Love_or_Hate
|#পর্ব_২৩|
ইভেলিনা_তূর্জ
⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে
বিছানার পাশে কর্ণার টেবিলের চেয়ারে গাঁ হেলিয়ে বসা মিরাব।টেবিলের উপর রাখা ল্যাপটপটার স্ক্রিন অন তবে সেদিকে ধ্যান মগ্ন না মেয়েটা।আজ এই পরিপাটি মেয়েটার রুমটা অস্বাভাবিকভাবে অগোছালো যা সচরাচর তার স্বভাবের সাথে খাপ খেলো না।টেবিলের উপর মাথায় হাত চেপে বসে আছে। ল্যাম্পের আলোটা খানিক নিভাচ্ছে আর জ্বালাচ্ছে।
কেমন একটা চাপা অনুশোচনার দগদগে জ্বালা বুক ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে।অন্ধকার রুমটা যেনো আজ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে চলছে। দ্বীপ্তিমান অনূভুতি প্রবল চাপ প্রয়োগ করছে।
একটা দুধ চায়ের কাপ টেবিলের উপর, কড়া লিকাড় টি,কাপটা ধোঁয়া হয় নি আর,রোজ খেয়ে সেই যে মিরাবের টেবিলের উপর গোধূলিবেলায় রেখেছিলো সেভাবেই স্থির।কাপের গায়ে সাদা সাদা শুকনো দাগ স্তরে স্তরে।প্যান্টহাউসে চা শুধু রোজ খেতো তাও মিরাবের হাতে বানানো,আনানও কফি পছন্দ করতো,তবে একমাত্র রোজই চা পাগলাটে মেয়ে।
বদ্ধঘরটার যেনো বিষাক্ততায় ছেয়ে যাচ্ছে,ঘরটার আনেচেকানাচে থেকে গম্ভীরস্বর যেনো মিরাবের গলা চেপে ধরছিলো।দেয়াল বেয়ে প্রতিধ্বনি হতে লাগলো দূর্বার শব্দ,মিরাব কান চেপে ধরে রাখলো।অশ্রুপাত ঘন হতে থাকলো মূহূর্তে তা গলদেশ বেয়ে পড়তে থাকলো, বুঁকের পাঁজর অনুশোচনার কাঙাল হয়ে ফেঁটে যাবে যেনো।অত্যধিক মাত্রায় হাতের কাঁপন নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা চালিয়ে আদ্রিয়ানের নাম্বার ডায়াল করলো তবে ওপাশ থেকে সুইচটপ আসছিলো।নেটওয়ার্ক লো।অন্ধকার রুমটা বারবার তাকে হানা দেয়া যার শব্দধ্বনি গুলো সহ্য করার ক্ষমতা নিষ্ক্রিয় হতেই মিরাব পাগলের মতো চেঁচিয়ে উঠলো –
“চুপ! চুপ! চুপ!”
তবে গুটগুটে অন্ধকারে আবদ্ধতায় ঘেরা বদ্ধ রুমটার মেঝের ফাটল থেকে উঠে আসে চাপা গুঞ্জন—
“যে হাতে প্রাণ বাঁচাতে শিখেছো।সেই হাতেই কেন নিভে যাচ্ছে একটা নিঃশ্বাস?এর দায় চু’কাতে পারবে তো।হৃদয়খান কি একটা বারের জন্যেও বাঁধাপ্রাপ্ত হলো না ।একটা অভিশপ্ত আখ্যানে হাত ভিজালে??, পারবে তো এর দায় নিয়ে বেঁচে থাকতে সারাজীবন ??”
সত্যকে চিরতরে চাপা দিয়ে প্রাণের বিনাশ ঘটালে, এটাকে কি খুন বলে না??….ডাক্তার হয়ে খুন?ডাক্তারি পেশাকে চিরতরে কুলষিত করলে মিরাব।কেন মিরাব??? কেন!???
অবিনাশী বিধ্বস্ত শব্দগুলো যেনো দাঁত বসিয়ে কাঁম/ড়ে দিচ্ছে মিরাবের সমস্ত নারী সত্তা কে, তড়িঘড়ি করে টেবিল ছেড়ে উঠে জোরে জোরে পাগলপ্রায়ের মতো চেঁচাতে লাগলো মিরাব।তবে তার অধরভেদ করা শব্দ গুলো সাউন্ড প্রুফ রুমের দেয়াল ভেদ করতে পারলো না।পারলো না পাশের রুমে ঘুমিয়ে থাকা নিষ্পাপ বাচ্চাটার কানে পৌঁছাতে। মিরাবের শরীরের সর্বত্র ঠান্ডায় জমে যাচ্ছিলো,একের পর এক কল লাগালো আদ্রিয়ানের কাছে ঠোঁট উল্টিয়ে কাঁদতে লাগলো।নিঃস্বারে গতিবেগ মুহূর্তেই বাড়তে লাগলো।হিম শীতল মেঝেতে ধপ্ করে বসে পড়ে বুকের বাঁ পাশে হাত চলে যায়,সে প্রান্তে হাত ঘর্ষণ করে –
“কলটা ধর আদ্রি।প্লিজ! অ্যাম সরি!….অ্যাম সরি!আমি ম*রে যাবো আদ্রিয়ান! আমার দম বন্ধ লাগছে।আমার গিল্ট ফিল হচ্ছে।কল টা ধর!প্লিজ পিক আপ দ্যা ফোন।
মিরাব নিজের শার্টের কলার মুখের উপর চেপে অশ্রু মুছতে লাগলো।মনে হয় পাগল হয়ে যাবে।এতো যন্ত্রণা আগে কখনো লাগেনি।এতো বিতৃষ্ণা তার মন কবে হয়ে উঠলো।ঈর্ষান্বিত মন কি ঘটিয়ে বসলো।মানুষ অপকর্ম করার সময় যতই যুক্তি সাজাক, মন-মস্তিষ্ককে যতই নিঃশেষ করুক আসল মৃত্যু ঘটে তখনই, যখন অনুশোচনার বোধ জেগে ওঠে।মানুষ অপকর্ম করার সময় যতই যুক্তি সাজাক, মন-মস্তিষ্ককে যতই নিঃশেষ করুক আসল মৃত্যু ঘটে তখনই, যখন অনুশোচনার বোধ জেগে ওঠে।মিরাবের ক্ষেত্রে তাই ঘটলো।
ধবধব সাদা অশ্বর পিঠে চড়ে বসেছে ইউভান।ইউভান ভলচর দ্বীপে রয়াল বিল্ডিং ব্যাতীতো অন্যে কোনো স্থানে পদাঘাত না করলেও আজ ব্রুস্টার প্যালেসে যাওয়ার উদ্দেশ্য থাম্বেল নামের একটা সাদা ঘোড়ায় চড়েছে,রিক আলবার্টপর সবচেয়ে পছন্দের আদুরে ঘোড়া। রয়াল বিল্ডিং থেকে প্যালেস অতি সামান্য দূরত্ব হওয়ায় কয়েকমিনিটের মধ্যে এসে হাজির হয়ে পড়ে,কালো সিল্কের শার্টের উপর বড় একটা ব্ল্যাক ওভারকোর্ট পড়েছে, পাঁচ আঙুলে পাঁচটা রিং,এক হাতে গোল্ডেন ব্রেসলেট অপর হাতে রোলেক্স ঘড়ি।ইউভানের ঘোড়ার দুপাশে আরও তিন’জন মাফিয়া প্রথমজন ভিটোরিও লুক্রেজি ইতালিয়ান মাফিয়া,ইউরোপজুড়ে কোকেন আর হেরোইনের প্রধান সরবরাহকারী তার নেটওয়ার্ক বন্দরের মতো বিস্তৃত,,,,রাশিদ আল-হামজা মধ্যপ্রাচ্যের ডিলার, ক্যাপ্টাগন আর হিউম্যান ট্রান্সপোর্ট তার খেলা।তৃতীয়জন ডোমিনিক শ্যাফার ইউরোপের নাইটলাইফে ড্রাগ ঢোকানোর মাস্টার।
তবে সবচেয়ে পিছনে গুরু গম্ভীর শান্ত মস্তিষ্কের ছয়ইন্দ্রীয় সম্পন্ন গ্যাংস্টার cool bitch—- তুষার তাইওয়ান। ব্রুস্টার প্যালেসের হোস্ট।Monster bitch –ইউভানের থেকেও যার এই দ্বীপে সবচেয়ে বেশি আসা হয়।যার প্রত্যেকটা পদক্ষেপ খুবই সুক্ষ্ম। তবে Crazy bit*ch —দামিয়ান ড্রেক কিছুটা সঙ্গ দোষে লোহা ভাসের মতো।দামিয়ান কয়েক ঘন্টাখানিক আগেই প্যালেসের উপস্থিত ঘটিয়ে ফেলেছে।ইউভানের কথামতো প্যালেসের ভিতরের প্রত্যেকটা সিসিটিভি ফুটেজ চেক দিচ্ছে।
ইউভানদের ঘোড়ারপাল সামনে এগুতেই গাছপালার বুক চিরে হঠাৎ করেই উদ্ভাসিত হয় এক রাজকীয় দানব প্রাসাদ প্যালেস অফ ব্রুস্টার । বাইরে থেকে পাথর আর মার্বেলের নিখুঁত সমাহার উঁচু খিলান, ধূসর কারুকাজ, আগুন-রঙা আলোয় ঝলমল করা প্রবেশদ্বার।ইউভান নামতেই গার্ডরা তাকে কুর্ণিশ জানালে সে কোনোদিন অযৌক্তিক সময় নষ্ট না করে একপ্রকার হনহনিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে,ভিতরের বিশাল হল ঘরে এখানেই বসে আছে ইউভানবাদে পনেরোজন আন্ডারওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে নিকৃষ্ট, সবচেয়ে প্রভাবশালী মুখগুলো।ভিটোরিও লুক্রেজি,,রাশিদ আল-হামজা,,ডোমিনিক শ্যাফার নিজেদের আসনে গিয়ে বসে পড়ে তবে রাশিদ একটা ওয়াইনের গ্লাসে চুমুক বসিয়ে রাশভারী আওয়াজে ইউভানকে বলল,
—-“রিক আলবার্টের মা*ল প্রয়োজন জানলে আগে থেকেই ব্যবস্হা করে রাখা যেতো কি বলো সবাই।”–রাশিদ আল হামজার উক্তির সাথে মত প্রকাশ করে ডিমোনিক চওড়া হাসির রেখা টেনে হাস্কি স্বরে বলল,
——“ইট’স টো’টালি আউট অফ মাইন্ড, রিকের মধ্যে যে তার ফাদার থেকেও দ্বিগুণ ডিমু’নিক সত্তার অধিকারী বিরাজ করে, সেটা আজ তার এই প্যালেসে উপস্থিতি বলে দিচ্ছে।”
ইউভান সিঁড়ির দিকে পাঁ বাড়াতে উদ্ধৃত হয়ে পুনরায় থামিয়ে দেয়, মুহূর্তেই শরীরের পেশিগুলো টানটান উত্তে*জনায় কাঁপতে থাকে… কালো ক্যাপ আর মাস্কের আড়ালে অনিন্দ্যনীয় মোহ বিশিষ্ট পুরুষটার মুখাবয়ব স্পষ্ট না হলেও আড়ালে যে মুখাবয়ব রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে তা বুঝা গেলো।ইউভান হাতের রিভলভার দিয়ে মাথাটা খানিক চুলকিয়ে রাশভারী হাসলো,তার হাসির শব্দ এতোটাই হল রুমের দেয়ালে প্রতিধ্বনি হলো যেনো উপস্থিতি বাকিদের কানের পর্দা ফাটিয়ে দিবে,অতঃপর একটা লাইটিং এর আলো তার উপর পড়তেই তাচ্ছিল্যে স্বরে মাফিয়া বস্ বলে উঠলো,
—–“রাইট! রাইট! রাইট! রিক আলবার্টের মা*ল প্রয়োজন।আর রিক আলবার্ট যেই মা’লে একবার হাত দেয় সেটা গোটা দুনিয়ার জন্যে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।প্রাণের ভয় নিশ্চয়ই আছে?? কথাটা মাথায় রাখবেন।”
ইউভানের কথার টান খায়িয়ে রাশিদ আল হামজা দ্বিধাহীনভঙ্গিমায় উইস্কির বোতল এর চপ্ দাঁতে আঘাতে খুলে উল্লাস স্বরে জানার প্রবল আগ্রহ নিয়ে বললো—-
—“I really want to see Rick Albert’s vulnerability.But the force of the throat is so strong that I am totally in doubt
[রিক আলবার্টের দূর্বলতা দেখার অনেক ইচ্ছা আমার, তবে গলার জোর এতো শক্ত যে অ্যাম টোটালি ডা’উট]
—–“ইউর ফাকিং মাউথ ইজ্ টোটালি ইউজ্ল্যাস রাশিদ।ব্রেনটা খুলে ওয়াশ করে আসুন।নর্দমা থেকে চুবিয়ে এনেছেন নাকি,,,Monster b*itch have no vulnerability!
কথা শেষ করে স্বগোতক্তিতে হাঁটা ধরলো ইউভান।বড়বড় মার্বেলে কারুকাজ করা সিঁড়ি ভেদ করে হনহনিয়ে মাফিয়া ব্রিস্টের খুঁজতে খুঁজতে সামনে এগুতে লাগলো কেননা নিচের হল রুমে প্রত্যেকে পার্টি মাস্ক পড়ে থাকলেও ইউভানের ষষ্ঠইন্দ্রিয় বুঝতে সক্ষম হয়েছিলো মার্বেল সেখানে নেই,ইউভাব হাঁটার গতিবেগ বাড়াতেই আচমকা একটা নারী হাতের স্পর্শের জোড়ালো টান প্রয়োগে একটা রুমের ভিতর ছিটকিয়ে পড়ে ইউভান।রুমের দরজাটা বন্ধ করে জড়সড় হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে ক্যাটরিনা।রাগে ফুঁসছে। অতি মাত্রায় রাগের কম্পনে বুক উঠানামা করতেই এক পাঁ দু পাঁ করে মেঝেতে হাইহিল কম্পিত করে ইউভানের সামনে এসে দাঁড়ালো।আলতো করে ইউভানের গলার মধ্যিখানে আঙুলের স্পর্শে শার্টের বুতোমে হাত দিতেই ইউভান ক্যাটরিনার হাত এক ঝটকায় ফেলে দেয়।ক্যাটরিনার গলায় রিভলবার ঠেকিয়ে তপ্তস্বরে বলে-
–“সীমালঙ্ঘন করতে তোর যেমন আয়েস মি’টে, মানুষ মেরে আয়েস মি’টে।ট্রিগার টা কি প্রেস করে দিবো??”
ক্যাটরিনা রিভলবারটা ধরে কিঞ্চিৎ হাসলো।
—“তুমি আমায় মারতে পারবে না রিক।নিজের ফিয়্যা’ন্সেকে কেউ মারতে পারে??তোমার লিপস্ সের একটা চুমু খেলে মেইবি ম*রার সম্ভাবনা ৯৯.৯৯%…ভাগ্যিস আমাদের বিয়েটা তোমার ফাদার আমার ফাদার মিলে ঠিক না করে গেলে তোমার মতো ড্যা’শিং ম্যানকে নিয়ে সপ্ন দেখাটা কঠিন হয়ে যেতো।এই ক্যাটরিনা এই দ্বীপের রাণী, আর এই রাণী প্রত্যেক বছরের শেষটাতেই শুধু তোমাকে দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনে যায়।এসব তুমি বুঝবে কবে??অপেক্ষা জিনিস কতোটা ভয়ানক বুঝো??
ইউভান ক্যাটরিনার কথায় বিন্দু পরিমাণ আগ্রহ না দেখিয়ে ঠেলে সরে যেতে নিলে ক্যাটরিনা ইউভানকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ফেলে।
—“যাবে না প্লিজ্!”
—“তুই আমার বাল!ফাকিং আদিমযুগের কাহিনী মনে রাখস কিভাবে??ম*রা মানুষের মুখের কথা মনে রাখা এক প্রকার ছাগলামি।”
ইউভান ক্যাটরিনার হাত ছাড়িয়ে দরজার দিকে হাঁটা দিলে ক্যাটরিনা সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে।
—“যেতে দিবো না।,,,,তোমাকে এই মুহূর্তে এই প্যালেসে দেখে আমার কেমন ফিল হচ্ছে জানো??এখানে আসার কথা তো তোমার ছিলো না!কেনো এলে রিক।আমি আছি তো আর কি চাই।?
—“তুই কি সামনের থেকে সরবি নাকি আমি থাপ্পড়াইয়া তোকে সরাবো?তোর মতো ন*ষ্টনারীদের ধরতে আমার ব’মি পায়।”
ক্যাটরিনা রাগে কড়মড় করতে থাকে।
–“তাহলে প্যালেসে কেন এলে??”
—“বিচ্… রিক কাউকে কৈফিয়ত দেয় না।ইউ নো বেটার।”-অতঃপর বিদ্যুৎগতির ন্যায় এক ঝটকায় ক্যাটরিনাকে বেডের উপর ফেলে বাহির থেকে ডোর লক করে দেয় ইউভান।ক্যাটরিনাকে ঘর বন্দি করে কানে ইয়ারপি’স কানেক্ট করে তুষারের কাছে কল লাগায় প্যালেসের বাহিরের পরিস্থিতি জানার জন্যে। কারণ পুরো দ্বীপ সুরক্ষায় বন পাঠার ন্যায় কালো পোশাকধারী গার্ডদের পাহাড়ার দিচ্ছে তাদের পরিচালিতো করছে তুষার। যেহেতু প্যালেসটা ইউভানের বাবার তাই বহিঃরাগত মাফিয়াদের আগমনে প্যালেস সুরক্ষার কোনো কমতি রাখলো না।
রেশমের ভারী জারদৌসি কাজের মেলবন্ধনে গড়া একটা অগ্নিমাখা কমলা রঙের লেহেঙ্গা পড়ে বসে আছে রোজ।গড়ন তার পাঁকা সোনালী ঝিলিক।চুলের প্রত্যেকটা বেনুনির ভাঁজে তাজা লাল গোলাপ গুঁজে রেখেছে।মাথা অব্দি বড় করে ঘুমটা টাঙানো।ভারী অদ্ভুত আর হাস্যেকর সব কিছু আজ রোজের কাছে যেই নারীকে জোরপূর্বক একটা নরপিশাচ চুড়িদার পড়া অবস্থায় নিকাহ্ করলো এখন কি না সর্বোচ্চ বি’ডের লাভের আশায় তার এতো অনিন্দ্যনীয় সাজসজ্জা। এর থেকে সুন্দরঅপমান আর হয় বুঝি রোজের জানা নেই।ফিলিপিন মেইল আর্টিস্টটা রোজের গলায় ভারী একটা কুন্দন ন্যাকলেস্ এর ফিতে বেঁধে দিলো।পুরো সাজ রোজের নিজ ইচ্ছে তে হ’য়েছে।
রোজ জানে যেহেতু রিক চৌধুরীর ছবি এই পিশাচীয় আবাসস্থল লাগানো সেহেতু নিশ্চয়ই অহংকারী হৃদয়হীন পুরুষটা এখানে আসবেই।রোজ নিশ্চিত। তবে মেয়েটা একটুও অবাক হবে না কেন হবে?তার ভাস্যে মতে ইউভানের মতো পুরুষদের এসব জায়গায় মানায়।কোনো সুস্থমস্তিষ্কের মানব হলে কি তার সাথে এতো অন্যায় অবিচার করতে পারতো।কতোটা আশ্চর্য না নতুন বছরে খালি পেটে বসে আছে।রোজের মতো ফুডি একটা মেয়ে ক্ষুধার্ত তবে খাওয়ার ইচ্ছে নেই,আদ্রিয়ানদের সাথে আর রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাওয়া হলো না সেই যে সকালে নাস্তা করে বিকেলে এক কাপ গরম গরম চা খেয়ে বের হ’য়েছিলো এইটুকুনি।
ফিনকি দিয়ে তাজা তাজা রক্তর শ্রোত বইতে লাগলো।মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে দু’জন হান্টার। হাতের উপর মাং/স টেনে ছিঁড়ে বের করার বিক্’ট শব্দ হতে লাগলো।ইউভানের মুখে এসে তাজা রক্ত হুমড়ি খেয়ে পড়তেই তার ঠোঁটের কোণে একটা বিকৃত হাসি ফুটে উঠে পাশে দাঁড়ানো ইতালিয়ান মাফিয়া মার্বেল ব্রিস্ট।যাকে ঘন্টাখানিল আগেই একটা মেয়েকে নৃশং/সভাবে রেপ করতে দেখে নিয়ে ছিলো।মার্বেল তার শিকারীকে কখনো বাঁচিয়ে রাখে না তাই আজও তার ব্যাতিক্রম হলো না।মেয়েটার ন*গ্ন শরীরটার স্প/র্শকাতক স্থানসমূহ ব্লেড দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে মেঝেতে ফেলে রেখেছে খোদার জালিম বিকৃতমস্তিষ্কের পাশবিক দানবটা।এমন বিভাষীকাময় দৃশ্যে দৃষ্টিপাত করলো না ইউভান মার্বেলের সামনেই তার দু’জন হান্টারের হাতের আঙুলের উপর এসিড ঢেলে দেয়।তরল পদার্থের ছুয়া পেয়ে আঙুল গুলো গল/তে শুরু কটে যেনো আঙুল গুলো কোনো নিষিদ্ধ জিনিস ছুঁয়ে ফেলেছে সেই শাস্তি তারা ভোগ করছে,চোখের সামনে নারী বানিজ্যের ব্রাতা মার্বেল ইউভানের এমন নৃশং/সতা বরবরতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ প্রকাশ করলো না, এমনিতেও ইউভান এদের না মারলেও সে নিজে মে/রে দিতো, কেননা প্রতিবছর এমনটাই হয় উইমেন ট্রেফিকিং য়ে যারা নারীরদের নিজ হাতে তুলে আনে প্রমাণ লুপাটে মার্বেল তাদের উপর খুশি হয়ে মৃত্যু উপহার দেয়।
হান্টার দু’জন ইউভানের দু’পায়ে মাথা ঠেকিয়ে তীব্র যন্ত্রণায় কাঁপছে,, কিন্তুু চিৎকার করার কোনো সুযোগ তারা পেলো না।ইউভান ওভারকোটের বুক পকেট থেকে নিজের ইলেকট্রিক সিগারেট টা বের করে মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছুঁড়ে মার্বেলকে বলল,
—“কোনো ঝামেলা চাচ্ছিনা ব্রিস্ট।তবে তোর হিসেবটা পড়ে চু*কিয়ে দিবো।আমার আত্নার প্রশান্তি দরকার।না হলে তোকে আজ এই মুহূর্তে ইন্না-লিল্লাহ করে দিতাম।”
মার্বেল ইউভানের কথায় হাসতে লাগলো নিজের ন’গ্ন উপরিস্থ শরীরে নাইটি জড়িয়ে টিবিলের উপর ধপ্ করে বসে পড়লো।
—-“উপস্ ডিজাস্টার! তুই আমাকে মার’বি আর আমি কি তোকে কোলে নিয়ে চু*মু খেতাম নাকি মন্সটার বিচ্।”
—“খেতেও পারিস তোকে দেখতেই গে গে মনে হয় বাস্টার্ড। “
ইউভানের কথায় ভরকে গিয়ে উচ্চশব্দে হাসতে লাগলো মার্বেল।
—–“গে তো আমার তোকে মনে হয়।জীবনে একটা মেয়েকেও চুমু খেয়েছিস বলে তো মনে হয় না।
ক্যাটরিনার মতো সে*ক্সি ফিয়্যান্সে যদি আমার থাকতো এতোদিনে প্রেগনেন্ট বানিয়ে দিতাম।”
ইউভান একজন হান্টারের গলদেশে চাপ প্রয়োগ করতেই লোকটার মুখ থেকে গলগল করে ফেনা মিশ্রিত রক্ত বের হতেই ইউভানের চোয়ালের পেশি শক্ত হয়ে উঠে মার্বেল দিকে দৃষ্টিপাত না করে বলল-
–“ডু দিজ্ ফাস্ট।”
—“বাই দ্যা ওয়ে তোকে আজ এই প্যালেসে দেখে মনে হচ্ছে ডাল মে কুচ্ তো কালা হ্যা। তোকে আমি এক বিন্দুও বিশ্বাস করি না,তোর মতলব কি!আবার কি গেইম খেলবি।”
দয়ামায়াহীন মানবযন্ত্রণা মেঝেতে পড়ে থাকা মেয়েটার লাশ’টার দিকে দৃষ্টিপাত না করে মার্বেলের সাথে ডিল করলো।
—-“ভোলকভকে মারতে হবে, মেরে দে,এমন একশোটা মেয়ে এনে দিবো তোকে,অবসেডিয়ান শিরা খোঁজতে না-হয় হেল্প করলাম।।আমার আবার অত্যধিক নোং/রা স্লাটার ধরতে গা গিন গিন করে।ইট’স দ্যা পয়েন্ট। “
মারর্বেল ব্রু কুচকিয়ে তকালো ইউভানের দিকে, অত্যন্ত চালাক মার্বেল ইউভানের বলা এক শব্দকেও বিশ্বাস করে না,ইউভান সম্পর্কে তার ধারণা আকাশ ছুঁই। নিজ স্বার্থের জন্যে সে তাদের আন্ডারওয়ার্ল্ড জগৎটা যা খুশি করতে পারে,মার্বেল নিজেকে নিয়েও বড় প্রমাণ।ইউভান রিক আলবার্টতো আরও অযোগ্য বিশ্বাসের। মার্বেলের তো শুধু চায় –“অবসেডিয়ান শিরা ”এর হদিস রিক আলবার্ট জানে তার বিশ্বাস।বহু কৌশল অবলম্বন করেও খোঁজে পাচ্ছে না তা।মার্বেলের ঠোঁটের কোণে পৈশাচিক হাসির রেখা ফুটে উঠে—
—-“আই এগেইন সে রিক আই ডোন্ট বিলি’ভ ইউ।আমার তো মনে হয় তুই নিজে নিজের
গ্রেন্ড মাদারকে মে*রে ভোলকভের উপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছিস।আবার তুই দিবে আমায় শিরা?মূল্যবান হিরা গুলো?? ফানি’য়েস্ট জোক্ অফ দ্যা ইয়ার।”
—-“গাঁধা!
—-“বাই দ্যা ওয়ে রিক।আজকের পার্টির একটা মূল আকর্ষণ কি জানিস।অ্যা বিউটিফুল ল্যাডি asset -17 blue veil।যদিও আমি দেখিনি,,,ক্যাটরিনা বললো মেয়েটা কোন দেশীয় বুঝার কোনো উপায়ন্তর নেই,তার উপর পলিড্যাকটিলি।
মার্বেল ঠোঁট কামড়িয়ে জানালার দিকে মুখ করে আবার পুনরায় বললো।
—“ড্যাম’য়েইন।যদি সত্যিই এমন কিছু হয় ডিলারদের হাতে না দিয়ে রক্ষিতা বানিয়ে নিবো।
মার্বেল পার্টির জন্যে তৈরি হতেই পিছন ফিরে তাকালো তবে হঠাৎ ইউভান আর সেই কক্ষেই ছিলোনা।যাকে বলে মন্সটার ভ্যানিশ।
রোজকে আলাদা রুমে রাখা হয়েছে, বহি:রাগত বিভিন্ন দেশীয় ডিলারদের কাছে একেকটা খেলনা পুতুলের মতো বিক্রি হয়েছে।নারী সত্তা বাঁচানোর তাগিদে একটা মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।ছুঁড়ি একদম গলার মাঝ বরাবর ঢুকিয়ে দিয়েছিলো।মাত্র কয়েকঘন্টার ব্যবধানে রোজ কই থেকে কই চলে এলো। নিজেকে ভাঙ্গতে দিলো না বরং নিরীহীয় মেয়েটার অসহায়ত্বে জরজরিতো হওয়া দৃশ্যে দেখে, মৃত্যু মুখখানা দেখে হাসলো, জীবন কি এতোটা সস্তা নাকি,কুরুচিপূর্ণ মানুষদের জন্যে নিজেদের জীবন দিয়ে পাপের ভাগিদার হয়ে,
পাপিষ্ঠদের সঙ্গে পবিত্রার কি পার্থক্য রইলো??
শরীরটা যেনো অবশ হয়ে যাবে ভিতরটা পুড়ে যাচ্ছে তবুও রোজ শক্ত হয়ে বসে রইলো।মৃত্যু কোনো কিছুর সমাধান হতে পারে না। পানি খেতে মন চাইছে তবে কেন যে খেতে পারছে না পানিটুকু রোজ নিজেও জানে না।ভিতরটা যেনো পাথর হয়ে জমে উঠেছে। রোজ দোপাট্টা টা সরিয়ে একটু নিঃশ্বাস ছাড়লো।ঠান্ডা বাতাস টেনে নিলো ভিতরে।ফিলিপিন মে’ইলকে বলল,
—“রুমটা একটু খালি করবেন?একটু একা থাকি কয়েকমিনিট।পার্টি শুরু হলে না-হয় এসে নিয়ে যেয়েন।”
মেয়েটা রোজের কথামতো সম্মতি জানিয়ে রুম থেকে বের হতেই দেখলো গ্লাসডোরের গায়ে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ছ’ফুট লম্বা শরীরবৃত্তীয় এক পুরুষ। যার দৃষ্টি দাঁড়িয়ে থাকা রোজের উপর।পুরুষটার হাতের ইশারায় বেরিয়ে গেলো মে’ইল।
অবিনাশী ঝড়ের গতিবেগ থেকেও তীব্র যার নিঃশ্বাসের গতিবেগ। যার মধ্যে নেই কোনো অনুশোচনার বিন্দুমাত্র ছাপ।ক্ষমতা আর স্বার্থের বাহিরে গিয়ে কিছুই করে না সেটা মস্তিষ্কে এনে সামনে এগিয়ে চললো তাও নৈঃশব্দ্য মাফিয়া দ্যা মন্সটার বিচ্। তার পায়ের প্রত্যেকটা পদক্ষেপ তার মস্তিষ্ক শুরু থেকে আজ এই মূহুর্তের সকল পরিকল্পনাগুলো মনে করতে লাগলো।
ইউভান রোজের পিছনে দাঁড়িয়ে পিছন থেকে শক্ত করে চেপে ধরে ফেললো রোজকে।পাথরের মতো শক্ত হাতের বাঁধনে বিদ্যুৎতের ন্যায় কম্পিতো হলো রোজ।খামচে ধরলো রোজের লেহেঙ্গার মধ্যিখানের উন্মু*ক্ত উদরে।উদরে উপর ঠান্ডা হাতের চাপে রোজের পেটের ভেতরের নাড়ীগুলো যেনো এক প্রকার ধ্বংসলীলা চালালো।তড়িৎ বেগে বাড়তে লাগলো কম্পন। হুট করে রোজকে ঘুরিয়ে মুখোমুখি করতেই কয়েকদিনের ব্যাবধান হয়ে উঠলো কয়েকযুগের— মিলন ঘটলো এক জোড়া আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের মতো রক্তিম ধূসর রঙা চোখের সাথে এক জোড়া প্রফুল্ল বাদামী চোখের।রোজ একদৃষ্টিতে ইউভানের ধূসর চোখে তাকিয়ে থাকে।পরমূহূর্তে ইউভান মাস্ক খুলতেই রোজ বিভ্রম থেকে বেরিয়ে ইউভানকে দেখে চোখ সরিয়ে নিলো।ইউভানের মতো পাপিষ্ঠ পুরুষের চোখে চোখ রাখা মানে পাপ বাড়ানো।বড় বড় শ্বাস টেনে দ্বিধাহীন স্বরে বলল,
—-“আরেএএ আপনি কষ্ট করে কেন এখানে এলেন।আমি তো একটু পর আসতাম,আপনাদের কাছে তারপর না-হয় সবাই মিলে…….
বাক্যেউক্তি শেষ করার আগেই রোজের গালে তিব্র বেগে একটা জোরালো চড় পড়লো।রোজের চোখের সামনাটা আরও ঝাপসা হয়ে উঠে।অশ্রুসিক্ত নয়নে রোজ গালে হাত দিয়ে হাসতে লাগলো।ইউভান নিজের কঠোরতার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে রোজের তুলতুলে গালের চোয়াল চেপে ধরলো।
—-“এই শালীর বাচ্চা।বান্দীর বাচ্চা।তুই এতো পীড়াদায়ক কেন বল তো।আরেএএএ তুই তো আমায় জ্বালিয়ে মে’রে দিবি।এই কু*ত্তার বাচ্চা।তোর জিভ টেনে ছিঁড়ে দিবো আমি।”
ইউভান এলোপাতাড়ি চিল্লাতে থাকলো, হুশ জ্ঞান যেনো হারিয়ে বসে আছে।সাউন্ড প্রুফ দেয়াল ভেদ করতে পারলো না, রোজ উল্টো এসে ইউভানের কলার চেপে ধরলো।
—“আমি……????আপনি কুকুর। একটা শয়তান।আমাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছেন।আপনি এনেছেন তাইনা আপনি।কেনো?? অন্যে পুরুষদের রাতের রাণী করতে??লজ্জা করে না আপনার। আপনি মরে কেন যান না।জানো*য়ার একটা।
ইউভানের চক্ষুদ্বয় ততক্ষণে ক্রোধে ফেটে যাচ্ছে।লাল আভা বিরাজমান পুড়ো মুখাবয়ব। হামলে পড়লো রোজের অঁধরে কিনারায়।গভীর চুম্বনের বেগ বাড়িয়ে মুহূর্তে ছেড়ে রোজের বিনুনি শক্ত করে চেপে ধরলো।ইউভানের উদ্দেশ্য যদি রোজকে এখানে আনারি হতো ইউভান তা আগেই করতে পারতো,তার পরেও রোজের চোখে নিজের প্রতি ঘৃণা দ্বিগুন দেখে হাসলো।ঘৃণাকে তীব্র আকারে রূপ দিতে ইউভান গর্জে উঠলো।
—-“উহুম।সুইটহার্ট। ইউ আর রাইট।তোর মতো চালাক রমণীতো আমার দরকার। তুই হলি আমার দাবার মেইন গুটি। হবি বা না কেন।তোকে দিয়ে কতোবড় চালটা না চেলেছি আমি একটু পর টের পাবি।তোর নাগর কই??আসবে না তোকে বাঁচাতে??
রোজের হাত পিছনে নিয়ে টেনে এনে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে বিদ্রুপ ভরা চাহনিতে পৈশাচিক হাসির রেখা টানলো।
—-“কি ভেবেছিলি সুইটহার্ট, ফুল নিবি নাচবি ওই আমার চোখের বিষের সাথে আর আমি তোকে ছেড়ে দিবো??মনে পড়ে?? আমার বাড়িতে বসে ফুল আর চিঠি আদান প্রদানের কথা। লিসা লুকিয়েছিলো না??দেখবি একটা কিছু ওয়েট!
ইউভান রোজের মুখের সামনে একটা ভিডিও ফুটেজ ধরলো।লিসার হাত পা বাঁধা আর তার সামনে নৃশং/স ভাবে মারা হচ্ছে তার বোন মোনাকে আর সে আর্তনাদ করে যাচ্ছে।ভিডিও টা বিভীষিকাময় দৃশ্যে দেখে রোজের ঘৃণায় বমি চলে আসার উপক্রম। মাথাটা ঝিমঝিম দিয়ে উঠলো।মুখ ফিরিয়ে ভাবতে লাগলো একটা মানুষ কতোটা পাশবীক সত্তার হতে পারে তা এই রিক চৌধুরীকে না দেখলে জানতোই না।বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো রোজ।ইউভান চোয়াল শক্ত করে রোজের গাল চেপে ধরলো।
—“ঘৃণা হয় না আমার উপর এতো ঘৃণা।শুধু আমার উপর?? এখন আরও হচ্ছে??হ্যাঁ দেখে নে এটাই আমার সত্যি। Welcome to my dark side sweetheart… সহ্য করে নে আজকের পর থেকে এসবে অভ্যস্ত হতে হবে তোকে।
রোজ এক পা পিছিয়ে গেলো।মাথাটা ভঁ ভঁ করে ঘুড়তে লাগলো।তবে চুপ করে রইলো।নিজের পেটের মধ্যে কথা জমতে দিলো আগে এই পিশাচটার কথাই না-হয় শুনলো।
—-“এই যে এতো কিছুর পরও তোকে আমি ভাঙ্গতে পারি না,আই হেইট ইউ বাট আই লাইক দ্যাট বেবি।এটাই তো দরকার।
রোজের চোখের অশ্রু গড়িয়ে পড়ার আগে ইউভান ধরে নিলো।রোজের ঘুড়িয়ে তার পিঠ নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে রোজের ঘাড়ে চুমু একে দিলো ধীর গলায় বলল,
—-“আমি না ড্রাগ নেই না অনেকদিন হলো।আগে সবসময় নিতাম।যখন থেকে তোর স্পর্শ পেলাম নেশাগ্রস্থ হয়ে গেলাম। কি জাদু জানিস। এই বান্দী।আই হেইট ইউ বিচ্.
…
রোজ নিচুস্বরে মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে বলল,
—“আমি ঘৃণা করি আপনাকে মরে যান।মরে কেন যান না আপনি।”
—-“আরেএএএ জানি জানি আমাকে বাদে দুনিয়ারর সবার উপর তোর বড্ড করুণা।ভালোবাসা।ভালোবাসিস না ঐই আদ্রিয়ানকে বল???ভালোবাসিস??তাতে কি আসে যায়।রিকের এসবে কিচ্ছু যায় আসে না।
ইউভান পরমুহূর্তেই রোজকে চেয়ারের উপর বসিয়ে দিলো, রাগ ক্ষোভ একত্রিতো করে নিষ্ঠুরতার সীমালঙ্ঘন করে রোজের উন্মুক্ত উদরে পরপর কয়েকটা চুমুর রেখা একে, রোজ অনবরত ঘুষিরাঘাত করেও সরাতে পারলো না।এদিকে রোজের অবস্থা শরীর অবশ হয়ে যাচ্ছে।বেনিটির উপর থেকে একটা চৌখা দাড়ালো জাতীয় চকচকে পিন দিয়ে রোজের পেটের মাঝবরাবর আঙুল ঘুড়িয়ে লিখে দিলো—-U V,,,,
লাল হয়ে ফুলে রক্ত জমাট বেঁধে গেলো রোজের ফর্সা পেট।ব্যথাসিক্ত রোজ কৌশলে বেনিটির উপরে একটা ফলের ট্রে থেকে ছুঁড়ি হাতে নিয়ে ইউভানকে শক্ত হাতে ফেলে দিলো মেঝেতে।
রোজ দৌড়ে দরজার কাছে গিয়ে নিজের গলায় ছুঁড়ি ধরলো।রোজের এমন কর্মে ইউভান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে মুখের অবিভ্যাক্তি পরিবর্তন এনে চেয়ারের উপর বসে পড়লো। রোজের চোখ বেয়ে অবাধ্যে অশ্রুধারা গলগল করে পড়তে লাগলো।আর পারছে না।
—-“ওখানেই বসে থাকুন।ছুঁবেন না আমায়।আগুন জ্বালিয়ে দিবো শরীরে।”
ইউভানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো নিজের মাথার চুল নিজে খামছে ধরে নিজেকে নিয়ন্ত্রণের বৃথা চেষ্টা চালিয়ে ফুঁসতে লাগলো।রোজ ঠোঁট উল্টালো।নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।তারপরেও গলার জোর বাড়িয়ে বলল
—-“আপনার বলা শেষ মিস্টার ইউভান রিক চৌধুরী ইউ আর ফিনিশ’ট।বসে থাকুন এখন আমি বলবো আপনি শুনবেন।বসুন বসুন। একটু কি মদ ঢেলে দিবো??গলা শুকিয়ে গিয়েছে নিশ্চয়ই।
রোজের মুখাবয়ব দেখে ইউভান সামনে এগোলো না।কেমন একটা মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে রইলো।গভীর দৃষ্টি ফেলে রেখেছে রোজের দিকে।রোজের চোখে ততক্ষণে কোনো ভীতী, কোনো ভয় কিছু ছিলো না।
নিজের গলায় ছুরি ধরে সাপের ন্যায় ফুঁসতে ফুঁসতে বলল-
—-“ভালোবাসা শব্দটা আপনি মুখ দিয়ে বের করলেন কি করে। আপনি জানেন এর মানে???লজ্জা করলো না বলতে।আর আদ্রিয়ান নামটা উচ্চারণ করলেন কেনো??উনি আর যাই হুক আপনার মতো অমানুষ না।আর ভালোবাসা?? আরেএএ আপনার মতো ব্যক্তি যেদিন আমার অন্তরটাকে জ্বালিয়ে আমায় সর্বহারা করে ছেড়েছে সেদিনে এই মনটা ভালোবাসাকেও ঘৃণা করে।
রোজ একটু থেমে একটা জোরালো নিঃশ্বাস টানলো।পুনঃরায়।
—“আরেএএ আমিও জানি আপনি আমায় আপনার তাশ বানিয়েছেন।সব কিছুতে আপনার উদ্দেশ্য ছিলো।আমাকে যেদিন সমুদ্রপাড়ে রেখে গিয়েছিলেন সেদিনও আমার মন জানতো এটার পেছনেও আপনার উদ্দেশ্য আছে।ভালোই করেছেন।জানেন আমি একটা পরিবার পেয়েছিলাম।মিরাব আপু।আনান বাচ্চাটাকে মনে হচ্ছিলো আমি নিজের গর্ভে ধারণ করেছি।এতো মিষ্টি।খুব আফসোস হতো জানেন যখন মনে হতো একটা ছোট্ট সংসার আমিও ডিজার্ভ করি।নিজের স্বামী সংসার নিয়ে হ্যাপি ফ্যামিলি।যখনি আপনার কথা মনে পড়তো বুকটা মুচড়ে উঠতো। শুরু থেকে সবটা মনে পড়তো।
আরেএএএ বিয়েটাও তো অপবিএ। জোরপূর্বক করেছেন। আচ্ছা।আমি কি এতোটাই খারাপ।হ্যাঁ হয়তোবা আপনার কোনো পাকা ধানে মই দিয়েছিলাম তার শাস্তি দিচ্ছেন।কেনো?? বলুন…আমি কি এতোটা খারাপ??কেন আমাকে এতোটা ধ্বংসের মুখে ফেললেন??আমি কি এতোটাই অযোগ্য??? বলুন।বলুন বুলন।
রোজ দম ছাড়লো।শরীরের সমস্ত শক্তির বিনাশ ঘটলো।
—–“কথাগুলো কেন বলছি জানেন।ভালো লাগছে না আমার।মনে হচ্ছে এই বুঝি প্রাণ পাখিটা উড়ে চলে যাবে।তবে আমি এতো সহজে মরতে চাই না রিক চৌধুরী। আমি আপনার আফসোস দেখতে চাই।
রোজ ক্রোর হাসলো।পুনরায় শুধালো।
—-“আমার কথা বাদ।কয়টা??? কয়টা নারীর সাথে রাত কাটিয়েছেন বলুন তো।জানেন এই যে কিছুক্ষণ আগে আপনার স্পর্শ পেলাম তখনও আপনার বডির থেকে মেইলি সুভাস আসছিলো।যদিও এসব নতুন কিছু না তবে আমার ঘেন্না হয় ওই হাত আবার আমাকে স্পর্শ করলে।
ইউভান সামনে এগুতে চাইলে রোজ আবার ছুড়িটা গলদেশে ধরে।
—“ফা*কিং ডার্ক রোজ।এই রুম থেকে এক পাঁ বের করবি না।জানে মেরে ফেলবো।তোর সব ইউজলেস প্রশ্নগুলো বড্ড পীড়াদায়ক। এক পাঁ যদি নড়িস গিলে খেয়ে নিবো।তুই কি ভাবছিস মুক্তি পাবি??য’মরাজের কাছ থেকেও তোকে তুলে নিয়ে আসবো।”
রোজ হাসলো।
—-“মাস্কটা পড়ে নিন।ক্যাপটাও।পড়ুন পড়ুন।আজ যখন আপনার চোখ দুটোর দিকে তাকালাম না মনে হলো চিনি।এ চোখ দুটো আমি আরও কোথায় দেখেছি।খুব চেনা।কারণ এরকমি এক জোড়া ধূসর চোখে আবিষ্ট হয়েছিলাম বহুদিন আগে।এক মুহূর্তের জন্যে মনে হচ্ছিলো আপনি সে তবে না আপনি তো একটা অমানুষ। পশুর থেকেও অধম।আমার যন্ত্রণা গুলো অনুভব করার ক্ষমতা আপনার নেই।নিজের হাতে এক মগ পানি ঢেলে খায় নি এই রোজ তূর্জ চৌধুরী। সেখানে আপনি আমাকে দিয়ে কফি বানিয়েছেন।এক বার না দু’বার না বারবার,,, অপমান করেছেন মনে পড়ে???।জানেন আমি সেদিন কতোটা যত্ন সহকারে জীবনের প্রথম কফি বানিয়েছিলাম।কিন্তুু আপনি কি করলেন আমার কফি আমার পায়ে ফেলে দিলেন।পাঁ টাও পুড়ালেন হৃদয়টাও পুড়িয়ে দিলেন।আপনার মতো পাপিষ্ঠ পুরুষকে শুধু ঘৃণাই করা যায়।কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছেন আমায় নিজ চোখে দেখে নিন।কুলাঙ্গারের বংশধর।
আজ কয়টা নারীর সংস্পর্শে যাবেন।আমাকে বিডে উঠানোর পর।কোথায় কোথায় টাচ্ করবেন??
রোজ একটা শুকনো ঢুক গিললো।ইউভানকে স্হির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল-
–“আপনার সাথে কথা বলার রুচিবোধ জাগে না আমার কেন বলছি জানেন আমি মনে হয় বাঁচবো না,গলা জ্বলে যাচ্ছে,ভেতরটা পুড়ে যাচ্ছে।পানিও খেতে পারছি না।পেটের মধ্যেকার সকল নাড়ীগুলো যেনো একএে চেপে ধরছে আমায়।তবে আমি দেখুন একদমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি আপনার সামনে কারণ আপনার দেয়া যন্ত্রণার কাছে শারীরিক যন্ত্রণা বড়ই নগন্য। মরতে চাই না আমি,,,,, চাই না।আপনার আফসোস না দেখে কি করে মরতে পারি বলুন।তবে নিজের ভিতরকার আত্মা আজ নিজের উপর বিশ্বাসঘাতকতা করছে।হয়তো-বা এগুলোই এই বান্দীর বলা শেষ কথা আপনার জীবনে। দেখা যাক এই নারীর ক্ষমতা ঠিক কতোটুকু।
রোজ আর একমুহূর্ত দেরি না করে নিজের হাতের ছুড়িটা ইউভানের দিকে তাক করে রুম থেকে বের হয়ে যায়।বাহির থেকে গ্লাসডোর লক করে দেয়।ছুড়িটা গিয়ে ইউভানকে পাশ কাটিয়ে দেয়ালে গেঁথে যায়, রোজের হঠাৎ এমন কান্ডে ইউভান তরিঘড়ি করে ইয়ারপিস কানেক্টেড করে তুষারকে কল লাগায়।তুষারকে প্যালেসের ভিতর প্রবেশ করতে ব’লে গ্লাসডোর ভাঙ্গতে উদ্যত হয়।
পার্টির পরিবেশটা আলো আঁধারির এক বিকৃত উৎসবের। যেখানে হাসির শব্দগুলোও কেমন যেন ধারালো, যেনো প্রতিটি অট্টহাসির নিচে লুকিয়ে আছে দাঁত। ব্রুস্টার প্যালেসের বিশাল হলরুমে ঝুলছিল স্ফটিক ঝাড়বাতি, দেয়ালের গা বেয়ে নেমে আসা গাঢ় মেরুন পর্দাগুলো যেন বহু রাতের গোপন আর্তনাদ গিলে ফেলে ভারী হয়ে আছে। বাতাসে ভাসছিল দামি সিগারের ধোঁয়া, অচেনা মদের ঝাঁঝ, আর ক্ষমতার নোং/রা গন্ধ যা কেবল সেই মানুষরাই চিনতে পারে, যারা মানুষের মূল্য টাকা দিয়ে মাপে।হলের চারপাশে ছড়িয়ে ছিল সেই পনেরোজন ভিন্ন ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন ভিন্ন দেশ, কিন্তু চোখে একটাই ভাষা,লালসার নিষ্ঠুরতা।
প্যালেসের বাহিরে ততক্ষণে আকাশের বুক ছিড়ে কয়েকটা হেলিকপ্টার ল্যান্ডিংয়ের শব্দ ভেসে আসে।সেখান থেকে বের হতে থাকে কয়েকজন কালো পোশাকধারী গার্ড। সর্বশেষ হেলিকপ্টার থেকে একজন লম্বা শ্যামবর্ণের পুরুষ নামলো যার চোখ ব্যতীত সব কিছু ছিলো কালোপোশাকে ঢাকা।—-প্যালস রক্ষিতারা ততক্ষণে বুঝতে পেরে গিয়েছে এ আর কেউ না —-লায়ন সিম্বলের সেই ভোলকভ।তবে তার হঠাৎ ভোলচর দ্বীপে এমন পদাঘাত বড়ই অদ্ভুত ঠেকলো। ভারী পায়ে ভোলকভ তার নেএপল্লব সিংহের ন্যায় লালাভ রেখা ধারণ করে এগিয়ে এলো।প্যালেসের বাহিরের বাতাস কম্পিত হতে লাগলো।ষাঁড়ের মতো ফুসফুস শব্দ শুধু।
অসুস্থ পরিবেশের নাট্য মঞ্চে উপস্থিত হলো রোজ পিছনে ভয়ার্ত পায়ে এগিয়ে এলো আরো বেশ্ কিছু নারীসত্তা।রোজের পুরো মুখ লম্বা দোপাট্টা দিয়ে ঢেকে রেখেছে।তবে সময়ের প্রহর যত যাচ্ছিলো শরীরটা ততটা নিস্তব্ধতা ছিঁড়ে ভেতর থেকে শেষ হতে থাকলো।ম’দের গন্ধ গুলো ডিজে মিউজিকের শব্দ সব কিছু মিলে এক প্রকার পরিবেশটাকে বিকৃত সত্তাতে রুপ দেয়।তবে রোজ কোনো কিছু তে কর্ণপাত না করে হিংস্র বাঘিনীর ন্যায় হল রুমের মাঝ অংশে দাঁড়ালো। ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যে হাসির রেখা টেনে টুংটাং শব্দে বাতাস ভারী করে সকল যন্ত্রণা বিসর্জন দিয়ে পাথরের ন্যায় গেয়ে উঠলো,তার প্রত্যেকটা ঘূর্ণয়মান পদক্ষেপে ছিলো অবিনাশী বিধ্বস্ত সত্তা,আহত কিন্তু পরাভূত নয়।-
Humne dhadkan dhadkan karke,
Dil tere dil se jod liya
Aankhon ne, Aankhein padh-padh ke,
Tujhe wird baanake yaad kiya
মুহূর্তেই হল রুমের সদর দরজা ঠেলে ভারী পায়ে হনহনিয়ে ঢুকলো ভোলকভ।তার আগমনে উপস্থিত প্রত্যেক মাফিয়ারা হাতের ওয়ানেইনের গ্লাসে স্থির চোখে তাকিয়ে হতভম্ব হয়ে তাকালো।মাফিয়া সংখ্যা হয়ে উঠলো ষোলো। ভোলকভ নিজের বুক পকেট থেকে সাইলেন্সারযুক্ত বন্দুকটা বের করে রাশিদ আল হামজার পাশে এসে বসে পড়লো।রোজের নৃত্যের তালেতালে পুরো প্যালেসের দেয়াল প্রতিধ্বনি হলো –
Tujhe payaar kiya, to tuhi baata,
Humne kya koi jurm kiya
Aur jurm kiya to bhi baata.
Yeh jurm ki jurm ki keya hein saja??
আর ঠিক তখনই, ওপরের করিডোরে আবির্ভূত হলো ইউভান।রেলিং আঁকড়ে ধরে সে দাঁড়িয়ে রইল হাতের ওয়াইনের বোতলে হিংস্র পশুর মতো চাপ প্রয়োগ করতে লাগলো, নিচে ভোলকভ উপরে ইউভান,পরিস্থিতি ভয়াবহতার আচ পেয়ে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা তুষার গার্ডদের ওয়াকিটকিতে বলে দিলো প্রস্তুুত থাকতে।এদিকে ইউভানের হাতের চাপে কাচ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে নিচে পড়তে লাগলো ছিটকে ছিটকে। লাল তরল র*ক্তে ঝরে পড়লো পাথরের মেঝেতে,তারপেও ঠোঁটের কোণে পৈশাচিক সেই চিরচেনা হাসির রেখা। রোজ থমকালো। দোপাট্টার আড়াল থেকে সে তাকালো ওপরে,সরাসরি ইউভানের চোখে।ভাঙা গ্লাসের শব্দ মিলিয়ে যেতেই রোজ আবার গেয়ে উঠলো, এবার আরও দৃঢ়, আরও নির্ভীক—
Tumhe hamse badhkar duniya,
Duniya tumhe hum se badhkar,
Dil galti kar behta hein,
Galti kar behta hein dil
রোজ আচমকা মেঝেতে পড়ে যেতেই মাথার দুপাট্টাটা মেঝেতে পড়ে যায়।পুরো হলরুমে জলজল করে উঠে রোজের মুখাবয়।
নিঃশব্দ। তারপর ফিসফাস। তারপর গ্লাসে গ্লাস ঠোকার শব্দ।কেউ তার নাম জানে না, কেউ জানত না সে কে,শুধু ব্লু ভেইল।হল রুমের প্রত্যেকটা দেয়াল যেনো রোজের মন কাড়া রুপে আজ মুগ্ধ হয়েছে।সকলের দৃষ্টি তার দিকে।যেনো হলরুমের মাঝে একটা তরতাজা গোলাপ ফোটে আছে। ~~Real defination of Rose~~
তবে উপস্হিত ইউভান, ভোলকভ ব্যতিত পনেরোজনের চাহনিটা ভালোবাসা না হলেও , লালসার ছিলো না,এটা ছিল মালিকানার ক্ষুধা।নিভৃতে রমণীটাকে পাওয়ার আকাঙ্খা।
ওয়াইনের গ্লাসে চেয়ারস্ এর শব্দ –এর নিলামি শুরু হোক।”
এক মুহূর্তে নাচের মঞ্চ বদলে গেল বিক্রির মঞ্চে।
রোজের চারপাশে দাঁড়ানো মানুষগুলো আর মানুষ রইল না,তারা হয়ে উঠল দর হাঁকানো সংখ্যা।
কয়েক কোটি,,,,,
তারপর আরও কয়েক কোটি,,,,
টাকার অঙ্ক বাড়ছিলো অনবরত,সর্বশেষ এইট বিলিয়ন ডলার।যার বিড দিলো মার্বেল ব্রিস্ট।
রোজ অদ্ভুতভাবে হাসতে লাগলো। ইউভানের দৃষ্টি আজ ঘুনাক্ষরেও অন্যেদিকে ধ্যানমগ্ন হলো না,এতক্ষণে ইউভানের হাত তুষার ধরে রাখলো।ইউভান নিজের ফর্মে এসে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলো।গোলাকার সোফার মাঝে একটা বক্স রাখলো,এদিকে ব্লু ভেইলকে পাওয়ার খুশিতে মার্বেল উল্লাস করার আগে ইউভানের দেয়া বক্স টা খুললো পরক্ষণেই মার্বেলের চোখ চড়কগাছ। নিজ চোখে বিশ্বাস করতে পারছিলো না এগুলো
“অবসেডিয়ান শিরা”
এর থেকে দামী মূল্যবান বস্তুু বর্তমান উপস্থিত নেই যা ব্লু ভেইলকে কিনতে পারবে।উপস্থিত সকলে ইউভানের এমন কর্মে একটু অনেক বেশি অবাক হলো কি আছে এই মেয়ের মাঝে যার বদলে এতো বছরের গুপ্ত সম্পদ বিলিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করলো না রিক আলবার্ট। তবে এতো কিছু মাঝেও রোজ কেমন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিলো।ইউভান ভোলকভের সামনে এসে মুখোমুখি বসলো।সকলের উদ্দেশ্য বলল,
I bought the girl for this obsidian vein. I praised your eyes too,But from now on these eyes should not fall on Rick Albert objects[এই অবসেডিয়ান শিরার বিনিময়ে আমি মেয়েটাকে কিনে নিলাম।আপনাদের চোখের প্রশংসাও করলাম সাথে।, তবে আজকের পর থেকে এই চোখ যেনো রিক আলবার্টের জিনিসের উপর না পড়ে।]
তবে ইউভানের কথা শেষ করার মুহূর্তেই চারদিক থেকে ভোলকভের লোকজন প্যালেসের ভিতরে ঢুকতে শুরু করলো, ভোলাকভ এসেই ইউভানের চোয়াল বরাবর একটা জোরালো ঘুষি মেরে দিলো।
“Bastarddddddddddddddd”
পুরো প্যালেসে রণক্ষেএ হলো।একে একে গার্ডা ঢুকে গুলি বর্ষণ করতে লাগলো।ভোলাকভকে মেঝেতে ফেলে ইচ্ছেমতো অনবরত ঘুষিরাঘাত প্রয়োগ করলো ইউভান।মুখের উপর থেকে মাস্কটা খুলতে পারলো না দানবীয় সত্তা জাগ্রত করে সিংহের ন্যায় হুঙ্কার দিয়ে উঠলো।
—“সন অফ অ্যা বিচ্। কীর্তীক কে মেরেও তোকে আনতে পারলাম না।আজ এলি কেন শুয়োর।আমার সন্দেহ ঠিকি ছিলো।তোর মতো দুমুখো সাপটাকে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই দুনিয়াতে।——ভোলকভের জোরালো ঘুষির আঘাতে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে লাগলো ইউভানের নাক বেয়ে।ইউভানে ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের মতো ভোলকভের গলায় পাঁ চেপে ধরলো ভোলকভের দিকে গান পয়েন্ট করতেই পরক্ষণেই ইউভানের ওয়াকিটকিতে তুষারের কল পেতেই ইউভান সিঁড়ির নিচের দিকটায় তাকালো।রোজের গোঙানির শব্দ গোলাগোলি শব্দ বারুদের ঝাঁঝালো গন্ধ ভেদ করে ভোলকভ আর ইউভানের কানে এলো।তুষার ইউভানের কথা মতো রোজকে সরাতে চেয়েছিলো তবে রোজের অবস্থা ততক্ষনে ভয়াবহ দিকে মোড় নিলো।শারীরিক পীড়া,অসহ্য যন্ত্রণায় নিস্তেজ হয়ে পড়লো।ভোলকভ দৌড়ে এসে রোজকে মাথা চেপে ধরলো, অস্হির ভঙ্গিমায় ডাকতে থাকলো,কপাল বেয়ে ঘাম ঝড়তে লাগলো।মুহূর্তে ইউভান ভোলকভের পীঠ বরাবট লাথি মেরে গর্জে উঠলো উচ্চশব্দে, যেনো শূন্য বাতাস ছিঁড়ে খাবে-
-“Dont touch her Adriana Shah volkov!Don’t touch…..she is already mine!mine!mine!mine!her body, her soul,her every trembling breathe, she only belongs to me!
মুহূর্তেই আদ্রিয়ান তার মুখের উপরের মাস্কটা মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে দাঁতে দাঁত পিষে রোজকে ধরলো কাঁপন ধরা কন্ঠে,বলল,
—–“রোজের যদি কিছু হয়, আমি তোকে সত্যিই খু*ন করবো ইউভান,ধ্বংসের খেলায় নামতে বাধ্যে করলি।আমি চুপ থাকতে চেয়েছিলাম।সিংহকে গর্ত থেকে বের করে এনেছিস।”—–রোজের দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে পুনরায় বলল,
—“শুধু এখানেই দূর্বল হয়ে গেলাম”
—-“সররররররর!তোকে আমি পড়ে দেখে নিবো জানো*য়ারের বাচ্চা।”—-ইউভান রোজের কাছে হাঁটু গেঁড়ে বসলো।একটা শুকনো ঢুক গিলে রোজের গালে হাত রাখলো-
—“ইউ ফা*কিং ডার্ক রোজ।ওপেন ইউর আইস্।চোখ খোল শালী।আবার ছলনা।এই এক জীবনে তোকে শুধু কিনেই গেলাম।পেলাম আর না।চোখ খোল।
এদিকে দূর থেকে ইউভান আদ্রিয়ান দু’জনকেই ফুল ফোকাস করে রাখছিলো মার্বেল।এমন দৃশ্যে তার ঠোঁটের কোণে শয়তানি হাসির রেখা টানতেই রাইফেল নিশানা করলো ইউভানের দিকে। ইউভানের কানে বেজে উঠে রোজের বলা বাক্যেধ্বনি যেটা সে ব’লেছিলো,নাড়ীভুঁড়ি ঝলসে যাচ্ছে,পেটের ভিতরটা আগুনে জ্বলে যাচ্ছে।
ততক্ষণে পেলভিক ছাপিয়ে গলগল করে রক্ত গড়াতে লাগলো মার্বেল মেঝেতে, ইউভানের হাতে র*ক্ত লাগলো,মুহূর্তেই যেনো পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তুটা এই পাশবিক মানবের হাত স্পর্শ করলো।
ইউভান কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না তুষারকে হেলিকপ্টার রেডি করতে বললো। এদিকে আদ্রিয়ানের শরীর ততক্ষণে ঠান্ডায় জমে যাচ্ছিলো, ইউভান বুঝতে না পারলেও আদ্রিয়ান হাত কাঁপতে লাগলো।হঠাৎ তার দৃষ্টি মার্বেলের উপর পড়তেই দেখলো মার্বেল এদিকেই গান পয়েন্ট করে রেখেছে, আদ্রিয়ানও উল্টোদিকে বন্দুকের গুলি ছুড়লো মার্বেলকে টার্গেট করে।রোজের অবস্থা অনবরত শোচনীয় দেখে আদ্রিয়ান ইউভানের উদ্দেশ্য বলে উঠলো-
—–“”লিভ দিস্ প্লেইস্, রাইট নাও।”
ইউভান রোজকে পাজকোলে তুলে নিতেই বাতাস বেয়ে একটা গুলি ইউভানের দিকে বিদ্যুৎ বেগে ছুটে এলে ভাগ্যক্রমে তা আদ্রিয়ান শাহ ভোলকভের পিঠে মাঝে ঢুকে যায়।
চলবে??
আজকে রেসস্পন্স টা আপনাদের উপর,রেসপন্স কম আসবে তো এক সপ্তাহ পড় গল্প আসবে আর করলে একদিন পর কষ্ট করে হলেও ,,,,আমি এবার একবারে সিরিয়াস ।ভালো লাগলেও মন্তব্যে করুন খারাপ লাগলেও।কাঁচা হাত ভুলত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দিবেন আশা করছি।
কি থেকে কি হলো যারা বুঝতে পারছেন না।সমস্যা নেই বুঝতে পারবেন ধৈর্য ধরুন।
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ২৬
-
Love or hate পর্ব ১৩
-
Love or hate পর্ব ১৬
-
Love or hate পর্ব ১৮
-
Love or hate পর্ব ২৫
-
Love or hate পর্ব ৪
-
Love or hate পর্ব ১৯
-
Love or hate গল্পের লিংক
-
Love or hate পর্ব ১৫
-
love or hate পর্ব ১