born_to_be_villains
MethuBuri_মিথুবুড়ি
পর্ব_১৬
❌কপি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌কপি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌
‘শ্মশানঘাটের জমাট নিস্তব্ধতা ভেঙে চূর্ণ হলো এক ঝলকে। শিকারীর সামনে দাঁড়িয়ো যে আতঙ্ক হাড়ে হাড়ে ঢুকে পড়েছিল তা এক নিমিষেই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। জনমানবশূন্য টপ ফ্লোরের মৃত্যুনীরবতা কেটে গেল লোহার মতো কঠিন, শীতল,অবশ্যম্ভাবী ভারী বুটের সমবেত আঘাতে। ঘটনা এত দ্রুত ঘটল যে হিয়া-ইবরাত কিছুই বুঝে ওঠার আগেই সময় ফুরিয়ে গেল। সবটা বুঝে ওঠার পর বন্দী সখীর দিকে ছুটতে উদ্যত হলে শক্ত নার্ভের ইমামা চোখের একটিমাত্র ইশারায় ওদের থামিয়ে দিল। ছুটন্ত পদযুগল থেমে গেল। ঠিক তখনই পুরো ফ্লোর কেঁপে উঠল। এক মুহূর্তে, এক শ্বাসে প্রায় অর্ধশত কালো পোশাকধারী ছায়া চারদিক থেকে ঘিরে ধরল তাদের। প্রতিটি হাতে মৃত্যু আঁকড়ে ধরা৷ মরণঘাতী অস্ত্রের নল সোজা তাক করা হয় ম্যাডবিস্টের খুলি বরাবর। সকলের নেতৃত্বে রয়েছে দ্য রয়্যাল বডিগার্ড—নিকোলাস ন্যাসো—রিচার্ড কায়নাতের ডান হাত, রিচার্ড কায়নাতের গানম্যান।
‘মরুর বুকে সিপাহির মতো অজস্র যুদ্ধসৈন্য চোখে পড়তেই আতঙ্কের মুখোশ ভেঙে, তার জায়গায় অধরের কোণে ফুটে উঠল বাঁকা আত্মবিশ্বাসী হাসি। ইমামা জানত সে একা নয়। সে আর দুর্বল নয়। তাকে আগলে রাখতে কতজন সিপাহি ছায়ার মতো মোতায়েন আছে, সংখ্যাটা অজানা হলেও সন্দেহের অবকাশ নেই। রহস্যময় সে দূরে থাকলেও ইমামা একা নয় এই বিশ্বাসেই তো সে বান্ধবীদের অকারণে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়নি।
‘তবে শুরুতে যতটা না ভয় পেয়েছিল, অকস্মাৎ এত অস্ত্র আর গার্ড দেখে তারচেয়েও গভীর ভয় গ্রাস করল হিয়াকে। সে কুঁকড়ে গিয়ে শক্ত করে জাপ্টে ধরল ইবরাতকে। ওদিকে ইবরাত বিভ্রমে স্থির একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ন্যাসোর দিকে। যার চিবুক টানটান ভাব, নেই অনুভূতির রেশমাত্র।বাদামি রঙের আঁখিদ্বয়ে শিকারীর দৃষ্টি আর ভয়ংকর ট্যাটুতে খচিত দু’টি পেশল হাতে শক্ত করে ধরা অস্ত্র শত্রুর মস্তক বরাবর নিখুঁত নিশানায় স্থির করা। এই মুহূর্তে তাকে কেউ দেখলে মানুষ বলবে না। বলবে নিখুঁতভাবে প্রোগ্রাম করা এক যন্ত্রমানব।
‘অথচ তার চেয়েও ভয়ংকর সেই পাষণ্ড মানব, যে অস্ত্রের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও হেসে ওঠে। মুখে মাস্ক থাকায় ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠা তাচ্ছিল্যের হাসিটা চোখে পড়ল না। তবে প্রশ্ন জাগে সে কি সত্যিই এই অস্ত্রকে তুচ্ছ জেনে হেসে উঠল নাকি কারণটা তার মতোই রহস্যময়!
“লিভ হার, অর….
“অর?”
‘ভরাট, স্বতন্ত্র হুমকিময় স্বরের বদলে তার কণ্ঠে নেমে এলো শীতল নির্লিপ্ততা। তার নিরাসক্ত উচ্চারণে ন্যাসোর চোয়াল শক্ত হয়ে কটমট করে উঠল। এদিকে ইমামা শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে ন্যাসোর দিকে৷ দৃষ্টির ভাষায় বোঝাচ্ছে শুট করতে। যদিও আজ সুরাকারের উপস্থিতি সে আশা করেনি কিন্তু যা হয়, ভালোর জন্যই হয়। আজ সে বাঁচবে কীভাবে? পালানোর পথই বা কোথায়?
‘অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে থেকেও এই মুহূর্তে সবচেয়ে দ্বিধাগ্রস্ত মানুষটি ন্যাসো। অথচ তার যান্ত্রিক মুখাবয়বে সে দ্বিধার কোনো চিহ্ন নেই। ভেতরে ভেতরে সে টালমাটাল হলেও বাইরে থেলে নিখুঁতভাবে স্থির। চাইলে এই মুহূর্তেই হাতে ধরা রিভলবারের একটিমাত্র ঝাঁঝালো শব্দে ম্যাডবিস্টের মস্তক ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে। তার শিকারি হাতের নিশানা এতটাই অব্যর্থ যে পাল্টা আক্রমণের ন্যূনতম সুযোগও পেত না প্রতিপক্ষ।
‘তবু সুযোগ ও পরিস্থিতি দুটোই সম্পূর্ণ নিজের মুঠোয় থাকা সত্ত্বেও তার আঙুল ট্রিগারে স্থির হয়ে থাকে। কারণ সে জানে তার একটি মাত্র গুলিতেই ইমামার জীবনে সামান্য হলেও ঝুঁকি রয়ে যায়। আর ইমামার জীবন ঝুঁকিতে ফেলা মানে নিজের মৃত্যুদণ্ডে নিজেই স্বাক্ষর করা। সুদূর ইতালিতে বসে থাকা মোস্ট ডেঞ্জারাস ব্লাডিবিস্টের একটিমাত্র ইশারায় ধ্বংস হয়ে যেতে পারে তার সম্পূর্ণ অস্তিত্ব। তাই এমন ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজন বসের নির্দেশ। বসের কমান্ড ছাড়া এক চুলও নড়বে না এই যান্ত্রিক মানব।
ইতিমধ্যেই রিচার্ডের কাছে বার্তা পৌঁছে গেছে। এখন শুধু অপেক্ষা একটি সূক্ষ্ম ইশারার। সেই ইশারাটি এলেই আজই খেলা শেষ হবে ম্যাডবিস্টের।
“রেড ওয়াইন।”
‘ছুরির তীক্ষ্ণ ধার কণ্ঠনালীর সঙ্গে আরেক এক চুল গভীর করে চেপে ধরে কানের কাছে ঝুঁকে পুনরায় ফিসফিস করে উঠল সে। ঠান্ডা ইস্পাত কোমল চামড়ায় আঁচড় কাটতেই যন্ত্রণায় চোখ-মুখ শক্ত হয়ে কুঁচকে গেল ইমামার। সেই দৃশ্য দেখে হিয়া আর ইবরাত একসাথে ফুপিয়ে উঠল। ঠিক তখনই ন্যাসো হিংস্র গর্জনে বিস্ফোরিত হলো।
“ইয়্যু ব্লাডি বাস্টার্ড! লিভ হার!”
‘তার গর্জনকে যুদ্ধের সংকেত ভেবে চারপাশের সব গার্ড একযোগে অস্ত্রের সেফটি লক খুলে ফেলল। মুহূর্তের বাতাস কেটে ভেসে এলো অসংখ্য ধাতব ক্লিকের কর্কশ শব্দ। সেই শব্দে থরথর করে কেঁপে উঠল হিয়া আর ইবরাত। ভয় আর অসহায়তায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে ফোঁপাতে লাগল ওরা।
‘যুদ্ধসজ্জিত সৈন্যরা ঠিক যখনই ম্যাডবিস্টের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্যত ঠিক সেই মুহূর্তে ন্যাসোর কণ্ঠ বজ্রের মতো ফেটে পড়ল।
“No—don’t shoot at all. We have to protect her at any cost. She is the future godmother of our Dragon Group.”
‘একটি মাত্র হুংকারেই মন্ত্রতাড়িতের মতো থমকে গেল সবাই। অস্ত্র নামল, পা পিছোল, যুদ্ধের গতি হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে গেল। সেই দৃশ্য দেখে সে আবারও ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি খেলাল।
‘অন্যদিকে ইমামা অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রিয়সখীদের দিকে। কিন্তু পরক্ষণেই যখন দেখল চরম ভীতির মাঝেও ওরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে তার দিকে ছুটে আসছে তখন সমস্ত শক্তি জড়ো করে ন্যাসোর দিকে চিৎকার করে উঠল ও,
“ওদের যেন কিছু না হয়!”
‘ন্যাসো একহাতে রিভলবার চেপে ধরে দীর্ঘ কদমে ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে এসে ইবরাতের হাত আঁকড়ে ধরল। আরেকজন গার্ড হিয়াকে শক্ত করে আটকে ফেলল। ইবরাত মরিয়া হয়ে মোচড়াতে লাগল।
“ছাড়ুন আমাকে! ইমামা……
‘হিয়া কাঁদছে, উন্মাদের মতো ইমামার দিকে ছুটে যেতে চাইছে। ইবরাত ন্যাসোর হাতে খামচি কাটছে মুক্তির জন্য, প্রতিরোধের জন্য। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে লোকটার সামনে ভেজা বিড়ালের মতো মিনতি করছিল, এই মুহূর্তে সেই লোকটার দিকেই সে ঝাঁপিয়ে পড়ছে বুনো আগ্রাসনে। পরিস্থিতি সামলাতে ন্যাসো একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে কষিয়ে এক চড় বসাল ইবরাতের গালে। ইবরাত ছিটকে গিয়ে আছড়ে পড়ল হিয়ার ওপর। হিয়া ইবরাতকে বুকের সঙ্গে চেপে ধরে এবার উচ্চস্বরে কেঁদে উঠল। দৃশ্যটা ইমামা ফাঁপা চোখে দেখে। আর সুরাকার শীতল দৃষ্টিতে দেখেছিল বন্ধুত্বের এই নিগূঢ় বন্ধন। এসবের কিছুই তার খরখরে অন্তরে দাগ কাটতে পারল না। তার মানবিকতার জায়গা তো বহু আগেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
“আই জাস্ট ওয়ান্ট ফাইভ মিনিট।”
‘কণ্ঠে নেই তেজ, নেই প্রতিশোধের জ্বলন্ত হুঙ্কার। শুধু বরফশীতল স্বরে উচ্চারিত হলো আর্জি। ন্যাসো আবারও রিভলবারটি মস্তকের বরাবর তুলে নিখুঁত পজিশন নিয়ে দাঁড়ায়। দুর্দম, শীতল সেই দুই চোখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে ধরে সে।
“Just wait a few minutes. Your time is up.”
‘ম্যাডবিস্ট মাথা ঝাঁকিয়ে হাসল। তবে তাট হাসিটা ছিল অবজ্ঞার, দম্ভের।
“যতক্ষণ না আমি নিজে সারেন্ডার করি, এই পৃথিবীর কারও ক্ষমতা নেই আমাকে ধরার।”
‘ন্যাসোর কণ্ঠ আরও গাঢ়, আরও কঠিন হয়ে উঠে,”বাট স্যাডলি আজ তোর সেই আত্মবিশ্বাস ভেঙে গুঁড়ে চুরমার হবে।”
“ভেঙে গুঁড়ে যায় তাদের আত্মবিশ্বাস, যাদেরটা আদৌ সেটা থাকে না। লুক, আই’ম ফুল অব কনফিডেন্স।”
‘ন্যাসোর চোয়াল জ্বলে উঠল। বাকবিতর্কের ফাঁকে
ইমামা ঘাড় সামান্য কাত করে তার চোখে দৃষ্টি স্থির করল। মুখে আঁটসাঁট মাস্ক, কপাল ছুঁয়ে নামা এলোমেলো চুল নিদারুণ কৌশলে ভ্রু ঢেকে রেখেছে। যার ফলে চোখ ছাড়া মুখাবয়বের কোনো রেখাই দৃষ্টিতে ধরা পড়ে না। তবুও ইমামা বেহায়া চোখে তাকিয়ে রইল সেই বরফশীতল দৃষ্টিতে। এবার স্পষ্ট হলো এতো চেষ্টা, এতো অনুসন্ধানের পরও কেন আর.কে এবং অফিসার মাহেশ তাকে ধরতে পারেনি।
‘ছদ্মবেশে সে নিখুঁত। ক্লু বলতে ছিল কেবল তার হাতে আঁকা সাপের ট্যাটু আর এই চোখদুটো। অথচ এই চোখই সবচেয়ে দুর্বোধ্য। আলো আর অবস্থান বদলালেই রূপ পাল্টায় তার মণি। কখনো গাঢ় সবুজ, কখনো মধু-মেশানো সোনালি, আবার কখনো নিস্তরঙ্গ হালকা বাদামি। এই এক জোড়া চোখ কখনো সত্য প্রকাশ করে না, শুধু বিভ্রম জন্ম দেয়। এটাকে বলা হয় হ্যাজেল চোখ।
‘অন্যদিকে হিয়া ইবরাত কাঁপছে। গার্ডদের চোখে রাগের আগুন দাউদাউ করছে। কানে গুঁজে থাকা কালো যন্ত্রটা থেকে যে কোনো মুহূর্তে সংকেত ভেসে আসবে সেই প্রতীক্ষায় সবাই। ন্যাসোর চোয়ালের পেশিতে জমেছে সংযত ক্রোধের কাঁপুনি। ট্রিগারে শক্ত হয়ে চেপে আছে তার আঙুল। ধৈর্যের সামান্য বিচ্যুতিতেই শুরু হবে মৃত্যুর উৎপাত। কিন্তু শান্ত, হিসেবি মস্তিষ্কের ইমামা রহস্যের জট না খুলে এত সহজে সব শেষ হতে দিল না। চোখের সূক্ষ্ম ইশারায় সে ন্যাসোকে আশ্বস্ত করল। এবার ন্যাসোর দৃষ্টির তেজ খানিকটা নরম হয়ে এলো। সেই দৃশ্য দেখামাত্র তির্যক হাসি খেলল ম্যাডবিস্টের ঠোঁটের কোণে।
‘হঠাৎ উত্তরের গা-ছমছমে উষ্ণ হাওয়া আঁচড়ে পড়ল ইমামার ঘাড়ে। সুরকার ঝুঁকে এলো। ভ্যানিলার নরম মাদকতায় শরীরের ঘ্রাণ টেনে নিল। তবে তার শীতল চোখে আত্মতৃপ্তির যেমন কোবো ছাপ পড়ল না। কিন্তু সময় যে অল্প। এই অনুভূতিতে এখন ডুবে থাকার সুযোগ নেই। পরমুহূর্তে হঠাৎ, একদমই হঠাৎ বরফের মতো গড়া তার কণ্ঠ হঠাৎ খাদে নেমে গেল।
“আমাকে ছেড়ে গেলে কেন, লিলি? আমি তো তোমার অতীত জেনেও তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। অন্ধকারের ভেতর থেকে তুলে এনে আলোর দিশা দেখিয়েছিলাম। সে-ই তুমি কীভাবে পারলে আমাকে ছেড়ে আসতে?”
‘ইমামা বলল,”আমি আপনাকে ছেড়ে এসেছি?”
‘অকস্মাৎ কাঁপুনি তার কণ্ঠে,”হ্যাঁ, ছেড়ে এসেছো তো। আমার করুণ সময় তুমি তো ছিলে না আমার পাশে। ফেলে এসেছো আমায়!”
“ফেলে এসেছিলাম?” ইমামা অত্যন্ত শান্ত। দৃষ্টি স্থির।
‘ধীরে ধীরে ভেঙে পড়তে থাকে ভয়ংকর লোকটার স্বর,”হুম… হুম… হুম। তুমি আমাকে ফেলে এসেছো। আমি তো ভেবেছিলাম জ্ঞান ফেরার পর তোমাকে আমার পাশে পাবো। দেখবো তুমি আমার জন্য ছটফট করছিলে। কিন্তু না… আমার লিলি ফ্লাওয়ার তখন আমার পাশে ছিল না।’
‘সে ঠোঁট নামিয়ে আনে একদম ইমামার কানের কাছে,”আচ্ছা লিলি, যারা ভালোবাসে তারা তো অপেক্ষা করে। তবে তুমি কেন আমার জন্য দু’টো মাসও অপেক্ষা করতে পারলে না? ইতিহাসের পাতায় কত প্রিয়–প্রেয়সীরা শুধু অপেক্ষা করতে করতেই মৃত্যুকে বেছে নিয়েছে। তবে তুমি কেন পারলে না, লিলি? তুমি আজ পারু না হয়েও আমাকে তো দেবদাস বানিয়ে দিলে।”
‘একটু থেমে শ্বাস টানল সে। কণ্ঠনালিতে পাকানো কুন্ডলীর জন্য নিঃশ্বাস থেমে থেমে আসছে।
“যার ব্যাথায় আমি কাঁদতাম, সে কীভাবে পারল আমাকে এতো বড়ো আঘাত দিয়ে পালাতে? আচ্ছা সবটা দীর্ঘ এক দুঃস্বপ্ন নয়তো?”
‘ইমামা নির্বাক, নিরুত্তর। হিয়া আর ইবরাত একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। অন্যদিকে ন্যাসোর কপালে জমে উঠেছে বিরক্তির ভাঁজ। কানে গোঁজা ব্লুটুথটা সে আরও শক্ত করে কানের সঙ্গে চেপে ধরেছে একটি ক্ষীণ সংকেতের আশায়। অপেক্ষা করছে তার বসের আদেশের। তবে একটি বিষয় তার মাথায় ঢুকছে না। পুরো মলের সিসিটিভি কন্ট্রোল তো রিচার্ডের হাতেই। এতক্ষণে নিশ্চয়ই সবকিছু তার চোখ এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। তাহলে সে এখনো চুপ কেন? গার্ডরা একের পর এক সংকেত পাঠাচ্ছে, অথচ তার কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়াই আসছে না। এ কেমন নীরবতা?
‘হঠাৎ ইমামা অনুভব করল তার কাঁধে শীতল কিছু পড়ল।
তবে কি লোকটা কাঁদছে?
“আচ্ছা মানলাম, সবাই সবটা পায়না। কিন্তু গোটা এক জীবনে আমি তো তোমাকে ছাড়া আর কিছুই তো চাইনি। তারপরও কেন….কেন…..”
‘ভেজা কণ্ঠে সে আরও বলল,”কাকে আপন করে আমাকে পর করে দিলে, রেড ওয়াইন?এত যত্নে, এত আদরে তোমায় লালন করেছি। যে পাখিটাকে উড়তে শিখিয়েছি নিজের ডানায় ভর দিয়ে,আকাশের নাম শিখিয়েছি, দিগন্তের রঙ দেখিয়েছি—সে পাখি কীভাবে পারল আমার খাঁচা ছেড়ে পালাতে?তবে কি সে কখনোই আমার ছিল না?নাকি আমি শুধু এক ক্ষণিকের আশ্রয় ছিলাম। যার কাছে সে ছিল অতিথি, আর আমি ভুল করে তাকে ভেবেছিলাম আপন।”
‘ন্যাসোর মুখ থেকে বিরক্তির একটি শব্দ বেরিয়েই গেল। সেই শব্দ মুহূর্তের জন্য যন্ত্রণার গভীরতা থেকে টেনে তোলা হলো সুরাকারকে। সে চোখ তুলে তাকাল সামনে।
ইবরাত অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল তার দিকেই। ভেজা সেই চোখের দিকে তাকাতেই কেঁপে উঠল সে। তবু দৃষ্টি সরাল না।তাকিয়ে থাকল ঠিক যেমন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল সম্মুখের মানুষটিও। কয়েক সেকেন্ড পর হ্যাজেল চোখের সেই মানুষটির সূক্ষ্ম ইশারায় সে উঠে দাঁড়াল। তারপর ইবরাত যেন মন্ত্রতাড়িতের মতো নিঃশব্দে তার ইশারায় ন্যাসোর দিকে এগোতে লাগল।
‘হিয়া এতো চেষ্টা করেও তাকে আটকাতে পারল না। ন্যাসোর চোখে বিরক্তির রেশ কেটে গিয়ে টগবগে ক্রোধ দানা বাঁধল এই বোকা মেয়ের কাণ্ড দেখে! কিন্তু পরমুহূর্তেই সে পৌঁছে গেল বিস্ময়ের আরেক চূড়ায়। ইবরাত দৌড়ে গিয়ে ন্যাসোকে জড়িয়ে ধরল। এতটাই শক্ত করে যে ন্যাসো মোচড়ামুচড়ি করেও নিজেকে ছাড়াতে পারল না। কোনো শব্দ নেই, কোনো নড়াচড়া নেই, শুধু পাথরের মতো জমে গিয়ে শুধু শক্ত করে ধরে রেখেছে ইবরাত। এই মুহূর্তে ইবরাতকে ন্যাসোর কাছে একেবারেই প্রসেসড মনে হলো।
‘ন্যাসোকে ব্যস্ত করে দিয়ে, সুরাকার আবারও ডুবে গেল যন্ত্রণার গভীর স্রোতে।
“ওকে কেন মারলে, লিলি? ও তো শুধু আমার একার ছিল না।ও তোমারও ছিল। তোমার গর্ভের, তোমার রক্তের ছিল।তোমার শ্বাসে শ্বাসে বড় হচ্ছিল যে প্রাণ, যারর প্রথম আশ্রয় ছিল তোমার বুকই, তাকে মেরে ফেললে? মা হয়ে সন্তানকে মারতে একটুও কি হাত কাঁপেনি? একবারও কি কেঁপে ওঠেনি হৃদয়টা? তুমি না মা? নাকি সেই পরিচয়টুকুও তোমার কাছে ভার হয়ে উঠেছিল? আমাকে ভালো না-ই বা বাসলে, একটা মানুষ অন্তত হতে। একটা মা অন্তত হতে….
‘এতক্ষণ শান্তমূর্তির মতো সবটা সহ্য করলেও এবার কেঁপে উঠল ইমামা। মনে হলো সে যেন ঘূর্ণিঝড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। সুরাকার ধীরে ধীরে তার কাঁপা হাত রাখল ইমামার পেটের ওপর। স্পর্শমাত্রেই তরতর করে কেঁপে উঠল ইমামা। চোখমুখ শক্ত করে খিঁচে ফেলল ও। সুরাকার ফুপিয়ে উঠল,
“সরি, বাচ্চা। ডাডাকে ক্ষমা করে দিও। তোমার ডাডা পারেনি তোমাকে রক্ষা করতে। তোমার মাম্মা ছিল অতিথি পাখি।আর অতিথি পাখিদের পিছুটান রাখতে নেই। হয়তো এখানে আমরা পরিবার হতে পারিনি, কিন্তু বিশ্বাস করো সোনা এখানে ভালোবাসার অভাব ছিল না। ছিল শুধু নিয়তির নিষ্ঠুরতা। তবে ডাডা কথা দিচ্ছি, পরপারে আমি আবারও তোমার ডাডা হবো। সেদিন আর কেউ তোমাকে ডাডার বুক থেকে আলাদা করতে পারবে না।”
‘অজান্তেই ইমামার চোখ ভিজে আসে। এই লোকটা এসব কী বলছে? সে কারো সন্তানের মা? কাউকে মেরে ফেলেছে? কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই আবার কাঁধে শীতল কিছু অনুভব করল সে। লোকটা এবার তার সব নিষ্ঠুরতা, সব পুরুষোচিত অহংকার ভুলে গিয়ে পুনরায় ফুপিয়ে উঠল।
“পনেরো হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি ছুটে এসেছিলাম শুধু আমার স্ত্রী আর সন্তানের জন্য। ভেবেছিলাম, তুমি ভালোবাসার মোহ কাটাতে পারলেও পারবে না সেই নিষ্পাপ সত্তার মায়াজাল ছিঁড়ে বেরোতে। কিন্তু তুমি তো তাকেও রাখলে না। সে তো পাপ জানত না, লিলি। ওকে কেন মারলে?”
‘এই একটা প্রশ্ন আবারও ভেঙেচুরে দেয় ইমামাকে। তার ঠোঁটে ভেঙে আসে।
“কোথায় না খুঁজেছি তোমায়? কতভাবে না খুঁজেছি?তোমার জন্যই রাজার আসন ছেড়ে পথে নেমেছিলাম।
শুধু তোমার জন্য। তোমাকে খুঁজবো বলে, তোমাকে পাবো বলে। অলি-গলি, অপথ-ওপথ…সব জায়গা, সব দিক, সব অন্ধকারে ছড়িয়ে পড়েছিল আমার খোঁজ। খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়েছি। গোড়ালি ফুলে গেছে, আঙুল থেঁতলে গেছে,নিঃশ্বাস ফুরিয়ে এসেছে বুকের ভেতর। তবুও থামিনি। আলো ফোটার অপেক্ষা করিনি কোনোদিন। অন্ধকারেই ঢুকে পড়েছি। সেই সব জায়গায়, যেখানে তোমার ভয় বাস করতো। খুঁজতে খুঁজতে আহত হয়েছি, ডাস্টবিন থেকে তুলে খেয়েছি ক্ষুধার লজ্জা ভুলে। তবুও থামিনি। দু’টা বছর পাগলের মতো, নিঃশ্বাসের শেষটুকু শুধু খুঁজেই গেছি। আর যখন শেষমেশ পেলাম দেখলাম, আমার পাখি তখন আর আমার নয়। সে অন্যের আকাশে নতুন ডানায় ডানা ঝাপটাচ্ছে।”
‘একটু থেমে আবারও সংযোগ করল,
“ভেবেছিলাম, ফিরে এসে দেখবো তুমিও আমার মতোই ছটফট করছো, নিঃশ্বাসে আগুন নিয়ে বাঁচছো। কিন্তু না। আমার পাখি তো নতুন আকাশে নতুন সঙ্গী খুঁজে নিয়েছে।” নিজের উপর নিজেই তাচ্ছিল্য করে হাসল সে,”দেখো লিলি,কতটা বোকা আমি। আজও তোমাকে ভুলতে পারলাম না, মারতেও পারলাম না। আমার অন্তর কত নিষ্ঠুরভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করে আমার সাথেই। সে আমার ভেতরেই বাস করে,অথচ কাঁদে অন্যের জন্য।”
‘চোখের পানি মুছল সে। শেষবারের মতো নিঃশ্বাস টেনে বলল,
“তুমি ঠিকই বলেছিলে—ভাগ্য আমাদের শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় তাদের কাছেই, যাদের আমরা কোনোদিন নিজের করে পায় না। তুমি সুখে থাকো। আজ থেকে তুমি মুক্ত।”
‘বলে সে যখনই গলা থেকে ধরা ছুরিটা সরিয়ে নিতে উদ্যত হলো, ঠিক তখনই ন্যাসো তার অন্যমনস্কতার সুযোগ নিল। মুহূর্তের মধ্যে তার হাতে শুট করল। তৎক্ষণাৎ ঝনঝন শব্দে ছুরিটা হাতছাড়া হয়ে ফ্লোরে আছড়ে পড়ল। রক্ত ছিটকে গিয়ে ছুঁয়ে গেল ইমামার গাল।
“ক্যাচ।”
‘ন্যাসো রিভলবার ছুড়ে দিল ইমামার দিকে। দক্ষ হাতে রিভলবার ক্যাচ করে ইমামা এক ঘূর্ণিতে রিভলবার সুরাকারের বরাবর তাক করে ধরল। চোখ তখনও ভেজা, তবু চোয়ালে দৃঢ়তা। প্রতিশোধস্পৃহা যে এখনো নিভে যায়নি।
‘তবে রিভলবারের নিশানাকে তোয়াক্কা না করেই রক্তাক্ত শরীর নিয়ে সুরাকার এগিয়ে আসছিল ইমামার দিকে।
“জান, দেখো না… ওরা আমাকে শুট করছে। তোমার কি একটুও কষ্ট হচ্ছে না?”
‘ঠিক তখনই আরেকটি গুলির ঝাঁজ এসে বিঁধল তার পায়ে। সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু ভেঙে সে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ল। চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল আরেক ফোঁটা অশ্রু। থলথলে দৃষ্টিতে সে তাকিয়ে রইল ইমামার দিকে। রক্তে ভেসে যেতে লাগল ফ্লোর। গুলির নিশানা অনুসরণ করে ডানে তাকিয়েই চমকে উঠল ইমামা। অফিসার মাহেশ!
“আপনি?”
‘চোখ টিপে এগিয়ে এলো মাহেশ। ঠোঁটে ক্রূর হাসি মেখে কণ্ঠে তাচ্ছিল্য নিয়ে বলল,
“ইয়েস, মিস বিউটিফুল। আপনি লক্ষ থেকে সরে গেলেও আমি সরে যাইনি।”
‘এটা সত্য মুহূর্তের জন্য ইমামা তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছিল, আর সেই ক্ষুদ্র ফাঁকটাই ধরে ফেলেছে অফিসার মাহেশ। কিন্তু সে তো থেমে থাকার মানুষ নয়। তার আসামি দু’জন। এবং যে করেই হোক দু’জনকেই তাকে ধরতে হবে। তার রেকর্ডে হার নেই। তবে এদের ধরা সহজ নয়, সেটা সে জানে। তাই সবচেয়ে সহজ পথটাই সে বেছে নিয়েছে—দুর্বলতা খুঁজে বের করা। আর তাদের একমাত্র দুর্বলতা ছিল ইমামা। সেই কারণেই সে আর অকারণে পিছু নেয়নি তাদের।বরং নীরবে ফলো করতে শুরু করেছিল ইমামাকে।
‘ইমামা দৃষ্টি কঠোর করল। বন্দুকের ট্রিগারে আঙুল রাখতেই অফিসার মাহেশ বাঁধা দেয়।
“ডোন্ট শুট, মিস ইমামা। আমার আসামিদের আমি অক্ষত অবস্থাতে চাই।”
‘ইমামা ঘাড় বাঁকিয়ে ন্যাসোর দিকে তাকাতেই, ন্যাসোর ইশারায় কয়েকজন গার্ড ঝাঁপিয়ে পড়ে অফিসার মাহেশকে বগলদাবা করে ধরে ফেলল। মাহেশ মুক্ত হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে। কিন্তু এতজনের চাপে শেষমেশ পেরে উঠল না। ম্যাডবিস্টকে দুর্বল হয়ে পড়তে দেখে ন্যাসোর মধ্যেও পুরোনো তেজ ফিরে এলো। এবার আর সে জোরজবরদস্তি করে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল না। বরং সোজা এক চড়ে ইবরাতকে ছিটকে ফেলল। হিয়া দৌড়ে গিয়ে ইবরাতকে আগলে ধরতেই দু’জন গার্ড জোরপূর্বক তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিল।
‘কিন্তু কথায় আছে না? দক্ষ শিকারী কখনোই এক অস্ত্র নিয়ে শিকারে নামে না। ঠিক তেমনি যখন সবাই ভেবেছিল ম্যাডবিস্ট রক্তাক্ত, অস্ত্রহীন, সম্পূর্ণ দুর্বল ঠিক তখনই বেরিয়ে এলো তার সবচেয়ে ভয়ংকর হাতিয়ার। সুরাকার রক্তমাখা মুখে হাসল। জিভটা উপরের তালুর সঙ্গে ঠেকিয়ে অদ্ভুত এক শব্দ করল৷
“ট্যাটচ্যাট!”
‘সঙ্গে সঙ্গেই ইমামা টের পেল কাঁধের উপর, চুলের নিচ দিয়ে কোনো শীতল স্রোত গড়িয়ে নেমে আসছে। মুহূর্তের ভ্রান্তিতে বুঝে ওঠার আগেই দেরি হয়ে গেল। পৃথিবীর অন্যতম ভয়ংকর বিষধর ব্ল্যাক কোরাল ঘাড়ের পেছনের অন্ধকার থেকে ছায়ার মতো বেরিয়ে এসে বিদ্যুৎগতিতে ছোবল মারতে ধেয়ে এলো। ইমামা কেঁপে উঠল। ওর বুক ফাটানো চিৎকারে বাতাস ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়
‘রক্তাক্ত ঠোঁটের এক কোণে ক্ষণিকের জন্য ভেসে উঠল বিকৃত এক হাসি। সুরাকার উঠে দাঁড়াতে চাইল। কিন্তু দেহ আর মানল না। ন্যাসো ছুটে এসে ইমামার পাশে দাঁড়ায়। কিন্তু পরমুহূর্তেই বিষাক্ত উপস্থিতির সামনে সাহস ভেঙে পড়ে এক কদম পিছিয়ে গেল সে।
‘দাঁড়ানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে অসহায়ত্বের সমস্ত সীমা চূর্ণ করে সুরাকার ফোঁসফোঁসে নিঃশ্বাসে বলল,
“জানো লিলি, ওরা না… তোমার শখের বাইকটা পুড়িয়ে ফেলেছে।”
‘ইমামা কাঁপতে কাঁপতে আর্তনাদ করে উঠল,”এটাকে সরাব এক্ষুনি!”
“ডোন্ট ওয়ারি, লিলি। আমার ইশারা ছাড়া ও তোমাকে কিছুই করবে না।”
‘কথা সত্য। নয়তো সেই সাপটি তখন থেকেই মুখের সামনে ছোবল মারার ভঙ্গিতে মুখ বাড়িয়ে রেখেছে। কিন্তু আক্রমণ করেনি। এটিউ সেই সাপ, যেটা বাইকে ইমামার উপর আক্রমণ করেছিল। আর এই সাপের ট্যাটু সুরাকারের হাতের পিঠে আকাঁ। কিন্তু সবসময় সাথে থাকা মানে কি এটি পোষা প্রাণী? না! সাপ কখনো পোষা হয় না। তবে প্রশিক্ষণ দিলে এমন সাপও ইশারায় চলে। এখন কথা হচ্ছে—কতটা নিখুঁতভাবে প্রশিক্ষণ দিলে একটি সাপ এমনভাবে ইশারায় চলে!
‘কিন্তু খেলা তো সহজে শেষ হবে না। হঠাৎ চারপাশ কেঁপে উঠল। দানবীয় ডানা ঝাপটে হাজির হলো ছায়া-শিকারি, নীরব ঘাতক ঈগল (ব্ল্যাকহক)। রিচার্ড কায়নাতের মতো নখরবুদ্ধির মস্তিষ্কধারী এই দানব হেরে যাওয়া খেলা খেলতে পছন্দ করে। তার শুরুটা হয় সবসময় শেষ থেকে। সে দূরে থাকলেও ইমামার চারপাশে অজস্র রক্তপিপাসু বাহিনী মোতায়ন করলেও, নিজের প্রিয় পোষা প্রাণীকে বিশেষ নিরাপত্তার জন্য রেখে এসেছে ইমামার কাছে।
‘এখন এই ছায়া-শিকারী ঈগলটি প্রতি মুহূর্তে ইমামার পাশে থেকে চুপচাপ ওকে নজর রাখে। শত্রু গার্ডের চোখ এড়িয়ে গেলেও ব্ল্যাকহকের দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বহুক্ষণ অপেক্ষার পরও যখন ইমামা বেরোলে না, তখনই ঈগল তার মালিকের খোঁজে আকাশ থেকে নেমে আসে।
‘ইমামারা মলের ভেতর প্রবেশ করার পরপরই মেইন এন্ট্রেস বন্দ করে দেওয়া হয়। কিন্তু ঈগলটি উপরের ফ্লোরের গ্লাস দীর্ঘক্ষণে চেষ্টায় ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ইমামারা মলের ভেতরে প্রবেশ করতেই মেইন এন্ট্রান্সটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবু ঈগলটি উপরের ফ্লোরের গ্লাসকে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ব্ল্যাকহক এসেই মুহুর্তের মধ্যেই ইমামার কাঁধ থেকে সাপটিকে ছিনিয়ে নিয়ে ধারালো ঠোঁট আর ভয়ংকর নখে ছিন্নভিন্ন করে ফেলল।
‘সেটা দেখামাত্র বাঁকা হাসি ফুটে উঠল ইমামার ঠোঁটের৷
“এবার?”
‘সুরাকার ক্লান্ত নিস্পৃহ চোখে দেখল আর আরেকটা শখের জিনিসের ধ্বংস। এবার আর বিন্দুমাত্র শক্তি অনুভব করল না নিজের মাঝে।
‘এই ভয়ংকর, তৃপ্তিকর দৃশ্য দেখামাত্র ইমামার ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটল।
“এবার?”
‘সুরা ক্লান্ত, নিস্পৃহ চোখে দেখল আরেকটি শখের জিনিস ধ্বংস হতে। এবার নিজের মধ্যেও বিন্দুমাত্র শক্তি অনুভব করতে পারল না। খুব করে বলতে ইচ্চে হয়েছিল,
“শুধু একবার বলো ভালোবাসি, জান।
পুরো পৃথিবী তছনছ করতে হলেও তোমাকে আবার নিজের করে নেবো। নিজে মরে যাবো, তবুও তোমাকে মরতে দেবো না। এসো না নতুনভাবে, নতুন আলোয় সবটা আবার শুরু করি। আমাদের মাঝখানে আবার কেউ আসুক ভালোবাসার পূর্ণতা হয়ে। এতিম এই আমিটাকে ছোট্ট একটা পরিবার দিতে কি তোমার খুব কষ্ট হবে?”
‘কিন্তু না! সে আজ আর কিছু বলল না। ভালোবাসা চাইতে চাইতে সে আজ ক্লান্ত। তাই মুক্ত পাখির মতো দু’হাত মেলে বুক বাড়িয়ে দিল। ভগ্ন কণ্ঠে বলল,
“এতো লড়ে কী হবে? যখন প্রতিপক্ষই ছিল আপনজন। মেরে ফেলো আমায়।”
❌
‘রেসপন্স করা না করা সম্পূর্ণ আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম আজ। বলাবলি খুবই বিরক্তিকর এক জিনিস!
Share On:
TAGS: born to be villains, মিথুবুড়ি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Born to be villains পর্ব ৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
Born to be villains পর্ব ৩
-
Born to be villains গল্পের লিংক
-
Born to be villains পর্ব ৭
-
Born to be villains পর্ব ১৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)+বোনাস
-
Born to be villains পর্ব ১
-
Born to be villains পর্ব ১২
-
Born to be villains পর্ব ২
-
born to be villains পর্ব ১৮
-
Born to be villains পর্ব ৪