Born to be villains Golpo romantic golpo

born to be villains পর্ব ২২


born_to_be_villains

methuburi_মিথুবুড়ি

পর্ব_২২

❌কপি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌কপি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌

“ইয়্যু লাইড টু মি, রিচার্ড কায়নাত।”

“লাইড?” বেশ তাক লাগানো শোনালো তার কণ্ঠ।

‘একটু থেমে,

“রিচার্ড কায়নাত!”

‘তারপর আবার সেকেন্ড খানিক বিরতি শেষে নিষ্পৃহ ভঙ্গিতে ভাবলেশহীন কণ্ঠে বলল,”সত্যটা তবে জেনেই গেলেন, মিসেস কায়নাত।” কীসের ভার যেন ঝড়ে পড়ল তার কণ্ঠ থেকে।

‘তার এই অনাসক্ত আচরণ আর উদাসীন কণ্ঠে সিল্কের শাড়িতে ধরা আগুনের মতো দাউদাউ করে জ্বলে উঠল এলিজাবেথ। হাতের কাছের ফুলের বুকেটা ছুঁড়ে চিৎকার করে উঠল,

“আপনার উদ্দেশ্য কী সত্যি করে বলুন৷”

“আপাতত আপনাকে হাসিল করা৷”

‘পায়ের পাতা থেকে তিরতির করে আগুন ধরা ক্রোধ মাথায় উঠছে। অসন্তোষ আর বিরক্তিতে পাকা কাশ্মীরি আপেলের মতো লাল হয়ে উঠেছে শিশিরছোঁয়া কোমল গাল।এলিজাবেথ নিজেকে শান্ত রাখতে চাইল। যথাসম্ভব ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে রেখে রুদ্ধ গলায় বলল

“আপনি, আপনার নাম, আপনার প্রফেশন, পরিচয়… সব সব সব মিথ্যে।”

“আমি কিন্তু কখনোই আমার নাম বলিনি, মিসেস কায়নাত।”

‘এলিজাবেথ থমকে গেল। সত্যিই তো রিচার্ড কখনও নিজে থেকে নিজের বিষয়ে কিছু বলেনি। জোর করেও তার মুখ থেকে নিজের পরিচয় নিয়ে একটা শব্দও বের করা যায়নি। তাছাড়া ‘আর.কে.’ নামটা সে শুনেছে অফিসার প্রেমের কাছ থেকে। বিচক্ষণভাবে ভাবলে এর পূর্ণরূপ দাঁড়ায়—রিচার্ড কায়নাত। সেই হিসেবে তাকে মিথ্যাবাদী বলা চলে না। কিন্তু তার পেশা?

‘এলিজাবেথ আবারও তেতিয়ে উঠল,”মিথ্যে বলেছেন আপনি। আপনার প্রফেশন নিয়ে মিথ্যে বলেছেন। ভিক্টোরিয়া ক্রোস হোল্ডার হয়েও কেন মিথ্যের আশ্রয় নিলেন?”

‘চাপা হাসির শব্দ ভেসে এলো। পরপরই শোনা গেল পুরুষালী গভীর হাস্কি স্বর,”আই ওয়াজ জাস্ট টেস্টিং ইয়্যু, ওয়াইফি৷”

“মানে?”

‘বিপরীত পক্ষে কণ্ঠে মুহুর্তেই ফিরে গেল তার চিরায়ত গম্ভীরতায়,”আই ডিসলাইক পিপল উইথ উইক ক্যারেক্টার। দ্যাট’স হোয়াই আই ওয়াজ টেস্টিং ইউ বাই সেয়িং আই’ম আ গ্যাংস্টার। অ্যান্ড সাকসেসফুলি ইউ হ্যাভ পাসড দ্যাট টেস্ট।”

‘বিস্ময়ের ঘন ছাপ আভা দিয়ে উঠল এলিজাবেথের রাগান্বিত মুখাবয়বে। শান্ত হবার প্রাণান্তকর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে পূণরায় তেজস্বিনীর ন্যায় জ্বলে উঠল সে,

“জাস্ট শাট দ্য ফাক অফ। ভণিতা না করে সবটা খোলাসা করুন।”

‘ব্যক্তিগত বাঘিনীর তেজ দেখে রিচার্ডের মরুভূমির মতো খরখরে চিবুকে গৌরবের অস্পষ্ট ঝলকানি ফুটে ওঠে। সন্তুষ্টিতে গালের ভেতর জিভ ঘুরে গেল অনর্থকভাবে। অতঃপর বলল,

“কোনো সাধারণ নারীর পক্ষে সম্ভব নয় একজন গ্যাংস্টারের প্রেমে পড়া এবং একবাক্যে তাকে নিজের করা। আপনি অসাধারণ। দ্যাটস হোয়াই ইয়্যু আর মাইন, বেবিগার্ল।”

‘একটু সময় নিয়ে যোগ করল,

“সেই ভেজা চোখদুটোতে আটকে পড়লেও, এই তেজে আমি হার মানি। বারবার, প্রতিবার, অজস্রবার। আপনি জাস্ট অসাধারণ, মিসেস কায়নাত। আপনার ক্ষমতা সত্যিই অসম্ভব। কতটা ছলনাময়ী আপনি… কীভাবে আমার মতো একটা পশুকে নিজের দাশ বানিয়ে ফেললেন। ভাবুন তো ঠিক কতটা ভয়ংকর আপনি।”

“আপনি আমাকে ম্যানুপুলেট করার চেষ্টা করছেন৷”

“এলিজান!”

“আপনি?”

“জান!”

“লিসেন..

“জান রে!”

“আ…

“আমি তো শুধু একটি প্রেমের কাব্য রচনার স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেখানে কেন আপনার নাম খুঁজে পেলাম? আমি তো চাঁদ দেখার আশায় ছিলাম, সেখানে কেন আপনার মুখ ভেসে উঠল? আমি তো কেবল স্বপ্ন দেখার চেষ্টায় ছিলাম, কেন আপনার আমাকে খুঁজে নিল? আমি তো সুখের খোঁজে ছিলাম, আপনি কেন এসে বসলেন? একটা মানুষের সর্বোচ্চ অনুভূতিও বুঝি এভাবেই লুটে নেওয়া যায়?”

‘এলিজাবেথ খুব ভালো করে বুঝতে পারছে লোকটা তাকে বুদ্ধি খাটিয়ে বশে আনার চেষ্টা করছে। এলিজাবেথ কণ্ঠ আরও গাঢ় করল,

“আপনার বর্তমানে কোন প্রফেশনে আছেন?”

‘তার অকপট স্বীকারোক্তি,”রাইট নাউ, আই’ম আ পাওয়ারহাউস ইন দ্য বিজনেস ওয়ার্ল্ড।”

‘অচেতনভাবেই এলিজাবেথের ভেতর থেকে স্বস্তির তপ্ত নিশ্বাস বেরিয়ে এলো। ক্রোধে জ্বলতে থাকা ভঙ্গুর শরীর ক্লান্তিতে ধসে পড়ল বিছানার উপর। তবুও নেত্র নীড়ে তখনও লালচে তেজ৷ বলল,

“এতো দুর্দান্ত পজিশন, দারুণ ক্যারিয়া আর এতো ভালো একটা অফার রিজেক্ট করার রিজন?”

‘হঠাৎই নিম পাতার মতো তেতো হয়ে গেল রিচার্ডের মুখ। তার সদা কঠিন, অচঞ্চল ভঙ্গিতে অযাচিত কোনো ছাপ ফুটে উঠল। কী সেটা আক্ষেপ নাকি আক্রোশ তা বোঝা দায়। মরুভূমির লু হাওয়ার মতো উত্তাপ ছড়াচ্ছিল তার তপ্ত নিঃশ্বাসে,”মাই লাইফ, মাই রুলস।”

“আই’ম ইয়্যুর ওয়াইফ, মি. কায়নাত।”

‘এলিজাবেথের কণ্ঠে স্ত্রীসুলভ অধিকার আর সাহসের প্রতিধ্বনি মাত্রেই স্ফটিক অগ্নির মতো ক্রোধে বর্ষণ আসলো। রিচার্ড হঠাৎ করেই তুষ্টিমাখা হাসি খেললো অধর কোণে। চোখে এক রকম লঘুচিন্তার ঝিলিক দিয়ে উঠল। পরমুহূর্তেই পরিবর্তন আসে তার কণ্ঠে, আসে মূর্তিমান অনুগত,

“দ্যান ওকে। মাই লাইফ, ওয়াইফ রুলস।”

‘এলিজাবেথ আবারও নম্র স্বরে জানতে চাইল,”সত্যি বলুন, মি. কায়নাত। আপনি এমনটা কেন করলেন? ওটা নিশ্চয়ই আপনার…

‘কথা কেটে দিল রিচার্ড,”আমার স্বপ্ন ছিল।”

‘রিচার্ডের কণ্ঠে এবারও একটা ছায়া ছিল। যার পুরো অর্থ এলিজাবেথ ঠিক ধরতে পারল না, শুধু আংশিকটা বুঝল। এবার বিনয়ের সঙ্গে কলাকৌশলের মতো খেলে গেল তার স্বরে,”স্বপ্ন ছাড়া কি বাঁচা যায়?”

‘রিচার্ড যেন নিজের ওপরই তাচ্ছিল্য করে হাসল,”আমার বুঝি মরে গেছি?”

“তাহলে কেন ছাড়লেন?”

“ফাদারের শেষ ইচ্ছে ছিল, আমি যেন তার কাছে ফিরে আসি। যে মানুষটা রাস্তা থেকে তুলে এনে লালনপালন করেছে, তার জন্য এতোটা তো করাই যায়।”

‘বিস্ময়ে চোয়াল ফাঁক হয়ে গেল এলিজাবেথের। অবাকচিত্তে সে বলল,”আপনি ফাদারের এক কথায় আপনার স্বপ্নের কাজ ছেড়ে দিলেন? এতো ভালো একটা প্রস্তাব রিজেক্ট করলেন?”

‘রিচার্ড মুহূর্তের মধ্যে সুর পাল্টে বলল,”ফাদারের কথায় করিনি তো। গোলামী করতে পারবো না, তাই ছেড়ে দিয়েছি।”মানুষ তখনই নিজ অবস্থান থেকে নড়েচড়ে বসে, যখন তার অন্তরের আগুন জ্বলে ওঠে। তাহলেও কি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তার ভেতরে ভেতরে জ্বলছে!

‘এলিজাবেথ বুঝতে পারল না তার কথার মানে। বলল,”মানে?”

রিচার্ড খুবই নির্লিপ্ত স্বরে বলল,”ট্রেনিং আর বাজপাখির মতো আকাশে পর্যন্ত মজা ছিল। খুব এনজয় করতাম। কিন্তু জয়েন করার পর যখন উপরে থেকে আদেশ আসত, তখন তা মানতে কষ্ট হতো। তখন থেকেই ড্রিম জবের প্রতি বিতৃষ্ণা জাগতে শুরু করে।”

“মানে, আপনার ওপর কেউ আঙুল ঘুরাতে পারবে না?”

“ফাকিং নট। আমার রাজ্যে আমিই রাজা।”

‘এলিজাবেথ খানিকটা কটাক্ষ ভরা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,”তাহলে ফাদারের এক কথায় আপনি চলে এলেন যে! এখানে কি ফাদার আপনার ওপর আঙুল ঘুরাচ্ছে না?”

‘রিচার্ড বাঁকা হাসে,”ওহ, শাট দ্য ফাক অফ মাই ফাকিং ফুল। ফাস্ট অব অল, ফাদারের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা আছে। আর রিচার্ড কায়নাত কখনো ঋণ রাখে না। আমার একটা সেক্রিফাইজের মাধ্যমে ছাব্বিশ বছরের ঋণ শোধ হয়ে গেছে। সুতরাং, এখন আমি মুক্ত।”

“তারমানে, আপনি সেক্রিফাইজ করতে জানেন?”

“এটাকে সেক্রিফাইজ বলা যায় না। আমার ভাষায় এটাকে ছেড়ে দেওয়া বলে। এমন সুযোগ হাতছাড়া করার হিম্মত সবার থাকে। আমার এই হিম্মতই আমাকে সবার থেকে আলাদা করে রাখে, গট ইট?”

‘এলিজাবেথ চুপ রইল। রিচার্ড আবার বলল,

‘সেকেন্ডলি, ফাদার আমার ওপর আঙুল ঘুরাচ্ছে না। সেই সুযোগ আমি রাখিনি। আমি কোনো কাঁচা খেলোয়াড় নই।”

‘অস্থিরমতি খেঁকিয়ে উঠল,”স্পট বিং সো সাসপেন্সফুল।”

‘রিচার্ড ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়ল। অগত্যা ভরাট স্বতন্ত্র স্বরেবলতে শুরু করল,”তার সকল সম্পত্তি, আধিপত্য, ক্ষমতা নিজের দখলে নিয়েই রাজ করতে বসেছি। তারপর নিজের নতুন নাম গড়ে তুলেছি। সুতরাং, আমার ওপর আঙুল ঘোরানোর প্রশ্ন আসে না। সেই সুযোগ আমি রাখি না। আর বাকি রইল পরিচয় গোপনের কথা, আন্দিজের প্লেইনক্ল্যাসের ডকুমেন্টারিতে আমার কোনে ছবি নেই কেন? লিসেন বেইবি, মাই প্রাইভেসি সো হাই, ইউ ইয়াল নেভার সি মি অনটিল ডিসাইড টু বি সীন।”

“আপনার নতুন?”

“আ.কে। আই হেট পাবলিক ফ্রেম। আমার ওয়াইফ ছাড়া অন্য মেয়েরা আমার প্রতি ক্রাশ কেন খাবে?”

‘এলিজাবেথ অস্থির ভঙ্গিতে নড়েচড়ে বসল। হঠাৎ সেই মুহূর্তটার কথা মনে পড়তেই নাকের ডগা লাল হয়ে উঠল। চোখের সামনে ভেসে উঠল একের পর এক সুন্দরী নারীর প্রতিক্রিয়া, স্পিকারে “রিচার্ড” নামটা উচ্চারিত হতেই যেভাবে তাদের মুখ বদলে গিয়েছিল। অকারণেই এলিজাবেথের গলায় নারীসুলভ নরম ঈর্ষার ছায়া নেমে এলো।

“এই যে এই নাম—রিচার্ড কায়নাত! এই নাম শুনেই তো সবার গায়ে গুজবাম্পস ওঠে।”

‘নিজের জেলাসিটা লুকোতে চাইলেও রিচার্ডের চোখ এড়াল না কিছুই। তার ঠোঁটের কোণে চাপা এক হাসির রেখা ফুটে উঠল। তবে কণ্ঠ রইল পাহাড়সম গম্ভীর।

“দ্যাটস হোয়াই দ্য নেইম ইজ নাও আর.কে। রিচার্ড কায়নাত ওয়াজ অ্যান এক্স ফাইটার পাইলট… বাট আর.কে—দ্য মোস্ট সাকসেসফুল বিজনেসম্যান।”

‘এলিজাবেথ চুপ। কপালে ভাঁজ ফেলে সবকিছু নিজের মতো করে সাজিয়ে নিচ্ছে সে। রিচার্ড দাম্ভিক কণ্ঠে আরও বলল,

“আমাকে যতটা দেওয়া হয়েছিল, তার ড্রাবল নিজের হাতে গড়েছি আমি। নাও দ্য হোল ড্রাগন সোসাইটি আর মাইন। এনি মোর কুয়েশ্চেন?”

‘এলিজাবেথ গভীর শ্বাস ফেলল। গলা স্থির রাখার চেষ্টা করেও কাঁপন লুকোতে পারল না। বলল,”আমি আপনার পরিবার সম্পর্কে জানতে চাই।”

‘ওপাশ থেকে একটুও দেরি না করে উত্তর এল সংক্ষিপ্ত, কড়া,”আমার পরিবার আমার স্ত্রী।”

রিচার্ড যে ইচ্ছে করেই শর্টকাটে সব কথা এড়িয়ে যাচ্ছে এটা বুঝতে তার বাকি রইল না। বুকের ভেতর জমে থাকা অস্বস্তি হঠাৎ বিস্ফোরিত হলো। এলিজাবেথ আর নিজেকে সামলাতে পারল না। তীব্র গর্জনে চিৎকার করে উঠল,

“মি. কায়নাত!”

‘তার সেই উচ্চারণ বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ফোনের ওপাশে বজ্রনিনাদের মতো গর্জে উঠল রিচার্ডের কণ্ঠ,

“ওয়াচ ইয়োর টোন, ওয়াইফি। আই রিপিট—আমার পরিবার আমার স্ত্রী। এই পৃথিবীতে সে ছাড়া আমার আর কোনো পরিবার নেই, কোনো আপনজন নেই। তার বাইরে কারও প্রতি আমি দায়বদ্ধ নই। না ছিলাম, না কখনও হব… ইন ফিউচার আমাদের সন্তান ছাড়া।”

শেষের শব্দগুলো যেন বিদ্যুৎ হয়ে আঘাত করল এলিজাবেথের ভেতরে। “আমাদের সন্তান”—এই দুটো শব্দতে রুক্ষ মানুষটার কণ্ঠে এক অদ্ভুত কোমলতা ধরা পড়ল। এলিজাবেথের শরীরের প্রতিটি শিরায় শিরায় শিহরণ বয়ে গেল। সব রাগ গলে জল হয়ে নামল কণ্ঠ থেকে। সেখানে জন্ম নিল অন্য আকাঙ্ক্ষা। আলিঙ্গনে ডুবে যাওয়ার নেশা।

“কাছে আসুন না… আর কত দূরে থাকবেন? আমার কষ্ট হয় না বুঝি?”

“আমি যে ধরলে আর ছাড়ি না। কাছে এলে সহ্য করতে পারবেন তো?”

“সহ্য করতে না পারলে আপনার মাঝেই দাফন দিয়ে দিয়েন।”

“এতটাই ডেসপারেট কাছে আসার জন্য?”

শিরশিরে উত্তাপে কেঁপে উঠল এলিজাবেথ। তবু পিছু হটল না মন। রিচার্ড দীর্ঘশ্বাস ফেলল। একটা দীর্ঘশ্বাস, যার ভেতরে জড়িয়ে আছে অসংখ্য বাধা, কাছে না আসতে পারার কষ্ট।

“আমাদের দেখা হবে, খুব শিগগিরই হবে। আমাদের সাক্ষাৎ হবে সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে নিখুঁত। কথা দিচ্ছি, জান।”

এলিজাবেথ আলমারি থেকে রিচার্ডের সেই কালো কোটটা বের করল। বুকের সাথে জড়িয়ে মুখ চেপে ধরে ভেঙে পড়ল কান্নায়। কাঁদতে কাঁদতে ভাঙা গলায় বলে,

“আপনি আমাকে এ কেমন গোলকধাঁধায় ফেলেছেন? এমন একজন মানুষের প্রেমে পড়ে গেছি, যাকে আমি দেখিইনি… ছুঁতেও পারছি না। অথচ সারাক্ষণ এই হৃদয় জ্বলছে। আপনি কোথায়? একবার আসুন না… আমাকে বুকে আগলে নিন না। আমি খুব একা… বড্ড একা। আমি দেখতে চাই সেই মানুষটাকে, যার নামে আমি কবুল বলেছি।”

ওপাশে রিচার্ড চোখ বন্ধ করে। বুকের বা পাশে শক্ত করে হাত চেপে ধরে। বড্ড ব্যাথা হচ্ছে এপাশটায়।
মনে হচ্ছে হৃদপিণ্ডটা খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে। যন্ত্রণায় ছটফট করলেও কণ্ঠে দৃঢ়তা টেনে আনল সে।

“আমি কাছে নেই, দূরে আছি। এতেই ভালোবাসার তাপে আপনি জ্বলছেন, পুড়ছেন, ছটফট করছেন। আমি কাছে এলে আপনার কী হাল হবে, বুঝতে পারছেন তো, মিসেস কায়নাত?”

“আপনার প্রেমে পুড়ে যাক আমার অঙ্গ।”

“অঙ্গ না, পুড়বে হৃদয়।”

“পোড়াতে এসেছেন বুঝি?”

“সেই খেলায় নেমে লাভ কী? যেখানে জিতলে ধ্বংস, হারলে মৃত্যু নিশ্চিত।”

‘যার অর্থ দাড়ায় তাকে পেলে ভালোবাসায় ধ্বংস, না পেলে শূন্যতায় মৃত্যু। রিচার্ডের কথার অন্তর্নিহিত অর্থটা স্পষ্ট হয়ে উঠল এলিজাবেথের কাছে। উপলব্ধির ভারে আবারও ফুঁপিয়ে উঠল সে। কান্নার তোড়ে গোলাপি মুখ লাল বর্ণ ধারণ করেছে। শ্বাস কাঁপতে লাগল। তবু কান্নার ফাঁকেই বেহায়া সাহসে বলে ফেলল,

“আলিঙ্গনের নেশায় আসক্ত করে দিয়ে এভাবে দূরে দূরে থাকছেন কেন? আমার কষ্ট হয় না বুঝি?”

‘ওপাশে কোনো শব্দ এল না। হঠাৎই কল কেটে গেল।
নিস্তব্ধ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে এক সেকেন্ড স্থির রইল এলিজাবেথ। তারপর বাঁধ ভাঙা কান্না শব্দ হয়ে বেরিয়ে এলো। অভিমান গড়িয়ে পড়ল গলার স্বরে,

“আপনি আমাকে যে দহনের আগুনে ফেললেন, সেখানে তাপ নেই, শুধু জমে আছে বহুদিনের অমলিন আলাপ।”


বাংলাদেশের আবহাওয়া আর মেয়েদের মুড সুইং তুলনা করলে মন্দ হয় না। এই ভালো, তো এই খারাপ। ঠিক তেমনই এক শীতের সকাল। মাথার ওপর ঝকঝকে রোদ, তবুও বাতাসে কাঁপুনি। সেই রোদ মাথায় নিয়েই বাসা থেকে ভার্সিটির উদ্দেশে বের হলো এলিজাবেথ।

নিজের জীবনটা এখন ঠিক কোন মোড়ে দাঁড়িয়ে তা ভাবলেই তার ভেতর থেকে শুধু দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। এতদিন যার কাছে ভালোবাসার ভিক্ষা চেয়েছে, সেই মানুষটাই এখন তাকে কাছে টানতে চাইছে। অথচ যে মানুষ তাকে ভালোবাসতে বাধ্য করেছিল, তার মরুভূমির মতো খরখরে বুকে যে প্রেমের প্রথম বৃষ্টি নামিয়েছিল সে-ই হঠাৎ দূরত্বের দেয়াল তুলে দিয়েছে।

আর সেই শয়তানটা? যে সর্বক্ষণ তার ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজত, তাকে মানসিক অশান্তিতে পুড়িয়ে মারতে চাইত—শপিং মলের সেই ঘটনার পর থেকে সেও নিখোঁজ।যন্ত্রণা দেওয়া আর যন্ত্রণা মুছে ফেলা দুই বিপরীত মেরুর মানুষ দুজনেই একসাথে অদৃশ্য। অদ্ভুত শূন্যতায় কেঁপে ওঠে এলিজাবেথের মন। তার ওপর অফিসার প্রেমও আর আসেনি আসামিদের খোঁজে। নতুন বিয়ে করেছে। হয়তো এখনো হানিমুনেই ব্যস্ত।

হঠাৎ মনে হলো যেন উত্তপ্ত এক খেলার মাঠ আচমকা ডুবে গেছে পাতালপুরীর নিস্তব্ধতায়। শব্দ নেই, তাপ নেই৷ তবুও চাপা এক অদৃশ্য দহন ছড়িয়ে আছে চারদিকে।

আজ নিজের গাড়ি ন। সিএনজি করে ভার্সিটির উদ্দেশ্য বের হয়েছে এলিজাবেথ। শীতল সকালের ভিড় আর ক্লান্ত শহর থেমে থাকা লম্বা যানজট তৈরি হয়েছে। স্থির হয়ে থাকা সময়ের ভেতরেই হঠাৎ চোখ আটকে গেল পাশের একটি স্কুল বাসে। জানালার কাঁচের ওপারেই দৃশ্যটা। বাসের ভেতরে গাদাগাদি করে বসা বাচ্চারা। তাদের মাঝখানে ইউনিফর্ম পরা এক ছোট্ট মেয়ে জানালার দিকে সরে বসার বৃথা চেষ্টা করছে। তার পাশে বসা কন্ট্রাক্টর নামধারী এক নোংরা মানুষ ইচ্ছে করে নিজের শরীর ঠেলে দিচ্ছে বাচ্চাটার দিকে। তার বিকৃত লালসা লুকোনোর কোনো চেষ্টাই নেই। নিষ্পাপ মেয়েটা হয়তো ভাষা জানে না, অভিযোগ জানে না। কিন্তু তার চোখমুখে জমে উঠেছে অস্বস্তি, ভয়, আর বোবা প্রতিবাদ। এক মুহূর্ত… শুধু এক মুহূর্তই যথেষ্ট ছিল। এরপর সিএনজির ভেতর থেকে আগুনের মতো বেরিয়ে এল এলিজাবেথ। তারপর আর কোনো কথা নয়। সরাসরি একটা লাথি। লোকটার পশ্চাৎদেশে সজোরে আঘাত করতেই সে হুমড়ি খেয়ে সামনে থেকে ছিটকে গিয়ে পড়ল পেছনের সিটের ওপর। চমকে উঠল সকলে। এলিজাবেথের চোখে আগুন জ্বলছে।

কন্ট্রাক্টর ক্ষুদ্রার্ধ বাঘের মতো ভঙ্গিতে এলিজাবেথের দিকে এগোতে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই হঠাৎ ভেসে এলো কারও প্রলুব্ধকর শিসের শব্দ। অত্যন্ত তীক্ষ্ণ, নিশ্চিন্ত, অদ্ভুতভাবে আত্মবিশ্বাসী শোনালো সেই শিস। শব্দটা শুনে সে থমকে দাঁড়াল কন্ট্রাক্টর। জানালার বাইরে তাকাতেই দেখা গেল কালো হুডি পরা এক মানুষ, মুখে সেই চেনা নিনজা মাস্ক। উদাস ভঙ্গিতে শিস বাজাতে বাজাতে সে বাসের দরজার দিকে এগিয়ে আসছে।

লোকটাকে দেখামাত্র এলিজাবেথের বুক কেঁপে উঠল। তবে কি সে-ই? আবারও ফিরে এসেছে? অফিসার প্রেমের কথাগুলো হঠাৎ কানে বাজল—সুস্থ হলেই শিকারি আবার মাঠে নামবে। এলিজাবেথ তাকাল সুরাকারের পায়ের দিকে। সে একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেঁটে বাসে উঠল। তারপর ধীরে ধীরে এসে দাঁড়াল এলিজাবেথের ঠিক পেছনে। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই তার হ্যাজেল চোখের সঙ্গে চোখ আটকালো এলিজাবেথের। সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভেতর দিয়ে ঠান্ডা একটা স্রোত বয়ে গেল। বাসের কন্ট্রাক্টরও এবার সজাগ চোখে তাকাল সুরাকারের দিকে। সুরাকার নির্বিকার দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার চোখে। কয়েক সেকেন্ড এভাবেই পার হলো। সময়টা যেন জমে গেল বাতাসে। সেই দৃষ্টির ভেতরকার আদেশ বুঝতে দেরি হলো না এলিজাবেথের। তার ভেতরটা আবারও কেঁপে উঠল। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। সুরাকার চোখে হালকা ইশারা করতেই কন্ট্রাক্টর হঠাৎ জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ল। পাশের রাস্তা দিয়ে ছুটে যাওয়া একটি ট্রাকের নিচে পড়ে মুহূর্তেই তার থেঁতলে যাওয়া দেহ স্থির হয়ে গেল।

‘কেউ চিৎকার করার সুযোগও পেল না। তার আগেই বিকট এক বিস্ফোরণের শব্দে চারদিক কেঁপে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে বাসটা একপাশে উলটে পড়ে গেল। চারপাশ তখন যানজটে থমকে ছিল। সেই জ্যামের মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিল গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই একটি ট্রাক। আচমকাই ট্রাকের ভেতর একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়।

দাউ দাউ শিখা আর ঘন কালো ধোঁয়া মুহূর্তেই চারদিক গিলে নিল। বাতাস ভারী হয়ে উঠল পোড়া গ্যাসের গন্ধে। কাঁচ ভাঙার শব্দ, ধাতব চিড়ধ্বনির মাঝখানে ছড়িয়ে পড়ল শিশুদের আতঙ্কিত কান্না। এলিজাবেথ চাপা পড়ে ছিল একটি উলটে যাওয়া সিটের নিচে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল ওর। চোখ জ্বলছিল ধোঁয়ায়। হঠাৎই একটি শক্ত, পুরুষালি হাত তাকে এক ঝটকায় টেনে বের করে আনল। এলিজাবেথ আঁতকে উঠল। ধোঁয়ার কুণ্ডলির ভেতর থেকেও সেই কণ্ঠস্বরটা স্পষ্ট শোনা গেল। তাড়াহুড়া, তবুও নিয়ন্ত্রিত কণ্ঠ,

“ডোন্ট প্যানিক লিলি.. সেভ দেম।”

‘কথাটা বলেই সে দৌড়ে গেল আহত বাচ্চাদের দিকে।
কয়েক সেকেন্ড পর এলিজাবেথের হুঁশ ফিরল। কাঁপতে থাকা চোখ তুলে সামনে তাকাতেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। ছোট ছোট বাচ্চারা রক্তাক্ত অবস্থায় ছড়িয়ে আছে চারদিকে। কারও হাত নেই, কারও পা অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে আছে, কেউ এখনও সিটের নিচে চাপা পড়ে কাঁদছে, কারও শরীরে কাঁচের ধারালো টুকরো গেঁথে আছে। নিজের শরীরেও জ্বালা টের পেল সে। তাকিয়ে দেখল তার হাত-পা জুড়ে কাঁচ ঢুকে আছে। রক্ত ধীরে ধীরে গড়িয়ে পড়ছে। হঠাৎ কম্পিত দৃষ্টি আটকে গেল সুরাকারের দিকে। সে নিজেও রক্তাক্ত। তবুও থামেনি। দাঁতে দাঁত চেপে একের পর এক বাচ্চাকে টেনে বের করছে, কাঁধে তুলে নামিয়ে দিচ্ছে বাস থেকে। তার চলাফেরায় ব্যথার ছাপ স্পষ্ট হলেও বিন্দুমাত্র বিরতি নেই৷ আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে থাকল না এলিজাবেথ। সে ছুটে গেল। এক এক করে আহত বাচ্চাদের বাস থেকে নামিয়ে টেনে নিয়ে যেতে লাগল নিরাপদ দূরত্বে। সময় খুব কম। বাসে যে কোনো মুহূর্তে আগুন ধরে যেতে পারে৷ সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া আর গ্যাসে ভরে গেছে ভেতরটা। যত দ্রুত সম্ভব সবাইকে সরাতে হবে। কিন্তু বাস থেকে নামতেই সে থমকে গেল।ভেতরের দৃশ্য ভয়াবহ ছিল, কিন্তু বাইরেটা আরও বিভীষিকাময়। চারদিকে শুধু আগুনের লেলিহান শিখা, দমবন্ধ করা ধোঁয়া আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে অসংখ্য আহত মানুষ। কেউ কাতরাচ্ছে, কেউ নড়তেও পারছে না। রক্ত মিশে গেছে ধুলো আর পোড়া ধাতব গন্ধের সঙ্গে। চারপাশ ভরে আছে আর্তনাদে। এই দৃশ্য দেখে এলিজাবেথের চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। এর মধ্যেই কেউ ফায়ার সার্ভিসে খবর দিয়েছে। দূর থেকে সাইরেনের শব্দ ভেসে আসছে৷ অ্যাম্বুলেন্স আসছে। সাহায্য আসছে।
কিন্তু সেই সময়টুকু পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখতে হবে যতজনকে সম্ভব। জ্যামের চাপে ন্যাসো আর গার্ডরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত ধৈর্য হারিয়ে তারা গাড়ি ফেলে নেমে পড়ে এলিজাবেথকে খোঁজার জন্য। ঠিক তখনই আকাশ ফাটানো বিস্ফোরণের শব্দ কানে এলো। আর এক মুহূর্ত নষ্ট না করে তারা দৌড় দিল সেই দিকেই। ধোঁয়ার কুণ্ডলির ফাঁক দিয়ে ন্যাসোর চোখে পড়ল এলিজাবেথকে। ন্যাসো ছুটে গেল
এলিজাবেথের দিকে। এলিজাবেথের কোলে তখনও রক্তে ভেজা এক ছোট্ট বাচ্চা কাঁপছে।

হাঁপাতে হাঁপাতে এলিজাবেথ বাচ্চাটাকে ন্যাসোর কোলে তুলে দিল। গলা শুকিয়ে গেছে, তবুও হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,

“প্লিজ ওদের বাঁচান।”

‘ন্যাসো এক সেকেন্ডও দেরি করল না। দ্রুত নিজেদের রক্তপিপাসু বাহিনীকে নির্দেশ দিতে শুরু করল। গার্ডরা ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। আহত পথচারীদের তুলে এম্বুলেন্সের দিকে নিতে লাগল। এরই মধ্যে ফায়ার সার্ভিস এসে পৌঁছায়। আগুন চারদিক গ্রাস করার আগেই তারা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করল। এলিজাবেথের চোখের সামনে ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আসছে। কানে শব্দগুলো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। তবুও সে থামছে না। কাঁপতে থাকা দুর্বল শরীরটাকে জোর করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এক আহতের কাছে, তারপর আরেকজনের কাছে।

ওদিকে সুরাকার এখনও থামেনি। নিজের জীবনের পরোয়া না করে আগুনের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে বারবার। ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া গাড়ির কাঁচ ভেঙে ভেতর থেকে আহতদের টেনে বের করছে। কাঁধে তুলে, হাত ধরে, টেনে যেভাবেই পারছে তাদের এম্বুলেন্স পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছে। আগুনের লেলিহান শিখার মাঝখানে দাঁড়িয়ে মৃত্যুকেই অগ্রাহ্য করে কাজ করে যাচ্ছে সে।

ধোঁয়ায় ভরে গেছে চারদিক। এলিজাবেথ শ্বাস নিতে পারছে না। প্রতিটা নিঃশ্বাস যেন আগুনের মতো বুক জ্বালিয়ে দিচ্ছে। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গেছে৷ হাঁটার শক্তিটুকুও ফুরিয়ে আসছে। তবুও সে থামছে না। টলতে টলতে এগিয়ে যাচ্ছে আরেকজন আহত মানুষের দিকে। দূর থেকে একই সঙ্গে খেয়াল করল ন্যাসো আর সুরাকার—এলিজাবেথ ঢলে পড়ছে। দু’জনেই একসাথে দৌড়ে এল এলিজাবেথের দিকে।
কিন্তু তার আগেই বুলেট বেগে কোথা থেকে এসে হাজির হলো তৃতীয় পক্ষ। মুহূর্তের মধ্যে সে ন্যাসোকে ধাক্কা দিয়ে পথ থেকে সরিয়ে দিল। পরিচিত পারফিউমের ঘ্রাণ নাকে যেতেই ন্যাসো থমকে গেল। হতবিহ্বল চোখে দেখল সুরাকারকেও একইভাবে কাঁধে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল সেই অজ্ঞাত ব্যক্তি। সেই সাথে তার কণ্ঠে ছিল বজ্রধ্বনি,

“ডোন্ট টাচ মাই ওয়াইফ।”

কথাটা বলেই এলিজাবেথ মাটিতে পড়ার আগেই তাকে কোলে তুলে নিল সে। অচেতন, রক্তাক্ত এলিজাবেথকে বুকে চেপে ধরে দৌড়ে গেল এম্বুলেন্সের দিকে। ন্যাসো যেন বরফ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার বিস্ফারিত চোখ একবার ঘুরে গেল সুরাকারের দিকে—সেও একইভাবে হতবিহ্বল, স্থির হয়ে তাকিয়ে আছে দৃশ্যটার দিকে। তারপর ন্যাসোর দৃষ্টি ফের সামনে আটকে গেল। কালো পোশাকে ছুটে চলা মানুষটার মুখের প্রান্ত, উচ্চতা, চোখের তীক্ষ্ণ রেখা সব মিলিয়ে আর ভুল হওয়ার উপায় নেই। রিচার্ড! তার বস! কিন্তু বাংলাদেশে? আর সে কিছুই জানত না!

‘আপনারা যারা নিয়মিত পাঠক আছেন, তারা একটা করে রিয়েক্ট দিয়ে যাবেন। রেসপন্স করবেন। রিচ একদম না থাকলে মানা যায়। কিন্তু এক পোস্টে খুব, আরেক পোস্টে কিছুই না; এই বিষয়টা খুবই ডিস্টার্বিং। লেখার গতি হারিয়ে ফেলি প্রতিবার। ভূলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। রিচেক দেওয়া হয়নি৷

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply