“আমার পেটে বেবি ঢুকিয়ে দাও তূর্জান ভাইয়া! তাড়াতাড়ি দাও। “কথাটা শুনতেই তূর্জান বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে বসল। এই মেয়ে বলে কি?
“তুই তো এক বেবি, তোর আবার বেবি কিসের?”
“আমি বেবি না। তাছাড়া তোমার সাথে আমার একবছর আগে বিয়ে হয়েছে।আমি জানি! তাও তুমি আমাকে বেবির কথা বলোনি। আমি আজকে না জানলে তুমি আমাকে কোনোদিন বলতে না।”
“তোর বয়স কত? “
রোজা হাতে গুনে উত্তর দিল, “ দশ বছর।”
“ তুই অনেক ছোট, এসব বাজে কথা তোকে কে বলেছে? “
“ আমি ছোট না। বারবার ছোট বলছো কেন? আর এগুলো বাজে কথা না। আমি রাফেজ ভাইয়াকে বলতে শুনেছি, ভাইয়া আমার আপুকে বেবি দিবে। তুমিও তো আমার স্বামী আমাকেও তুমি বেবি দাও!”
তূর্জান কি বলবে, মনেমনে আওড়াল, “ রাকিব ভাইয়া তুমি বড় বউ নিয়ে বেড়াতে এসেছো ভালো কথা, কিন্তু তুমি আমার ছোট বউয়ের সামনে কি সব বলেছো?”
“ভাইয়া তুমি কি বলছো আমি শুনতে পাচ্ছি না। “
তূর্জান বলল, “রোজা তোর বয়স দশ বছর তাই না?”
“হুম!“ রোজা অভিজ্ঞদের মতো বলল। তূর্জান রোজাকে কোলে টেনে উরুতে বসিয়ে বলল,
“তুই এখন আমার জন্য নিষিদ্ধ মায়া! তাই এখন তোকে গভীরভাবে ছোঁয়া আমার জন্য বারণ। “
“তুমি তো আমাকে ছোঁও! এই যে এখন ও আমাকে ছুয়েছো?”
চলুন জেনে আসা যাক এদের পূর্ব কথা,
রেজাউল মির্জার দুই মেয়ে রোজাস্মিতা_মেহরোজ বয়স নয় বছর। আর রাফিয়া মেহরোজ বয়স সতেরো বছর।
তাজারুল নেওয়াজের স্ত্রী তানিয়া নেওয়াজ, তাদের দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে রাফেজ নেওয়াজ, বয়স তেইশ বছর।
মেজো ছেলে তূর্জান_নেওয়াজ, বয়স ঊনিশ বছর। ছোট মেয়ে তুবা নেওয়াজ, রোজার বয়সী।
তাজারুল নেওয়াজরা দুই ভাই তাজারুল নেওয়াজ বড়, ছোট ভাই মোস্তফা নেওয়াজ এবং তার স্ত্রী রেহেনা নেওয়াজ। এক ছেলে মিরান নেওয়াজ।মেয়ে নেই তাদের।
নেওয়াজ পরিবারের হঠাৎ একদিন খবর আসলো তাজারুল নেওয়াজের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু রেজাউল মির্জার বাড়িতে আগুন লেগেছে। নেওয়াজ পরিবারের জন্য মির্জা পরিবার ব্যবসার কাজে অনেক সাহায্য করেছিল, সেই সুবাদে বন্ধু থেকে পরিবারের লোক বেশি ছিল দুই পরিবার অন্য পরিবারের জন্য।
দুঃখের সংবাদ পেয়ে সবাই ছুটল মির্জা বাড়িতে। যাওয়ার পর জানতে পারলো তার বন্ধু আর তার সহধর্মিনী আর নেই। কিন্তু মেয়ে দুটোকে সবাই অনেক কষ্টে বাড়ি থেকে বের করেছে। রাফিয়ার কোনো সমস্যা না হলেও রোজা ছোট হওয়ায় তার মস্তিস্কে এই বিষয় আঘাত হেনেছে; তা রোজাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
দুদিন নেওয়াজ পরিবার ওখানেই ছিল। আসার সময় বাধলো বিপত্তি। গ্ৰামের কেউই ওদের দুবোনকে ছাড়তে রাজি নয়। তাদের ধারনা মির্জা পরিবারকে ইচ্ছাকৃত মাডার করা হয়েছে।ওদের দুবোনের ও খুব বিপদ সামনে, মির্জা পরিবার থেকে গ্ৰামবাসি অনেক উপকার পেয়েছে তারা কিছুতেই ওদের দুবোন কে একা ছাড়বে না।
গ্ৰামের সহজসরল মানুষ কিছুতেই বুঝতে চায়ছিলো না, ওরা দুবোন নেওয়াজ পরিবারের কাছে সেফ থাকবে। নেওয়াজ পরিবারের জোরাজোরিতে
হঠাৎ একজন বলে উঠলো,
“ তাহলে আপনার ছেলেদের সাথে ওদের বিয়ে দিয়ে নিয়ে যান। পরের মেয়ে মনে করে খেয়াল নাও রাখতে পারেন। আপনার ছেলের বউদের তো আর অবহেলা করতে পারবেন না। “
গ্ৰাম বাসী সবাই একমত পোষন করলো এই কথায়। নেওয়াজ পরিবার ও রোজা আর রাফিয়াকে রেখে যেতে নারাজ। কিছুতেই বন্ধুর শেষ আমানত হারাতে পারবে না। আর এমনিতেই রাফেজের সাথে রাফিয়ার বিয়ে হওয়ার ও কথা হচ্ছিলো। কিন্তু রোজা আর তূর্জান তো ছোট ওদের বিয়ে কি করে হবে। তাছাড়া তার তেড়া ছেলে এই বিয়ে জীবনেও মানবে না। তাজারুল নেওয়াজ বললেন,
“দেখুন রাফিয়া আর আমার বড় ছেলের বিয়ে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু রোজা ছোট ওর বিয়ের বয়স হয়নি। ওর বিয়ে দিয়ে নিয়ে গেলে আমরা বিপদে পড়ব। ওকে এমনিতেই আমার মেয়ে হিসাবে নিয়ে যাচ্ছি।”
কথা শেষ না হতেই একজন বলল,” দেখছিস তোরা এরা এখনই নিজেদের বিপদের কথা ভাবছে। তাহলে পরে কি করবে? যেতে দিব না আমরা আমাদের গ্ৰামের মেয়েকে, আমাদের
গ্ৰামের মেয়েরা আমাদের কাছেই থাকবে। “
গ্ৰামের সহজ সরল লোকজন তাজারুল নেওয়াজের কথার ভুল মানে বের করে বসল। তখনি মোস্তফা নেওয়াজ বলল,
“ভাইজান আমি বলি এখন গ্ৰামবাসী যা বলে তাই করো নয়তো এরা একবার খেপলে দুজনকেই রেখে যেতে হবে।”
পরে চারজোড়া হাত এক করা হলো। তূর্জান যদিও সেদিন থেকে দুইমাস পর্যন্ত রোজার মুখ অবদি দেখেনি। পরে রোজার প্রতি কিছুটা অনুভূতি জন্মে। তা দেখে রাহেলা নেওয়াজ বলে দিয়েছে। তূর্জান যেন রোজার আঠারো বছর না হওয়া পর্যন্ত সাবধানে থাকে। তূর্জানও দাদির কথা অনুযায়ী রোজার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। সেও প্রতিজ্ঞা করেছে তার অর্ধাঙ্গিনী কে সে আঠারো হওয়ার আগে নিষিদ্ধ স্পর্শ করবে না।
রাফিয়া বাবা মায়ের শোক কাটিয়ে উঠলেও রোজা পারেনি। সে প্রায় সেন্সলেস হয়ে যেত। আর ডাক্তার বলেছে রোজা যে কোনো সময় হয়তো সৃতি হারিয়ে ফেলতে পারে তাই ওকে যথাসম্ভব হাসিখুশি রাখতে।রোজা সবার থেকে তূর্জানের কাছে থাকতেই বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করে তাই কেউই আর এইসব বিষয়ে মাথা ঘামায় না।
তূর্জানও আস্তে আস্তে রোজার প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে যায়। আজ তাদের বিয়ের একবছর। যেহেতু তারা নাবালক অবস্থায় বিয়ে করেছে, তাই সবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা বড় হওয়ার পর যদি চায় এই সম্পর্ক ভাঙতে পারবে।
রাফিয়া এখন সুখে সংসার করছে। তূর্জান আর রাফেজ বিদেশ যাবে। তূর্জান তার গ্ৰাজুয়েশন শেষ করতে যাবে আর রাফেজ ব্যবসার কাজে, কিন্তু তূর্জান যতদিন থাকবে রাফেজও ওখানে থাকবে।
সেই যাওয়া উপলক্ষে বাড়ির সবাই ঘুরতে এসেছে।রাতে রোজা রাহেলা নেওয়াজের কাছ থেকে উঠে এসে এই সব বলছে।
তূর্জানকে রোজা আবার খোচাতে লাগলো, “ ভাইয়া বেবি দাও। তোমার পেট থেকে আমার পেটে দাও!”
তূর্জান বেশ বিপাকে পড়ল, এই মেয়ে তখন থেকে বলছে বেবি দাও! বেবি দাও! তূর্জান নিজেকে ধাতস্ত করে বলল,
“ আমার পেটে এখন বেবি নেই। আর তুই এখন আমাকে ভাইয়া বলে ডাকিস, যেদিন ভাইয়া বলবি না সেদিন বেবি দিবো তোকে! “
“কেন সেদিন দিবে কেন?”
“ সেদিন দিবো কারণ সেদিন দিলে বেবি আমাকে পাপা বলে ডাকবে, আর আজ দিলে মামা বলে ডাকবে। তাই!”
“ আচ্ছা আর ডাকবো না ভাইয়া এবার দাও!”
“ ওহু, যেদিন তোর আঠারো প্লাস হবে সেইদিন দিবো। “
রোজা হাত বাড়িয়ে বলল, “ আগে প্রমিস করো দিবা। “
তূর্জান হাত বাড়িয়ে বলল, “আগে তুই প্রমিস কর, তুই আমাকে ভুলে যাবি না, আর এই কথা কাউকে বলবি না।”
রোজা শক্ত হাতে নিজের ছোট্ট হাতখানা রেখে বলল, “প্রমিস, তোমাকে ভুলে যাবো না।” কাউকে কিছু বলবোও না। তুমি এবার আমাকে প্রমিস করো, তুমি আমায় বেবি দিবা। “
তূর্জান রোজার হাতের উপর নিজের অন্য হাত দিয়ে বলল, “ প্রমিস। “
ইনশাআল্লাহ চলবে….
সূচনাপর্ব প্রণয়েরমায়াতৃষ্ণা
ফারজানারহমানসেতু
Share On:
TAGS: প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা, ফারজানা রহমান সেতু
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE