলে তোলে নিতেই একজন গার্ড হকচকিয়ে ফ্যাসিলিটির বিপরীত পাশ থেকে দৌড়ে এসে রিভলভারে লোড নিতে নিতে বলল–

—“আপনাকে এখনি যেতে হবে বস্।মে’ইল ডক্টর টা পালানোর চেষ্টা করেছিলো,বুলশি’টটা মার্শালাট জানে।তুষার স্যার সময় মতো না এলে পালিয়েও যেতো।কতোগুলো গার্ডকে মে*রে দিয়েছে।”

ইউভানের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে।ইউভানতো এখনো জানেই না রায়হানই সেই ডক্টর। রোজকে নিয়ে রাত দিন পড়ে থাকায় সেদিকে কোনো খেয়াল রাখার প্রয়োজনবোধ করেনি মাফিয়াটা।তবে এখন তার পায়ের র*ক্তগুলো মুহূর্তেই টগবগিয়ে মাথায় চড়ে বসে।পুরো ফ্যাসিলিটিতে রেড এলার্ট শুধু রোজের কারণে না বরং ডক্টর রায়হান মির্জার কারণেও পড়েছে।এখনো বিপ্ বিপ্ শব্দে লাল বাতির শব্দধ্বনি চলমানরত।ইউভান এক মূহুর্ত দেরি না করে রোজকে নামিয়ে শক্ত হাতের বাঁধনে জড়িয়ে উল্টোদিকে হাঁটা দেয়।পিছন থেকে একজন গার্ড এসে ইউভানের গাঁয়ে কালো হুডি জড়িয়ে দেয়।হুডির চে’ইন না লাগিয়ে সোজা সেদিকেই পাঁ বাড়ায় ইউভান। ইউভানের ষষ্ঠইন্দ্রিয় স্থিররত কেননা রোজ একই ভুল বারবার করবে পালাতে চাইবে সেই ভেবে ইউভান রোজকে এক প্রকার জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে নিয়েই হাঁটা ধরে।আঙুলের মুঠোয় বন্দি করে রাখলো রোজের কব্জি।


ফ্যাসিলিটিটা যেহেতু ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রের তীরবর্তী স্থানের ফরেস্ট লাইন আপ এর শুরুতে তার থেকে কয়েক মাইল দূরেই ইউভানদের আমেরিকার ফার্ম হাউজটা।যার স্থপতি আর কেউ না ইউভান রিক আলবার্ট নিজে।
[Empire of Dark UV]
★S.t.b:-2015★

উঁচু সিলিং, ধূসর মার্বেলের মেঝে, দেয়ালজুড়ে আধুনিক শিল্পের নিরাবেগ ফ্রেম,সবকিছুতেই এক শীতল শৃঙ্খলা। জানালার বাইরে সমুদ্র দেখা যায় না সরাসরি, শুধু তার শব্দ এসে ধাক্কা খায়।গার্ডেনে বিশাল আকৃতির সুইমিংপুল, আর পাইন গাছগুলো তুষারপাতে সাদাবর্ণ ধারণ করে আছে। মিসেস এ্যাশ আলবার্টের মৃত্যুর পর এই ফার্ম হাউজই হয়ে উঠেছে রাহার নিরাপত্তা।হাই-সিকিউরিটির অদৃশ্য বেষ্টনীতে ঘেরা এক স্বর্গসদৃশ।
রাহা চ’ট করে গাঁয়ে একটা স্লিভলেস টপ,আর জিন্স পড়ে নেয়।শরীরের প্রতিটি গঠন ধনুকের ন্যায় আকর্ষনীয়।কাঁধ সমান সোনালী কেশগুলো খোঁপা করে মাথায় কালো ক্যাপ পড়ে,গায়ের উপর কাশ্মীরি শা’ল জরায়,কেননা ক্যালিফোর্নিয়াতে ভারী তুষারপাত চলছে।ভারী বস্র না পরলে বাহিরে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব।যদিও রাহা ফ্যাসিলিটির লোকেশন জানে না।আর না ফ্যাসিলিটির অবস্থান গুগল ম্যাপে পাওয়া যাবে।কেননা এটা সম্পূর্ণ গোপন প্রাইভেট মেডিকেল ফ্যাসিলিটি।দামিয়ান শুধু তাকে এইটুকু ব’লেছে যে ফ্যাসিলিটিটা ফরেস্ট লাইন আ’পে।পরমূহূর্তেই নেটওয়ার্ক আর কানেক্ট করতে পারে নি রাহা। কেননা ইউভান তো ফ্যাসিলিটির নেটওয়ার্ক বন্ধ করে রেখেছিলো।আর তুষারও রাহার সাথে যোগাযোগ করতেই অ’ন করেছিলো আবার নেটওয়ার্ক ডে’ড করে দেয়। রাহা সেখানে যেতেই আঁটসাঁট বেঁধে তৈরি হয়ে নিয়েছে।ঘন অরণ্যের পথ ধরে ফ্যাসিলিটি খুঁজে বের করে নিতে পারবে সে।রাহা তার বান্ধবী হায়াকে তার বেড রুমে থাকতে বলে দ্রুত পায়ে গ্যারেজে পদার্পণ করে।মার্সিডিজ গাড়ির ডোর খোলে বসতেই পেছন থেকে একজন গার্ড এসে রাহাকে আটকিয়ে বলে,

—“ম্যাম আপনাকে একা যেতে দিতে পারি না।আপনার সুরক্ষার জন্যে আমাদেরও যেতে হবে।”

গার্ডের কথায় রাহা প্রায় বিরক্ত হয়।না হ’য়ে কি না করবে বাড়ি থেকে বের হয়ে শান্তিমতো কোথাও যাবে সে সুযোগটা তো মেয়েটা পায়ি না।রাহা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত ঘেষে ঘষে চোখ উল্টিয়া।চোখে মুখে বিরক্তি ছাপ স্পষ্ট। তারওপরে অ্যালকোহল এর নেশা এখনি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারে নি।

–“হা’উ ডিসগাস্টিং! ওয়াশরুমে যাবো।সেখানেও যাবে??”

–ফার্ম হাউসে অনেকগুলো ওয়াশরুম ম্যাম।প্রত্যেকটা আধুনিক।সেখানে ঘুমিয়েও পড়া যাবে,নাইট টাইম স্পেন্ড করার মতো বিশাল।এতোটাই ভিআইপি ভাবে তৈরি করা।”

–“না আমার পোষাচ্ছে না ঠিক।আমার ফ্রেশ এ’য়ার দরকার,খোলা আকাশের নিচে।আরও ডি’পলি ভাবে বলবো??।লেজ্ ধরে এদিক সেদিক যাওয়া অফ করো!অতি সমস্যা হলে তোমাদের দু-নাম্বার বন-পাঠা স্যারকে বলে দিও এসে দেখে যেতে। কতো সাহস আমার ফোন কে’টে দেয়।উফফ!!ডি’জগাস্টিং!!!!”

–দেখুন ম্যাম আপনাকে একা কিছুতেই যেতে দেয়া হবে না।ইট’স আও’য়ার ডি’উটি।একা যাওয়া আপনার জন্যেও সে’ইফ না।বিপদ হতে পারে।”

রাহা সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে নেয়।বা-হাতের মি’ডেল ফিঙ্গার দেখিয়ে তাচ্ছিল্যে হাসে।
–‘বিপদকে আমি না।বরং বিপদ রাহা চৌধুরীকে ভয় পায়।”

হঠাৎ ইউভানের আমেরিকা আসার কারণ রাহা বুঝে উঠতে পারছে না।আসার হলে তার সাতে এলেই পারতো।ভাবনাকে মস্তিষ্কে গেঁথে একনা’গারে হাই স্পিডে গাড়ি চালাতে থাকে।রাহার মার্সিডিজ যখন ফ’রেস্টের পথের গভীরে ঢুকে পড়ে, তখন রাহা ঠোঁট বাকায়।এটা শুধু ফ্যাসিলিটিতে যাওয়ার রাস্তা নয়, এটা Empire of Dark UV-এর দিকের যাত্রা। যে সাম্রাজ্যের স্থপতি ইউভান রিক আলবার্ট নিজে, যেখানে প্রতিটি ইট, প্রতিটি করিডর, প্রতিটি নীরবতা সুপরিকল্পিত। ততক্ষনে গাছের ফাঁক দিয়ে দূরে ফার্ম হাউজের ছায়া বিলিন হয়ে যায়।


প্রসস্থ কাউচে গাঁ হেলিয়ে রেখেছে দামিয়ান। পুরো ফ্যাসিলিটিতে মুহূর্তেই নিঝুম নিস্তব্ধতা। ফ্যাসিলিটিতে কোনো টর্চার সে’ল না থাকলেও কেবিন নাম্বার 209 কাউকে মরণ যন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছে অনবরত। তুষারের চাবুকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে রায়হানের পুরো জিম্ গড়ন শরীরটা।কেবিনের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত লোহার ভারী শিকলে টানটান করে বাঁধা রায়হানের হাত ।রায়হানের পেশিবহুল শরীর, একদিন যে শরীর আত্মবিশ্বাসের ভাষা বলতো, এখন সেই শরীরেই যন্ত্রণার মানচিত্র আঁকা হচ্ছে।তবে তারা হয়তো-বা কেউ জানেই না দেহের ভেতরের ছটফট করে উঠানামা করা হৃদযন্ত্রটায় যেইটুকু যন্ত্রণা নিয়ে দিন গুনে গিয়েছে রায়হান তার কাছে শারীরিক যন্ত্রণা পুরোপুরি নগন্য।

চাবুকের আঘাতে শরীরের উপরস্থ চাম/ড়াগুলো নরম হয়ে ছিঁড়ে আসার ন্যায়।উপরস্থ ন’গ্ন দেহটার মুখ থেকে অনবরত পানির মতো গলগল করে র’ক্ত বেয়ে পড়ছে মেঝেতে।তবুও এই মৃত্যুের দাড়প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষালির কন্ঠে বিড়বিড় করে একটা নাম সঁপে যাচ্ছে।রোজ।হ্যাঁ রোজই।

রায়হান মির্জা প্রায় ফ্যাসিলিটির বিপরীত প্রান্তের শেষসীমানার কাছে চলেই গিয়েছিলো তবে পাঁ গুলো হঠাৎ অচল হয়ে পড়েছিলো তখনি যখন পুরো ফ্যাসিলিটির রেড এলার্টের সাথে স্নাইপারদের মুখে রোজ নামটা প্রতিধ্বনি হতে শুনেছিলো।তৎক্ষনাৎ শক্ত মেরুদণ্ডের প্রতিটি কোষ ভেঙেচুরে মারণাস্ত্রে গিয়ে বিঁধেছিলো নমনীয় হৃদপিন্ডে।পুরো দেহজুড়ে কম্পন অনূভুতি সৃষ্টি হতেই মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছিলো রায়হান।মাথায় সেই আগেকার মতো যন্ত্রণা চেপে বসলো।যতটুকু যন্ত্রণা একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে সহ্য করা প্রায় বিরল।সে তো অসুস্থই হয়ে গিয়েছে। এই যন্ত্রণা থেকেই বাঁচতে রায়হান সাই’ক্রিয়াটিস্ট এর সরাপর্ণে ছিলো।রোজের কথা মনে হলে হৃদয়ছিঁড়ে বের হয়ে আসতো।আজও হলো তাই।

এখনো রায়হানের মস্তিষ্কে সেই একটা নামই প্রতিধ্বনি হচ্ছে বারবার।শরীরে আঘাত শুধু চোখের বিভৎসতা। ক্ষতবিক্ষত হওয়া দেহটার অক্ষিপল রোজের মুখশ্রি ভেসে উঠছে বারবার।এইতো মনে হয় রোজ তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।র’ক্তবন্যায় ভেসে যাওয়া ঠোঁটের ফাঁকে কিঞ্চিৎ হাসির রেখা দেখা গেলো।যে হাসিতে শুধু তিক্ত বেদনার সাগর।

তবে ভাগ্য বলেও যে পৃথিবীতে কিছু আছে।পৃথিবীটা কমলার ন্যায় চ্যাপ্টা গোলাকার।সেই গোলাকার ভূখন্ডে অচিরেই দেখা হয়ে যাওয়া কি অসম্ভব?? হয়তো-বা না।মনে গেঁথে থাকা মানুষ মনেই রয়ে যায়।না দেখার মাঝে যে এক আকাশ পরিমাণ ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে।হয়তো-বা সেই হিসেবের খাতার শেষ পৃষ্ঠা আজও বাকি।

অচিরেই নিঝুম নিস্তব্ধতা ছেদ করলো ভারী পদধ্বনির শব্দে। ক্ষীর্ণ সেই আওয়াজ।প্রলয় কম্পিতো পায়ে পদচারণ করলো ইউভান।ইউভানকে দেখে একেকটা গার্ড কুর্ণিশ করে রাস্তা মেপে দাঁড়ালো।তুষার ইউভানের উপস্থিতে নিজের কুচকুচে কালো চোখজোড়া বন্ধ করে ফেললো নিমিষেই। প্রলয়ের উদ্ভাবনের আচ্ পেয়ে গিয়েছে ফ্যাসিলিতে উপস্থিত প্রতিটা জীব।ইউভান কেবিনের মধ্যে ঢুকলো না।শক্ত হাতের গ্রিবায় আবদ্ধ রোজ।খাঁচা বন্দি পাখির মতো অনবরত ছটফট করেই যাচ্ছে।ইউভান কিছুক্ষণ রোজকে উপর নিচ পরক করলো।দু’আঙুল কপালে স্লাইড করলো।নিঃস্বাসের ছন্দে তরঙ্গিতো পুরুষালির এ্যাডাম’স এ্যাপল।রাইফেলযুক্ত একজন স্নাইপারের হাতে ইউভানের বুনো নেঁকড়ে ড্রা’কস।ইউভানের শরীরের স্পাইসি পুরুষালির ঘ্রাণ পেতেই ড্রাকস জিভ বের করে ইউভানের পাঁ চাট’তে শুরু করে।রোজ ভয়ে ইউভানের হুডি আঁকড়ে পিছিয়ে যায়।রোজকে ভয় পেতে দেখে ইউভান ঠোঁটের কোনে হাসির রেখা টেনে ড্রা’কস এর মাথায় হাত বুলালো।

—“অনেক ক্ষুধার্ত তুই তাই না!তোর রাতের ভোজন হবে ঐ ডাক্তারটা।”!

ইউভান ভিতরে প্রবেশ না করেই চক্ষুস্থির রেখে ইশারা করলো।তার ইশারা বুঝতে পেরে দু’জন গার্ড গিয়ে রায়হানের হাতের শিকল খুলে দেয়।পরক্ষনেই নেতিয়ে পড়া শরীরটা ফ্লোরে হুমড়ি খেয়ে পড়ে রায়হানের।র’ক্তবমি করে কেঁশে উঠলো রায়হানের শরীরটা।কম্পিতো হলো পুরো পাথরের দেয়াল জুড়ে।

তবে ষষ্ঠইন্দ্রিয় সম্পন্না মাফিয়াটা কি ভেবে যেনো চলেই যাচ্ছিলো তবে তুষার হাঁপ ছেড়ে হনহনিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো।

—“ডক্টর থেরন না রিক!আই নো তোর থেকে লুকোনো উচিৎ হয়নি।ভেবেছিলাম আই উইল হ্যান্ডেল দিস্।

তুষারের বাক্যুক্তিকে বিনাশ ঘটালো ইউভান নিজেী তর্জনী দেখিয়ে।

–“যেই হউক।যাস্ট কিল হি’ম।খুব ভালোই হয়েছে ড্রাক’স মানুষ ভোজন করবে আজ।”

–“কিন্তুু রিক অল চ্যাপ্টার এক সাইডে বাট।এই রায়হান মির্জার মুখে একটা নাম শুনেছি আমি।আই ডোন্ট নো হো’আই বাট!…

মূলত রায়হানের মুখেপ্রতিধ্বনি হওয়া রোজের নামটা তুষার শুনে নিয়েছিলো।চোখের পলক ফেলার আগেই রোজকে টেনে নিয়েই কেবিনের মধ্যে ব্জ্রাঘাত ঘটিয়ে প্রবেশ করলো ইউভান।তুষারের মুখে পুরো নাম উচ্চারণ হওয়ার আগেই ইউভান পদার্পণ ঘটালো।
*
এদিকে চতুর রাহা অবশেষে ফ্যাসিলিটির সন্ধান বের করে ছাঁড়ে।অস্ত্রহীন হলেও তার গভীর নীল চোখে ছিলো না ভয়ের কোনো ছিটেফোঁটাও।গার্ডরা তাকে চিনে ফেলায় অনায়াসে ফ্যাসিলিটিতে প্রবেশ করে ফেলে।কালো বুটে সোজা পাঁ বাড়ায় ফ্যাসিলিট দু’তলার সিঁড়ি বেয়ে।
*
ইউভানের পৈশাচিক বিধ্বংসী মস্তিষ্কটা রায়হান মির্জাকে উপেক্ষা করতে পারলো না।অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতে জ্বলে উঠলো মাটিতে লুটিয়ে থাকা রায়হানের অবয়বটা দেখে।অবয়বটা ইউভান চিনে ভয়ংকরভাবে চিনে।পরমুহূর্তেই পৈশাচিক উৎফুল্লতায় হেসে উঠে। রোজ এসেই ইউভানের হুডির কলার চেপে ধরতে যাবে তার আগে অক্ষিপল স্হির হয় রায়হানের দিকে।তবে রোজ নাক কুঁচকিয়ে ফেলে ফ্লোর জুড়ে এমন তাজা র’ক্ত দেখে।রায়হানের এক দৃষ্টিতে রোজের দিকে তাকিয়ে আছে।শরীর ঠেলে উঠার চেষ্টা চালাতে থাকে, অঁধর কেমন তিরতির করে কাঁপছে।
—“রো…..জ”—রায়হানের মন মস্তিষ্ক এখনো ঝাপসা সে কি রোজকেই দেখছে নাকি এটাও তার ভ্রুম।

রোজ আবার সেই অবয়বের দিকে তাকায়।নিজের নাম উচ্চারিত হলো নাকি সে ভূল শুনেছে তা আর দ্বিতীয়বার ভাবলো না।তবে এমন বিভৎসতা দেখে ইউভানের দিকে দৃষ্টি আরোপ করে রোজ। চোখে বেয়ে নোনাজল বেয়ে পড়তে থাকে।কিন্তু বিষাদীনির কাছে যে রায়হানের মুখাবয়ব স্পষ্ট না। অপরপ্রান্তে জমিনে লুটিয়ে থাকা পুরুষটা অক্ষিপল এখনো স্থির রোজের দিকে।ন্যানোসেকেন্ড আর না ভেবেই আঘাতে জর্জরিত দেহটা হাতে ভর করে উঠে দাঁড়িয়ে একছুটে রোজকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলো রায়হান।হঠাৎ এমন ঘটনায় রোজের শরীর ধক্ করে উঠে।

–“তুমি ভ্রুম না সত্যি জানি না রোজ।যদি সত্য হও শেষমুহুর্তেও নিজেকে সবথেকে ভাগ্যবান মনে হবে আমার।জানো কতো রাত নির্ঘুমে কাটিয়েছি তোমায় পাবার আশায়।কিন্তুু তুমি কি করে পর করে দিলে আমায়।ভালোবাসনি কখনো??আমায় খু’ন করে কেন চলে গেলে না???হৃদয়টা পুড়ে
মস্তিষ্ক ফেটে যায়।পাগল পাগল লাগে।”

প্রতিদিনের মতো কি আজও চুপ থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে সুহাসীনি??”

তবে রায়হানের আন্তরের নির্গত প্রতিটা বাক্যেকে বিনাশ ঘটালো রোজ।

—“কে??কে আপনি???এসব কি বলছেন।—-শুকনো ঢুক গিলে রোজ রায়হানকে ধাক্কা মারে।

–“আমি জানি না আপনি কে, তবে মে’রে ফেলবে। প্লিজ।ছেঁড়ে দিন।প্রাণে মে’রে ফেলবে।হায়! খোদা।আমি সত্যিই চিনি না আপনাকে।

ইউভান ঘাড় কাত করে রোজের দিকে ধীরদৃষ্টি ফেললো।জিভ দিয়ে গাল স্পর্শ করে বেসামাল হাসলো। অন্তঃদর্হন ক্রমান্নয় বেড়ে চলছে এই অনুভুতিহীন পাষাণ হৃদয়ে।ইউভানের অনুমতি ব্যতিত এই কেবিনে এই মুহূর্তে সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিলো ইউভান।ইউভান এক আছাড়ে রিভলভারটা ছুঁড়ে মারলো দেয়ালে।রোজকে টেনে ধরে অনবরত ঘুষিরাগাত করতে থাকে রায়হানের নাক বরাবর।নিস্তেজ শরীরটা আরও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।ফিনকি দিয়ে নাক বেয়ে র’ক্ত গড়াতে থাকে রায়হানের।ইউভান ততক্ষণে নিজের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে গিয়ে য’মরাজে পরিণত হয়েছে।নিজের ভেতরকার সমস্ত সাইকো সত্তা বের করে রায়হানের ব’ক্ষদেশে পদারাঘাত করতে থাকে।ইউভানের এমন বেসানাল অগ্নিস’ত্তা দেখে রোজ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে।একটা অনূভুতিহীন সত্তায় যখন ঈর্ষার শেষ চূড়ান্তসীমায় পৌছায় তা ঠিক কতোটা বিভৎস হতে পারে তা ইউভানের পৈশাচিক আচরণে পরিলক্ষিত। ইউভান রায়হানের গলা ছেঁড়ে নিজের মাথায় হাত রাখলো পায়চারি করে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে লেলিহিত দৃষ্টি দিয়ে পুরো কেবিনে চোখ ঘোরালো। সমস্ত রাগ,সমস্ত হিংস্র পশুর ন্যায় একটা লোহার দন্ড নিয়ে ইচ্ছে মতো রায়াহনের হাতে পায়ে গায়ে আঘাত করতে থাকে।রায়হানের দৃষ্টি তখনো রোজের দিকে স্থির।রোজ আর সহ্য করতে না পেরে ইউভানের হুডি পেছন থেকে টেনে ধরে চিৎকার দিয়ে উঠে।

—“আমি সত্যি চিনি না লোকটাকে।দয়া করে ছেঁড়ে দিন।এতোটা নিষ্ঠুর হবেন না।অমানুষ একটা।ছাড়ুন।ম’রে যাবে তো।”

তবে ক্রোধের তাড়নায় কাঁপছে ইউভান।ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র কণা ধ্বংস স্তূপে পরিণত করা মাফিয়াটা গলার শিড়া স্পষ্ট হয়ে উঠে বেরিয়ে আসার মতো অবস্থা। রোজ মুখ চেপে পিছাতে লাগলো।দম্ বন্ধ হয়ে আসছে এমন দৃশ্যে।এ কেমন জাহান্নাম।কি পাপের শাস্তি সেই শুরু থেকে পেয়ে যাচ্ছে কে জানে।পিছিয়ে আচমকা টেবিলে হাত ঠেকতেই রোজ সেদিকে তাকায়। ট্রে এর উপর রাখা একটা না’ইফ হাতে নিয়ে ইউভানের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে রোজ। একবার ইউভানের দিকে তাক করে তো আরেকবার নিজের গলায়।কন্ঠস্বর কেঁপে কেঁপে উঠছে।ললাটে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘাম ঝড়ে যাচ্ছে অনবরত।

ইউভান লোহার দন্ডটা ছুঁড়ে ফেলে।মুহূর্তেই ইউভানের সমস্ত রাগ, হিংস্রতা রোজের সর্বাঙ্গের কাছে তুচ্ছ হয়ে পড়ে।রোজ নামক মায়ার সন্ধ্যা তারার মতো উজ্জ্বল বাদামী চোখে যেনো নিজের ধ্বংস অবধারিত ভেবে ঠোঁট গলে বিষন্নতায় ঘেরা হাসির রেখা টানলো।অপরদিকে রোজের পিছনে মৃত্যুেমুখে ছটফট করতে থাকা গরম এক জোড়া হাত রোজের বা-হাতের আঙুল শেষ বারের মতো স্পর্শ করে ধরে। ইউভান রোজের দু-গাল চেপে ধরে প্রলয়কম্পিতো দহনমিশ্রত স্বরে বলল

–“ভালোবাসিস এই বা*স্টার্ডটাকে???বল!ভালোবেসেছিলি??”

একজোড়া অগ্নিধূসর চোখ এর সংকীর্ণে বাদামি চোখজোড়ার মিলন ঘটলো।রোজ দেহটা ঘৃণায় চিরচির করে উঠলো।রোজের ভাস্যমতে যেই পুরুষের নিজের চরিত্র ঠিক নেই সে তাকে একেকদিন একেক পুরুষকে ভালোবাসে কিনা জিজ্ঞেস করে।অথচ রোজ তো রায়হানকে চিনতেই পারছে না।কখনো দেখেছে বলে মনেও করতে পারছে না।ইউভানের ধ্বংসাত্নক ব’ক্ষ অনবরত কম্পিতো হতে থাকে।

—“বল।বলছিস না কেন??ভালোবাসিস।

রোজ মুখ ফিরিয়ে নেয়।একটা লম্বা শ্বাস টেনে তাচ্ছিল্য হেসে শীৎকার দিয়ে উঠে–

—“হ্যাঁ বাসি।ভালোবাসি।শান্তি।বাসি।বাসি। বাসি।আমি শুধু আপনাকেই ঘৃণা করি ব্যাস্।”

পৃথিবীর সমগ্র নির্লজ্জতা,বেপরোয়া মিশিয়ে তরঙ্গধ্বনীর মাদকতা মিশিয়ে রোজের কোমড় জড়িয়ে ধরে নাকে নাক ঘষে দেয় মাফিয়া ইউভান।অন্তঃদহন যে একটা নিষ্ঠুর অনূভুতিহীন হৃদয়ে চেপে বসেছে।ইউভান যেনো রোজকে নিজের ভিতর টেনে নিবে সেই ভঙ্গিমায় দাঁতে দাঁত পিষলো।

–“মিথ্যা! মিথ্যা! মিথ্যা।
আমার চোখে চোখ রেখে বল কথাটা।ঘৃণা কর আমায়।……ঐ চোখে যেনো স্রেফ আমার প্রতি ঘৃণা দেখতে পাই।শুধু আমার প্রতি।পৃথিবীর কারোর প্রতি ভালোবাসা না।যাস্ট #হে’ইট মি রোজ!অ’নলি মাই’ন।

রায়হান মুখ ছিঁটকে র’ক্ত বের হতে লাগলো।কেঁশে উঠলো।মরণ যন্ত্রনার ঝাঁপসা চোখে ইউভানের অক্ষিপলে আরোষ্ঠ করা উন্মা’দনায় দেখে এক ব্যার্থ পুরুষ নির্ধিদায় তার না পাওয়া প্রেয়সীর কনিষ্ঠ আঙুল ছেঁড়ে দিলো।হয়-তোবা নির্দ্বিধায়। পৃথিবীর সমস্ত রেশ্ কাটিয়ে উঠে ইউভানের উদ্দেশ্যে বিরবির করলো—

—“যদি ভালোবাসত। হায় আফসোস।নিয়তি যে ইয়াজিদ ইবনে মু”আবিয়া,আর তুমি কারবালার প্রান্ত। রোজ।

ভালোবাসা যদি এতোই সহজ??সৃষ্টিকর্তার কাছে চেয়েও যে পেলাম না।না আছে ভুলার সাধ্যে আর না আছে পাওয়ার ভাগ্যে।

বিতৃষ্ণনায় চিরবিরিয়ে উঠলো রোজের মস্তিষ্ক। রোজকে চুপ থাকতে দেখে ইউভান রোজের অঁধর আঁকড়ে ধরে নিজের ওষ্ঠাধর দিয়ে।পৃথিবীর সমস্ত তৃষ্ণা নির্গত করলো। ন্যানোসেকেন্ড অতিক্রম না হতেই রোজ ইউভানের গালে সপাটে চড়াঘাত করে সাপের ন্যায় ফুঁসতে থাকে।ইউভানকে দেয়ালে ধাক্কা মা’রে।দৃষ্টি প্রখর রেখে তাচ্ছিল্যে হাসে। বুক ভাঙ্গা তপ্ত হৃদয় আর পৃথিবীর সমস্ত ক্ল্যা’শ একএিত করে প্রখর দৃষ্টিতে ক্ষতবিক্ষত করে দেয় ইউভানকে।বুক চেপে অব্যাক্ত কান্না চেপে ধরে রেখে চোখ বেয়ে আর একটা ফোঁটা নোনা জলও বের করলো না।বিষাক্ত সাপের চেয়ে বিষাক্ত মুখাবয়ব রোজের এই মুহূর্তেই।ইউভানের দৃষ্টিতে দহনযাতনা রোজ অনূভুব তো দূরের কথা কোনো অবিভ্যক্তি প্রকাশ করলো না।তাচ্ছিল্য হাসলো বিষাদীনি—

—“আপনার জঘন্য হাতে আমাকে স্পর্শ করবেন না।নির্লজ্জের মতো যাকে আমার আমার সন্তান করছেন,সেই সন্তান আমার গর্ভে ছিলো তা আমার মতো হতভাগী জানতও না।জানতাম না আমি।আপনি না টিস্যুর মতো নারীদের সাথে রাত কাটানো লোক।আমার মতো একশো টা নারীকে না ইউভান রিক চৌধুরী পায়ে পিষে ফেলে।”

আর কয়টা নারীকে প্রেগন্যান্ট বানিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন রাস্তায়??তার হিসেব রেখেছেন তো??বলুন।আপনার নাটকে বিরক্ত আমি যাস্ট বিরক্ত”

কথাটা বলেই রোজ তিব্র ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।ইউভান ক্ষিপ্ত না হয়ে এক চিলতে সেই নির্লজ্জ আর বেপরোয়া, বিষাদ মিশিয়ে রোজের ছুঁড়িবদ্ধ হাতটা হুডি কিঞ্চিৎ শরীয়ে নিজের উদম সৌষ্ঠব বুকে ধরলো।তবে রোজ হাত সরিয়ে নাক ছিটকালো। পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতা দেখে গ্লাসডোরের ওপাশ থেকে তুষার দামিয়ান ঢুকতে চাইলো তবে ইউভান আঙুলের ইশারায় থামিয়ে রায়হানের নিস্তেজে পড়ে থাকা দেহটা দেখিয়ে বলল,

—“স্লাটার টাকে বিডিতে পাঠানোর ব্যাবস্থা কর।

পরক্ষণেই ইউভানের সমস্ত অগ্নি প্রলয়সত্তা দাবানলে পিষে রোজের চোখের কোণে জমে থাকা জলকণা ছুঁয়ে বলল-

–যা ভাবছিস তেমন না রোজ।আমি তোকে…..

বাক্যেবিনিময়ের সুযোগ প্রদান না করেই তীক্ষ্ণ ধারযুক্ত ছুঁড়িটা সোজা ইউভানের ঢেউ খেলানো বুকে আঘাত করলো।বিধ্বংসী সত্তা আরও প্রখর করে আরও ছুড়িটা খুলে আরও একবার ঢুকিয়ে দিলো।ইউভানের বুক থেকে ছিঁটকে রোজের মুখাবয়বে র’ক্ত পড়তেই।রোজের কাজল চোখ ভেদ করে অশ্রুকণা গলগলিয়ে বের হতে থাকলো।সমস্ত বিষাদ মিশিয়ে ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলল,

—-“আপনার সন্তানের হত্যাকারী আপনি।আপনার পাপের ফলে একটা প্রাণ দুনিয়ার মুখ দেখতে পারলো না।আমার কোল খালি হলো।জানতেই পারলাম না আমিও মা হতে চলছিলাম।আপনিই দায়ী।

ছুঁড়ির গভীর আঘাতে ইউভানের অঁধরের সীমানা পেরিয়ে র’ক্ত গড়াতে লাগলো।পরক্ষণেই ইউভান রোজের ললাটে ঠোঁটের গভীর স্পর্শ দিয়ে ফ্লোরে বসে পড়লো।সমস্ত বাঁধা, অহংকার চূর্ণ করে নির্লজ্জ মিশিয়ে নির্দিধায় ইউভান নিজের ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা টানলো।

–“অ্যাম………..স’রি!আ্যাম সরি রোজ।”

ইউভানকে যন্ত্রণায় ছটফট করতে না দেখে রোজ হাতের ছুঁড়িটা ছুঁড়ে ফেলে দিলো।

—“আপনার কি যন্ত্রণা হচ্ছে না??আপনি কাঁদছেন না কেনো?? আপনার চোখে জল দেখার তৃষ্ণা আমার।কাঁদুন।

দেয়ালে মাথা হেলিয়ে অগ্নিধূসর অক্ষিপল বন্ধ করলো ইউভান।

–“ছুঁড়িটা কোথায় মা’রলি ??যে ঘরে তোর বাস সেই ঘর ছিদ্র করে দিলি??নিজের ঘর ছিদ্র করে কোন বোকা রাণী!

গ্লাসডোর ভেদ করে রাহা চিল্লিয়ে ইউভানের কাছে ছুটে আসতে চাইলো।তবে তুষারের শক্ত হাতের বাঁধন ভেদ করে সামনে এগুতেও পারছে না।ইউভান তর্জনীর ইশারায় থামিয়ে কাউকে ঢুকতে নিষেধ করে দিলো।তুষারের দৃষ্টি এখনো নির্লিপ্ততায় মিশে ইউভানের দিকে।নির্বিকার ভাবাবেগে অচিরেই মনে করিয়ে দিলো ইউভানের বলা কথাটা।—–“রিক মারতে শি’খেছে মরতে নয়”।তুষারের অনূভুতিহীন মানবযন্ত্রটা অচিরেই উপলব্ধি করলো।

এই নিষিদ্ধ প্রণয়ের কি নাম দিবে সৃষ্টিজগৎ?? ভালোবাসা নাকি শুধুই ঘৃণা! #লাভঅরহে’ইট??

চলবে??

[কাঁচে হাতে লিখা।কেমন লিখতে পেরেছি জানি না।মনঃক্ষুন্ন হবে না দয়া করে আমার উপর প্লিজ।এক্সামের প্যারাতে গল্পের আপডেট দিতে পারি না।দুঃখিত।ফেব্রুয়ারী থেকে ফ্রি হবো একটু তখন তাড়াতাড়ি গল্প দেয়ার চেষ্টা করবো।]

পোস্টটা যার সামনেই পড়বে রিয়েক্ট দিয়ে যাবেন।রিচ্ ডাউন হয়ে আছে।আইডি বাদ হয়ে যেতে পারে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply