Golpo Love or hate romantic golpo

Love or hate পর্ব ১৮


Love_or_Hate

|#পর্ব_১৮|

ইভেলিনা_তূর্জ

🚫প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্তমনস্কদের জন্যে
❌কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ❌

ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরের গির্জা। ভিতরে সম্পূর্ণ নিস্তব্ধতা। অথচ চারপাশে মানবদেহগুলো পাথরের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে। একটা কাঠরঙা কফিনের মধ্যে শুয়ে আছে আর.সি এর চেয়ারম্যান উইমেন এ্যাশ আলবার্ট।হিমসাদা দেহখান কফিনে অথচ দেহের প্রাণপাখিটা দেহ থেকে বেরিয়ে গিয়েছে।পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গিয়েছেন এতিম দুই নাতি-নাতনীকে সারাজীবনের মতো একা করে।করে বললে ভুল হবে করানো হয়েছে।নৃশং’সভাবে মেরে ফেলা হ’য়েছে তাকে।শেষ জীবনে এসে এমন নরকযন্ত্রণাময় মৃত্যু হয়তোবা খুব কম মানুষের হয়।লোকজন এসবি বলাবলি করছিলো।

গির্জার এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে সবচেয়ে দূরে, কালো কোর্টে জড়ানো শক্তপুক্ত শরীরে ইউভান।কঠিন হৃদয়ের নির্দয় কঠোর পুরুষ বলে যাকে চিনে পুরো ডেনমার্ক। ডেনমার্ক বললে ভুল হবে,পুরো ইউরোপ,আমেরিকা।হবেই বা না কেন???এই যে এতোটাই পাথর পুরুষ যে মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে।চোখে মুখে নির্লিপ্ততা, নির্জীব। কোনো অভিব্যক্ততা নেই।ভিতরটা,ভিতরে কি চলছে তা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া বুঝার সক্ষমতা কারোর ইহজন্মেও হবে কি না কে জানে।তবে বহিঃপ্রকাশে এতোটাই শক্ত,,,,,,

পাথর নয়।
এর থেকেও শক্ত কিছু।
যেনো কষ্ট নামক শব্দটার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কই নেই।
চোখের পাতাজোড়া একবারও কাঁপলো না।যেমন ভাবে রাহা কফিনের সামনে বসে কেঁদেই চলেছে।মুখশ্রী লাল বানিয়ে ফেলেছে।দিগম্বর ব্যথায় ছিন্ন।

ইউভান এতটাই শক্ত হৃদয়ের যে কাঁদতে পারে না।
অশ্রু দুর্বলদের জন্য।আর দুর্বল মানুষদেরই পৃথিবী প্রথমে পিষে ফেলে।তাই তো ইউভান স্রোতের বিপরীতে হাঁটে, পিষে ম-রা নয়,মা-রা শিখেছে।
এইতো রাহা বসে আছে তার গ্র্যানির কফিনের কাছে,চোখের জলে ভিজে মুখের সাথে লেপ্টে আছে চুলগুলো, পিছন থেকে লিসা রাহার সোনালী চুলগুলো খোপা করে দেয়।রাহা একবার লিসার দিকে ঘুড়ে চোখ স্থির রেখে বলল,
-“সবাইকে চলে যেতে বলো,গ্র্যানি ঘুমোচ্ছে, তোমরা ডিস্টার্ব কেন করছো।এভাবে সবাই দাঁড়িয়ে কেন আছে।

লাড়া বেশকিছুক্ষণ যাবৎ রাহাকে কফিনের সামনে থেকে সরানোর চেষ্টা করলো তবে রাহা স্থির। একচুলও নড়লো না।কফিনের দিকে তাকালো।
-“মাদার!গ্র্যান্ড মাদার ওপেন ইউর আ’ইস।চোখ খুলো।-তারপর ইউভানের দিকে হাতের ইশারা করে কান্নার মাঝে মৃদু হাসলো।
-“সি।দেখো।রিক ব্রো।ভাই ঠিক আছে।তুমি না ভাইকে দেখতে চেয়েছিলে।দেখো। দেখো।ভাই তো চোখ খোলেছে।তাহলে!!!তুমি…তুমি কেনো খুলছো না।হুআই?????

মূহুর্তেই রাহা চিৎকার করতে লাগলো,লাড়া,লিসা দু’হাতেও থামাতে পাড়লো না।
“-তুমি এভাবে আমাদের ছেড়ে যেতে পারো না।নেভার।পারো না তুমি।উঠো।এখন থেকে যা বলবে তা শুনবো।অবাধ্য হবো না।একটা সুযোগ দাওওরঅ ।ওহহ গ্র্যানিইইইইইই!!!!!!একা করে যেতে পারো না তুমি।আমি এখন কার কোলে মাথা রাখবো বলো।তুমি কি শুনতে পারছো না আমার কথা।তুমি কি আর ইনায়া বলে ডাকবে না??বলো

রাহা ভেঙ্গে পড়েছে।চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে ভিতর থেকে। কাঁদতে ভুলে যাওয়া মেয়েটা আবারও অশ্রু দিয়ে ভাসিয়ে দিচ্ছে।বামদিকে দাঁড়ানো দু’জন ড্যানিশ মহিলা ফিসফিস করলো,
-” Albert is dying. How brutally they beat Mrs. Ash. Of course, as dangerous as they are, their hair is just as terrible. I can’t stop thinking about it.
[আলবার্ট একদম নির্বংশ হয়ে যাচ্ছে। মিসেiস এ্যাশকে কতো নৃ’শংস ভাবে না মারলো।অবশ্য এরা যেমন ডেঞ্জারাস তো এদের মতো এদের শএুরাও তেমন ভয়ানক।আমার তো ভাবলেই গাঁয়ের লোম দাঁড়িয়ে উঠছে]

তাচ্ছিল্য করলো।
-“Killing is not an issue in the clan of killers. Now there are only two brothers and sisters in this Albert clan. I heard that this Rick Albert had a big accident. He wanted to kill, but he didn’t die. I see nothing happened. A bit like his own mafia father……
[কিলারদের বংশে কিলিং কোনো ব্যপার না।এখন তো শুধু এই আলবার্ট বংশে এরা দুই ভাই-বোন আছে।আমি তো শুনলাম এই রিক আলবার্টের বড়সড় এক্সিডেন্ট হয়েছে।মেরে ফেলতে চেয়েছিলো, তবে মরেনি।কিছুই তো হয়নি দেখছি।একদমি নিজের মাফিয়া বাবার……]

বাক্যে সম্পূর্ণ করার আগেই দেখলো দামিয়ান তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তীর্যকভরা চাহনিতে,ড্যানিশ ভাষায় বলল,

-“গেট আউট।জানে বাঁচতে চাইলে যাস্ট গেট লস্ট। “-” মহিলা দুজনি শুকনো ঢুক গিললো।

অন্যদিকে তুষার ইউভানের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে আছে। একেবারে বাকরুদ্ধ। ইউভানের সামনে দাঁড়ানোর সাহস আর নেই তার।সব কিছুর জন্যে নিজেকে এক প্রকার দোষ দিচ্ছিলো।ইউভানের অনুপস্থিতিতে বাঁচাতে পারেনি মিসেস এ্যাশকে।আর সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপারতো এটাই যে সে এ্যাশ আলবার্টকে বিভৎস অবস্থায়,আলবার্ট ম্যানশনের বিশাল ডাইনিং হলে পড়ে থাকতে দেখেছিলো।চোখের সামনে ভেসে উঠছে সে দৃশ্য। কতোটা নির্মম। এ্যাশ আলবার্টের শরীরটা র’ক্তাক্ত হয়ে পড়ে ছিলো ফ্লোরে।বুকে চারটা রাইফেলের গুলি।মাথার মাঝে দুটো।প্রাণ বাঁচানোর জন্যে কতটাই না ছটফট করছিলো যে ফ্লোরে র’ক্তের নোখের আচরের দাগ ছিলো।তুষারের চোখে বিভৎসতা আও নির্মম তখন হলো যখন দেখলো এ্যাশ আলবার্টের সবগুলো দাঁত শক্ত কোনো লোহার বস্তুু দিয়ে ভেঙ্গে দেয়া হ’য়েছিলো।তবে শেষ মুহূর্তেও তিনি তার ডায়েরিটা শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছিলেন।তুষার সেটা নিয়ে মিসেস এ্যাশের রুমে সযত্নে রেখে এসেছিলো শেষবারের মতো।
রাহা মাথা নিচু করে অশ্রুবিসর্জন দিতে দিতে হঠাৎই তীব্র শ্বাস ফেলে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে থাকা ইউভানের দিকে তাকালো।
তার চোখ দুটো ফোলা, লাল,অথচ ভেতরে এমন একটা আগুন যে আগুনে নিজেকেই পুড়িয়ে ফেলতে পারে।রাহা ইউভানের ঠিক সামনে এসে থামলো।এক মুহূর্তের জন্য সে কিছু বলতে পারলো না,শুধু কফিনের দিক থেকে আসা ঠাণ্ডা ফুলের গন্ধ আর ইউভানের চারপাশের কালো শীতলতা
একসাথে তার বুক ভেদ করলো।হঠাৎই দু’হাতে ইউভানের কোট ধরলো।

রাহার গলা ভেঙে গেলো চিৎকারে,

“কারা মেরেছে গ্র্যানিকে??? কারা??? বল ভাই!!!!!”

ইউভান নড়লো না।রাহার শ্বাস নিতে পারছে না।
সে ইউভানের কোট মুঠি ধরলো

“বল!!! কে মেরেছে ??”
“তুমি না বললে আমি নিজেই খুঁজে বের করবো।গ্র্যানি কে যারা মারলো তুই তাদের মারবি না???তুই না মারতে পারলে বল, আমি মেরে ফেলবো!!!!!”
“শুনছিস???”

লিসা এসেই রাহাকে ধরলো।শান্ত করতে চাইছে।যেন পৃথিবী এখানেই থেমে গেছে,শোকের গায়ের ওপর চাদরের মতো নেমে এসেছে ঘন অন্ধকার।
হঠাৎই বড়ো দরজাগুলো খুলে গেলো ধীরে,আর প্রবেশ করলো চারজন কফিনবাহক।একজন গির্জার পাদ্রী এগিয়ে এলেন।এ্যাশ আলবার্ট যেহেতু খ্রিষ্টান মহিলা তাই ধর্মীয় সকল কাজ সম্পূর্ণ করা হলো। কফিনবাহকেরা ধীরে কফিন তুললোইউভানের যেনো চা/মড়ার নিচে থাকা র’ক্তটাই ক্রোধে জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে।সাদা মাটির নিচে গর্ত প্রস্তুত।ক্রুশবিদ্ধ কাঠ স্থাপন করা আছে মাথার দিকে।

পাদ্রী আবার বললেন-
“From dust we came
To dust we return”
“[মাটি থেকে আমরা জন্ম নেই..
মাটিতেই আবার ফিরে যাই]”

পাথরের তৈরি উঁচু সমাধি, ক্রুশের নিচে খোদাই করা পাথরের ওপর বড় করে, গভীর খোদাই করা হলো-

“ASH AMELEO ALBERT “

“1944– 2025”

|আলবার্ট ম্যানশন|

আলবার্ট ম্যানশনের বিশাল ডাইনিং রুমে দেয়ালে টাঙানো দামী একটা প্যান্টিং এর সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইউভান।মেঝের ওপর ছায়া যেন আরও গাঢ় হয়ে উঠেছে। বিশাল আলবার্ট ম্যানশনের ডাইনিং হলের প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি ঝাড়বাতির কাঁচের চূড়া এক অন্যদহন ছড়িয়ে আছে যা ধুয়ে যাওয়ার নয়।

ইউভান ধীরে ধীরে হলের দিকে এগিয়ে এলো। ভারী বুটের শব্দগুলো এতটাই নীরবতা চিরে যাচ্ছিলো যে মনে হচ্ছিলো শোকই শব্দহীন হয়ে তাকিয়ে আছে।সবাই উপস্থিত।হলের মাঝখানে দাঁড়ানো অবস্থায় ইউভান থামলো।শরীরে কালো শার্ট, হাতার ভাঁজ গুটানো।ঠিক তখনই তুষার ধীরে ধীরে পিছন থেকে এগিয়ে এলো। গভীর অপরাধবোধ তার প্রতিটি শ্বাসে স্পষ্ট।

এক মুহূর্ত পর, তুষার নিচে তাকানো অবস্থায় ধীরে শার্টের বটন খুলতে শুরু করলো।

একটা…
দুইটা…
তিনটা…

শরীরের উর্ধ্বাংস যখন ন’গ্ন করে তুষার হাঁটু গেড়ে বসে গেলো ইউভানের সামনে যেন শাস্তির অপেক্ষায় থাকা কোনো যুদ্ধবন্দীর মতো।

সবাই নিস্তব্ধ।
ঝুলে থাকা বাতিগুলোও যেন থমকে গেছে।

ইউভান একটুও নড়লো না। শুধু দূর থেকে তাকিয়ে থাকা তার দৃষ্টি হঠাৎ নেমে এল তুষারের দিকে।তুষার কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই বলল,
-“শাস্তি দে।আমি পারিনি গ্র্যানিকে বাঁচাতে। মা-রতে পারিস আমায়।নো প্রব্লেম,আই ট’লারেট ইট।অ্যাম অ্যা লো’জার রিক।যাস্ট পানিশ’ট মি।

হঠাৎ ইউভান হাত তুললো।একটা ভারী চাবুকের শব্দ শোনা গেলো, যেনো বাতাস ছিঁড়ে বের হলো।
-“কোথায় মা’রবো বল।
-“ইচ্ছা।
-“নোপ!আমি আমার মতো শয়তান মারি না।বাঁচিয়ে রাখি। পেলে পুষে সাথে রেখে দি।আর এমনিতেও এখন তো আবার একটা পাখি শিকার করা বাকি।”

পিছন থেকে হতভম্ব দামিয়ান খানিক এগিয়ে এলো,বিষ্ফরিত কন্ঠে বলল,
-“পাখি শিকার করা কবে শুরু করলি??”
-“এই পাখি সেই পাখি না”
-“কোন পাখি আবার??”
-“ডানা ছাড়া। “
-“ডানা ছাড়া পাখি হয়??”
-“হয়।হয়।

তুষার শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে দামিয়ানের দিকে বিরক্ত ভঙ্গিতে বলে উঠে,
-“ফা’ক অফ দামিয়ান।-ততক্ষণাৎ তুষার ইউভানের দিকে দৃষ্টি ফেললো,
-“আমি পুরো ডেনমার্কে গার্ডদের ছড়িয়ে দিয়েছি।যেখান থেকে হউক রোজকে খোঁজে আনবে।”

দামিয়ান অস্পষ্ট স্বরে তোতলানো,
-“রোজ!!!আচ্ছা।মেয়েটা যদি বেঁচেই থাকে, তাহলে ঐ লাশটা কার ছিলো??
-“মর্গ থেকে নেয়া।”
-“যাক। এট লিস্ট বেঁচে তো আছে।আমি তো অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।এতো সুইট একটা মেয়ে।তবে এই পাখি যদি সেই পাখিই হয় আমি বলবো আকাশেই থাকুক নিচে নামার দরকার নেই,নিচে আবার যেই ভয়ানক শিকারের বাস,কখন না জানি ফ্রাই করে খেয়ে নেয়।”
-“খেতে আর পারলাম কই”-ইউভানের বলা অস্পষ্টস্বরে কথাটা দামিয়ান ঠিকি শুনতে পেলো।

-“বেঁচে গেলো।থ্যাংক গড।”

ইউভান র’ক্তিম দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দামিয়ানের দিকে।হাতের চাবুকটা মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে ক্ষুধার্ত হিংস্র পশুর মতো গর্জে উঠে,
-“না বাঁ’চে নি”
তাচ্ছিল্য হাসলো ইউভান।ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করে শয়তানি হাসির রেখা টানলো ঠোঁটের কোণে,
-“You will regret poison! Dangerously regret! “

ইউভান গিয়ে বসলো সোফায়।রাহা সেখানেই গাঁ হেলিয়ে বসে আছে।ইউভান এক হাতের সাথে অপর হাত মিলিয়ে তুড়ি বাজাতে, ম্যানশনের সদর দরজা খুলে দেয়।একজন বৃদ্ধ লোক প্রবেশ করে। আলবার্টদের পারিবারিক উকিল।কালো সুটে।হাতে মোটা ফাইল।তিনি এসে পাশের সিঙ্গেল সোফায় বসে পড়েন।হাতের ফাইলটা ইউভানের সামনে এগিয়ে দিতেই,ইউভান একটানে তা নিয়ে কয়েকপাতায় সাইন করে দেয়।বৃদ্ধা আইনজীবী নতুন উইলটা হাতে নিয়ে রাহাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
-“আর.সি গ্রুপের আওতায় সব প্রোপার্টি, রিক আলবার্ট তা সম্পূর্ণ তার বোন রাহা আলবার্টের নামে করে দিয়েছে।আ.সি এর নতুন সি ইউ এখন থেকে মিস.রাহা।

পুরো হল রুম নিস্তব্ধ হয়ে গেলো।দামিয়ান, তুষার ব্যাতিত।ওরা এ ব্যপারে আগেই জানতো।প্রোপার্টির দলিলটাতো তুষারি তৈরি করেছে।রাহা ততক্ষণাৎ আশ্চর্য নয়নে ইউভানের দিকে তাকালো।
-এসব কি ভাই??…আমি কি তোকে বলেছি?? আমার এসব চাই না একদমি।ডিস্’গাস্টিং।
-“রিক্’স সিস্টার হয়ে একটা গ্রুপ সামলানোর ক্ষমতা নেই??হাউ ডিস্গাসটিং আর ইউ। সেইম’অন।”
-“তুই কি চাইছিস বল তো??

ইউভান ভাবলেশহীন জবাব দিলো।
-“আপাতত তোকে আমেরিকার পাঠাবো।কাল ফ্লাইট তোর।সেখানেই থাকবি বছর খানিক”

রাহার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। ইউভানের এমন সিদ্ধান্ত কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। কিছুতেই না।রক্ত পুরো শরীরে এমনিতেই টগবগিয়ে উঠছিলো।দাদীর খুনিদের মা’রার জন্যে। নিজের হাতে শেষ করতে তবে,ইউভানের মুখে উপর বলে দিলো।
-“যাবো না আমি”

ইউভান চোয়াল শক্ত করে কড়া গলায় বলে উঠলো-
“আমি যা বলি তাই শেষ কথা।তুই ইউ,এস এ যাবি মানে যাবি।আমার কথার অবাধ্য হলে শাস্তি পেতে হয় তা ভুলে গিয়েছিস।আমি এক কথা সেকেন্ড টাইম রিপিট করি না।”
রাহা ততক্ষনাৎ উঠে দাঁড়ালো।
-“না মানে না।”
ইউভান হাত থেকে ফাইলটা ছুড়ে ফেলে চিৎকার দিয়ে হুঙ্কারধ্বনি ফেললো।রাহা আঁতকে উঠে দু পা পিছিয়ে গেলো।চোখ বেয়ে অবচেতন জল গড়িয়ে পড়ছে।সে কেনো এ বাড়ি ছেড়ে যাবে।যেতে চায় না রাহা।এখান থেকে ডেনমার্ক ছেড়ে কোথাও যাবে না।তবে ইউভানের কথা যে শেষ কথা।ইউভানের মুখ থেকে যা বের হয় সে তা করে।গ্র্যানি কে হারিয়ে দুনিয়াটা অন্ধকার মনে হচ্ছে।তারউপরে এসব।তবে ইউভান কোনোভাবেই রাহাকে এখন ডেনমার্ক রাখতে চায় না।রাহা নিশ্চুপ হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কেঁদে কেঁদে সিঁড়ি বেয়ে উপরে যেতে থাকলো।ইউভান বড় বড় পাঁ ফেলে নিজের লাক্সারিয়াস বেড রুমে চলে আসে।তুষার ও এসেছে।ধীরে ধীরে ইউভান বেডসাইডের দেওয়ালের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।
সাধারণ চোখে এটা ছিল নিছক প্যানেল।
কিন্তু ইউভান তার ডান হাতটা ছুঁইয়ে দিল।ফ্রিন্ঙারপ্রেন্ট দিতেই,হালকা ক্লিক শব্দে প্যানেলটা সরে গেল,আর ভেতরের অন্ধকার গহ্বরটা দম নিয়ে উঠলো।
একটা গোপন রুম।”A Secret room”

রুমটা খুলতেই আলো নিজে থেকে জ্বলে উঠলো
নীল-কালো ফ্লুরোসেন্ট আলো।এমন আলো, যেখানে মানুষের ত্বকের রঙও ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
চারপাশে সারি সারি মনিটর, সার্ভারবক্স, সিসিটিভি-ফিড, ডিজিটাল মানচিত্র।
দেয়ালে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের ট্র্যাকিং পয়েন্ট লাল বিন্দুর মতোজ্বলজ্বল করছে।
রুমের তাপমাত্রা অন্য রকম।ঠান্ডা, ধাতব, নির্মম।

আর ঠিক মাঝখানে
একটা বড় মনিটর।
যেই মনিটরটা ইউভান স্পর্শ করার আগেই
ইউভান চেয়ার টেনে বসে নিলো।
মাথা একটু নুইয়ে মনিটরের সামনে বসলো।

একটা বোতাম প্রেস করতেই
মনিটরের স্ক্রিন অন্ধকারে ডুবে গিয়ে আবার জ্বলে উঠলো।

অত:পর ইউভান স্ক্রিনের দিকে গাড় দৃষ্টি ফেললো।মূহুর্তেই তুষার এর চোখ চক্ষুদ্বয় চরকগাছ হওয়ার ন্যায়,তূর্জ হাউসের একটা বেড রুম।সম্ভবত এটা রোজ তূর্জ চৌধুরী এর পার্সোনাল বেড রুম।তুষার আরেকটু ঝুকলো-
-“Ummh!is rick Albert a stalker???

দু’বছর ধরে রোজের প্রত্যেকটা মুভমেন্ট ক্যাপচার করা ইউভান।রোজের বেডরুমে ১৮০টা ছোটছোট হিড্যান ক্যামেরা ফিট করা।ওয়াশরুম পর্যন্ত বাদ নেই।রোজ তার বেডরুমের মুভমেন্টের সব কিছু ইউভান প্রতিদিন স্টক করতো।রোজ কোথায় যায়,কি করে,কার সাথে মিশে কিছুই অজানা ছিলো না ইউভানের। secret room এর দেয়ালে রোজের অগনিত ছবি,সমীকরণ করা হলে ৩০০০হাজারের উর্ধ্বে হবে।তুষার বুঝলো এখানের একটা নীল শাড়ী পড়া রমণীর পিক তাহলে সেদিন ইউভানের ড্রয়ারে দেখেছিলো।দেয়ালের ছবি গুলো মেয়েটা বাসা থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে বাসা যাওয়া পর্যন্ত ছবি।রোজকে ইউভানের ধূসররঙা চোখজোড়া যে প্রতিনিয়ত নজর বন্দি করতো।আজকের নয়।
কোনো নির্দিষ্ট দিনের নয়।
এটা ছিল রোজের জীবনের
প্রতিটি দিনের প্রতিটি মুহূর্তের
গাঁথুনির এক বিশাল ভাণ্ডার।

ইউভানের শরীরের পেশিগুলো টানটান উ’ত্তেজনা ভরে উঠেছে।কপালের রগফুলে ভাসমান হয়ে আছে।যেনো ভেতরের দাবানল অনির্দিষ্টকালের জন্যে নিয়ন্ত্রণের বৃথা চেষ্টা। চোয়াল টানটান করে ইউভান বলল,
“I never followed Rose”
I owned every second she lived.”

দুই বছর।
দুই বছর ধরে আমি অপেক্ষা করছি..
সবকিছু দেখেছি…
সবকিছু জেনেছি…
রোজ তূর্জ চৌধুরীর জীবনের একটাও মিনিট
আমার নজরের বাইরে যায়নি।

“হাউ ব্লাডি ফা*কিং সি ইজ্।কি করে ধোঁকার আশ্রয় নিতে পারে??এদের র’ক্ততেই মিশে আছে ধোঁকাবাজি,ব্লাডি বিচ্”

ইউভান সাইডের একটা মনিটর ছুঁড়ে ফেলে দিলো নিচে।মনিটর ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ।তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে রোজের বেডরুমের কিছুদিন পূর্বের একটা সিন রেকর্ড হওয়া ফুটেজ চলে আসতেই ইউভান ঘুরে তাকিয়ে পৈশাচিক উৎফুল্লতা মিশ্রিত হাসির রেখা টানে,ফুটেজে স্পষ্ট রায়হান রোজের বেডরুমের ফ্লোরে বসা,ইউভান ততক্ষণাৎ চেয়ার টেনে কম্পন সৃষ্টি করার ন্যায় বসে পড়ে।একটু ঝুঁকে দুহা থুঁতনি ঢেকিয়ে ঘাড় এপাশ ওপাশ ঘুড়িয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে,তুষার কারণ বুঝতে না পেরে কপাল চারভাজ করে তাকাতেই,

-” ফা*কিং অ্যাস’হোল।এর দেখি নাগরের অভাব নেই।এক চাকে এতো মৌমাছি ভোঁ ভোঁ করলেও র’স খাওয়ার সুযোগ তো এক জনে রি হয় সো স্যাড।ফা’কিং স্যাড”

ভাবলেশহীন ভঙ্গিমায় ইউভান একটা সিগারেট জ্বালিয়ে ঠোঁটে পুরে,চেয়ারে মাথা হেলিয়ে বসলো।
“-রাহাকে আজ রাতেই আমেরিকা পাঠানোর ব্যাবস্থা কর।”

তুষার পিছনে ফিরে তাকালো,
-“আজ?”
-“yess!to Night & we go to Russia”
-“ক্রুজশিপে??
-“হুম!

ইউভান রোজের লকেট টা হাতে নিয়ে মুখের সামনে আনলো,একটা র’ক্তক্ষয়ী পৈশাচিক হাসির রেখা টেনে বলল,
-“
“you’ll regret, Poison!!!!! Dangerously!

ছলনাময়ী! ধোঁকা! নারী জাতিকে শুধু ঘৃণাই করা যায়।ফাকিং হেইট!এরা রাত কাটাবে একজনের সাথে, শুবে একজনের সাথে, তারপর তার সাথেই ধোঁকাবাজি করে সুখ খোঁজবে অন্যতরে।।Fuking bitch!

তুষার রাহার রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো। তবে রাহা উদাসীন মনে বেডের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে আছে বালিশে মুখ গুজে।তুষার ডোর এ কয়েকবার নক করলেও রাহার কোনো প্রকার সাড়াশব্দও না পেয়ে দরজা কিঞ্চিৎ ফাঁক করে গলা খাঁকড়ালো।তাও রাহা কোনো প্রতিউত্তর করলো না।তুষার ভিতরে প্রবেশ করে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
-” সব কিছু প্যাকিং করে নেও।আজ রাতের ফ্লাইটে তুমি ইউ এস এ যাবে।”

রাহা তুষারের দিকে না তাকিয়ে অস্পষ্টস্বরে ব’লে উঠে,
-“আপনি একটু গিয়ে ভাইকে বুঝান যে আমি যাবো না।প্লিজ”

-“যেটা আমার হাতে নেই, সেটা আমাকে দিয়ে করানো বোকামো হবে ইনায়া।”

রাহা বালিশ থেকে মুখ বের করে তুষারের দিকে তাকালো।নির্ধিদায় এক বাক্যে ছুঁড়ে মারলো তুষারের দিকে,যা তুষারের রন্ধ্রে হাই ভোল্টেজ শক্ড লাগার মতো।পায়ের তলা মাটি কাঁপানোর উপক্রম।
-“আপনার হাতে একটা জিনিস অবশ্যই আছে।”
-“কিছু নেই। কথা না বাড়িয়ে রেডি হও।ফাস্ট।
-“বিয়ে করবেন আমায়??তাহলে নিশ্চয়ই আপনার হাতে অপশন থাকবে, আপনার সাথে থাকলে, আমি ভাইয়ের সাথে সাথে থাকতে পারবো।তাহলে আমায় আর ইউ এস এ যেতে হবে না।”

তুষার ততক্ষণাৎ রাহা থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে শুকনো ঢুক গিলে নিলো।রাহা তখন মুখে মৃদু হাসির রেখা টানলেও চোখ বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়ছিলো।
-“আমার তো এখন মনে হচ্ছে,আলবার্টে জন্ম নেয়া আমার উপর একটা অভিশাপ।এই টুকু উপকার তো করতে পারবেন। বলুন”

তুষার হুট করে রাহার হাত ধরে কাছে টেনে এনে, দুহাত বিছানায় ভর করে সামান্য ঝুঁকলো।তাদের মধ্যেকার কিঞ্চিৎ দূরত্ব চুকিয়ে শক্ত কন্ঠে তুষার বলল,
-“তুমি কি সেন্সে আছো ইনায়া??কি যা-তা বলছো।পাগল হয়ে গিয়েছো।তোমাকে গ্রিন জোনে পাঠাতে চাইছি তুমি উল্টো রেড জোনকে জীবনে টানতে চাইছো???
-“হ্যাঁ হয়েছি।স্বার্থপরের মতো কথা বলছি জানি।”
-“তুষার তাইওয়ানকে বিয়ে করলে সেটা হবে তোমার জীবনের দ্বিতীয় অভিশাপ।আমি কখনো তোমাকে একটা সংসার দিতে পারবে না।পারবো না আমি এ-সব বিয়ে ফিয়ে সংসার আমার জন্যে না।চুপচাপ রেডি হও।”
“-আপনি কি কখনো কাউকে ভালোবাসেন নি??
-” না! বিয়ে করার প্ল্যান তো আরো আগেই নেই।আর তুমি এসব ভাবলে কি করে।টু মাচ্।”
-“তাহলে এটাই ফাইনাল ডিসি’শান তাই তো??”

ততক্ষনাৎ রাহা থাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো তুষারকে।রাহা জীবন নিয়ে কখনো সিরিয়াস ছিলোই না।এমন আকুতিভরা চোখে কারোর থেকে কিছু চায়নি।প্রথমবার আকুতিভরা চোখে তাকালো তুষারের দিকে তবে খালি হাতে ফিরলো।শক্তপুক্ত মেয়েটা উঠে দাঁড়ালো আর কিছুটি বললো না।ইউভানের সাথে দেখা করার আর প্রয়োজন মনে করলো না।

তুরুস্কের কারাহিসার শহরের ছাদগুলোর ওপর দিয়ে ধোঁয়াটে নীল আলো সরে সরে যাচ্ছে, যেন ক্লান্ত নগরীর চোখ এখনো আধখোলা। সেই আলো এসে পড়ে পেন্টহাউসের বিশাল গ্লাস ওয়ালে, সেখান থেকে স্পর্শ করে তার কালো-ধাতব ইন্টেরিয়রগুলোতে একটা ঠান্ডা, ভেজা, নিস্তব্ধ শীতলতা তৈরি হয়।যেন পুরো শহরটা ঘুমিয়ে আছে, কিন্তু এই বাড়িটা এখানে কেউ ঘুমোয় না, ঘুমোতে পারে না।হাওয়া নিঃশব্দ।
এসি’র মৃদু সোঁ সোঁ শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই।বেডের উপর রোজ এলোমেলো অবস্থায় শুয়ে আছে।আরেকটু নড়লেই বেড থেকে পড়ে যাবে যাবে অবস্থা। শরীর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরে গিয়ে শরীর ভাসমান অবস্থায়, চোখে নজরবন্দি করার মতো।বাহিরের সূর্যা রশ্মি গাড় হতে চোখ পিটপিট খোলতেই দুনিয়াটা উল্টো মনে হলো রোজের।হাত দিয়ে চোখ কচলে আবার তাকালো উল্টো দেখছে সব।ঘুমের ঘোরে ঝাপসা চোখ স্পষ্ট হতেই দেখতে পায় আনান সিঙ্গেল সোফায় উল্টো হয়ে বসে এক গ্লাস দুধ খাচ্ছে।উহুম!আনান নয় বরং রোজেরি বেড থেকে মাথা ঝুলে আছে নিচের দিকে, মাথা আকষ্মিক চক্কর কাটতেই রোজ লাফিয়ে উঠে বসে পড়ে,দু সেকেন্ড আখিপল্লব বন্দ রেখে ফের তাকায়,রোজের এমন নাজেহাল অবস্থা দেখে আনান মিটমিটিয়ে হাসছে,তাকে হাসতে দেখে রোজ চোখ সরু করে গলা খাঁকড়িয়ে উঠে বললো,

-“আনান বেবি হাসছে কেনো??”
আনান ঠোঁট বাকালো,যেনো কথাটা তার মনে ধরে নি,
-“লিসেন্ট রোজ! আমি বেবি না।বেবি তুমি।সি ইউর সেল্ফ!-বলেই আনান কপালে হাত রেখে হতাশ ভঙ্গিতে হাসলো। রোজ কোমড়ে হাত রেখে আনানের কাছে যেতে দেখে বালিশ পড়ে আছে।আনান সোফা ছেড়ে নেমে দুধের গ্লাসটা রোজের হাতে ধরিয়ে দিয়ে ব’লে,
-“আমি রেখেছি। আরেকটু হলে তো বেড থেকে পড়েই যেতে।”

-“আচ্ছা তাই?? “-রোজ নাক কুঁচকে আনানের পেটে গুতো মারলো। তারপর কোলে তুলে তার নাকে নাক ঘষে বলল,
-” আনান তো দেখছি হেব্বি গুড বয়!”
-“হাউ??”
-“এই-যে দুধ খেয়ে নিলো।আমি তো একদমি দুধ খেতাম না ছোটবেলায়।”
-“লি’টল রোজ তুমি এখনো ছোটোই!”

“রাইট তাইতো কাল রাতে সেন্সলেস হয়ে গেলো।-দরজার পাশ থেকে একটা পুরুষালীর নরম স্বর ভেসে আসতে রোজ আনান দু-জনেই তাকালো দেখলো আদ্রিয়ান কালো লেদার জ্যাকেট পড়ে দাঁড়িয়ে কফির কাপে চুমুক দিয়ে আছে।রোজ তুতলিয়ে উঠলো,
-” আপ..আপনি নিশ্চয়ই আমাকেই বলেন”
আদ্রিয়ান দু-কদম এগিয়ে এসে বলল,
-“না তোমাকে না।আমি মাঝে মধ্যে জিন পরিদের সাথে কথা বলি,তো কাল রাতে একটা পরি হুট করে সেন্সলেস হয়ে গেলো।তারপর দুর্ভাগ্যবসতো তাকে কোলে তুলে সেইফ করতে হলো।”

রোজের আচমকা রাতের কথাগুলো মনে পড়তেই ঠোঁট ফাক করে আদ্রিয়ানকে কিছু বলার আগে আদ্রিয়ান হাতের তর্জনী তুলে ফুলস্টপ মেরে দেয়।রোজের দিকে এক পলক তাকিয়ে বলল,
“-আই নো, আই নো।তোমার সব কথা শুনবো। বলবো।যাস্ট….-” তারপর আনানের দিকে দৃষ্টি ফেলে, বললো,

-“ড্রেস রাখা আছে।ফ্রেশ হয়ে নিচে এসো।”

আনান রোজের কোল থেকে নেমে এক দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে যেতেই আদ্রিয়ান শব্দহীন পায়ে পিছন পিছন যেতে লাগলো।রোজ আর কিছু ভাবতে পারছিলো না।তবে মনকে শান্ত করতে পারছে না কিছুতেই না।অস্থির লাগে।কালের বিবর্তনে বহমান সময়গুলোর সকল অর্থ যে তার অজানা।তবে রোজ একটু শান্তি চায়,ঠিক ততটুকু শানৃতি যাকে বিশ্বভূবন ভালো থাকা বলে।রোজ ফ্রেশ হয়ে নিলো, চেরি ফুলের প্রিন্ট করা একটা সেমিলং জামা পড়ে নিলো।বেশ্ ফুটেছে জামাটা সুন্দর মুখশ্রীর রমণীর গড়নে।মাথায় একটা বানডানা বেঁধে নেয়।ডাইনিং হলে নামতেই দেখতে পায় আদ্রিয়ান ফোন স্ক্রল করছে।ওভারকোট গায়ে জড়িয়ে।আনান গলায় একটা লাল মাফলার জড়িয়ে গেইম খেলছে।রোজ সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে প্রশ্নসূচক বলে উঠে,
-“আপনারা কি কোথাও যাচ্ছেন??”
আদ্রিয়ান ফোনের দিকে তাকিয়ে জবাব দেয়,
-“হুম।আমরা। তুমিও।”-“ফোন বুক পকেটে রেখে উঠে দাঁড়িয়ে সামনে এগোনোর সক্ষমতা হারানোর ন্যায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো।নিজের পছন্দ করা জামাটা যে রোজকে এতো মানাবে তা এতোটাও এক্সপ্যাক্টেশান করে উঠতে পারে নি।জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে হাত গোল করে মুখে নিয়ে কেঁশে উঠলো।গাড়ির চাবি হাতে নিয়ে আনানের হাত ধরলো।আনান গেইম খেলায় এতোই মনোযোগে সি’টিয়ে আছে যে দিন দুনিয়ায় খবর ভুলে বসেছে।আদ্রিয়ান এসে গাড়ির ডোর খোলে আনানকে ব্যাক সিটে বসিয়ে,ড্রাইবিং সিটের ডোর খোলে রোজের জন্যে দাঁড়িয়ে আছে।গাড়িতে পিঠ ঠেকিয়ে। রোজ আদ্রিয়ানকে পাশ কাটিয়ে আনানের সাথে ব্যাক সিটে বসতে নিলে, আদ্রিয়ান রোজের জামা দু আঙুলে টেনে এক ভ্রু উঁচিয়ে ইশারা করে।
-“আমি আনানের সাথে বসি”
-“সামনে এসে বসো।লেইট করো না।বসতে বলেছি বসো।দাঁড়িয়ে আছি যে চোখে লাগে না।”

রোজ উপায়ন্তর না পেয়ে সিটে বসতেই আদ্রিয়ান রোজের দিকে ঝুঁকে সিট বেল্ট লাগাতে উদ্বৃত্ত হলে,রোজ সিট বেল্ট ধরে নেয়।
-“আ…আমি লাগিয়ে নিচ্ছি।”

তুরস্কে শৈত্যপ্রবাহ কমে এখন একটু রৌদ্রময় সকাল বিরাজ করছে।তবে কুয়াশায় ঢেকে আছে পুরো কারাহিসার।তবে শীতের তাপমাত্রা গতদুদিন থেকে একটু কম।রোজ এক পলক আদ্রিয়ানের দিকে তাকালো।তখনি আদ্রিয়ান গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত ঘুড়িয়ে না তাকিয়েই বলে উঠে,
-“হুম শুনছি বলো।
রোজ তাজ্জব বনে গেলো।লোকটাতো তার দিকে তাকালোই না তাহলে কিভাবে বুঝলো। রোজ আশ্চর্য নয়নে তাকিয়ে আবার চোখ সরিয়ে নিলো।
-“কোথায় যাচ্ছি”
-“দু চোখ যেদিকে যায়।”
-“আমি সিরিয়াস”
-“হ্যাঁ তো আমিও তো।”
-“আমরা কি সত্যিই এখন তুর্কিতে???
-“হুম।পাহাড় যেতে চাও??”
-“কি করে বুঝতে পারলেন??”
-“তোমার মন এখন এটাই চাইছে, আই নো।”
-“হেল্প করবেন??”
-“সারাজীবন রাজি”-কথাটা রোজের কান অব্দি পৌঁছালো না।রোজ বাহিরে তাকিয়ে বলল,
-“কিহ!”
“নাথিং।চলো আগে সি বিচ্ যাওয়া যাক।!

রোজ ঘুড়ে তাকালো।আদ্রিয়ানের চুল গুলো দুলছে গাড়ির গ্লাসগলে ঠান্ডা বাতাসে।রোজ চ’ট করে নির্ধিদায় বলল,
-” সমুদ্র? “
-“হ্যাঁ কারাহিসারের পাশেই।”-আদ্রিয়ান একটু ঘাড় ঘুড়িয়ে পিছন ফিরে আনানকে জিজ্ঞেস করলো।
-“আনান।কোথায় যাবে।”
-“সি বিচ্ পাপা।”

রোজ মৃদু হাসলো।আদ্রিয়ান ও।তবে রোজ আর কিছুই বলতে পারলো না।কেনো যে দু’দিনে এই বাচ্চাটার মায়ায় পড়ে গিয়েছে।এতো ভালো লাগা কাজ করছে।যদিও রোজ বাচ্চাদের দুষ্টুমি মোটেও আগে তেমন পছন্দ করতো না।দুষ্টু বাচ্চা দেখলে মাথা গরম হয়ে যেতো তবে আনানকে তার বেশ্ পছন্দ হয়েছে।

আদ্রিয়ান গাড়ি থামালো পাথরের বাঁকের কাছে।
রোজ জানালা নামিয়ে দিলো।হঠাৎই মুখে লেগে এলো সমুদ্রের সেই তীক্ষ্ণ ঠাণ্ডা হাওয়া, যা মনে হয় অজান্তেই হৃদয়ের গভীরে
“BLACK SEA of karahisar”

এই সমুদ্রতটে দাঁড়ালে প্রথমেই যে জিনিসটা চোখে পড়ে সেটা হলো পাথরের খাড়া দেয়াল।সমুদ্রের জল দূর থেকে কালো দেখায় খাঁটি কালো নয়, বরং নীলের সঙ্গে মিশে থাকা অদ্ভুত রঙ।পাথরের গায়ে নোনা কুয়াশা আটকে থাকে আর ওই কুয়াশা পিছিয়ে এসে ধীরে ধীরে সমুদ্রের ওপর একটা মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ফুটিয়ে তোলে।

আদ্রিয়ান গাড়ি থেকে নেমে বললো।
-“মিরাবের ক্লিনিকটা পাশেই।ওখানে যেয়ে তারপর এসে ঘুরে দেখাবো।আমার একটু কাজ ছিলো।বেশিক্ষণ লাগবে না।”

রোজ সামুদ্রের কালচে পানির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।ধ্যানমগ্ন হয়ে জবাব দিলো।
-“আপনি যান।আমি আনান অপেক্ষা করছি।”

আদ্রিয়ান এসে রোজের পাশে দাঁড়ালো।
-“না।সাথে চলো।এখানে একা রেখে আমি যাবো না।”
-“আমি এখানেই গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে থাকছি।আপনি যান।”

আনান গাড়ি থেকে নেমেই ভাবসাব মেরে চোখে রোদচশমা লাগািয়ে ব’লে উঠে,
-“চলো রোজ।আমরা মিন্ট আইসক্রিম খাবো চলো।

আদ্রিয়ান ততক্ষণাৎ বিরক্ত হয়ে বললো,
-“ঠান্ডার মধ্যে তুমি আইসক্রিম খাবে??ইট’স ভেরি বেড”
-“প্লিজ পাপা।প্লিজ।”
-“নো ওয়ে”

আনান মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।রোজ আনানকে রাগ করে থাকতে দেখে ঠোঁট উল্টিয়ে আনানের গালে একটা চুমু খায়।আদ্রিয়ান কিঞ্চিৎ বিষম খেলো।মৃদু হেসে আনানের তর্জুনী ধরে রোজকে সাথে আসতে বললো।রোজ গাড়িতে গাঁ হেলিয়ে মাথা নাড়লো।তার এখান থেকে যেতে মন চাইছে না।অনেকদিন পর একটু শান্তি লাগছে।প্রশান্তি কাজ করছে মনে।সারাজীবন সমুদ্র দেখে কাটিয়ে দিতে মন চাইছে।আদ্রিয়ান রোজকে আর জোর করলো না।আর তারা সমুদ্র পার থেকে একটু দূরে দাঁড়ানো।মিরাবের ক্লিনিকের কাছে।তাই আদ্রিয়ান নাজুক হেসে বললো,
-“ওকে। আচ্ছা, একজন তো মিন্ট খাবে আপনি কি খাবেন, বলে উপকার করুন।নিয়ে আসবো।”
-“আমিও মিন্ট আইসক্রিম খাবো
“-খেয়ে ঠান্ডা লাগলে কি করবো তখন আমি??”

রোজ আনানের গাল ধরলো।
-“মিরাব আপুর ঔষধ আছে তো।সমস্যা নেই।”

আনান আর রোজ দুজনেই এক সাথে হেঁসে উঠলো।আদ্রিয়ান আনান চলে গেলে রোজ গাড়ির ডিকি উপর উঠে বসে পড়ে।চোখ বন্দ করে বড় বড় শ্বাস টানে।তবে তার যে পানিতে পাঁ ভিজাতে ইচ্ছে করছে।ততক্ষণাৎ ডিকি থেকে নেমে, আদ্রিয়ানের দেয়া আইফোনটা বের করে ছবি তুলতে লাগলো।যা তার বরাবরের পছন্দের অভ্যসের মধ্যে পড়ে। স্ন্যাপ তোলতে তোলতে সমুদ্র পাড়ে এসে দাঁড়ায়। ঠান্ডা বাতাস গাঁ ছুঁয়ে যাচ্ছে তবুও রোজের নজর সেদিকে নেই।রোজ মাটিতে ছড়িয়ে থাকা সাদা শেলগুলো তুলে দেখলো।শেলগুলো ভেঙে গেছে পুরোনো স্মৃতির মতো।ক্লিফের নিচে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের শব্দ শুনে তার গায়ে হালকা কাঁপন ধরালো এবার।গাড়ি পার্কিংলট টা সমুদ্র বিচ্ থেকে একটু দূরেই।আর রোজ পানিতে পাঁ ভিজাতে লাগলো।হঠাৎ কারাহিসারের ঠান্ডা সাগর-বাতাসে তখন একটা বিশাল আকৃতির ক্রুজশিপের ধাতব রেলিংয়ে টকটক শব্দ তুললো।রোজ একবার চোখ তুলে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইলো উল্টো করে মুখ ঘুড়িয়ে।

তবে রণমুর্তির ন্যায় ক্রোজশীপ থেকে লাফিয়ে নামলো একটা লম্বা দেহি পুরুষ। পড়নে পুরো কালো রঙের সিল্ক-টেক্সচার শার্ট। বোতামগুলো অর্ধেক খোলা গলায় আর কলারবোন বরাবর থাকা ট্যাটুগুলো স্পষ্ট দেখা যায়।মাথায় ব্ল্যাকক্যাপের জন্যে মুখ স্পষ্ট নয়।ভেজা, এলোমেলো, স্যাঁতসেঁতে হাওয়া তার আধা-লম্বা চুলকে চোখের ওপর ফেলে দিচ্ছিল।শার্টের হাতা ভাঁজ করা, আর তার হাতে আছে কালো চামড়ার গ্লাভস।চোখের দৃষ্টিটা এমন যেনো মনে হয় সে কারও আত্মা ভেদ করে গলে বের হয়ে আসবে ততক্ষণাৎ।তার ঠিক পিছনে, মাত্র এক হাত দূরে, লম্বা ছায়া এসে থেমে যায়।রোজের পিছনে।
কোনো শব্দ নেই। কোনো শ্বাস নেই। শুধু হঠাৎ ঠান্ডা হাওয়ার মধ্যে গরম হাওয়ায় তার উপস্থিতি।

রোজের খোলা পিঠে একটা গরম ওষ্ঠের স্পর্শ পেয়ে রোজের শরীর কেঁপে উঠলো।উ’ন্মুক্ত পিঠ ভিজে চ্যাটচ্যাট হয়ে গিয়েছে।গ্লাভসযুক্ত হাত তাকে চাপটে ধরতেই রোজ নড়ে উঠে সরতে নিলেই রোজকে আরও শক্ত করে ধরলো পুরুষটি।রোজের বুক জোড়ে জোরে উঠানামা করতে থাকে। শ্বাস আটকে আসে।ভ্রম ভাঙ্গার ন্যায় চোখ বন্দ করে শান্ত করতে লাগলো নিজেকে।গলা দিয়ে চিৎকার বের হওয়ার তো দূরের কথা শব্দও বের হলো না।রোজের রন্ধ্রে গরম বাতাসে মিশে পুরুষটা তার ভারী কন্ঠে কানে মুখ নিয়ে বলল,
I am a Villain by the devails law,
I am the killer, just for
Fun!Fun!Fun!”

এই কণ্ঠস্বর চেনা। ভয়ংকরভাবে চেনা।
ইউভানের কন্ঠ স্বর শুনতেই রোজ পিছন ফিরার চেষ্টা করতেই ইউভান রোজের চুলের মুঠি চেপে একটানে নিজের মুখের কাছে টেনে আনে।রোজ মাথা নাড়িয়ে অবিশ্বাসের ন্যায় দৃষ্টি ফেললো।ইউভানের চুলের ডগা বেয়ে পানির কণা রোজের নাকে পড়তেই রোজ চোখ তুলে ইউভানের দিকে তাকাতেই আত্মা কেঁপে উঠলো তার।ইউভানের আগ্নেয়গিরির লাভার ন্যায় রক্তিম চোখ তার দিকে স্থির।যেনো প্রতিটি শিড়ায় শিড়ায় ক্রোধের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে।চোয়াল এতোটাই শক্ত হয়ে আছে যেনো প্রতিটা দন্ত একে অপরের সাথে ঘর্ষিতো হচ্ছে।কালো গ্লাভস পরা বা হাতটা চেপে ধরলো রোজের থুতনি।ব্যথায় সিক্ত হয়ে রোজ শুকনো ঢুক গিলে অবিশ্বাসের ন্যায় ব’লে,
-“আপনি না।আপনি হতেই পারেন না।”
ইউভান আরও শক্ত করে রোজের চুলের মুঠি চেপে ধরতেই রোজের ভয় যন্ত্রণা আরও তিব্র আকার ধারণ করলো।ইউভান নিজের ডানহাতের তর্জনী আঙুল দিয়ে চেপে ধরলো রোজের অঁধর।অবাধ্য ঠোঁটের স্পর্শের পরিবর্তে আঙুল চেপে ধরলো।ইউভানের চোখ দুটো আজ মানুষের নয়। আগুনে জ্বলা লাভার মতো রক্তিম, স্থির, নিষ্ঠুর। সেই দৃষ্টিতে কোনো দ্বিধা নেই, নেই কোনো অনুশোচনা শুধু দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এক ভয়াবহ ক্রোধ।
-“নাইস প্লেস! নাইস ওয়েদার।”

রোজ বিরক্ত হয়ে চোখ সরিয়ে নিলো।অসহ্য যন্ত্রণা দাবানলে শিড়শিড় করছে তার শরীর।চোখজোড়া ঝাপসা হয়ে জল গরিয়ে পড়ার আগে তা মুছতে নিয়ে হাত বাড়াতেই রোজের হাত ইউভানের প্যান্টের পকেটের রিভলবার স্পর্শ করে।হঠাৎ রোজ নিজের শেষ আশ্রয় খুঁজে নিলো। কাঁপতে কাঁপতে বন্দুকের গ্রিপে আঙুল ছোঁয়ালো।ইউভানকে ধাক্কা দিতেই ইউভান ছেড়ে দিলো রোজকে,রোজ পিছিয়ে হাঁটতে লাগলো রিভলবার তাক করে ইউভানের দিকে।কপালের শিরা বেয়ে ঘাম ঝড়ছে । ইউভান ঘাড় কাত করে রোজকে কয়েকবার দেখে নিলো উপর থেকে নিচ পর্যন্ত। রোজ যে তার দিকে বন্দুক তাক করে ধরে আছে সে দিকে নজর নেই।ইউভান পৈশাচিক হাসির রেখা টেনে দানবীয় পাঁ ফেলে কালো ভারী বুট জোতায় এক পা দু পা এগুতে থাকে,

রোজ এক পা দু পা করে পিছাতে থাকে। হাত অনবরত কাঁপছে। গলা তৃষ্ণার্ত হয়ে শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে।রোজ কাঁপা কাঁপা হাতে তুতলিয়ে ব’লে,
-“এগুবেন না।কাছে আসবেন না।আসবেন না।আমি…..আ…..আমি গুলি করে দিবো।”

ইউভান ক্যাপটা এক ঝকায় খুলে মাথা ঝারতে লাগলো।হাত মুষ্টি বদ্ধ করে এগুতেই লাগলো।রোজ ইউভানের দিকে তাকাতে পারছে না।কেমন দানবীয় রূপ আত্মা কাঁপানো।

-“Fu*ck!Shoot on me!come on!shoot!

ইউভানকে থামাতে রোজ সত্যিই ট্রিগারে চাপ দিয়ে দেয় চোখ বন্ধ করে একবার, দু’বার কিন্তু কিছুই হলো না। গুলি বের হলো না। সেই মুহূর্তে ইউভানের বাঁকা হাসলো। রোজের চোখে এসে পড়লো নির্দয়, নিশ্চিত, বিজয়ের।

পরের মুহূর্তেই ইউভান দু গদম বর পায়ে এগিয়ে রোজকে নিজের শরীর দিয়ে ৩৬০° অ্যাঙ্গেলে ঘুরিয়ে সামনে এনে শক্ত করে পেছন থেকে ধরে ফেললো।ইউভানের গ্রিবা থেকে পালানোর সব রাস্তা বন্দ। চারপাশের আলো ছায়া মিলেমিশে এক বিভীষিকাময় দৃশ্যে পরিণত হলো। ঠিক তখনি ক্রুজশিপের দিক থেকে ছুঁড়ে ফেলা হলো একজন লোকের হাত-পা বাঁধা, মুখে কাপড় গোঁজা আর ইউভান রোজের হাত নিজের শক্ত মুঠোয় ঢুকিয়ে দিলো। ঠাণ্ডা ধাতব অস্ত্রটা রোজের তালুতে রেখে তার আঙুলগুলো নিজেই চেপে ধরে, উচ্চশব্দে চিৎকার করে বলে,
-“রিভলবার চালাতে পারিস না,আবার আমায় মারতে চাস ব্লাডি ডার্ক রোজ।দুনিয়া কি এতো সোজা।নাও মাই টার্ন সি্”-বলেই ইউভান রোজের আঙ্গুলের উপর আঙুল দিয়েই ট্রিগারে প্রেস করতেই পরপর চারটা বুলেট লোকটার বুক, মাথা হাত, কপালে গিয়ে বিধলো।রোজ চিৎকার করে কেঁদে উঠলো।

“দেখ!”
-“জানো*য়ার! নরপিশাচ। শয়তান একটা।-গলা ভেঙ্গে রোজ কাঁদতে কাঁদতে পুনরায় ব’লে উঠে,
-“আপনার মতো মানুষ এতো সহজে মরে না।আমি আপনাকে তালাক দিবো।তালাক।ডিভোর্স দিয়ে মুক্তি দিন।দয়া করুন।কেন করলেন এমন।একটুও কি দয়া মায়া নেই।”

-“তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না।নাথিং।আই ডো’ন্ট কেয়ার এন্ড ফা*ক অফ দিস্।দিয়ে দে।

একটু থেমে ইউভান রোজের কানের ঠোঁট স্পর্শ করে,
-“আই হে”ভ নো প্রব্লেম। ভেবে দেখ তারপরেও আমার সাথে বেড শেয়ার করতে পারবি তো???”
-ছিহ”

রোজের হাত থেকে বন্দুক বালিতে পড়ে যায়।
-“কি করলি।মেরে দিলি??আমায় মারতে চেয়েছিলি না?

রোজের কান ঝাঁ ঝাঁ করতে লাগলো। চোখের সামনে ঝাপসা। ইউভানের নিঃশ্বাস তখনও তার কানে,
-“আমি মারি নি…মারিনি আমি।”

ঠিক তখনি ইউভান রোজের হাত শক্ত করে চেপে ধরে অনামিকা আঙুলে জোর করে একটা প্লাটিনামের রিং পড়িয়ে দেয়।

তখনি হেলিকপ্টারের শব্দে আকাশ কেঁপে উঠলো। ক্রুজশিপের ছাঁদ থেকে আগত,হেলিকপ্টার থেকে একটা মোটা দড়ি ফেলতেই ইউভান রোজকে ছেড়ে এক লাফে দড়ি ধরে ওপরে উঠতে লাগলো গেল। যাওয়ার আগে একবারও পেছন ফিরে তাকালো না।হেলিকপ্টার গিয়ে ক্রোজ শিপের ছাদে বসলো।

শীপটা মিলিয়ে যেতেই রোজ আঙুল থেকে রিংটা ছুঁড়ে ফেলে দেয় সমুদ্রের পানিতে…..
.
.
.
(চলবে)

|বিশাল বড় ৫০০০+শব্দ সংখ্য।অবশ্যই গঠনমূলক কমেন্ট করবেন |

তিনহাজার শব্দ সংখ্যা দুদিন আগেই লিখা ছিলো।দেরি করে দিলেও বড় করে দিলাম।কারণ অনেকেই ইতিমধ্যে জানেন যে কাল ঢাবিতে B ইউনিটের ইউনিভার্সিটির ভর্তি এক্সাম ছিলো।যদিও আমি সিরিয়াস ছিলাম না এক্সাম নিয়ে।কারণ আমি ielts দিতেছি।তারপরেও এক্সামের আগে সবাই প্যানিক করে ফেলে আমিও তাই।তো সেই এক্সামের জন্যেই লেখা হয়ে উঠে নি।

📍নোট:ইউভানের রাশিয়া যাওয়ার যাত্রাপথে তুরস্কে কিভাবে এলো এটা ভাবতে পারেন!!
জলপথে ডেনমার্ক থেকে তুরস্ক হয়ে রাশিয়া যাওয়া ডিফিকাল্ট না।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply