Golpo romantic golpo প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা

প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৭


প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||৭||

ফারজানারহমানসেতু

🚫 কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ 🚫

স্যার মিষ্টির চেয়ে লবন ভালো! কথাটা শুনতেই মিরান বড় বড় চোখ করে তাকাল এমপ্লয়ির দিকে। সে বোঝায় কি এরা বোঝে কি?

“ এই আমি বলেছি, তোমাদের স্যার কাজে স্টিট,না তাকে লবন, চিনি বলেছি। না তাকে রাগী বলেছি। “

একজন বলে উঠল, “ স্যার আপনি একটু আগে বললেন, তোমাদের স্যার মিষ্টি হলে তো আর তার নামে নুনের গুনগান করতাম না।”

“তার আগে তুমি কি বলেছো, হ্যাঁ!”

লোকটা আমতা আমতা করে বলল,“ আমি কি বললাম? “

মিরান চট করে বলল, “ তুমি যে আমাকে বললে,তোমার স্যার রাগী কি না? “

“ স্যার আপনি বললেন তাইতো আমি জিজ্ঞাসা করলাম। “

কথার মাঝেই তাজারুল নেওয়াজ আর মোস্তফা নেওয়াজ অফিসে ঢুকলেন।তাদেরকে সালাম দিয়ে যে যার কাজে চলে গেলেন। মিরানকে উদ্দেশ্য করে তাজারুল নেওয়াজ বললেন,

“ তোমার ভাই কি আদেও আসবে নাকি তুমি আমাদেরকে বোকা বানাচ্ছো?”

“বড় বাবা ভাইয়া এক্ষুনি চলে আসবে!”

“ সেই সকাল গড়িয়ে বিকেল হলো, তাও তোমাদের এক্ষুনি শেষ হচ্ছে না। “

মোস্তফা নেওয়াজ বললেন, “ ভাই তুমি এই গাধার কথা বিশ্বাস না করে, নিজেই ফোন করতে পারো।”

তাজারুল নেওয়াজ বললেন, “ সে আমার ফোন ধরলে তো! ফোন সুইচস্টপ বলছে। “

মিরান চট করে বলল,“ বাবা তুমি আমাকে গাধা বলতে পারলে? “

“ পারলাম! আর কেন বলতে পারবো না? আমি তো আর সত্য কথা বলতে ভয় পাইনা। “

তাজারুল নেওয়াজকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ বড় বাবা তুমি আমার কথা বিশ্বাস করো না? “

“ সারাদিন ভন্ডামী করলে কি করে বিশ্বাস করবো? “

বলেই তিনি তার কেবিনের দিকে গেলেন। এই বাবা ছেলে সারাদিন এমন করতেই থাকবে! বাড়িতে অফিসে ঠিক নেই কেউ একটু সুযোগ পেলে কাউকেই ছাড়তে রাজি নয়!যদিও বাড়ি বা অফিস জীবন্ত এদের জন্যই। তাজারুল নেওয়াজ ভেবেছিলেন আজকে হয়তো তার অপেক্ষায় ইতি ঘঠবে! কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, যেই ছেলে নয়বছরের জন্য বিদেশ যেতে চায়নি। সে ওখানে গিয়ে আবার যখন ইচ্ছা করে আরও একবছর সেখানে থেকছে! তাকে, হঠাৎ এভাবে আশা করা ঠিক না। ভাগ্গিস তার স্ত্রীকে জানায়নি। জানানোর পরে না আসলে, নিশ্চিত বলতো, “ তুমি নিশ্চয় ওক আসতে নিষেধ করেছে। বলেছো আরও সময় থেকে যেতে ওখানে! “ সাথে বাড়ির সকলে ফ্রি! কি মুসিবত! সবাই এখন কিছু হলেই তাকে দোষ দেয়।

মিরান বড় বাবাকে চলে যেতে দেখে বলল, “ বাবা তুমি ও আমাকে বিশ্বাস করো না? “

“ আগে করতাম! এখন করিনা। যেই ছেলে বুড়ো হয়েও ভন্ডামী ছাড়তে পারে না। তার কথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ আমি খুজে পাইনা! তাই বিশ্বাস ও করি না।”

“ বাবা বনুও কিন্তু ভন্ডামী করে! শুধু আমাকে কেন বলো? আর বনু কিছু বললে এক কথায় বিশ্বাস ও করো! কেন? কেন এই বৈষম্য?“

“ সে ছোট মেয়ে, সে ভন্ডামী করতেই পারে।”

মিরান নাটকীয় ভাবে বলল,
“ হায় আল্লাহ মানবতা আজ কোথায়! কে যেন বলেছিল, মেয়েদের নাকি ছেলেদের মতো সমান অধিকার দেওয়া হয়না ! আবার কে যেন বলেছিল, ছেলেদের অধিকার মেয়েদের থেকে বেশি, আজ আমি বলছি মেয়েদের সবচেয়ে বেশি অধিকার দেওয়া হয়। মেয়েরা ভন্ডামী করলে, ছোট মানুষ! আর আমরা ছেলেরা ভন্ডামী করলে বুড়ো মানুষের ভ্রিমরতী!”

“ তুমি এখনো ছোট না মিরান! বয়স হয়েছে, এখন নিজের কাজে মনোযোগ দাও। আর কতদিন কাজবাজ না করে ঘুরবে? “

মিরান সবকথা এড়িয়ে বলল,
“ হুমম! তাও ঠিক বয়স বেড়েছে তোমার আমি কি করে এখনো ছোট থাকবো? বুড়ো তো হবোই!”

মোস্তফা নেওয়াজ আহম্বক বনে গেলো। এই ছেলে পাগল হলো নাকি? সে বললো ছেলে বুড়ো হওয়ার কথা আর তার ছেলে বলে গেল তার বয়স বাড়ার কথা। ভাবতেই চট করে মস্তিষ্কে লাগল,
“ মানে সে বুড়ো হয়েছে! তার বয়স বেড়েছে জন্যই তার ছেলেরও বয়স বাড়ছে।মানে ঘুরে ফিরে জায়গার বাঁশ জায়গাতে এসেছে! সে কেন ভুল করে বারবার, বাঁশ খাওয়াতে গিয়ে নিজে খেয়ে বসে থাকে। মোস্তফা নেওয়াজ বললেন,

“ এই তুই আমাকে ইনডাইরেক্টলি বুড়ো বললি?”

“ না, তোমাকে কেন বলবো? “

“ তো কাকে বললি? “

“ আমার বাবা থাকতে তোমাকে বুড়ো বলতে যাবো কোন দুঃখে? আমার বাবা আছে একটা!মি. মোস্তফা নেওয়াজ।আমি আমার বাবাকে ডাইরেক্টলি বুড়ো বলেছি। আপনি শুধু শুধু চেতে যাচ্ছেন কেন?“

বলেই মিরান অফিস থেকে বাইরে হাটা ধরল। এই জীবনে একটুও শান্তি নেই! একে তো তার কথা কেউ এখন সিরিয়াসলি নেয় না। সবসময় ভন্ডামী করে সবাইকে বোকা বানাযনোর জন্য ! আজ সত্য কথা বললো তাও বিশ্বাস করছে না। ছাহ্! তারপর আবার বিশ্বাস করবেই কিভাবে?
যে বলল, আসবে সেও ঠিক সময়ে আসলো না। আজ সে সময়মতো আসলে তাও তো সবাইকে বোঝাতে পারতো, সে সবসময় ভন্ডামী করে না। উল্টো ফিরে হাটতে গিয়ে সে কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেল। তাকানোর পরে দেখল সামনে কিছু নাই। হচ্ছেটা কি? তাইলে কি কোনো পেত্নীর সঙ্গে ধাক্কা খেল নাকি? নিচে তাকাতেই দেখল একটা মেয়ে বসে কি কাগজপত্র গুছাচ্ছে। মিরান মেয়েটার উদ্দেশ্য বলল,
“ এই যে মিস না মিসেস ধাক্কাধাক্কি। দেখে চলতে পারেন না? “

মেয়েটা আশ্চর্যবনে গেল। এই ছেলে পাগল না কি? সেই তো উল্টো এসে ধাক্কা দিল। এখন আবার বলছে মিস না মিসেস ধাক্কাধাক্কি। অপমানটুকু গিলে বলল,
“ আমার নাম অনন্যা শেখ। “
“ তোমার নাম জেনে আমি কি করবো? “
“ ধাক্কাধাক্কি বলছেন সেইজন্য বললাম। “
“ তো ধাক্কাধাক্কি করবা আর তা বললেই দোষ।”
“ বাড়িতে জানিয়ে দিন, আপনার মাথার রগ কেটে গেছে। রাস্তাঘাটে উল্টো পাল্টা বকছেন।

বলেই মেয়েটা চলে গেলো।

★★

প্রায় সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামার প্রহর হচ্ছে। চারিদিকে থাকা ব্যাস্ত শহর আগের থেকে ব্যাস্ততা কমিয়েছে। নয় বছর পর যার আসার কথা ছিলো,কিন্তু আরও একবছর বেশি থেকেছে সে। সে বাড়ির বাইরে দাড়িয়ে আছে। হাজার অনুভূতি নিয়ে ব্যাস্ত সে, আস্তে ধীরে বাড়ির চৌকাঠে পা রাখল, সেই তূর্জান নেওয়াজ। যে তার ছোট্ট প্রাণ এখানে রেখে গেছিলো। আজ নিশ্চই সে পরিপূর্ণ কিশোরী। ভাবনার মাঝেই কেউ দৌড়ে সামনে আসলো ; তুবা, সেই ছোট্ট বোনও আজ কিশোরী। সামনে এসেই কান্না করে দিলো। তূর্জান আজ কান্না থামালো না। তুবা কান্না করতে করতেই সবাইকে ডাকলো। কিছুমূহর্তে ড্রয়িং রুম ভর্তি হলো বাড়ির সদস্যে। তানিয়া নেওয়াজ যেন বিশ্বাস করতে পারছে না। তার অপেক্ষার প্রহর শেষ। হঠাৎ প্রাণপ্রিয় ছেলেকে দেখে আবেগ ঠেকাতে পারলেন না। নোনাজল গড়িয়ে গেল চোখের কর্ণিশ বেয়ে। রেহেনা নেওয়াজ আর রাহেলা নেওয়াজ ও যেন বিস্ময়ে হা। সত্যিই তূর্জান দেশে। তানিয়া নেওয়াজ কে কান্না করতে দেখে তূর্জান এগিয়ে গেল। বলল,

“ তুমি চাও আমি আবার চলে যাই? “

হঠাৎ তানিয়া নেওয়াজের মনে ধক করে উঠল। সে ছেলেকে কাছে পাওয়ার জন্য কত প্রার্থনা করেছে। আর ছেলে বলছে চলে যাবে। কান্না করার কারণে কিছু বলতে পারল না। তূর্জান বলল, “ কান্না থামাও! আমি চলে এসেছি, আর যাবো না। “

“ কেন বাবা ছেলে মিলে মাকে এত কষ্ট দিচ্ছিস। তুই যেতে চাইলেও আমি আর যেতে দেব না। আমি আর অপেক্ষার প্রহর গুনতে চাই না। “

“ তোমাকে বললাম তো, আর যাবো না। কান্না থামাও! “

বলেই ছোট আম্মুর দিকে তাকিয়ে বলল,
“ ছোট আম্মু, আম্মুকে থামাও! নইতো আমি কিন্তু এখনে থাকবো না। আবার চলে যাবো। “

সবাই কথায় ব্যাস্ত থাকায় এতক্ষনে পিছনে কেউ খেয়াল না করলেও তুবা খেয়াল করল, দুইটা মেয়ে আর একটা ছেলে দাড়িয়ে। তুবা গ্ৰানির কাছে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
“ গ্ৰানি এরা বডিগার্ড না কি? “

গ্ৰানি তুবার পিঠে থাপ্পড় দিয়ে আস্তে বলল, “ থাকিস তো দুইটা ভন্ডর সাথে, তুই ও ভন্ডামী শুরু করলি। “
বলেই তূর্জানের উদ্দেশ্যে বলল, “ দাদাভাই কি আমাকে ভুলে গেছে!”

“ না, তোমাকে ভুললে চলবে? “

“ মনে তো হচ্ছে ভুলে গেছে, আসার পরে কথাই বলল না। বুঝি বুঝি বুড়ো বয়সে কেউই দাম দেয় না। “
“ তোমাকে ভুলার সাধ্য আছে নাকি?

কথপোকথন করে গ্ৰানি জিজ্ঞেস করল পিছনের তিনজন কে? তূর্জান স্বাভাবিক ন্যায় পরিচয় করিয়ে দিল।দুইজনকে দেখিয়ে বলল, “আলিশা এন্ড অনিল মাই ফ্রেন্ড।”

আর আরেকটা মেয়ে দেখিয়ে বলল,” এন্ড ও আ্যমেলা, অনিলের কাজিন। সবাই বিডিতে ঘুরতে এসেছে। “
আলিশা আর অনিল ভালোভাবে বাংলা না বলতে পারলেও যেটুকু বাংলা বলল যথেষ্ট পরিষ্কার ভাষায়। তূর্জানের পরিবারের সবার সাথে পরিচিত হলো। কিন্তু বিপত্তি বাধল আ্যমেলাকে নিয়ে বাংলার কিছুই সে ওতটা ভালোভাবে বলতে পারল না। খুব সংকীর্ণ ভাবে বলল,
“ আমি আ্যমেলা।

এটুকু বাদে আর কিছুই বলতে পারল না।আমতা আমতা করতে লাগল।আ্যমেলার কথা শুনে সবাই হেসে ফেলল। তূবা বলল, “ আপু আপনি ইংলিশে কথা বলুন। “
তুবার সাথে অনিলও বলল, “ হ্যাঁ তুই বরং ইংলিশে কথা বল। এসব ভাষা তোর জন্য না। তোর কথা শুনলে বাঙ্গালী জাতি বলবে সেদিন তারা র’ক্ত ঝড়িয়ে ভাষা আন্দোলন করছিল তোর ভাষা শোনার জন্য না।নিশ্চই ইংরেজরা তোকে আবার বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বাংলা ভাষাকে হেনস্থা করতে!“

এত আনন্দ, এত কৌতূহল, কিন্তু এর মাঝেও কারোর চোখদুটো কিছু একটা খুজতে ব্যাস্ত। হুমম তূর্জানের চোখ রোজাকে ভীষণভাবে খুজছে। রোজা কি এখনো শোনেনি তূর্জান দেশে ফিরেছে। নাকি অভিমানের ঝুড়ি নিয়ে বসে আছে রুমে। মহারানীর তো আবার অভিমান একটু বেশিই। তূর্জান আবার ও একবার পুরো বাড়ি স্কান করে নিল। নাহ নেই! যাকে খুজছে সে আশেপাশে নেই। তবে কি সে… ভাবনার মাঝেই কেউ একজন দৌতলা থেকে বলল,

“গ্ৰানি কে গো এসেছে, আমাদের বাড়িতে?কোন ইংরেজ আমাদের ভাষাকে এমন আহত নি’হত করছে।”

ইনশাআল্লাহ চলবে…..

একটা কথা ক্লিয়ার করি। আমি ফারজানা রহমান সেতু। আর পেইজের নামও
” Farzana Rahman Setu” আপনারা বিভিন্ন পেইজ থেকে গল্প পড়ছেন। আর আমাকেই বলছেন গল্প মিলছে না।আমি আসল লেখিকা নই। হেন ত্যান।
সো বলবো, আমার পেইজের গল্প পড়ে দেখবেন গল্পের ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কিনা। তারপর আমার বিরুদ্ধে কথা বলবেন , আমি কিছু বলবো না।কিন্তু অন্য পেইজ থেকে গল্প পড়ে আমাকে হেনস্থা করবেন না। আপনাদের মনে কষ্ট লাগলে সরি। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি আর এইসব নিতে পারছি না।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply