জাহানারা
জান্নাত_মুন
পর্ব :৭২
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ
🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অ’কথ্য ভাষা এবং স”হিং’সতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সং’বে’দনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।
আমেরিকান হসপিটাল দুবাই।।
এটি দুবাইয়ের অন্যতম সেরা একটি হাসপাতাল, যেখানে বর্তমানে আমার উন্নতমানের চিকিৎসা চলছে। আমার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং একান্ত গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে ইফান এখানে একটি বিলাসবহুল ভিআইপি স্যুইট বুক করেছে। বিশাল এই স্যুইটটি দেখতে অনেকটা আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টের মতোই। ভেতরে একাধিক রুম এবং উন্নত মানের সব আসবাবপত্রে সাজানো। রোগীর জন্য এমন শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ সত্যিই বিরল। এছাড়া আমার সার্বক্ষণিক সেবায় একদল বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও নার্স নিয়োজিত রয়েছেন, যাদের মূল দায়িত্বই হলো আমাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে দ্রুত সুস্থ করে তোলা।
স্যুইট রুমটি মৃদু অন্ধকারাচ্ছন্ন। শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ। পুরো রুম জুড়েই বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা। আজ প্রায় এক মাসেরও অধিক সময় ধরে আমি হসপিটাল বেডে শুয়ে আছি। বিছানার পাশেই ঠাঁই পেয়েছে আধুনিক চিকিৎসার বিবিধ যান্ত্রিক সরঞ্জাম। আমার হাতে-পায়ে বিঁধে আছে ক্যানোলা। এখনো সেলাইন চলছে। অপরদিকে একজোড়া ধূসর বাদামী অক্ষিযুগল নিষ্প্রভ, ক্লান্তিহীন আমার দিকে তাকিয়ে।
সিঙ্গেল কাউচে রাজকীয় ভঙ্গিমায় গা ছেড়ে পায়ের উপর এক পা তুলে আরাম করে বসে আছে দুর্ধর্ষ মাফিয়া বস। গায়ে জড়িয়ে আছে অশুভ রঙা কালো কুচকুচে পোশাক। যা বলিষ্ঠ দেহে আষ্টেপৃষ্টে লেপ্টে আছে। শার্টের হাতা দু’টো পরিপাটি করে গুটিয়ে রাখা। ফর্সা হাতের মধ্যে একটা বিছে সহ হিজিবিজি ট্যাটু আঁকা। হাতের দৃশ্যমান অংশটুকুর মধ্যে জেগে ওঠা নীলচে শিরাগুলো এক রুক্ষ সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। বাম হাতে কালো ফিতার রোলেক্স ব্র্যান্ডের দামি ঘড়ি। সেই হাতেই চকচক করা লাল পানীয় গ্লাস। কাউচে মাথা এলিয়ে ঈষৎ কাত হয়ে সে অপলক দৃষ্টিতে হসপিটাল বেডে শুইয়ে থাকা আমার দিকে চেয়ে আছে।
ইফানের সামনে টি-টেবিলে রাখা বেশ কিছু নামি-দামি ওয়াইনের বোতল। তার সাথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সাদা পাউডার জাতীয় কিছু দ্রব্যাদি। ড্রা’গসই হবে বোধহয়। ইফান অনুভূতিহীন নজরে আমাকে দেখতে দেখতে ওয়াইনের গ্লাসে ছোট ছোট সিপ তুলছে। সিগারেটের ধোঁয়ায় আমার অসুবিধা হবে তাই আমার আসেপাশে থাকলে সিগারেট এড়িয়ে চলে। লোকটার মধ্যে বিশাল এক পরিবর্তন এসেছে এই দিনগুলোতে। সিগারেটে পোড়া ব্রাউন ওষ্ঠ কোণে এখন আর বাঁকা হাসিটুকু উদয় হয় না। চেহারা গুরুগম্ভীর থাকে সর্বদা। নিজের মর্জির বিপরীতে উনিশ বিশ হলেই ঘটে যায় বিপত্তি। আর রক্ষে থাকে না কিছুর। একটা না একটা অঘটন না ঘটিয়ে ক্ষান্ত হয় না ম’রণঘাতী বি’ষের মতোই ভয়ংকর খ্যাত মাফিয়া বস ভেনম। যেন বহু বছর পর প্রকাশ্যে আবারও সেই ব্লা’ডিবিস্ট পুনরায় নিজের স্বীয় অস্তিত্বে ফিরে এসেছে। এই মাসখানেকের মধ্যে তার যে চরম নৃ’শংস রুপ পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে তা শুধু তার ছায়া সঙ্গীরাই ভালো বলতে পারবে।
রুমে ইফান থাকাকালীন কেউ ভেতরে আসে না। এমনকি ডাক্তাররাও না। গতকাল রাত থেকেই ইফান এখানে নিজের জায়গা দখল করে বসে আছে। সেই বহু বছর আগে যেভাবে নিজের ভেতরের নৃশংস দানব-অস্থিরতাকে দমাতে ড্রা’গস নিতো, বর্তমানে তেমনই অত্যধিক মাত্রায় ড্রা’গস নিয়ে নিজের ভেতরের নৃ’শংস, হায়নার মতো সত্তাকে দমানোর পায়তারা করে বেড়ায়। সবসময় নে’শায় বোধ হয়ে থাকে। অথচ মস্তিষ্ক জুড়ে বিরাজ করে তার অবাধ্য নারী। ইফানের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন নে’শা বোধহয় আমি। ইতোমধ্যে ছদ্মবেশী ইফান চৌধুরী সেজে থাকা ব্লা’ডিবিস্ট মি. ভেনমকে চিনতে বাকি নেই এখানের কারোর। ইফান থাকাকালীন ইফানের ছায়া মারানোর সাহস পায় না কেউ। এ-কদিনে খুব ভালোই এই লোকের নৃ’শংসতা দেখেছে সকলে। ইফানের রাগের জেরে পড়ে ইতোমধ্যে প্রাণ হারাতে হয়ছে একজন ডক্টরকেও।
কিছুক্ষণ পরপর আমাকে পরখ করতে আসে ডাক্তার কিংবা নার্স। ইফান না থাকলে সর্বদাই আমার সাথে একজন নার্স থাকেই। হঠাৎ একজন নার্স কিছুটা ভীতি নিয়ে দরজায় নক করলো। ইফান তখনো আমাকে দেখতেই ব্যতিব্যস্ত। পরপর বেশ দু’বার নক করেও ইফানের মনযোগ পেলো না ম্যালিসা নামক ইয়াং নার্সটি। তাই নিচু স্বরে বলে উঠলো,
–“স্যার, পেশেন্টকে দেখতে এসেছি।”
মেয়েটার কন্ঠ শুনে সংবিতে ফিরল ইফান। চেহারায় ফুটে উঠলো বিরক্তির ছাপ। কপাল কুঞ্চিত করে কোণ চোখে দরজার দিকে এক পলক তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নিল। না চাইতেও বিরক্তি নিয়ে গম্ভীর চেহারায় বেডের দিকে ইশারা করলো। মেয়েটা ইশারা খেয়াল করলো না। বরং সামনে অতি সুদর্শন পুরুষ দেখে বিলাই চোখ দু’টো দিয়ে ইফান কে গিলে খাচ্ছে। ইফান পুনরায় ওয়াইনের গ্লাসে একটা ছোট্ট করে সিপ নিল। অতঃপর কিছু একটা আন্দাজ করে সামনে তাকাতেই দেখলো ম্যালিসার এহেন বেহায়া দৃষ্টি। ইফান চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষল। মূহুর্তেই মেয়েটা সংবিতে ফিরে পেয়ে মাথা নিচু করে ঘরে প্রবেশ করে। ম্যালিসার পরনে নার্সিংয়ের ছোট্ট পোশাক। যা দিয়ে মেয়েটার দেহ ঠিকঠাক ঢাকা নেই। ইফানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটার নাকে এসে ধাক্কা খেল অতি মিষ্টি, ঝাঁঝালো ব্যাড বয় স্মেল। ইফানের দেহ থেকে ছড়িয়ে পড়া ব্যাড বয় সুগন্ধিতে মূহুর্তেই ম্যালিসা আকৃষ্ট হয়ে পড়ল।
এক সময় ইফান ‘ব্যাড বয়’ আর ‘এরোস’-এর মতো চকলেট বয় সুলভ, সেডাক্টিভ এবং ব্যাড বয় ভাইব দেওয়া সুগন্ধি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করত। ইফান পোশাকআশাকে খুবই রুচিশীল। তাই তো সে যেখানেই অবস্থান করে, তার ড্যাশিং আর স্টাইলিশ লুকের কারণে সেখানের মধ্যমণি হয়ে ওঠে। বিয়ের পর ওর দেহের ব্যাড বয় ঘ্রাণ আমাকে বেশ জ্বা’লাতন করত। আমি না চাইতেও ওর দেহের এমন মিষ্টি ঘ্রাণে বারবার লক্ষ্যচ্যুৎ হতাম। তখন নিজেকে খুব কষ্টে সামলে নিতাম। ইফান ভারী মজা পেত, তাই আরও বেশি জ্বালাতন করতে এরোস দেহে মাখতো। এর সুঘ্রাণ ছিলো আরও বেশি তীব্র। আমি চরম বিরক্ত হয়ে ইফানকে বলতাম, তার দেহের এমন বিচ্ছিরি ঘ্রাণে আমার শরীর খারাপ করে। ইফান তারপরই ব্যাড বয় আর এরোস ব্যবহার করা বাদ দিয়ে অ্যাভেন্টাস ব্যবহার করতে শুরু করে। তার দেহের এই সুগন্ধিটা আমাকে মোটামুটি কম্ফোর্ট ফিল দেয়। যদিও এটাও অনেকটা ডার্ক মিষ্টি স্মেল ছড়ায়। তবুও কম্ফোর্ট ফিল করতে পারি। এখন আবার কি হলো কে জানে! ইদানিং পুনরায় ব্যাড বয় ব্যবহার করা শুরু করেছে।
ম্যালিসা অতি ধীর পায়ে আমার বেডের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে জোরে শ্বাস টেনে মিষ্টি সুঘ্রাণটিকে নিজের ভেতরে নিতে লাগলো। ইফানের দেহের এই সুগন্ধি ম্যালিসার কাছে মা’দকের মতো নে’শালো মনে হচ্ছে। ইফানকে তার কাছে চকলেট বয় ঠেকছে। ইশশ! সে যদি এই মূহুর্তে ইফানের সান্নিধ্যে পেতো! যদি ইফানের খুব কাছে যেতে পারতো! এসব ভেবেই ম্যালিসা জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বড় একটি ঢোক গিলে নিল। অতঃপর আড় চোখে ইফানের দিকে তাকাতেই দেখলো ইফান ওয়াইনের গ্লাস হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে যাচ্ছে। আচমকা ইফান র’ক্তাভ চোখে ম্যালিসার দিকে তাকাতেই মেয়েটা ভরকে গিয়ে দ্রুত আমাকে চেক-আপ করতে লাগল। অতঃপর খুঁজে খুঁজে এটা ওটা কাজ করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। তার চলা ফেরাতেই বুঝা যাচ্ছে কোনো ভাবে সে ইফানের অ্যাটেনশন পেতে চাচ্ছে। ইফান কাউচে মাথা হেলিয়ে দিয়ে ঘাড়ে হাত বুলাতে লাগল। আগের মতো আর পরিপাটি অবস্থায় নেই। বেশ এলোমেলো ঠেকছে তাকে। কত রাত ধরে ঘুমায় না কে জানে! অযত্নে আরও কিছুটা বেড়ে যাওয়া ঘন কালো, সিল্কি চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে পড়ে আছে। মুখ জুড়ে খুঁচা খুঁচা দাঁড়ি। বুকের সামনের তিনটে বোতাম খোলা। দৃশ্যমান ঘাড়ের সেই ভয়ংকর বিছের ট্যাটু। এতো এলোমেলোর মধ্যেও তার সৌন্দর্যে একটুও ভাটা পড়েনি। বরং আরও বেশি সুদর্শন ঠেকছে।
ম্যালিসা কাজের অযুহাত ধরে কাউচের পিছনে গিয়ে এটা ওটা করতে করতে ইফানের দেহের ডার্ক মিষ্টি, ঝাঁঝালো সুঘ্রাণ অনুভব করতে থাকে। ইফান চোখ বন্ধ করে আছে। ঠোঁট কামড়ে ধরে এখনো ঘাড়ে হাত বুলিয়ে যাচ্ছে। হয় তো এভাবে রাতের পর রাত জেগে থাকায় দেহে সকল ক্লান্তি এসে জড়ো হয়েছে। ইফান জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে মুখ ফুলিয়ে শ্বাস বের করলো, তক্ষুনি ইফান অনুভব করে দু’টো হাত তার কাঁধে আলতো স্পর্শ করছে। পিছন থেকে ধীরে ধীরে সেই হাত বুকের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মূহুর্তেই চোখ মুখ শক্ত হয়ে আসে তার। ম্যালিসা ইফানের কানের কাছে ফিসফিস করে বলে উঠলো,
–“আমি অনেক ভালো বডি স্পা করতে পারি স্যার। আপনি চাইলে আমি আপনাকে কোম্পানি দিতে পারি।”
“ঠাস”
আচমকা ইফান হাতে থাকা কাচের ওয়াইনের গ্লাস দিয়ে ম্যালিসার কপালে সজোরে আ’ঘাত করলো। আ’ঘাত এতটাই জোড়ালো ছিল যে ম্যালিসার কপালে লেগেই গ্লাসটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে ফ্লোরে ছিটকে পড়ে টুং-টুং আওয়াজ তুলেছে। ম্যালিসা তাল সামলাতে না পেরে তৎক্ষনাৎ ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লো। কপাল ফেটে অঝোরে লাল তরল গড়িয়ে সারা মুখ র’ক্তে আবরণ তৈরি করেছে। ম্যালিসা চাপা স্বরে গো”ঙ্গাতে গো”ঙ্গাতে আওড়ালো,
–“আআমি কি করেছি?”
ইফান ঘাড় হালকা কাত করে পিছনে পড়ে থাকা ম্যালিসার দিকে তাকিয়ে চাপা স্বরে হুংকার ছুড়ল,
–“আরেকটা ওয়ার্ড উচ্চারণ করলে জায়গা মতো থাপড়ে তর সা”উয়াগিরি বের করে দিব, চে’মের সেরি।”
ম্যালিসা জ্ঞান হারিয়ে র’ক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রইলো। ইফান হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে নাক ঘসে বিরবির করে অ’শ্রাব্য ভাষায় আরও গা’লিগালাজ করতে করতে সামনের দিকে তাকাতে না তাকাতেই আচমকা নজর আটকালো বেডে শুয়ে থাকা আমার দিকে। আজ বহুদিন পর জ্ঞান ফিরেছে। চৌদ্দ ঘন্টা আগে ডক্টররা ইফানকে বলেছিল, ভোরের দিকে জ্ঞান ফিরতে পারে। তাই তো সেই তখন থেকেই এখানে বসে আমার দিকে অপলক তাকিয়ে দেখছিলো। আমার চোখে চোখ আটকাতেই ইফান ঢোক গিলে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে আওড়ালো,
–“আমার জারা।”
আমি পিটপিট করে চোখ খুলতেই ইফানের চেহারা চোখে ভেসে উঠল। আমি আধখোলা চোখে ইফানের দিকে পলকহীন তাকিয়ে রইলাম। ইফানও তাই। আমার মস্তিষ্ক এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে আছে। মনে হচ্ছে অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছি। আর মাত্র ঘুম ভাঙলো। ক্লান্তি, খানিক দুর্বলতা, সব কিছুর সংমিশ্রণে আগের চেয়ে মিইয়ে যাওয়া দেহটা খুব হালকা অনুভূত হচ্ছে। আরও খানিকক্ষণ ঘুমাতে ইচ্ছে হচ্ছে। আমি মুখ দিয়ে ক্লান্তির মৃদু আওয়াজ বের করে আবারো চোখ বন্ধ করে নিলাম। ইফান নতুন করে গ্লাসে ওয়াইন নিয়ে ছোট করে সিপ নিতে নিতে আমাকে অপলক দেখতে লাগলো।
আমি চোখ বন্ধ করে রইলাম। একটু ওপাশ ফিরতে নিলেই হাতের ক্যানোলায় টান পড়ল। আমি মৃদু আর্তনাদ করে উঠলাম,
–“আহ্।”
চোখ খুলে হাতের দিকে তাকাতেই লক্ষ্য করলাম আমার দেহে সেলাইন চলছে। তড়িৎ বেগে মস্তিষ্ক কাজ করতে লাগল। যখন নিজের পেটের অনাগত সন্তানের কথা মনে পড়লো তক্ষুনি এক হাত পেটে ধরে অতর্কিত আওড়ালাম,
–“আআমার বাচ্চা?”
–“নেই।”
পুরুষালি গম্ভীর কন্ঠে ছোট্ট শব্দটা আমার কর্ণপাত হতেই আমার পুরো পৃথিবী যেন কেঁপে উঠলো। বুক অনিয়ন্ত্রিত ভাবে উঠানামা করতে শুরু করল। আমি ঝলঝল নয়নে ইফানের দিকে তাকালাম। খুব শান্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে ইফান তাকিয়ে আছে। চেহারা দেখে মনে হচ্ছে কিছুই হয়নি আধও। আমার ভেতরে কেউ যেন খুব জোরালোভাবে আ’ঘাত করে যাচ্ছে। ফ্যাকাসে রঙ ধারণ করা শুকনো ঠোঁটগুলো থিরথির করে কাঁপছে। আমি এক মূহুর্ত ইফানকে দেখে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে বললাম,
–“তুতুমি মিথ্যা কথা বলছ!”
–“তোমায় মিথ্যা বলে আমার কি লাভ!”
এবার যেন আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। চিৎকার করে কাঁদতে গিয়ে উঠে বসতে নিলেই বুকে প্রচুর ব্যথা শুরু হলো। ক্যানুলা দিয়ে রক্ত উল্টো পথে উঠে যাচ্ছে। আমাকে উদ্বিগ্ন হতে দেখে ইফান তড়িৎ বেগে উঠে এসে আমাকে তার বুকের সাথে মিশিয়ে জড়িয়ে ধরল। আমি পাগলের মতো অস্থির আচরণ করছি। আজ কাঁদতেও পারছি না, দম কেমন যেন বন্ধ হয়ে আসছে। ইফান আমার মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,
–“পাগলামি করো না। শান্ত হও।”
–“শান্ত হব! আমি কিভাবে শান্ত হব? আমি যে আজ পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমার আর আপন কেউ রইলো না। আমায় কেন বাঁচালে তুমি? আমি কি নিয়ে বাঁচব এখন? এতো পাপের বুঝা আমি কেমনে বয়ে বেড়াবো? আমি বাঁচতে চাই না আর।”
হাউমাউ করে কাঁদছি। ইফান শান্ত চোখে আমাকে তাকিয়ে দেখছে। হঠাৎই আমার শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। এতক্ষণে বোধহয় ইফান সংবিৎ ফিরে পেল। সে আমাকে তার বুক থেকে সরিয়ে নিল। আমার দু’বাহুতে শক্ত ধরে আমার চোখে চোখ রাখল। চোয়াল শক্ত করে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো,
–“এই এই কি হয়েছে তোর? এভাবে মরা কান্না জুড়েছিস কেন? চেয়ে দেখ তোর সবই আছে। কিচ্ছু হারায়নি।”
ইফানের শেষ বাক্যে আমি থমকে গিয়ে শান্ত হয়ে গেলাম। জলে থৈথৈ করা নয়নে ওর দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে আওড়ালাম,
–“আআমার বাচ্চা আছে!”
–“তোর বাচ্চা! তোর বাচ্চা কোথা থেকে আসলো? তুই তো আমার পাপই পেটে ধরেছিলি। সে আর নেই। ভালো হয়েছে আর নেই। আমি তো তোর রে’পিস্ট। আমার অবৈধ পাপের ফল ছিলো ও। এখন আর নেই। আর কখনো আসবেও না। সেই ব্যবস্থাও করে নিয়েছি।”
ইফানের বাক্যগুলো তীরের ফলার মতো আমার দেহের প্রতিটি অঙ্গে গিয়ে বিঁধল। এক মূহুর্তে খেই হারিয়ে হেলে পড়তে নিলে ইফান শক্ত করে ধরে আগলে নিলো। আমার খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ আমার গলা চেপে ধরে রেখেছে। আমি তবুও কাঁপা কাঁপা গলায় অবুঝের ন্যায় শুধালাম,
–“ককি করেছ তুমি?”
–“যা আগেই করা উচিত ছিলো।”
আমি চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম। আচমকা দু’হাতে ইফানের শার্টের কলার চেপে ধরে গর্জে উঠলাম,
–“তুই এটা করতে পারিস না! তুই এটা কিভাবে করতে পারলি? কেন আমার মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার অধিকার কেড়ে নিলি? কেন এত বড় শাস্তি দিলি? আমি তোকে কোনোদিন ক্ষমা করবো না। তোকে ঘৃণা করি আমি।”
–“তোমার থেকে কিছু আশাও করি না।”
আজ ইফানের বলা প্রতিটি বাক্য আমার অন্তরটা বি’ষাক্ত ছু’রিঘাতে র’ক্তাক্ত করে দিচ্ছে। আমি থ হয়ে কাতর চাহিনে ইফানের ধূসর বাদামী চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। ইফানের মধ্যে কোনো অনুভূতির ছিটেফোঁটা পেলাম না। আজ বোধহয় আমি সত্যি পরাজিত। হেরে গেলাম আমি। নিজের কাছে হেরে গেলাম। হেরে গেলাম এই নিষ্ঠুর ভাগ্যের কাছে। আমি আচমকা ইফানের গলা জড়িয়ে ধরে ওর ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলাম। আজ পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় আমাকে মনে হচ্ছে। আমি আকুতি-মিনতি করে বলতে লাগলমা,
–“আমার সন্তান কে এনে দাও না তুমি। তুমি তো সব পারো। আমার সন্তানকে কি এনে দিতে পারবে না? আমায় কি ক্ষমা করা যায় না? আমি কি করতাম? আমার দুর্ভাগ্যই তো আমার জীবনটা শেষ করে দিলো। আমি সত্যি বলছি আর কোনোদিন তোমার অবাধ্য হব না। সারাজীবন তোমার পায়ের কাছে পরে থাকবো। তোমার সব কথা মনে চলবো। এনে দাও না আমার সন্তানকে। আমি যে মরে যাচ্ছি। এভাবে বেঁচে থাকা যে অসম্ভব। দয়া কর তুমি। আমি যে আর বাঁচব না। আমার বাচ্চাকে এনে দাও।”
–“এটা আর সম্ভব না।”
খুব কাঁদলাম সেদিন। ইফান আর এই ঘরের চার দেয়াল সাক্ষী ছিলো, ঠিক কতটা অসহায় ছিলাম আমি। কতটা য’ন্ত্রণাদায়ক ছিলো আমার আর্তনাদগুলো। কতটা করুণ ছিলো আমার কান্নার আওয়াজ। অতঃপর নিস্তেজ হয়ে ঢলে পড়তে নিলে ইফান ধরে ফেললো। নিস্তেজ, মলিন আর ফ্যাকাশে চেহারার পানে ইফান খানিকক্ষণ তাকিয়ে ছিল তার অনুভূতিহীন, প্রাণহীন ধূসর-বাদামি নয়নে। তারপর সযত্নে পাঁজাকোলে তুলে নিয়ে বেরিয়ে যেতে লাগল।
বাংলাদেশ।।
চৌধুরীদের গাড়ি কলেজে এসে থামতেই গাড়ি থেকে ইতি ঝটপট নেমে পড়ে। সামনে চোখ ঘুরাতেই নজরে পড়ে, জুই ক্লাস ভবনের সামনে একা দাঁড়িয়ে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। ইতি হাত নাড়িয়ে চেঁচিয়ে ডেকে উঠল,
–“জুইই।”
ইতির কন্ঠ কানে যেতেই জুই সেদিকে তাকায়। ইতিকে দেখতে পেয়ে জুইয়ের অন্ধকার হয়ে থাকা মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। ইতি ছুটে জুইয়ের দিকে যাওয়া ধরেছে। জুইও ছুটে ইতির কাছে এসে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে। আজ যেন ইতির ঠোঁট থেকে হাসি আর যাচ্ছে না। ইতি আসেপাশে বাকি দুই বান্ধবীকে দেখতে না পেয়ে শুধালো,
–“সোমা আর মিনা আসেনি?”
–“না রে, ওরা আজ গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে।”
–“ও। আচ্ছা শুন কি হয়েছে।”
ইতির চোখ মুখ ভীষণ উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। জুইও ঠোঁটে হাসি টেনে শুধালো,“কি হয়েছে?”
–“আজ ভাইয়া ভাবিকে নিয়ে বাড়ি ফিরছে, ইয়েএএ।”
ইতির কথায় থমকে গেল জুই। তার মানে তার জাহান আপু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে! খুশিতে মেয়েটা ঠোঁট টিপে কেঁদে দিলো। এমন আনন্দের খবর শুনে জুইকে কাঁদতে দেখে ইতি ভেবাচেকা খেয়ে গেল। তার কোন কথায় জুই কেঁদে দিলো বুঝতে পারছে না। এখন কি হবে? ইতির মুখ ভার হয়ে আসলো। সে গাল ফুলিয়ে কাঁদু কাঁদু কন্ঠে বলে উঠলো,
–“আমি সরি জুই।”
–“ওমা সরি কেন? এত ভালো একটা খবর দিয়েছ তুমি। জানো আমি জাহানপুকে কতো কতো মিস করছিলাম। নামাজে পড়ে কত কান্নাকাটি করেছি ও যেন সুস্থ হয়ে যায়।”
জুইয়ের কথায় ইতি আবারো আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়লো। জুইয়ের বাহু জড়িয়ে ধরে বললো,
–“জুই চল আমাদের বাসায়। ভাবি এতদিন পর তোমাকে পেলে অনেক খুশি হয়ে যাবে। আর আমরা অনেক মজা করবো। চলো না চলো না।”
ইতি বাচ্চাদের মতো বাইনা ধরে বসলো। জুই ঠোঁটে ঠোঁট টিপে ভাবনায় মগ্ন হলো। সে কখনো চৌধুরী বাড়িতে যায় নি। আবার আপুকেও কাছ থেকে দেখতেও খুব ইচ্ছে করছে। জুইয়ের ভাবনার মাঝে ইতি বলে উঠলো,
–“আমি কিছু জানি না তুমি যাচ্ছ, ওকে।”
–“আপুকে দেখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু!”
জুই আবারো সংকোচ করে ভাবতে লাগল। ইতি বিরক্ত হয়ে শুধালো,
–“আবার কিন্তু কি হ্যাঁ?”
–“বাসা থেকে পারমিশন নিতে হবে তো। আর আমার গার্ডিয়ান জিতু ভাইয়া আর জাহান আপু। আপুর সাথে তো যোগাযোগ নেই। তাই ভাইয়ার থেকে পারমিশন নিতে হবে।”
হঠাৎ জিতু ভাইয়ার নাম আসতেই ইতির গালে জাফরানি রং হানা দিল। জুই ইতিকে আচমকা ল’জ্জা পেতে দেখে চোখ ছোট ছোট করে শুধালো,
–“এই ইতি, তুমি কি ল’জ্জা পাচ্ছ?”
জুইয়ের কথা কানে যেতেই ইতি সংবিতে ফিরে এলো। আমতা আমতা করে বললো,
–“ধুধুরি! আমি ল’জ্জা পাবো কেন? আচ্ছা শোন, ওনাকে ফোন দিয়ে বলে দাও আমার সাথে তুমি আমাদের বাড়িতে যাবে, ওকে।”
ইতির কথায় জুইয়ের চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেলো। হঠাৎ এই মেয়ের হলো কি বোধগম্য হচ্ছে না জুইয়ের। জুইকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ইতি তাড়া দিয়ে বললো,
–“তাড়াতাড়ি কল করে পারমিশন নিয়ে নাও। কলেজ শেষে তুমি আমার সাথে আমাদের বাসায় যাবে।”
জুই জিতু ভাইয়াকে বেশ কয়েকবার কল দিল। কিন্তু ফোন বারবার বন্ধ দেখাচ্ছে। তারপর বাধ্য হয়ে অফিসার আবিরকে কল করলো। মূহুর্তেই কল রিসিভ করে অপর প্রান্ত থেকে আবির হেসে বলে উঠলো,
–“আরে বাপরে! আজ আমায় জুই বুড়ি নিজ থেকে কল দিয়েছে!”
জুই একটু নড়েচড়ে দাঁড়িয়ে কাঠকাঠ গলায় বললো,“দেখুন আবির ভাই, আমাকে একদম বুড়ি-টুরি ডাকবেন না বলে দিলাম।”
–“ঠিক আছে পিচ্ছি।”
–“আবির ভাই ফাইজলামি করবেন না। আমি এখন সিরিয়াস মুডে আছি।”
জুই রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো। আবির হেয়ালি বাদ দিয়ে নরম কন্ঠে শুধালো,
–“আচ্ছা বল কি দরকার?”
–“ভাইয়াকে কল করে পাচ্ছি না। ভাইয়া অফিসে থাকলে ফোনটি একটু দেন তো।”
–“কিন্তু স্যার তো অফিসে নেই। আজ তিন দিন হতে চললো, স্যার ছুটিতে আছেন।”
–“কি বলছেন?”
–“হ্যাঁ। কেন বলতো? কোনো সমস্যা হয়েছে?”
–“না তেমন কিছু না। আচ্ছা আবির ভাই রাখছি।”
–”কোনো দরকার থাকলে আমাকে বলতে পারো।”
–“না লাগবে না। আচ্ছা টাটা।”
জুই ফোন কেটে দিয়ে ভাবনায় ডুব দিল। আজ ভাইয়া তিন দিন ধরে ছুটিতে আছে। অথচ তার সাথে একবারো দেখা করতে আসলো না! জুই বেশ ভাবনায় মজেছে। ইতি এতোক্ষণ ধরে সব কথাই শুনেছে। সেও তো জানে না এ বিষয়ে। আর জানবেই কি করে? আজকাল জিতু ভাইয়া কেমন যেন ইতিকে এভয়েড করে চলে। এটা অবশ্য শুরু থেকেই। ইতিই নিজ থেকে কথা বলতে চায়। আজ পর্যন্ত জিতু ভাইয়া কখনো ইতির সাথে যোগাযোগ করে নি। এমনকি নিজ থেকে একটা কথা বেশিও বলে না। ইতি যতটুকু বলবে ঠিক ততটুকুই উত্তর দিবে। জুই আর ইতি অনেক ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলো কলেজ শেষে জিতু ভাইয়ার বাসায় গিয়ে দেখে আসবে।
পাঁচ তলা বিল্ডিং এর সামনে অটোরিকশাটি এসে থামলো। জুই টাকা মিটিয়ে বিল্ডিং এর দিকে তাকলো। আজ বেশ কায়দা করে ইতির গার্ডেদের ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে এসেছে দুজন।
–“উনি এখানে থাকে?”
ইতির কন্ঠ কর্ণপাত হতেই কপাল কুঞ্চিত হলো জুইয়ের। সে সন্দিহান চোখে ইতির দিকে তাকাতেই ইতি নখ কামড়াতে কামড়াতে বলে উঠলো,
–“না মানে জিতু ভাইয়ার কথা বলছিলাম।”
জুই ঠোঁটে ঠোঁট টিপে একটু ভেবে বললো,“হ্যা, এখানেই তো থাকে। এর আগেও আমি ভাইয়ার সাথে আসছিলাম। চল ভেতরে গিয়ে দেখি।”
পরপর কলিং বেল বাজার শব্দ পেয়ে বন্ধ চোখগুলো ধীরে ধীরে খুললো জিতু ভাইয়া। গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। তিনদিন ধরে নিজের ফ্ল্যাটে খেয়ে না খেয়ে বিছানায় পড়ে আছে। সারাক্ষণ মাথায় আদরের বোনকে নিয়ে দুশ্চিন্তা ঘুরপাক খায়। না জানি কবে সুস্থ হবে! আধও সুস্থ হবে কি না! এসব দুশ্চিন্তার ফলে এখন এই হাল। বারবার ফোনে কল আসে তাই বিরক্ত হয়ে ফোন অফ করে রেখেছে। জিতু ভাইয়া শরীরের উপর থেকে কম্ফর্টার সরাতেই বলিষ্ঠ দেহ উন্মুক্ত হলো। এই এক মাসে এত মানসিক চাপের মধ্যে খানিকটা শুকিয়ে গেছে। কম্ফর্টার সরাতেই জিতু ভাইয়ার দেহ ঠান্ডায় কেঁপে উঠলো। সে দেহে হালকা একটা গেঞ্জি জড়িয়ে ধীরে ধীরে দরজা খুলে দিলো।
নিজের শরীরের এমন অবস্থায় বোনকে দরজার সামনে দেখে মনে মনে বড্ড বেশি খুশি হলো জিতু ভাইয়া। পর মূহুর্তে আরেক পাশে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ইতিকে দেখে নিজের আগের গম্ভীর সত্তায় ফিরে আসলো। জুই বড় ভাইকে দেখতে পেয়েই জড়িয়ে ধরলো। জিতু ভাইয়ার দেহের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা অনুভব করে আঁতকে উঠলো জুই। সহাস্যে বলে উঠলো,
–“ওমাগো! ভাইয়া তোমার কি হয়েছে? তোমার শরীর তো আগুনের মতো গরম!”
–“কিহ্!”
এতক্ষণ ল’জ্জায় মাথা নিচু করে রাখা ইতি আশ্চর্য হয়ে আওড়ালো। কেউ কিছু বলার আগেই ইতি জিতু ভাইয়ার কাছে এগিয়ে গিয়ে জিতু ভাইয়ার কপালের দিকে হাত বাড়িয়ে দিতে দিতে বললো,
–“কই দেখি আমি, দেখি।”
ইতি হাইটে জিতু ভাইয়ার থেকে অনেকটা ছোট হওয়ায় পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে জিতু ভাইয়ার কপালের দিকে হাত এগিয়ে দিল। কিন্তু তবুও নাগাল পেল না। জিতু ভাইয়া নিজে থেকেই মাথা খানিকটা ঝুঁকিয়ে নেয়। ইতি কপালে হাত রাখতেই কেঁপে উঠে তার ছোট্ট দেহখানা। মূহুর্তেই যেন তার গলায় কান্না পাকিয়ে এলো। না চাইতেও চোখ ঝলঝল করে উঠেছে। হেঁচকি তুলে বলতে লাগলো,
–“আপনার শরীর কি অনেক খা’রাপ? আপনার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? কই আমাকে তো একবারো জানান নি! এখন কি হবে? চলুন আমি আপনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব।”
ইতি কোনো ভনিতা ছাড়াই জিতু ভাইয়ার হাত ধরে নিলো। এদিকে জুইয়ের মুখ আপনাআপনি হা হয়ে গেছে। এসব কি দেখছে সে! একটুতেই ল’জ্জায় মরি মরি বোকা মেয়েটা কিনা তার ভাইয়ের মতো গম্ভীর মানুষের হাত ধরে টানছে! আবার এতো অধিকার নিয়ে কথা বলছে! জুই ড্যাবড্যাব করে ইতির দিকে তাকিয়ে রইল। কোনো প্রকার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। জুইয়ের বিষয়টি খেয়াল করে জিতু ভাইয়া বলে উঠলো,
–“বনু ভেতরে গিয়ে কিছু একটা করে দে তো। আজ শরীর বেশি খা’রাপ ছিলো তাই কিচেনে যেতে পারি নি।”
জিতু ভাইয়ার কথায় এবার জুইয়েরও চোখে পানি চলে আসলো। তার ভাই আজ সারাদিন কিছু খায়নি! জুই কথা না বাড়িয়ে দৌড়ে ভেতরে চলে গেল। ইতি এবার মাথা নিচু করে কেঁদেই দিলো। জিতু ভাইয়া জানে এই মেয়ে বয়সেই বড় হয়েছে। মন-মস্তিষ্ক তার এখনো দশ বছরের শিশুদের মতোই। জিতু ভাইয়া নিজের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে ইতির গালে গড়িয়ে পড়া অশ্রু কণা মুছে নরম কন্ঠে শুধালো,
–“এই মেয়ে এভাবে কাঁদছ কেন?”
ইতি জিতু ভাইয়ার দিকে হালকা চোখ উপরে তুলে হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতেে বললো,
–“বিকাল হয়ে গেছে, আর আপনি এই শরীরে এখনো না খেয়ে আছেন!”
জিতু ভাইয়া বুকে দু’হাত গুঁজে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বললো,
–“তো কি করব? আমার কি আর বউ আছে যে আমার সব খেয়াল রাখবে?”
মূহুর্তেই ইতি পূর্ণ দৃষ্টি স্থাপন করলো জিতু ভাইয়ার পানে। জিতু ভাইয়ার এক জোড়া কালো কুচকুচে চোখের শান্ত দৃষ্টির সাথে ইতির এক জোড়া ডার্ক ব্রাউন ভেজা চোখের মিলন ঘটলো কয়েক মূহুর্ত। জিতু ভাইয়া আর কথা না বাড়িয়ে ভেতরে যেতে যেতে বললো,
–“ভেতরে আসো।”
সুপের বাটি নিয়ে মীরা আমার ঘরে ঢুকতেই দেখলো আমি আরেক পাশে ঘুরে শুইয়ে আছি। প্রতি সেকেন্ডের সাথে তাল মিলিয়ে আমার সরু লতানো সারা দেহ কম্পিত হচ্ছে। মীরার বুঝতে বাকি রইলো না আমি যে গুমরে গুমরে কাঁদছি। মীরা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থেকেই একটা দীর্ঘ শ্বাস আড়াল করে বিছানার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো।
দুবাই থেকে সকাল সাতটায় ইফান আমাকে নিয়ে বিডি ব্যাক করে। প্রাইভেট জ্যাট হওয়ায় খুব তাড়াতাড়িই দেশে এসে পৌঁছাতে পেরেছি। ইফান আমাকে সোজা নিজ রুমে নিয়ে আসে। তখনও আমি ওকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে যাচ্ছিলাম। ইফান কিছুক্ষণ আমাকে সময় দিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। ইফানের অবর্তমানে ইকবাল চৌধুরী ভালোই ফেঁসে গেছে। একটার পর একটা ইকবাল চৌধুরীর উপর বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে। জনগণ খেপতে শুরু করেছে। বিরোধী দলগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বেশ কদিন দলবল নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন করেছে। ক্ষমতার জোরে এখনো সবাইকে দমিয়ে রেখেছে ইকবাল চৌধুরী। আগে ইকবাল চৌধুরী কোনো কিছুতে বিপদে পড়লে ইফান লোক দিয়ে সামলে নিত। কিন্তু আমার সাথে এমন একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর মনে হয় না ইফান আর কোনোদিন ইকবাল চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে দেখবে! মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে এখনো ইকবাল চৌধুরীর কিচ্ছুটি করে নি। অন্যথায় কতটুকু নৃ’শংস মৃ’ত্যু দিতো তা কেউ কল্পনাও করতে পারেতো না।
মীরা সুপের বাটি বেড সাইড টেবিলে রেখে আমার মাথার পাশে বিছানায় বসল। এখনো গুমরে কান্নার তোড়ে তনু দেহ তরঙ্গায়িত হচ্ছে। মীরা আমার মাথায় হাত রাখতেই আমি শান্ত হয়ে গেলাম। মীরা আদুরে কণ্ঠে বলে উঠলো,
–“এমন করে না পাখি। শরীরটা তো এখনো সুস্থ হয় নি। তুমি এমন করতে থাকলে সুস্থ হবে কিভাবে?”
মীরা আমার দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। আমি পুনরায় গুমরে গুমরে কাঁদতে লাগলাম। মীরা আবারও শান্তনা দিয়ে বলতে লাগল,
–“অনেক তো হয়েছে। আর কত? এবার তো নিজেকে একটু সামলাও।”
–“কিভাবে সামলাবো আমি? আমি যে আবার সন্তানকে হারিয়ে ফেললাম। আমি কি করে বাঁচব? আমার জীবন যে বৃথা। আমার মরণ হয় না কেন?”
–“মৃত্যু কি এতই সহজ! জারা নিজেকে সামলাও। আমি জানি তোমার মনে কি চলছে। কয়জন পারে কাউকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে। তুমি পেরেছ। নিজের হাতের মুঠোই পৃথিবীর সমস্ত সুখ পেয়েও তা অগ্রাহ্য করে নিজের প্রথম ভালোবাসাকে আজও বুকে যত্ন করে আগলে রেখেছ। স্বাদরে গ্রহণ করেছ আজীবনের বেদনা সুখ। পৃথিবীর সবাই তোমাকে ভুল বুঝলেও আমি তোমাকে সমর্থন করি। প্রথম ভালোবাসাকে ভুলে যাওয়া কি এতোটাই সহজ! উহু। যদি ভুলেই যাওয়ায় যেত, তাহলে বোধহয় ভালোবাসা নামক শব্দ থাকতো না। বড্ড বেশি ভারী এই চার অক্ষরের শব্দ। একবার যে এই চার অক্ষরের শব্দের সাথে জড়িয়ে যায়, সে আজীবন সেই শব্দের বোঝা বয়ে বেড়ায়। তোমার ভালোবাসা সমুদ্রের অতল জলধারার মতোই নিখুঁত; যেখানে কোনো খুঁত নেই, নেই কোনো কৃত্রিমতা।”
মীরা থেমে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ল। আমার দেহ এখনো কম্পিত হচ্ছে। মীরা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে উদাসীন হয়ে গেল। আনমনে বলতে লাগলো,
–“ডেস্টিনি বলে একটা শব্দ আছে। কোনো না কোনো ভাবেই এটার সাথে সকলে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে আছে। আর সেটা মনে করিয়ে দেয় পৃথিবী তার নিয়মে চলে অহর্নিশ। এটাকে মেনে নিতে হয়। যে সহজে মানতে পারে সে সুখী। আর যে পারে না সে অসুখী। তুমিও মেনে নাও তোমার ডেস্টিনিকে।”
–“হ্যা, সব দোষ এই পোড়া ভাগ্যরই। কেঁড়ে নিতে নিতে আমার জীবনের সব সুখ কেঁড়ে নিলো। সবশেষে আমার নিষ্পাপ সন্তানদেরকেও ছাড়লো না। আমার পাপের শাস্তি আমার সন্তানরা পেলো। আমাকে নিঃস্ব করে ছাড়লো। যে লোকটার চোখে সবসময় আমার জন্য অনুভূতির জোয়ার দেখতে পেতাম, আজ তার চোখে আমার জন্য তাচ্ছিল্য। সবশেষে বোধহয় এটাই প্রাপ্য ছিলো।”
মীরা হা করে ভারী শ্বাস ছাড়লো। অতঃপর বলে উঠলো,
–“তুমি ভাইকে আজও চিনলে না। চিনবে কিভাবে? তোমার তো তার সম্পর্কে কখনো কিছু জানাই হলো না। আর না তো তুমি কখনো ভাইকে জানতে চেয়েছো।”
আমি এবার ধীরে ধীরে মীরার দিকে ফিরে শুলাম। জ্ঞান ফিরার পর থেকে কেঁদেই যাচ্ছি। ফলে বুকের ক্ষতস্থানে টান ধরেছে। বড্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। গুলি লাগার ফলে দেহ থেকে অনেক র’ক্তক্ষরণ হয়। বাইরে থেকে ব্লাড দেওয়া হয়েছে প্রচুর। দেহ এখনো পর্যন্ত রক্ত সঞ্চার করে উঠতে পারে নি বিধায় চোখ মুখ ফ্যাকাসে বর্ণের হয়ে আছে। সারাদিন এভাবে কাঁদার ফলে চোখমুখ ফুলে উঠেছে। চোখ দুটো অস্বাভাবিক লাল হয়ে আছে। মীরা হাত বাড়িয়ে আমার গাল দু’টো মুছে দিলো। অতঃপর বলে উঠলো,
–“খোঁজ নিয়ে দেখলে হয়তো দেখবে, পৃথিবীর সকল মানুষেরই কিছু না কিছু লুকায়িত গল্প থাকে। সময়ের সাথে সাথে সেও হারিয়ে যায় সাথে উন্মোচনহীন গল্পও।”
–“তার সম্পর্কে কি এমন জানা আজও বাকি আমার?”
মীরা আবারো দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ল। অতঃপর বলতে লাগলো,
আজ থেকে প্রায় চার পাঁচ বছর আগের কথা। একটা ভুল বুঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে ধ্বংসের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়েছিল দুই প্রেমিক পুরুষ। দু’জনই কঠিনভাবে এক নারীতে আসক্ত। যে পাবে সেই নারীকে, সেই ভাগ্যবান। দীর্ঘ সময় মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকে দুই প্রেমিক পুরুষ। কেউই এক নারীর দাবি ছাড়তে পারে না। ইফান ব্লা’ডিবিস্ট, এক দুধুর্ষ মাফিয়া। সে পৃথিবীতে থাকলে যা, না থাকলেও তা। আপন বলতে সে ছাড়া আর কেউ নেই তার। তাই না থাকলেই সকলের ভালো। ইফান সিদ্ধান্ত নিলো, জায়ান যদি সত্যি জারা মেয়েটাকে ইফানকে দিতে না চায় তাহলে তার হাতের বন্দুকের সবগুলো বুলেট নিজের মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিবে। আর রাখবে না তার এই রং বিহীন মরিচীকার জীবন। ইফান প্রস্তুত ছিল এটার জন্য। জায়ান শেষ অব্ধি জারা মেয়েটাকেই চেয়েছিলো। ইফান নিজেকে শুট করতে তৈরি হবে তক্ষুনি অজানা এক শত্রু জায়ানের বুকে গুলি চালালো। ঠিক সেই মূহুর্তে তুমিও উপস্থিত হলে। সব দায় পড়ল ইফানের উপর। অথচ অজানা শত্রুর ছুড়া পরপর দুটো বুলেটে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় দুধুর্ষ মাফিয়ার পিঠ। সে হেলে পড়ে যায়।
সেদিন জায়ান মারা গিয়ে বেঁচে যায়। আর ইফান বেঁচে থেকেও মরা লাশের মতো হয়ে যায়। জায়ান তার জীবনের শেষ অব্ধি কাতর নয়নে ইফানের দিকে তাকিয়ে ছিলো। তার বন্ধু সত্যিই তাকে গুলি করলো! ভালোবাসা পাওয়ার জন্য বন্ধুত্বকে খুন করলো! এক ভুল ধারণা নিয়ে তার পরান পাখি পৃথিবী থেকে পালিয়ে যায়। বিনা দোষে অপরাধী হয় ইফান। ইফানের সেদিনই জীবিদেহের মরণ হয়। জায়ানের আত্মা আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়, কেন এতো এতো বন্ধুত্বের কথা দেওয়ার পরও বন্ধুত্বকে নিজ হাতে শেষ করলো? ইফান বলতে চায়,
–“বিশ্বাস কর ভাই, তোর জন্য পুরো দুনিয়া জ্বালিয়ে দিতাম, আমি আমার প্রাণ দিয়ে দিতাম, তবুও তোকে আঘাত করতাম না।”
কিন্তু ইফানের কথাগুলো নিজের মধ্যেই আবদ্ধ হয়ে রইলো। পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া একটা প্রাণ বোধহয় ওপারে থেকেও আজও অভিযোগ করে, কেন কথা রাখলি না?
ইনান সঠিক সময়ে এসে সবার আড়ালে ইফানকে সেদিন ছাঁদ থেকে আহত অবস্থায় নিয়ে যায়। ভালো চিকিৎসার জন্য ফ্রান্সেই নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘ কয়েক মাস পর ইফানের জ্ঞান ফিরে। বাস্তবতায় ফিরতেই সবার আগে চানতে চায় তার জীবনের একমাত্র বন্ধু, একাকিত্বের সঙ্গী কোথায়? যখন জানলো আর নেই ঠিক তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ব্রেইন স্ট্রোক করে। দীর্ঘ বছরের পর বছর প্যারালাইসিস হয়ে হাসপাতালে পড়ে থাকে। পলক কাইসার বিশ্বের সবচেয়ে দামি উন্নত চিকিৎসা দিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ করে তুলে। মৃত্যুর কোল থেকে ইফানের ফিরে আসা বোধহয় সবচেয়ে বড় মিরাকল ছিলো। তারপর!”
একনাগাড়ে এতক্ষণ বলে থামলো মীরা। আমি নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করলাম,
–“তারপর?”
মীরা আমার মিইয়ে যাওয়া চেহারার পানে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললো,
–“তারপর তোমাকে নিজের কাছে জোর করে নিয়ে আসলো। কেন জান?”
–“কেন?”
–“কারণ ইফান চৌধুরী শাস্তি পেতে চায়। কঠিন এক শাস্তি, যা তাকে প্রতিনিয়ত যন্ত্রণা দিব। তার ভেতরটা পুড়িয়ে দগ্ধ করে দিবে। ঠিক ততটা যন্ত্রণা পেতে চায়, যতটা তার বন্ধু মৃত্যুর আগ মূহুর্তে অনুভব করেছিলো। ইফান চৌধুরী খুব ভালো করে জানে, জাহানারা শেখ এ জীবনে কোনোদিন ইফান চৌধুরী নামক পাপিষ্ঠ পুরুষকে ভালোবাসবে না। আর এটাই তার সবচেয়ে বড় শাস্তি।”
আমি চোখ বন্ধ করে নিলাম। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়লো তপ্ত নোনা জল। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে বলে উঠলাম,
–“ওর তো আরও কঠিন শাস্তি পাওয়া উচিত।”
সব সত্যি জানার পরও আমার এমন কথায় থ হয়ে গেল মীরা। অবিশ্বাস্য চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
–“এত কিছু জানার পরও!”
–“হ্যা, এত কিছু জানার পরও। আমি আমার বোনের খু’নিকে কোনোদিন ক্ষমা করবো না।”
–“মানে?”
মীরা আমার কথা বুঝে উঠতে পারছে না। আমি কান্না গিলে বলতে আরম্ভ করলাম পিছনে ফেলে আসা বিভৎস অতীতের ঘটনা…..
চলবে,,,,,,,,
নেক্সট পর্বে খেলা শুরু হতে চলেছে।☠️
🚫আগেও বলেছি, আমি আমার মতো করে ধারাবাহিক ভাবে গল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এখনো তাই। আমি কোনো তাড়াহুড়ো করছি না। গল্প ধারাবাহিক ভাবেই এগোচ্ছে। যেহেতু সম্পূর্ণ উপাখ্যান সাসপেন্সের উপর দাঁড়িয়ে তাই সবাইকে ধৈর্য ধরে শেষ অব্ধি পাশে থাকার অনুরোধ রইলো।
অনেক বড় পর্ব দিয়েছি, সারে চার হাজার প্লাস শব্দের। বানান ভুল থাকতে পারে। কষ্ট করে বুঝে পড়ে নিবেন। আর সবাই রিয়েক্ট দিয়ে গঠন মূলক মন্তব্য করে জানাবেন আজকের পর্ব কেমন হয়েছে।যারা পড়বেন সবাই রিয়েক্ট দিয়েন। আমিও তাড়াতাড়ি নতুন পর্ব নিয়ে হাজির হব।হ্যাপি রিডিং🫶
Share On:
TAGS: জান্নাত মুন, জাহানারা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জাহানারা পর্ব ৪১+৪২
-
জাহানারা পর্ব ২৩+২৪
-
জাহানারা পর্ব ১৫+১৬
-
জাহানারা পর্ব ৪৯+৫০
-
জাহানারা পর্ব ৩
-
জাহানারা পর্ব ৫৯+৬০
-
জাহানারা পর্ব ৩৯+৪০
-
জাহানারা পর্ব ৫৩+৫৪
-
জাহানারা পর্ব ৫৭+৫৮
-
জাহানারা পর্ব ২