born_to_be_villains
methuburi_মিথুবুড়ি
পর্ব_১৮
❌কপি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌কপি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌
হঠাৎ কারো পায়ের শব্দে মুহূর্তেই সজাগ হয়ে উঠল তার মস্তিষ্ক। চোখের পানি মুছে রিভলবার বের করে পেছনে ঘুরতেই বিদ্যুৎগতির এক লাথি এসে বসলো নাক বরাবর। বিকট শব্দে ছিটকে পড়ে গেল অফিসার মাহেশ। মাথার ওপর ছায়া ফেলে দাঁড়াল সুগঠিত দেহের এক নারী। আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে পিছনের পকেট থেকে আইডি বের করে ভ্রু নাচাল সে। তারপর ভারি, নির্দয় কণ্ঠে বলে,
“পিবিআই!”
‘মাটিতে পড়ে থাকা মাহেশ ধীরে ধীরে চোখ তুলে তাকাল। কাঁধ ছুঁই ছুঁই চুল সেই মুখটা দেখেই বিস্ময়ের সঙ্গে অবিশ্বাস মিশে গেল তার গলায়। অস্পষ্টতা বলে উঠল,
“লাড়া স্ট্রোন!”
“অফিসার প্রেম আহসান।”
‘রমণীর ঠোঁটের কোণ ধূর্ত এক হাসিতে হেলে পড়ল এক পাশে। অস্বাভাবিক রকমের সজ্জ্বল ফর্সা মুখশ্রীতে একরকম চাকচিক্য মিশে আছে। ঠোঁটের কোণের সেই ধূর্ত হাসিতে অন্তর্ধান রহস্যময় কিছু একটা রয়েছে। হয়তো তাচ্ছিল্য, নয়তো বিজয়ের উল্লাস, কিংবা….
‘নিঃশব্দে মোহ ছড়ানো শরীরী ভঙ্গিতে সে এগিয়ে এসে দাঁড়াল বিস্ময়ে পাথর হয়ে যাওয়ার অফিসার মাহেশের সামনে, ওরফে প্রেম আহসানের সম্মুখে। ছদ্মবেশধারীর জমে যাওয়া মস্তিষ্ক কিছুতেই ছুঁতে সক্ষম হলো না, চার বছর আগে ফেলে আসা অতীত এতো বছর পর হঠাৎ প্রলয়ের মতো উদ্ভব হওয়ার রহস্য। এটা হেলুসিনেশন না তো! প্রেম নির্বাক, স্তব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লাড়ার দিকে। বিস্ময়ের উত্তাল ঢেউ প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে আঁচড়ে পড়ছে অন্ধকারাচ্ছন্ন বক্ষগহ্বরে৷ তবে সে উত্তাল পাতালস্রোত জ্বলোচ্ছ্বাসে রূপ নেওয়ার আগেই রহস্যের সমস্ত যোগসূত্র উন্মোচিত হলো।
‘লাড়া পিছনের পকেট থেকে ছোট্ট একটি অসম্পূর্ণ পকেট ডায়েরি বের করল। ডায়েরির পাতায় চোখ বুলানোর আগে আরেকটিবার তাকাল বিস্ময়কুলে স্থির বিমূর্ত দৃষ্টিজোড়ার দিকে। অতঃপর দীর্ঘশ্বাসপ্রায় শ্বাস প্রলুব্ধ স্বরে পড়তে শুরু করল,
‘বাইজি-পথা ততদিনে ইতিহাসের পাতায় উঠে গেলেও, মনোরঞ্জনের নামে গৃহাভ্যন্তরে লীলাখেলার আয়োজন তখনও সমাজের অন্ধকার এককোণে জীবিত ছিল। কিছু অভিজাত পরিবারে পতিতা ডেকে এনে গোপন আসর বসানো ছিল এক প্রকার নীরব ঐতিহ্য। ঠিক তেমন ঘটনাই ঘটত বিক্রমপুরের আহসান খানদানি পরিবারে।
‘মোগল সাম্রাজ্যের আমলে এই পরিবার জমিদারির গৌরবে উজ্জ্বল ছিল। আহসান বংশের শীর্ষে তখন ইয়াহিয়া আহসান। তিনি ছিলেন ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির প্রতীক। কিন্তু সেই ঐশ্বর্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ইয়াহিয়া আহসানের মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরেন একমাত্র উত্তরাধিকারী কিবরিয়া আহসান। বাহ্যিক আভিজাত্যের আড়ালে তার ব্যক্তিত্বে ছিল উদ্ধত অহংকার, আর চরিত্রে ছিল নানান গোপন পঙ্কিলতা। বাইজি-পথা উঠে গেলেও তার লালসার অবসান ঘটেনি।
‘চার কন্যা ও একমাত্র পুত্র ছিল কিবরিয়া আহসানের। কিন্তু নিয়তির নির্মমতায় অকালেই মৃত্যু হয় সেই পুত্রের। শোক সামলাতে না পেরে অল্প সময়ের ব্যবধানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পুত্রবধূও। বিস্তীর্ণ পরিবারের ভেতর থেকে শেষমেশ কেবল একটি শিশু ‘প্রণয়’ বেঁচে থাকে। প্রণয় ছোটবেলা থেকেই দাদার অশেষ স্নেহে বড় হয়ে ওঠে। বাবা-মায়ের শূন্যতা কিবরিয়া আহসান সচেতনভাবেই তার কাছে পৌঁছাতে দেননি। অভাবের বেদনা ছুঁতে পারেনি প্রণয়ের শৈশব। কিন্তু সময়ের নিয়মে পড়াশোনা তাকে ধীরে ধীরে দাদার ছায়া থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। স্কলারশিপ অর্জন করে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে সে পাড়ি জমায় নিউইয়র্কে।
‘প্রণয়ের প্রস্থান কিবরিয়া আহসানের জীবনে কোনো শূন্যতা আনেনি। বরং তার লীলাখেলা আরও গভীর আরও উন্মুক্ত রূপ নেয়। প্রতিদিনই নতুন নতুন মেয়ের আনাগোনা লেগে থাকত সেই প্রাচীন জমিদার বাড়িতে৷ ছুটি কাটাতে বাড়ি ফিরে প্রণয় এসব দেখেও না দেখার ভান করত। দাদাজানের প্রতি বুকের গভীরে জমে থাকা রাগ কখনোই প্রকাশ্যে আসেনি। নীরব আত্মসংযমেই সে সব এড়িয়ে চলত। দাদাজান মাঝেমধ্যে ইচ্ছাকৃত উস্কানি দিতেন যেন তাকে সেই কুরুচিপূর্ণ জগতে টেনে নেওয়া যায়। কিন্তু প্রণয় এসবে কোনোদিনই আগ্রহ দেখায়নি। তবে একজনকে সে এড়িয়ে যেতে পারেনি। আর সে হলো জবা। প্রথম দেখাতেই কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই, ভয়ংকরভাবে প্রেমে পড়ে যায় প্রণয়। অথচ সেই প্রেমের কথা সে সঙ্গে সঙ্গেই সপ্তদশী জবার কাছে প্রকাশ করেনি। বরং সেদিনই প্রথমবারের মতো দাদাজানের সামনে গিয়ে সে আর্জি জানায় এই ঘৃণ্য আয়োজনের অংশ হতে চায় সে। দাদাজান প্রথমে বিস্মিত হলেও মুহূর্ত পরেই ঠোঁটের কোণে কৌতুকের হাসি খেলিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান। বদ্ধ সেই ঘরে রয়ে যায় শুধু প্রণয় আর জবা।
‘সপ্তদশীর শরীরের অদৃশ্য কাঁপনেই প্রণয় বুঝে যায় এই মেয়েটি এখনো ফুলের মতো পবিত্র। আর সেই পবিত্রতাই ভাঙার জন্য আজ তাকে এখানে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রণয় সেই পবিত্রতা অপবিত্রতার হাতে সঁপে দেয়নি। সে রাতে সে স্পর্শ করেনি। শুধু নিঃশব্দ, নিষ্প্রাণ চোখে দেখে গেছে জবাকে। তার অপূর্ব সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে কেটে গেছে পুরো রাত। এভাবে এক রাত, দুই রাত… রাতের পর রাত। শেষমেশ এক ঝড়ের রাতে প্রণয় নিজের মনের কথা জানায় জবাকে। ততদিনে সপ্তদশীর বুকেও প্রেমের কুঁড়ি ফুঁটে উঠেছে। সে রাতে জবা প্রণয়কে খালি হাতে ফেরায়নি। প্রণয়ের প্রণয়-আহ্বানে সে সাড়া দিয়েছিল স্বেচ্ছায়, নিঃসংকোচে। তবে তাদের ভালোবাসার পথ ছিল না মসৃণ।
‘প্রণয় জানত তার দাদাজান, আর এই সমাজ কেউই এই সম্পর্ক মেনে নেবে না। বরং বিকৃত ফাঁদ পেতে এই প্রেম চূর্ণ করবে। পবিত্র ফুলকে অপবিত্র আখ্যা দিয়ে শাস্তির নির্দেশ দেবে। তাই দাদাজানকে জানানোর আগেই সে গোপনে জবাকে বিয়ে করে নেয়। এরপর যখন সত্যটি জানানো হয়, তখন আর কোনো কথা শোনা হয়নি। এক মুহূর্তেই প্রণয় হয়ে যায় তেজ্যপূত্র। তবে এই ত্যাজ্যপুত্র হওয়ার মধ্যে প্রণয়ের কোনো আক্ষেপ ছিল না। বরং এর মধ্যেই সে খুঁজে পেয়েছিল অদ্ভুত স্বস্তি, একটি বড় দায় থেকে মুক্তি। দাদাজানের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্তত একজন মানুষের জীবন সে বিপদমুক্ত করতে পেরেছিল; যেই মানুষটির কাছে সে চিরকৃতজ্ঞ—দাদাজান।
‘জবার কাছ থেকেই প্রণয় জানতে পারে সময়ের সাথে সাথে পতিতাবৃত্তির অন্ধকার জগতে জন্ম নিয়েছে আরও নিকৃষ্ট এক খেলা। সেখানে দেহ বিলানোর প্রলোভনের আড়ালে কেড়ে নেওয়া হতো প্রাণ, ছিনিয়ে নেওয়া হতো সর্বস্ব। তখন আর সৌন্দর্য কেবল বিক্রির পণ্য ছিল না। লোভের তাড়নায় মানুষের জীবনও হয়ে উহঠেছিল লেনদেনের সামগ্রী। এদের একটি সংঘবদ্ধ দল ছিল, যা বিভিন্ন জেলায় নীরবে ছড়িয়ে পড়েছিল। সুন্দরী মেয়েদের টোপ বানিয়ে ধীরে ধীরে দেহের মোহে বন্দি করে একসময় সবকিছু…. সম্পদ, পরিচয়, এমনকি প্রাণ পর্যন্ত কেড়ে নিত তারা।
‘জবা ছিল সেই অন্ধকার জগতেরই একজন সদস্যের অবৈধ সন্তান। জন্মপরিচয়ের গ্লানি তাকে তাড়িয়ে বেড়াত। সে পালাতে চেয়েছিল এই মরিচীকার জীবন থেকে, এই অভিশপ্ত বৃত্ত থেকে। হয়তো সেই কারণেই সেদিন রাতে যখন তাকে জোর করে টোপ হিসেবে পাঠানো হয়েছিল,ভাগ্যের অদ্ভুত খেলা সে এমন একজন মানুষের সামনে দাঁড়িয়েছিল যে তাকে ব্যবহার করেনি, বরং মুক্তির পথ দেখিয়েছিল।
‘খানদানি আহসান পরিবারের ছেলে এক পতিতাকে বিয়ে করেছে এই কথাটি বাতাসের মতো ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিক্রমপুরে। এতদিন যে আভিজাত্যের মুখোশ সমাজের চোখে ঝুলে ছিল সেএা এক ঝটকায় তা খুলে পড়ে। কিবরিয়া আহসানের আসল চরিত্র সকলের সামনে উন্মোচিত হয়ে যায়। মানুষ জানতে পারে রাতের আঁধারে আহসান মঞ্জিল আসলে কী লীলাভূমিতে রূপ নিত। এই প্রকাশ্য লজ্জা আর জমে থাকা ক্ষোভে কিবরিয়া আহসান ধীরে ধীরে সেসব কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসেন। শুধু সরে আসাই নয়, পতিতাদের প্রতি তার মনে জন্ম নেয় বিকৃত ঘৃণা। সেই ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ঘটে বিক্রমপুরের সেই কুখ্যাত পতিতাবৃত্তির বস্তি উচ্ছেদের মাধ্যমে।
‘তবে ততদিনে প্রণয় জবাকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছে নিউইয়র্কে। বিদেশের মাটিতে অতীতের গ্লানি, অপমান আর ভয়কে পেছনে ফেলে তারা শুরু করে একেবারে নতুন জীবন। প্রণয় নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি জবাকেও শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসে। ধীরে ধীরে তাকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলে। কর্মসংস্থানের সংকট কাটাতে প্রণয় একটি নার্সারি প্রতিষ্ঠা করে দেয় ওকে। জবা ছোট্ট একটা সংসারের সাথে পেয়েছিল একটা বাগান। যেখানে তার মতোই রঙিন রঙিন ফুল ছিল। হেসেখেলে কাটছিল তাদের দিনগুলো। বাংলাদেশ ছাড়ার পর আর কেউ পেছনে ফিরে তাকায়নি। স্মৃতির শহর, রক্তের সম্পর্ক সবই যেন দূরের কোনো ধোঁয়াটে অধ্যায়ে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘ সাত বছরের সংসার জীবনের পর জন্ম নেয় প্রেম আহসান। প্রেম ছিল বাবা-মায়ের চোখের মনি। সুখের সাগরে ভেসে যাচ্ছিল তাদের দিনগুলো।
‘কিন্তু সেই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হলো না। অমাবস্যার মতো ঘোর অন্ধকার নেমে এলো তাদের জীবনে। আমার বয়স যখন মাত্র তিন বছর তখন ক্যান্সারের কাছে হার মানে বাবা। এক মুহূর্তেই সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। মা ভেঙে পড়েছিলেন, তবু আমার দিকে তাকিয়ে নিজেকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। বাবার রেখে যাওয়া নার্সারির আয়েই আমাদের জীবন খুব ভালোভাবে চলছিল। তাছাড়া বাবা আমার নামেও অনেক কিছু রেখে গিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে সংসারের ছন্দ আবার আগের মতোই হয়ে আসে। বাবার শূন্যতা ছাড়া আর কোনো কিছুর অভাব ছিল না। মা যে হাত ধরে পরিবার ছেড়েছিলেন, দেশ ছেড়েছিলেন, অভিশাপের জীবন পেছনে ফেলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন, বাবার চলে যাওয়ার পরও সেই হাতের মোহ কাটিয়ে তিনি নতুন করে ভাবতে পারেননি। আমরা একা ছিলাম, কিন্তু ভালো ছিলাম। তবু নিয়তি যেন আমাদের সেই ভালো থাকাটুকুও বেশিদিন সহ্য করলো না।
‘লোলুপ শয়তানরা তখনও আমাদের পিছু ছাড়েনি। সেই বিকৃত, লোভী পতিতাদের সার্কেল ততদিনে দেশ পেরিয়ে বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সাময়িকভাবে থেমে গেলেও তারা ফিরে এসেছিল আরও ভয়ংকর রূপে। তাদের সোর্সের মাধ্যমেই নিউইয়র্কে আমার মায়ের খোঁজ পায় তারা। যার জন্য একসময় পথে বসাতে চেয়েছিল, যাকে হারিয়ে তারা অপমান বয়ে বেড়াচ্ছিল, তাকে আবার এতো বছর পর সামনে পেয়ে পুরোনো প্রতিহিংসা নতুন করে জেগে ওঠে।
‘সেই রাতে আমি ছিলাম গভীর ঘুমে। হঠাৎ অনুভব করলাম কেউ আমার হাত-পা, মুখ বেঁধে ফেলছে। ভয়ে চোখ খুলতেই দেখলাম মা। মায়ের শরীর কাঁপছিল, চোখে জমে ছিল আতঙ্ক। নিঃশব্দে কাঁদছিল মা। আমি কথা বলতে চেয়েছিলাম, ডাকতে চেয়েছিলাম৷ কিন্তু পারিনি। মুখে বাঁধা কাপড় শুধু নিঃশ্বাসকেই বাঁচিয়ে রেখেছিল। মা বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছিল। বাইরে থেকে কেউ প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা দিচ্ছিল মনে হচ্ছিল এই বুঝি দরজাটা ভেঙে পড়বে। সেই মুহূর্তে মা আমাকে শেষবারের মতো বুকে চেপে ধরেছিল। এমন শক্ত করে যেন তার সমস্ত প্রাণশক্তি আমাকে ভেতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। মা শেষবারের মতো আমার কপালে গভীর, কাঁপা এক চুমু এঁকে দিয়েছিল। তারপর আমাকে খাটের নিচে লুকিয়ে ফেলে। শেষবার শুধু ফিসফিস করে বলেছিল,
“তোকে বাঁচতে হবে বাবা।
ওদের শাস্তি দিতে হবে।”
‘সেই কথাগুলোই হয়তো আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।
আর বাঁচার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিশোধের বীজ বপন করে দিয়েছিল আমার ভেতরে। এর মধ্যে ওরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা আমি নিজের চোখে দেখেছি কীভাবে ওরা মায়ের বুকের ওপর হাঁটু চেপে ধরে তাকে জ-বা-ই করেছিল। মুহূর্তেই চারপাশ র-ক্তে ভেসে যায়। যখন ধারালো অস্ত্র মায়ের গলায় বসছে সেই সময়েও মা ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকেই তাকিয়ে ছিল। মৃত্যুর একেবারে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তার চোখ আমাকে বলছিল আমি যেন বের না হই। হ্যাঁ, আমি বের হইনি। চেষ্টা করেছিলাম। শরীর কাঁপছিল, নিঃশ্বাস আটকে আসছিল। কিন্তু একসময় হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। কারণ আমাকে বাঁচতেই হতো। ওদের শাস্তি দিতেই হতো।
‘সেদিন আমি খুব কেঁদেছিলাম। তারপর বছরের পর বছর আর ঘুমোতে পারিনি। চোখ বন্ধ করলেই ভেসে উঠত মায়ের গলা কাটার সেই দৃশ্য। রক্ত, দৃষ্টি, শেষ তাকানো সব একসাথে ফিরে আসত। ধীরে ধীরে আমি বুঝতে পারলাম আমি বদলে যাচ্ছি। এভাবেই একদিন অজান্তেই আমি মানুষ থেকে অমানুষে পরিণত হই। আমি টের পেলাম আমার আর কষ্ট হয় না। আমি স্বাভাবিকভাবে হাসতে পারি, কথা বলতে পারি, বাঁচতে পারি। কিন্তু সেই দিনের ট্রমা থেকে কখনোই বের হতে পারিনি। ভেতরে কোথাও এক অন্ধকার স্থায়ী হয়ে গেছে। যেখানে মায়ের চোখ এখনো তাকিয়ে থাকে, আর আমি এখনো লুকিয়ে থাকি খাটের নিচে।
‘বাবার এক বন্ধুর সহায়তায় পড়াশোনা শেষ করি। তারপর কঠোট নির্মম শৃঙ্খলায় আর লোহার ইচ্ছাশক্তিতে নিজেকে গড়ে তুলি একজন স্পাই হিসেবে। ভেবেছিলাম অতীতকে পেছনে ফেলে দিয়েছি। ভেবেছিলাম, স্মৃতি মরে গেছে। কিন্তু কিছু স্মৃতি মরে না। ওরা শুধু ঘাপটি মেরে থাকে। কাজে যোগ দেওয়ার পরপরই আমি আবার সেই পুরোনো গন্ধ পাই। ঠিক সেই নোংরা ছায়া, যেখান থেকে আমার মায়ের মৃত্যু এসেছিল। তখনই বুঝে যাই আমি আসলে কিছুই ভুলিনি। আমি কখনো ভুলতেই পারিনি।
‘তাদের খুঁজতে শুরু করলাম। খোঁজ নিতে নিতে জানতে পারি মায়ের হত্যার সঙ্গে জড়িত অনেকেই ততদিনে মরেছে। কেউ অসুখে, কেউ দুর্ঘটনায়। কিন্তু সেটা কোনো বিচার ছিল না। বিচার বাকি ছিল। জীবিত ছিল মাত্র বারোজন। তার মধ্যে ছয়জন ছিল বাংলাদেশে। আর তখনই শুরু হয় আমার প্রতিশোধ। আমি তাদের মারিনি৷ আমি তাদের শেষ করেছি। ঠিক যেমন করে তারা আমার মাকে শেষ করেছিল।
আমি তাদের শরীরকে ফুলের মতো ছুঁইনি। ফুলের সম্মান তারা পায় না। আমার সমস্ত ক্ষোভ আমি ঢেলে দিয়েছিলাম তাদের ঠোঁটে। সেই ঠোঁটে, যেগুলো একদিন হাসছিল, যখন আমার মায়ের গলায় ছু-রি চালানো হচ্ছিল। আমি চেয়েছিলাম মৃত্যুর আগে তারা সেই হাসিটা হারাক। চেয়েছিলাম আতঙ্কে তাদের মুখ বিকৃত হোক। চেয়েছিলাম, তারা বুঝুক শিকার হওয়া কাকে বলে।
‘আমি ছিলাম ঠান্ডা। ভয়ংকরভাবে ঠান্ডা। কারণ আমি তখন আর শুধু একজন মানুষ নই, তখন আমি স্বয়ং নিজেই প্রতিশোধ। প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আমি কিছুটা হালকা হয়েছি৷ আবার কিছুটা শূন্যও। কারণ প্রতিশোধ শান্তি দেয় না। এটা শুধু আগুন নিভিয়ে ছাই রেখে যায়। তবুও আমি থামিনি। থামতে পারিনি। আমার মায়ের শেষ তাকানো চোখ আমাকে থামতে দেয়নি। আমি জানি, আমি যা করেছি তা ক্ষমার যোগ্য নয়। কিন্তু ওরা যা করেছিল—তা বাঁচার যোগ্য ছিল না।
‘অসমাপ্ত ডায়েরির শেষপ্রান্তে এসে থামতে হলো লাড়াকে। শেষের চারটি পৃষ্ঠা শূন্য। হয়তো এই শূন্যতাই তাকে দিয়েছে অসমাপ্ত নাম। লাড়া চোখ তুলে তাকাল প্রেমের দিকে। তার চোখের কোলে থইথই ঘন বর্ষা। সংক্ষিপ্ত এই কাহিনিটি সে হয়তো অযথাই অতিমাত্রায় গভীরভাবে অনুভব করত বলেই ডায়েরিটা পড়তে গেলেই তার চোখ দু’টি বাষ্পে ভিজে উঠত তার। ধূর্ত কৌশলে নিজের সামান্য ভঙ্গুরতা আড়াল করে সে আবার তাকাল প্রেমের দিকে। প্রেম একদৃষ্টিতে মাটির দিকে চেয়ে আছে। গাল ভেজা। চোখের পাপড়ি কাঁপছে।
“আমার চোখের সামনে ওরা আমার মাকে জবাই করেছিল। ওদের হাঁটু ছিল আমার মায়ের বুকে—যে বুকের দুধ পান করে আমি বড় হয়েছি। ওদের আমি কীভাবে ছেড়ে দিতাম?”
‘লাড়া নিঃশব্দে এগিয়ে এসে রিভলবার প্রেমের কপালে ঠেকাতে উদ্যত হতেই, অকস্মাৎ ঝড়ের বেগে উঠে দাঁড়াল প্রেম। মুহূর্তের মধ্যেই নিজের রিভলবার বের করে সোজা ঠেকাল নিজের কপালে। লাড়ার চোখে এক চিলতে বিস্ময় ঝলকে উঠে। সাময়ীক ভাবে৷ প্রেম দু’পাশে মাথা নাড়িয়ে বলল,
“না… যে হাতে মানুষের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়েছি, সেই হাত আমি আর শিকলে বাঁধব না।”
‘প্রেম ভেবেছিল, লাড়া হয়তো তাকে চাপা হুঁশিয়ারি দেবে, আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেবে, কিংবা অনুনয় করবে নিজেকে শেষ না করার জন্য। কিন্তু তার ধারণার একটাও সত্যি হলো না। সে জানত লাড়া সাহসী। তবে এতটা শান্ত স্নায়ু, এতটা ভয়ংকর নিয়ন্ত্রণ এটা কল্পনাতেও ছিল না।
‘হঠাৎই অর্তকিতে ঘূর্ণির বেগে নিখুঁত কৌশলে লাড়া লাথি মেরে প্রেমের হাত থেকে রিভলবার উড়িয়ে দিল। তারপর মুহূর্তের মধ্যেই সেটি ক্যাচ করে নিল সে। প্রেম চমকে উঠে, থমকে গেল। হতবাক দৃষ্টিতে লাড়ার দিকে তাকিয়ে রইল। লাড়া বাঁকা হাসল। নিজের রিভলবারটি পিছনের পকেটে গুঁজে রেখে, প্রেমের রিভলবার দিয়েই আবার তাকে গান পয়েন্টে নিল। চোখের ইশারায় আত্মসমর্পণ করে বসতে বলল।
‘চাইলেই নিরস্ত্র অবস্থাতেও লাড়ার সঙ্গে লড়তে পারত প্রেম। কিন্তু সেই লড়াইয়ের জন্য যে শক্তি দরকার, তা নিজের শরীরে খুঁজে পেল না সে। বসে পড়ল প্রেম৷ তবে সারেন্ডার করে নয়। ভাঙা ইমারতের মতো ধসে পড়ল তার শরীর। ব্যর্থতার গ্লানিতে কেঁপে উঠল শরীর। কণ্ঠস্বর ভেঙে বেরিয়ে এল,
“আমার প্রতিশোধ এখনো শেষ হয়নি। খুব শিগগিরই রাস্কেলটাকে মারতে নিউইয়র্ক যাচ্ছি আমি।”
‘লাড়া শব্দহীন পদচ্ছাপে এগিয়ে এল। প্রেমের সামনে হাঁটু ভেঙে বসল। চারপাশের নীরবতাকে বিস্ময়ে ভিজিয়ে দিয়ে আলতো করে দু’হাতের আঙুলে আগলে ধরল প্রেমের গাল। মোমের মতো নরম কণ্ঠে বলল,
“নেই তো।”
“হুঁ?”প্রেম চোখ তুলে তাকাল। চোখেমুখে টাটকা কৌতূহল।
‘লাড়া বুড়ো আঙুলের মৃদু ঘর্ষণে প্রেমের চোখের পানি মুছে দিল। পরের দুঃখে জর্জরিত হয়ে ব্যথাক্লিষ্ট কণ্ঠে সাবলীলভাবে বলল,”আমি শয়তানটাকে বাঁচিয়ে রাখিনি।”
‘প্রেম স্তব্ধ হয়ে গেল। লাড়া তাকাল তার নিকষ কালো চোখের তারায়। এক চোখের ওপর হাত রাখল লাড়া।
“এই চোখে কী আছে প্রেম, হুহ? প্রেমের এই চোখে কি প্রেম আছে? হাহ! প্রেম আছে এই চোখে?”
‘প্রেম তখনো নির্বাক। ধীরে ধীরে লাড়ার অভিব্যক্তি বদলাতে লাগল। চোখে ভেসে উঠল দীর্ঘদিনের চেপে রাখা আকাঙ্ক্ষা। ঠোঁটের কোণে কীসের যেন এক অদ্ভুত প্রশান্তির আভাস।
“ভয়েও বুঝি প্রেম হয়?”
“মানে?”
‘অকস্মাৎ লাড়া ঝুঁকে এল। আর কালক্ষেপণ না করে প্রেমের চোখের পাতায় চুমু খেল। প্রেম পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল। নির্বিবাদী অথচ ভয়ংকর শান্ত মানুষটি আবার পরম আবেশে চুমু খেল প্রেমের আরেক চোখে। তারপর নিষ্প্রভ, নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার চোখে। প্রেম বিস্ময়ে জমে গিয়ে হরিণশাবকের মতো ফ্যালফ্যালে দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লাড়ার চোখে। তার লাই-ডিটেক্টিং প্রশিক্ষণের সুবাদে লাড়ার চোখে সে যা দেখল, তাতে তার শরীরের শিরা-উপশিরা কেঁপে বেজে উঠল।
‘হারিয়ে যাওয়া একটি শিশুকে যেমন কেউ পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরে, ঠিক তেমন করেই লাড়া প্রেমকে নিজের বুকের ভেতর টেনে নিল। নরম কণ্ঠে বলল,
“তোর সেই ভয়ার্ত চাহনির তীব্র আকর্ষণ থেকে এখনো আমি রেহাই পাইনি, অফিসার।”
‘যার কথায় একসময় শান দেওয়া করাতের মতো ধার ছিল, সেই কণ্ঠের এমন নিদারুণ কোমলতা প্রেমকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে বাধ্য করল।
“মানে?”
‘লাড়া সোজা হয়ে দাঁড়াল। আবারও দু’হাতে চেপে ধরল প্রেমের গাল। গভীর রাতের মতো কালো চোখে চোখ রেখে বলল,
“সেদিন এই চোখে ভয় ছিল। আমি দেখেছি। আর সেই ভয়ার্ত চোখেই ছিল আমার সর্বনাশ।”
‘প্রেম তখনো যেন সবটা বুঝে উঠতে চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই হঠাৎ লাড়া টেনে তাকে দাঁড় করিয়ে দিল। হতবিহ্বল প্রেম ক্ষণিকের জন্য হুঁশে ফিরে এল।
“চল, উঠ।’
“কোথায়?”
“কাজি অফিসে।”
“মানে?” এক ঝটকায় ছিটকে দূরে সরে গেল প্রেম।
‘লাড়া সোজা হয়ে দাঁড়াল। মুহূর্তেই তার মুখে ফিরে এল সেই চেনা কঠোরতা। দাঁতে দাঁত পিষে বলল,
“বিয়ে করবি না, জেলে যাবি?”
“আর ইউ গোন ম্যাড?”
“ইয়েস। বাট ফর ইউ।”
“ইম্পসিবল!”প্রেমের তীব্র প্রতিবাদ।
‘লাড়া আবার গান পয়েন্টে নিল তাকে,”সে দ্যাট এগেইন।”
‘প্রেম অনড়,”নো মিন্স নো।”
‘লাড়া সেফটি লক খুলল। চাপা হুঁশিয়ারি কণ্ঠে বলল,”ওয়ান্স এগেইন।”
“আই সে নো।”
‘লাড়া হার মানার মেয়ে নয়। যার জন্য এত দূর পথ পেরিয়ে এসেছে, তাকে নিজের না করে ফিরে যাওয়ার কথা তার অভিধানেই নেই। নিজের সাথে নিজে অনেক লড়েছে সে৷ শেষমেশ অনুভূতির কাছেই আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে। এবার আর কেউ তাকে থামাতে পারবে না। লাড়া রিভলবার নামিয়ে রাখল। প্রেমের চোখের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসল। তারপর ফোন বের করল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল সাইকোপ্যাথ প্রেমের খুনের উল্লাস। দৃশ্যটা চোখে পড়ামাত্র প্রেমের দৃষ্টি বিস্ফোরিত হয়ে উঠল। মুহূর্তেই বুঝে গেল এই মেয়েটা তার কল্পনার চেয়েও ভয়ংকর। এতটাই ভয়ংকর যে সোজা আঙুলে কাজ না হলে, আঙুল বাঁকাতেও এক সেকেন্ড দেরি করে না।
‘নিজের কর্মই প্রেমের কাছে তার আদর্শ। এটা তার মায়ের স্বপ্ন ছিল। আর সেই স্বপ্নে সে দাগ লাগাতে পারবে না। নিজের পেশাকে সে সন্তানের মতো আগলে রেখেছে। সম্মান করেছে, লালন করেছে। সেই পেশায় কালি লাগুক, যাকে সবাই আইনের রক্ষক হিসেবে চেনে তাকে খুনি বলা হোক, কাঁদা ছোড়া হোক, আঙুল তুলে হাসা হোক—এগুলো প্রেম আহসান মানতে পারে না। সে যা করেছে, তা ভুল ছিল না এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে মানুষ তাকে বিশ্বাস করবে না।
‘হঠাৎ করেই প্রেম স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উচ্চস্বরে হেসে উঠল। হাসতে হাসতে লাড়ার কাঁধে হাত রেখে সামনে এগোতে এগোতে বলল,
“আহহহ… লাড়া জান্স, আমি তো মজা করছিলাম। চলো যাই। বিয়ে করি। দেনমোহর কিন্তু বেশি দিতে পারব না। যদি আবার ডিভোর্সের দরকার পড়ে!”
‘প্রেম ভয়ংকর,তারথেকেও ভয়ংকর প্রেমে পড়ার সেই প্রথম মুহূর্ত। নয়তো যে একদিন মারতে এসেছিল, তার প্রেমেই বা কীভাবে হৃদয় বাঁধে? আজ থেকে চার বছর আগে ঠিক এমনই এক ভয়ংকর রাত নেমে এসেছিল। শিকারের খোঁজে বের হয়েছিল প্রেম। আর সেই একই রাতে ছদ্মবেশে ডাবল খুনের এক আসামির সন্ধানে পথে নেমেছিল লাড়া। ভুলের খেলায় প্রেম সেদিন লাড়াকেই শিকার ভেবে আক্রমণ চালায়। দু’জনেই ছিল প্রশিক্ষিত। ধস্তাধস্তি তাই রূপ নেয় নিখুঁত এক সংঘর্ষে।
কিন্তু এক মুহূর্তে সব বদলে যায়। লাড়ার আইডিতে চোখ পড়তেই প্রেম শিউরে ওঠে। চোখে জমে ওঠে আতঙ্ক। আর এক সেকেন্ড দেরি না করে সে পালিয়ে যায় অন্ধকারে। তবে রেখে যায় দুটি জিনিস। তার ভয়ার্ত চোখের এক অদ্ভুত মোহ, আর সেই পকেট ডায়েরি।
‘প্রেম সেদিন খুন ভয় পেয়েছিল। ভয় পেয়েছিল তার সব সত্য উন্মোচিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। তাই তো সে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। নাম, পরিচয়, জীবন সবকিছু বদলে নতুন করে সিআইডিতে যোগ দেয়। সে পারলেও সবকিছু নতুন করে শুরু করতে পারেনি লাড়া। আঘাতপ্রাপ্ত বাঘের মতোই প্রেমকে খুঁজে বেড়াতে থাকে সে। শুরুতে সেটা ছিল কেবল হিসাব। এত বড় দুঃসাহসের পরিণাম কী হতে পারে, তা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে প্রেমের ফেলে যাওয়া সেই ডায়েরি পড়তে পড়তে ক্ষোভ গলে করুণায় রূপ নেয়। ফলত প্রেম তার মায়ের খুনের প্রতিশোধ না নিয়ে পালিয়ে এলেও, লাড়ার হাত থেকে মুক্তি পায়নি জানোয়ারটা।
‘লাড়া নিজেকে কঠিন ধাঁচের মেয়ে বলে জানত। সত্যিই কঠিন ছিল সে। নয়তো কেউ কি টানা চার বছর নিজের সাথেই যুদ্ধ করতে পারে? নিঘুম রাত কাটিয়েও মনকে বোঝাতে পারে যে ওই চোখে শুধুই ভয় ছিল, কোনো আকর্ষণ নয়! তবু শেষ পর্যন্ত আর পারেনি লাড়া। সে বুঝে যায় তার রাতের ঘুম ফিরিয়ে আনার জন্য এই পৃথিবীতে ভয়ার্ত চোখের সেই মানুষের স্পর্শের চেয়ে বড় কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নেই। তারপর…প্রেমের সন্ধানে ছুটে আসে বাংলাদেশ।
‘কাজি অফিস থেকে বেরিয়ে দু’জন রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। লাড়া তার লাল বাইকটায় উঠে বসে প্রেমের দিকে ইশারা করল। প্রেমের মুখে না খুশি, না অখুশি কিছুই ধরা পড়ল না। কপাল কুঁচকে অস্বাভাবিক রকম স্বাভাবিক গলায় সে জানতে চাইল,
“কোথায় যাচ্ছি?”
‘লাড়া বিরক্ত চোখে প্রেমের দিকে তাকাল। ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
“কাম ইয়ার। বিয়ে করেছি আমরা। রাতটাকে একটু স্পেশাল না করলে হয় বুঝি?”
❌
‘আশা করি সবাই এবার খুশি, হিহিহিহি। এখানেই সকলেই পূর্ণতা পাবেন। সুন্দর একটা সংসার পাবেন। মূলত এজন্যই ভিলেন ক্যান বি আ লাভার’ গল্পের সিজন টু আনার চিন্তাভাবনায় বাদ দিয়েছি। আশা করি সকলে রেসপন্স করবেন। খুব শীঘ্রই ইমামার রহস্য উন্মোচন হতে যাচ্ছে।🤭
Share On:
TAGS: born to be villains, মিথুবুড়ি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
born to be villains পর্ব ১৭
-
Born to be villains পর্ব ৩
-
Born to be villains পর্ব ৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
Born to be villains পর্ব ৬
-
Born to be villains গল্পের লিংক
-
Born to be villains পর্ব ৪
-
Born to be villains পর্ব ১৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)+বোনাস
-
Born to be villains পর্ব ৮
-
Born to be villains পর্ব ১০+বোনাস
-
born to be villains পর্ব ১৬