কি_আবেশে (২৭)
জেরিন_আক্তার
মারুফুল খান আসিফকে একনজর দেখে মেরাবের দিকে তাকালো। মেরাব তখনও মাথায় হাত দিয়ে ফ্লোরের দিকেই তাকিয়ে আছে। তার মানে মেরাব জানে না। মারুফুল খান আসিফের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আসিফ তুমি এতো রাতে কি জন্যে এসেছিলে?”
“মৌয়ের সাথে দেখে করতে এসেছিলাম।”
“কেনো? কি দরকার ওর সাথে?”
“ওকে আমি ভালোবাসি।”
মৌ আসিফের দিকে তাকালো। ভাবলো,,, যে সবার সামনে ভালোবাসি কথাটা বলতে পারে সে মিথ্যে হতে পারে না।
মেরাব মাথা তুলে আসিফের দিকে তাকালো। ও হালকা হালকা টেরও পেয়েছিলো এমন কিছু হবে। তাই বলে এতদূর পর্যন্ত গড়াবে।
আসিফ মেরাবের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি মৌকে ভালোবাসি ওকে বিয়েও করে ফেলেছি আর এটা মেরাবও জানে না। আপনারা অযথা কেউ ওকে ভুল বুঝবেন না।”
মারুফুল খান উঠে দাড়িয়ে শক্ত গলায় বললেন,
“তুমি যেহেতু বিয়েটাও করে ফেলেছো তাহলে ওকে আবার এই বাড়িতে রাখতে গেলে কেনো নিজের বাড়িতেই উঠাতে। এক্ষুনি তুমি তোমার বউকে নিয়ে বেরিয়ে যাও!”
ফাহমিদা খান উঠে এসে বললেন,
“তুমি পাগল হয়ে গিয়েছো? নিজের মেয়েকে বের করে দিবে? ও নাহয় ভুল করেই ফেলেছে তাই বলে এতবড় শাস্তি দেওয়ার কোনো মানে হয়না।”
মারুফুল খান গম্ভীর গলায় বললেন,
“আমি যেদিন ওদের মেনে নিবো সেদিনই ওরা এই বাড়িতে আসতে পারবে।”
এই কথা শুনে আসিফ বলল,
“কেনো মেনে নিতে পারবেন না। আমি কি খারাপ ছেলে নাকি আপনার মেয়েকে ভালো রাখতে পারবো না। আমি স্বীকার করছি ভুল করেছি যার কোনো ক্ষমা হয়না। তবুও তো পারেন ক্ষমা করে দিতে।”
মারুফুল খান কাঠ গলায় বললেন,
“আমি যেতে বলেছি সেটাই আমার শেষ কথা।”
বলেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেলেন। মৌ ভয়ে ভয়ে মেরাবের কাছে এসে পায়ের কাছে বসে পা ধরে বলল,
“ভাইয়া! আমাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলছে। আমি যাবো না। প্লিজ আব্বুকে বোঝাও না। প্লিজ আমাকে বের করে দিও না। তোমরা যা বলবে আমি তাই শুনবো। প্লিজ!”
মেরাব মৌকে উঠিয়ে ধীর গলায় বলল,
“তু্ই আসিফের সাথে যা। আমি এদিকটা ম্যানেজ করছি।”
“না ভাইয়া আমি যাবো না।”
“জেদ করিস না। বাবা যা বলছে তাই কর! এটাই এখন বেটার হবে। আর তোর ভাইয়ের প্রতি বিশ্বাস নেই। বলেছি তো সব ম্যানেজ করে ফেলবো।”
মেরাব মৌকে আসিফের সামনে নিয়ে দাড়ালো। আসিফের হাতে মৌয়ের হাত রেখে বলল,
“তু্ই ওকে নিয়ে যা। আর গিয়ে কল দিস।”
আসিফ থমথমে গলায় বলল,
“সত্যিই নিয়ে যেতে বলছিস?”
“হুম। এখন বাবা যেটা বলছে সেটাই কর! উনাকে রাগানো এখন ঠিক হবে না। পরে যখন বুঝবে কি করেছে তখন দেখবি নিজেই তোদের কাছে চলে যাবে।”
আসিফ মৌয়ের হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো। ফাহমিদা খান অঝোরে কেঁদে উঠলেন। মেরাব স্নেহার দিকে তাকিয়ে বলল,
“তুমি থাকো উনার কাছে। আমি উপরে যাচ্ছি। আর সাদাফ আয়তো আমার সাথে।”
“হুম, ভাই চলো!”
আসিফ মৌকে নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাটছে। সামনে আরও দশ মিনিটের রাস্তা তাহলেই আসিফের বাড়ি। মৌ কান্না করছে। কান্না করতে করতে প্রায় বেহাল অবস্থা। একপর্যায়ে কাদতে কাদতে ঢলে পড়লো রাস্তায়। আসিফ পেছন ফিরে তাকিয়ে মৌকে সেন্সলেস হয়ে পড়ে থাকতে দেখে নিজেই কোলে তুলে নিলো। কোলে নিয়েই হাঁটা দিলো বাড়ির দিকে।
বাড়িতে ঢুকতেই চোখে পড়লো আশরাফ চৌধুরী আর তনিমা বেগমকে। উনারা জেগে আছে। মেরাবই একটু আগে কল দিয়ে জানিয়েছে। আসিফ মৌকে সোফায় শুইয়ে দিতেই তনিমা বেগম পানি নিয়ে এলেন। মৌয়ের উপরে পানির ছিটা দিতেই চোখ পিটপিট করে তাকালো। নতুন জায়গা, নতুন মানুষদের দেখে তৎক্ষণাৎ উঠে বসলো। আসিফ ধীর গলায় বলল,
“ঠিক আছো এখন?”
মৌ উত্তরে বলল,
“পানি খাবো!”
তনিমা বেগম ডাইনিং টেবিল থেকে পানি এনে দিলো। পানি খেয়ে গ্লাসটা কোলের উপরে রেখে আবারও কেঁদে উঠলো। আশরাফ চৌধুরী নরম গলায় বললেন,
“কাদছো কেনো? কি হয়েছে?”
মৌ নাক টেনে বলল,
“আব্বু বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।”
আশরাফ চৌধুরী ছেলের দিকে তাকালেন। মেরাব একটু আগে ফোন দিয়ে বলল যে মৌ আর আসিফ একসাথে বাড়ি ফিরছে। কই তখন তো বলেনি যে ওদের বের করে দিয়েছে।
আশরাফ চৌধুরী মৌয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন,
“কোনো ভয় নেই তোমার। আমরা কথা বলবো তোমার বাবার সাথে। তুমি রুমে গিয়ে এখন রেস্ট নাও।”
এই বলে তিনি আসিফের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আসিফ, উপরে এসো। কথা আছে।”
এই রাতে কারোর চোখে ঘুম নেই। মেরাব রুমে এসে সোফায় বসেছিলো। কি করা যায় সেটাই ভাবছিলো। ভুল যখন করেই ফেলেছে সেই ভুল ধরে বসে থাকলে চলবে না। যা করার ওকেই করতে হবে। তখন স্নেহা এসে ডেকে বলল,
“সেহেরি খাবেন চলুন!”
“এখন আর নিচে যাবো না। তুমি খাবার উপরে নিয়ে এসো!”
“ঠিক আছে।”
পরদিন,,,,
ইফতার করার পরে নামাজ পড়ে বসে আছেন মারুফুল খান। মেয়ের কথা বারবার মনে পড়ছে। তিনি অসময়ে শুয়ে পড়লেন। ফাহমিদা খান রুমে এসে মারুফুল খানের পাশে বসলেন। দুজনের টুকটাক কথা বলার মাঝেই মারুফুল খানের ফোনে কল এলো। নাম্বারটা অচেনা। হয়তো কলেজের দরকারে কেউ কল দিয়েছে। এই ভেবে মারুফুল খান কল রিসিভ করলেন। ওপাশে থেকে মৌয়ের কান্না ভেসে এলো। মৌ ফিকরে ফিকরে কেঁদে কেঁদে বলল,
“আব্বু, এই বাড়িতে না আমাকে কেউ মেনে নেয়নি। আর আসিফ, সে আমাকে মেরেছে।”
কথাটা মারুফুল খানের কানে শ্রবণপাত হতেই তিনি চোখ-মুখ ভারী করে বললেন,
“কখন মেরেছে?”
“সকালে আবার এখন!”
মরুফুল খান কঠিন গলায় বললেন,
“তুমি থাকো, আমি এক্ষুনি আসছি! আমার মেয়ের গালে হাত তোলা বের করবো।”
মারুফুল খান ফোনটা রেখে বিছানায় থেকে নেমে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। ফাহমিদা খানও তার পেছন পেছন হন্তদন্ত হয়ে বের হলেন। মারুফুল খান মেরাবের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে ডাক দিলেন,
“মেরাব! গাড়ির চাবিটা নিয়ে বের হওতো!”
তিনি ঘাড় ঘুরিয়ে সাদাফকেও ডাকলেন। মারুফুল খান নিচে আসতে আসতে মেরাব আর সাদাফ দুজনেই নিচে এলো। মেরাব তার বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,
“কোথাও যাবে?”
“হুম, এসো। আর সাদাফও এসো।”
দুজনেই মারুফুল খানের পেছন পেছন গেলো। মেরাব গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বলল,
“বাবা, কোথায় যাবো?”
“আসিফের বাড়ি।”
সাদাফ বলল,
“হুট্ করে! মৌকে দেখতে যাবে?”
মারুফুল খান গম্ভীর হয়ে বললেন,
“তোমাদের বোনকে নাকি মেরেছে। তাই দেখতে যাবো। ওদের কলিজায় এতো সাহস কোথায় থেকে এলো যে আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলে।”
মেরাব তড়িৎ চোখে তাকিয়ে বলল,
“কিহ! মৌয়ের গায়ে হাত তুলেছে। তোমাকে কে বলল?”
“মৌ কল দিয়ে বলেছে।”
মেরাব আসিফের বাড়ির সামনে গাড়ি থামালো। এরপরে তিনজনে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো। ড্রইং রুমে এসে দাঁড়াতেই দেখতে পেলো তনিমা বেগম মৌকে খাইয়ে দিচ্ছে। সারাদিন পরে মেয়ের মুখটা দেখে মারুফুল খান নরম হয়ে গেলেন। এগিয়ে যেতেই মৌ দৌড়ে এসে দাড়ালো। মারুফুল খান মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
“কে মেরেছে তোমাকে? শুধু একবার বলো!”
মৌ মাথায় তুলে তাকিয়ে বলল,
“কেউ মারেনি।”
“মারেনি? নাকি মিথ্যে বলছো!”
আশরাফ চৌধুরী সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে বললেন,
“কি করে ভাবলেন আপনার মেয়ের গায়ে আমার ছেলে হাত তুলবে। ছেলেকে ঐরকম কোনো শিক্ষাই দেইনি।”
“তাহলে মিথ্যে বলার কারণ কি?”
“আসুন বসে কথা বলি! আসলে যা বলেছে আপনাকে এখানে আনার জন্য বলেছে।”
“আজ আসি ভাই, আমার মেয়েকে রেখে গেলাম। দেখে রাখবেন। দুই-একদিনের মধ্যে আসিফকে আর মৌকে ঘুরে আসতে বলবেন। আজ তো আসিফের সাথে দেখা হলো না। ওকে বলবেন আমি ওকে যেতে বলেছি।”
মারুফুল খানের কথায় আশরাফ চৌধুরীসহ সবাই খুশি হলেন। যাই হোক মেয়ের উপর আর আসিফের উপরে কোনো রাগ নেই। মারুফুল খান সবার থেকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলেন। মেরাব মৌয়ের মাথায় হাত রেখে বলল,
“দেখেশুনে থাকিস। ওরা যা বলে মেনে চলিস। দুই-একের মধ্যে আসিফকে নিয়ে বাড়িতে চলে যাস।”
মৌ মাথা নাড়িয়ে বলল,
“ঠিক আছে।”
“আর এই যে তোর ফোন!”
“তুমি নিয়ে এসেছো! থ্যাংক ইউ ভাইয়া।”
“হুম। আসছি তাহলে!”
মেরাব চলে যেতেই সামনে দেখা হলো আসিফের সাথে। মাত্রই বাড়ি ফিরলো। রেস্টুরেন্টে সন্ধ্যার পরে থেকে একটু কাজের প্রেসার থাকে তাই সেখানেই গিয়েছিলো। আসিফ মেরাবকে ধরে বলল,
“কিরে, দেখলাম আংকেল এসেছে। সব ঠিকঠাক আছে তো!”
“হুম। সব ঠিকঠাক। বাবা তোকে আর মৌকে বাড়িতে যেতে বলেছে।”
“সত্যিই?”
“হুম। ফোনে বলবো সব। ওরা গাড়িতে বসে আছে এখন আসি।”
মেরাব চলে যেতে নিয়ে আবারও আসিফের কাছে এসে কানে কানে ফিসফিস করে বলল,
“আইডিয়াটা কেমন ছিলো?”
আসিফ হেসে বলল,
“ভাই, কি বলবো! তোর জন্যই সব ঠিক হলো। ইচ্ছে করছে তোকে হাজারটা চুমু খাই।”
মেরাব বাকা হেসে বলল,
“রোজা-রমজানের মাস। তোর চুমু খেয়ে রোজা হালকা হবে।”
“আর বাড়িতে গিয়ে বউ চুমু দিলে কিছু হবে না। তাইনা!”
“নাহ! ওইটা এক্সট্রা ভিটামিন। তাহলে থাক এখন যাই। মৌকে দেখে রাখিস। আর যদি কিছু ওকে কিছু বলিস তাহলে ভাই তোর নামে বাল্যবিবাহের মামলা দিয়ে দিবো।”
“না না, মামলা দিতে পারবি না। তোর বোন যেদিন আঠারো বছরে পা দিয়েছে সেদিনই বিয়ে করেছি।”
“বেঁচে গেলি।”
মেরাব তার বাবা আর সাদাফকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে চলে গেলো স্নেহার জন্য ফুল আনতে। এই পর্যন্ত ওকে কোনো ফুল-টুল দেওয়া হয়নি। আজ ইচ্ছে হলো স্নেহাকে ফুল দেওয়ার।
স্নেহা মারুফুল খান আর সাদাফকে ফিরে আসতে দেখলো। মেরাবকে দেখলো না। গাড়ি পার্ক করে আসবে ভেবে বসে রইলো। তবুও মেরাবকে ফিরে আসতে না দেখে সাদাফকেই জিজ্ঞাসা করলো,
“ভাইয়া, মেরাব কোথায়?”
“ও আমাদের নামিয়ে দিয়ে কোথায় যেনো গেলো। মনে হলো তোর জন্য কিছু কিনতেই গেলো নাকি!”
“ওহ। ঠিক আছে।”
স্নেহা রুমে এসে শুয়ে রইলো। মেরাবও তার ঠিক কিছুক্ষন পরেই চলে এলো। মেরাবের খালি হাত দেখে স্নেহা উঠে বসলো। মনটা খারাপ করে তাকিয়ে রইলো। মেরাব নিজের ফোন, ওয়ালেট, গাড়ির চাবি জায়গা মতো রেখে স্নেহাকে বলল,
“ওরকম পেঁচার মতো মুখ বানিয়ে রেখেছো কেনো?”
“আমার জন্য কিছু আনেননি।”
“কি আনবো তোমার জন্য। বলে দিতে!”
“সাদাফ ভাইয়া না বলল আপনি আমার জন্য কি যেনো কিনতে গিয়েছেন।”
“কই? ও মজা করেছে।”
“সত্যিই কিছু আনেননি?”
“আরে পাগল আনলে কি দিতাম না বলো?”
স্নেহা মুখ ভার করে উল্টো দিক হয়ে শুয়ে পড়লো। মেরাব রুম থেকে বেরিয়ে গিয়ে আবার ফিরে এলো ফুল, চকলেট হাতে নিয়ে। স্নেহার সামনে সেগুলো নিয়ে যেতেই স্নেহা উঠে বসে বলল,
“এগুলো আমার জন্য?”
“হুম। খুশি হওনি?”
“খুব খুব খুশি হয়েছি।”
“চকলেটগুলো খেতে থাকো আমি ওয়াশরুম থেকে আসছি।”
রাতের খাবার খেতে বসেছে ফাহমিদা খান, মেরাব, সাদাফ, আর স্নেহা। মারুফুল খান এখন কিছু খাবেন না। আসিফদের বাড়ি থেকে হালকা কিছু খাবার খেয়ে এসেছেন বলে।
স্নেহা খাবার খেতে খেতে এলাচ চিবিয়ে ফেলে। নাক-মুখ খিচে বন্ধ করে, মুখে হাত দিয়ে উঠে বেসিনে চলে যায়। এই এলাচের গন্ধ ভীষণ বাজে লাগে স্নেহার কাছে। কয়েকবার কুলকুচি করে আবার ফিরে আসে। ফাহমিদা খান মুচকি মুচকি হেসে বললেন,
“কি ব্যাপার, খুশির খবর আছে নাকি?”
স্নেহা বুঝতে না পেরেই মাথা নাড়িয়ে বলে উঠলো,
“হুম।”
এই শুনেই মেরাবের খাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো। স্নেহার দিকে তাকিয়ে বিষম খেয়ে উঠলো। মনে মনে বলল,,, আমি তো ওকে ছুঁয়েও দেখিনি। তাহলে সুখবর কোথায় থেকে আসবে।
চলবে….
পরবর্তী কালকে রাত আট টায় দিবো। ইনশাআল্লাহ। যারা যারা পড়বে অবশ্যই রিএক্ট দিবে।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]
Share On:
TAGS: কি আবেশে, ফাতেমা তুজ নৌশি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৪৪
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৪৮
-
কি আবেশে পর্ব ৯
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৩১
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৫০
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৩
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২৪
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৬২
-
কি আবেশে পর্ব ৩
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২৬