কি_আবেশে (২১)
জেরিন_আক্তার
মেরাব স্নেহার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে আদুরে গলায় বলল,
“কিস দেই একটা?”
স্নেহা কিছু বলবে ঠিক তখন মেরাবের ফোন বেজে উঠলো। আসিফ কল দিয়েছে। মেরাব কল রিসিভ করে বলল,
“ভাই, ফ্রি আছিস?”
“হুম, মাত্রই তোর কথাই ভাবছিলাম আর এর মধ্যে তু্ই দেখি মেসেজ দিলি তাই কলই দিলাম। তোরা যাবি একটু পরে। নাকি বিকেলে বের হবি?”
“না, এখনই বের হবো।”
“ঠিক আছে। এই ভাই শোন, একটা ইম্পরট্যান্ট কথা।”
“কি বল!”
“মেরাব রিমঝিমকে চিনতি না, আমাদের জুনিয়র ছিলো তোকে পছন্দ করতো। মনে আছে তোর?”
“হ্যা, মনে আছে বল!”
এই কথা স্নেহা শুনতেই রেগে যায়। মেরাব ওকে খেয়াল না করে নিজের মতো কথাই বলছে। কথা বলতে বলতে স্নেহার রাগী মুখশ্রী দেখে চট করে স্নেহার ঠোঁটের দিকে এগিয়ে এলো। স্নেহার ঠোঁটে আলতো করে চুমু খেলো। স্নেহা চোখ পিটপিট করে তাকালো। ওপাশে থাকা আসিফ বেচারা হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে। মেরাব উঠে দাড়িয়ে স্নেহাকে বলল,
“যদি আমার সাথে যেতে চাও তাহলে রেডি হও। না যেতে চাইলেও জোর করবো না। তোমার ইচ্ছা।”
স্নেহাকে বলে আসিফকে বলল,
“হ্যা, বল!”
আসিফ রেগে গিয়ে বলল,
“এই ফোন দিয়ে বউয়ের সাথে কথা বলিস কেনো? পরে বলতে পারিস না। এমনেই সারাদিন বউয়ের সাথেই থাকিস তাও আবার বন্ধুকে কল দিয়ে বউয়ের সাথেই কথা বলতে হয়।”
“হপ,শালা কি বলিস! ওরকম কিছুই না। রিমঝিমকে নিয়ে কি বলতে চাইলি বল!”
“অনেক দিন পরে ওর সাথে দেখা হয়েছিলো। তোর কথা জিজ্ঞাসা করলো। তাই আর কি তোকে জানালাম।”
মেরাব সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে বলল,
“ভালো মনে করেই জানালি। আর স্নেহা রেগে ফুলে আছে।”
“তাহলে তো আরও বেশি করে জানাতে হবে।”
“কি জানাবি?”
আসিফ হেসে হেসে বলল,
“জানাবো যে তোর ১০-১২ টা রিলেশন ছিলো, ঘুরেছিস একসাথে।”
মেরাব হেসে বলল,
“আমার বউ চলে যাবে তোর মিথ্যে বদনামে। ওসব ছাড়, একটু পরে আসছি।”
“হুম। আয়!”
মেরাব কল কেটে দিয়ে রুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে গলা উঁচিয়ে স্নেহাকে ডাক দিয়ে বলল,
“তুমি কি যাবে আমার সাথে?”
স্নেহা বিড়বিড় করে বকতে বকতে সিঁড়ি দিয়ে উঠে মেরাবের সামনে দাড়িয়ে বলল,
“যাবো না আমি। রিমঝিমকে নিয়ে যান!”
মেরাব কাঠ গলায় বলল,
“যাবে না?”
“না।”
“তাহলে সত্যিই কিন্তু রিমঝিমকে নিয়ে যাবো।”
“কি বললেন? রিমঝিমকে নিবেন মানে? বউ থাকতে….”
স্নেহাকে কিছু বলতে না দিয়ে মেরাব ওকে কোলে উঠিয়ে নিয়ে বলল,
“একটা আছাড় দিবো বেশি কথা বললে।”
স্নেহা ঘাবড়ে গিয়ে বলল,
“সত্যিই আছাড় দিবেন?”
“হুম।”
“না, নামান!”
“নামাবো না। এরপরে নামিয়ে দেই আর তুমি রিমঝিমকে নিয়ে ঠেস মেরে মেরে কথা বলবে। এর থেকে ঠাস করে একটা আছাড় দেই।”
“না, আর বলবো না, নামিয়ে দিন।”
মেরাব নামিয়ে দিয়ে বলল,
“শেষবার বলছি তুমি কি যাবে আমার সাথে?”
“হুম।”
“তাহলে যাও রেডি হয়ে এসো!”
স্নেহা কাভার্ড খুলে বোরখা, হিজাব ওড়না বের করে নিলো। মেরাব শার্ট-প্যান্ট। দুজনেই রেডি হয়ে বের হয়ে গেলো।
মেরাব স্নেহা আর আসিফ তিনজনে একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে এলো। আয়েশা বেগমের কথা অনুযায়ী এখানেই নাকি আহনাফ মির্জাকে এখানেই এডমিট করা হয়েছে। তিনজনে ভিতরে ঢুকতেই সামনে পড়ে সুনেরাহকে। সুনেরাহ লিফটের দিকে যাচ্ছে। মেরাব চট করে সুনেরাহকে ডেকে উঠলো। সুনেরাহ পেছনে ফিরে তাকিয়ে মেরাব, স্নেহা আর আসিফকে দেখে ওদের কাছে এসে বলল,
“আপনারা এসেছেন?”
মেরাব জবাবে বলল,
“হুম, তোমার বাবা কোথায় আছে?”
“ভাইয়া আসুন আমার সাথে।”
ওরা চারজনেই অন্য লিফটে উঠলো। সুনেরাহ স্নেহার দিকে তাকিয়ে একটু ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলো,
“আপু ভালো আছো?”
স্নেহা হেসে বলল,
“হুম, ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?”
“ভালো।”
স্নেহা সুনেরাহকে ধরে বলল,
“তুমি কি আমার সাথে কথা বলতে ভয় পাচ্ছো? কোনো ভয়ের কিছু নেই। আমি তো তোমার বোনই হই।”
সুনেরাহ সংকোচ কাটিয়ে উঠে বলল,
“প্রথমে একটু ভয় লাগলো। ভাবলাম কথা বলবে না হয়তো। কিন্তু তুমি না অনেক ভালো।”
কথা বলতে বলতে ওরা লিফট থেকে বেরিয়ে কেবিনের দিকে গেলো। আয়েশা বেগম সেখানেই ছিলেন। তিনি মেরাবকে দেখে বললেন,
“তুমি এসেছো?”
“হুম।”
মেরাব স্নেহাকে বাহিরে থাকতে বলে আসিফকে সাথে নিয়ে কেবিনের ভিতরে ঢুকলো। নিস্তব্ধ রুমটা মুহূর্তেই ভারী হয়ে উঠলো। মেরাব আহনাফ মির্জাকে দেখে এগিয়ে গিয়ে দাড়ালো। আহনাফ মির্জা বেডে হেলান দিয়ে বসে ছিলেন। কথা বলতে পারেন না। শুধু মেরাবের দিকে তাকিয়ে আছে। মেরাব ধীরে গলায় বলল,
“চিনতে পেরেছেন আমায়?”
আহনাফ মির্জা আয়েশা বেগমের দিকে তাকালেন। মেরাব নিজের ফোন বের করে নিজের কয়েকবছর আগের একটা ছবি বের করে উনাকে দেখিয়ে বলল,
“আমি মেরাব। আমাকে চিনতে পেরেছেন?”
আহনাফ মির্জা অজানা ভয়ে মুখটা কালো করে মেরাবের দিকে। মেরাব কিছু বলবে ঠিক তখন আসিফ মেরাবের কানে ফিসফিস করে বলল,
“ভাই, আজই কিছু বলিস না। উনি অনেকটাই সিক।”
মেরাব আসিফকে “হুম” বলে আহনাফ মির্জাকে বলল,
“দেশে আসার পরে আপনার কথা মনে পড়ছিলো। তাই ভাবলাম দেখা করে আসি।”
আয়েশা বেগম একটা চেয়ার এগিয়ে দিয়ে মেরাবকে বসে কথা বলতে বললেন। এতে মেরাব বলল,,
“না, বসবো না। এখন আবার একটা জায়গায় যাবো।”
মেরাব আহনাফ মির্জার দিকে তাকিয়ে বলল,
“তাহলে আজ আসি। ভালো থাকবেন, আমি আবার আসবো। তখন বসে কথা বলবো।”
মেরাবের ঠান্ডা ঠান্ডা কথা আহনাফ মির্জার কাছে বেশ চিন্তা ধরিয়ে দিলো। মেরাব এতো বছর পরে ফিরে এসেছে। আবার তাদের খুঁজে হসপিটাল পর্যন্ত এসেছে। এমনি এমনি তো আর মেরাব আসেনি। তবে কি তার মায়ের ব্যাপারটা নিয়েই কথা বলতে এসেছে।
মেরাব আর আসিফ ততক্ষনে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলো। স্নেহা তখনও সুনেরাহর সাথে কথা বলছিলো। ওদের কথা বলা দেখে আসিফ মেরাবকে বলল,
“ভাই এতদিনে তোর কোনো শালী বের হলো। মনে হচ্ছে এইট-নাইনে পড়ে। ইশ, তোর বউয়ের সমবয়সী কেউ থাকলে আমারও রাস্তাটা ক্লিয়ার হতো!”
মেরাব বাকা হেসে বলল,
“তাইতো নেই!”
বলেই চলে গেলো স্নেহার দিকে। আসিফ পকেটে হাত গুজে বিড়বিড় করে বলল,
“তোর বোন আছেই তো। তাকে তো চোখে দেখবি না। কিন্তু সে তো আমার বিরোধী পক্ষ।”
মেরাব আসিফের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ওখানেই থাকবি নাকি আসবি?”
“হুম। চল!”
মেরাব স্নেহা আর সুনেরাহকে একটা লিফটে উঠিয়ে দিয়ে আরেকটা লিফটে ওরা দুজন উঠলো। মেরাব ওয়ালেট বের করে টাকা বের করলো। হাজার বিশেক টাকা এনেছিল দিবে বলে। কিন্তু তখন মনে ছিলো না। লিফটে থেকে নেমে টাকাগুলো সুনেরাহর কাছে দিয়ে যাবে।
দুপুর দুইটা,,,
মেরাব আর স্নেহাকে নিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করে বাড়ির দিকে আসছে। হসপিটালে থেকে বেরিয়ে আসিফ চলে যায় অন্য জায়গায়। আর ওরা দুজনে শপিং করতে চলে যায়। সেখানে থেকে আসতে আসতেই দুপুর হয়ে গিয়েছে।
স্নেহা আফসোসের ন্যায় বলল,
“দেখেছেন সুনেরাহর বাবার কি অবস্থা। উনি হুট্ করে এমন প্যারালাইস হয়ে গেলেন কি করে?”
মেরাব সামনের দিকে দৃষ্টি স্থির করে বলল,
“আমার বাবা করেছে এরকম।”
স্নেহা কপাল কুঁচকে বলল,
“পাগল হয়ে গেলেন নাকি? বড় মামা কি করে উনাকে এমন করবেন? বড় মামা জানে নাকি যে উনিই মামিমার মৃত্যুর সময় পাশে থেকেও কিছু করেননি। আর আপনি কি বড় মামাকে বলেছেন?”
“না।”
“তাহলে বলছেন কেনো যে বড় মামা উনার এই অবস্থা করেছে?”
“বাবা এলেই জানতে পারবে। এখন এগুলো কথা রাখো। আমার ভালো লাগছে না।”
স্নেহা আর প্রশ্ন করলো না। এমনেই শপিংয়ে অনেক ঘোরাঘুরি করে টায়ার্ড হয়ে আছে।
রাত নয়টা,,
মেরাব স্নেহা দুজনেই রাতের খাবার খেয়ে রুমে এসেছে। মেরাব গিয়ে বিছানায় হেলান দিয়ে বসলো। আর স্নেহা গিয়ে রিডিং টেবিলে পড়তে বসলো।
এর মিনিট দশেক পরে আসিফ কল দেয় মেরাবকে। মেরাব কল রিসিভ করে বলল,
“কিরে সারাদিন কই ছিলি, কল দিলি না?”
“বাবার সাথে কাজে গিয়েছিলাম।”
“ওহ। কি করছিস?”
“শুয়ে আছি। তু্ই কি করছিস?”
“বসে আছি।”
আসিফ চট করে বলল,
“মেরাব তোর বোনের নাম্বারটা দে তো!”
মেরাব কপাল কুঁচকে বলল,
“মৌয়ের নাম্বার দিয়ে কি করবি?”
আসিফ জোর গলায় বলল,
“তোর বোনের সাথে প্রেম করার জন্য নাম্বার চাইছি না। ওই সেদিন ঝগড়া করলাম যে এখন মনে হচ্ছে ঝগড়া করা উচিত হয়নি। তাই একটু কথা বলতাম।”
মেরাব বলল,
“আরে সমস্যা নেই। এক মিনিট আমি দিচ্ছি।”
“ঠিক আছে। দিয়ে রাখ! আমি পরে কল দিয়ে কথা বলবো।”
“হুম, দিচ্ছি।”
মেরাব কল কেটে দিয়ে মৌয়ের নাম্বারটা দিয়ে দিলো। আসিফ নাম্বার দেখে মুচকি হেসে বলল,
“শালা, এতদিনে তোর বোনকে পটিয়ে ফেলা যেতো। বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে। তোকে তো শালা বানিয়ে ছাড়বোই।”
আসিফ ফোনটা রেখে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো রাতের খাবার খেতে। এসেই মৌকে কল দিবে। তার মনে হচ্ছে বড্ড দেরি করে ফেলেছে। এই বিষয়টা আগে কেনো মাথায় এলো না।
স্নেহা পড়া রেখে এগিয়ে এসে বলল,
“আসিফ মৌয়ের নাম্বার দিয়ে কি করবে?”
“কথা বলবে।”
“ওহ।”
মেরাব ভ্রু উঠিয়ে বলল,
“তো তুমি পড়া রেখে উঠলে কেনো? পড়তে বসো!”
চলবে….
পরবর্তী পর্ব কালকে ইফতারের পরেই দিবো ইনশাআল্লাহ। যারা যারা পড়বে অবশ্যই রিএক্ট দিবে। নেক্সট পার্ট একটু স্পেশাল হবে।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। রেসপন্স করবেন!!!!!!
[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]
Share On:
TAGS: কি আবেশে, জেরিন আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কি আবেশে পর্ব ১৫
-
কি আবেশে পর্ব ৭
-
কি আবেশে পর্ব ১
-
চোরাবালির পিছুটানে ৩
-
কি আবেশে পর্ব ১১
-
কি আবেশে পর্ব ৯
-
চোরাবালির পিছুটানে পর্ব ১
-
কি আবেশে পর্ব ১২
-
চোরাবালির পিছুটানে পর্ব ২
-
কি আবেশে পর্ব ১৯