নবরূপা
পর্ব_১৩
কলমেঅনামিকাতাহসিন_রোজা
বহুত দৌঁড়ঝাপের পর বিয়ের রেশ শেষ হলো। শ্বশুর বাড়ির মানুষদের এত অমায়িক আন্তরিকতা দেখে নীহারিকা এতটাই শক্ত হয়েছিল যে অসুস্থতাকে লুকিয়ে রেখেও হাসিমুখে বৌভাতের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পেরেছে। ইরফান বারণ করেছিল, আশ্বাস দিয়েছিল পরে অনুষ্ঠান করলেও সমস্যা হবে না। কিন্তু নীহারিকার নিজেরই ভীষণ লজ্জা লাগছিল৷ তাই সে মানে নি। মোটামুটি পাঁচ-ছদিন পর আপাতত বাড়ি এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়েছে। আত্মীয় স্বজনও বিদায় নিয়েছে দুপুরের দিকে। ইরফানের ছুটি শেষ হওয়াতে সে কলেজে চলে গিয়েছে সকাল সকাল। দুপুর তিনটার পরেই চলে আসার কথা তার। আজ ইরফান দেরিতে আসলেও বাড়িতে দুপুরের খাওয়া করবে বলে জানিয়েছে। এর সবচেয়ে বড় কারন হলো রান্নাঘরে প্রথমবারের মত পা রেখেছে নীহারিকা। আজকের রান্নাও সে করেছে। কয়েকদিন ভীষণ চাপে থাকায় আয়েশা বেগমের হাঁটু ব্যাথা বেড়েছে বলে তিনিও আর দ্বিমত পোষণ করেননি। তিনি ইনায়ার সাথে খেলা করছেন ও ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছেন। নীহারিকা কে অবশ্য রান্নায় সহযোগিতা করেছে তামান্না। ইয়াহিয়া কবিরও সকাল সকাল নিজের অফিসে গিয়েছেন। নিজস্ব বিজনেস রয়েছে তার। যদিও বেশিদিন আর করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বয়স হয়েছে, শরীরও চলছে না ঠিকমত।
রান্না থেকে শুরু করে সমস্ত কাজ শেষ করে নীহারিকা ঘরে চলে গেলো। তাড়াহুড়ো করে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নিল। এরপর আলমারি থেকে বের করলো অ্যাশ রঙের একটা শাড়ি। কিছুক্ষণ শাড়িটার দিকে তাকিয়ে থেকে সে তপ্ত শ্বাস ফেলল। এরপর মুচকি হাসলো। গতকালকে শাড়িটা তাকে উপহার দিয়েছে ইরফান কবির। কাঁপা হাতে শাড়ির প্যাকেট টা নীহারিকা কে দিতে গিয়ে যে কি কষ্টই না করেছে বেচারা ইরফান তা ভাবতেই নীহারিকার ভীষণ হাসি পাচ্ছে। আজব অবস্থা! নীহারিকা ভেবেছিল প্রথম প্রথম বলে ইরফান তার সাথে এত ভদ্র ব্যবহার করছে, মেপেবুঝে চলছে। অথচ এই লোক কিনা বরাবরই এমন? ধুর বাবা! এমন হলে কি চলে নাকি? নীহারিকা আর কিছু না ভেবে শাড়িটা পড়ে নিলো। চুল আলগা করে বেঁধে আবারো ছুট লাগালো আয়েশা বেগমের ঘরের দিকে।
ছোট্ট ইনায়া বিছানায় বসে হাতে একটা টেডি বিয়ার নিয়ে হাসিমুখে খেলছিল দাদির সাথে। আয়েশা বেগম শুয়ে থেকেই মাঝে মাঝে চুমু খেয়ে জড়িয়ে নেন ইনায়াকে। নীহারিকা ঘরে এসে এমন অবস্থা দেখে হেসে ফেলে। কাছে গিয়ে আয়েশা বেগম কে বলে,
—” ওকে নিয়ে যাই মা? সুজিটা খাইয়ে দিই। আপনার ছেলে তো একটু পরেই চলে আসবে।”
আয়েশা বেগমের চোখ লেগে এসেছিল। নাতনির জন্য টেনেটুনে কোনোমতে জেগে ছিলেন। নীহারিকা কে দেখে তিনি হেসে বললেন,
—” হ্যাঁ হ্যাঁ, জিজ্ঞেস করার কী আছে? যাও, নিয়ে যাও। আমিও তবে একটু ঘুমিয়ে নিই। “
নীহারিকা হেসে ইনায়াকে কোলে নিয়ে চলে যেতে নেয়। তখনি আয়েশা বেগম ডেকে বলে উঠলেন,
—” ওহ, শোনো বউমা, একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা।”
নীহারিকা পিছু ফিরে জানতে চাইলো,
—” জ্বি।”
আয়েশা বেগম শোয়া থেকে উঠে বসে বললেন,
—” ইরফান আসলে ওকে একটু বলিও তোমার শ্বশুরের অফিসে একটু ঝামেলা হয়েছে। আজ আসতে দেরি হবে। তাই তামান্না কে যেন ও-ই মিরপুরে দিয়ে আসে।’
নীহারিকা ভ্রু কুঁচকে তাকালো, জিজ্ঞেস করল,
—” কোথায় যাবে তামান্না?”
আয়েশা বেগম মুখ কুঁচকে স্বাভাবিক ভাবেই বললেন,
—” আর বোলো না, ওর মাঝে মাঝে ঘোরাঘুরির খু্ব নেশা ওঠে। মাসে অন্তত একবার ওর বান্ধবীর সাথে ঘুরতে যায়। তো আজ যেতে চাইছে। মিরপুরে ওর বান্ধবীর বাসা, ক-দিন হয়তো সেখানেই থাকবে।”
নীহারিকা বোঝার ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বেরিয়ে যায়। ইনায়া আধো স্বরে “তা-তা” করছিল দুহাত নাড়িয়ে। নীহারিকা ওকে আদর করতে করতে সিঁড়ির কাছে যেতে থাকে। তখন তামান্না কে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখে সে। সাথে সাথে ডেকে উঠে বলে,
—” তুমি নাকি আজ চলে যাবে?”
তামান্না একটুখানি থমকে গিয়ে পূর্ণদৃষ্টিতে তাকায় নীহারিকার দিকে। নীহারিকার পরনের শাড়িটায় চোখ আটকায় তার। শুকনো ঢোক গিলে সে কিছুক্ষণ মুগ্ধ হয়ে দেখে নীহারিকাকে। এরপর ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
—” চলে যাব মানে?”
নীহারিকা ইনায়ার গায়ে হাত বুলোতে বুলোতে বলে,
—” না মানে, সেরকম ভাবে বলিনি। মিরপুর যাবে শুনলাম!”
—” ওও হ্যাঁ। ঠিকই শুনেছো। বান্ধবীর বাসায় যাব। ঘোরাঘুরি করে আসব।”
নীহারিকা বেশ আগ্রহ নিয়ে শুধালো,
—” কোথায় ঘুরতে যাবে? “
—” আমরা তো একেক সময় একেক জায়গায় ঘুরতে যাই। কখনো গন্তব্য এক থাকে না। এবারে তিন জায়গায় ঘোরার পরিকল্পনা রয়েছে— যশোর, কুষ্টিয়া আর সাতক্ষীরা।”
নীহারিকা চোখ দিয়ে হেসে উৎফুল্লিত হয়ে বলল,
—” তাই নাকি? বেশ ভালো তো। দক্ষিণ অঞ্চলের জায়গা গুলো বেশ সুন্দর হয়৷ কুষ্টিয়াতে আমার ফুফুর বাড়ি।”
তামান্না ঠোঁট টিপে ভদ্রতার সাথে হাসলো। এরপর আরেকবার নীহারিকার শাড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,
—” শাড়িটা সুন্দর।”
নীহারিকা একটুখানি অপ্রস্তুত হলো। নিজের দিকে তাকিয়ে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে হাসলো শুধু। তামান্না নিজে থেকেই আবারো বলল,
—” ইরফান ভাই দিয়েছে তাইনা?”
নীহারিকা একটু থেমে বলল,
—” কীভাবে বুঝলে?’
তামান্না ভ্রু নাচিয়ে বলল,
—” ইরফান ভাই এমন রঙগুলো পছন্দ করেন। তাই মনে হলো। আন্দাজ করেই বলেছি। তোমাকে কিন্তু সুন্দর লাগছে ভীষণ। মানিয়েছে খুব!”
নীহারিকা হেসে ধন্যবাদ জানালে তামান্না এগিয়ে এসে ইনায়াকে আদর করে দেয়। এরপর নীহারিকা কে জিজ্ঞেস করে,
—” খিঁচুড়ি, পায়েশ, গরুর মাংস বানাতে পারো?”
নীহারিকা অবাক হয়ে তাকায় তামান্নার দিকে। সত্যি বলতে মেয়েটার ব্যবহার ভালো হলেও মাঝে মাঝে হুটহাট করে এমন কথা বলে যে নীহারিকা তব্দা খেয়ে যায়। অস্বাভাবিক মনে হয় তখন! নীহারিকা জোরপূর্বক হাসলো। নিজের মনের অস্বস্তি ধরা না দিয়ে বলল,
—” হুম পারি।”
তামান্না আরো মিষ্টি করে বলল,
—” যাক, তাহলে তো ভালোই। ঝাল করে চিকেন রোস্টও বানানো শিখে নিও। এইসব খাবার গুলো তোমার বরের খুব পছন্দ। সিক্রেট বলে দিলাম। কাজে আসবে।”
বলেই হেসে চলে গেলো তামান্না। তার সাথে নীহারিকাও হাসলো। কিন্তু তামান্নার প্রস্থানের পরই তার হাসি মিলিয়ে গেলো। অদ্ভুত দৃষ্টিতে সে তাকিয়ে রইলো উপরের দিকে। নাহ, নীহারিকা মোটেই অবাক হচ্ছে না এই ভেবে যে তামান্না কীভাবে ইরফানের সব পছন্দের কথাগুলো জানে। এ বিষয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এক বাড়িতে থাকে, সম্পর্কে ভাই-বোন হয়। সবকিছু জানতেই পারে। কিন্তু নীহারিকা অবাক হচ্ছে কারণ, এই একই কথাগুলো তামান্না সকাল থেকে তাকে তিনবার বলেছে। এমনকি রান্না করার সময়েও তামান্না একই কথাগুলো তাকে বলেছে। তাহলে এখন কেনো আবার বলে গেলো? তাও আবার এমনভাবে যেন প্রথমবার বলছে।
নীহারিকা ভীষণ সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবতে থাকলে কলিং বেল বেজে ওঠার শব্দে সে চমকে ওঠে। ইনায়াকে চেপে ধরে দৌঁড় দেয় সদর দরজার দিকে। দ্রুত দরজা খুলে দিতেই বিকেলের মিষ্টি রোদটা সোজা এসে পড়লো নীহারিকার মুখে। সদর দরজায় ইরফান দাঁড়ানো, কপালে হালকা ঘাম, শার্টের হাতা একটু গোটানো, চোখে ক্লান্তির রেখা—কিন্তু সেই ক্লান্তির ভেতরেও একরাশ অপেক্ষা।
ইরফান নীহারিকার দিকে তাকাতেই থমকে গেলো। অ্যাশ রঙের শাড়িটা নরম আলোয় আরও মৃদু হয়ে উঠেছে। চুল আলগা করে বাঁধা, কপালে ছোট্ট টিপ, ঠোঁটে খুব স্বাভাবিক একটা হাসি। কিছু সেকেন্ড সে শুধু তাকিয়েই রইলো। এই বাড়িটা তো ইরফানের বহুদিনের চেনা। এই দরজা, এই বারান্দা, এই সিঁড়ি সবই নিজের। কিন্তু আজ, আজ যেন প্রথমবার ঘরে ফিরছে সে। ইনায়া নিজের বাবাকে দেখেই খুশিতে হাত নাড়লো।
—” বাবা!”
ইরফানের ঠোঁটে হাসি ফুটলো। সে ব্যাগটা নামিয়ে নীহারিকার হাতে দিয়ে দু”হাত বাড়িয়ে কোলে নিল ইনায়াকে,
—”আরে আমার মা! “
নীহারিকা খুব সাবধানে ইনায়াকে এগিয়ে দিলো তার দিকে। ইরফান মেয়েকে কোলে তুলতেই ইনায়া গলা জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে। সারাদিনের ক্লান্তি যেন এই এক আলিঙ্গনেই গলে গেল। মেয়ের মাথায় চুমু খেতে খেতে ইরফানের দৃষ্টি আবার চলে গেল নীহারিকার দিকে। শাড়ির আঁচলটা একটু কাঁধ থেকে নেমে এসেছিল, সে তাড়াতাড়ি টেনে নিলো। চোখ নামিয়ে বললো,
—” একটু দেরি করলেন আজ!”
ইরফান ধীরে মাথা নাড়ল। পকেট থেকে একটা কিছু বের করে নীহারিকার হাতে দিয়ে বলল,
—” হ্যাঁ, এটা খুঁজতে গিয়েছিলাম তো।”
নীহারিকা হাতে থাকা অজানা জিনিসটার দিকে তাকালো। ছোট্ট প্যাকেটের ভেতরে তাকাতেই চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো তার। ইরফানের দিকে তাকিয়ে বেশ জোরেসোরেই বলে উঠলো,
—” শিমুল ফুল! আল্লাহ! আপনি কোথায় পেলেন?”
ইরফান চোখ বড় করে তাকালো নীহারিকার দিকে। অভিযোগের দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
—” তোমার মাম্মা তো দেখি তোমার থেকেও বেশি জোরে চেঁচাতে পারে। তুমি শিখিয়েছো?”
নীহারিকা চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে এগিয়ে এলো। ইরফানের দিকে তাকিয়ে বলল,
—” উফ! আপনি তো আচ্ছা ঝামেলার মানুষ! আমি আপনাকে বলেছিলাম এই জিনিস আনতে? না জানি কোথা থেকে নিয়ে এসেছে! কোথায় পেলেন বলুন তো?”
ইরফানের চোখ এখনো নীহারিকার উপরই। সে মুচকি হেসে ফেলল। এই মেয়েটা যখন জ্বরে কাহিল ছিল, তখন হুট করেই আধবোঁজা চোখে তাকিয়ে আবদার করেছিল শিমুল ফুলের। সেই সময় ইরফান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়েছিল। বোঝেনি নীহারিকা কেনো মাঝরাতে এমন অদ্ভুত আবদার করলো। পরে বুঝেছিল জ্বরের ঘোরে নীহারিকা ভুলেই নিজের পছন্দের ফুলটা ইরফানের কাছ থেকে পেতে চেয়েছিল। তখন তো ইরফানের পক্ষে সম্ভব ছিল না ফুলটা এনে দেয়ার।তাই সে ভেবেছিল মেয়েটা সুস্থ হলেই সে এনে দেবে যেখান থেকেই হোক না কেনো।
ইরফান সেভাবেই বলল,
—” তুমিই তো বলেছিলে এই ফুল আনতে!”
নীহারিকা অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল,
—” কি আশ্চর্য! কখন?”
—” সেদিন রাতে।”
নীহারিকা অসহায় চোখে তাকিয়ে বলল,
—” আমি তো আপনাকে বলেছিলাম জ্বর উঠলে আমি যা-তা বকতে থাকি। উল্টোবাল্টা কথাবার্তা বলি। ওসব কেনো ধরতে গিয়েছেন আপনি?”
ইরফান নীহারিকার হাব-ভাব দেখে অবাক হলো। কেমন যেন গিন্নি গিন্নি লাগছে মেয়েটা কে। অকারণে বুকের ভেতরটা ভরে উঠলো ইরফানের। এক ধরনের শান্তি। কেউ অপেক্ষা করেছে। কেউ দরজা খুলে দিয়েছে। কেউ তার সাথে কথা বলছে। বকাবকি করছে! ফিক করে হেসে ফেলল ইরফান।
নীহারিকা একটু ইতস্তত করে বলল,
—” কি আশ্চর্য! আবার হাসছেন?”
ইরফান সাথে সাথে মুখ গম্ভীর করলো,
—” মোটেই না। আমি তো আমার মেয়ের সাথে খেলা করছি।”
নীহারিকা চোখ সরু করে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
—” হুহ, মিথ্যুক!”
মুখ ভোঙচিয়ে আবারো ইরফানকে জিজ্ঞেস করল,
—” বলুন না এই ফুল কোথায় পেলেন?”
ইরফান এবারে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,
—” তোমার কী মনে হয়, সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে খুঁজে নিয়ে এসেছি?”
নীহারিকা দুদিকে মাথা নেড়ে না বোঝায়। ইরফান এবারে ক্লান্ত ভঙ্গিতে বলে,
—” আমার কলেজ থেকে একটু দূরে একটা পার্ক আছে। যুবমৈত্রী পার্ক, নদীর পাশে। সেখান থেকে এনেছি।”
নীহারিকা এবারে যেন শান্ত হলো। ফুলগুলো দুহাতের মুঠোয় নিয়ে হাসিমুখে তাকিয়ে বলল,
—” শুকরিয়া।”
ইরফান হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো। শুধু লোকেশন টা জানার জন্য এত লাফালাফি করছিল মেয়েটা। নীহারিকা একটা ফুল ইনায়ার হাতে দিয়ে ইনায়াকে কোলে নিয়ে বলল,
—” হাত-মুখ ধুয়ে নিন। খাবার রেডি।”
—” কিন্তু আমি তো খেয়ে এসেছি।”
ইরফানের কথাটা শুনে নীহারিকার মুখের উজ্জ্বলতা কমে গেলো ধপ করে।
—” খেয়ে এসেছেন?”
ইরফান ঠোঁট কাঁমড়ে মাথা ঝাঁকিয়ে হ্যাঁ বোঝালে নীহারিকা কিছুই বলে না। মুখ গোমড়া করে চলে যেতে চাইলে ইরফান আঁচল চেপে ধরে। নীহারিকা পিছু ঘুরে তাকায়। চোখে মন খারাপের রেশ স্পষ্ট দেখে ইরফান বলে,
—” জিজ্ঞেস করবে না কী খেয়ে এসেছি?”
নীহারিকা সেভাবেই জিজ্ঞেস করে,
—” হুম। কী খেয়ে এসেছেন?’
ইরফান একটুখানি এগিয়ে এসে নীহারিকার দিকে মাথা ঝুঁকিয়ে বেশ গুরুতর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
—” হাওয়া-বাতাস!”
নীহারিকা নাক-মুখ কুঁচকে তাকাতেই ইরফান আর হাসি চেপে রাখতে পারে না। হো হো করে হাসতে শুরু করে। নীহারিকা রীতিমতো আহাম্মক বনে যায়, কিছুক্ষন পর নিজের বোকামি বুঝতে পেরে সে মুখ ভেঙচিয়ে বলে,
—’ আপনাকে আমি ভদ্র লোক ভেবেছিলাম। মা ঠিকই বলেছিলেন, আপনি আসলেই একটা খারাপ লোক। ধুর, শুধু শুধু সময় নষ্ট করলেন। খাবার গরম করতে কি সময় লাগবেনা? আমিও একটা আহাম্মক যে আপনার কথা ধরেছি।”
ইরফান ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
—” তা তো তুমি বটেই। আজ আমার বউ প্রথম রান্না করেছে আমার জন্য আর আমি বাইরে থেকে খেয়ে আসব? তা কী হয়?”
‘বউ’ শব্দটা শুনে নীহারিকার গাল হালকা লাল হয়ে উঠলো।
—” এত বড় করে বলার কিছু নেই।”
—”আমার কাছে আছে।”
ইরফান শান্ত গলায় বলল। চোখে অদ্ভুত মায়া ফুটে উঠলো মুহূর্তেই। নীহারিকা এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে এবারে দ্রুত প্রস্থান নিলো। ইরফান সেদিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে ফেলল।
পুরো দৃশ্য টাই উপরে রেলিং ঘেষে দাঁড়িয়ে থাকা তামান্না দেখলো। অনুভূতিশূন্য দৃষ্টি তার। তবুও কেনো যেন চোখে কিছু একটা দেখা গেল। তামান্না বিড়বিড় করে ধীর গলায় বলল,
—” এত কম সময়ে এত দরদ? কি জাদু জানে মেয়েটা? কীভাবে পারলো এত দ্রুত সবকিছু নিজের করে নিতে? আমি এতদিনের চেষ্টাতেও কেনো পারলাম না? কেনো? কী কমতি ছিল?”
চলবে…
😞 নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করছি গাইস! রেসপন্স করে সহযোগীতা করুন আমায়। খুব তাড়াতাড়ি আরো সারপ্রাইজ আসছে…
Share On:
TAGS: অনামিকা তাহসিন রোজা, নবরূপা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নবরূপা পর্ব ১
-
নবরূপা পর্ব ২
-
নবরূপা পর্ব ৩
-
নবরূপা পর্ব ১০
-
নবরূপা পর্ব ১২
-
নবরূপা পর্ব ১১
-
নবরূপা পর্ব ৮
-
নবরূপা পর্ব ৪
-
নবরূপা পর্ব ৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
নবরূপা গল্পের লিংক