born_to_be_villains
methuburi_মিথুবুড়ি
পর্ব_২৩
❌কপি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌কপি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌
হাসপাতালে পৌঁছাতেই ইমান ওয়াসিমের উৎকণ্ঠায় ভরা চোখ হঠাৎ বিস্ময়ে থমকে গেল। পুরো হাসপাতালজুড়ে কালো পোশাক পরা লোকজন মৌমাছির ঝাঁকের মতো ছড়িয়ে আছে। চারদিকে অস্বাভাবিক নিস্তব্ধতা। কোনো রোগী নেই, রোগীর স্বজন নেই, স্বাভাবিক কোলাহলের কোনো চিহ্ন নেই। শহরের এত নামকরা একটি হাসপাতাল এমন ফাঁকা বিষয়টা কিছুতেই হজম করতে পারছে না ইমান ওয়াসিম। পার্কিং লটে কয়েকটি কালো গাড়ি ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ল না। মনে হচ্ছে অদৃশ্য কোনো নজরদারি পুরো জায়গাটাকে ঘিরে রেখেছে। তবে কি… তবে কি সে ফিরে এসেছে?
ইমান ওয়াসিমের আগেই মিসেস নীহারিকা দৌড়ে এগিয়ে গেলেন এলিজাবেথের কেবিনের দিকে। স্ত্রীর এমন ছুটে যাওয়া দেখে মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ালেন ইমান ওয়াসিম। কিন্তু পরমুহূর্তেই স্ত্রীর চোখে এলিজাবেথের জন্য স্পষ্ট মাতৃত্বের টান দেখে অজান্তেই তাঁর বুক থেকে চাপা স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।
তবে এলিজাবেথ যে ফ্লোরে ভর্তি, সেখানে পৌঁছাতেই তাঁর বিস্ময় আরও গাঢ় হলো। চারপাশ কালো পোশাকধারী লোকজন দিয়ে ঘেরা। তাদের দাঁড়ানোর ভঙ্গিই বলে দিচ্ছে অনুমতি ছাড়া একটি মাছিও ভেতরে ঢুকতে পারবে না। ইমান ওয়াসিম বিস্ময়ে বিবর্জিত হয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুপল। রাজনীতির মাঠ কাঁপানো মানুষ তিনি। পরিস্থিতি বুঝতে তাঁর দেরি হলো না। এলিজাবেথকে কেউ ঘিরে রেখেছে অদৃশ্য প্রভাববলয় দিয়ে। আর সেই ‘কেউ’টা যে কে সেটাও তাঁর অজানা নয়।
‘ইমান ওয়াসিম সৎবিৎ ফিরে পায় ধাতব স্টিলের দরজা খোলার ক্রিং শব্দে। লিজাবেথের কেবিন থেকে বের হলেন ডক্টর আরবিন। তাঁকে দেখামাত্র মিসেস নীহারিকা অস্থির কণ্ঠে বলে উঠলেন,”আমার মেয়ে কেমন আছে, ডক্টর?”
‘আমার মেয়ে’—এই শব্দ দুটো কানে যেতেই ইমান ওয়াসিম বোবা বিস্ময়ে চমকে উঠলেন। চাপা প্রতিক্রিয়ায় ঠোঁটে হালকা কম্পন উঠল। বিস্মিত, বিমুগ্ধ চোখে তাকালেন স্ত্রীর দিকে। মিসেস নীহারিকার কণ্ঠে প্রবাহমান উৎকণ্ঠা স্পষ্ট।
দুশ্চিন্তাগ্রস্ত স্নায়ুচাপে ব্যাকুল কণ্ঠে তিনি আবারও বললেন,
“বলুন না, ডক্টর!”
ডক্টর আরবিন কিছুটা অবাক হলেন। ওয়াসিম পরিবারের ফ্যামিলি ডক্টর হিসেবে তিনি বরাবরই দেখেছেন এলিজাবেথের প্রতি মিসেস নীহারিকার রূঢ় ব্যবহার। তিনি প্রশ্নভরা দৃষ্টিতে তাকালেন ইমান ওয়াসিমের দিকে। ইমান ওয়াসিম চোখের ইশারায় তাঁকে আশ্বস্ত করলেন। ডক্টর আরবিন একবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে নীরব বিস্ময়ে ভরা চোখে
ফিরে তাকালেন মিসেস নীহারিকার শঙ্কায় কুঁকড়ে যাওয়া কাঁপা মুখের দিকে। অতঃপর বয়সের ভারে খানিক কর্কশ হয়ে আসা কণ্ঠে পেশাদার স্থিরতা এনে বললেন,
“শি ইজ ওকে ফর নাও। তবে কতক্ষণ ভালো থাকবে, সেটা নির্ভর করছে আপনাদের সিদ্ধান্তের ওপর।”
মিসেস নীহারিকা আঁতকে উঠলেন। ভয়ভীত কণ্ঠ কেঁপে উঠল,”কেন? কী হয়েছে, ডক্টর?’
ডক্টর আরবিন এবার সরাসরি তাকালেন ইমান ওয়াসিমের দিকে। আর দেরি না করে ভারী স্বরে বললেন,
“শি ইজ স্লোলি মুভিং টুওয়ার্ড ডেথ। ইফ দ্য সার্জারি ইজ়ন্ট ডান নাউ, হার লাইফ উইল বি অ্যাট সিরিয়াস রিস্ক।”
মিসেস নীহারিকা স্বামীর বাহু খামচে ধরে ফুঁপিয়ে উঠলেন। ইমান ওয়াসিম আজকে স্বীদ্ধান্ত নিতে এক দণ্ড সময়ও নিল না। বড় করে শ্বাস ছেড়ে তাকালেন ডক্টর আরবিনের দিকে৷
“ডোনারের ব্যসস্থা করুন। ওর জ্ঞান ফেরার আগেই অপারেশন করাতে হবে।”
ডক্টর আরবিন নিরবে সাই জানিয়ে দ্রুত প্রস্থান করল। ইমান ওয়াসিম অল্পস্বরে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে তাকালেন এলিজাবেথের কেবিনের দিকে। যদিও সেদিন এলিজাবেথ অপারেশনের কথা বলার জন্য তার কাছে গিয়েছিল, কিন্তু অতীতের কাহিনী আর তাকে তা বলতে দেয়নি। তারপরও ইমান ওয়াসিম আজ আর নিজের কথা শুনলেন না। নিজে থেকে খুব বড় একটা স্বীদ্ধান্ত নিল।
‘হঠাৎ বুকপকেটে থাকা মুঠোফোন চেচিয়ে উঠল৷ ফোনের নীল পর্দায় তাকানো মাত্র তার চোখ জ্বলছে উঠে। তড়িৎ ফোন রিসিভ করে কানে তোলার কারণে সেভ করা সেই আতঙ্কিত নামটি দেখা গেল না, যা দেখে ইমান ওয়াসিমের শিরা-উপশিরায় দিয়ে আতঙ্কের স্রোত বয়ে গেল।
কলে পাওয়া নির্দেশ মেনে শঙ্কায় ভারী পা ফেলে নিচে নামলেন ইমান ওয়াসিম। বাইরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। অথচ তার শিরদাঁড়া বেয়ে নামছে বরফশীতল ঘাম। অকস্মাৎ চারপাশে এমন এক অদৃশ্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যে মনে হচ্ছে বাতাস নয়, নিঃশ্বাস নিচ্ছে বিভীষিকা। ঠান্ডা হাওয়ার ভেতরেও দাউদাউ উত্তাপ। কারও অদেখা ক্রোধ যেনো দগ্ধ নিঃশ্বাস হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে চারদিকে। বড় বড় ঢোক গিলে এগোলেন তিনি।
প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছাতেই বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। যে প্রাঙ্গণ কিছুক্ষণ আগেও ফাঁকা ছিল, তা এখন কালো মেঘের মতো ঢেকে গেছে সারি সারি মার্সিডিসে। পার্কিং লট থেকে লনের শেষ ঘাসের ডগা পর্যন্ত জায়গা নেই। এ যেনো যুদ্ধের আগে সাজানো বিলাসবহুল রণক্ষেত্র। সেই কালো সারির মাঝখানে অধিনায়ক হয়ে একা দাঁড়িয়ে একটি বিএমডব্লিউ। প্রতিটি গাড়ির দরজা খোলা। দরজার পাশে দেয়ালের মতো সোজা হয়ে নিঃশব্দ, নড়াচড়া শূন্য।
দাঁড়িয়ে আছে কালো পোশাকধারী বাহিনী। বৃষ্টির ফোঁটা নির্দয়ভাবে আছড়ে পড়ছে তাদের পাথুরে শরীরে। তাও কারও চোখে-মুখে বিন্দুমাত্র সাড়া নেই। শুধু চোয়ালে জমাট বাঁধা হিংস্র অপেক্ষা। তবে ব্যতিক্রম ছিল শুধু সেই কালো বিএমডব্লিউ এফ-ফোর এর। আশপাশের সব গাড়ি বৃষ্টিতে ভিজে অন্ধকারে মিশে গেলেও, এটাকে যেনো এখনো ছুঁতে পারেনি প্রকৃতি। হঠাৎ ডোর খোলার ভারী শব্দে হুড়মুড়িয়ে কেঁপে উঠল বয়সে নুইয়ে পড়া ইমান ওয়াসিমের নাজুক শরীর। একসাথে খুলে গেল সামনের দু’টি দরজা। বেরিয়ে এলো দুই বিপরীত মেরুর মানুষ। একজন যেন অমাবস্যার অন্ধকার, আরেকজন জোছনাভেজা রাতের দীপ্তি। অস্বাভাবিক ফর্সা সেই ব্যক্তি নিঃশব্দে একটি কালো ছাতা মেলে ধরল। অন্যজন দ্রুত পেছনের দরজা খুলে সসম্মানে সরে দাঁড়াল। ঠিক তখনই আকাশ চিরে বিকট বজ্রপাত। শব্দটা মিলিয়ে যাওয়ার আগেই গাড়ির ভেতর থেকে নিশ্চিত ভঙ্গিতে একটি পা নেমে এলো মাটিতে। তার পা মাটিতে পড়ার আগেই ছাতাটা স্থির হয়ে গেল তার মাথার উপর।
অতঃপর সে নামল। গাড়িগুলোর মতোই তার আপাদমস্তক কালোতে মোড়ানো। প্রথমেই তার দৃষ্টি গিয়ে বিদ্ধ করল ইমান ওয়াসিমকে। বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ আর ইস্পাতের মতো ঠান্ডা সেই চোখের আঘাতে রক্ত হিম হয়ে গেল তার। ওটা যেন তাকানো নয়, রায় ঘোষণা ছিল।
অকস্মাৎ বৃষ্টি থেমে গেল। সময়ের সাথে যেন আকাশও শ্বাস আটকে অপেক্ষা করছে গর্জনের। ফর্সা গড়নের লোকটি ছাতা বন্ধ করে এক গার্ডের হাতে দিতেই সে মুহূর্তের জন্য রোবটিক ভঙ্গি ভেঙে গাড়িতে ছাতাটি রেখে আবার মূর্তির মতো সোজা হয়ে দাঁড়াল। ইমান ওয়াসিম কাঁপা চোখে তাকিয়ে রইলেন যমদূতের পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকা সেই দুই বিপরীত মানুষ দু’টির দিকে। মাথার ভেতর তার হিসাব মিলছে না। কীভাবে একই বৃত্তে এরা দু’জন মানায়? একজনের অস্বাভাবিক উজ্জ্বলতা চোখে লাগে, তাকিয়ে থাকা দায়; অথচ অন্যজন সম্পূর্ণ বিপরীত। অন্ধকারে গড়া গড়ন আর মাথার বাজ কাট তাকে আরও হিংস্র, আরও দমবন্ধ করা করে তুলেছে। একজনের শারিরীক কাঠামো নারী সমাজের কোমল হৃদয়ে ঝড় ওঠার মতো আকর্ষণ, অথচ অন্যজনের অতিরিক্ত সুগঠিত উপস্থিতি দেখলেই যেনো নিঃশ্বাস থমকে আসে। তবু মিল আছে এক জায়গায়—দু’জনেই দীর্ঘদেহী, আর চোয়ালে খোদাই করা কঠোরতা। এই বৈপরীত্যের সমীকরণে ডুবে গিয়ে ইমান ওয়াসিম সাময়িকভাবে মাঝখানের মানুষটিকে ভুলেই গিয়েছিলেন।
হঠাৎই চোখ ফেরাতেই বুক কেঁপে উঠল। পাশে দাঁড়ানো দু’জন যত লম্বাই হোক, মাঝের জন তাদেরও ছাড়িয়ে। উচ্চতায়, প্রভাবে, চোয়ালের তীক্ষ্ণতায়, উপস্থিতির ওজন, সব সব দিক দিয়ে এগিয়ে। তার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না। সরু হয়ে আসা চোখ এক কোপে কেটে ফেলার মতো দৃষ্টি। নড়াচড়া নেই, আছে শুধু চাপ। ইমান ওয়াসিম দ্রুত তার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলেন। বুক শুকিয়ে আসছে তার।
চোখের ধারালো ভয়ে শরীর যখন পাথর হয়ে আসে, ঠিক তখনই তার কণ্ঠে নেমে এলো অদ্ভুত মধুরতা। মধু ছোঁয়া কণ্ঠে ঝরে পড়ল আন্তরিক সম্মোধন,
“সালাম, মাই বিলাভড ফাদার-ইন-ল’।”
আদুরে সম্বোধনের উষ্ণতা বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই দৃশ্যটা ছিঁড়ে গেল বজ্রপাতের মতো। চোখের পলকে অস্বাভাবিক দ্রুততায় সে ঝড়ের মতো ঝাঁপিয়ে এল। পরের মুহূর্তেই দানবীয় লাথি সজোরে আছড়ে পড়ল ইমান ওয়াসিমের তলপেটে। দম বন্ধ হয়ে তিনি ছিটকে পড়লেন সিঁড়িতে। হাড় ভাঙা শব্দের সাথে শরীরের হাড়ে হাড়ে ব্যথার বিস্ফোরণ ঘটল। মন্থর ধীর গতিতে একটি মানব ছায়া নেমে এলো মুখের উপর। একটি অসামান্য সুন্দর মুখ, অথচ বিকৃত ক্রোধে বীভৎস। সেই মুখ এত কাছে যে তার উষ্ণ দহনময় নিঃশ্বাস আঁচড় কাটছে ইমান ওয়াসিমের ত্বকে। মরুভূমির লু হাওয়ার মতো তপ্ত আগুন ছড়ায় তার শ্বাসে শ্বাসে। আর সেই সমুদ্র নীল চোখ? তাও শান্ত নয়। ঝড়ের আগের গাঢ় গভীরতা মিশে আছে তাতে। সেই চোখের নীলাভ মণিতে নিজের আতঙ্কিত, ভাঙা প্রতিচ্ছবি দেখতে জেলেন ইমান ওয়াসিম।
‘বিচ্ছিন্ন একম মুখভঙ্গিতে দাঁতে দাঁত পিষল সে,
“শি’জ মাই ওয়াইফ। হাউ ডেয়ার ইউ লুক ফর আ ডোনার ফর মাই ওয়াইফ উইদআউট মাই পারমিশন? অন্য কারোর অর্গান ঢুকবে ওর ভেতর? আমার স্ত্রীর ভেতর? এটা আদৌও সম্ভব? কল্পনাতেও আনার মতো বিষয়?”
থরথর করে কাঁপছিল ইমান ওয়াসিমের কণ্ঠ, শরীরের ব্যথা ভুলে গিয়ে ব্যাথাক্লিষ্ট কণ্ঠে বলতে চাইলেন,”দ্রুত অপারেশন না করালে আমার মেয়ে মারা যাবে…
“আই’ম হার হাসবেন্ড। ওর ভালো আমার থেকে বেশি আর কেউ বুঝবে না।”
বাতাসে বজ্রধ্বনির মতো বজ্রকণ্ঠে ফিরে এলো জবাব। ইমান ওয়াসিম চোখ-মুখে বিস্ময়ের ঝলক। কিন্তু কিছু বলার সুযোগও পেলেন না। দানব আকৃতির সেই ব্যক্তি তাকে শক্ত করে টেনে নিয়ে চলে গেল। চেঁচাতে চাইলে কণ্ঠনালি চেপে ধরা হলো। একহাতেই তাকে শূন্যে তুলে ফেলা হলো। কানের কাছে চাপা, কণ্ঠবদ্ধ স্বর ভেসে এলো,
“একদম চুপ। যতটা ভালো দেখাস, তুই আদৌও এতো ভালো বাপ নয়। ভালো বাপ হলে মন্ত্রী হবার লোভে মেয়েদের কোনো চরিত্রহীনের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করতি না।”
ইমান ওয়াসিম চোখ আড়াল হলে সে হসপিটালের দিকে হাঁটতে লাগল। এক হাত স্বভাবসিদ্ধ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পেন্টের পকেটে গোঁজা। হঠাৎ পিছন থেকে অতি ফর্সা, সুদর্শন ব্যক্তি তটস্থ কণ্ঠে বলে উঠল,
“বস, ইট ওয়েল বি রিস্ক ফর ইয়্যুর লাইফ।”
তবু সে থামল না। রুক্ষ চওয়া চিবুকে কোনো ভাবান্তর দেখাল না। নির্লিপ্ত সে এগিয়ে যেতে যেতে গমগমে আওয়াজে বলল,
“দেন লেট দ্য লাইফ বি রিস্কড ফর লাইফ।”
‘এলিজাবেথের জন্য ডোনার খুঁজতে বেশি সময় লাগল না। সাধারণত রোগীর জন্য দিনরাত এক করে খোঁজা লাগে, সেখানে ডোনার নিজেই হাজির হয়েছিল। তাও মাত্র পঁচিশ মিনিটের মধ্যেই।
যখন এলিজাবেথকে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হলো, তখনই পাশের কেবিন থেকে বের করা হলো আরেকজনকে। বৃষ্টিমুখর সেই রাতেও এতটা কাছে থেকেও কাছাকাছি আসা হয়নি কারোর সঙ্গে।
‘ঘুমের ভার চোখের পাতা বারবার জোড়ায় জোড়ায় চাপিয়ে দিচ্ছে। তাকিয়ে থাকা দায়বদ্ধতা হয়ে আছে। এলিজাবেথের কেবিনের সামনে মৌমাছির মতো ছড়িয়ে থাকা গার্ডরা স্তব্ধ হয়ে অপেক্ষা করছে যারা দিনের শিফটে দায়িত্ব নেবে, তাদের জন্য। দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে ডে আর নাইট শিফটে। রাত তখন সাড়ে তিনটা। ঘুমের মধ্যে ডুবে থাকার সময়। অথচ কেউই চোখের পাতা এক করার সাহস পাচ্ছে না। ঘুম তো দূর, চোখের পাতা এক করাও নিষিদ্ধ। এলিজাবেথের কেবিন অতিক্রম করার অধিকার আছে শুধু বাতাসের। তাদের অতিক্রম করে একটি মাছিও ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। চার দিন আগে এলিজাবেথের
অপারেশন সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। এই সময়ে দু’বার জ্ঞান ফিরেছে । শারীরিক অবস্থার কারণে ওকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে স্থির রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র এলিজাবেথের নিরাপত্তার জন্য গার্ডরা এত তটস্থভাবে অবস্থান করছে।
হঠাৎ কারোর পায়ে ভারী ধ্বনিতে সকলেই সর্তক হয়ে দাঁড়াল। অটোমেটিক অস্ত্র বের হয়ে এল। তবে যে আসল, তার উপর অস্ত্র ওঠানো কল্পনায়ও অপরাধ। সকল গার্ড সরে গিয়ে মাঝখানে পথ খুলে দিল। সে গমগমে পায়ে হেঁটে এলিজাবেথের কেবিনে ঢুকল। কিছুক্ষণ পরই আবার অচেতন এলিজাবেথকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে গেল।
তার কিছুক্ষণ পর ন্যাসো উপস্থিত হল। সে দেখতে এসেছে, গার্ডরা ঠিকঠাকভাবে ডিউটি পালন করছে কিনা। তখনই রিচার্ডের আগমন। রিচার্ডকে দেখামাত্র সকলের চোখ ঝলসে উঠল, বিদুৎস্পৃষ্টের মতো ভেতর কেঁপে উঠল। গার্ডদের অভিব্যক্তি দেখে ন্যাসোর কপালে ভাঁজ পড়ে। রিচার্ড কারোর দিকে না তাকিয়ে সোজা এলিজাবেথের কেবিনের দিকে এগোতে থাকল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভেতর থেকে ভেসে এলো তার গর্জন,
“হোয়ার ইজ শি?”
রিচার্ড ক্ষিপ্র গতিতে কেবিন থেকে বেরিয়ে আসে। সকল গার্ড ইতিমধ্যে কাঁপতে শুরু করেছে। রিচার্ড একজনের কলাপ চেপে ধরে হিংস্র কণ্ঠে চিৎকার করে উঠল,
“আমার ওয়াইফ কোথায়?”
গার্ডটা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ভয়ে প্রসাব ফেটে পড়ল। রিচার্ডের চোখ থেকে আগুন ঝরছিল। সে এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি, তবুও তেজ কমেনি। সে আবার চিৎকার করতে যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে একজন গার্ড কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল,
“বস, আপনিই তো একটু আগে ম্যামকে নিয়ে গেলেন।”
ঝোড়ো হাওয়ার মতো রিচার্ডের হাত স্থবির হয়ে গেল। চোখ-মুখে বিজলির মতো বিস্ময় ঝলক দিল। হতবাক ন্যাসো পাশ থেকে বলল,
“হোয়াইট রাবিশ, বস তো এতোক্ষণ আমার সঙ্গে ছিলেন।”
❌
‘সব কেমন গোলকধাঁধার মতো লাগছে না? ধৈর্য ধরুন। আস্তে আস্তে সব ক্লিয়ার হবে। সকলে রেসপন্স করতে ভুলবেন না, কেমন? গত পর্বে পাঁচ হাজার রিয়েক্ট উঠেছে। দ্যাট ওয়াজ টোটালি আনএক্সপেক্টেড। আশা করি এই পর্বেও সকলের রেসপন্স পাবো। এমনভাবেই দ্রুত রেসপন্স করুন, দ্রুত পর্ব পাবেন। ☺️
Share On:
TAGS: born to be villains, মিথুবুড়ি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Born to be villains পর্ব ১৫
-
born to be villains পর্ব ১৬
-
born to be villains পর্ব ২২
-
Born to be villains পর্ব ৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
Born to be villains পর্ব ৯
-
born to be villains পর্ব ১৯
-
born to be villains পর্ব ১৮
-
Born to be villains পর্ব ৬
-
Born to be villains পর্ব ৩
-
born to be villains পর্ব ১৭