Love_or_Hate
ইভেলিনা_তূর্জ
পর্ব_১২
🚫প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্তমনস্কদের জন্যে
❌কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ❌
পুরো ম্যানশনজুরে নিস্তব্ধতা, শুধু দূরের জানালায় বৃষ্টির শব্দ। করিডোরের লম্বা আলোটা আধো-অন্ধকার তৈরি করেছে।
রোজের অবচেতন মনে ইউভানকে স’পাটে চড় মেরে আতঙ্কে পিছিয়ে যায়। চ’ড়টা তীব্রভাবে ইউভানের বা গালে পড়েছে ঠিকি, ইউভান গালে হাত রেখে ধীরে ধীরে মুখ ঘুরিয়ে তাকায়।চোখে বিস্ফোরণ নিয়ে।রোজের মা-রা চড়াঘাত ইউভানের চোখে মুখে তার ছাপ না পড়লেও,উল্টো রোজের হাতেই পে’ইন হওয়া শুরু হয়ে যায়। রোজের ন’রম হাতে র’ক্ত জ’মাট বেঁধে লাল আভা ফুটে উঠে।ইউভানের শক্তপোক্ত গালে আঘাত করে রোজ নিজেই ব্যথা পেয়ে বসে আছে।ইউভান হঠাৎ ঝুঁকে এসে রোজের চিনে বাজপাখির মতো আঙুল বুলিয়ে ঠোঁটে বিদ্যুতের মতো ঝাঁপিয়ে পড়া একটা কা*মুড় বসিয়ে দেয়।রোজ ইউভানের শার্ট আঁকড়ে ধরে কেঁপে উঠে। ইউভানকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেয়।রোজ সরাতেই ইউভান পুনরায় রোজের নরম ওষ্ঠা’ধরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।রোজ জোরপূর্বক ইউভানকে নিজের থেকে আলাদা করে দৌড়াতে গেলে ইউভান রোজের চুল গোল করে নিজের হাতের মুঠোয় পেঁচাতে থাকে।চুলে টান পড়তেই রোজ উহু! করে উঠতেই ইউভান পিছন থেকে রোজকে নিজের শক্ত গ্রিবায় বন্দি করে রোজের ঘারের পাশে থুঁতনি রেখে কর্কশ গলায় ব’লে,
“ইউ ডুন্ট নো ব্লাডি ফো’ল্। ভাঙ্গা কাচের উপর হাত রাখলে যে হাত কে’টে যায়,ভাঙ্গা কাচ নয়!।”
ইউভান রোজের গলদেশে চাপ প্রয়োগ করে বাঁকা হেসে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফুঁ মে’রে ব’লে,
“এতো কিছুর পরও তোর তেজ কমে না কেনো?হুআই?আমায় ভয় পাস না! ওপেন ইউর মাউথ! “
ইউভান দাঁত পিষে চিৎকার করে উঠ,
বললললল!ভয় পাস নাকি না।
রোজের জিভ ভারী হয়ে আসে কোনো শব্দই বের হচ্ছে না তার।ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কান্না থামিয়ে মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থেকে ভাবতে থাকে।কখন যে গলাটা না টি’পে ধরে বসে শয়তানটা।রোজকে চুপ দেখে ইউভান নিজের শীতল হাত রোজের ট’পের ফাঁকে হাত ঢুকিয়ে উ’দর চেপে ধরে আরও জোরে আঁকড়ে ধরে।হাতের স্পর্শ সীমানালঙ্ঘন করতেই রোজ কুঁকড়ে গিয়ে দম ছেড়ে হাঁপিয়ে কাঁপা স্বরে বলে,
“দয়া করুন।পা…পাই ভয়।খুব ভয় হয়।আমার থেকে দূরে থাকুন। “
“তুই আমার গাল ছুঁয়েছিস তার বিনিময়ে আমি তোর ব’ডির কোন কোন প’য়েন্ট টাচ্ করে দিতে পারি।ইউ হে’ভ এ’নি আইডিয়া? “
“এসব করে আপনার কি লাভ হচ্ছে।”
“আমাকে কি তোর ফা*কার মনে হয়? রিক লাভ ল’সের আশা রাখে না।তবে এই যে তুই প্রতিমূহুর্তে যন্ত্রণায় ছটপট করতে থাকিস।এটাই আমার পি’স”
“আপনি একটা মানুষরূপি ডেবিল।”
ইউভান একটা পৈশাচিক হাসির রেখা টেনে রোজকে নিজের দিকে ঘুড়িয়ে দেয়।নিজের পায়ের উপর দাঁড় করিয়ে। সামনে ধীর পায়ে এগুতে থাকে। রোজের চুল ছেড়ে দিয়ে রক্তিম চোখে ব’লে,
“ন’ট অনলি ডেবিল।বাট অল’সো অ্যা ভ্যাম্পায়ার।চুল খুলে রাখবি না।না হলে যেকোনো সময় ঘাড় থেকে র’ক্ত চু’ষে নিতে পারি।”
রোজ সুযোগবুঝে ইউভানের থেকে দৌড় দিতেই কার্পেটের ওপর পা পিছলে প্রায় পড়ে যেতে নিবে ইউভানের তার ট্যা্টু করা লম্বা হাতখানা বাড়িয়ে কোমড় ধরে থামিয়ে দেয়।রোজ কাঁপা ঠোঁটে শব্দ উচ্চারণ করার আগেই ইউভান শক্ত হাতে রোজের কোমর চেপে ধরে টেনে নিয়ে যায় কিচেনের দিকে। আলো নিভে থাকা কিচেনটাতে শুধু ফ্রিজের নীল আলো। সেই আলো রোজের এর কাঁপা মুখে পড়তেই পুরো দৃশ্যটা ঠান্ডা অথচ বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।ইউভান রোজকে সাদা ক্যাবিনেটের ধারে নিয়ে দাঁড় করায়। রোজের পিঠ ঠেকে যায় ঠান্ডা কাঠে, দু’হাত অনিচ্ছায় পিছনে গুটিয়ে আসে।ইউভান দু’হাতে তাকে ঘিরে ফেলে।ইউভানের দৃষ্টি এতোটাই ভয়ানক দেখাচ্ছিলো যে রোজের কাছে ইউভানকে কোনো ইংলিশ মুভির লম্বা কোনো ডেবিল গো’স্ট মনে হতে থাকে।ঘৃণা আর ভয় মিশ্রিত নয়নে দৃষ্টি সরিয়ে নিঃশ্বাস আটকে কেঁদে উঠে। খুব জোরে চিৎকার করতে মন চা্চ্ছে তবে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে কোন আওয়াজ বের হচ্ছে না রোজের।ইউভান কি করতে চাইছে।ইউভান কি মারবে তাকে।ব্যথা দিবে।নাকি নিজের নোংরা স্পর্শ দিয়ে যন্ত্রণা দিবে ভেবে ভেবে রোজের গাঁ গুলিয়ে উঠে।
ইউভানের এর মুখ ধীরে ধীরে রোজের কান ঘেঁষে আসে, তার উষ্ণ নিঃশ্বাসে রোজ এক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করে ফেলে।ইউভানের আঙুল আলতো করে রোজের থুতনিতে ছোঁয়া দিতেই তার বুকের ভেতর কেঁপে ওঠা একটা শ্বাস আটকে যায়। নীল অন্ধকার রান্নাঘরে ইউভানের চোখে হিংস্র রাগ, রোজের শ্বাসরুদ্ধকর ভয়, আর তাদের মাঝে জমে ওঠে ডার্ক আকর্ষণ।ইউভানের মন বলতে কিছু নেই।,বুকের বাঁ পাশে যে বস্তুটা অনবরত উঠানামা করে তা নিতান্তই একটা হৃদযন্ত্র তার কাছে। ইউভান যতটুকু জোর খাটায় সবটাতে থাকে হিংস্রতার আর রোজকে যন্ত্রণা দেয়ার সংমিশ্রতা।
হঠাৎ ধীরে ধীরে রোজের মুখের কাছে ঝুঁকতেই রোজ কেঁপে উঠে দেখে ইউভানের হাতে মশ্রিন সিলভার প্যাকেট।রোজ ভয়ে শুকনো ঢুক গিলে নেয়।ইউভান প্যাকেটটা দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে নিতেই রোজের কলিজা ছ্যাৎ করে উঠে।
-আপনি…এটা কী বের করেছেন।?
ইউভান কোনো জবাব না দিয়েই রোজের পিছনে হাত দিয়ে কেবিনেটের উপরে রাখা একটা লাল বো’লে রাখা চা’ইনিজ রে’মেনের উপর মশলা ঢালতে থাকে।ইউভান ঘার এপাশ ওপাশ করে রোজকে ভয়ে কুঁকড়ে যেতে দেখে শকুনদৃষ্টি ফেলে তাচ্ছিল্যে করে বাঁকা হেসে বলে,
-Cravings & i am Hungry!By the way,Dark!Rick also fu*ck your Dirty mind ..
বাক্যে শেষ করতে না করতেই ইউভান রোজকে ধাক্কা মেরে ফ্লোরে ফেলে দেয়। ইউভান সোজা রে’মেনের বো’ল থেকে চ’পস্টিক দিয়ে তা খেতে শুরু করে ডাইনিং স্পেসের দিকে পাঁ বাড়ায়।রোজ যে ফ্লোরে পড়ে আঘাত পেয়েছে।রোজ তা ভুলে বড় বড় শ্বাস টানতে থাকে।ইউভান থেকে ছাড়া পেয়ে একটা তীব্র প্রশান্তি খুঁজে পায়।নগন্য সময়টুকু যেনো তার কাছে হাজার বছর মনে হলো।মনে হলো হঠাৎ করে সাগর বেয়ে সুনামি ধেয়ে এসে তার দিক পরিবর্তন করেছে।আবার নিজে নিজের গালে দুটো চড় বসিয়ে দেয়।রোজ কি-না কি ভেবে বসে ছিলো।ছিহ!…রোজ উঁকি মারলো ইউভানের দিকে।কেউ এভাবে কি করে খেতে পারে।লোকটা যেমন অদ্ভুত তার খাওয়ার স্টাইল আরও অদ্ভুত। রোজ দেয়াল ধরে উঠে দাঁড়িয়ে পরে।ইউভান এক মনে হঠাৎ কেমন ল্যাপটপ খুলে বসে তাতে গভীর মনোযোগ দিয়ে বসে বসে রে’মেন খেয়ে যাচ্ছে।মানে মূহুর্তেই!। তাতে রোজের কি আসে যায়।রোজ গুটিগুটি পায়ে নিজের রুমের দিকে পাঁ বাড়ায়। পিছনে ফিরে তাকায় ও না।গিয়ে কোনো মতে ডোরের পাসওয়ার্ড টিপে হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। তবে বোকা মেয়ে টের ও পায় না।এক জোড়া শকুন চোখ যে এতোক্ষণ তার দিকেই দৃষ্টি ফেলে রেখেছিলো।তার ব’ডির মু’ভমেন্ট কান-ডাউন করতে থাকে।
পরদিন সকালটা অস্বাভাবিক নিরব। ম্যানশনের ভেতর আলো জ্বলে উঠলেও পরিবেশটা যেন একটু ভারী মনে হতে থাকে। রোজ অতল ঘুমে তলিয়ে বিছানায় পড়ে আছে বালিশে মুখ গুজে। পড়নের টপ স্কার্টের নাজেহাল অবস্থা। এলোমেলো হয়ে শরীর উ’ন্মুক্ত হয়ে সরে আছে।সব মিলিয়ে মুখটা ফ্যাকাসে। চুলগুলোও এলোমেলো।মাথাটাও এখন আঁচড়ায় না।ওরকম সাজ সোজ্জার মন মানসিকতা কিছুই যে নেই তার।গলার কাছে এখনও হালকা থরথর ভাব স্পষ্ট। ম্যানশনের অভিজাত নরম কার্পেটের উপর দিয়ে
লিসা প্রায় দৌড়ে এসে রোজকে একপ্রকার ঠেলে জাগ্রত করতে থাকে।
-রোজ! ওঠো,ওঠো, চলো! তোমাকে কিছু দেখাতে হবে!”
রোজের শরীর কিছুটা নড়ে উঠলেও রোজ চোখ মেলে তাকালো না।ঘুমের ঘোরে গোঙিয়ে উঠলো।লিসা অনবরত রোজকে ঠেলতেই লাগলো।বিরক্ত হয়ে রোজ নিভু নিভু চোখে লিসার দিকে তাকালো।হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুখের লা’লা মুছে উঠে বসে ব’লে,
-উহু!কি! কোথায় যাবো।কি দেখার কথা বলছো লিসা আপু।”
লিসা কোনো কিছুর ব্যাখ্যা না দিয়ে রোজের হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে থাকে।
-চলো বলছি!না সরি দেখাচ্ছি।চলো। চলো।
দু’জনে গিয়ে থামে ম্যানশনের বিশাল সামনের দরজার কাছে।রোজ বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে দেখে,সেখানে মার্বেল ফ্লোরের উপর রাখা-
একটা বিশাল, বর্গাকৃতির, ক্রিম-সাদা বক্স, লাল ফিতেয় বাঁধা।ফিতের মাঝখানে মোটা অক্ষরে লেখা।
“RED ROSE”
রোজের চোখ স্থির হয়ে যায়।রেড রোজ আবার কে।আর লিসা কেনো তাকে এখানে নিয়ে এলো।এই বক্স কার সে কি করে জানবে এ, বাড়ির কারোর হবে হয়তোবা। রোজ লিসার দিকে ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে
-“এটা কার? “
-কে রেখেছে জানি না। কিন্তু বক্সে তোমার নামি তো লেখা! ভাবলাম, তোমার জন্যই।
“আমার কেনো হতে যাবে আজব।আর আমার নাম কবে রেড রোজ হলো।আমার না।”
রোজের কথায় লিসা মাথা চুলকালো।ঠিকি তো রোজের নাম তো এটা না।কিন্তুু তাও লিসার মন খচখচ করতে লাগলো।রোজকে উ’ত্তেজনা বশে কি আছে ভিতরে দেখার জন্যে জোর করতে লাগলো।
-“একবার খোলে তো দেখো।রেড রোজ না হউক রোজ তো নাকি।বক্সটা খুলে দেখো।আমি সিউর এটা তোমার।”
-“তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছো?এখানে আমার কেউ নেই যে আমাকে ব্ক্স পাঠাবে।ডেনমার্কে আমার সুপরিচিত কোনো ব্যক্তি থাকে না।কার না কার জিনিস আমি খুলতে পারবো না।তুমি বরং তোমাদের স্যারের ঘরেই দিয়ে আসো।ওনার হবে হয়তোবা।শুধু শুধু আমার বিপদ বাড়িও না আপু।”
রোজের পায়ের নিচের কার্পেটটা যেন নরম হয়ে যাচ্ছে।আবার যেন ভয় জমাট বাঁধছে বুকের ভেতর।লিসা কোনো কিছু না ভেবে উৎসাহ নিয়ে ফিতেটা খুলে দেয়,
-“আমিই খুলছি।”
-“আরে আপু কি করছো!”
বক্সটা বেশ্ বড়সর নিশ্চয়ই বড়সর কিছুই আছে তাতে। অধৈর্য লিসা বক্সের ঢাকনা তুলতেই সুগন্ধির ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে পুরো দরজার অংশে।রোজের নাশারন্দ্রে ঘ্রান পৌঁছাতে রোজ বক্সের দিকে দৃষ্টি ফেলে দেখে,
ভেতরটা ভর্তি,
একশো একটা লাল গোলাপে।এতো গুলো গোলাপ গুনা পসিবল না ব’লে গোলাপের তোড়ার উপর ওয়ান জিরো ওয়ান বসানো।মানে এখানে পুরো একশত একটা লাল তাজা গোলাপই রাখা।তার পাশে রাখা, “Raffaello” চকলেটের একটা বড় বক্স।সাদা গোলাপি রঙের প্যাকেট আলোয় হালকা ঝলমল করছিলো।সবচেয়ে উপরে ছোট ভাঁজ করা একটি সাদা কাগজ
একটা চিরকুট।
রোজ চোখ সরু করে টানা ভ্রু উঁচিয়ে ধীরে ধীরে সেটা হাতে তোলে।হাতটা খুব স্পষ্টভাবে কাঁপছে।
চিরকুটে শুধু দুইটি শব্দ লিখা।
-“RED ROSE”
আর কোনো নাম নেই।
কোনো ঠিকানা নেই।
কিছুই নেই।যেন কেউ ইচ্ছে করেই তার পরিচয় লুকিয়েছেন।
রোজের গলা শুকিয়ে যায়।পুরো শরীর ঘেমে উঠে। চোখ বড় বড় হয়ে ওঠে।হঠাৎ হাত থেকে কিছু গোলাপ নিচে পড়ে যায়।মেঝেতে ফুলের মৃদু শব্দ হয়।কিন্তু রোজের সেই শব্দও শুনতে পায় না।কারণ তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে।তার নিজের শেষ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট।হ্যাঁ গত মাসের লাস্ট পোস্ট।
কোনো একটা ফ’রেনার মেয়ের হাতে ধরাছিলো একশো একটা রেডরোজ।আর পাশে ছিল Raffaello চকলেট বক্স।রোজ সেটাই সে’ইভ করে পোস্ট করেছিলো নিজের একাউন্টে ক্যাপশনে লিখেছিলো।
-“I wish a prince gifted me this! uhhh!So sweet”
ঠিক একই জিনিস!
হুবহু একই!
সংখ্যা পর্যন্ত।
রং পর্যন্ত।
চকলেট পর্যন্ত।
রোজএর বুক হঠাৎ জমে যায়।গা শিরশির করতে থাকে।নিজের মনকে বোঝাতে থাকে নিশ্চয়ই এটা কাকতালীয়। এটা তার না।তার হওয়ার প্রশ্নই আসে না।রোজ অবচেতন মবে বিড়বিড় করতে থাকে। এক অদ্ভুত স্রোত তার মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে যায়।তার ঠোঁট ফাঁকা হয়ে যায়, চোখ স্থির।এতটা কাকতালীয় হতে পারে? কেউ তার সোশ্যাল মিডিয়ার পুরোনো পোস্ট।একেবারে হুবহু নকল করে পাঠিয়েছে।এটা কি করে পসিবল। রোজ আস্তে আস্তে পিছিয়ে যায়,
হাতে একটা লাল গোলাপ যেটা লিসা তোড়া থেকে তুলে তাকে দিয়েছে।লিসা আশ্চর্য নয়নে রোজকে দেখছে।বক্সটা খোলার আগ পর্যন্তও রোজ কনফার্ম ছিলো এটা তার হতেই পারে না।তবে এসব দেখার পর রোজের মুখের রিয়্যাকশন এমন উল্টো হওয়ার কারণ বুঝতে পারলো না।যদি এটা সত্যিই রোজের হয়ে থাকে।হবে কি লিসা বুঝতে পারলো। এটা রোজের জন্যেই।কে পাঠিয়েছে তা ভাবার সময় এখন না।এগুলো এখানে থাকলে যে কোনো রণক্ষেত্র শুরু হতে পারে তা ভেবে লিসার মনটা ছ্যাৎ করে উঠে।বাহিরের দু’জন কালো পোশাকধারী গার্ডদের দেখে হাসলো।যেনো সন্দেহ না করে।লিসা ভঙ্গিমা পরিবর্তন করে বক্সটা আপাতত উঠিয়ে নিজের রুমে নিয়ে যেতে থাকলো।লিসার হাতে এতো ফুল দেখে মুনা চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে লিসাকে থামিয়ে দেয়।
-“কি রে।এসব কি তোর হাতে কে দিয়েছে। “
-“আস্তে বল।জানিনা। আমার মনে হয় এগুলো রোজের। কিন্তুু মেয়েটাকে এসব কে পাঠাবে ভাই।ইউভান স্যার দেখলে যদি মারে রোজকে।যদি ঝামেলা করে তাই নিয়ে এলাম।জানিস এগুলো দেখে মেয়েটার মুখটা না কেমন শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। খুব মায়া হয় আমার”
-“আরে তুই কি গাধাঁ এগুলো তো এ বাড়ির কারোর ও হতে পারে। রাহা ম্যাম এর।”
লিসা কিছুটা চিন্তায় পড়ে গেলো।একটু ভেবে বললো।
“যদি হয় তাহলে তো ভালো।ম্যাম বললে।বলবো।আপনি ঘুমিয়ে ছিলেন তাই নিয়ে আমার কাছে রেখেছি।বেশ।”
মোনা বিরক্ত নিয়ে ব’লে উঠে।
“কেনো যে ঝামেলা বাড়াতে চাইছিস কে জানে।”
লিসার মুখটা মুহূর্তেই চুপসে যায়।
রোজ অনমনে ডাইনিং স্পেসের বড় টেবিলটার কাছে এসে ঢকঢক করে পানি গিলতে থাকে। শীত তার উপরে এসির বাতাস তাও কেমন ঘেমে ঘেমে যাচ্ছে।মনে মনে কি সব যেনো বিড়বিড় করতে থাকে। বারবার কেনো যে রোজের সাথে বিভীষিকাময় ঘটনা ঘটে কে জানে।কোনো একদিন যদি ঘুম থেকে উঠে দেখতে পেতো যা হচ্ছে সব দুঃস্বপ্ন। রোজ নিজেকে পৃথিবীর সব থেকে ভাগ্যবতী মনে করতো।রোজ এটা ইয়া বড় দীর্ঘশ্বাস টেনে ব’ডি টপের উপরের দুটো গুতোম লাগাতে যাবে পিছন ফিরতেই দেখে স্বয়ং দ্যা ডেবিল ইউভান চোয়াল শক্ত করে ভ্রু কুচকিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।রোজ মাত্রই পানি খেলো।ইউভানকে দেখে মনে হচ্ছে পানি গুলো বুঝি বাষ্প হয়ে শরীর ত্যাগ করে ভিতটা আবার শুকিয়ে কাঠ করে দিয়েছে।রোজ কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে ব’লে,
-“কি সমস্যা! “
ইউভান ঘাড় কাত করে রোজকে দেখতে থাকে। চুলগুলো কেমন উসকো খুসকো হয়ে কপালে পড়ে আছে ইউভানের।নাইট কটিটাও অর্ধ খোলা।তবে ইউভানের দৃষ্টি পুরোপুরি রোজের খোলা বাটনের ব’ক্ষদেশের পানে।কেমন যেনো এলোমেলো হয়ে সব কিছু তার চোখের সামনে ভাসমান হয়ে আছে।ইউভানের পুরুষ’সত্তা হানা দেয়।খুব করে যেনো বলছে রোজকে একটু গভীর ভাবে ছুঁয়ে দিতে।ইউভান রোজের দিকে ঝুঁকে পরতেই মুহূর্তেই তার দৃষ্টি রোজের হাতের গোলাপের দিকে গেলো।ইউভান রোজকে টেবিলের পাশে আটকে ধরে, রোজে হাতে নিজের তর্জনী স্পর্শ করো তা ধীরে ধীরে নিচে নামাতে থাকে। রোজ ভরকে উঠে সরে যেতে নিলে ইউভান রোজের হাতের মুঠো নিজের মুঠোতে নিয়ে নেয়।রোজ অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে উঠে।হাতে থাকা গোলাপের কাটা হাতের তালুতে গেঁথে র’ক্ত করতে শুরু করে। রোজ চোখ মুখ খিচে আহ! করে উঠে।
ইউভান রোজের হাত ছেড়ে দিতেই গোলাপ র’ক্তাক্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে।ইউভান রোজের পিছন থেকে একটা কাঁচের গ্লাস তুলে চেয়ারে আঘাত করলো।রোজ র’ক্ত মাখা কাঁপা হাতজোড়া দিয়ে ভয়ে কেঁদে উঠে মাথায় চেপে ধরলো।ইউভান অর্ধ ভাঙ্গা কাঁচের গ্লাসটা রোজের গলায় ধরলো।টেবিলে এক হাতে জোরে আঘাত করে চিল্লিয়ে উঠে উচ্চশব্দে।
“কু’ত্তার বাচ্চা।মেরে দি?…. “
রোজ কাঁপা গলায় উত্তর দেয়।ইউভানের মুখের দিকে তাকানোরও সাহস হলো না রোজের
“কি করেছি আমি?”
ইউভানের এতো জোরে চিৎকার করে বসলো যে পুরো ম্যানশনে তা প্রতিধ্বনি হলো।ইউভানের চিলল্লানোর শব্দে মিসেস এ্যাশ উপরের করিডর এসে ইউভানকে রোজের গলায় গ্লাস ভাঙ্গা ধরে রাখতে দেখতে পেলো।তিনি উপর থেকেই ইউভানকে ডেকে নিচে নামতে থাকে।
-“রিকককক!”
ইউভান রোজকে ছেড়ে দেয়।মিসেস এ্যাশ নেমেই ইউভানের উপর ক্ষ্যাপা গলায় ব’লে,
“-কি সমস্যা তোমার?”
-“নাথিং।কোনো সমস্যা নেই”
ইউভান হাতের গ্লাসটা দেয়ালের দিকে ছুড়ে মেরে হনহনিয়ে সিঁড়ি বেয়ে চলে যেতে থাকে।মিসেস এ্যাশ নিজের চোখের সোনালী ফ্রেমের চশমাটা এক হাতে ঠিক করে ঘাড় ঘুড়িয়ে ইউভানের দিকে তাকায়। তারপর রোজের দিকে দৃষ্টি ফেলে দেখে রোজ গুটিয়ে আছে।কেঁদে চলেছে।মেয়েটা ভীষণ ভয় পেয়ে আছে।মিসেস এ্যাশ সামনে এগিয়ে রোজের হাত ধরে ব’লে,
-“কি করেছো তুমি”
রোজ নাকটানার কারণে ঠিকমতো যে জবাব দিবে তাও পারলো না।মিসেস এ্যাশ মোনাকে ডেকে আনলেন।মোনা আসতেই তিনি মোনাকে আদেশ ছুড়ে দিলেন।
-“রোজকে নিয়ে স্পা রুমে এসো।লিসাকে বলো রাহাকে ডেকে নিয়ে আসতে।”
মিসেস এ্যাশ করিডর দিয়ে সেদিকেই হাঁটা দিতে থাকে। মোনা এগিয়ে গিয়ে রোজের কাটা হাত দেখে কিছুটা মন খারাপ করলো।যেহেতু এ্যাশ ম্যাম আদেশ করেছেন সেহেতু তার কথা মানতে হবে।রোজের হাত ধরে স্পা রুমের উদ্দেশ্য যেতে নিলে রোজ চোখের জল মুছে ব’লে,
“কো..কোথায় নিয়ে যাচ্ছো? “
“মিড নাইট পার্টি আছে।শুনো নি?রেডি হতে হবে, সেখানেই নিয়ে যাচ্ছি।”
“পার্টি? “
“হুম।মিডনাইট প্যাক্ট গালা। বিজ’নেস পার্টি।……
.
.
(চলবে)
[২৬০০+ শব্দ সংখ্যা। সবাই অবশ্যই রেসপন্স করবেন। রেসপন্সের উপর ভিত্তি করে গল্প এগোবে। ]
নোটঃ🚩ইউভান যে ভিলেন সেটা আমি আগেও বলে দিয়েছি(মেইন লিডও)। রেড ফ্ল্যাগ।And extreme level এর সাইকো।তার কাছ থেকে ভালো কিছু আপাতত এর জন্যে আশা করবেন না।
⛔ডার্ক থ্রিলার, সাইকো রোমান্সযুক্ত গল্পতে অনেক কিছুই থাকবে যা সবার রুচিসম্মত নাও হতে পারে।তাই অনুরোধপূর্বক যাদের ভালো লাগবে না এখানেই স্টপ করুন।বাকিরা নিজ দায়িত্বে পড়বেন।
লাস্ট -❌Triggers warning ❌
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ৩
-
Love or hate গল্পের লিংক
-
Love or hate পর্ব ১৮
-
Love or hate পর্ব ১০
-
Love or hate পর্ব ২৬
-
Love or hate পর্ব ১৫
-
Love or hate পর্ব ১৬
-
love or hate পর্ব ১
-
Love or hate পর্ব ১৪
-
Love or hate পর্ব ৮