born_to_be_villains
methuburi_মিথুবুড়ি
পর্ব_২৫
❌কপি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌কপি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌
ওয়াসিম ভিলার প্রতিটি আনাচকানাচে সানাই আর ঢোল–নগাড়ার তীব্র সুর। রঙিন আলোর মালায় ঝলমল করছে প্রাসাদসম বাড়িটি। একমাত্র মেয়ের বিয়ের আনন্দে কোনো কমতি রাখেননি ইমান ওয়াসিম। আত্মীয়স্বজনের কোলাহল, হাসির ঝর্ণাধারা আর উৎসবের উচ্ছ্বাসে টইটম্বুর চারদিক। তবু এই উল্লাসের মাঝেই নেমে আসে অশুভ ছায়া। সচারচর আমরা শুনে থাকি বিয়ের আসর থেকে কনে পালায়। কিন্তু এখানে ঘটল উল্টোটা। গায়ে হলুদের রাতেই বর উধাও। কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না অর্ককে। খবরটি যদি ছড়িয়ে পড়ত, তবে আনন্দমুখর এই আয়োজন মুহূর্তেই ভেঙে পড়ত লজ্জা আর অপমানে। কিন্তু ভাগ্য যেন আগে থেকেই সহনশীল হয়ে ছিল এলিজাবেথের প্রতি। কেলেঙ্কারির আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই হাজির হলো প্রফেসর আনাম। ইমান ওয়াসিমের সামনে দৃঢ়, স্থির কণ্ঠে তিনি জানালেন—তিনি এলিজাবেথকে বিয়ে করতে চান।
এলিজাবেথের বিয়ের সবকিছু কেমন যেন অস্বাভাবিক দ্রুততায় এগোচ্ছিল। সময়ের চেয়েও দ্রুত, প্রশ্নের চেয়েও সহজ ছিল সবকিছুই। একবাক্যে সম্মতি দিলেন ইমান ওয়াসিম। সেই মুহূর্তে প্রফেসর আনামের চোখে ঝলসে উঠেছিল অস্পষ্ট বিজয়ের রেখা। বহুদিনের প্রতীক্ষিত দাবার চালটি অবশেষে সার্থক হয়েছে। এই সমগ্র ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে নিস্তব্ধ ছিল এলিজাবেথ। সে না বলল না, হ্যাঁ-ও বলল না। সে উপস্থিত থেকেও অনুপস্থিত ছিল। উৎসবের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থেকেও ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। অথচ তার নীরবতায় শূন্যতা ছিল না। ছিল অপেক্ষা….
হলুদে মোড়া মিষ্টি কনে অভিমানী রাজকন্যার মতো হলুদ স্টেজে নিস্পৃহ মুখে বসে আছে। এলিজাবেথের ঠোঁটে কোনো হাসি নেই, নেই দুঃখের রেখাও। নিরেট ঠান্ডা চিবুকে কলের পুতুলের মতে বসে আছে। তার একপাশে শঙ্কিত মুখে বসে আছে হিয়া আর ইবরাত। স্টেজ থেকে খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে গৌরব। ওর মুখটা চুপসে যাওয়া বেলুনের মতো হয়ে আছে। হিয়া একটু পরপর তার দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙাচ্ছে। ইবরাত একফাঁকে এলিজাবেথের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাখির মতো ছুটে গেল গৌরবের কাছে। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিচু গলায় বলল,
“গৌরব, তুই কি সত্যিই জানিস না অর্ক কোথায় আছে?’
গৌরব আতঙ্কে রোবটের মতো মাথা নাড়ল,”না।”
ঠিক তখনই হিয়া ঝড়ের বেগে এগিয়ে এল। হাঁপাতে হাঁপাতে কড়া গলায় বলল,”হ্যাঁ, তুমি জানো না অর্ক কোথায় আছে—ওকে? কেউ যদি জানতে চায় অর্ক কোথায়, তুমি ঠিক এভাবেই বলবে।”
গৌরব তড়িঘড়ি করে মাথা নাড়ল। তারা সবাই এখন বুঝে গেছে এলিজাবেথের এই নিস্পৃহতা নিছক অভিমান নয়, এক নিখুঁত চাল। না-দেখা স্বামীকে সামনে টানতেই সে এমন ঝুঁকির খেলায় নেমেছে এ কথা আর কারও অজানা নেই। কিন্তু বান্ধবীর মন রাখতে গিয়ে আরেক বন্ধুর জীবন আগুনে ছুঁড়ে দেওয়ার সাহস তাদের নেই। এলিজাবেথের সেই অদেখা স্বামী যে তার ব্যাপারে অস্বাভাবিক রকম ডেসপারেট এ বিষয়ে তাদের ধারণা অগাধ। লোকটা যদি সত্যিই সিনেমার নায়কের মতো বিবাহ লগ্নের অন্তিম প্রহরে হানা দেয়, আর নিজের স্ত্রীর পাশে বরবেশে অর্ককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, তাহলে নিশ্চয়ই অর্ককে সে রেহাই দেবে না।
তাই আগেভাগেই তারা অর্ককে সরিয়ে দিয়েছে।
এলিজাবেথ জানে অর্কর একার পক্ষে গা ঢাকা দেওয়া সম্ভব নয়। যা করার, ওরাই করেছে। সব জেনেও সে চুপ। এমনকি প্রফেসর আনাম যখন বিয়ের প্রসঙ্গ তুলেছিল, তখনও সে নির্বিকার ছিল। কারণ যা হওয়ার নয়, তা নিয়ে অহেতুক মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। তাই সে কনে হয়েও নীরব দর্শক।
প্রফেসর আনাম এসেছিলেন এলিজাবেথের গায়ে হলুদ ছুঁয়ে দিতে। কিন্তু তিনি কাছে আসতেই এলিজাবেথ মুখ সরিয়ে নিয়েছিল। থমকে গিয়েছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ স্তব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে আবারও হলুদ ছোঁয়াতে এগোতেই হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠল। জরুরি কলে তাকে তড়িঘড়ি বেরিয়ে যেতে হলো। আর ঠিক তখনই মাঝরাস্তায় তাকে তুলে নেওয়া হলো। যা সম্পূর্ণ অজানা রয়ে গেল সবার কাছে।
পেটের ভেতর কথাগুলো চেপে রাখতে রাখতে অতিষ্ঠ হয়ে হঠাৎ গৌরব তেতে উঠল,
“ধুর বাল! টেনশনে মাথা ধরে গেছে। একটু নেচে আসি।”
কথা শেষ হতেই হিয়া ঝট করে তার কান মুচড়ে ধরল,”এই! কার সঙ্গে নাচবে তুমি?”
ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলেও গৌরব জোর করে হাসল। গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,”অবশ্যই আমার বউয়ের সঙ্গে। প্রকৃত পুরুষরা যেমন বউদের নাচায়, তেমনি বউয়ের সঙ্গে নাচেও।”
বলতে না বলতেই হিয়া লজ্জায় রাঙা হয়ে গেল। হকান ছেড়ে দিয়ে লাজুক ভঙ্গিতে দু’হাতে মুখ ঢেকে ফেলল। ওকে অবিকল নকল করে গৌরবও দু’হাতে মুখ ঢেকে ফেলল। ভঙ্গিমা করে কাঁধে হালকা ধাক্কা দিতেই ইবরাতের গা গুলিয়ে উঠল এদের ন্যাকামো দেখে। মুখ বিকৃত করে বলল,
“এসব নমুনা পছন্দ না বলেই এখন আর তোদের সঙ্গে মিশতে ইচ্ছে করে না।”
গৌরব গা জ্বালানো হাসি দিয়ে বলল,”স্বীকার করে নে, সিঙ্গেল ইবরাত ইয়্যু আর জেলাস অব আস!”
বলতে বলতে হিয়ার হাত ধরে টানতে টানতে ড্যান্স স্পটের দিকে নিয়ে গেল সে। ইবরাত গলা উঁচিয়ে চিৎকার করল,
“ফা*ক।”
“ইয়্যু, জিভ কাটল গৌরব,”ওহ, সরি! নো, মাই বউ।”
ভেংচি কেটে এলিজাবেথের পাশে গিয়ে বসল ইবরাত।
এলিজাবেথ তখনও নিশ্চুপ। ইবরাত পাশে বসতেই এলিজাবেথ হঠাৎ অন্যমনস্ক স্বরে বলল,
“মানুষ ভালোবাসে একটু ভালো থাকার জন্য। অথচ সবচেয়ে বেশি কষ্টও ভালোবাসার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে।”
ইবরাত দৃষ্টি নরম করে তাকাল এলিজাবেথের দিকে। আলতো করে হাত ছুঁয়ে আদ্র কণ্ঠে বলল,
“পুরুষ মানুষ এমন কেন রে?”
শুকনো হাসল এলিজাবেথ,শজানিস, পুরুষ মানুষের একটা সুপারন্যাচারাল পাওয়ার আছে। তারা চাইলে পৃথিবীতেই নারীকে জান্নাত দেখাতে পারে,আবার জাহান্নামও।”
ইবরাত কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই তার ডাকা পড়ল। সে উঠে চলে গেল।এলিজাবেথ চোখ তুলল সামনের ভিড়ের দিকে। হঠাৎ ভিড়ের ভেতর ছদ্মবেশী অফিসার প্রেমের সঙ্গে চোখাচোখি। প্রেম চোখ মারতেই এলিজাবেথের ঠোঁটের এক কোণে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল।
মিসেস নীহারিকার একটুকরো সাধ ছিল মেয়ের গায়ে নিজের হাতে হলুদ মাখাবেন। সেই সোনালি মুহূর্তে হাসতে হাসতে চোখ ভিজে উঠবে। কিন্তু সে সাধ অপূর্ণই রয়ে গেল।এলিজাবেথ যেন বুকভরা অভিমান নিয়ে চারপাশে অদৃশ্য প্রাচীর তুলে রেখেছে। যতবার নীহারিকা এগিয়ে এসেছেন, ততবার সে এক পা করে সরে গেছে। এই বিয়েটাই যেমন অদ্ভুত তেমনি সবকিছুতেই তাড়া, সবকিছুতেই অস্বাভাবিকতা। গায়ে হলুদের আয়োজন হলো, ঢোল বাজল, হাসির শব্দ উঠল। অথচ বর-কনে কারও গায়েই হলুদ লাগল না।
এলিজাবেথ কাউকেই স্পর্শ করতে দেয়নি নিজেকে।
হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ দৌড়ে নিজের রুমে চলে যায়। সারাদিন নিজেকে শক্ত খোলসে মুড়ে রাখতে পারলেও বন্ধ দরজার ওপাশে পা রাখতেই সেই খোলস ভেঙে গেল। বুকের ভেতর জমে থাকা খাঁ খাঁ শূন্যতা হঠাৎ ঝড় হয়ে উঠল। সে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।অভিমান, অপূর্ণতা, না বলা কথা সব মিলিয়ে কান্নাটা ওকে ছিন্নভিন্ন করে দিল। কাঁদতে কাঁদতে একসময় ক্লান্ত শরীর ঘুমের কাছে আত্মসমর্পণ করে নেয়।
হঠাৎ ঘুমের ভেতর অনুভব করল তার গাল বেয়ে নেমে যাওয়া অশ্রুর ওপর দিয়ে যেন তরল কিছু ছুঁয়ে যাচ্ছে।
তারপর কপালে নরম, উষ্ণ ঠোঁটের স্পর্শ লাগল। কানের কাছে গভীর, ধীর ফিসফিসানির সুর এলো,
“সাদি মোবারক, বেগম।”
একটু থেমে, দুটি গাঢ় চোখ স্থির হলো তার ঘুমন্ত মুখের ওপর। কণ্ঠে ছিল অদ্ভুত প্রলুব্ধ দৃঢ়তা,
“যে খেলা আপনি শুরু করেছেন, তার শেষটা নাহয় আমি করলাম।”
হঠাৎ এলিজাবেথের শরীর কেঁপে উঠল। কান্নার ঝাঁকুনি তখনও থামেনি পুরোপুরি। তার সেই কাঁপন টের পেয়ে ছায়ামানব তৎক্ষনাৎ ওকে শক্ত করে আগলে নিল।
নিজের বাহুর আবরণে আটকে রেখে দৃঢ় স্বরে বলল,
“খুঁজো আমায়। তোমার ভেতরের প্রতিটি আওয়াজে আমি আছি। আমাকে খুঁজতে খুঁজতে যদি ভেঙেও পড়ো—বিশ্বাস করো, তোমাকে ভাঙতে দেব না আমি।”
অতঃপর গাঢ়, দীর্ঘ এক চুম্বন এঁকে দেওয়া হলো ঠোঁটে।ঘুমের মাঝেই কেঁপে ওঠে এলিজাবেথ। বুকের ভেতর অকারণ ধকধকানি শুরু হয়। চোখ মেলে তাকাতেই কেউ আর নেই। চারপাশ নিস্তব্ধ। এলিজাবেথ তড়িঘড়ি করে বেডসাইড লাইট জ্বালাল। হলুদ আলো ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়তেই ফোনটা হাতে তুলে নিল। স্ক্রিনের আলোয় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে থমকে গেল৷ তার গালে লেপ্টে আছে কাচা হলুদ। চমকে উঠে পাশে তাকাতেই চোখে পড়ল বেডসাইড কেবিনেটের ওপর ছোট্ট এক বাটি, তাতে কাঁচা হলুদ।মুহূর্তেই সর্বাঙ্গে বিদ্যুৎ খেলে গেল। অশ্রু গড়িয়ে পড়ল নিঃশব্দে। ও ছুটে গেল বেলকনির দিকে। দরজা খুলে নিশ্বাস নিতে নিতে চারপাশে তাকাল তৃষিত চোখে মরিয়া হয়ে।
নেই। কেউ নেই! শূন্য বারান্দা! শূন্য চারপাশ!
কাঁদতে কাঁদতে হাঁটু ভেঙে বসে পড়ল এলিজাবেথ কান্নার তোড়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল লতানো শরীরটা।
“আপনাকে আমার করার যুদ্ধেই তো নেমেছিলাম।
দেখুন না, আপনার তলোয়ারেই আমি খুন হচ্ছি।
আপনি কোথায়, মি. কায়নাত? বাঁচান আমাকে এই দহনের আগুন থেকে… উদ্ধার করুন আমাকে।”
তারকাখচিত আকাশের দিকে তাকিয়ে অভিমানী স্বরে চিৎকার ছুঁড়ে দিয়ে দৌড়ে রুমে ফিরে এসে বুকের ভেতর জমে থাকা ঝড় নিয়ে আঁকড়ে ধরল দেয়ালে টাঙানো সেই প্রিন্টিংটাকে বুকে জড়িয়ে—নিজের হাতে আঁকা রিচার্ডের দু’টি চোখ। এলিজাবেথ ছবিটা বুকে চেপে ধরে অঝোরে কাঁদতে লাগল।
তার কান্নার শব্দ নেমে গেল নিচ পর্যন্ত. দেয়াল ভেদ করে, রাত ভেদ করে, একেবারে বুকের ভেতর এসে বিঁধল।।দীর্ঘশ্বাস ফেলল রিচার্ড। তার আঙুলের ফাঁকে ধোঁয়া ওঠা সিগারেট। হলুদের দাগ তখনো শুকোয়নি আঙুলে। সে দাঁড়িয়ে আছে জঙ্গলের ধারে। ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে একসময় সুরাকার দাঁড়িয়ে থাকত। আজ জায়গাটা তার দখলে। ওয়াসিম ভিলা এখন পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে। তবু অবিশ্বাস তাকে গ্রাস করে রেখেছে। সেদিনের ঘটনার পর থেকে গার্ডদের ওপরও ভরসা নেই তার। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজ সারারাত এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে এক পায়ে, একা। সঙ্গী শুধু সিগারেটের ধোঁয়া আর অস্থিরতা।
কিছু সময় পর এলিজাবেথের বেলকনির দিকে তাকিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে ধীরে, ভারী স্বরে আওড়ালো,
“ডিস্ট্যান্স ডাজন’ট প্রটেক্ট ইউ হোয়েন দ্য ডেভিল লাভস ইয়্যু।”
কথাটা বাতাসে মিলিয়ে যেতেই সে ফোন বের করল।
ডায়াল করল কাউকে। ওপাশে সংযোগ হতেই তকণ্ঠ আরও গাঢ়, আরও কঠিন হয়ে উঠল,
“ডু ইট।”.
সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন বজ্রপাতের মতো নেমে এলো সেই ঘোষণা। এতদিন যাকে পৃথিবী শুধু নামেই চিনেছে, যাকে ‘আন্দিজের হিরো’ বলে শ্রদ্ধায় উচ্চারণ করেছে, যার গল্প শুনলেই রক্তে শিহরণ উঠত, যার মুখ একবার দেখার জন্য বিশ্ববাসী অদৃশ্য এক প্রতীক্ষায় ছিল অবশেষে তার মুখ প্রকাশ্যে এলো। গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলো ভিক্টোরিয়া ক্রসপ্রাপ্ত প্রাক্তন ফাইটার পাইলট রিচার্ড কায়নাতের ছবি।
কারণ একটাই, আর কেউ যেন তার ছদ্মবেশ ধারণ করতে না পারে। ছদ্মবেশ যত নিখুঁতই হোক, মুখোশ যত যত্নে গড়া হোক বা কেন, কেউ কখনও কারও ব্যক্তিত্ব নকল করতে পারে না। সেই বিশ্বাস থেকেই রিচার্ড নিজের পরিচয়, নিজের সক্ষমতা, নিজের প্রভাব সবকিছু উন্মুক্ত করে দিল সবার সামনে। তার স্পষ্ট ধারণা সেদিন রাতে সুরাকারই তার ছদ্মবেশ নিয়েছিল। সেই কারণেই গার্ডরা বিনা বাধায় এলিজাবেথকে তার সাথে যেতে দিয়েছিল। তবুও আরেকটি প্রশ্ন ক্রমাগত ঘুরপাক খাচ্ছে রিচার্ডের মনে।যদিও একটা অসম্ভব, অস্বীকারযোগ্য, প্রায় অসহনীয় সম্ভাবনা। সে জানে ওটা কখনোই সত্যি হতে পারে না। তবুও, যতবার চোখ বন্ধ করে সেই প্রশ্নটাই অন্ধকার ভেদ করে উঠে আসে। একটা মানুষের ছদ্মবেশ এতোটা নিখুঁত কীভাবে হতে পারে!
রিচার্ড মাথা তুলে তাকাল আকাশের দিকে।
ওয়াসিম ভিলার ওপর দিয়ে কয়েকটি হেলিকপ্টার অবিরাম চক্কর কাটছে একই বৃত্তে। পথভোলা পাখির মতো বারবার ফিরে আসছে একই আকাশে। দৃশ্যটা দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল রিচার্ড। সিগারেটের শেষ টুকরোটা পায়ের নিচে পিষে ফেলে আরেকটি ধরাল । ধোঁয়া ছেড়ে কানে গুঁজে রাখা ব্লুটুথের মাধ্যমে শুনতে লাগল ইমান ওয়াসিমের প্রতিটি কথোপকথন, প্রতিটি নির্দেশ, প্রতিটি উদ্বেগ, প্রতিটি শ্বাস।
হঠাৎ কোমরে গোঁজা ওয়াকিটকিতে সংকেত ভেসে এলো। গার্ডদের সতর্ক কণ্ঠ শোনা গেল, দেখা গেল টানটান দায়িত্ববোধ। অস্ত্র হাতে তারা মৌমাছির মতো ঘুরছে ওয়াসিম ভিলার চারপাশে। যেকোনো মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়বে অদৃশ্য শত্রুর ওপর। রিচার্ডের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল অহংকারী, প্রায় নিষ্ঠুর হাসি।
সে তো তার রাণীকে নিজের সমস্ত ক্ষমতার আবরণে ঢেকে ফেলেছে। যার জন্য সে এতটা উন্মত্ত, যার নিরাপত্তায় সে এতটা তীক্ষ্ণ, এতটা নির্দয় তাকে কি সে অন্য কারও হতে দেবে? প্রফেসর আনামের স্বপ্ন কি সত্যিই পূরণ হবে? এলিজাবেথের উদ্দেশ্য কি সফলতার মুখ দেখবে? আর সেই সাইকো মস্তিষ্কের ম্যাডবিস্ট! সে কি এত সহজে সব হতে দেবে? রিচার্ড কি পারবে তাকে আটকে দিতে? নাকি সে-ই অতিক্রম করে পৌঁছে যাবে তার লিলির কাছে?
❌
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাখিরা। রমজান মোবারক ❤️
শুরুতেই সকলের কাছে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করছি এই দীর্ঘ বিড়ম্বনার জন্য। এতটা অপেক্ষা সম্ভবত কখনোই করতে হয়নি, তাই না মিষ্টি পাখিরা? আচ্ছা, ঠিক আছে স্যরি। আবারও বলি স্যরি। সত্যি, খুব করে স্যরি। কানে ধরার মতো অনুশোচনায় আবারও স্যরি। আসলে, অলসতা আমাকে গ্রাস করেছে। আর আপনারা তো জানেনই আপনাদের বুড়ি কতটা ভণ্ড। তার ভণ্ডামিই যেন শেষ হয় না 🤢।
যাই হোক, পয়েন্টে আসি।
আগামীকাল থেকে পবিত্র রমজান শুরু৷ আমাদের মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ এক পরীক্ষার মাস। এই পুরো একমাস আমি ফেসবুকের লেখালেখি থেকে বিরতি নিচ্ছি। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি এই সময়টায় আমি আমার পান্ডুলিপির কাজ শেষ করতে চাই। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন আপনাদের বুড়ির বই আসছে, ইনশাআল্লাহ। কারা আসবে, সেটা আপাতত সারপ্রাইজ থাকুক। চাঁদ রাতে ছোট্ট একটা চমক থাকবে কেমন?
আমি চাইলে পান্ডুলিপির কাজের সঙ্গে রানিং গল্পও চালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু তাতে নিজের উপর অযথা চাপ পড়ে যেত। আমি মোটেও নিজেকের ওপর চাপ ফেলতে চাই না। রোজা রেখে, পান্ডু লিখে, আবার গল্প লেখা সব মিলিয়ে সময় লেগে যেত বেশি। তখন আপনারা নিয়মিত গল্প পেতেন না, দীর্ঘ বিরতিতে পেতেন। এতে গল্পের প্রতি আগ্রহ কমে যেত, হয়তো আমার ওপরও বিরক্তি আসত।
তাই ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম আপাতত লেখা স্থগিত থাকবে। ভয় নেই, সম্পূর্ণ গল্প ফেসবুকেই পাবেন। এটা আমার খুব শখের প্রজেক্ট। শেষ আমি করবই, ইনশাআল্লাহ। তাড়াহুড়ো করে লিখে শখের প্লটের মান নষ্ট করতে চাই না বলেই এই বিরতি। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আমাকে স্মরণে রাখবেন। 🌙✨
এই একমাস পেইজে শুধুমাত্র ই-বুক প্রমোশন চলবে। কেউ অহেতুক গল্পের জন্য ইনবক্সে করে চাপ দিবেন না।
Share On:
TAGS: born to be villains, মিথুবুড়ি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
born to be villains পর্ব ২১
-
Born to be villains পর্ব ২
-
Born to be villains পর্ব ১৩
-
Born to be villains পর্ব ৪
-
born to be villains পর্ব ১৬
-
born to be villains পর্ব ২২
-
Born to be villains পর্ব ১০+বোনাস
-
Born to be villains পর্ব ১
-
Born to be villains পর্ব ৭
-
born to be villains পর্ব ১৯