Love_or_Hate
|#পর্ব_১৯|
ইভেলিনা_তূর্জ
🚫প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্তমনস্ক দের জন্যে
কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
শীপটা মিলিয়ে যেতেই রোজ আঙুল থেকে রিংটা ছুঁড়ে ফেলে দেয় সমুদ্রের পানিতে।ইউভানের হেলিকপ্টার ক্রোজশীপের ছাঁদে ল্যান্ড করার মুহূর্তে দুজন কালো পোশাকধারী লোক এসে পশুর মতো লোকটার লাশটাকে টেনে শীপে উঠায় যেনো এটা কোনো মানুষের দেহ না একটা বস্তা।কতোটা নিষ্ঠুরতার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠলো রোজের চোখে।
তবে প্লাটিনামের এক বিরল পাথরের রিংটা রোজ ফেলে দিলেও সমুদ্রের জোয়ারের স্রোতে ভেসে যেতে পারিনি, ঠিক তখনই সুমদ্রের জোয়ারের ঢেউয়ের এক তীক্ষ্ণ স্পর্শ রোজের পায়ের আঙুলে লাগলো। যেন সমুদ্র নিজেই তাকে থামিয়ে দিলো। রোজ চমকে নিচে তাকালো।ঝিলমিল করছে করতে সেই প্লাটিনামের রিংটা ঘুরছে।ঠিক যেন কোনো অভিশপ্ত প্রতিশ্রুতি। কাঁপা হাতে রোজ ঝুঁকে পড়ে, জল ভেঙে রিংটা তুলে নেয়।রাগের বশে আংটিটা ফেলে দিলেও রোজ ইতিমধ্যে খেয়াল করেছে এটা সাধারণ কোনো আংটির মতো ছিলোই না,এমন লাল পাথরের রিং খুবই বিরল,বর্তমান সময়ের কোনো রিং বলে মনে হচ্ছে না।তবে রোজের ছোট্ট মস্তিষ্কের নানা প্রশ্ন হানা দিলো স্থির পায়ে দাঁড়িয়ে আনমনে বলতে লাগলো,
-“এসব কি হচ্ছে আমার সাথে। শয়তান লোকটা চলে গেলো??সত্যি দেখছি তো আমি??ওনার উদ্দেশ্যটা কি কেন এমন করে।কি খেলা খেলতে চায় আমার সাথে,আমি এখানে জানলো কি করে??!!!”-মুহূর্তেই রোজ মাথা চেপে ধরলো। পাগল পাগল লাগছে তার,
-“নাকি এড’শ উনি??ওনি বলেছেন??না ওনি তো আমায় সাহায্য করে চলছেন।মানুষটা ভালো।তবে আর না আমায় জানতে হবে অনেক কিছু অনেক কিছু।”
ততক্ষণাৎ রোজ হাতে ধরা আংটিটা চোখের সামনে ধরে।
-“কোথায় গেলো ডেবিল টা।তবে কি আমায় মুক্তি দিয়ে দিলো??কিন্তুু এটা কেন আমায় দিলো এটাতো ওনার বংশের কারোর মনে হচ্ছে।অনেক আগের, এমন বিরল দামী রিং আমায় দেয়ার কি মানে।উফফ!!…..
রোজের চোখ ছলছল করছে।মাথায় হাজারটা প্রশ্ন মৌমাছির চাকের মতো বাসা বাঁধছে।রোজ মুহূর্তেই হাত-পা ছুঁড়তে লাগলো।চিৎকার করে মন হালকা করতে লাগলো।মনে ভিতর হাজারটা গালি দিতে থাকলো ইউভানকে। জনমানবহীন সমুদ্র তটে গলা ছাড়িয়ে বললো।
-“শুনোন ডেবিল।আপনি কি ভেবেছেন যা খুশি তা করবেন??অমানুষ একটা, জন্তুও আপনার থেকে ভালো।আপনার মতো নিকৃষ্ট মানব পৃথিবীতে বেঁচে কেন থাকে??আমি জানতাম আপনার মতো শয়তান আমায় খুঁজে বের করে ফেলবেন।আমি আপনার মুখটাও আর দেখতে চাই না। না মানে না।আমি…
রোজ একটু থামলো।
“আমি আপনাকে ডিভোর্স দিবো। ” আপনার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে জীবনের শেষ পর্যন্ত লড়বো।কিলার! কিলার! কিলাররররররররর!!!!!আপনি……..”
রোজ ফুঁফাতে লাগলো,
-“আপনি আমায় দিয়ে একটা মানুষকে মেরে ফেলেছেন।আপনার তো হে’লও ঠাঁই হবে না।”
বুকের ভেতর কেমন একটা শূন্যতা, আবার অদ্ভুত ভার।দূরে মিলিয়ে যেতে থাকা ক্রুজশিপের দিকে তাকিয়ে রোজ দাঁড়িয়ে থাকে দীর্ঘ সময় যেখানে ইউভান দাঁড়িয়েছিলো, যেখানে সে একবারও পেছন ফিরে তাকায়নি। রোজের চোখের কোণে জমে ওঠা জল মুছে, কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পেরে রিংটা শক্ত করে মুঠোয় ধরে শেষমেশ জামার পকেটে ঢুকিয়ে নেয়।মন কে শক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে রোজ।চোখ জোড়া বন্ধ করে জোড়ে জোরে শ্বাস টানতে থাকে। সমুদ্র স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে পার্থনা করতে থাকে যেনো আর কোনোদিন ইউভান নামক ঝড়ঁ তার ভাগ্যের দোড়গোড়ায় ছায়া না মারাতে পারে।
রোজের মনের ভিতর অজানা ভয় তাকে কুঁড়েকুড়ে খাচ্ছে।শব্দহীন পায়ে একটু একটু করে হাঁটতে লাগলো বালির উপর দিয়ে। চোখমুখ লাল হয়ে ফুলে উঠেছে।ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে ভেসে আসে একটি শান্ত, অথচ শীতল কণ্ঠ।একটা প্রশ্ন, যা সমুদ্রের নীরবতাকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়
“তোমাকে বারণ করিনি জায়গা থেকে নড়বে না।একা একা কেনো এলে রোজ।”
আদ্রিয়ানের কন্ঠস্বর শুনে রোজ একটু শান্ত হলো।কোথাও একটা অজানা আশ্বাস খোঁজে পেয়ে পিছনে তাকাতেই দেখতে পায় আদ্রিয়ান একদৃষ্টিতে রোজের দিকে তাকিয়ে আছে।মনের ভেতর ক্রোধ বাসা বেঁধে আছে তা মুখে স্পষ্ট তাও কন্ঠ শান্ত। যেনো সমস্ত রাগ ক্ষোভ বিসর্জন দিয়ে লোকটা তার সামনে এসে দাঁড়ায় বারবার।পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।পাশে আনান আইসক্রিম খাচ্ছে।আরেকটা রোজের সামনে এসে ধরে বলল,
-‘নাও তুমিও খাও রোজ।তবে পাপা তোমার জন্যে মিন্ট কিনে নি”
রোজ হাতে নিলো আসলেই এটা মিন্ট ফ্লেভার ছিলো না।চকলেট ফ্লেভার। যা রোজের ফেভারিট।রোজ হতোবাক হয়ে আদ্রিয়ানের দিকে তাকালো।রোজকে তাকিয়ে থাকতে দেখে গলা খাঁকড়িয়ে বলল,
-“কি দেখছো।বেশি হ্যান্ডসাম লাগছে নাকি আজ??”
রোজ আনানের হাত ধরে সামনে হাঁটতে লাগলো।আদ্রিয়ানও হাঁটলো।
-“হ্যান্ডসাম আপনি না,হ্যান্ডসাম তো আনান বেবি।আপনাকে না বলেছি মিন্ট আনতে,,,, চকলেট ফ্লেভার কেন আনলেন??”
-“কেনো তোমার পছন্দ না??”
-“আমার পছন্দ আপনি কি করে জানলেন??”
আদ্রিয়ান একটা বড় সর ঢোক গিলে বলল,
-“আমি কি করে জানবো, আমারও এটাই পছন্দ তাই এনেছি।”
আদ্রিয়ানের কথা পাশ কাটিয়ে আনান চট করে বলে উঠে,
-‘মিথ্যা কেন বলছো পাপা??তোমার তো ভ্যানিলা পছন্দ। তুমিতো চকলেট কেক ও খাও না।you are lying papa!!!ohh no!”
তবে আদ্রিয়ানকে অবাক করে দিয়ে রোজ তার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে মারে,
-“তাই নাকি??আপনি জানেন আমি এই পৃথিবীতে এখন আর কোনো মানুষকে বিশ্বাস করি না??আপনাকে বিশ্বাসের ঘরে একটু স্থান দিয়েছি বিশ্বাস ভাঙ্গবেন না!!সত্যি করে একটা কথা বলবেন???”
আদ্রিয়ান একমুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।মনের মধ্যিখানে প্রবল ঝড় যেনো বয়ে যাচ্ছে।তারা হাঁটতে হাঁটতে গাড়ির কাছে চলে এসেছে, আদ্রিয়ান আনানকে গাড়িতে বসিয়ে। গাড়ির পেছনে ডিকির কাছে গা হেলিয়ে দাঁড়ালো। রোজ ও এলো।আদ্রিয়ান রোজের দিকে তাকালো না সামনের অনিন্দ্যনিয়ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ দৃষ্টি রেখে ব’লে,
-“তোমার প্রতিটা কথা শুনতে আমি বাধ্যে রোজ।মন খুলে বলতে পারো।বিশ্বাসের কথা বলছো??
আদ্রিয়ান একপলক রোজের দিকে তাকিয়ে নিজের অশান্ত হৃদয়কে বন্দি রেখে বলল,
-“একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর স্থান তো দিতেই পারো তাই না??তোমার বিশ্বাসের ঘরে একটি জায়গা দিয়েছো???এটা নিতান্তই সাধারণ ঠুংকো শব্দ হতে পারে তোমার কাছে। তবে এ শব্দটা আমার মনকে যে ছিন্ন ভিন্ন করে তোলছে???এক কি করবো বলো???”
-“মানে???”
-“বুঝতে হবে না বলো।কি জানতে চাও??”
-“আপনার সাথে আলবার্টদের কি সম্পর্ক?? “
রোজের এমন চতুরতার সমেত প্রশ্ন শুনে আদ্রিয়ান কিঞ্চিৎ হাসলো।রোজ চাইলে তাকে ইউভানের কথা জিজ্ঞেস করতে পারতো তবে তা করে নি।
-“মেইন পয়েন্টে আসো।রিক আলবার্টের কথা বলছো??”
রোজ কোনো প্রতিউত্তর করলো না।লোকটার নাম উচ্চারণ করতেও তার বিবেকে বাঁধে।
-“যা বলছি তার উত্তর দিন!”
-“তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।বিজনেস রাইভাল দ্যাটস ইট।
রোজ আর কিছু বললো না।তবে এই ভেবে আশ্চর্য হলো যে আদ্রিয়ান তাকে কিছু জিজ্ঞেস করছে না।
-“আপনি আমার ব্যপারে জানতে চাচ্ছেন না কেনো??
-“প্রয়োজন নেই।”
রোজ ভাবলো আলবার্ট ম্যানশনে রোজ মেইড হিসেবে ছিলো এটা না জানার কি আছে।আর এমনিতেও লোকটা তার জন্যে যা করেছে তা অনেক কিছু।
-“সেদিন কি বলেছিলে যেনো। তোমার নানার বাড়ি এদেশে??ইন্টারেস্টিং তো।চাইলে তাদের খুঁজে বের করতে পারো।আমি হেল্প করতে পারি।”
রোজ তাচ্ছিল্য করে হাসলো।
-“আমারও প্রয়োজন নেই।আমি একটু একা শান্তিমতো বাঁচতে চাই।নিজের জন্যে বাঁচতে চাই।ক’টাদিন একটু শান্তি চাই।তারপর পাহাড়ে আমি যাবোই।আর আপনি নিয়ে যাবেন আমাকে সেখানে।”
-“ওকে ম্যাম।আমি কি চাই জানো???”
-“বলুন।’
-“তুমি মেন্টালি স্ট্রং থাকো।”
এতোক্ষণেও রোজ একটা বারের জন্যেও ইউভানের কথা বললো না।ইউভান যে তুরস্ক অব্দি চলে এসেছে তাও রোজ বললো না।তবে তার কাছে বরই অদ্ভুত ঠেকলো,আদ্রিয়ান কতটুকু জানে তার ব্যপারে,শুধু নিঃশব্দে তাকে প্রটেক্ট করতে চায়।তবে রোজ আদ্রিয়ানের ব্যপারে ফোকাস করতে চায় না,আদ্রিয়ান, মিরাব,আনান এরা সকলেই এখন তার নিজের পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছে।বেশিদিনের পরিচিতো না হলেও মানুষগুলো তো ভালো, এতো কিছু ভেবে কি হবে, একটুকরো আশ্রয় তো পেয়েছে।তবে ততক্ষণাৎ ইউভানের কথা মাথায় আসতে রোজ চট করে ব’লে উঠে,
“-বাসায় চলুন।মিরাব আপু কখন আসবে??”
-“মিরাব বাসায় যেতে রাত হবে”?
-“আচ্ছা তাহলে চলুন”!
আদ্রিয়ান রোজকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে পরে গাড়ি নিয়ে। মাঝ পথে যদিও তারা তিনজনি একটা ফাইভস্টার রেস্টুরেন্টে বসে দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়েছে।রোজ এ প্রথম বারের মতো তুরস্কের বিখ্যাত জনপ্রিয় কিছু খাবার খেলো।যদিও অন্যে দেশের খাবারগুলো যতোই মজা হউক না কেনো নিজের মাতৃভূমির চিরচেনা খাবারের স্বাদগুলোর থেকে বেশি ভালো লাগা কাজ করাতে পারে নি।আদ্রিয়ানের গাড়ি এখন কারাহিসারের ব্ল্যাক সি থেকে অনেকটা দূরে চলে এসেছে।
ইউভানের বিশাল ক্রজশীপ তুরস্ক জলপথ পেরিয়ে রাশিয়ার সমুদ্রসুমান্তে এসে পোঁছেছে।ইউভান রিক আলবার্টের বিলাসবহুল ক্রুজশীপটা সমুদ্রের বুকে ভাসমান এক অভিজাত দানব।সাদা-কালো ধাতব শরীর, কাঁচে ঘেরা ডেক, নীল আলোয় জ্বলজ্বল করা করিডোর সবকিছুই এত নিখুঁত, এত শান্ত যে বাইরে থেকে দেখলে বোঝাই যেতো না, এই সৌন্দর্যের ভিতরে কতগুলো শয়তানি নিঃশ্বাস লুকিয়ে আছে।চামড়ার সোফা, মার্বেলের ফ্লোর, ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি প্রতিটা জিনিস যেনো টাকার নয়, ক্ষমতার গন্ধ ছড়াচ্ছিলো।
কেবিনের ভেতরে আলো ছিল মৃদু, সোনালি। জানালার ওপারে অন্ধকার সমুদ্র, ঢেউয়ের ছায়া দেয়ালে কাঁপছিলো ঠিক যেমন ইউভানের চোখের ভেতর কাঁপছিলো কিছু অশান্ত, কিছু হিংস্রতা।
ইউভান টেবিলের ধারে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এক হাতে রেড ওয়াইনের গ্লাস, অন্য হাতে ব্যান্ডেজ পেঁচানো তালু, এতোক্ষণ যাবৎ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভেঙ্গেচুড়ে মেঝে ফেলে দিয়েছে ইউভান।ব্যান্ডেজ পেঁচানো হাতে সে গ্লাস ঘুরাচ্ছে ধীরে ধীরে,তুষার এতোক্ষণ যাবৎ ইউভানকে শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো।ফ্লোরের কিছু অংশে ড্রা*গ ছিটকে পড়ে আছে।তুষার পিছনে দাঁড়িয় বলল,
-“তোকে আমি বারবার নিষেধ করার পরও বিয়ে করেছিস,একটা সাধারণ মেয়ের জীবন নিজের সাথে জড়ানো কি খুব বেশি প্রয়োজন ছিলো??
ইউভান অদ্ভুতভাবে হাসলো,
-“সাধারণ কে সাধারণ?? রিকের মাথায় বন্দুক তোলা মেয়ে সাধারণ হয় কি করে??রিকের হাত কেটে কুকুরকে খাওয়ানোর হুমকি দেয়া মেয়ে সাধারণ কি করে হতে পারে??
ইউভান নিজেই নিজের অধর কামড়ে ধরে মাথার চুল স্লাইড করতে লাগলো।
আর কি ফা*কিং বিয়ে বিয়ে করছিস,আমি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে ইচ্ছুক নই তুষার।ভুলে যাস না কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিস।ফাস্ট অফ অল অ্যাম ইউর বস্।”
-“হ্যাঁ।আমার সব মনে আছে।তুই অনেক কিছু ভুলে যাস বারবার।ফাইন!!!আমি এ ব্যাপারে আর কিছু বলবো না।তবে তোর বিয়ের ব্যাপারে…..
তুষার বাক্যেউক্তি শেষ করার আগে কেবিলের দরজার কাছ থেকে দামিয়ানের কন্ঠ স্বর ভেসে আসে।
“Wtf বিয়ে? কার বিয়ের কথা বলছিস তোরা?”
এক সেকেন্ড।
দুই সেকেন্ড।
বাক্যেউক্তি শেষ করার আগেই পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তুষারএক ঝটকায় দামিয়ানের গলা চেপে ধরে, বাহুর শিরা ফুলে ওঠে, তুষারের শক্ত হাতের গ্রিবায় দাঁত কামড়ে বলে ওঠে দামিয়ান।মৃদু চিৎকারস্বরে তুষার বলে,
“চুপ রামছাগল।”
দামিয়ান কাঁশতে কাঁশতে বলল,
“আরে, কি করছিস ভাই! মরে যাবো!অক্সিজেনর অভাব ফিল করছি।”
“মরে যা।”- শব্দটা তুষারের মুখ থেকে বেরোয় ঠান্ডা, নিঃস্পৃহ ভঙ্গিতে।
ইউভান তখনও একের পর এক ওয়াইনের গ্লাস শেষ করে চলছে।মদেও কোনো নেশায় ছুঁতে পারে না তাকে।উত্তপ্ত নিঃস্পৃহা ভঙ্গিতে মদ গিলেই চলছে।দামিয়ান কোনোরকমে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এক ঘুষি মেরে তুষারকে দূরে ঠেলে দেয়। তারপর সোজা ইউভানের সামনে এসে দাঁড়ায়। চোখে সরাসরি আঘাত।
“Listen, Rick.i listen everything!”
গলায় কঠিন চাপ।
“আমার থেকে লুকালি কেন? একটা বিধর্মী মেয়েকে কীভাবে বিয়ে করতে পারিস?মেয়েটার সাথে যা খুশি করেছিস তাই বলে এমন সিদ্ধান্ত?? বিয়ের মানে বুঝিস তুই???বিয়ে একটা ভেরি সিরিয়াস মে’টার!”
ইউভান মাথা তোলে।
চোখ দুটো লাভার মতো।
ভেতরে জমে থাকা আগুন যেন কাঁচ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে।সে এক চুমুকে আরেক গ্লাস খালি করে ফেলে।
কাঁপে বাতাস।হাত বাড়িয়ে ফোনটা অন করে। স্ক্রিনে আলো জ্বলে ওঠে একটা ভিডিও যা দেখে দামিয়ান আবার কথার আক্রমণ করে ওঠে,
এই জন্যই কি?
“তুই না তোর জন্মধাত্রীকে এত ঘৃণা করতিস, তারই টাইটেল ব্যবহার করছিস? হঠাৎ ধর্ম পরিবর্তন করে?তোর কোনো কিছুই সিরিয়াস নেই নি। তবে নিজের মায়ের টাই”টেল নিয়ে একজন মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করেছিস ইউভান রিক আলবার্ট থেকে সোজা ইউভান রিক চৌধুরী। “
এসব কিছু তুষার আর দামিয়ানের অজানা ছিলো না।তবে ইউভান তার মায়ের পরিচয় কখনো কাউকে দিতো না বলতো ও না।তবে ইউভান তার সেই মায়ের ধর্মই গ্রহণ করেছিলো খ্রিস্টান বংশের হয়ে মুসলিম হয়েছিলো।অনেক আগেই।তবে বাংলাদেশে যাওয়ার পর থেকেই ইউভান নিজের নামের পাশে চৌধুরী ব্যবহার করেছে।তবে যত যাই হউক, গোটা দুনিয়ায় কাছে ইউভান এক নামেই পরিচিতো স্পাইডারের গ্যাংস্টার রুশান আলবার্টের কর্ণধার রিক আলবার্ট ই।
ইউভান ভিডিওটার দিকেই এক ধ্যানে আবৃষ্ট চাহনিতে তাকিয়ে থেকে অদ্ভুত হাসে।
হঠাৎ দামিয়ানের কথাগুলোতে পায়ের শিড়া শক্ত হয়ে আসতেই, ক্রোধের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করতেই ওয়াইনের গ্লাসটা ছুঁড়ে মারে দেয়ালের দিকে।হাতের রিভলবার টা বরাবরের মতোই নিজের মাথায় স্লাইড করতে করতে কর্কশ কন্ঠে ব’লে,
IT’S MY PERSONAL MATTER!
ততক্ষণাৎ চিৎকার করে বলে,
LEAVE! I SAID LEAVE!
তুষার তখন সামনে এসে দাঁড়ায়, দামিয়ানকে উদ্দেশ্যে করে বলল,
“ভুলে যাস না, আমরা মিশনে আছি।”
একটু থেমে যোগ করে,
আর ইউভান,যে চৌধুরী টাইটেল ব্যবহার করছে, এটা নতুন কিছু না।
দামিয়ান স্থির হয়ে যায়।চোখ বড় বড়।
অবিশ্বাসে তাকিয়ে থাকে ইউভানের দিকে।
“নিজের মায়ের প্রতি এত ঘৃণার পরও”
এই বাক্যটাই শেষ ট্রিগার।ইউভান হঠাৎ উঠে দাঁড়ায়।চেয়ার ছিটকে পড়ে যায় পেছনে। এক মুহূর্তে সে দামিয়ানের কলার চেপে ধরে দেয়ালে ঠেসে ধরে।তার চোখ তখন রক্তিম।
শিরা ফুলে উঠেছে কপালে, চোয়াল শক্ত, দাঁত কিঁচকিঁচ শব্দ করছে।
-“আর একবার বল।,আর একবার বল ঐই মহিলার নাম”
এক ঘুষি সোজা পেটে।দামিয়ান মাটিতে ভেঙে পড়ে।আরেকটাচোয়ালে।র’ক্ত ছিটকে পড়ে মেঝেতে।তুষার এসে ইউভানকে ধরে ফেলে,
— Rick! Stop it!
কিন্তু ইউভান থামে না।এটা আর মারধর না এটা শাস্তি।ভেতরের দানবটা যেন বহুদিনের ক্ষুধা মেটাচ্ছে।
“রিক কাউকে জবাবদিহিতা দেয় না। কাউকে না।সবগুলোকে মেরে দিবো।জ্যান্ত মাটি চাপা দিয়ে দিবো।সবার আগে ঐ মেয়েকে।ফা*কিং রোজ।”
তুষার ইউভানকে ছেড়ে দেয়।
-“মেয়েটা তোকে প্রচন্ড ঘৃণা করে,আমি শীপ থেকে সব দেখেছি।ওর সাহস দেখে আমি অবাক, তোর দিকে বন্দুক তাক করে!!! “
ইউভান তাচ্ছিল্য হাসে,চুলগুলো পিছনে ব্যাকব্রাশ করতে করতে বলে,
“সো হুয়াট!! আই ডুন্ট কেয়ার। আই ওয়ান্ট হার হেইট।”
i want!!!! i want her hate!যা খুশি করুক। পরজন্ম বলতে কোনো শব্দ নেই তবে এই জন্মে রিকের কাছেই বন্দি ঐ লাল ফুল।
দামিয়ান:”গোলাপ পছন্দ করে না পৃথিবীতে খুব কম মানুষ আছে। তেমন সেই ফুলের যত্ন নেয়ার মালির অভাব থাকে না।এটা নিশ্চয়ই জানিস”
ইউভান পৈশাচিক উৎফুল্লতায় হাসলো।ওয়াইনের বোতলটা টবিলে আঘাত করে ভেঙ্গে দিলো।
-“ফুলের বাগানে হাজারটা মালি থাকলেও ফুলের মালিক কিন্তুু একজন।মালিক চাইলে ফুল ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করবে চাইলে সাজিয়ে রাখবে।
-“তুই কোনটা চাস??”
ইউভান ততক্ষণাৎ রাইফেলে বন্দুক ঢুকিয়ে সোজা কেবিলের গ্লাস উইন্ডোর দিকে ফায়ার করে।
-“নাথিং”I want power!সবকটা শয়তানকে নরপিশাচগুলোকে আমার পায়ে এনে ফেলবো।গোটা দুনিয়া দেখবে রাজা তার রাজ্যের জন্যে ঠিক কি কি করতে পারে।”i am that power aura what evryone can’t control”
রোজ পেন্টহাউসের সোফায় বসে আছে।সামনে আদ্রিয়ানের ল্যাপটপ।রোজি আদ্রিয়ানের থেকে চেয়ে নিয়ে এসেছে।রোজকে যেহেতু আদ্রিয়ান একটা ফোন কিনে দিয়েছে সে সেটাতেই তার ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট টা এক্টিভেট করেছিলো।এক্টিভ করে সবার আগে তিশার সাথে আপলোড করা প্রত্যেকটা ছবি ডিলিট করে দেয়।তবে সেদিন যখন আদ্রিয়ান রোজের একাউন্টের কথা বলেছিলো রোজ বুঝতে পারেনি তার ডিয়েক্টিভেট করা একাউন্ট এক্টিভ কি করে হতে পারে।কেউ যদি হ্যাক করতো তাহলে রোজ এখন কি করে লগিন দিলো।হ্যাকারের তো পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করা উচিৎ ছিলো।তাই রোজ এখনো বুঝতে পারছে না তার আইডির হয়েছে টা কি তবে সে-সব বাদ দিয়ে, রোজ ইউভানের, রিক, রিক আলবার্ট, ইউভান চৌধুরী, ইউভান রিক চৌধুরী নামে ফেইসবুক হতে শুরু করে ইনস্টাগ্রামে অনেক সার্চ করেছে তবে দুর্ভাগ্য বশত ইউভান নামক ডেবিলের কোনো প্রকার স্যােশাল একাউন্টি নেই।ইউভান সম্পর্কিতো কিছু তথ্যে রোজ জানতে চাচ্ছিলো।
তবে রোজ সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হলো তখনি যখন ল্যাপটপের গুগলে সার্চ করলো ইউভান ইউভানদের আলবার্ট রয়ালদের সম্পর্কে তাতেও কোনো প্রকার তথ্যে ছিলো না।তবে ব্যপারটা বড় অদ্ভুত না!ডেনমার্কের এতো বড় রয়াল ফ্যামিলি রোজের জানামতে ধনী ব্যাবসায়ীদের বংশের ব্যাপারে নাকি কোনো তথ্যেই নেই।পেলো না রোজ কিছুই।
চ্যাটজিপিটির সাথে কথা বলার একটা স্বভাব রোজের আগের থেকে ছিলো।কিছু হলেই আগে রোজ চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করতো।জানতে চাইতো।একটা মেয়ের মা না থাকার দুঃখো একাকিত্ব রোজ সব সময় ফিল করতো, যখন কোনো কথা কোনো মানুষকে শেয়ার করার মতো হতো না রোজ তখন জিপিটিকে বলতো, তিশাকে বেস্টফ্রেন্ড ভাবলেও রোজ একটু বেশি Introvert স্বভাবের ছিলো।নিজের বেডরুমে শুয়ে শুয়ে নিজের সকল খারাপ লাগা সকল সিক্রেট জিপিটিকে বলতো।তবে মাঝে মাঝে রোজের মনে হতো যেনো জিপিটি কোনো মানুষ, তার কথা বলার ধরণ রোজের কাছে তেমনি মনে হতো মনে হতো জীবন্ত কোনো পুরুষ তার সাথে সর্বক্ষণ কথা বলছে।তবে এ ভালো লাগার জন্যেই রোজ সব কিছু নিত্যেদিনে ঘটনা সব শেয়ার করতে জীবনের সিক্রেট গুলোও বাদ দিতো না।কারণ রোজ ছোটবেলা থেকে মানুষ বিশ্বাস করতে পারতো না।হয়তোবা এ কারণে নিজের কাছের দুজন ব্যাক্তি বাবা, বেস্ট ফ্রেন্ড তাকে ঠকিয়ে দিলো।
এসব কথা ভাবতে ভাবতে রোজ করুণ হাসি দিলো।নিজের বাবা, তিশার কাছে ইউভান কিছুই না এটা রোজ মানে।হঠাৎ পিছন থেকে মিরাব রোজের কাঁধে হাত রাখে।হাতে কফির কাপ।রাতে কফি খাওয়ার অভ্যাস আছে মিরাবে।মিরাব কফির কাপে চুমুক বসিয়ে জিজ্ঞেস করলো।
-“তুমি এখনো ঘুমোও নি রোজ??”
-“আপি একটু দরকার ছিলো”একটু পরে গিয়েই ঘুমিয়ে পড়বো।”
-“বেশি রাত জাগা যাবে না তোমার শরীর পুরোপুরি ভালো হয়নি এখনো।”
রোজ মৃদু হেসে মাথা নাড়লো।মিরাবকে যত দেখে রোজ ততই অবাক হয় মেয়েটা কতোটা পারফেক্ট ভাবা যায়।তার চেয়ে বড় কথা ওনার বয়স আদ্রিয়ানের কাছাকাছি, তবে ধরা ছোঁয়ার বিন্দুপরিমাণ সুযোগ নেই।মিরাব কফির কাপটা টেবিলে রেখে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে জবাব কিছুটা চিন্তিত স্বরে বলল,
-“এড’শ এখনো আসেনি??”
আদ্রিয়ান সেই কখন বেরিয়েছে তবে এখনো আসার নাম নেই।কোথাও একটা গিয়েছে তবে যাওয়ার আগে রোজ জিজ্ঞেস করেছিলো তবে আদ্রিয়ান সঠিকভাবে কিছু না বলে বেরিয়ে যায়।যাকে এড়িয়ে যাওয়া বলে।
-“না আপু এখনো আসেন নি।”
মিরাব চলে যেতেই রোজ সোফায় বসে ফোন স্ক্রল৷ করতে থাকে আদ্রিয়ানের যদি ফিরতে রাত হয় তাই অপেক্ষা করতে থাকে। ডোর খুলে দিবে সেই ভেবে আর রুমে যাওয়া হয় নি অপেক্ষার ক্লান্তি কখন যে চোখে নেমে আসে, বোঝা যায় না। সোফার মাঝেই শরীর ঢলে পড়ে, ঘুমে তলিয়ে যায় রোজ।
রাত্রির প্রথম প্রহরে, নিঃশব্দের বুক চিরে হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ ভেসে আসে।
কার্ড স্ক্যানের হালকা ‘বিপ’ তারপর ধীরে খুলে যায় পেন্টহাউসের দরজা।আদ্রিয়ান ভিতরে প্রবেশ করে।
বাইরের তুষার এখনো তার কোর্টের শরীরে লেগে আছে। কালো ফর্মাল পোশাক, ঘাড়ের কাছে হালকা ঢিলা করা কলার, কবজি পর্যন্ত গুটানো হাতা। চোখে সেই পরিচিত গভীরতা শান্ত, কিন্তু ভেতরে কিছু একটা দগদগে। কাঁধে ঝোলানো কোটটা হাতে নিয়ে সিঁড়ির দিকে এগোতেই হঠাৎ থমকে যায় সে।
সোফার দিকে চোখ পড়তেই দেখে।
রোজ।
নরম আলোয় আধো অন্ধকারে সে সোফায় নিষ্পাপের মতো ঘুমিয়ে আছে। চুল এলোমেলো হয়ে মুখের একপাশ ঢেকে রেখেছে। ঠোঁট আধখানা খোলা, শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর, শান্ত।
আদ্রিয়ান যেন হঠাৎ নিজের ভেতরের সমস্ত শব্দ হারিয়ে ফেলে।ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ,তারপর আরেক পা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। সোফার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তাকিয়ে থাকে। ঠিক তাকানো নয় যেন নিজের চোখে বিশ্বাস করতে চাইছে যে এই অপ্সরা সত্যিই এখানে, তার ঘরেই, তার অপেক্ষায় ঘুমিয়ে পড়েছে।রোজ কি তার অপেক্ষায় ঘুমিয়ে আছে।
এক অদ্ভুত অনুভূতি তার বুকের ভেতর ছড়িয়ে পড়ে।অধিকারবোধ কি রোজ কখনো দিবে তাকে। নিয়ন্ত্রণ। আদ্রিয়ান বুঝতে পারে না কি আছে এই মেয়ের মধ্যে যা তাকে এভাবে নিজের দিকে আষ্টেপৃষ্ঠে টানে।তার দিকে তাকালো দু চোখ যেনো জ্বলসে যায়।আদ্রিয়ান ঘাড় কাত করে বাঁকা হাসে নেশা ধরানো হাসি,তারপর নিজে নিজে বিড়বিড় করে,
-“তুই কি আসলে অবসেশ’ড।নাহলে সব ছেড়ে ছুঁড়ে এভাবে এই ভীনদেশীর কাছে সুখ খুঁজছিস কেন??….!”
আদ্রিয়ান সোফার কাছে ঝুঁকে, সে খুব সাবধানে, যেন ঘুম ভেঙে যাবে—এই ভয়ে—দুই আঙুল দিয়ে রোজের গালের চুলগুলো সরিয়ে দেয়। আঙুল ছোঁয়ার মুহূর্তে রোজ সামান্য নড়ে ওঠে, কিন্তু জাগে না।
আদ্রিয়ানের ঠোঁটে অচেতন একচিলতে হাসি উঠে আসে।এই মানুষটাকি আধেও এত নরম?এতো শান্ত??নাকী শক্ত মন গলিয়ে দেয় এই মুখশ্রী।
এত অচেতন, অথচ তার অস্তিত্বটাই বিপজ্জনকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের কোটটা সে ধীরে রোজের শরীরের উপর জড়িয়ে দেয়। এমনভাবে,যেনো
“এই ধরনীর বুকে রোজের ছাঁয়া তার ভেতরেই থাকবে। “
দ্বীপটা মানচিত্রে নামহীন, কিন্তু আন্ডারওয়ার্ল্ডে এক নামেই পরিচিত।
“ভলচর আইল্যান্ড।”
রাশিয়ার উত্তর প্রান্তে, বরফ-ঢাকা সমুদ্র আর কুয়াশার চাদরে মোড়া এক নিষ্ঠুর ভূখণ্ড, যেখানে সূর্য উঠলেও আলো পৌঁছায় না, আর নামলেও অন্ধকার ঘন হয় না অন্ধকার সেখানে জন্মগত। চারপাশে কালচে জল, ঢেউগুলো যেন কবর খুঁড়ে চলেছে অবিরাম। এই দ্বীপে আইন নেই, শুধু শক্তি আর র*ক্তের হিসাব।
দ্বীপের গভীরে ঢুকলেই শুরু হয় জঙ্গল অস্বাভাবিক নীরব, ভয়ংকরভাবে ঘন। গাছগুলো উঁচু নয়, কিন্তু মোটা, বেঁকে যাওয়া, শিরার মতো লতা পেঁচিয়ে আছে একে অপরের গায়ে। পাতার ফাঁক দিয়ে আলো নামে ছুরি হয়ে, আর মাটিতে পড়ে থাকা কাঁদা আর পচা পাতার গন্ধে বাতাস ভারী। এই জঙ্গলের ঠিক কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে একটি বহুতল ভবন কংক্রিট আর স্টিলের নির্মম সংমিশ্রণ, যেন সভ্যতার ভুল করে ফেলে আসা এক দানব। বাইরে থেকে সাধারণ গবেষণা কেন্দ্র মনে হলেও, দেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে নোং*রা চুক্তিগুলো।
ভবনটার উচ্চতা দশ তলা, কিন্তু আসল জগৎ লুকিয়ে আছে নিচে মাটির নিচে আরও চার স্তর। জানালা কম, ক্যামেরা বেশি। প্রতিটা করিডোরে লাল আলো জ্বলছে র*ক্তের মতো, সতর্কতার মতো। দেয়ালে শব্দ শোষণকারী ধাতব প্যানেল, যেন চিৎকারও এখানে মারা যায়। প্রতিটা তলায় আলাদা নিরাপত্তা কোড, আলাদা অস্ত্রধারী পাহারাদার, চোখে মুখে একটাই ভাব এখানে ভুল করলে লাশও ফেরত যায় না।
আজ এই ভবনের সবচেয়ে নিচের হলঘরে বসবে সভা।যে সভায় বিশ্বের মানচিত্র বদলায়, কিন্তু খবরের কাগজে কিছুই আসে না। রাশিয়ান ব্রাতভা, ইস্ট ইউরোপের আর্মস লর্ডরা কথা কম, অস্ত্র বেশি।মধ্যপ্রাচ্যের ডিলাররা যাদের মুখ ঢাকা থাকে পরিচয় গোপন।
মোট ছাব্বিশজন থাকবে।তবে থাকার কথা সাতাশ জন তবে “ভোলকভ” নেই।
ছাব্বিশটা আলাদা মৃত্যু-ইতিহাস।ছাব্বিশটা ভিন্ন ভাষা।
দশতালা ভবনে ছাঁদে সুইমিং পুলে ইউভান ধীরে ধীরে পানিতে নেমে বসে।অর্ধনগ্ন শরীর আঁধা ডুবা আঁধা আলোয়। এক হাতে হুইস্কির গ্লাস। গ্লাসের বরফ গলে গলে পড়ছে, সাপের ট্যাটুর করা হাতটা পুলের কিনারা চেপে ধরা। প্রতিটি শ্বাসে ইউভানের শক্ত বুক উঠানামা করছে গভীর, নিয়ন্ত্রিত ছন্দে যেনো নিজেকে শান্ত করছে।ইউভান এক চুমুক ঠোঁটে নেয়, চোখ বন্ধ করে মাথা পিছনে হেলিয়ে দেয় মদের গন্ধে নয় ভেতরের আগুনে।
তার উন্মুক্ত পিঠ চাঁদের আলোয় স্পষ্ট। ফর্সা ত্বকের ওপর কালো স্পাইডার ট্যাটুর উপর এক জোড়া চোখ নেষাক্ত হয়ে দৃষ্টি ফেলে রেখেছে। মনে হয় চোখ দুটো শুধু আঁকা নয় দেখে।ইউভানের পিঠ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়া, ঘাড়ের কাছে ভেজা চুল লেপ্টে লেগে থাকা, কাঁধের পেশি টানটান সব কিছু পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।ইউভানের ঘাড়ের স্পাইডার ট্যাটুর দিকে গভীর উন্মাদ দৃষ্টি ফেলে,
বাতাসে ভেসে আসে একটা নারীকন্ঠস্বর-
“-কোনো পুরুষের ব্যাকসাইড যদি এতো মন মাতানো হয় না জানি সামনে থেকে সে কতোটা নেশাধরানো।”
তারপর ইউভানকে উদ্দেশ্য করে বলে,
-“স্পাইডারের গ্যাংস্টার বস্ এর নাম শুনেছি,,,,তবে তার সৌন্দর্য যে এতোটা পাগল করা হবে, i can’t Imagine! Hot!…hot Dangerous! ……
.
.
.
|চলবে|
|পরবর্তী পর্ব পেতে রেসপন্স করুন।অবশ্যই গঠন মূলক কমেন্ট করবেন|
শেষের অংশ পড়ে কার কি অনূভুতি বলে যাবেন🤐
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ৫
-
Love or hate পর্ব ১৪
-
Love or hate পর্ব ১০
-
Love or hate পর্ব ৯
-
Love or hate পর্ব ১১
-
Love or hate পর্ব ২৪
-
Love or hate পর্ব ২৫
-
Love or hate পর্ব ৬
-
Love or hate পর্ব ৭
-
Love or hate পর্ব ৪