Golpo Love or hate romantic golpo

Love or hate পর্ব ২৫


Love_or_Hate

|#পর্ব_২৫|

ইভেলিনা_তূর্জ

⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে

গুরুগম্ভীর অগ্নিস্ফুলিঙ্গে ভরা মস্তিষ্ক যা কখনোই তুচ্ছ অনুভূতির কাছে নত হবার জন্য সৃষ্টি হয়নি আজ না চাইতেও এক অদ্ভুত, নিষিদ্ধ টানে জড়িয়ে পড়েছে। শুরু থেকে যতবার উপেক্ষা করতে চেয়েছে, ততবার হৃদয়ের গভীরে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য অথচ দুর্ভেদ্য মহাপ্রাচীর। এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। ইউভানের সুপরিকল্পিত আধিপত্যের সাম্রাজ্যে কোনো ফাটল থাকার কথা ছিল না। অথচ সন্ধ্যাকালীন আকাশের উষ্ণতা মাখা বাদামী চোখ দুটো অবিনাশী দীপ্তিতে জ্বলে তার সমস্ত হিসেবকে অচল করে দিয়েছে। এক মরীচিকার গোলকধাঁধায় বন্দী হয়ে পড়েছে সেই কঠোর আত্মা, যে আত্মা কখনো কারো কাছে বন্দী হয়নি।

যার কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তার পিছুটান যে পাপ! ইউভান তা জানে। তবু সে পাপের অতলে নিজেই নেমে যাচ্ছে। এমন এক যন্ত্রণাদায়ক কঠোরতা, যেটুকু না থাকলে মানুষ নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে না সেই কঠোরতা ধরে রাখতে কত কলাকৌশল যে আঁটলো এই মাফিয়া বস্। রোজকে যেটুকু যন্ত্রণা দিতে চেয়েছিলো, সেটুকু দিতেও ব্যর্থ হলো। যেটুকু পোড়াতে চেয়েছিল, তার একাংশও আজ দিতে অক্ষম। এর পরিণতি যে বিধ্বংসী হবে, খণ্ডিত! তা সে বুঝেও বুঝতে চায় না।ঘৃণিত বস্তুর ঘৃণা তাকেই পুড়িয়ে দিচ্ছে।যাকে যন্ত্রণায় মারতে চাইলো,এখন তো তার ঘৃণাই অন্তর আত্মার দহন সৃষ্টি করে।গন্তব্যহীন পথের পথিক ইউভান তারপরেও বেড়েই যাচ্ছে অন্তর্দহন। নিষ্ঠুর লড়াইয়ের ময়দানে দাঁড়ানো এই মানুষটা আজ নিজের সাথেই যুদ্ধে ব্যস্ত,গন্তব্যহীন পথের এক পথিক, যার অন্তর্দহন ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

ড্রা’গের প্রভাবে মস্তিষ্ক যেন ফেটে যাবে,মাথার ভেতর ভোঁ ভোঁ করে ঘূর্ণি তুলে ঘুরছে অজস্র চিন্তা। বেলকনির দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থেমে থেমে শ্বাস টানে ইউভান। অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে দৃষ্টি ছুড়ে দেয় রোজের দিকে। হিংস্র সত্তাটাকে যতই জাগ্রত করতে চায়, রোজের সান্নিধ্যে এলে ততই তা অচল হয়ে পড়ে। নিজের মধ্যেই টের পায় ব্যক্তিত্বের অদ্ভুত রূপান্তর। অগ্নিধূসর, মরীচিকার মতো ঝাপসা চোখ স্থির হয়ে থাকে এক জায়গায় রোজের পানে।

ভিতরের দহন অসহনীয়। অবিচল মস্তিষ্ক যেন ফেটে যাচ্ছে। নিজের অস্তিত্বের মৃত্যুকে মেনে নিতে এত অন্তর্দহন কেন,তার কারণ ইউভান নিজেও জানে না। সে তো ঘৃণা করে, তাহলে কেন এই নারীর গর্ভে ধারণ করা অনাগত প্রাণের জন্য এই সীমালঙ্ঘনকারী উতলা ভাব? কেন মাথার ভেতর এমন বিস্ফোরণ? এর দায় সে কাকে দেবে? বিনাশের জবাব কীভাবে দেবে? রোজ কি পারবে এর উত্তর দিতে? এত কিছুর পরও শুরু থেকে এই এক নারীকেই কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমেনি বেড়েই চলেছে।দূরে রেখেও দহন কমাতে অক্ষম ফুলের পাপড়ির মতো নরম এই রমণীর সান্নিধ্যে ইউভান।

কিছুক্ষণ আগেও এই অবাধ্য হৃদযন্ত্রটা সেই স্নিগ্ধ মুখশ্রীর ঠোঁটের নিচে বিরাজমান তিলটায় গাঢ় চুমু এঁকে দিতে চাইলো। কিন্তু ইউভান সরে আসে। নেশাভ্রান্ত দৃষ্টি স্থির রেখে ঠোঁটের কোণে টানে এক অদ্ভুত, বিকৃত হাসি। অবচেতন কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে ওঠে—

—”আমি মিথ্যা। আমি পাপী। আমি ধ্বংস। আমি অপবিত্র।
তবু আমার অস্তিত্বের ভেতর একটাই পবিত্রতা-তুই।”

ইউভান উল্টো ফিরলো।রাত্রির ঘন অন্ধকার ঘেরা সুবিশাল আকাশে গোলাকার চাঁদের দিকে গাঢ় দৃষ্টি ফেলে নিজের পিয়ার্সিং করা ভ্রু উঁচালো,কন্ঠস্বর ভারী করে এক প্রকার জোরখাটিয়ে বলল-

—“বেহুলা সুন্দরীর তেজ,সরলতা এতোটাই আকর্ষণীয় যে চুম্বকের মতো টানতে সক্ষম।সা’চ্ অ্যা ব্লা’ডি বিউ….টি…..ফু…..ল।”

ইউভান জানে হৃদয়ের অপারগতায় জন্ম নেওয়া মায়া মানেই ধ্বংস। অন্ধকার ভবিষ্যৎ। নির্দয়, দিশাহীন পৃথিবীতে এর কোনো স্থায়ী স্থান নেই। তবু না চাইতেও এসে পৌঁছেছে এক নিষিদ্ধ আখ্যানের তলানিতে যা তার জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিকোটিনের আগুনে ধোঁয়া ছুঁড়ে, কড়াপড়া হৃদয়ের ভেতর নির্দ্বিধায় বিড়বিড় করে—

—“ফা*ক!অবসেডিয়ান শিরা থেকেও মূল্যবান।ইয়ে’স প্রিসে’সিয়াস “

রোজ অসুস্থ হয়ে বেডে পড়ে আছে তিনদিন সময় অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে।শুধু ক্যানোলাযুক্ত হাতখানা কিঞ্চিৎ নড়ে নড়ে উঠেছে এইটুকুই।ইউভান গত তিনদিন যাবৎ রোজের কাছে ফি’মেল ডক্টরদেরও ঘেষতে দিলো না।রাতে চেক্ আপ করতে দিয়েছে এইটুকুনি।আর দিনের বেলায় স্নাইপারদের কঠোর পাহাড়ায় আবদ্ধ এলিসা কিয়ারা।কখন না জানি প্রাণটাই কেড়ে নেওয়া হয় সেই ভয়ে খাবারও নামছে না গলদেশ দিয়ে।এদিকে ডক্টর রায়হান মির্জাকে ঘুমের ডোজের ইনজেকশন পুষ করে দিয়েছিলো তুষার।যেনো হুঁশ না ফিরে।ডক্টর থেরণের পরিবর্তে অন্য ডক্টরের সান্নিধ্যে পেলে একে মেরে মাটি চাপা দিতে দু- সেকেন্ড ও ভাববে না ইউভান।তবে তুষার দ্বিধায় ভুগছে, না পারছে ইউভানের অনুমতি ব্যাতিত রায়হানকে ওয়াশিংটনে পাঠাতে আর না পারছে মেরে দিতে।

তুষার হাতের এক গ্লাস ঠান্ডা পানি ঢক ঢক করে গিলে কানের এয়ারপড কানেক্টেড করে কল দিলো রাহাকে।রাহা যেহেতু বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়াতে আছে আর তারাও।তাই সে সুবাধে কল লাগালো।সপ্তাখানিক ধরে রাহার ফোন বন্ধ ছিলো।মেয়েটা একেবারেই ছন্নছাড়া, কখন কি হাঙ্গামা বাঁধিয়ে বসে তার হদিস কারোর জানা নেই।তবে আজ ওপাশ থেকে নেশালো একটা গোঙানির নারীকণ্ঠস্বর ভেসে এলো।চোখের পাতা জোরপূর্বক খোলে রাহাই বলল-

—“হ্যা…লো!কে??”

রাহার প্রশ্নে যেনো খানিকটা বিরক্তবোধ করলো তুষার।না হলে কল ধরেই বলছে কে।মেয়েটা রাহা কিনা অন্যে কেউ,কন্ঠটা ভারী আর নেশাক্ত মনে হচ্ছিলো।যেনো কেউ নেশার ঘোরে ডুবে হ্যালো শব্দধ্বনী উচ্চারণ করলো। সে সুবাধে তুষার নিজের ক্ষিপ্তপ্রায় কন্ঠ ছেড়ে পুনঃরায় শুধালো।

—-“আর ইউ ড্রাং’ক ইনায়া!!এতো মিউজিকের শব্দ কিসের??তুমি কি ফার্ম হাউজে নেই??”

লাউড স্পিকার অন করা রাহার ফোন, ফোনটা মূলত রাহার সো কল্ড বান্ধবী হায়া সুলেমান এর হাতে, রাহার কথা মতোই হায়া ফোনের স্পিকার অন করে রাহার সামনে ধরে রেখেছে।তুষারের অনবরত প্রশ্নের ঝাঁঝে পড়ে, রাহা নিজের লতানো শরীরটা নাড়ালো,অক্ষিপলে মিটমিট চাহনিতে মাদকতা স্বরে জবাব দিলো।

—-“কি সমস্যা বলুন।এতো প্রশ্ন করার রা’ইট আপনারা নেই।যা বলার ফা’স্ট বলুন।অ্যাম বি’জি্”

নিজের অবশ হওয়া যান্ত্রিক শরীরটা কাউচের পাশে গাঁ হেলিয়ে দিলো কু’ল বিচ্ তুষার।টানা তিনদিন নিদ্রাহীন হয়ে পুরো ফ্যাসিলিটির ভার সামলিয়ে ক্লান্ত চোখে ফোনের স্ক্রিন অন করে কপালে হাত স্লাইড করলো।

—“যা ইচ্ছে করো।অ্যাম ন’ট ইন্টারে’স্টেড!যাস্ট একটুকু বলতে কল দেয়া,আমরা ক্যালিফোর্নিয়াতে!ফার্ম হাউস টা ক্লিন করে রাখো”—-বেশ্ তৎক্ষনাৎ তুষার ফোন কল কেটে দেয়।তবে ওপাশ থেকে অস্থির রাহা উঠে বসে পড়লো।সোনালী আভার কেশগুলো রাবার দিয়ে পোনিটেল করে,হায়ার কাছ থেকে এক ঝটকায় ফোন নিয়ে অনবরত তুষারের নাম্বারে ডায়াল করলো তবে তুষার ফোন রিসি্ভ না করায়,দামিয়ানকে মেসেজ্ পাঠালো। যেনো তাদের লোকেশনটা পাঠায় ইমিডিয়ে’টলি।

এদিকে তুষার প্রসস্থ কাউচের উপর গাঁ এগিয়ে দামিয়ানের হাতে একটা ফাইল ছুঁড়ে মারলো।তুষারের এমন কান্ডে থতমত হলো দামিয়ান।

—“এটা কার বায়োডাটা??”

—“খোলে দেখ”

দামিয়ান নির্লিপ্ত ভঙ্গিমায় ফাইলটা খোলে বায়োডাটা টাতে চক্ষুবুলালো,চেয়ার সাথে বাঁধা বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকা ডক্টর রায়হান মির্জার দিকে দৃষ্টি ফেলে বললো-

—-“এ যে বাঙালি ডক্টর আমি আগেই বুঝেছিলাম।তবে এর বাড়ি বিডির রাজধানীতে! হুয়াট অ্যা কোয়ে’ন্সিডেন্ট!

তুষার দু -কদম এগিয়ে রায়হানের চেয়ারের হাতলে পাঁ রাখলো।খানিক ঝুঁকে রায়হানের চোয়াল শক্ত করে ধরে বলল-

–উঁহু! কথা সেটা না,কথা হলো Washington Heart & Vascular Institute এর মতো প্রতিষ্ঠানের একজন নামকরা তরুণ হার্ট সার্জন রায়হান মির্জা পদত্যাগ করে নিয়েছে কিছু সপ্তাহ আগেই।

—-“ব্যাটা তো দেখি এতো সনামধন্য স্থান ত্যাগ করে বাংলাদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো।”

—“হুহ।বাট এই রায়হান কয়েক সপ্তাহ যাবৎ “psychiatrist ” এর ট্রি’টমেন্ট নিচ্ছে।মে’ইবি এর মানুষিক কোনো রোগ আছে নাহলে হঠাৎ পদত্যাগ করার মানেই হয় না।”

তুষারের কথায় দামিয়ানকে বেশ্ অস্থির হতে দেখা গেলো।
—“ছাড় না ভাই।এর বায়োডাটা দিয়ে কি কাজ।জাহান্নামে যাক।এসব না ভেবে এইটা ভাব রিককে কি বলবি।আমি কিন্তুু কিছু করিনি। যা করার তুই করেছিস। তুই সামলাবি।রিক কিছু হলেই এনাকন্ডা “সাপের” মতো আমার গলা চেপে ধরে।আমি শেষ এবার।আমি ঘুমোতে যাই, বলবি দামি ঘুমায়। গুড নাইট।”

দামিয়ান উল্টো ঘুরে চলে যেতেই নিচ্ছিলো,তার আগেই তুষার দামিয়ানের ডেনিম জ্যাকেটের কলার পিছন থেকে চেপে চেয়ারে বসিয়ে দেয়।

—“তুই এখানেই থাক!

পরমুহূর্তেই তুষারের ওয়াকিটকিতে ইউভানের কন্ঠস্বর ভেসে আসে, ইউভান তুষারকে বিশেষকোনো তাগিদে ফ্যাসিলিটির রফ’টপে হাঁক ডাকিয়েছ। তুষার দামিয়ানের কাছে রায়হানকে রেখে আঁটসাঁট বেঁধে রফ’টপের দিকে পাঁ বাড়ায়।যেহেতু পুরো সীমানা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্নাইপারদের দ্বারা সুরক্ষিত তাই এর ভেতর থেকে একটা কাকপক্ষী বের হওয়ার ও সুযোগ নেই।
*
এদিকে ঘন্টাখানিক পর ডক্টর কিয়ারা রোজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে তার রুমে প্রবেশ করে।যেহেতু রোজের চেক্ আপ এর জন্যে তাদের শুধু রাতেই পারমিশন্ দেয়া হ’য়েছিলো। যদিও ডক্টর কিয়ারা জীবনের এ প্রথম এমন ভীতীকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হ’য়েছে,কোনো পে’শেন্ট দেখতে আগে এতো অস্বস্তিবোধ কখনোই করেন নি।তবে প্রাণের তাগিদে করতে হচ্ছে।কিয়ারা এসেই রোজের বেডের পাশে বসে তার পার্লস্ চেক্ করছিলো,তখনি আচমকা রোজের ব্যথাতুর গোঙানির আওয়াজ ভেসে এলো।যেনো মেয়েটা হুঁশ ফিরেছে, তবে ভিতরের যন্ত্রণায়, গোঙিয়ে উঠলো।জোরপূর্বক অক্ষিপল খোলার বৃথা চেষ্টা চালালো,তবে দেহটা ক্রমশ আরও তিব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলো। রোজ নিজের মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্কটা সরিয়ে বড়বড় শ্বাস টানলো।তৎক্ষনাৎ ডক্টর কিয়ারা রোজের হাত ধরে ফেলে রোজকে উঠতে বারণ করে।

—-“কি করছেন ম্যাম প্লিজ!উঠবেন না।

ভিতরের চাপা পরা ভারী নিঃশ্বাস একটানে বের করে রোজ শরীরের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে বেডে উঠে বসলো,চুপ থেকে ঝাঁপসা চোখে কিছুক্ষণ চারপাশটা দেখতে লাগলো।মাথা চেপে ধরে মনে করতে লাগলো সব কিছু।মুহূর্তেই পাগলের মতো হাতের ক্যানলা একটানে টেনে ছিঁড়ে ফেলে, শরীরের টাল সামলাতে না পেরেও উঠে দাঁড়াতে চাইলো,তবে ডক্টর কিয়ারা রোজকে ধরে ফেলে।

নিজের চুল নিজে খামচে ধরে তেজি কন্ঠে বিড়বিড়রত রোজ।

—-“এখন আবার কি নাটক শুরু,কোন খেলার সূচনা ঘটালো ঐ শয়তানটা।এমন জানো*য়ার আমি আমার ইহ জন্মেও দেখিনি।এ আবার কোন শয়তানের আস্তানায় নিয়ে এসেছে।আমার হাতে মুখে এসব কে লাগিয়েছে???কে লাগিয়েছে এসব।”

হঠাৎ রোজের মুখ থেকে এমন উদভ্রান্তের কর্মকাণ্ডে ডক্টর কিয়ারা রোজকে শান্ত করতে চাইলো।এ’সময় এমন উত্তেজনা ,মানসিক বিক্রিয়ার উপর ঘোর প্রভাব ফেলতে সক্ষম। দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে ডক্টর কিয়ারা রোজের মাথার চুলে আলতো হাত বুলাতে লাগলো।তবে রোজ কাঁদতে লাগলো।ক্রন্দনরত রোজ বারবার তেজি কন্ঠে বিড়বিড় করতে লাগলো।

—“সরে যান বলছি।শুধু বলুন আমি কোথায়।আমার শরীর ব্যথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে।তল পেটে এতো ব্যথা কেন।কি করেছেন আমার সাথে। অসহ্যকর,শয়তানদের ঐ আস্তানায় আমার মাথা কেমন ঝিম ধরে গিয়েছিলো,পেটে উপর পাহার ধ্বসে পড়ার মতো ব্যথা আর চারপাশটা ঝাপসা হলো তারপর আর মনে করতে পারছি না,।”

রোজ অনবরত ক্রন্দনরত অবস্থায় নিজের চুল টানতে লাগলো।মুহূর্তেই ডক্টর কিয়ারার দিকে দৃষ্টি ফেলে পুনরায় বললো।

“—-আপনাকে কি ঐ জা*নোয়ার আমাকে পাহাড়া দিতে রেখেছে নাকি।”

রোজ নাম উল্লেখ না করলেও ডক্টর কিয়ারা বুঝতে পারলো ঠিকি কার কথা বলছে তবে কেন রোজ এমন আচরণ করছে,কি সম্পর্ক বুঝতে বা পেরে এসব মাথা থেকে ঝেড়ে আপাতত রোজকে শান্ত করতে বলল,

—“ম্যাম একটু শান্ত হন।সব ঠিক হয়ে যাবে,আমি বুঝতে পেরেছি আপনার মনের অবস্থা তবে,এই মূহুর্তে শান্ত থাকাটা খুবই জরুরি। বিশেষ করে আপনার শরীরের জন্যে। ভয় নেই।আমি তো ডক্টর। —কথাগুলো ডক্টর কিয়ারা ফিসফাস স্বরে বলল যেনো দরজার বাহিরের দুজন গার্ড এর কানঅব্দি না পৌছায়।ডক্টর কিয়ারা রোজকে বেডে বসিয়ে দিলো।রোজ অনবরত কেঁদেই চলেছে।ফর্সা লতানো শরীরটা খানিক পরপর কেঁপে কেঁপে উঠছে।রোজের ক্যানলা হাতে একটা ব্যন্ডেজ পেঁচিয়ে দিলো কিয়ারা।অনেকখানি র*ক্ত পানির মতো গলগল করে পড়েছে এতক্ষণ। তবে ডক্টর কিয়ারা বেশ্ না দ্বিগুণ আশ্চর্য হলেন এই ভেবে যে এতোক্ষণ যাবৎ এতো কিছু রোজ বললো,তবে একবারো নিজের অনাগত প্রাণের ব্যাপারে একটা প্রশ্নঅব্দি করলো না।ডক্টর কিয়ারা এসব ভাবতে লাগলো তবে হঠাৎ বিদ্যুৎ গতিতে নিজের ভ্রম থেকে ফিরে এলেন কেননা রোজ এক ধাক্কায় ডক্টর কিয়ারাকে ঠান্ডা মেঝেতে ফেলে নিস্তেজ হওয়া শরীরে দৌড় লাগালো।হাঁটতে পারছে না মেয়েটা অসুস্থ শরীরে এভাবে জোরপূর্বক দৌড়াতে গিয়ে শরীরের ভার সামলাতে না পেরে ফ্লোরে পড়ে যায়।ডক্টর কিয়ারা এসে ধরে ফেলে রোজকে।তৎক্ষনাত তিনি ভীতিকর পরিবেশটা সামাল দিতে অস্পষ্ট স্বরে বলতে লাগলেন–

—-“ম্যাম, আপনি এমন কেন করছেন।আপনি জানেন সময়মতো আপনার ট্রিটমেন্ট না দিলে আপনি ম*রেও যেতে পারতেন আপনার বেবির সাথে। আপনি কি খেয়ে ফেলেছেন জানেন।কয়টা খেয়েছিলেন ম্যাম।হাই ডোজের কি ভয়ানক প্রভাব পড়তে পারতো আপনার শরীরে কোনো আইডিয়া আছে।”

ফ্লোরে এলোপাতাড়ি বসে পড়লো রোজ।মুখের উপর থেকে চুলগুলো হাতের উল্টোপিঠের স্পর্শে সরিয়ে শান্ত দৃষ্টি ফেললো,তবে সেই দৃষ্টিতে ছিলো আশ্বিনাঝড়।কথাগুলো রোজ ঠিক বুঝতে না পারলেও কিছু একটা মুহূর্তেই অনুভব করতে লাগলো।খালি অস্তিত্ব। কেমন শূন। রোজ কি যেনো একটা অনুভব করতে লাগলো।ক্রন্দনরত রোজ বলল-

—-“কি বললেন। আপনি??এক্ষুনি কি বললেন।আবার বলুন”

ডক্টর কিয়ারা পুনরায় সুধালো।রোজ ডক্টর কিয়ারা সাদা এপ্রোনের কলার চেপে ধরলো।ক্ষীপ্ত কন্ঠে ক্রন্দনরত অবস্থায় চেঁচালো।

—-“কিসেস বেবি।কিসের বেবি।আমি প্রেগন্যান্ট ছিলাম না, বেবি আসবে কি করে।”

ডক্টর কিয়ারার মাথায় বাজ পরার মতো অবস্থা, তবে তিনি প্রথমেই ভেবেছিলেন রোজ নিজে কেনই বা এতো হাই পাওয়ারের ঔষধ এতো পরিমাণে খেয়ে ফেলবে,কিন্তুু ডক্টর এলিসার মনে হয়েছিলো হয়তো-বা রোজ কোনো কারণবশত বেবিটা রাখতে চাননি তাই হয় তো ঔষধ ডক্টরের পরামর্শ ছাড়াই নিয়ে নিয়েছে।এখন ডক্টর কিয়ারা সিউর হলেন রোজ খাওয়া তো দূর সে তো জানেনই না তার ছয় সপ্তাহ চলছিলো।তবে একটা জিনিস ভেবে তার হাত পাঁ জমে উঠলো,আশ্চর্য হলেন দ্বিগুন,যে রোজ জানেই না,সে জানতোই না যে সে অন্তঃসত্তা ছিলো।কিয়ারার হাত পাঁ রীতিমতো কাঁপতে লাগলো,তিনি ভ্রুম থেকে বের হয়ে বিড়বিড় করতে লাগলেন,

—-“হুয়াট ই’ফ ইট’স অ্যা মার্ডার??ওমাই গড!”

রোজ চুপ হয়ে গেলো।অস্থির শরীরটা মুহূর্তেই নেতিয়ে পড়তে লাগলো।গাল বেয়ে টপটপ শব্দে নোনা জল গড়াতে লাগলো।কতো বোকা কতো বোকা তুই রোজ।আসলেই বোকা।এক মরীচিকা গোলকধাঁধায় আটকে থাকা বোকা রাণী।মাথাটা ভঁ ভঁ করছে।কোনো কিছু স্পষ্ট না তার কাছে।এখন তো নিজের জীবনটাই মিথ্যা ঘেরা মনে হয় নিজের কাছে। এতো করুণা নিজের প্রতি কখন জন্মালো।নিজের তল পেটে হাত রাখলো।এতো বড় পাপ তার গর্ভে এলো কি করে,তবে পাপ পূন্যের বিচার যে একজন মাতৃসত্তার কাছে বড়ই ঠুংকো।রোজ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো।মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কতো কি হয়ে যায় এই অসহায়ত্বে জর্জরিতো জীবনে তার নাকের ডগা বেয়ে বাতাসের গতিতে চলাচল করে বোকা হরিণী টের ও পায় না।রোজ নিঃশ্বাস নেয়া ভূলে বসে আছে।তার এই মুহূর্তে ঠিক কি করা উচিৎ বুঝতে পারলো না।নিজের পেটটাই এবার খামচে ধরে বসে থাকলো।তেজি কন্ঠে ক্রোন্দনরত অবস্থাতেই ফুঁফাতে লাগলো—-

—-“নিজের কাছেই আমি পাপী! ভীষণ ঘৃণিত।না পারি মর’তে , না খোদা মা’রে,না পারি শান্তি মতো বাঁচতে।ঠকানোর জন্যে কি দুনিয়াটা আমাকেই বেছে নিয়েছে। নিজের কাছেই নিজেই অতিষ্ঠ আমি।”

রোজ ডক্টর কিয়ারার হাত সরিয়ে দিলো।আবারো উঠে দাঁড়ালো।

—“আমাকে ধরার চেষ্টাও করবেন না একদম।! না মানে না।”

দেয়াল আঁকড়ে ধরে কিছুক্ষণ বড় বড় শ্বাস টানলো মেয়েটা।ফুলের পাপড়ির মতো গোলাপি ঠোঁটজোড়া কাঁপতে লাগলো।শরীর নাড়ানোর মতো শক্তি পর্যন্ত নেই মেয়েটার।তারপরেও দরজার অগোচরে পাঁ ফেলতেই রোজ দেখতে পায় দু’জন গার্ড দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে রোজকে বের হতে দেখেই একজন গার্ড দ্রুত ইউভানের ওয়াকিতে সংযোগ প্রদান করে সিগন্যাল পাঠিয়ে দেয়।রোজকে আটকিয়ে ধরে।তবে অগত্যাচ্ছন্ন চোখ দুটো স্হির রেখে একজন পুরুষ গার্ডকে ধাক্কা মারতে উদ্ধৃত হলো রোজ,তার আগেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একটা গুলির শব্দ ভেসে আসে। রোজ পিছন ফিরতেই দেখতে পায় য’মরাজ তার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ অক্ষিপল সরাসরি তার দিকেই স্হির রেখে এগিয়ে আসছে।হাতের তর্জনী ইশারা করতেই পুরো রুম খালি হয়ে গেলো মুহূর্তেই। পুরো রুমে এখন দহনশিখায় জ্বলা দুটো অন্তরআত্না বিরাজমান।দু’জোড়া অক্ষিপলে সমানতালে প্রশ্নের ঝড়।যার সীমা আকাশছুঁয়া। এর শেষপ্রান্ত ঠিক কতদূর! ঠিক কতদূর! তা অজানা।

ইউভান যে ধ্বংসলীলা শেষ করে এসেছে তার ছাপ অবয়বে স্পষ্ট। শ্বাস–প্রশ্বাসে এক জীবন্ত মূর্তিমানব।দুশ্চিন্তা যেনো পুরোপুরি ঘ্রাস করে নিয়েছে তাকে।রোজ জামা খিচে ধরে দু-পা পিছাতে লাগলো আর ইউভান এগুতে লাগলো।ফলস্বরূপ একটা কাঠের বোর্ডে পিঠ ঠেকতেই থেমে গেলো রোজ।পিছনের রাস্তা বন্ধ। শুধু দাঁতে দাঁত পিষতে লাগলো।চক্ষুদ্বয় থেকে অনবরত অশ্রুকণা গাল বেয়ে গলদেশ ভিজিয়ে দিচ্ছে।সমস্ত শক্তি ফুঁরিয়ে এসেছে। ইউভান রোজের সংকীর্ণ গণ্ডিকে আবদ্ধ করে কাঠবোর্ডে রাখা রোজের হাতে উপর নিজের শক্ত পোক্ত হিমশীতল হাতটা রেখে চাপ প্রয়োগ করলো।ষাঁড়ের মতো ফুঁসা সৌষ্ঠব বুকের গতি বেগকে কমিয়ে এনে দাঁত কিড়মিড়িয়ে উঠলো-
—-“সুযোগ পেলে শুধু পালানোর ধান্দাতে থাকিস,অ্যাম আই রাইট??”

রোজকে চুপ থাকতে দেখে ইউভানের রাগ তড়তড় করে মাথায় চেপে বসলো।হাতের চাপের প্রয়োগ আরও বাড়াতেই রোজ মৃদু গোঙিয়ে উঠলো।ফলস্বরূপ ইউভান রোজের ঘাড় হাত রেখে মুখের কাছে টেনে আনতেই রোজ মুখ সরিয়ে নিলো।ইউভান একটা বিকৃত হাসি রেখা টেনে বলল-

—“তোর ঐ নরম তুলতুলে গাল দুটো চাইলে লাল বানিয়ে দিতে ন্যানো সেকেন্ডও লাগবে না আমার তবে উঁহু! রিক প্রচন্ড সন্দিহানে ভোগছে,যা জানতে চাই তার উত্তর দে ব্যাস্।কেন করলি এমন??ঘৃণাকে তামাশা কেন বানালি??”

ইউভানের মখাবয়বে ততক্ষণে রক্তিম তেজস্ক্রিয়তা ফুটে উঠেছে। পুরো রুমটায় যেনো পিনপতন নিরবতা। ইউভান রোজের গাল সমেত ঘাড়ে হাতরেখে পুনঃরায় গালে জিভ ঠেলে বলল-
—“যাস্ট সে’ ড্যা’ময়েইট!তুই করিস নি,তুই কিছু করিস নি।আই উইল প্র’মিস।আই উইল প্রমি’স ডার্ক রোজ।সব জ্বালিয়ে দিবো।পুরো দুনিয়া ধ্বংসলিলা দেখবে এই ইউভানের।ফর গ’ট সে’ ড্যাময়েইট”

রোজকে সুক্ষ্ম নজরে পরখ করেই চলছে ইউভান।আর কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন আছে কি-না। রোজের চোখ থেকে বেয়ে পড়া বারিধারা, আটকে রাখা হৃদয়ানুভূতির প্রতি কঠোরতাকে মুচড়ে সরিয়ে ইউভান রোজের পাঁপড়িতে জমাটবদ্ধ অশ্রুকণা আঙুলের ডগায় দিয়ে তুলে আনে ।মনঃক্ষুন্ন আবিশষ্ট রোজ ইউভানের অগ্নিধূসর চোখে নিজের সূর্যকিরণীর মতো ছলছল বাদামী চোখের গাঢ় দৃষ্টি আবদ্ধ করলো। লতানো সর্বাঙ্গ স্হির রেখে নিস্তব্ধ রইলো।ততক্ষণে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে ইউভান রোজের চুল পিছনে হাত রেখে শক্ত করে চেপে ধরলো।

—-“ইউ সাচ্ অ্যা ব্লাডি ফা*কিং উই’মেন!বাচ্চাটা আমার ছিলো তো নাকি,এই বান্দীর বাচ্চা,আমার সন্তান তোর গর্ভে ম’রলো কি করে বল।বাঁচিয়ে রাখতে পারলি না কেন??”

ইউভান বাক্যে শেষ করার আগেই একটা জোরালো চড়াঘাত পড়লো ইউভানের শক্ত পুক্ত বা-গালে,,,,রোজ এলোপাতাড়ি ইউভানের শার্টের কলার চেপে ধরে ঝাকিয়ে ক্রন্দনরত অবস্থায় বলল,

—“লজ্জা করে না আপনার!সন্তান শব্দটা মুখ থেকে বের করলেন কি করে। মিথ্যা কথা সব আপনার মতো কুলাঙ্গারের সন্তান আমার গর্ভে কিছুতেই আসতে পারে না কিছুতেই না।”

তৎক্ষনাৎ ইউভান অগ্নিমূর্তিধারণ করে হিংস্র পশুর মতো রোজের দু-হাত শক্ত করে চেপে ধরে গর্জে উঠলো।

—“চুপ বান্দী।!কেন করলি এমন এই বান্দী কেন করলি বল!??”

রোজ সাপের মতো ফুঁসতে লাগলো।এদিকে কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। ইউভানের অনবরত প্রশ্ন বিষাদের মতো গলা চেপে ধরছে রোজের। কি থেকে কি হলো,কি হচ্ছে রোজের ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক যে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না তবে ইউভানের হাতের গ্রিবায় আবিষ্ট হয়ে রোজ ব্যথাতুর কন্ঠেই চিল্লিয়ে দুরদর্শ মিথ্যাস্বীরক্তি দিয়ে অন্তরআত্মার দহন কমালো-

—-“হ্যাঁ। আমি মে’রেছি।আমি!কোনো অধিকার নেই এমন পাপ দুনিয়াতে আসার।কোনো অধিকার নেই।ভালো হ’য়েছে ম’রেছে!

রোজ ফুঁপিয়ে উঠলো।দম বন্ধ হয়ে আসছে৷ যেনো মৃত্যুকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত রমণী। সমস্ত যন্ত্রণার ভার সামলাতে না পেরে পুনঃরায় শীৎকার করলো।

—-“আপনার মতো রে’পিস্ট,পাপীষ্ঠর সন্তান দুনিয়ার আলো দেখলে আরও পাপ বাড়তো।অন্যের মা-বোনদের তুলে এনে তাদের নোংরা কর্মকাণ্ডের শিকার বানানো পুরুষের সন্তান আলোর মুখ দেখার আগে ধ্বংস হউক পৃথিবী। চোখের সামনে দুটো মেয়েকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখেছি।এর হিসেব দিতে পারবেন??আমার উপর করা অত্যাচারের হিসেব দিন।জানোয়ার তো আপনি!আমি জানি ঐ সন্তান দুনিয়াতে আসলেও আপনি তিরস্কার করতেন। তাই আপনার আগে আমি মে’রে দিয়েছি।শেষ! শেষ! শেষ!”

বাক্যেউক্তি শেষ করার আগেই রোজের দু-গালে ঝড়ের বেগে দু’টো চড় এসে পড়লো। ইউভানের চড়ের আঘাতে রোজের গালে দানবাকৃতির পাঁচ আঙুলের ছাপ বসে গেলো।মুহূর্তেই দহন যন্ত্রণায় কাতরানো শরীরটার ভার সামলা না পেরে নেতিয়ে পড়লো ফ্লোরে,ইউভানের মতো ক্ষমতাপাগল আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়ার যা খুশি তা করতে পারে তার সাথে।

ইউভানের অগ্নিশিখায় দাউ দাউ করা চোখজোড়া এখনো রোজের আহত ফোলা-ফোলা চোখের দিকে নিবন্ধ।ইউভান ক্রোর হাসলো।দু-কদম এগিয়ে হাঁটু গেঁড়ে বসলো রোজের সংকীর্ণে।

–“এমন অবিচার তো শত্রুর সাথে করাও অমানবিক। তবে কি আমি তোর শত্রুর চেয়েও অধম??”

অমানুষের মুখে অমানবিকতা কথা শুনতেই রোজের নেতিয়ে পরা দেহটা তপ্ত সরবরের মতো গরম হতে লাগলো।কতো হাস্যকর।

—“আপনি আমার শত্রু!শুধু আপনি! ঘৃণা করি আমি আপনাকে!”

ইউভানের ভেতরে জ্বলছে অসহনীয় বাঁধ ভাঙ্গা সুপ্ত আগ্নেয়গিরির দাবানল।যা মুহূর্তে সব কিছু ছিন্নভিন্ন করার ক্ষমতা রাখে।লাগামটেনে সিল মা’রা অনুভূতির কম্পন এতো যন্ত্রনাদায়ক যা ভাবার পর্যন্ত কূলকিনারা খোঁজে পেলো না।এদিকে ড্রা’গের প্রভাব অনবরত বেড়েই চলছিলো।করুণাহীন বুকটা অচিরেই বেসামাল হওয়ার আগেই ষাঁড়ের মতো ফুঁসতে লাগলো।লাগামহীন হাতে প্যান্টের বেল্ট খোলতে লাগলো।যার দিকে দৃষ্টি যেতে রোজ ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়ে নিলো। ইউভান বেল্ট খোলে রোজের মুখের উপর ছুঁড়ে মারলো।বেল্টের ধাতব রিংয়ের আঘাতে মেয়েটার অধর কেটে চিরচির করে তরল র’ক্ত গড়াতে লাগলো।ইউভান নিজের পড়নের শার্ট খোলে ছুঁড়ে ফেলে উদম শরীরটা বাড়িয়ে ধরলো রোজের অক্ষিপলের সামনে।অপ্রত্যাশিত ভাবে ইউভান রোজের দিকে পুরুষালির হাস্কিস্বরে আদেশ ছুঁড়ে দিলো-

—“হি’ট মি!যদি না পারিস।এমন হা’ল করবো তোর যা কল্পনারোর্ধ্বে হবে।যাস্ট! হি’ট মি লি’টল ডা’ব।ইফ ইউ ক্যা’ন্ট ন’ট, দ্যান আই উ’ইল শো ইউ হু আই অ্যাম।”

রোজ বেল্টটা ছুঁড়ে ফেলে দিলো।আত্মাবিশ্বাসী রোজ খুব ভালো করে জানেই এসবে কোনো কাজ হবে না।এসব রোজকে আরও কষ্ট দেয়ার নতুন চাল।রোজ তো কষ্ট পাচ্ছেও অনবরত পেয়েও যাচ্ছে,হউক সেটা শারীরিক কিংবা মানুষিক।শরীরের ভেতরের জ্বলা দহন কতো কষ্টেই না চেপে ধরে রেখেছে।ইউভান উঠে দাঁড়ালো দু-কদম এগিয়ে এগিয়ে নিজের চুল নিজে খামচে ধরে এপাশ থেকে ওপাশ পায়চারি করতে করতে একটা ওয়াইনের বোতল এনে ছিপি টা ঠোঁট দিয়ে খোলে দু- চুমুক খেয়ে পুরো বোতলটা দিয়েই নিজের মাথায় আঘাত করলো।বোতলের কণা ঝনঝন শব্দে ফ্লোরে পড়তে লাগলো।ওয়াইনমিশ্রিত র*ক্ত ইউভানের সৌষ্ঠব উ’দম বুক ভিজিয়ে গলগল করে পড়তে লাগলো।তার পরেও কোনপ্রকার যন্ত্রণার ছিটেফোঁটাও দেখা মিললো না ইউভানের অক্ষিপলের মধ্যিখানে।এমন বিভৎসতা এমন নিষ্ঠুরতা কি করে হতে পারে একটা মানুষের মধ্যে তা ভেবেই রোজ চোখ সরিয়ে নিলো।এক নাগাড়ে এতো র’ক্ত ধারা রোজের গাঁ গুলিয়ে দিলো ঠোঁটের কোনে শীৎকার ধ্বনি বের হলো।

—-“আপনি আসলেই কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষি না।ম্যান্টালি সিক্ আপনি।”

রোজের কথায় কোনো অভিব্যক্তি না ঘটিয়ে রোজের গ্রিবাদেশে শক্ত করে চেপে ধরে সাদা বড়ির মতো কিছু একটা খায়িয়ে দিলো ।ইউভানের মাথা বেয়ে আংশিক র’ক্ত রোজের ফর্সা গড়নে টুপটুপ করে পড়তে লাগলো।রোজকে জোরপূর্বক বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ইউভান নিজের মাথায় হাত রাখলো।চোয়াল শক্ত করে রোজের পানে বিস্ফোরিত কন্ঠে বলল-

—“এখান থেকে এক পাঁ ও নড়বি না। আই স্যাু’য়ার জানে মে’রে ফেলবো না-হয় গিলে খাবো।”

বাক্যে ছুঁড়েই ইউভান হনহনিয়ে কোথাও যেনো বেড়িয়ে গেলো।তবে রোজ বিছানা ছেড়ে উঠার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকলো।শরীরটাও নাড়ানোর সক্ষমতা হয়ে উঠছে না।পরক্ষণেই সামনের সব কিছু ঝাপসা হতে লাগলো।পরমুহূর্তেই গভীর ঘুমে তলীয় গেলো রমণী।


দ্যা রয়াল বিল্ডিং এর থার্ড ফ্লোরের ভিআইপি লিভিং লাউঞ্জের বসে ওয়াইনের বোতলটা অনবরত কাঁচের টেবিলে ঘুড়িয়ে চলছে আদ্রিয়ান। দৃষ্টিতে কোনো স্থিরতা নেই।বেসামাল শক্তপোক্ত শরীরটা নাড়িয়ে উঠলো।আদ্রিয়ানকে অন্যমনস্ক দেখে ইউসুফ দুশ্চিন্তাগত হয়ে কৌতূহল বশত জিজ্ঞেস করলো।

—-“কি আছে ঐ মেয়ের মধ্যে বস্,যার জন্যে এতো উ’তলা হচ্ছেন।হুঁশ ফেরার পর থেকেই ঠোঁটের কোণ থেকে একটা নামই জপে যাচ্ছেন।এরকম হাজার টা মেয়ে আপনার জন্যে তৈরি থাকবে।”

—“হাজারটা লাগবে না আমার।তাকেই লাগবে। ভোলকভ অ’নলি ও’য়ান্ট হা’র।তার জন্যে সব করতে পারি।সব ছাড়তে পারি,ম’রতে পারি।আর মা’রতেও পারি।

—“আপনার সাথে এসব একদম যায় না বস্।সৃষ্টিকে কাছে টেনে কেন ধ্বংস হতে চাচ্ছেন।”

আদ্রিয়ান হালকা ঝুঁকলো,শরীরের ব্যান্ডেজ টেনে টেনে খোলতে লাগলো।দু’হাতে মাথার পিছনে নিয়ে মাথা হেলিয়ে দিলো পেছনে।ঝঁড়ের কবল থেকে রোজকে বাঁচাতে ইউভানের হাতে তোলে তো দিলো তবে হৃদয়ান্তরে যে সুনামির উত্তাল ঢেউ চলচে তার কি হবে।অঁধরা কাঁমড়িয়ে ধরে রাখলো বেশকিছুক্ষণ শান্ত বিচক্ষণ নিখুঁত পরিকল্পনার অধিকারী আদ্রিয়ান। হুটহাট রাগের বশে ইউভানের মতো তান্ডব চালানো আদ্রিয়ানের কাজ না।আদ্রিয়ান যা করে তা স্থির মস্তিষ্কে করে। ইউভানদের ট্রেক করতে পারছে না কিছুতেই।তবে আদ্রিয়ান চায় ইউভানের সাথে এবার এক টেবিলে বসে যা সিদ্ধান্ত নেয়ার নিবে।ইউভান কার গর্তে পাঁ দিয়েছে তা টের পাওয়াবে।দু পকেটে দু’টো সাইলেন্সারযুক্ত বন্ধুক নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।ফোনের স্ক্রিনে এক ধ্যানে তাকিয়ে ইলো,রোজের ছবিটার দেখতে দেখতে দাঁতে দাঁত পিষে হনহনিয়ে বের হয়ে গেলো।যেতে যেতে গার্ড ইউসুফকে আদেশ ছুঁড়ে দিলো–

—“লোকেশন ট্রেক করতেই থাকো।সিগন্যাল না পেলেও সমস্যা নেই, যা করার আমি এমনিতেই করতে পারবো।যাস্ট রিমাই’ন্ড দ্যাট।
*
আদ্রিয়ান লিফট্ ব্যবহার করলো না,সোজা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে থাকলো।একতলা, দোতলা পেরিয়ে,মাটওর নিচের সর্বশেষ স্তরে,ভোলচর দ্বীপের

বাদশাহ” দ্যা মাস্টার”[ছদ্মনাম],

যার সাথে ইউভান প্রায়শ ছায়ার আড়ালে কথা বলে। আদ্রিয়ানও সেই একই স্থানে এলো।তারপর এমন এক দরজা, যার অস্তিত্ব বিল্ডিংয়ের নকশায় নেই।ভারী দরজাটা খুলতেই বাতাস ছিঁড়ে বের হলো।রয়ালের নিচের স্তরটা মাটির নিচে অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে, আর অস্বাভাবিকভাবে নীরব। এখানেই রয়্যাল বিল্ডিংয়ের আসল শিকড়।
আদ্রিয়ান ঢুকেই সম্মান দেখানোর ভান ধরলো না। সে গাঁ হেলিয়ে সোফায় বসে পড়লো, এক পায়ের উপর আরেক পা তুলে। হুইস্কির বোতল থেকে গ্লাসে ওয়াইন ঢেলে ধীর চুমুক বসালো।এই অবাধ্য ভঙ্গিটাই তার পরিচয়। মাস্টার ছায়ার আড়ালে স্থির হয়ে আছে, মুখ দেখা যায় না, কেবল উপস্থিতি অনুভব করা যায়। সেই নিঃশব্দ উপস্থিতির দিকে তাকিয়েই আদ্রিয়ান সময় নষ্ট না করে শক্ত, পুরুষালী কণ্ঠে বলে উঠলো—

–“মাস্টার এখন এত চুপ কেন? ভোলচরের নিয়ম তো আমি ভুলে যাইনি,না কারোর ভূলার কথা। আমি জানতাম,এখানে নিয়ম সবার আগে, আর নিয়ম ভাঙার শাস্তি সবার জন্যে সমান। নাকি আজ সেই নিয়ম বদলে গিয়েছে?”

ছায়ার ভেতর থেকে ধীর, ভারী কণ্ঠ ভেসে এলো—

—“তুমি ঠিক কী বোঝাতে চাইছো, ভোলকভ?”

আদ্রিয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে ক্রূর হাসলো। টেবিল থেকে তা’সের কার্ড তুলে হাতে সাজাতে লাগলো,এই খেলাটা সে খুব পছন্দ করে, যেখানে প্রতিটা চাল মৃত্যুর দিকে যায়। তীক্ষ্ণ, ধারালো স্বরে সে পুনরায় বলল-

—“আমি জানতে চাই,ইউভানের জন্য কী শাস্তি ঠিক করা হয়েছে। নাকি তার জন্যে ভোলচরে সাতকূল মাফ?”

মাস্টারের কণ্ঠ এবার আরও গভীর হলো।
—–“আমার কানে সব এসেছে। আমাকে কিছু জানাতে হয় না। উইমেন ট্রাফিকিংয়ের কোনো নারীকে ভোলচরের নিয়ম ভেঙে দ্বীপের বাইরে নেওয়ার শাস্তি শুধু ইউভান কেনো যেকেউ অবশ্যই পাবে।”

এই কথায় আদ্রিয়ান ধপ করে উঠে দাঁড়ালো। লতার মতো কুঁকড়ানো চুলগুলো আঙুল দিয়ে পিছনে ব্রাশ করে সে হাসতে লাগলো,সে হাসি বিপজ্জনক, কারণ ওটা আনন্দের নয়, পরিকল্পনার। তারপর ধীরে, পরিমিত শব্দে বলল—

—“আমার বহুদিনের শখ,,একটা মাফিয়া ওয়েডিং সেলিব্রেট করার। আমার মনে হয় ইউভানের সাথে রুশ মাফিয়া ক্যাটরিনার একটা জমকালো ওয়েডিং আয়োজন করা ভোলচরের জন্য খুবই শুভ হবে। ক্যাটরিনা তো রিক আলবার্টের ফিয়্যান্সে সেই হিসেবে শুভ কাজটা আগে সেরে নিলেই ভালো। তারপর আপনি শাস্তির ব্যবস্থা করবেন, মাস্টার। একটু ফিসফিস স্বরে আবার বললো,,,,
–“হয়তো এই বিয়েটাও সবচেয়ে বড় শাস্তি হতে পারে।।”

ভোলচর মাস্টার পায়চারি করতে লাগলো।তিনি আশ্চর্য হয়ে গিয়েছেন,এ প্রথম ভোলচরের কোনো মাফিয়া অন্যে আর ইউভান সম্পর্কে প্রত্যেকের ধারণা আকাশছুঁয়া।মন্সটারটাকে ধাবানো চারটে খানিক কথা মুটেও না।তবপ তিনি আদ্রিয়ানের শেষ কতটুকুতে কোন প্রতিউত্তর করলেন না।আর এসব বিয়ে,বন্ধন, ভালোবাসার স্থান এই আন্ডারওয়ার্ল্ডয়ে নেই।এখানে শুধু স্বার্থের খেলা।কিন্তু মাফিয়াদের মধ্যেকার বন্ধনেও একধরনের স্বার্থ থাকে, আর সেই স্বার্থ যদি শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করে, তবে সেটাকে উপেক্ষা করা যায় না। তাই মাস্টার কোনো উত্তর দিলেন না। নীরবতাই এখানে সম্মতির সবচেয়ে ভয়ংকর ইঙ্গিত।


গভীর রাত।হাই ডোজের ঘুমের ঔষধ এর প্রভাবে রোজের শরূর অচল হয়ে পড়েছে, এর কার্যকারিতা কতক্ষণ তার শরীরে স্থায়ী হবে মেয়েটা জানে না।চারপাশটা পুরোপুরি নিস্তব্ধ। মাথার মধ্যে হাত রেখে জোর খাটিয়ে টেবিল ধরে উঠলো।দরজার বাহিরের গার্ডদের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্চে না।হঠাৎ পরিবেশের এতো নিস্তব্ধতা কেমন অদ্ভুত ঠেকলো রোজের, খাট ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়তেই ওয়াশরুম থেকে ঝর্ণার শব্দ কানে আসলো।কেউ শাওয়ারে ব্যাস্থ।রোজ একটা শুকনো ঢুক গিললো ঠিকি তবে বুঝার চেষ্টাও করলো না কে এতো রাতে বাথটাবে শুয়ে আছে।অবয়বটা আর কেউ না ইউভান।রোজ নিঃশ্বাস বন্ধ করে শব্দহীন পায়ে সামনে এগোতে লাগলো।এটাই সুযোগ মন্সটারটা শাওয়ার নিচ্ছে আর দরজার বাহিরে কোনো গার্ড নেই।আত্মাবিশ্বাসী রোজ সুযোগটা কাজে লাগাতে মুখের উপর স্কার্ফ বেঁধে নিলো।টেবিলের উপর থেকে পানির গ্লাসটা নিয়ে আগে মুখের উপর পানি ছিটালো।শরীরে শক্তি না থাকলেও এই শেষ চেষ্টাটুকু রোজ করতে চায়।নাহলে ইউভান যে তার সাথে কি করতে পারে তা রোজ কল্পনাও করতে চায় না আর।তার উপরে রোজ রাগের বশে বলপ দিয়েছে পিল খেয়েছে রোজ নিজেই।অথচ সে তো জানতই না, তার ভেতরের অবস্থাটা বুঝবে না কখনোই এই নিষ্ঠুর মাফিয়া।

অপরদিকে ইউভান বাথটাবের মধ্যে ন’গ্ন শরীরে শুয়ে আছে অক্ষিপল বন্ধ করে।মাথায় ব্যান্ডেজ পেঁচানো।পুরো শরীরেই ক্ষত চিহ্নের গভীর দাগের পাশাপাশি নানান ধরনের ট্যাটু করা,অ্যালকোহল ভর্তি বাথটাবে শাওয়ার নিয়ে নিজেকে সুদ্ধ করছে মন্সটারটা।পরক্ষণেই ইউভানের ষষ্ঠইন্দ্রিয় মাথার মধ্যে হানা দিতে থাকে,তবে ইউভান শাওয়ার শেষ করে শুধু একটা ট্রাউজার পড়েই উদম শরীরে বাথরুম থেকে বেরিয়ে টাওয়াল দিয়ে ভেজা চুল মুছতে মুছতে এসে বেডের উপর দেখতে না পেয়ে,কোনোমতে হনহনিয়ে বেডের উপর থেকে নিজের ফোনটা বের করে হাত নাড়িয়ে মেসেজ্ করলো—

——“ফ্যাসিলিটিতে ইমার্জেন্সি এলার্ট দিয়ে দাও।

পুরো রুমে রোজকে দেখতে না পেয়ে ইউভান মাথায় পিছনে হাত রেখে আওড়ালো।

“ওহহহ গড,রোজ! রোজ! রোজ!আর ইউ ক্রেজি, ফাক অফ!আমায় পাগল বানিয়ে ছাড়বি বান্দী একটা।কুত্তার বাচ্চা “

দরজার বাহিরে একটা গার্ডকেও দেখতে না পেয়ে ইউভান এলোপাতাড়ি ফায়ারিং করতে লাগলো।

—-“সব ক’টা জানোয়ার পু’ষি আমি।একটা মেয়েকে পাহাড়া দিতে পারে না ঠিক মতো।একটা একটাকে ধরে ধরে বালি চাপা দিবো, আই স্যাুয়ার যদি খোঁজে না পাই।”

এদিকে পুরো ফ্যাসিলিটিতে রেড এলার্ট পড়ে গিয়েছে।লকডাউন আরও গভীর হলো।সু’রক্ষা বাড়ানো হলো।পুরো ফ্যাসিলিটি রোজকে তন্নতন্ন জরে খোঁজতে লাগলো।


ঘন্টাখানিক আগেই।

কংক্রিট দেয়ালের ভেতর জমে থাকা নীরবতা, আর মস্তিষ্কে ভাসমান অচেতনতার পর্দা এই দু’য়ের মাঝখানে আটকে আছে রায়হান মির্জা। চোখের পাতা ভারী, মাথার ভেতর ঝাঁঝরা যন্ত্রণা, তবু চিকিৎসকের প্রশিক্ষিত স্নায়ু কখনো পুরোপুরি নিভে যায় না। ইনজেকশনের প্রভাব ধীরে ধীরে ক্ষয়ে আসতেই সে টের পেতে লাগলো কব্জিতে বাঁধা ধাতব হ্যান্ডকাফের ঠান্ডা স্পর্শ, আর ঘাড়ের পেছনে জমে থাকা ঘামের ভেজা শীতলতা।

ঘুমাচ্ছন্ন দামিয়ানকে আর গার্ডদের সুক্ষ্ম চোখে পরক করতে লাগলো।তবে রায়হান মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত। মনোরোগ বিশেষজ্ঞর পরামর্শে আছে বেশ্ কিছু সপ্তাহ যাবৎ।রোজের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর থেকে রায়হানের মধ্যে এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতো।রাতে একা হাঁটতো,ঘুমের মধ্যেও চিৎকার করে উঠতো।রোজকে সর্বত্র ভ্রমের মধ্যে দেখতো।অনুশোচনায় ভোগতো যেই পেশার জন্যে ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেলো না,হারালো,যার জন্যে ডাক্তারি পড়া সে নেই তো এই পেশা দিয়ে কি করবে রায়হান। রায়হান তো আমেরিকা ছেড়ে একেবারে চলে যাচ্ছিলো। সকালে ফ্লাইট ছিলো,সব কিছু গুছিয়ে রুমের মধ্যে শুয়েও ছিলো।এক নারীর জন্যে সিগারেট খাওয়া সারাজীবনের জন্যে ছেড়ে আবার সেই সিগারেটের ধোঁয়ায় পার করে যাচ্ছিলো,নিঃশেষ হওয়া জীবন। তবে একা একা শুয়ে ছিলো যখন তখনি আচমকা কিছু দষ্যুর মতো কালো পোশাকধারী লোক তাকে এ জায়গায় নিয়ে এসেছে।তবে কে এনেছে তা বুঝতে পারলো না রায়হান।এমনিতেই তার শরীর ক্রমাগত অচল হয়ে যাচ্ছিলো।এখন এমন জায়গায় তাকে কারাই বা নিয়ে এলো তার সাথে কার কি শত্রুতা বুঝে উঠতে অক্ষম রায়হান।

আশপাশের নিঃশব্দ দেখে রায়হান নিঃশব্দে শ্বাস নিলো। কোনো তাড়াহুড়া নেই। যারা তাকে বেঁধে রেখেছে, তারা ধরে নিয়েছে সে এখনো অচেতন। এই ভুলটাই তাদের সবচেয়ে বড় ভুল। হাতের মুঠো শক্ত করে সে কব্জির বাঁধনে চাপ দিলো, ধীরে ধীরে, এমনভাবে যেনো ধাতু আর হাড়ের ঘর্ষণে শব্দ না হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে মানুষের দুর্বলতা সে জানে, আর আজ সেই জ্ঞানটাই অস্ত্র। চেয়ারটা সামান্য কাত হতেই হ্যান্ডকাফের স্ক্রু ঢিলা হয়ে গেলো একটা ক্ষীণ ধাতব শব্দ, যেটা গার্ডদের কানে পৌঁছানোর আগেই রায়হান নিজেকে মুক্ত করে ফেললো।

ঠিক তখনই দরজার বাইরে ভারী বুটের শব্দ।চারপাশে রোজকে না পাওয়ার রেড এলার্টে পুরো ফ্যাসিলিটিতে লাল বাতি জ্বলছে।

রায়হান এক সেকেন্ডও দেরি করলো না। সে চেয়ারটা ঠেলে মেঝেতে ফেলে দিলো, আর সেই শব্দেই দরজা খুলে গেলো। প্রথম গার্ডটা ঢুকতেই রায়হান তার সমস্ত ওজন নিয়ে আছড়ে পড়লো তার ওপর। হঠাৎ আক্রমণে গার্ড সামলে উঠতে পারলো না। রায়হানের কনুই সোজা গিয়ে লাগলো তার গলার নিচে শ্বাসরোধী আঘাত। গার্ডটা দম বন্ধ হয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়লো।
দ্বিতীয় গার্ড বন্দুক তুলতেই রায়হান টেবিলের উপর থাকা ধাতব ট্রে ছুড়ে মারলো। ট্রেটা বন্দুকের নলের সাথে ধাক্কা খেয়ে বিকট শব্দে ছিটকে গেলো। মুহূর্তের মধ্যেই রায়হান ঝাঁপিয়ে পড়ে গার্ডটার কব্জি মুচড়ে দিলো। হাড় ভাঙার শব্দে ঘরটা কেঁপে উঠলো। বন্দুকটা মেঝেতে পড়তেই রায়হান সেটাকে নিজের পায়ের নিচে চেপে ধরলো।কোনো সময় নষ্ট না করে দৌড় লাগালো।

এদিকে রোজ স্কার্ফ দিয়ে পুরো মুখ ঢেকে রেখেছে শুধু চোখ দু’টো দেখা যায়।কলিজার পানি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে দেহান্তর, অনবরত গুলির শব্দে কানের পর্দা ফাঁটার ন্যায় রোজ কান চেঁপে ধরলো।তার সব নিখুঁত পরিকল্পনা ইউভান সুক্ষ্ম ভাবে ধরে ফেলতে পারে এই ভেবে রোজের কলিজা লাফিয়ে হাতে চলে আসবে এমন অবস্থা, তার পরেও মেয়েটা নৈঃশব্দ্য পায়ে এগুতে লাগলো,এখনো অব্দি ফ্যাসিলিটির সীমানা বাহিরে যেতে সক্ষম হলো না রোজ।

একটা নিশানা করা ঝড়ের বেগে ছুটে আসা একটা গুলি রোজের কানের পাশঁ দিয়ে যেতেই রোজ ভয়ার্ত পায়ে দৌড় লাগাতেই একটা শক্তপুক্ত বুকের সাথে ধাক্কা লাগে রোজের কপাল।

চলবে??

পরবর্তী পর্ব পেতে রেসপন্স করবেন। পাঁচ হাজার শব্দ লিখেও শেষ করতে পারলাম না।ধামাকা নেক্সট পার্টে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply