Love_or_Hate
|#পর্ব_২৯|
ইভেলিনা_তূর্জ
⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে
রোজ সুরঙ্গ পথ ধরে উপরে উঠে এলো।এতোক্ষণ দম্ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো তার।পশুর আস্তানা থেকে বের হয়ে একটা প্রশান্তির শ্বাস টানলো মেয়েটা।ইচ্ছে মতো নিজের ঠোঁট ঘষতে ঘষতে হেঁটে চললো লাইব্রেরি রুম থেকে।কি বিচ্ছিরি লাগছে তার অন্তরটা।কেন ছুঁতে গেলো পাশবিক লোকটাকে।কি দরকার ছিলো।রাগের বশে হউক তা যেভাবেই হউক না কেনো ছুঁয়ে তো ফেলেছে,লোকটার গলদেশ তার ঠোঁটের স্পর্শ কেন লাগাতে গেলো।লোকটা যে অনূভুতিশূন্য তা কি রোজ ভুলে গিয়েছে? এমন দাম্ভিক পুরুষের কি ব্যথা আছে।না নেই। কথাগুলো এক নাগাড়ে ভেবে ভেবেই হায় হোতাশের সীমা রইলো না মেয়েটার।
রোজের মাথায় ইউভানের সেই কথাগুলো মৌমাছির মতো হুল ফোটাচ্ছে। তাকে না জানিয়েই কি কাবিননামায় তাকে দিয়ে সই করিয়ে নিয়েছিলো? যদি হয়েও থাকে তাহলে সে এসব জানলো না কেন।এতো ঘৃণা এতো অত্যচার কিসের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছিলো তাকে!সুস্থ মানুষ কখনো অপর একটা মানুষকে এতো যন্ত্রণা দিতে পারে?? আর তার বাবা তো ইউভান থেকেও আরও জঘন্য নিজের মেয়ের সাথে এমন কি করে করতে পারলো।তিনি কি জানতেন না রোজ কষ্ট সহ্য করতে পারে না।বুকে ব্যথা শুরু হয়।প্যানিক করে। একটু কাঁদলে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।জানতেন তো তাহলে জানার পরও এমন একটা জানোয়ারের সাথে বিয়ে কেন দিলেন, লুকিয়ে তার কাছ থেকে সাইন কেন নিয়েছিলেন।সম্পত্তি বাঁচাতে?এসবের জবাব চাই রোজের,কড়া জবাব চাই।এতো লোভ লালসা নিয়ে মানুষগুলো বেঁচে থাকবে কি করে।নাকি এরা নিজেদের অমর মনে করে।মৃত্যুঞ্জয় তারা??মরবে না কখনো? মানুষ কী করে নিজের রক্তকে এমন নরকের মুখে ঠেলে দিতে পারে? এসব ভাবতেই রোজের ভেতরটা ছিঁড়ে যাচ্ছে।
হতাশা আর ক্ষোভের সংমিশ্রণে রোজের হিতাহিত জ্ঞান লুপ্ত প্রায়। তার কড়া জবাব চাই। এই লুকোচুরির শেষ দেখতে চায় সে। টলমল পায়ে হেঁটে সে বিশাল হলরুমের মাঝখানে এসে দাঁড়ালো।কর্ণারে সেগুন কাঠের টেবিলের ওপর রাখা ল্যান্ডফোনটা দিকে তার স্থির দৃষ্টি। কাঁপানো আঙুলে সে বাংলাদেশের কান্ট্রি কোড চেপে বাবার পরিচিত নম্বরটি ডায়াল করতে শুরু করল।যদিও ফরেস্ট লাইনের ডার্ক ইউভি এম্পায়ারের আশেপাশে মোবাইলের নেটওয়ার্ক জ্যাম করা তাও তারযুক্ত ল্যান্ডলাইনে কল রিং হলো।
ল্যান্ডফোনের প্রতিটি রিং রোজের হৃৎপিণ্ডে যেনো হাতুড়ির ঘা দিচ্ছিলো। আজ কতোটা দিন পর বাবার সাথে কথা হবে তার।দীর্ঘ অপেক্ষার পর ওপাশ থেকে যখন সেই পরিচিত বিষাক্ত কন্ঠটা ভেসে আসে তৎক্ষনাৎ রোজ ভেঙ্গে না পড়ে গলা শক্ত রাখে।
সেই বিষাক্ত কণ্ঠস্বর
”হ্যালো, কে বলছো?”
অনেকদিন পর এই শব্দগুলো কানে আসতেই রোজের ঘৃণা আর কষ্টের বাঁধ ভেঙে গেলো। তার মনে হলো, এক জোড়া অদৃশ্য হাত তার গলা টিপে ধরছে।
রোজ কাঁপা গলায় কোনোমতে উচ্চারণ করলো, “আমি… আমি রোজ।”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ডের এক পৈশাচিক নিস্তব্ধতা। তারপর বাবার নির্লিপ্ত উত্তর ভেসে এলো, “ওহ্, তুমি! হঠাৎ কেন?কোন অসুবিধা?? “
“অসুবিধা? হাহ!হাউ ফানি!….আপনি কি এই শব্দটার মানে জানেন? একটা জন্তুর খাঁচায় অবলা প্রাণীকে ছুঁড়ে দিয়ে আপনি জানতে চাইছেন তার অসুবিধা হচ্ছে কি না? আপনি কি একবারও ভাবেননি আপনার এই জেদ আর সম্পত্তির লালসা আপনার মেয়ের জ্যান্ত কবর খুঁড়ছে?”
ওপাশ থেকে কোনো শব্দ আসে না।রোজ বিরক্ত হয়ে পুনঃরায় আবার বলতে শুরু করলো।
“আমি কতো বোকা দেখুন!…কোনো কিছুইমনে করতে পারি না।……সেদিন মধ্যরাতে আপনি
ল্যাম্পলাইটের আবছা আলোয় ওই কয়েকটা কাগজ নিয়ে আমার রুমে এসেছিলেন, বলেছিলেন ওগুলো ব্যবসার জরুরি দলিল,,,তা সেগুলি কি দলিল ছিলো নাকি ফাঁসির দঁড়ি???সেদিন কি আপনার হাত একবারও কাঁপেনি? আপনি তো জানতেন আপনার এই মেয়েটা তার বাবাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আপনি আমাকে দলিলে সই করানোর নামে আসলে আমার মৃত্যু পরোয়ানায় সই করিয়ে নিয়েছিলেন, তাই না?কাবিন নামা ছিলো????ঠিক আছে করিয়েছিলেন ভালো কথা লুকোলেন কেন??”
দেখো রোজ, পরিস্থিতি তখন এমন ছিল যে আমাকে…..
মূহূর্তেই রোজ কথা কেড়ে নিলো।
“পরিস্থিতি? কিসের পরিস্থিতি? আপনার লালসা মেটানোর জন্য আমাকে বলি দেওয়াটা কি খুব জরুরি ছিলো? আপনি কি জানতেন না, যে লোকটার সাথে আপনি গোপনে আমার কাবিননামা চূড়ান্ত করেছেন, সে কোনো মানুষ নয়।এক অমানুষিক নিষ্ঠুরতার প্রতিমূর্তি?মাফিয়া সে, শুধু সে না তার পুরো বংশ।একজন পাপিষ্ঠ বংশের পাপিষ্ঠ, তাদের রক্তে,খু*ন,নির্মমতা, অপরাধ মিশে আছে ।এমন কুলষিত জায়গায় কোনো স্বাভাবিক মেয়ে এমন স্বামীর কাছে থাকতে পারে?? শুধু টাকা দিয়ে ভালো থাকা যায়?আমি একটা সুন্দর পরিবার পাবো না।মানসিক শান্তি কাকে বলে তা বুঝতে পারবো না!…আপনি কি জানতেন না??ইউভান রিক চৌধুরী যে মূলত রিক আলবার্ট?? খোঁজ নিয়েছিলেন?? নাকি শুধু টাকার কাছে নিজের মেয়েকে বেঁচে দিলেন??? শুধু কয়েকটা কাগজে দলিলে নিজের নাম আর ব্যবসা বাঁচাতে?”
“যথেষ্ট হয়েছে রোজ! আমি তোমার পিতা, আমাকে নীতিবাক্য শোনানোর স্পর্ধা দেখিও না”
ইতিমধ্যে রোজের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গিয়েছে, কথা বলা জোরটুকু আর পাচ্ছে না। তবুও,,, বলল
”আপনি ভাবছেন এই সম্পদ আপনাকে অমর করবে? আপনি কি মনে করেন মৃত্যু আপনাকে ছোঁবে না???আল্লাহ কাছে কি জবাব দিবেন??!”—রোজের খুব ইচ্ছে করলো মুখ ফুটে বলতে যে সে হারিয়েছে আপন সত্তা, শত হলেও নাঁড়িরটান যে, রক্তেমিস্রিত প্রাণ।কোনো নারীর তার স্বামীর উপর রাগ করে গর্ভের সন্তান মেরে ফেলতে পারে না।সেও পাড়তো না,তবে এই হতভাগীর করুণ পরিণতির কথা যে জন্মদাতাকে বলবে সেটারও রুচিবোধ হলো না তার।একটা বিশ্বাসের ঘর দরকার যেখানে মাথা রেখে সব কষ্ট উজার করা যেতো।কিন্তু সেই উপায় আছে??
যাক গেঁ রোজ কোনোমতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে শান্ত মস্তিষ্কের নিজের বাবাকে অপমান করে বসলো।
“আচ্ছা শুনুন ইমরান চৌধুরী, গুরুত্বপূর্ণ কথা, ইউভান রিক চৌধুরী আপনার ওই তথাকথিত তূর্য হাউস’টা যে কিনে নিয়েছিলেন।আপনার সেই গুণধর জামাতা বাড়িটা কিনে শুধু ক্ষান্ত হননি, সেটি নাকি তিনি আমার নামে লিখে দিয়েছেন। তার মানে বোঝেন ইমরান চৌধুরী? যে বাড়িতে আপনি আর আপনার থার্ড ক্লাস স্ত্রী এখন আয়েশ করছেন, সেই ছাদটার মালিকানা এখন এই রোজের!”
রোজ রিসিভারের তারটা আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাত বলতে লাগলো–
”তাই শুনুন, আজ থেকে বাড়ির মালিক হিসেবে আমার দাবিটা পরিষ্কার জানিয়ে রাখছি। আগামী মাস থেকে ঠিক সময়মতো বাড়ি ভাড়াটা পাঠিয়ে দিবেন। মনে রাখবেন, আমার বাড়িতে আপনার আর আপনার সুগার ড্যাডি লাভার স্ত্রীর থাকার মাশুল আমি এক পয়সাও ছাড় দেব না। আমার পাওনা আমি আদায় করেই ছাড়বো। আপনি তো আমাকে পণ্যের মতো বিক্রি করেছিলেন, এখন থেকে নিজের ঘরে থাকার জন্য আমাকে সেই বিক্রয়মূল্যের সুদ গুনে দেবেন। বলা যেন আর না লাগে,,,ভাড়াটা যেন সময়মতো পৌঁছে যায়।রাতে একটু কম করে মদ খাবেন,,,বুঝতেই পারছেন আপনার স্ত্রী আবার রোগা পাতলা।”
কথাগুলো শেষ করে আর নিজের বাবাকে বলার সুযোগ প্রদান না করেই ঠক করে রিসিভারটা নামিয়ে রাখলো রোজ।কিন্তু ইউভান পেছনের দেয়ালে হেলান দিয়ে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে সবটুকু দৃশ্য অবলোকন করছিলো।রোজের কণ্ঠের সেই কৃত্রিম কাঠিন্য আর বিদ্রূপের আড়ালে যে এক সমুদ্র হাহাকার লুকিয়ে ছিলো তা ইউভানের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এড়ায়নি। কলটা কেটে দেওয়ার সাথে সাথেই রোজের সেই তাসের ঘরের মতো সাজানো শক্ত খোলসটা ভেঙে চুরমার করে দিয়ে সে কান্নায় ভেঙে পড়লো। পাশের টিস্যু বক্স থেকে একগুচ্ছ টিস্যু নিয়ে আপন মনেই ছিঁড়তে শুরু করলো।
ইউভান আর স্থির থাকতে পারলো না। দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে এক হ্যাঁচকা টানে রোজকে ঘুরিয়ে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করালো সে। রোজের বিধ্বস্ত মুখ আর চোখের জল দেখে ইউভানের ভেতরের সেই পৈশাচিক সত্তাটা যেন গর্জে উঠলো। সে রোজের কাঁধ দুটো শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল—
“এই কুত্তার বাচ্চা, জানোয়ারের বাচ্চা,শালী বান্দীর ঘরে বান্দী, কাঁদছিস কেনো? তোকে বলিনি আমি ছাড়া অন্য কারো জন্য তোর চোখের জল ফেলা নিষেধ?নিষেধ মানে নিষেধ,টু’টালি ফাকিং,কাঁদা বন্ধ কর। কোনো শুয়োরও ঐ চোখে জল ফেলার ক্ষমতা রাখে না।আমি ছাড়া। এই নোনা জলগুলো কেবল আমারই প্রাপ্য, অন্য কারো জন্য এর এক ফোঁটাও অপচয় করার অধিকার তোকে কে দিয়েছে?”
রোজের থরথর করে কাঁপতে থাকা শরীরটা নিজের দিকে আরও জোরে টেনে নিয়ে ইউভান তার তপ্ত নিঃশ্বাস রোজের কপালে ছেড়ে হিসহিসিয়ে বলল—-
”শালি বান্দী,নাটক চোদাস! কান্না বন্ধ কর বলছি! আমি থাকতে তুই অন্য কারো দেওয়া কষ্টে কাঁদবি, এত বড় স্পর্ধা তোর? তোকে আমি এখনি জ্যান্ত পুঁতে ফেলবো!”—ইউভান রোজের ফুলো ফুলো রক্তিম আভার লাভ সে’ইপের ঠোঁট জোড়া তর্জুনী দিয়ে চেপে ধরলো। –চুপ! চুপ! চুপ! ইউভানের চোখের সেই রক্তিম আভা দেখে রোজের কান্নার বেগ ভয়ের চোটে স্তব্ধ হয়ে গেলো। সে বুঝতে পারল, এই প্রাসাদে তার দুঃখ প্রকাশের স্বাধীনতাটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে,এ যে ভয়ংকর মারণনেশা।ইউভান কেমন যেনো করছে, কিছুক্ষণ শ্বাস-প্রশ্বাস বাড়িয়ে রোজকে টেনে এম্পায়ারের বাহিরে নিতে থাকলো।ইউভানের শক্ত হাতের মুঠোয় রোজের কব্জিটা যেন গুঁড়ো হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এম্পায়ারের পেছনের জঙ্গলঘেঁষা অংশটা অমাবস্যার অন্ধকারের মতো কালো। সেখানে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাপিয়ে এখন কেবল ইউভানের ঘনঘন শ্বাসপ্রশ্বাস আর বরফ ছাঁপিয়ে মাটি কোপানোর ধপাস ধপাস শব্দ শোনা যাচ্ছে। সে রোজকে একটা বড় পাইন গাছের নিচে ধাক্কা দিয়ে দাঁড় করিয়ে পাশেই পড়ে থাকা বাগানের কাজে ব্যবহৃত একটা ভারী ও ধারালো শোভেল (Shovel) হাতে তুলে নিলো। ইউভানের বুকের ক্ষতটা হয়তো আবার ফেঁটে গেছে, টানাপড়েনে সাদা শার্টের ওপর দিয়ে তাজা রক্তের লাল ছোপ ফুটে উঠছে, কিন্তু সেদিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে উন্মত্তের মতো শোভেল চালিয়ে মাটি খুঁড়ছে। এক… দুই… তিন…। প্রতিটি কোপ মাটির বুকে বসছে, আর তার সাথে সাথে রোজের হৃৎস্পন্দন থমকে যাচ্ছে। মিনিট দশেকের মধ্যেই একটা মাঝারি আকারের গর্ত তৈরি করে ফেললো সে। গর্তটা লম্বায় ঠিক একজন মানুষের সমান। ইউভান শোভেল ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে রোজের দিকে ঘুরলো। চাঁদের আবছা আলোয় ইউভানের ঘর্মাক্ত মুখটা দেখাচ্ছে সাক্ষাৎ যমদূতের মতো।
“কি রে? চুপ করে আছিস কেন? দেখছিস না তোর জন্য শেষ শ*য্যা প্রস্তুত করছি? বলেছিলাম না জ্যান্ত পুঁতে ফেলবো?”
“পুঁতে দিন।যার জন্যে এতো কলাকৌশল অবলম্বন করলেন তাকে মে*রে ফেলতে পারলে এখনো দাঁড়িয়ে আছেন কেনো??আমার আত্মার মৃত্যু অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে। দেহ রেখে কি লাভ।”
“চুপ!আজকাল বেশি মুখ চলে তোর।কি বালের কপাল আমার বান্দীরে বুঝাই এক বুঝে আরেক।যা সর,বাল! গিয়ে শুয়ে পড় গর্তে টাইম ওয়েস্ট করিস না আমার।”
রোজ এক কানাকড়িও নড়লো না,ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো।তা দেখে ইউভান হাসলো।
–“ওরে শা*লী! গর্তে শুতে অসুবিধে হবে বুঝি?? তাহলে চল সুইটহার্ট, একটু বেডে গিয়ে শুয়ে পড়া যাক।ইট’স বেটার অপশন।নতুন করে স্বরবর্ণ রিভিশন করবো। “
রোজ মুখ খোলতেই যাবে তার আগে ইউভান কোনো কথা না শুনে রোজের হাতটা লোহার সাঁড়াশির মতো চেপে ধরে পুনরায় এম্পায়ার প্রবেশ করে।
রাতের প্রথম প্রহর।পুরো বাড়ি গুমোট অন্ধকার আর ক্যালিফোর্নিয়ার ফরেস্টের মধ্যেকার বুনো নেকড়ের ডাক ভেসে আসা ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই এই মুহূর্তে।
ইউভান রোজকে সিঁড়ির দিকে টানতে লাগলো।তবে রোজের ভীষণ জোরে ক্ষিদে পেয়েছে।সারাদিন কিছুটি মুখে পড়ে নি। শরীর ভেঙে আসছে, দীর্ঘক্ষণের মানসিক ধকল আর ক্ষুধার জ্বালায় সে তখন মৃত*প্রায়।
“ছাড়ুন আমাকে! দেখুন, আমার খুব খিদে পেয়েছে… আমি আর হাঁটতে পারছি না।”
ইউভান তো থামলই না, বরং এক ঝটকায় তাকে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে তুলতে তুলতে কর্কশ গলায় বলল,
“খিদে পেয়েছে? আগে আমার ক্ষুধা মে’টা, তারপর তোর খাবারের চিন্তা। চুপচাপ চল আমার সাথে!”
বেডরুমে ঢুকে ইউভান রোজকে বেনিটির সামনের টুলটাতে ধাক্কা দিয়ে বসালো। আয়নায় রোজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকালো। তার বুকের বাঁ দিকে সেই দগদগে ক্ষতটা থেকে তখনো চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে। “এই যে দেখ, রক্ত বের হচ্ছে। আমি না হয় আমানুষ, কিন্তু তুই তো নিজেকে মানুষ দাবি করিস! তোর তো মায়াদয়া থাকার কথা, তাই না? চল, নিজের হাতে ক্ষ*তটা ড্রেসিং করে দে।সাথে আদর করে দিবি !”
ইউভান ড্রয়ার থেকে ড্রেসিং কিটটা বের করে রোজের কোলের ওপর ছুঁড়ে মারলো। তারপর বিছানায় বসে একরকম ধমক দিয়ে বলল,
“দেখছিস কী? দে, নিজ হাতে পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ বেঁধে দে!গলায় তো যেই সিল মে’রে দিয়েছিস,তোকে তো পুরুষ নি’র্যাতনের মামলা দেয়া উচিৎ,বাট আই লাইক ই’ট সো সো সো মাচ্ ডার্লিং আরো কয়েকটা দে।”
রোজ কিছু না বলেই হাতে অ্যান্টিসেপটিক আর তুলা নিলো। ধীরপায়ে ইউভানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। ইউভানের সুঠাম, লোমহীন প্রশস্ত বুকটা এখন রোজের অক্ষিপলের সামনে। ইউভানের শরীরের তপ্ত আঁচ রোজের আঙুলের ডগায় অনুভূত হতে থাকে।এতো গরম কেন এই লোকের বডি।টেম্পারেচার এতো হাই।রোজ বিষম খেয়ে পুনঃরায় তুলা দিয়ে রক্তটুকু মুছে দিতে একটু ঝুঁকলো,ঝুঁকতেই ইউভান নজর পড়লো সুন্দ্রী রমণীর ফর্সা বুঁকে মধ্যেখানের তিলকে।মন চাইলো একটা জোরে কা’মুড় বসাতে তাতে।এতো নেশার মতো টানে সর্বক্ষণ। রোজ ক্ষতস্থানটা পরিষ্কার করতে শুরু করলো। তার নিজের অজান্তেই কেন যেন চোখের কোণে পানি জমে উঠলো।
প্রথমবারের মতো ইউভানের ফর্সা শরীরটা উপর নজর গেলো।কখনো খেয়াল করে নি।আজ মনের অজান্তেই নজর কাড়লো।হাত পিঠে ঘাড়ে সিম্বলিক ট্যাটু আঁকা থাকলেও মাঝে মাঝে কতো ক্ষত চিহ্ন।এতো পুরনো শুকিয়ে যাওয়া দাগ। বুকের এক কোণে সেলাইয়ের দাঁগ।তাকাতে পারছে না আর মেয়েটা, এতো আঘাত দেহে,হিমশীতল কাঁপুনি দিয়ে উঠলো মেয়েটা পুরো শরীর।
ইউভান তাচ্ছিল্য হেসে বলল,
“কী হলো? হাত কাঁপছে কেন? এই র*ক্ত তো তোর ওই স্পর্শেরই প্রতিদান। নে, জলদি কর।”
“বাকিগুলো তো আমি দেই নি।আচ্ছা…আ..আপনি কি রোবোট। অনূভুতি নেই??কষ্ট হয় না??ব্যথা নেই শরীরে??জীবনে কখনো চোখে জল গড়াই নি??নিজের গ্র্যানির মৃ*ত্যুতেও কাঁদেন নি??আর বাবা মা….”
শেষ বাক্যউক্তি শেষ করার আগেই ইউভান রোজের গলা চেপে ধরে চুপ করিয়ে দিলো।
“”তুই আমার চোখে জল দেখতে চাস? যেখানে আগ্নেয়গিরি বাস করে, সেখানে অশ্রুর অস্তিত্ব অনেক আগেই বাষ্প হয়ে উড়ে গেছে।পুড়তে পুড়তে যখন ছাই হয়ে যায় কোনো কিছু, তখন আর দহন অনুভূত হয় না। আমার এই বুকের ভেতরটা হলো সেই ভস্মীভূত অরণ্য, যেখানে কোনোদিন কোনো বসন্তের বাতাস পথ ভুল করেও আসেনি। তুই যাকে আমার দম্ভ বলিস, তা আসলে আমার সেই চূর্ণ-বিচূর্ণ সত্তার শেষ কফিন। এই পাথুরে দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারতো,অনেক কিছু বুঝতিস।তবে আমার সেই ক্ষমতা নেই। সো সা’ট ইউর ফাকিং মাউথ!
রোজ নিঁপুণভাবে মলম লাগিয়ে ব্যান্ডেজটা পেঁচিয়ে দিতে লাগলো।
“অনেক কষ্ট দিয়েছেন আপনি আমাকে,মাফ পাবেন না,এইটুকু মনে রাখবেন।”
“”ওরে আমার মাফওয়ালি রে, তোর মা’ফের গোষ্ঠীসষ্ঠি!”
রোজ এমন লাগামহীনতার কোনো প্রতিউত্তর করলো না। তার নরম হাতের পরশ যখন ইউভানের হৃদপিণ্ডের ঠিক ওপরে পড়লো, ইউভান তখন এক গভীর নিঃশ্বাস ছাড়লো। রোজের এই অনিচ্ছাকৃত সেবাটুকুই ইউভানের ভেতরের সেই পৈশাচিক সত্তা*টাকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও শান্ত করে দিলো।
ব্যান্ডেজ শেষ করে রোজ হাত সরিয়ে নিতে চাইলো, কিন্তু ইউভান রোজের হাত ধরে নিজের উরুর উপর জূরপূর্বক বসিয়ে দিলো।দাবানলের মতো মৃদু হুঙ্কার দিয়ে রোজের থুঁতনি দু আঙ্গুল ধরে বলল-
“অনেক কষ্ট দিয়েছি, তাই না? আমার দেওয়া ক্ষ*ত কি খুব বেশি যন্ত্রণার?যন্ত্রণা সয়ে থাকতে কি তোর খুব বেশি ক্ষতি হবে?যদি কখনো নিজ ইচ্ছেতে ছেঁড়ে দি উড়ে যাবি তাইনা ??আঁটকে রাখি বলে এই ইউভানের কাছে থাকতে বাধ্যে হচ্ছিস তাই তো!”
রোজ ইউভানের দিকে দৃষ্টি ফেললো গাঢ় দৃষ্টি রাখলো।তাচ্ছিল্য হাসলো।
” দম্ বন্ধ হয়ে আসে!সবচেয়ে দম্ বন্ধ হয় কখন জানেন যখন মনে পড়ে আপনি একজন কাপুরুষ, ক্যারেক্টরল্যাস,দুশ্চরিত্র। ঘেন্না লাগে ঐ হাত না জানি আরও কতো নারীকে স্পর্শ করেছে।আপনি কোনোদিক দিয়েই মাফ পাওয়ার যোগ্যই না।”
রোজের সেই বিষাক্ত তাচ্ছিল্য ইউভানের পৌরুষে যেনো জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির লাভা ঢেলে দিলো। ইউভান এক ঝটকায় রোজকে বেডে সজোরে শুইয়ে তার দুই হাত রোজের মাথার দুপাশে গেঁথে দিয়ে ঝুঁকলো।তার তপ্ত নিশ্বাস রোজের মুখে আছড়ে পড়ছে। ইউভান রোজের কানের লতিতে ওষ্ঠ ছুঁয়ে এক নারকীয় স্বরে বিড়বিড় করে বলতে শুরু করল- “আমি দুশ্চরিত্র? আমি ক্যারেক্টারলেস?এই বা’ন্দীর বাচ্চা! এই!ইউভান আজ অব্দি কোনো নারীশরীরের নেশায় মত্ত হয়ে কোনো বে’শ্যালয়ের চৌকাঠ মাড়ায়নি। এই পৃথিবীর সহস্র রূপসী ইউভানের পায়ের তলায় লুটোপুটি খাওয়ার সুযোগ খুঁজেছে, কিন্তু আমি তাদের দিকে ফিরেও তাকাইনি। আমায় পাগল করে দিয়েছিস শুধু তুই। তাই তো আরও বেশি ঘৃণা অসহ্য লাগতো, মস্তিষ্ক ফেঁটে যেতো।মানতে পারতাম না।পারবো কেমন করে??
ন*রকের কীট যে কখনো স্বর্গের সুবাস সহ্য করতে পারে না।
এই এক জীবনে সবচেয়ে বেশি পাপ হলো তোর সাথে দেখা হওয়া।এর দায় ভার আমি নিতে পারছি না।কি করবো বল?সব তো ঠিকি ছিলো,,তোর কারণে আমি কোনো কিছুতে ধ্যান দিতে পারি না।একরকম টা হওয়ার তো কথা ছিলো না,কি চাইলাম আর কি হলো!!থাকতে পারছিলাম না। তোকে ছাড়া একেকটা রাত অসহ্য লাগছিলো।সহ্য ক্ষমতা হারানোর কথা ছিলো না কোনো কালেই।তাও হারিয়ে আজ তোর সামনে।
শুনে রাখ! তোর আগে আমার এই ঠোঁট আর এই করতল অন্য কোনো মানবীকে স্পর্শ করার ধৃষ্টতা দেখায়নি।এখন বিশ্বাস করলে কর নাইলে বা*ল ফালা যাহহ!আমার কিচ্ছু যায় আসে না।”
মাফিয়া বস্ টা যেনো কিছু অপ্রত্যাশীত স্বীকারোক্তি দিলো,আর রোজের ঘাড়ের ওপর নিজের তপ্ত মুখটা চেপে ধরে এক অতৃপ্ত নেশায় ফুঁসলো।কথাগুলো রোজের নারীগহ্বরের বি’ষের মতো জমতে লাগলো।রোজ মুখ ফিরিয়ে শুকনো ঢুক গিললো।কথাগুলো বিশ্বাস করতে পারছে না।
–“দূরে সরুন বলছি।”
পরক্ষণেই ইউভানের কড়া নজর ভেদ করলো রোজের গলার লকেটের উপর, উহুম! লকেট বলা চলে না এটা তো ইউভানের দেয়া রিং টাই রোজ গলার চেইনের মধ্যে ঢুকিয়ে পড়ে রেখেছে।ইউভান হাসলো,তবে তার ভাবমূর্তি অপরিবর্তিত রেখে বলল-
–“নেভার!ই’উ আর মা’ই না’ইট ডে’জার্ট! এন্ড আই ড্যাময়ে’ইন সি’উর ওয়ান ডে ই’উ ইউল টে’ল মি –“FMDHP”
ইউভান রোজকে টেনে বালিশের মধ্যে শুইয়ে দিলো।কালো মখমলে কম্ফোর্টারের মধ্যে ঢুকে জড়িয়ে চেপে ধরলো। রোজের শরীরটা একবার শেষ চেষ্টা করল সেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা খাঁচা থেকে বেরিয়ে আসতে, কিন্তু ইউভানের আলিঙ্গন এক লৌহশৃঙ্খলের মতো অঁটুট। ইউভান তার শক্ত চোয়াল রোজের ঘাড়ে গেঁথে দিয়ে অক্ষিপল বুজে ফেললো।অতঃপর ঘাড়ে পরপর কয়েকটা চুমু খেয়ে তন্দ্রায় বিলিন হলো ইউভান যেনো কতো রাত্রি ঘুমোতে পারেনি,আজ একটু ঘুমোতে চায়।ধীরে ধীরে রাতের প্রহর গভীর হতে লাগলো। ক্যালিফোর্নিয়ার সেই শীতল বায়ু রুমের ভেতর প্রবেশ করতে থাকে।কিন্তু চোখ বুজলো না রোজ।তার ছোট্ট মস্তিষ্কে মৌমাছির মতো কিলবিল করতে লাগলো এতোদিন অব্দি ঘটে যাওয়া পুরো ক্লাইম্যাক্স।ইউভানের বলা প্রত্যেকটা কথা।তুরুস্কে কাটানো প্রতিটা মূহূর্ত।রোজকে ইউভান যতটা বোকা ভাবে সে কি ততোটা বোকা!ডক্টর কিয়ারা তো বললো ঔষধ নেয়ার ফলেই রোজের মিসক্যারেজ হলো।তাহলে সে তো কিছু খায় নি।মিরাবের করা ইউরিন টেস্টের কথা মনে আছে।গাল বেয়ে যেনো এখুনি নোনাজল গড়িয়ে পড়বে।কেমন টলটল হয়ে উঠলো মেয়েটার অক্ষিপল।এখন কেন যেনো কোনো কিছুতেই বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হয়।কোনো পথে হাঁটবে কোনো কূলকিনারা খোঁজে পায় না আর।
ইউভান যখন গভীর নিদ্রায়াচ্ছন্ন রোজ তখন উঠে বসে পড়ে।হাঁটু ভাজ করে মুখ গুজে নিলো, লম্বা চুলগুলো বেড ভেদ করে নিচে লুটোপুটি খাচ্ছে ঠিক যেনো কোনো রুপকথার রুপান্জেল। চোখ বেয়ে নিঃসশব্দে অশ্রুকণা গড়িয়ে পড়ছে।সৃষ্টিকর্তার কাছে তার আজ একটাই অনুরোধ।
“হে দয়াময়, এই পুরুষটার মোহ আমায় আচ্ছন্ন করার আগে, তার মায়ায় আমি চিরতরে অন্ধ হওয়ার আগে তুমি আমায় তুলে নিও কেমন??। এই বিষাক্ত দহনে ছাই হওয়ার চেয়ে আমার মৃত্যু অনেক বেশি শান্তির হবে।”
রাত বাজে প্রায় তিনটে।মধ্যরাতের নির্জনতায় ডার্ক এম্পায়ারে নিঝুম নিস্তব্ধতা। করিডরের বিপরীত পাশে রাহার রুমে ড্রিম লাইটের টিমটিমে আলো এখনো আলোকসজ্জায় মগ্ন। ক্যালিফোর্নিয়ার হিমেল হাওয়া জানালার কাঁচ চুইয়ে রুমে ঢুকছে।রাহার পাশে ঘুমন্ত হায়া। হঠাৎ ঘুমের ঘোরে পাশ ফিরে হায়া হাই তুলে দেখলো রাহা এখনো জেগে। কানে হেডফোন গোঁজা।হাতে একটা বই।ঘুমের মগ্নরত হায়া থেমে থেমে জিজ্ঞেস করলো।
“ওহ গড! রাহা, তুই এখনো ঘুমাসনি? কী করছিস তুই এত রাত জেগে?স্বভাব গেলো না তোর”
রাহা কোনো উত্তর দিল না। বিছানার পাশে রাখা বিয়ারের ক্যানটা হাতে নিয়ে এক চুমুক দিলো।লাতানো ধনুকের ন্যায় সারা শরীর ঘামে ভিজে আছে, কপালে লেপ্টে আছে কয়েকটা অবাধ্য চুল। বিয়ারের ক্যানটা বালিশের পাশে রেখে ও একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আক্ষেপের সুরে বলে উঠল
“উফফ! আমার লাইফে একটা ‘কিলিয়ান’ নেই কেন? আই নিড অ্যা killian!”
“অ*শ্লীল মেয়ে একটা তুই! এত রাতে ডার্ক রোমান্স বই পড়ছিস? তোর মাথায় কি সারাক্ষণ ওইসব ঘোরে?”
রাহা কথা না বাড়িয়ে বালিশে মুখ গুঁজে হায়াকে এক ঝটকায় জড়িয়ে ধরলো।মেয়েটার কণ্ঠে তখন এক অদ্ভুত অস্থিরতা!”
“শীত শীত ভাব একটা জামাইয়ের অভাব!ধ্যাৎ”
“ভাই, তুই একটা কাজ কর। ‘গড অফ ম্যালিস’ বইটার ভেতরে ঢুকে পড়, তারপর পেয়ে যাবি তোর ওই কিলিয়ানকে। এখন ঘুমোতে দে তো!সাচ্ অ্যা হ’র্ণি গার্ল।”
রাহা অঁধর কামড়িয়ে চট করে বলে উঠলো।
–“তোর কি রাতে কোনো ফিল আসে না?হ’র্ণি ফিল হয় না।উফফ!আই লাভ ডার্ক ফ্যান্টাসি “
হায়া রাহার কথায় এক প্রকার হাসি চাপিয়ে চক্ষুদ্বয় বন্ধ করে নাক কুচকালো।
–“ইশশশ!ঘুমা দোস্ত। আমাকে টানিস না এসবে।”
রাহা তৎক্ষনাৎ বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।পড়নের মেরুন নাইট ক’টিটা সামলিয়ে পা টিপে টিপে উত্তরের বিশাল লাইব্রেরি কক্ষের দিকে পা বাড়ালো।হাতের “god of malice” বইটাতে ওষ্ঠ ছুঁয়ে বুক শেল্ফের এক কোণে সযত্নে রাখতে গিয়েই সে থমকে গেলো। শেল্ফের আড়ালে থাকা সেই গোপন সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে কেউ একজন বেরিয়ে আসছে। আবছা হলদেটে আলোয় ফিগারটা স্পষ্ট হতেই রাহার হৃদপিণ্ড এক মুহূর্তের বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
তুষারের গায়ে একটা স্লি’ভলেস কালো গেঞ্জি, যেখান দিয়ে ওর ফুলে থাকা বাই’সেপ আর পেশিবহুল শরীরের প্রতিটি ভাঁজ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। সারা শরীর ঘামে চকচক করছে, যেন কোনো এক ভয়ংকর কসরত শেষ করে ফিরছে সে।রাহা সেল্ফের কার্ণিশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে সেদিকেই তাকালো।নারী গহ্বরের ভিতটা হাড়কাঁপুনি কম্পিত হতেই।রাহা নিজেকে সামলে নিয়ে ফিসফিস করে বলল- “এত রাতে এখানে কী করছে?” কথাটা রাহা ফিসফিস করে বললেও তা তুষারের রন্দ্রে পৌছালো।তুষার নিজের হাত দুটো ঘষতে ঘষতে ধীর পায়ে পেছন ফিরলো। হাতের ডগায় হালকা রক্তের ছিটে আর তুলো দেখে রাহা নাক কুঁচকালো
“ই্যায়ু!আপনি কি স্ন্যাকটাকে নিজের র*ক্ত খাইয়ে এলেন নাকি?বেচারা মাং/স খায় না কতোদিন।”
তুষার কোনো উত্তর না দিয়ে স্থির দৃষ্টিতে রাহার দিকে তাকালো। সেই চোখের চাহনি রাহার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বইয়ে দিলো এক নিমিষেই।অতঃপর গম্ভীর স্বরে বলল-
“তুমি এত রাতে এখানে কী করছো?”
“লাইব্রেরিতে মানুষ কেনো আসে??!”
তুষার ঘাড় কাত করে হাতের বা পাঁশের সেল্ফটার দিকে তাকালো।যেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা সব ভিনদেশি ডার্ক রোমান্সের বই। তুষার এক পা এগিয়ে রাহার সংকির্ণে কাছে এসে সেল্ফের দু-পাশে হাত রেখে উৎফুল্ল রমণীকে আবদ্ধ করলো।পুরুষালীর শরীরের তপ্ত আঁচ রাহা অনুভব করতে পারছে। নিভৃত দৃষ্টি দিয়ে তুষারের উল্ফ কা’ট চুলের এর দিকে দৃষ্টি রাখতেই দেখলো তা ঘেমে লেপ্টে আছে ললাটে। তবে তুষার এক গভীর ও কর্কশ স্বরে নিঃসব্দে ঠোঁট বাঁকালো।
“বুকের পাতা উল্টোনো আর ফ্যান্টাসি জগতে যাওয়াই ই’জি বাট ই’ন রিয়েলিটি যখন এই ‘ডার্কনেস’ সামনে এসে দাঁড়াবে, তখন কি সামলাতে পারবে? কাল্পনিক চরিত্রের নেশায় না চড়াই বে’টার!ইট’স ন’ট গুড ফর হেলথ্!”
রাহার শ্বাস প্রশ্বাস তিব্র বেগে বাড়তে লাগলো। এই প্রথম তুষারকে এতো কাছ থেকে অনূভুব করতে পেরে কেমন যে মরণ মরণ লাগছে।পুরুষটাকে দেখতে এতো ভয়ানক তা আগে কল্পনা করেও দেখেনি।মুহূর্তেই অঁধর কামড়িয়ে তপ্তস্বরে বলল-
“কি পারবো নাকি না সে..সেটা কি আপনার থেকে জানতে হবে নাকি!মিস্টার তাইওয়ান।ট্রা’ই করে দেখে নিন।”
তুষার নির্জীব ভঙ্গিতে দৃষ্টি সংকুচিত করে পকেটে ট্রাউজারের পকেটে হাত রেখে চলে যেতে নিলে রাহা চট করে তুষারের স্লিভলেস গেঞ্জির মধ্যেখান খামচে ধরলো।শরীরটা দূর্বল হয়ে পড়েছে রমণীর।নিভৃত স্বরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন করে বসে–
—“যাস্ট ট্রুলি বলবেন আপনি কি কোনোদিন ভালোবাসেন নি কাউকে??”
রাহার এমন প্রশ্নে তুষার জিভ দিয়ে গাল স্পর্শ করে গম্ভীর স্বরে বলল-
“–ডে’বিলদের সম্পর্কে জানো নিশ্চয়ই?? তাদের হৃদয় বলে কিছু নেই।”
–“যদি কোনোদিন প্রেমে পড়ে যান সেদিন???”
-“নেভার!চান্স নেই।রিক না আমি!যে সব ভুলে দূর্বল হয়ে পড়বো।”
ভালোবাসা এক প্রকার মরণ ফাঁ’দ যে পড়ে সে ম’রে”
–“আহা!যদি হয়ে যায় তখন??
–“হবে না!”
–“যদি হয়??”
তুষারে তৎক্ষনাৎ রাহার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ছাড়িয়ে নিলো।চোয়ালের হাড় মটমট করে উঠতেই সেল্ফে ঠেসে ধরলো মেয়েটার হস্ত।
—“যাস্ট রিমেম্বার দ্যাট! নিজ হাতে খুন করবো।মেরেই ফেলবো তাকে নিজের হাতে “!
তুষার আর এক মূহুর্ত দাঁড়ালো না। রাহাকে সরিয়ে লাইব্রেরি রুম ত্যাগ করলো।এমন কঠিনবাক্যে শুনার জন্যে মুটেও প্রস্তুত না থাকা রাহার পিঠ ঠেকলো সে’ল্ফে।বন্ধ করে রাখা শ্বাস এক নিমিষেই ছেঁড়ে কেঁশে উঠলো।
বাংলাদেশের সোঁদা মাটির ঘ্রাণ আর কুয়াশায় ভিজে থাকা ঘাসের উপর দুপুরের সূর্যের কিরণে ঘাসগুলো চলচক করছে,তূর্জ হাউজের সামনে সেই মাটিতে একটা বেলি ফুলের গাছ,বেলি ফুল রোজের ভীষণ পছন্দ,বাড়িতে থাকাকালীন কতোই না যত্ন নিতো,তবে গাছটা এখন পুরোপুরি শুষ্ক হয়ে আছে,যত্নের অভাবে ভারসাম্য হারিয়ে বসেছে ।
তিশা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে সেদিন স্টোর রুম থেকে নিয়ে আসা ধুলোবালিমাখা জীর্ণ অ্যালবামটি খুললো,কৌতূহল বশত নিয়ে এসেছিলো এটা। নব্বই দশকের পুরনো সেই অ্যালবামের পাতাগুলো ওল্টাতেই নাকে ভেসে এলো সময়ের এক বিষণ্ণ ঘ্রাণ। রোজের বাবা ইমরান চৌধুরীর কিশোর বয়সের অনেক ছবি, তার পাশে পাথরের মতো গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে থাকা রোজের দাদা আর দাদি।কিছু কিছু ছবি দেখে বেশ্ হাসি পেলো সৌদামিনী রমণীর।
তিশা অতি কৌতূহলে পাতা উল্টাতে উল্টাতে হঠাৎ থমকে গেলো,। একটা সাদা-কালো স্থিরচিত্র। ইমরান চৌধুরীর বাবা-মায়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে এক অপার্থিব মায়াবী একটা ছোট্ট মেয়ে।রোজ??না না রোজ হবে কেন?নব্বই দশকের ছবির এ্যালবামে। তিশা যখন সেই কিশোরী মেয়েটির রহস্যময় চোখের দিকে তাকিয়ে মোহগ্রস্ত হলো তখন আচমকা বেডের পাশে কর্ণার টেবিলে উপর রাখা ছবিটার দিকে তাকালো,ছোট্ট রোজ তার বাবার গলা জড়িয়ে ধরে সব কপাটি দাঁত বের করে হাঁসছে। তবে তিশার হাতের এ্যালবামের মেয়েটার চোখ দুটো হুবহু রোজের সাথে মিল।বাদামী চোখ।হরিণের মতো টানা টানা।দু জোড়া চোখের মাঝে বিন্দু পরিমাণ ফাঁরাক নেই।তবে কে এই মেয়ে???
ঠিক তখনই রুমের দরজা কপাট শব্দ করে খুলে গেলো।ইমরান চৌধুরী রুমে ঢুকেই তিশার হাতের অ্যালবামটি দেখে যেন চাবুক খাওয়া বাঘের মতো হিংস্র হয়ে উঠলেন। মুহূর্তের ব্যবধানে এক ঝটকায় অ্যালবামটি কেড়ে নিলেন তিনি।
“এই অ্যালবাম তুমি কোথায় পেলে? কেন ওই ধুলোবালিমাখা অন্ধকার স্টোর রুমে ঢুকেছিলে তুমি? সাহস কী করে হলো আমার অনুমতি ছাড়া এসব ছোঁয়ার?”
তিশা দমে না গিয়ে ইমরান চৌধুরীর অগ্নিক্ষরা চোখের দিকে তাকালো।
“আমাকে তো রোজ বলেছিলো আপনি আপনার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তবে ছবিতে আপনার বাবা-মায়ের কোল ওই পিচ্চি মেয়েটা কে?”
ইমরান চৌধুরী মুহূর্তেই তিশার কোমরে এক হেঁচকা টান দিয়ে নিজের বলিষ্ঠ দেহের সাথে পিষে ধরলেন। তার চোখে তখন এক আদিম ক্রোধের দহন। দাঁতে দাঁত চেপে তিনি ফিসফিসিয়ে বললেন
“তুমি কি আমার অনুমতি ছাঁড়া স্টোর রুমে কেন গেলে??যেখানে আমার মেয়ে অব্দি যায় নি??”
“কেন? আপনার অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে কি আমার কোনো অধিকার না”
“অধিকার আছে।”
“তাহলে বলুন! এই মেয়েটি কে ছিলো?”
ইমরান চৌধুরী তিশাকে সজোরে ছেড়ে দিয়ে ধপাস করে বিছানায় বসে পড়লেন। তার সেই আভিজাত্যের খোলস যেন এক নিমেষে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়লো। তিনি অত্যন্ত সন্তর্পণে চোখ থেকে সোনালী ফ্রেমের সানগ্লাসটা খুলে পাশে রাখলেন। তার চোখের মণি দুটো তখন এক অজ্ঞাত ভয়ে জড়া জীর্ণ। কথাকাটিয়ে দেয়ার দৌলতে তিনি অংশিকভাবে বললেন–
“হ্যাঁ… আমার বাবা-মায়ের একটা মেয়ে ছিলো। আমার ছোট বোন। মেয়েটা ছিল দেখার মতো সুন্দরী। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, তখন আমাদের পারিবারিক অবস্থা মোটেও ভালো ছিলো না। দারিদ্র্যের কশাঘাতে পিষ্ট ছিলো আমাদের ঘর। সেই সময় এক বিত্তশালী বিদেশি পরিবার বাংলাদেশে এসেছিলো। তারা মেয়েটাকে দেখে এক লহমায় পছন্দ করে ফেলে… আর… আমাদের সেই চরম অভাবের সুযোগ নিয়ে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে তারা ওকে একরকম কিনে নিয়ে যায়।”
তিশা স্তম্ভিত হয়ে গেল। তার হৃদপিণ্ড যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ালো। এসব কি শুনছে।
“কী বলছেন এসব?তাই তার কোনো পরিচয় নেই চৌধুরী পরিবারে??”
–“পরিচয় না থাকলেও এসেছিলো অনেকবার।”
–“তারপর??”
ইমরান চৌধুরী কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি যেন এক গভীর ও অজানা ধ্যানমগ্নতায় তলিয়ে গেলেন। তার হাত দুটো অনবরত কাঁপছে,তিনি পুরোটা বলার আর সাহস চুকিয়ে উঠলেন না।মনে হচ্ছে যেন কয়েক দশক আগের বোঝা আজও তার কাঁধে পাথরের মতো চেপে আছে। তিশা অপলক চেয়ে রইলো ওনার দিকে, যার আভিজাত্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিভী*ষিকাময় ইতিহাস। ইমরান চৌধুরী মুহূর্তেই ভাবভঙ্গি পরিবর্তন করে বলে উঠলেন।
“রোজের সাথে কথা হ’য়েছিলো আজ।ঝামেলা করছিলো।ভেবেছিলাম কয়েকটা মাস গেলে ভুলে যাবে সব।কিন্তুু না সেই আগের মতো জেদ ধরে বসে থাকার স্বভাব আর গেলো না। “
“কল করেছিলো??”
“হুম!”
“ফ্রেশ হয়ে নিন।খাবার খেতে হবে।রাতে আপনার সাথে আমার আরও কথা আছে।”
“এসব ব্যপারে কথা বলার ইচ্ছে নেই আমার তিশা।
” আচ্ছা আগে চলুন,খেয়ে নিন।গরু মাংস রান্না করেছি আজ!”
ভোরের আলো ফুঁটে নি এখনো পৃথিবীর বুকে।বহিঃরাগত পাইন গাছের পাতা দুলার শাঁ শাঁ শব্দ। নরম মখমলে বেডে আড়ম্বরপূর্ণ হয়ে শুয়ো থাকা ইউভান নড়ে উঠলো।জড়সড় হয়ে অক্ষিপল মেললো।পাশে হাত চালিয়ে দেখলো রোজ নেই পাশে।কম্ফোর্টার সরিয়ে নিতে দোখলো রোজ বেডের বিপরীত পাশে শুয়ে আছে।এলোমেলো অবস্থায়।কম্ফোর্টার অব্দি গায়ে জড়ানো নেই।ততক্ষণাৎ ইউভান রোজের কাছে এসে বালিশে শুইয়ে দিলো।ঘুমকাতুর অক্ষিপলে রমণীর স্নিগ্ধ মুখশ্রী, তার লালাটে পড়ে থাকা কয়েকটা অবাধ্য কেশরাশি এতোটা মোহনাীয় দেখাচ্ছে যে ইউভান শুষ্ক ঢুক গিলে ধীরে ধীরে পুরো রুমের নৈঃশব্দ্য ভেঙ্গে নির্লিপ্ত এক চুমু বসিয়ে দেয় রোজের গ্রীবাদেশে।তাতেও ক্ষ্যান্ত হতে পারলো না, নিগূঢ় নির্লিপ্ততা মিশিয়ে উ*ন্মুক্ত করে দেয় রোজের উদরদেশ,তাতে নিজের ওষ্ঠাধর দিয়ে পরপর কয়েকটা চুম্বনবর্ষণ করতেই রোজের শরীর নড়ে উঠে,ইউভান কিয়ৎক্ষণে ব্যবধানে ভেজা ঠোঁট জোড়া তর্জনী দিয়ে মুছে নিলো।
-“ইউ’র টেস্ট লাইক অ্যা ফা’কিং বা’টার!সো ইয়া’ম্মী!মে’ইবি ইউ অ্যার মা’ই ফর’এভার ডিশ!আই ই’ট ইউ অল টাইম স’ফটলি…বাট সা’ম টাইম হা’র্ডলি!”
অতঃপর বেডশীট ছেড়ে ইউভান পাঁ বাড়ালো শাওয়ার রুমে সেখান থেকে ফ্রেশ হয়ে একটা কালো শার্ট গাঁয়ে জড়ালো। যা তার বাইসেপ আর প্রশস্ত বুক পিঠের পেশিগুলোর প্রতিটি ভাঁজ স্পর্শ ভাসমান হয়ে উঠলো।চোখে একটা কালো সানগ্লাস লাগিয়ে রুমের দরজাটা সন্তর্পণে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো।এম্পায়ারের বাইরে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে তার জন্য অপেক্ষা করছিলো দামিয়ান। ইউভান বেরোতেই দামিয়ান ইশারা করলো কোনো কথা না বলে দুজনে কালো ল্যাম্বরগিনি উরুসে চড়ে বসলো। গাড়ি যখন ক্যালিফোর্নিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে পাশের জনশূন্য শহর ‘সান্তা ক্লারা’র দিকে ছুটছে, তখন গাড়ির ভেতর ইউভানের কণ্ঠস্বর যেন কোনো ঘাতকের পরোয়ানা জারি করলো।ফোন সিগন্যাল এখানে পুরোপুরি কানে’ক্টেড।তৎক্ষনাৎ দামিয়ান বলল-
–“রায়হান মির্জা তো বিডির একটা প্রাইভেট ফ্যাসিলিটতে আছে।খবর পেলাম কোমায় চলে গিয়েছে।বাঁচার চান্স – “
ইউভানের ঠোঁটের কোনে একটা পৈশাচিক হাসির রেখা টানলো।
–“কৈ মাছের প্রাণ শুয়োরটার! মরে নি।ফাকার টার ভাগ্য ভালো এখনো নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ দিয়ে রেখেছি।শুধুমাত্র বান্দী চিনতে পারে মি বিধায়।না’হলে জানোয়ারচুর লাশ কোথায় হাজার টুকরো করে পড়তো তা আর খোঁজে পাওয়া আর যেতো না।”
ইউভানের হাতের স্টিয়ারিংয়ের ওপর ধরা আঙুলগুলো সাদা হয়ে উঠছে। অস্থিরতা আর ক্রোধের এক অদ্ভুত মিশেল তার অবয়বে। দামিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে সংশয়ের স্বরে বলল-
—”রায়হানকে কি আসলেই রোজ চিনে না? আমার তো তেমনটা মনে হলো না। ডাল মে কুছ তো কালা হ্যায় ভাই। ব্যাটা তো দেখলাম একেবারে দিওয়ানা…”
কথাটা শেষ হতে পারল না। ইউভানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, দাঁতে দাঁত ঘষার শব্দে গাড়ির ভেতর এক শীতল শিহরণ বয়ে গেলো। মুহূর্তের আক্রোশে সে স্টিয়ারিংয়ের ওপর সজোরে মুষ্ঠাঘাত করতে লাগলো। পরক্ষণেই অন্য হাতে কপালের অবাধ্য চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করে দামিয়ানের দিকে এক নিগূঢ় ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল ইউভান। তার কণ্ঠস্বর তখন কোনো এক গভীর রহস্যের অতলে-
–“২০২৩ এ যে আমাকে বিডিতে যেতে হয়েছিলো মনে আছে তোর??! ভোলচর থেকে সোজা বিডির চট্টগ্রামে।তাও জীবনের প্রথম বার ইউরোপ ছেড়ে এশিয়ার ছোট্ট সেই দেশে!”
চলবে??
|পরবর্তী পর্ব তাড়াতাড়ি পেতে রেসপন্স করবেন। ভাবলাম ফেব্রুয়ারিতে গল্প দিবো একদিন পর পর এসে দেখি কোনো রেসপন্স নাই।যেদিন থেকে ২.৫k+ রিয়েক্ট আসবে সেদিন থেকে একদিনের মধ্যে গল্প পাবেন।আমি সিরিয়াস বাকিটা আপনাদের উপর।|
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ৭
-
Love or hate পর্ব ১৫
-
Love or hate পর্ব ২৬
-
Love or Hate পর্ব ২৮
-
Love or hate পর্ব ২৪
-
Love or hate পর্ব ১০
-
Love or hate পর্ব ১৮
-
Love or hate পর্ব ১৪
-
Love or hate পর্ব ৪
-
Love or hate পর্ব ৫