Golpo romantic golpo প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান

প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান পর্ব ৮


প্রেসিডেন্টওয়াহেজইবনান

পর্ব : ৮

সানজিদাআক্তারমুন্নী

কেটে যায় পুরো ন’টি দিন সেদিন রাতটা কোনোভাবে পার হওয়ার পরি ওয়াহেজ সকাল সকাল সফরে বেরিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় একান্তে ভ্রমণ, সব বিষয়ে যথাযথ খোঁজখবর নেওয়া আর সব সংস্করণ সঠিক হিসেবে মাপার কাজ শেষে আজ নয় দিন পর ওয়াহেজ বাড়ি ফেরে।ঘড়িতে এখন রাত দশটা বাজে। ওয়াহেজ বাড়ি ফিরেছে সেই রাত আটটায়, অথচ আনভির দেখা সে এখনো পাচ্ছে না। এই নটা দিন আনভির খোঁজখবর নেওয়াটাও তার জন্য বেশ মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। নিজের কাছে আনভির কোনো ফোন নাম্বার নেই। কাজের ফাঁকে যখনই একটু অবসর পায়, আনভির বিডি কনটেক্সট-এর আইডিতে মেসেজ দিয়েছে অনেক সে। অথচ আনভি সেসব দেখেও না হয়তো মেসেজ রিকোয়েস্ট চেকই করে না মেয়েটা। অন্যে কারো কাছে আনভির নাম্বার চাইতে গিয়েও ওয়াহেজ থমকে যায়। নিজের স্ত্রীর নাম্বার নিজের কাছে নেই বিষয়টা অন্যদের কাছে বড্ড হাস্যকর হয়ে যাবে না! তাই আর চাওয়া হয়ে ওঠে না।
ওয়াহেজের এখন প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে। মেয়েটা ঘরে আসবে কখন? আসছে না কেন? সেই আটটায় সে বাড়ি ফিরেছে, অথচ একটাবারের জন্য মেয়েটা ঘরে আসে না। এসে তো অন্তত জিজ্ঞেস করতে পারে, “কেমন আছেন? কী করছেন?” না, এসব করতে হবে না, এসব হয়তো একটু অতিরিক্তই হয়ে যায়। কিন্তু একটাবার তো চোখের দেখাও দেখে যেতে পারে!
অন্যদিকে, রান্না করতে করতে আনভির অবস্থা একেবারে কাহিল। ‘ওয়াহেজ আসবে’ এই অজুহাত দেখিয়ে তার চাচি-শাশুড়ি রাতের রান্নার সমস্ত ভার তার ওপরই ছেড়ে দেন। একা হাতে রান্না করে, সবাইকে খাবার পরিবেশন করে, নিজে খেয়ে সব গুছিয়ে তবেই সে এখন ক্লান্ত পায়ে রুমের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ওয়াহেজের সাথে খাবার টেবিলে তার একবারই দেখা হয়েছে। শুধু এক পলক চোখাচোখি হয়েছে দুজনের, আর কিছুই না। ওয়াহেজ এলে আসুক, না এলে নেই তাতে আনভির কী! এই নয়টা দিনের মধ্যে একটা মিনিটের জন্যও তো ওয়াহেজ তার কোনো খবর নেয় না। অবশ্য নেওয়ার কথাও না। কারণ সে তো তাকে স্ত্রী হিসেবেই মানে না, তাহলে কীসের টানে খবর নেবে? মনের ভেতর এমন অভিমানী ধারণা বুনতে বুনতেই আনভি ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে পা রাখতেই সে থমকে দাঁড়ায়। দেখে, ওয়াহেজ বেডে হেলান দিয়ে দুই হাত বুকে ভাঁজ করে শুয়ে আছে। তার তীক্ষ্ণ চোখদুটো আনভির পানেই স্থির। ওয়াহেজের এমন স্থির দৃষ্টি দেখে আনভি অস্বস্তিতে দ্রুত চোখ নামিয়ে নেয়। আনভিকে চোখ নামিয়ে নিতে দেখে ওয়াহেজ হঠাৎ ধড়ফড় করে উঠে দাঁড়ায়। হনহন করে এগিয়ে এসে সোজা আনভির সামনে দাঁড়ায় সে, তারপর অপ্রত্যাশিতভাবে সালাম দেয়, “আসসালামু আলাইকুম!”
আনভি ওয়াহেজের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে কিছুটা ইতস্তত বোধ নিয়ে ওয়াহেজের মুখের দিকে তাকিয়ে সালামের উত্তর দেয়, “ওয়ালাইকুম সালাম।”
ওয়াহেজ মেকি হেসে খোঁচা মেরে বলে, “স্বামী কোথাও থেকে আসলে তার সাথে দু’ঘণ্টা পর দেখা করতে হয়, তাই না? আদব-কায়দার কোনো কিছুর লেশ আছে তোমার?”
আনভি ওয়াহেজের এমন কথায় তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে বলে, “যে স্বামী স্ত্রীকে বিয়ের দুদিন পরই সফরে চলে যায়, তার আদবটা কোথায়? আর গেল তো গেল, গিয়ে একবার খবরও নিল না, তার কায়দাটা কোথায়?”
ওয়াহেজ আগে থেকেই জানত এমন প্রশ্নের সম্মুখীন সে হবে। তাই নিজের পকেট থেকে ফোন বের করে বিডি কনটেক্সটে যে মেসেজগুলো দিয়েছিল, সেগুলো আনভির চোখের সামনে ধরে বলে, “তোমার নাম্বার ছিল না আমার কাছে, আর কারো কাছে খুঁজিওনি। কারণ এটা হাস্যকর একটা বিষয় যে হাসবেন্ডের কাছে ওয়াইফের নাম্বার নেই! তাই বিডি কনটেক্সটে অনেক মেসেজ দিয়েছি, কিন্তু তুমি তো এসব সিনই করোনি।”
আনভি এসব দেখে চারদিকে একবার তাকায় আর মনে মনে ভাবে, “এই লোককে তো ঝাড়ার সুযোগ নেই, কাঠিতে কাঠিতে নিজেকে নির্দোষ প্রুফ করে।”
ওয়াহেজ ফোনটা পকেটে ঢোকাতে ঢোকাতে আনভিকে এবার বলে, “আমি তো আমার প্রবলেম বললাম, এবার তুমি তোমারটা ক্লিয়ার করো।”
আনভি এটা শুনে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ওয়াহেজের চোখের দিকে মলিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, “আপনি তো আমায় একটু হলেও মর্যাদা দিচ্ছেন বা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু আপনার পরিবার তো এখনো আমার সাথে আগের মতোই আচরণ করে। কেন এলাম না জানতে চান? সাতটা থেকে রান্নাঘরে রান্নায় ব্যস্ত, সবকিছু একহাতে করতে হয়েছে। কাজের লোক যে দুজন ছিলেন তারাও ছুটিতে। খাবার পরিবেশন করা, প্লেট-বাটি, এটা-ওটা ধোয়া সব, সব করতে হলো। এখন বলুন কীভাবে বের হই?”
এগুলো শুনে ওয়াহেজের কপালের একটা রগ ফুলে ওঠে। এগুলো তার মা-চাচি ইচ্ছে করে করিয়েছেন। সে বিয়ে করে বউ নিয়ে এসেছে, কোনো চাকরানি নয়। ওয়াহেজ সামনে এগিয়ে যেতে যেতে বলে, “তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো, আমি জিজ্ঞেস করে আসি যে বউ নিয়ে এসেছি না চাকরানি নিয়ে এসেছি, যে ওরা এমন বিহেভ করে! সবাই একসাথেও তো কাজগুলো করতে পারত।”
ওয়াহেজের রাগ দেখে আনভির বুক ধড়ফড় করতে শুরু করে। এই উন্মাদ রেগে গেলে কী থেকে কী করবে, হিসাব নেই। তার মধ্যে এখন এদের এসব নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা ভাববেন ওয়াহেজকে শিখিয়ে দিয়েছে আনভি। ওয়াহেজের সামনে গিয়ে পথ আটকে দাঁড়ায় আনভি আর বলে, “না, না, জিজ্ঞেস করতে হবে না।”
“জিজ্ঞেস করতে হবে না মানে! এগুলো আজ সমাধান না করলে কাল তারা তোমার সাথে আরও বেশি করবে।”
এটা বলে ওয়াহেজ আনভির পাশ কাটিয়ে যেতে নেয়। আনভি নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে ওয়াহেজের দুই বাহু চেপে ধরে মুখ তুলে ওয়াহেজের চোখে চোখ রেখে বলে, “এই মাঝরাতে এসব নিয়ে কথা বলতে হবে না, সকালে বলবেন বললে। আর মেয়েদের এভাবে একটু মানিয়ে নিতে হয়, এসব কিচ্ছু না, সমাজের রীতিই এটা।”
“সমাজের রীতি আমি পাল্টে দিচ্ছি। তুমি কি দেখোনি আমি কীভাবে বিশৃঙ্খল সমাজের এই দেশকে তিন বছরে কতটা শৃঙ্খলায় নিয়ে এসেছি? এগুলো তো অন্যায়, ঘরের বউ বলে তার সব কাজ করতে হবে, এটা তো জুলুম! আর এই জুলুম আমার নিজের ওপর হচ্ছে। তোমার ওপর হওয়া মানেই তো আমার ওপর হওয়া।”
আনভি ওয়াহেজের বাহু আরও শক্ত করে ধরে বলে, “এগুলো এখন বললে উনারা আমাকেই দোষারোপ করবেন। সবার মনমানসিকতা এক নয় ওয়াহেজ। হ্যাঁ, জিজ্ঞেস করবেন, অবশ্যই করবেন, তবে সকালে, এখন না। এখন সবাই ঘুমিয়ে গিয়েছেন হয়তো।”
আনভির কথায় ওয়াহেজ কিছুটা শান্ত হয়। ওয়াহেজ চোখ নামিয়ে আনভির চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। দুজনের হৃৎস্পন্দনেই কাঁপন তৈরি হয়ে গিয়েছে, একে অপরের এতটা কাছাকাছি দুজনেরই কাম্য ছিল না। ওয়াহেজ ফুঁ দিয়ে আনভির চোখে-মুখে আছড়ে পড়া ছোট ছোট চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে বলে, “তুমি অনেক সুন্দর সামাইরা, তোমায় দেখলে মায়া জন্ম নেয় অন্তরে।”
এমন কথা শুনে আনভি শক খেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ছিঃ ছিঃ, কী ভীষণ লজ্জা! এই লোক তার প্রশংসা করছে! আনভি ওয়াহেজের থেকে সরে যেতে যেতে বলে, “আ… আপনি যান, গিয়ে ঘুমান। যা হবে সকালে দেখা যাবে, আমি ফ্রেশ হয়ে নিই।”
এটা বলে আনভি দ্রুত আলমারির দিকে এগিয়ে গিয়ে একটা গাঢ় সবুজ রঙের কুর্তি আর সাদা পায়জামা নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। গোসল দিতে হবে, শরীরে মসলার ঘ্রাণ লেগে গিয়েছে, গা ছিমছিম করছে। ভালোভাবে গোসল করে আনভি ধীরে ধীরে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। ওয়াশরুম থেকে বের হয়েই দেখে ওয়াহেজ ওয়াশরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, মনে হচ্ছে আনভিরই অপেক্ষা করছে। আনভি ওড়না আনেনি, মনে করেছিল ওয়াহেজ যেহেতু ঘুমিয়ে যাবে তাহলে ওড়না রুমে গিয়েই পরবে। আনভি চুল মোছার টাওয়ালটা বুকে টেনে ধরতে ধরতে ভ্রু কুঁচকে ওয়াহেজের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, “আপনি এখানে কেন? ঘুমাবেন না?”
ওয়াহেজ আনভির কথা না শুনে অপলক নয়নে আনভির দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে থাকে, তারপর হুট করে আনভির কোমর পেঁচিয়ে ধরে তাকে নিজের নিকট নিয়ে আসে। আনভি ছটফটিয়ে ওঠে, “এ… এই কী করছেন?”
ওয়াহেজ আনভির থেকে টাওয়ালটা নিতে নিতে আনভির কপালে কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে, “আমরা না হয় আজ থেকে প্রপারভাবে স্বামী-স্ত্রী হলাম৷ আমি দুঃখিত বাসর রাতে তোমাকে তোমার প্রাপ্য সম্মান না দেওয়ার জন্য। আমি দুঃখিত তোমার সাথে বাজে আচরণ করার জন্য। তুমি কি রাজি হবে আমার এই ফয়সালায়?”
আনভির গা বেয়ে বয়ে যাচ্ছে হিম শীতল এক অনুভূতি। সে কী বলবে বুঝতে পারছে না, লজ্জায় কান গরম হয়ে গিয়েছে। আনভি নিচু স্বরে শুধায়, “আজ থাক না, কাল না হয়…
ওয়াহেজ মুখ নামিয়ে এনে আনভির গালে একটা চুমু এঁকে দিতে দিতে বলে, “সওয়াবের কাজে গাফিলতির কী প্রয়োজন? আজ তুমি অনুমতি দিলে কয়েক বস্তা সওয়াব লুটে নিতে পারি, হায়াত-মউতের কথা তো বলা যায় না।”
আনভি ওয়াহেজের কাঁধে হাত রাখে শক্ত করে, আর জিজ্ঞেস করে, “নিন তো দেখি তাহলে!”
ওয়াহেজ অনুমতি পেয়ে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে আনভির দুই ঠোঁটে চুমু খায় প্রগাঢ়ভাবে। এভাবে বারকয়েক খেয়ে বলে, “এই যে নিলাম, বুঝলে?”
আনভি মৃদু হেসে ওয়াহেজের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, “আমি রাজি, তবে কিছু কথা জানার আছে, উত্তর দেবেন?”
“দেবো, প্রশ্ন করো।”
“সারাকে এখনো মনে রেখেছেন?”
কথাটা শুনে ওয়াহেজ হেসে শুধায়, “নাহ! তাকে আমি মনে করতাম হয়তো সে আমার স্ত্রী, কারণ আমাদের বিয়ের সবকিছু ফাইনাল ছিল। কিন্তু পরে সে চলে গেল। এখন তোমার মতো একজন প্রিয়তমাকে ঘরে রেখে অন্য একজনকে মনে রাখা কাপুরুষতা ছাড়া অন্যকিছু নয়।”
আনভির বুক থেকে একটা ভার নেমে যায় এই উত্তর শুনে। তাই আর কোনো প্রশ্ন না করে বলে, “আমি আর কোনো প্রশ্ন করলাম না, কারণ আমি জানি আপনি কেমন। নিশ্চয়ই আপনি কখনো আমায় ঠকাবেন না। আপনি একজন দায়িত্ববান পুরুষ, পৃথিবীর প্রতিটি মুত্তাকি নারীই হয়তো আপনার মতো মাহরাম চায়। জানেন, আমি যেমন আল্লাহর কাছে চেয়েছিলাম, আপনি ঠিক তেমনি। আমি আপনার মতোই কাউকে সবসময় চাইতাম যার ভেতর গায়রত আছে, যে সবকিছু বোঝে, যে বিচক্ষণ, যে আমায় বুঝবে। আপনি হলেন আমার সারাজীবনের তাহাজ্জুদের মোনাজাতের ফল।”
ওয়াহেজ আনভির কথায় বেশ সন্তুষ্ট হয়। সে আনভির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে, “আমিও তোমার মতোই কাউকে চেয়েছিলাম। বিয়ের দিন রাতেই বোঝা হয়ে গিয়েছিল আমার যে, আমি আমার মতো কাউকে পেয়েই গিয়েছি। তোমার ইজ্জত, তোমার ভালো থাকা, খারাপ থাকা তোমার সবকিছুর হেফাজতের উসিল্লাহ আজ থেকে আমি।”
আনভি মাথা নাড়িয়ে বলে, “আমি আপনাকে মেনে নিলাম।”
ওয়াহেজ আনভির কপালে টুপ করে একটা ভালোবাসার পরশ এঁকে দিয়ে তাকে কোলে তুলে নেয়। আনভির লম্বা খোলা চুলগুলোর আগা ফ্লোরে আছড়ে পড়ে। ওয়াহেজ আনভিকে বিছানায় নিয়ে গিয়ে ফিসফিসিয়ে ওঠে, “তোমার চুলগুলো বেঁধে দেব সামাইরা? আমাকে সমস্যা দেবে।”
“বেঁধে নিচ্ছি। আপনি পারবেন না আমার চুল সামলিয়ে বেঁধে নিতে।”
এটা বলে আনভি নিজের বেসামাল চুলগুলো খোঁপা করে নেয়। ওয়াহেজ ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করে, “মিসওয়াক দিয়ে ওজু করেছ?”
“জি।”
“বেশি কষ্ট হলে একটু ম্যানেজ করে নিও, আমি মনে হয় নিজেকে তখন সামলাতে সক্ষম হব না।”
“আচ্ছা।”
অতঃপর তারা একে অপরের কাছাকাছি আসতে থাকে। দুজনে দুজনে মেতে ওঠে। ঘরে ভেসে ওঠে ওয়াহেজের উচ্চারিত দোয়া,
‘بِسْمِ اللَّهِ ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ ، وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا’
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা।
অর্থ: “হে আল্লাহ! তোমার নামে আরম্ভ করছি, তুমি আমাদের কাছ থেকে শয়তানকে দূরে রাখো। আমাদের এ মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে, তা হতেও শয়তানকে দূরে রাখো।”
সাথে ভেসে ওঠে আনভির আবেগমথিত আর্তনাদ, উত্তাপমাখা নিঃশ্বাসভেজা আর্তি।
সময় রাত সাড়ে তিনটের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে এখন। ওয়াহেজের উদোম বুকে নিরাবরণ অবস্থায় আনভি বিড়ালের মতো ঘুমিয়ে আছে। দুজনেই বেশ ক্লান্ত, এই একটু আগে ঘুমের দেশে তলিয়েছে। ওয়াহেজ তো বলছিল আজ ঘুমানোর প্রয়োজন নেই, একেবারে তাহাজ্জুদ, ফজর পড়ে ঘুমাব। আনভি না পেরে রাগ দেখিয়ে ঘুমিয়েছে ওয়াহেজকে নিয়ে। ওয়াহেজের ঘুম ভেঙে যায় অ্যালার্মের আওয়াজে। চোখের পাতা খুলছে না একদমই, ঘুম লেপ্টে আছে চোখে। কোনোমতে হাত বাড়িয়ে অ্যালার্ম বন্ধ করে নেয়। তারপর ঘড়ির দিকে তাকায়। তাকিয়ে বুঝতে পারে এখন আর ঘুমানোর সময় নেই, তাহাজ্জুদের সময় হয়ে গিয়েছে। তাই ধীরে ধীরে আনভিকে নিজের বুক থেকে সরিয়ে নিজের বাহুতে আনভির মাথা রাখে। আর আনভির থুতনিতে আলতো করে হাত রেখে আনভিকে ডাকে, “সামাইরা, ওঠো। তাহাজ্জুদের সময় হয়ে গিয়েছে, এই সময় ঘুমানোর নয়, এই সময় নামাজের।”
আনভির ঘুম হালকা হয়ে আসে ও ধীরে ধীরে চোখ খোলে। কান্না করায় চোখ দুটো লাল হয়ে গিয়েছে। আনভি কিছুটা কোঁকিয়ে ওঠে, “আমার হাড় মনে হয় সবগুলো ভেঙে গিয়েছে ওয়াহেজ! আপনি আমার সাথে কী করলেন এটা!”
ওয়াহেজ মুচকি হেসে আনভির অনাবৃত বক্ষে মুখ গুঁজে দিতে দিতে শব্দ করে হেসে ওঠে। বলে, “কীচ্ছু হবে না, ওঠো। এটা প্রথম, তাই এমন করছে শরীর।”

চলবে,,,

নেক্সট এটা ওটা কমেন্ট না করে ভালো কিছু করুন কমেন্ট এন্ড গল্পে কিন্তু টুইস্ট আছে

Share On:

TAGS:



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply