Love_or_Hate
|#পর্ব_২০|
ইভেলিনা_তূর্জ
🚫প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্তমনস্কদের জন্যে।
❌ Content Alert-
The following scene contains graphic violence, brutal killing, and disturbing psychological elements.
Reader discretion is strongly advised.❌
Hot!hot Dangerous!
“Science is so fu*king fake!why they say sun is hottest thing! obviously It’s yuvan Rick Albert “
দ্বীপের শীতল বায়ুমন্ডল বিস্ফোরিত হাওয়ায় ভেসে আসা নারীকন্ঠ টা ইউভানের কান ভেদ করলো ঠিকি তবে ইউভান স্থির হয়ে পুলে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।ঠান্ডা জলের উপর পুরুষালী সুঠাম দেহটা বড়ই মোহনীয় ঠেকলো ইউভানের পেছনের গ্লাসডোরের কাছে হেলান দিয়ে থাকা নারীরমূতিটার কাছে।
যে আর কেউ না মন্সটার ক্যাট এর রাশিয়ান মাফিয়া লেডি ক্যাটরিনা ক্ল্যান। পড়নে লেদারের বডি ফিট পোশাক। কোমড়ের অংশ খোলা চোখে লাগার মতো।উ*ন্মুক্ত উদরে সিলভার চেইন পড়া।কোমড়ের দু-পাশে লুকনো অস্ত্র, যার হাঁটার ভঙ্গিমা রাজকীয় মিশ্রিত হিংস্র।ক্যাটরিনা শব্দহীন হিলে পুলের কাছে এগোতে লাগলো,উৎফুল্ল কন্ঠে গলা হাঁকিয়ে –
—–“আই থিংক্!এই আইটেম বোমটাই এতোদিন মিসিং ছিলো”!উফস্ কি বলে ডাকা যায় বলো তো আইটেম বোম নাকি সাইকো কিলার??কোনটা ডিয়ার??”
——-“তোর মতো শা*য়ার মুখ থেকে “শ” টাও শুনতে রিক নট অ্যা ফাকিং ইন্টা*রেস্টে’ড “
ইউভান ওয়ানেইনের গ্লাসটা একচুমুকে পুরোটা শেষ করে পিছন দিকে গ্লাসটা ছুঁড়ে মারতেই গ্লাসটা ক্যাটরিনার পদতলে চূর্ণ হয়ে যায়। ক্যাটরিনা ভারী বুট হিল দিয়ে গ্লাসের টুকরো গুলো পিষে সামনে এগুতে থাকে। তার মধ্যে যেমনটা শারী’রিক সৌন্দর্য বিরাজ করে তার থেকেও এই লেডি মাফিয়ার মধ্যে শিকারীয় আত্মবিশ্বাস পরিলক্ষিত হলো।পুলের সান্নিধ্যে অবতর ঘটিয়ে একটু ঝুকলো হাঁটুর উপর দু’হাতে চেপে, অ’ধর কা’মড়িয়ে বিষাক্ত কণ্ঠধ্বনি বেয়ে পড়লো গলদেশ দিয়ে- ——-“আহহহহ!মাফিয়া সাইকো বস্ রেগে কেন যাচ্ছে,তোমার ফাকিং ইন্টারস্টেড না-ই থাকতে পারে, ইট’স ডাসে’ন্ট ম্যাটার ফর মি,,,, বা’ট! বাট! বাট! অ্যাম ফা*কিং ইন্টা’রেস্টড!…. “
একটু থেমে, ইউভানের ঘা’ড়ে নিজের গরম আঙুলের স্পর্শ ছুঁয়ানোর আগে,
——-“মুখদর্শন করার সুযোগটা নিশ্চয়ই এবার পাবো??আর কতদিন নাম দিয়ে মন ভরা’বো বলো”!
ক্যাটরিনার আঙুল ইউভানের ঘাড় স্পর্শ করার আগেই ইউভানের কঠোর শক্ত হাতের চাপের জোরে ক্যাটরিনা সুইমিংপুলে পড়ে যায়।ক্যাটরিনাকে ফেলে দিয়েই ইউভান পুল থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে। চুল গুলো হাত দিয়ে ঝাড়া দিতে দিতে বিশ্রি হাসির রেখা টেনে ব’লে,,
-“I am dangerous more than your imagination!you Don’t know me who i am! “&
fuc*king Everyone knows that Rick Albert doesn’t need any title”
কালো মাস্কের আড়ালে ইউভানের চক্ষুদ্য় আবৃত থাকলেও ঠান্ডা জলে শীতীল হয়ে সাদা বর্ণ ধারণ করা ঠোঁটজোরা চোখ এড়ালো না ক্যাটরিনার।পানির কেন্দ্রবিন্দুতে চু’বে থাকা ক্যাটরিনা নিজের কাঁধ সমান ছুটো চুলগোলোতে স্লাইড করে এক সাইড করতেই গলার মধ্যিখানে মন্সটার ক্যাট এর সিম্বেল ভেসে উঠে,তবে ক্যাটরিনা হাসলো।দৃষ্টি সেই আগের ন্যায় করে,আত্মবিশ্বাস সহীত
——-“আই নো,আই নো।,,,,#রিক_আলবার্ট দ্যা সাইকো কিলার,,যে নিজের পনেরো বছর বয়সে আশ্রমের টিচারের ডেড’বডিকে ছত্রিশ টুকরো করে শরীর থেকে মাং/স আলাদা করে আশ্রমের ক’মডে ফেলে প্রমাণ লুট করে দেয়।নিখুঁত মস্তিষ্কের কি’লার।যার মধ্যে অনুশোচনাবোধ কাজ করে না। ভয় নেই।যে নিজের স্বার্থ ব্যাতীত এক পাও এগোয় না।দুনিয়ার কাছে স্পাইডার এর অস্তিত্ব বিলীন হলেও আন্ডারওয়ার্ল্ড কিন্তু সক্রিয়, এখানে যেখানে পাতালপুরীর খবরও থাকে, অথচ পনেরো বছর ধরে রিক আলবার্ট সেই স্পাইডার গ্যাং-এরই কেন্দ্রবিন্দু,উত্তরাধিকার বহন করে নয় সেটাকে ভেঙে পুনর্গঠন করে, নতুন ইতিহাসে রূপ দিয়েছে।আমি সব জানি রিক, আরও কিছু শুনতে চাও???বলো!নিজ চোখের সামনে দাঁড়ানো রিক আলবার্টের মুখ দেখার তৃষ্ণায় যে আমি বড়ই কাতর।বুঝেও না বোঝার ভান ধরাটা তোমার সাথে স্যুট করে না!!!”
ইউভান এতোক্ষণ ভিতরকার ক্রোধগুলো একএে করে,চোয়াল শক্ত করে এতোটাই যেনো ভেতরের দাঁতে দাঁত পিষে ফেলছে।মেরুদণ্ডে জমে থাকা ক্রোধ যেনো পশুর মতো গর্জন করে।
——–“এখন তো শুধু পানিতে চুবালাম।” কণ্ঠটা ঠান্ডা, কিন্তু ভয়ংকর। ——-নেক্সট টাইম ম্যানহোলে চুবাবো।” ——–“কুত্তার পেটে যেমন ঘি হজম হয় না রিক আলবার্টকেও তুই হজম করতে পারবি না।”
——-“সরে দাঁড়া, মাথা এমনিতেই ৪৪০ ডিগ্রিতে পুড়ে যাচ্ছে। আইস ব্যাগ দরকার।”
—“রিয়েলি রিক??,,,তুমি চাইলে তোমার হট মাথার আরও হট করতে পারি!আজকের নাইট টা হ’ট নাইটে রুপান্তর করলে ক্ষতি কি বলো!
ইউভান মাথা ঘুরিয়ে স্পাই ক্যামেরার দিকে তাকায়।ঠিক তখনই,ক্যাটরিনার আঙুল ইউভানের লো’মহীন বুকে ছোঁয়ার চেষ্টা
— চোখ সরিয়ে নেওয়ার মানে এটাও হতে পারে,তুমি আমার সৌন্দর্যে গলে যাচ্ছো।
ইউভান ধীরে মুখ ফেরায়।
চক্ষুদ্বয় আগুনে নাট্যমঞ্চ একসাথে।
——-“রিকের নাট-বল্টু এতটা ঢিলা না,যে যাকে তাকে দেখলে খুলে পড়ে যাবে।”
ক্যাটরিনা হাসলো।ইউভানের অদমনীয় রাগ হিংস্রতা কোনো কিছু অজানা নয়।তবে সব বাঁধায় ভাঙ্গন ধরে না।তার ভাস্যমতে সিংহের খাচায় শুধু সিংহীর নজর চলে,আর ক্যাটরিনা সিংহী, সে তো কোনো কিছুতে কম না।মাফিয়া জগতের সবচেয়ে ভয়ানক মাফিয়া ল্যাডি সে,,,,ইউভানের মতো নরপিশাচের দাড়পান্তে দাঁড়ানো ক্ষমতা তাকে ছাড়া আর কারোর থাকার কথাই না। ইউভান রিক আলবার্ট আন্ডারকভার মাফিয়া এই পরিচয়টাই তার সবচেয়ে মারাত্মক অস্ত্র।বিশ্ব দুনিয়ার কাছে স্পাইডার নিঃশেষ হলেও আন্ডারওয়ার্ল্ড এর কাছে তা স্পষ্ট, যার বর্তমান লিডার ইউভান নিজেই।মাফিয়া কিলিংয়ে সবচেয়ে দক্ষ আর পারদর্শী। ইউভান জানে সত্যি সে ক্ষমতাবান, তাকে বারবার তা প্রমাণ করতে হয় না। আন্ডারওয়ার্ল্ডে সে এক নৃশংস নীরব বিচারক, যার রায় ঘোষণার আগেই মৃত্যুর আদেশ কার্যকর হয়ে যায়।পনেরো বছরেও কখনো সামনে এসে খেলেনি, সবসময় ছায়ায় দাঁড়িয়ে মৃত্যুের নোং/রা সুতো নাড়িয়েছে মানুষ ভাবে সিদ্ধান্ত তাদের নিজের, অথচ বাস্তবে সেই সিদ্ধান্তের পথটা অনেক আগেই ইউভান ঠিক করে রেখেছে। এই কারণেই সে বিপজ্জনক ভয়ংকর বিপদজনক।কারণ তার উপস্থিতি বোঝা যায় না, কিন্তু তার অনুপস্থিতিতেই বিপর্যয় নেমে আসে।আন্ডারকভার মাফিয়া হওয়ার আরেকটা দিক হলো ইউভানের আবেগহীনতা নয়, বরং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা।ইউভানের অত্যধিক নিষ্ঠুরতাই তাকে সাধারণ গ্যাংস্টারদের থেকে আলাদা করে।তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু অস্ত্রধারী লোক নয় তথ্যই তার প্রকৃত বর্ম। ইউভান এমনভাবে নিজের পরিচয় স্তরে স্তরে ভাগ করে রেখেছে যে কেউ একটাও স্তর ভেদ করতে পারলে ভেবে নেয় সে জয়ী, অথচ ভেতরে ঢুকলেই বোঝে এটা ছিল শুধু আরেকটা মুখোশ।
আর সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় ইউভান জানে সে কী করছে। সে নিজেকে নায়ক ভাবে না, খলনায়কও না। সে নিজেকে দেখে একটা প্রয়োজনীয় অশুভ শক্তি হিসেবে, যাকে ছাড়া এই নোং/রা আন্ডারওয়ার্ল্ড ভেঙে পড়বে। তাই বছরে মাত্র দু’বার সে এই রাশিয়ান দ্বীপে আসতো।ক্ষমতা মনে করিয়ে দিতে নয়, বরং ভারসাম্য ঠিক রাখতে। কারণ আন্ডারকভার মাফিয়া হিসেবে ইউভানের কাজ শুধু রাজত্ব করা নয় সে অন্ধকারটাকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, যেন আলো এখনো টিকে থাকতে পারে।
এতোগুলো বছর তার ক্ষমতা তাদের মতো ছিলো না, যারা ক্ষমতা জাহির করতে গর্জন করে বেড়ায়, নিখুঁত তার মস্তিষ্ক। পরিকল্পিত।শত্রু জানে না, ঠিক কোন মুহূর্তে সে শত্রু হয়ে গেছে।
আন্ডারওয়ার্ল্ডের হাইরিস্ক, হাইব্রুটাল মাফিয়ারা তাকে ঈর্ষা করে।তারা বন্দুক চালাতে জানে, খুন করতে জানে, কিন্তু ইউভান জানে কীভাবে পুরো যুদ্ধটা না লড়েই জিতে নিতে হয়। সে জানে কার লেনদেন কোথায় আটকে দিতে হবে, কোন ডিলটা ফাঁস করলে একজন ডন নিজের লোকের হাতেই মরবে, কোন ফাইলটা একটু সামনে এলে একটা সাম্রাজ্য নিজে থেকেই ধ্বসে পড়বে।এই ঈর্ষা থেকেই জন্ম নেয় ঘৃণা।এই ঘৃণা থেকেই জন্ম নেয় গোপন ষড়যন্ত্র।অনেকে চায় তাকে টানতে কেউ চায় তাকে ভাঙতে কেউ চায় তাকে প্রকাশ্যে নামাতে।শক্তিশালী মাফিয়ারা তাকে ভয় পায়, আবার দূর থেকে সম্মানও করে,যদিও পুরো পৃথিবীর কাছে মাফিয়া বংশের কুখ্যাতো মাফিয়া রুশান আলবার্টের উত্তরাধিকারী।আন্ডারকভার মাফিয়া বস্ হয়েও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে বিপজ্জনক নাম ইউভান।মাফিয়া বংশের র*ক্ত যার শিড়ায়-উপশিড়ায় বহমান।
কয়লা ধুলেও যে ময়লা যায় না,এ্যাশ আলবার্ট হয়তো-বা জানতেন না এ বাণী।
তবে আজ মাফিয়া বস্ ইউভানের সবচেয়ে গোপন শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে ❝ভোলকভ❞[Volkov ]”lion symbol ” এর লিডার।ঠান্ডা মস্তিষ্কের খু’নি।যে নিজেই একটা বিভী*ষীকাময় মৃত্যু। তার পাঠানো হিটম্যান ইউভানের উপর আরহুসের হসপিটালে হামলা চালিয়েছিলো,তা ইউভান হিটম্যানের লায়ন ট্যাটু দেখেই বুঝে নিয়েছিলো।ইউভান ভোলকভের সাথেই হিসাবে বসতে এসেছে।ভোলকভের সাথে কখনো মুখোমুখি দন্ধ হয় নি ইউভানের।ভোলকভের ফেইস ও রিভিল করা না।কেউ আজ অব্দি দেখে নি,বিশেষ করে ইউভান নিজে।তবে ভোলকভ মাফিয়া মিটিংয়ে অনুপস্থিত। ভোলকভকে ছাড়াই আজ ছাব্বিশটি মস্তিষ্কের নোং/রা কার্যালয় বসবে।বড়সর পার্টি আয়োজন হ’য়েছে মধ্যেরাতে।যাকে বলে নিশির রাত।
ইউভান পুলের কাছ থেকে লেদার জ্যাকেট তার শক্তপুক্ত শরীরে জড়াচ্ছে। আর ক্যাটরিনা দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আঙুলের ডগায় রিভালবার ঘুড়াতে ঘুড়াতে। ইউভান অত্যন্ত চতুর সে আপাতত কোনো কিছুতেই ধ্যানমগ্ন হয়ে সময় ফুঁড়াতে চায় না।
আমেরিকার পশ্চিম উপকূল।
রাতটা এখানে কখনোই পুরোপুরি অন্ধকার হয় না,নিয়ন আলো, হাইওয়ের গর্জন আর দূরের শহরের আগুনে-রঙা স্কাইলাইন সবসময় জেগে থাকে। লস অ্যাঞ্জেলেসের পুরোনো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিস্ট্রিক্টে, পরিত্যক্ত গুদামগুলোর মাঝখানে একটা ছোট কিন্তু সুরক্ষিত অ্যাপার্টমেন্ট। জানালার বাইরে পুলিশ সাইরেনের শব্দ নতুন কিছু নয়। ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে, রাহা। চুল পেছনে বাঁধা, কালো জ্যাকেট। চোখে ঘুম নেই, ভয়ও নেই।তবে মন কিছুটা বিষন্নতায় ভরা।রুমের মধ্যে পাইচারি করতে করতে কিছু বিষয় নিয়ে আফসোসে জ্বলে যাচ্ছে।
ঠিক তখনি স্ক্রিনে ভেসে উঠে তুষারের কল।
রাহার কলটা রিসিভ করে, কণ্ঠ ঠান্ডা কিন্তু সতর্ক।
—”বলুন”
ওপাশ থেকে কণ্ঠটা আগুনের মতো ফেটে বেরোয়।
—”এতোবার কল কেন করেছো?? “
রাহার হালকা চোখ সরু করে জানালার দিকে তাকায়।
—”শুনোন আমি ঘুমোতে পারছি না।”
এক সেকেন্ডের নীরবতা। তারপর তুষারের কণ্ঠ আরও কঠিন হয়।
——“ঘুমোতে না পারলে D2 খাও।তবে পাঁচটার বেশি খেলে ম’রার চান্স আছে।”
রাহার চেয়ার টেনে বসে, টেবিলের ওপর আঙুল ঠুকতে ঠুকতে বলে,
——-“আমি সিরিয়াস।তবে সেদিন কথা গুলো আমি সিরিয়াসলি বলি নি,মাথায় যা এসেছে তা বলে দিয়েছিলাম,ব্যপারটা আপনি ভুলে যান।আপনি ভুলে গেলে আমি ঘুমোতে পারবো শান্তি মতো।নাহলে আমার বারবার রিগ্রেড ফিল হচ্ছে।পারলে মাথাটা খুলে ওয়াশ করুন।”
ওপাশ থেকে দম আটকে রাখা শ্বাস।
—”হুয়াট রা’বিশ্! তুমি কি বলতে চাইছো আমি আমার মাথার মগজ খুলে ধোঁয়ে সা’ফ করে আবার মাথায় লাগাবো,,,”
রাহারের চোখ সরু হয়ে আসে। তার কণ্ঠে এবার বিদ্রুপ।
——-“দরকার পরলে তাই করুন।তাও ভুলে যান।”
—–“ব্রেন ওয়াশ আমার না তোমার দরকার।এন্ড উল্টা-পাল্টা জিনিস খাওয়া থেকে বিরত থাকো।মন দিয়ে পড়াশোনা করো।বেশ্”
—-“আপনার মাথায় মনে হয় গোবরে ভরা, আমি মিউজিক নিয়ে পড়াশোনা করি।এন্ড অ্যাম অ্যা প্রফেশনাল সি’ঙ্গার।ভুলে যান মনে হয়।
——“হ্যাঁ সেটাই করো।টাইম ওয়েস্ট হচ্ছে আমার বাঈ।”
——-“কল কাট করবেন না।”
কিন্তুু ওপাশ থেকে কল কেটে যায়।
রাহার ফোনটা টেবিলে রাখে, ল্যাপটপের স্ক্রিনে আবার চোখ রাখে।চোখ ঘুড়িয়ে জানালাটা খুলতেই বিরক্তবোধ করে আওড়ালো কিছু অকট্ট ভাষা।কেননা তার এপার্টমেন্টয়ের আশেপাশে অনেক গুলো গার্ড পাহাড়া দিচ্ছে।যার ফলে রাহা রুম থেকে বের হতে পারছে না।মূলতো তুষারকে এদেরকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলতে কল করেছে।যে তার এসবের দরকার নেই।নিজের সে’ফটি রাহা নিজেই করতে পারে।তবে কথা পেটেই সিমাবদ্ধ রইলো মুখের বলি ফুটলো না।
—-December 21st night!… পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম রাত।যে রাত আলোকে কৃপণভাবে বাঁচিয়ে রাখে, আর অন্ধকারকে দেয় অঢেল সময়।রাতের প্রথম প্রহরে রাতে আকাশটা অন্যরকম ভারী। যেনো নক্ষত্রগুলোও ক্লান্ত, আলো জ্বালাতে চায় না। বাতাসে শীতের ধারালো ছোঁয়া নিঃশব্দে গায়ে বিঁধে যায়, বুকের ভেতর জমে থাকা কথা গুলোকে আরও গুটিয়ে দেয় কিছু মানবের মনে। সময় থেমে আছে মনে হচ্ছে অথচ ঘড়ির কাঁটা নির্দয়ভাবে এগিয়ে চলেছে।
যেমন করে সপ্তদশী রোজ আজ অষ্টাদশীতে পদার্পণ ঘটালো।এই দীর্ঘতম রাতটাই রোজের জীবনের শুরুর রাত।তূর্জ হাউসের দেয়ালের সব গুলো ক্যালেন্ডারে লাল কালির চিহ্ন দেয়ার দিন।
প্যান্টহাউসের জীবগুলো আজ রাতপ্যাঁচা হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে ছোট ছানা আনান।যার মুখ বন্ধ হয় না এক সেকেন্ডের জন্যেও।সারাদিন মুখ দিয়ে হাবিজাবি কথা চলতেই থাকে। আর রোজের সে-সব শুনতে শুনতে রাত দিন পার হয়ে যায়। রাতে মিরাব বাসায় আসলে মনটা ভালো হয় আরও রোজের।আদ্রিয়ান মিরাব কেউই সারাদিন বাসায় থাকে না।পুরো প্যান্টহাউসে রোজ আর আনান একা থাকে।
আজ কারোর এখন ডিনার করা হয়নি।রাত বাজে একটা।মিরাব কি’চেনে বাহির থেকে আনা খাবারগুলো হালকা গরম দিচ্ছে। মিরাবি আদ্রিয়ানকে বলে ছিলো আজ সবাই বাহিরে গিয়ে খেয়ে আসবে,তবে আনান এর আবার সিজ’নাল সর্দি লেগে আছে। তাই এতো রাতে আর ঠান্ডার মধ্যে বাহিরে গিয়ে খেয়ে আসার সুযোগ হয়ে উঠেনি।রোজ দাঁড়িয়ে আছে মিরাবের পিছনে।
হাতে গরম চায়ের কাপ।রোজ কফি খায় না।খেতে পারে না।রোজের কাছে কফি বিদঘুটে তিতা মনে হয়।মিরাব কফি বানিয়ে দিতো তবে রোজ বলে উঠে কফি খাবে না।দুধ চা খাবে।কড়া লিকাড় করে।দুধ আর বেশি চিনি দিয়ে।
মিরাব হালকা করে রোজের দিকে তাকায়। চুলার আগুনটা কমিয়ে দিয়ে, যেন হঠাৎই খেয়াল পড়েছে।
“—-“তোমার চুলগুলো কিন্তু খুব সুন্দর রোজ। বেশ বড়ও ।”
রোজ একটু চমকে ওঠে। এমন প্রশংসা সে অভ্যস্ত তাও মেয়ে হয়েও মিরাব তার প্রশংসা করলো,ব্যপারটা রোজের মনকে নাড়িয়ে দিলো। অজান্তেই রোজের এক হাত চুলের ডগায় চলে যায়। মিরাবের চোখটা থেমে থাকে তার চুলের রঙে
চুলের কালার কি ন্যাচরাল নাকি?? এই ব্রাউনিশ টোন টা ঠিক তোমার চোখের রঙের মতো ।
রোজ লজ্জায় হেসে ফেলে। হাসিটা খুব ছোট, খুব নরম।
—-“আরে না আপু, আমি তো চুলে তেলই দিতাম না। তেল না দিতে দিতে রঙটা এমন হয়ে যাচ্ছিলো। তারপর আর কী পার্লারে গিয়ে কালারই করে ফেলেছি।
মিরাব আবার হাঁড়ির ফ্র্যই প্যানে ঢাকনা চাপায়। গলার স্বরে হালকা হাসি,
“—–“হুম। ন্যাচারালই মনে হয় কিন্তু।”
রোজ একটু সাহস পায়। কিচেনের আয়নার কাঁচে নিজের দিকে তাকিয়ে বলে,
——“চুলও অনেক কেটেছি। নাহলে তো আরও বড় থাকতো”
কথাটা বলতে বলতেই গলায় একটুখানি আফসোস জড়িয়ে পড়ে। যেন বড় হওয়াটা শুধু চুলের কথাই না।মিরাব এবার নিজের চুলে হাত বুলায়। আয়নায় তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
—–“আর এদিকে দেখ, আমার চুল তো বরাবরই বড় হয় না।”
রোজ হেসে ওঠে।
—–“বেশি কাটলে তো হবেই না!”
—–“রিয়েলি??”
—“হুম”।তেল দেয়া লাগে না।আমিও তেল দিতাম না।”
রোজের দুষ্টুমি জবাবগুলোতে মিরাব ফিক করে হেসে ফেলো।প্যান্টহাউসের ডাইনিং হলে রাখা কাঠের টেবিলে বসে আছে আনান।চেয়ারে আধশোয়া হয়ে বসা। পা দুটো বাতাসে দুলছে, মুখভর্তি খাবার, তবুও কথা থামছে না। শব্দগুলো এলোমেলো, অর্থহীন, তবু জীবন্ত।আনান নিজ হাতে খেতে পারে না,বাচ্চা ছেলে খাবেই বা কিভাবে।মিরাবই খায়িয়ে দিতো তবে এখন রোজ খায়িয়ে দেয়।চামচ দিয়ে নয় নিজ হাতে।রোজের যেমন তেহারী ভিষণ পছন্দের আনান এর ও।রোজ আনানের মুখে আলতো করে খাবার তুলে দিতে আনান সেই গালভর্তি খাবার নিয়ে মিরাবের দিকে দৃষ্টি রেখে বলে,
—-“মিমিএএএএএএএএএ!!!!!!!!!
আনানের কানের পর্দা ফাটানোর মতো আওয়াজে মিরাব কান চেপে ধরে ফেলে।
-“উফফ আনান খাবার টেবিলে বসে এতো কথা বলতে হয় না।”
মিরাবকে দেখিয়ে জিভ বের করে আনান রোজের দিকে তাকিয়ে চোখ সরু করে,
——“শুনো রোজ।আনান কোনো রুলস্ ফলো করে না।আমি আগেই তোমায় বলেছিলাম না।”
রোজ একবার মিরাবের দিকে তাকায়।কোনোরকম মুখভর্তি হাসি চেপে মাথা নাড়ায়।
—-“হুম সোনা।আই নো।”
প্যান্টহাউসের ডাইনিং হলটা মুহূর্তের জন্য শিশুসুলভ কোলাহলে ভরে থাকলেও,সিঁড়ির দিক থেকে আসা পায়ের শব্দটা খুব সাধারণ ছিলো না। অতিরিক্ত শব্দ নেই, অথচ উপস্থিতি ভারী।আদ্রিযান চুলগুলো ভেজা যেনো এতো রাতে গোসল সেরে নিচে নামছে।গ্রে শার্টে একটাও অপ্রয়োজনীয় ভাঁজ নেই। বুকের কাছে ঘড়ির ধাতব স্ট্র্যাপ আলো ধরলেও চোখ টানে না, কারণ তার চোখই যথেষ্ট। শান্ত, গভীর,চুলগুলো নিখুঁতভাবে পেছনে সেট করা, কিন্তু অতিরিক্ত পরিপাটি নয়,যেন ইচ্ছে করেই সামান্য এলোমেলো রাখা। মুখে কোনো হাসি নেই, আবার কঠোরতাও নয়।আদ্রিয়ান ধীর পায়ে সিঁড়ি থেকে নেমে কিঞ্চিৎ হাসে।রোজ আজকে একটা গাড় লাল রঙের ড্রেস পড়েছে পড়েছে।রোজের চুল আজ খোলা।যার ঢেউগুলো গাঢ় লালের সঙ্গে মিশে গিয়ে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করেছে। তার ত্বকে লাল রঙটা এমনভাবে ফুটে উঠেছে যে মনে হয় সে নিজেই এই ঘরের কেন্দ্রবিন্দু বাকি সব আলো কেবল সহায়ক। ঠোঁটে সামান্য রঙ, চোখে কোনো অতিরিক্ত সাজ নেই, তবু চোখ দুটো ভয়ংকরভাবে জীবন্ত।
“—-আমার ফোনটা রুমে রেখেই চলে এসেছি।”-আদ্রিয়ান ডাইনিং টেবিলে এসে বসে কথাটা গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠে। যেনো রোজের রন্দ্রে তা পরিপাক্ষিক ভাবে পৌঁছায়।তবে মিরাব ততক্ষণাৎ পানির গ্লাস ছেড়ে আদ্রিয়ানকে ব’লে,
-” দাঁড়া আমি নিয়ে আসি।”
তবে আদ্রিয়ান মিরাবকে আঙুলের ইশারায় থামিয়ে দেয়।
-“তুই থাক তোর সাথে আমার কথা আছে। “-তারপর আদ্রিয়ান রোজের মুখশ্রীর পানে চোখে গভীরতা মিশিয়ে ব’লে,
-” তুমি একটু এনে দাও তো।আমার একটা দরকারি কল ছিলো।”
—“”আ…আমি?আপনার রুমে যাবো?”
—“হ্যাঁ বেডের উপর রাখা।গিয়ে নিয়ে আসো।প্লিজ!
রোজ কখনো প্যান্টহাউসের তার করিডরের বিপরীতমুখী করিডরের শেষপ্রান্তে আদ্রিয়ানের রুমের দিকে এগোনি।আজ এলে।আদ্রিয়ানের কথামতো। লোকটা এমনিতেই অনেক ব্যস্থ মানুষ। কোনো ইম্পরট্যান্ট কল আছে নিশ্চয়ই তা ভেবেই রোজ একপ্রকার তাড়াহুড়োর মাঝে আদ্রিয়ানের রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। রোজ দরজাটা ঠেলে ভেতরে পা রাখতেই ঘরটা যেন নিশ্বাস আটকে রাখে।
বাইরের আলো একদম ঢোকে না গুটগুটে অন্ধকার, শুধু কয়েকটা ক্যান্ডেলের মৃদু শিখা দেয়ালের গায়ে কাঁপতে কাঁপতে আলো ফেলছে। সেই আলো অন্ধকারকে পুরো হারায় না, বরং তাকে আরও গভীর করে তোলে। ছায়াগুলো লম্বা হয়ে ঘরের কোণায় কোণায় জমে আছে, যেনো প্রতিটা ছায়া কিছু বলতে চায়, কিন্তু শব্দ খুঁজে পাচ্ছে না।রুমের মাঝখানে বিছানাটা।
সাদা চাদরের ওপর ছড়িয়ে রাখা গাঢ় লাল গোলাপ—একটা নয়, অনেকগুলো।
১৮টা তাজা লাল গোলাপের গুচ্ছ।
“18th Red Rose”
তারপর গোলাপের পাপড়িগুলো দিয়ে মাঝে কিছু লিখা। যেন কেউ ইচ্ছা করে সময় নিয়ে সাজিয়েছে, তাড়াহুড়োর কোনো চিহ্ন নেই। সেই পাপড়িগুলো শব্দ দিয়ে নয়, অনুভূতি দিয়ে লেখা একটা বাক্য—
“কি দেখছো ক্রিমসন?”এগুলো তোমার জন্যেই।”
কয়েক সেকেন্ডের জন্য সে নড়তেই পারে না। চোখে অবিশ্বাস, ঠোঁটে নিঃশ্বাস আটকে রাখা বিস্ময়। পাশে রাখা ছোট একটা গিফট বক্স, রিবনটা আলতো করে বাঁধা এতটাই যত্নে যে খুলতে গেলেও ভয় হয়, যদি মুহূর্তটা ভেঙে যায়।
হঠাৎ তার মাথায় কিছু একটা খচ করে ওঠে।
রোজ ধীরে ধীরে নিজের ফোনটা বের করে। স্ক্রিন জ্বলে ওঠে। আজকের তারিখটা চোখে পড়তেই বুকের ভেতর জমে থাকা অজানা ভারটা হঠাৎ গলে যায়।
আজ!
“তার জন্মদিন।21 December! Longest night of the year!”
নিজের অজান্তেই ফিসফিসিয়ে ওঠে রোজ। এত ঘটনার ভিড়ে, এত অস্থিরতার মাঝে,সে নিজেই ভুলে গিয়েছিল এই দিনটার কথা।রোজ আশ্চর্য নয়নে পুরো রুমটাতে চোখ বুলালো।গভীরতায় ডুবে গিয়ে রোজ বেডের পাশে হাত ফ্লোরে বসে পড়ে।পৃথিবীতে কিছু মানুষ বড়ই অদ্ভুত। বড্ড।নিজেকে এখন নিজের কাছে অদ্ভুত ঠেকে রোজের কাছে।রোজ ফ্লোরে বসে গোলাপগুলোর পাশে রাখা চিরকুট টা খুলে।কাগজটা মসৃণ, ভাঁজে ভাঁজে যত্নের ছাপ। লেখাটা ছোট, কিন্তু অক্ষরগুলো যেন ইচ্ছা করেই ধীরে ধীরে সাজানো।
“Red Rose”
রোজ ধীরে ধীরে চিরকুটটার পরের ভাঁজটা খুলে।
লেখাগুলো সংক্ষিপ্ত,আরও চাপা
যেনো যিনি লিখেছে, সে নিজেকেই নিয়ন্ত্রণে রাখছে।
“~Crimson~”
পৃথিবীর সব ফুল নিজের সৌন্দর্য বুঝতে পারে না।
কিছু ফুল শুধু ফোটে,
কারণ ফোটার সময় হয়ে যায়।
~শুভ জন্মদিন ~
“সুখের চাদর আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরুক তোমায়।জানো কিছু ফুলকে দেখার মাঝে আনন্দ লুকিয়ে থাকে,
যেটার কোনো ব্যখ্যা নেই,শব্দ নেই,তোমার মনে হাজারটা প্রশ্নের সমাধান খুঁজতে না-হয় কোনো একদিন আমার চোখে গভীরতায় ডুবে যেও।”
-“Rahum,Rahun
Rahun rahum olsun!”
শেষের তুর্কি ভাষার বাক্যেটা রোজ বুঝতে পারলো না।তবে একটা জিনিস উপলব্ধি করলো, ধীরগতির বিদ্যুৎপ্রবাহের আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটলো অষ্টাদশীর মস্তিষ্কে।রেড রোজ শব্দ টা সে আগেও শুনেছে। ডেনমার্কে আলবার্ট ম্যানশনেই তো।একশো একটা গোলাপ চিরকুট সমেত।আর আজও আঠারোতম জন্ম দিনে আঠারোটা তাজা লাল গোলাপের সুভাস ছড়িয়ে আছে তার আশেপাশে।তাহলে রোজ ধরেই নিলো আদ্রিয়ান শাহই সেই সিক্রেট লোকটা।তাহলে সেদিন ওগুলো রোজের জন্যেই তিনি পাঠিয়েছিলেন।কিন্তুু কেনো।কেনো করছে তার জন্যে এসব কিছু। ডেনমার্কের কথা মনে আসতেই রোজ দাঁত চাম/ড়াভেদ করে আসার ন্যায় শক্ত হয়ে উঠে।কতোটা যন্ত্রণা দিয়েছিলো ইউভান নামক মন্সটার টা তাকে।রোজের দু’হাতে কাঁপন সৃষ্টি হয়।চিরকুট টা বিছানায় রেখে, বা-হাতটা দেখতে থাকে, তাজা লাল গোলাপের কাঁটার আঘাতে সেদিন র*ক্তাক্ত হয়েছিলো তার হাত।পরক্ষণেই রোজের অঁধরে কাঁপন ধরিয়ে ঘৃণামিস্রিত হাসি হেসে উঠে লিসা বলে ছিলো,
ইউভানের লাল গোলাপে এলার্জি আছে।কথাটা মনে পড়তেই রোজ একটা গোলাপ তুলে নিয়ে বাঁকা হেসে ঘ্রান নিতে থাকে, যেনো লাল গোলাপের সুভাস তার নেশাক্ত মনে হয়।বেলির মতো চমৎকার গন্ধ না হলেও গোলাপের কাঁটার সুভাস তার ভালো লাগছে।মনের অজান্তে কখন যে ধ্যানমগ্ন রোজ গোলাপ চেপে শক্ত মুঠোতে পুড়ে নিয়ে ছিলো কে জানে।তাজার গোলাপের কাঁটা ফুটে আচমকা গলগল করে রোজের হাত থেকে র*ক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকে। চিরকুটের উপর টপটপ করে গড়াতে শুরু করে।এক ফুটা,দু ফুটা করে।রোজ হাতের দিকে তাকালো।ব্যথা অনূভুব হচ্ছে না।চোখ গুলো স্থির করে রাখলো এক ফোটা জল গড়িয়ে যেনো না পড়ে শক্ত করে ধরে রাখলো জমে উঠা অশ্রু কে।যেমন করে বর্ষার দিনে নদীতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়, ভাঙ্গন প্রতিরূধে ঠিক তেমন।
বুকটা মুচড়ে ফেটে যাচ্ছে। তবে তা মায়ের কথা চিন্তা করে।জীবনের একটা নতুন বছর শুরু হতে যাচ্ছে।এই দিনে সবচেয়ে বেশি নিজের মায়ের কাছে থাকলে ব্যথা কম অনূভুত হতো।
রোজ বড় পাতার রঙিন চিরকুট টা উল্টালো।বেডের পাশে থাকা কেবিনেটের ড্রয়ার থেকে কলম নিয়ে মায়ের উদ্দেশ্য একটা চিঠি লিখতে শুরু করে,যা রোজ প্রতিবছর করতো।তবে এ বছরের অনুভূতটা বড়ই যে বিচিত্রময়।
বিছানার উপর আলতো করে মাথা হেলিয়ে মাকে লিখতে শুরু করলো অষ্টাদশী সবে যৌ’বনে পদার্ঘাত করা রোজ।
রাশিয়ার ভলচর দ্বীপে, দশতলা ভবনের নিচে মাটির আরও নিচে যে কয়েকটা স্তর আছে সেখানে আলো নামা ভুলে গেছে বহু আগেই।এই স্তর কোনো বেসমেন্ট না, কোনো সেলাও না।এটা এক ধরনের অন্তঃপুরী, যেখানে মানুষ নামলে মানুষ থাকে না।দেয়ালগুলো কালো পাথরে গড়া, ঠান্ডা আর নিঃশ্বাসহীন।
রুমটার একদম কেন্দ্রে একটা কালো ধাতব সিংহাসন।সেটার উপর বসে আছে ইউভান।রাত গভীর হলেই শুরু হবে নিশির রাত এর পার্টি।ইউভান তাতে কোনো ধ্যানমগ্ন নয়।ইউভানতো ভোলকবকে চায়।কিৎক্ষণ সময় অতিবাহিত হলে দামিয়ান রূঢ় পায়ে প্রবেশ করে, চুলের ঢগায় ধুলো লেগে একাকার অবস্থা যেনো কোন চিপা থেকে খানিক আগে বের হয়ে পদার্পণ করলো।হাতের মুঠোয় একটা লম্বা শিকল পেঁচানো। শিকলটা একটা বন্যে নেকড়ের গলায় লাগানো।একটা ক্ষুদার্ত হিংস্র পশু।পশুটা এমন ভাবে জিভ বের করে রেখেছে যেনো কয়েকযুগের ক্ষিপ্ত ক্ষিদয় খাতর।তাজা মাং/স পিন্ড চিবোতে পারলে ভালো শান্ত হতো।দামিয়ান পশু শিকাড়ে কিংবা পশু পোষ মানাতে পারদর্শী। যেকোনো হিংস্র পশু খুব সহজে দামিয়ানের কাছে পোষ মেনে যেতো।খিৎক্ষণ পূর্বে ইউভানের কথামতোই গহীন অরণ্যে থেকে নেকড়েটাকে ধরে নিয়ে এসেছে।নাম দিয়েছে ড্রাক’স।কালো সাদা ডোরা’কাটা জা’নোয়ার।
দামিয়ানের নাকে দুই দুটা ব্যন্ডিজ।ইউভানের ঘুষির আঘাতে না জানি নাকের হাড় না ভেঙ্গে বসে আছে,এই চিন্তায় মরিয়া সে।তবে এই হিংস্র জা’নোয়ার ড্রাক’স কে দিয়ে ইউভান এখন আবার কি মানসিক বিকারগ্রস্থ দানবীয় তান্ডব লিলা আরম্ভ করতে চাচ্ছে তা টের পায় নি খুনাক্ষরে দামিয়ান।ইউভানের মধ্যে এখন শুধু নৃ’শংস উন্মা”দনা পরিলক্ষিত। পশুটার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসলো,হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মাথায়।
“-খুব ক্ষিধে পেয়েছে তাই না।তোর শিকার আসছে।খেয়ে পেট ভরিয়ে নিস।আর আমার চোখ ভোর’বে।
হঠাৎ পরমুহূর্তেই অন্ধকারে লেলিহান নাট্যমঞ্চের দরজাটা খুলে যায়।সমস্ত শক্তি দিয়ে দুজন কালো মুখোশদারী দানবের মতো শয়তানি ছায়া ঢুকে পড়ে ইউভানের ডার্কওয়েবে।বিকৃতো মস্তিষ্কে লোকগুলো অর্ধমৃত পুরুষকে নির্দয় ভঙ্গিতে টেনে হিঁচড়ে এনে ফেলে ইউভানের পায়ের কাছে।পুরুষটা খাচা বন্দি পাখির ন্যায় ছটপট করছে।মৃত্যুর দারগড়ায় এসে দাঁড়িয়েও বাঁচার তাগিদে ইউভানের কাছে শেষ বারের মতো প্রাণভিক্ষা চাইতে থাকে। তবে ইউভানের মুখাবয়বে স্পষ্ট যে সে আজ নৃশং*সতা চরম সীমা অতিক্রম করতে যাচ্ছে।তবে মৃত্যুদেবতার মতো অগ্নিভূত হওয়া চোখজোড়ায় যে নির্দয়।পুরুষটা ভোলকভের ডান হাত কীর্তিক স্লান।দশতলা বিল্ডিংয়ের উপরে পার্টির আয়োজন আর নিচে ইউভানের র’ক্ত তান্ডব।কীর্তিকের ঘাড় আবৃত্তি চুল ইউভান নিজের মুঠোয় পুড়ে নেয়।এতোটাই শক্ত টান যেনো এক এক করে সমস্ত চুল ছিঁড়ে ইউভানের হাতে চলে আসবে।কীর্তিক নেতিয়ে পড়েছে মেঝেতে। মাফিয়া বস্ থামলো না স্লানপর গলদেশের মাঝে নিজের শক্ত বোটের চাপ প্রয়োগ করতেই গলগল শব্দে গরম র’ক্ত বের হতে থাকলো মুখ দিয়ে।বিপরীত পাশে থাকা কালো মাস্কের আড়ালে এক গার্ড ব’লে উঠে,
-” বস্। মুখ খোলে নি।কারেন্টের শক্’ড পর্যন্ত দিয়েছি।তাও ভোলকভের ব্যাপারে মুখ খোলেনি।আপনার কথা মতো, এসিডের পানিতে চুবানো হুমকি দিয়েও লাভ হয় নি।”
ইউভান ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসলো।ইউভান হিংস্র পশুর মতো গর্জে উঠলো মৃদু।
-“মুখ না ফুটলে।মুখটাই বরং সারাজীবনের জন্যে বন্ধ করে দেয়া যাক।”
ইউভান হাতে একটা সরু চিকন সুই চকচক করে উঠলো।সিগারেটে জ্বলসে যাওয়া ঠোঁটজোড়ায় আবদ্ধ সুতা সুইয়ে ঢুকিয়ে।নৃশং*সতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে, কীর্তিকের ওষ্ঠঅঁধরে মিলন ঘটিয়ে নৈপুণ্য হাতে সিলাতে শুরু করে।সমস্ত শরীরে কাঁপন ধরিয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে।
দামিয়ান ইউভানের এমন বিভৎস কর্মে চোখ ফিরিয়ে নেয়।আজ আই মৃত্যুযম থেকে কীর্তিকের রক্ষা নেই।
কীর্তিকের পুরো শরীর উ’দম করিয়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে লাগলো ইউভান।পাশের একটা অন্ধকার বেসমেন্টে ডুকিয়ে দেয়।পরমুহূর্তেই ড্রাক’সকে একটা কড়া করে চুমু খায় ইউভান, মাথায় হাত বুলিয়ে পাঠিয়ে দেয় রুমে।রুমের ডোর লক করতেই।দামিয়ান কান চেপে ধরে ফেলে।
ভিতর থেকে হিংস্র জানো*য়ারটার হাড় মটমট করা গা শিউরে উঠা শব্দ আর বাঁচার তাগিতে কারোর মৃদু গোঙানি পুরো নরকে পরিণত হয়ে পড়ে গাঁ ছমছম পরিবেশটা।
দামিয়ান ইউভানের এমন পৈশাচিক উৎফুল্লতা মিশ্রিত উন্মা*দনা দেখে, শক্ত কন্ঠে ব’লে,
—–“এতো উন্মাদ কেনো হচ্ছিস তুই??এটা কি শুধুই ভোলকভকে খোঁজার তারণা??নাকি এর থেকেও বেশি কিছু??
মাফিয়া বস্ ইউভান সিংহাসনের হাতলে শক্ত করে হাত চেপে ধরে আছে।কোনো অভিব্যক্তি না চুকিয়ে মদের বোতলের ক্যাপটা দাঁত দিয়ে খুলে ঢকঢক করে পুরোটা খেতে লাগলো।ভেতরকার দাবানল থামানোর অন্যতম মক্ষম উপায়।পড়নের শার্টটা খুলে কাঁধে জাছের ক্ষতটাতে শেষাংশের মদ ঢালতে শুরু করলো।পিঠের র*ক্ত গুলো অ্যালকোহলে মিশ্রিতো হয়ে নিজে গড়িয়ে পড়তে লাগলো।ঠোঁটের কোণে পৈশাচিক হাসির রেখা টেনে,
——“সেচ্ছায় বিষ পান করেও যদি এই রিক বেঁচে থাকতে পারে,
আর উন্মাদ???? ফাক! ফাক! ফাক এই রিক কারোর প্রতি উ*ন্মাদ না।
না মানে না।আমি ধ্বংস করা আর ছিনিয়ে নেয়াই শিখেছি
আর ধ্বংস মানেই মৃত্যু। “
—–“তোর এই ম*রণ খেলাটা মনে হয় না সবার কপালে জুটেছে।জীবন নিতে না পারলে জীবন দিতে হয়।পৃথিবীর সবকিছুর একটা বিপরীত মেরু থাকে,ভুলে যাস না।”
রাত প্রায় দুটো বেজে পঁচিশ মিনিট।ধূপ ছায়া অন্ধকারে মৃদু আলোয় করিডরের শেষ শব্দহীন পায়ে এগিয়ে আসে আদ্রিয়ান। অনেক রাত হয়ে গিয়েছে।অবধ্য স্পন্দন অনবরত ভাবতে লাগলো।রোজ নিশ্চয়ই তখন রুমে এসে তার সারপ্রাইজ দেখে নিয়েছিলো।তখন কি না কি ভাবলো রোজ।যদি তার সাথে রাগ করে বসে।কারণ এরপর আর রোজ নিচে নেমে আসে নি।নিজের রুমে চলে গিয়েছে ভেবে আদ্রিয়ান দীর্ঘশ্বাস টানলো।তবে রোজের দেখা পেতে ব্যকুল হয়ে যাচ্ছে।কিন্তুু আদ্রিয়ান নিজের উপর স্থির। তবে রুমের ডোর খুলতেই কিঞ্চিৎ পাঁ থামিয়ে নিলো আদ্রিয়ান। কারণ তার রুমের মোমবাতির টিমটিম আলোতে দেখা যাচ্ছিলো রোজকে।কেমন সুপ্ত ভার জমে উঠলো গহীনে।আদ্রিয়ানের ট্রাউজারের পকেটে হাত রেখে সামনে ধীর পায়ে এগুতে লাগলো।বেলকনির থেকে বয়ে আসা শীতল বাতাসে রোজের গাঁয়ে লেগে দেয়ালে কম্পন সৃষ্টি করছে।
রোজ সেই আগের ন্যায় ফ্লোরে বসে বিছানায় মাথা হেলিয়ে শুয়ে আছে।কখন যে ঘুমিয়েছে কে জানে।ঘুমন্ত অবস্থায় রোজকে নিজের ঘরে একটা আস্ত অপ্সরা মনে করতে লাগলো।তবে মূহূর্তেই আদ্রিয়ানের কপালে দুশ্চিন্তার রেখা স্পষ্ট ছাপ দেখা দেয়।কপালে চার ভাঁজ ফেলে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে রোজের সামনে।চিরকুটের উপরে পড়ে থাকা রোজের হাতে শুকনো র’ক্ত দেখে ঘূর্ণিঝড় নেমে এলো তার তপ্ত হৃদয়ে। রোজের হাত ধরে দেখতে থাকে, বেশি গভীর ক্ষত না।তারপরেও বিচলিতো আদ্রিয়ান ফাস্ট এ’ড বক্স এনে রোজের হাতটা আলতো করে ব্যান্ডেজে মুড়তে লাগলো।
খুব আলতো করে যেনো ঘুম না ভেঙে যায়।টিক ততক্ষণাৎ চিরকুট টা হাতে তুলে নেয় যেখানে রোজ নিজের মায়ের উদ্দেশ্য কাঁপা কাঁপা হাতে লিখে রেখেছে।অক্ষর গুলো কেমন এলোমেলো যেনো লিখার সময় রোজের হৃদয় চূর্ণবীর্ণ হয়ে গিয়েছিলো।একটা হৃদয় কতোটা কষ্ট পেলে হাতের কলম দিয়েও লিখা স্পষ্ট হয়ে উঠে না চিঠিটা তার প্রমাণ।
আদ্রিয়ান রোজের সামনে বসেই চিঠিতে চোখ বুলাতে লাগলো –
মা-
এই যে তোমার প্রতি সমস্ত রাগ অভিমান খুঁচিয়ে আবারো লিখতে বসলাম।আমার জন্মধাত্রী কেমন আছো??নিশ্চয়ই ভালো। প্রশ্নটা হাস্যকর জানি মৃত মানুষ আবার কেমন থাকে!জানো আজ কি?
তোমাকে ছাড়া কতগুলো বছর কতোগুলো সময় পার হয়ে গিয়েছে তাই না!তোমাকে ছাড়া পনেরোটা বছর কেটে গিয়েছে ।পনেরোটা শীত, পনেরোটা বর্ষা, পনেরোটা জন্মদিন। জানো
তোমার চিরতরে রেখে যাওয়া মেয়ে আজ বড্ড টানাপোড়ায় ভুগছে?আমি কি মরে গিয়েও বেঁচে আছি,বলো মা!পৃথিবীটা কতোটা নিষ্ঠুর তুমি জানো?কেন রেখে গেলে বলো তো।নিয়ে গেলে কি তোমার খুব বেশি ক্ষতি হতো?
এই পৃথিবীটা কতটা নিঃসংশয়, কতটা নির্দয়।তা তোমার মেয়ে উপলব্ধি করা শিখে গিয়েছে আম্মা। ভাগ্যেটা এতোটা নিষ্ঠুর কেন হলো মা আমার।
তুমি কি জানো?আমি কোথায় আছি?আমি যে তোমার জন্মভূমিতে মা।কিন্তুু আমার না নিজেকে অনূভুতি শূন্য মনে হয়,আমি আর পারছি না,নিজেকে সামলাতে।
আমায় শক্তি দাও মা।এ দিপ্তময় ধরণীর প্রাণকূলে টিকে থাকা যে বড্ড কঠিন।আমার একটা ঘর হলো না আম্মা,,একটা ঘর হলো না।আমি যে তোমার প্রতি ক্রোধ্যিতো।তুমিও অন্যয় করেছো।নিষ্ঠুর হয়েছো।আমায় একা ফেলে চলে গিয়েছো।এটা কি তোমার ভূল না??
আমার অস্তিত্ব আজ অভিশপ্ত যে।কলঙ্কিত।বড্ড পীড়াদায়ক। আমি দূর্বল নই আম্মা।তবে ভিতরের হৃদয়টা যে ছটফট করে,অশান্তি লাগে।নিজেকে সামলানো যে কঠিন হয়ে পড়ছে।
তুমিতো জানো সব।দেখতে পাও কি আমায়???তুমি বলবে আমায় কিসের শাস্তি দিচ্ছে দুনিয়া।একটা কুলষিত অপবিত্র বাঁধনে বাঁধা যে আমি।উপায় বলো মা আমার কি করা উচিৎ??আজ তোমার কাছে তোমার মেয়ের একটাই চাওয়া শক্তি দাও মা।শক্তি দাও।
আমার জন্মধাএী তোমার নাড়ীরটান যে আমি।নিশ্চয়ই তোমার মাঝে আমার বসবাস।জ্বালাতন হৃদয়টা একটু বিশ্রাম চায়।পাবো কি?? কলঙ্কিতো দেহটা বড্ড ক্লান্ত।
শক্তি দাও আম্মা।ভালোবাসি তোমায়।
.
.
.
|চলবে??|
৬০০০+ শব্দ হবে।আজকে সবাই রেসপন্স করবেন।যার সামনে পোস্ট টা পড়বে রেসপন্স করে যাবেন।গল্প পড়ার পড় একটা রিয়েক্ট দিতেও ভুলে যান আপনারা।
মনে রাখবেন এটা আমার আইডি পেইজ না।বাদ হয়ে গেলে গল্প কই পাবেন??।আশা করছি রেসপন্স করবেন সবাই।
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ৫
-
Love or hate গল্পের লিংক
-
Love or hate পর্ব ২৩
-
Love or hate পর্ব ৩
-
Love or hate পর্ব ৯
-
Love or hate পর্ব ১০
-
Love or hate পর্ব ২৪
-
Love or hate পর্ব ১২
-
Love or hate পর্ব ১৫
-
Love or hate পর্ব ২