Golpo romantic golpo কি আবেশে

কি আবেশে পর্ব ১১


কি_আবেশে (১১)

জেরিন_আক্তার

মেরাবের মুখে মিসেস খান শব্দ শুনতেই স্নেহা তব্দা খেয়ে গেলো। আসফাস করতে করতে উঠে দাড়ালো। মেরাব বুঝতে পারলো এতো আগেই স্নেহাকে সবার সামনে তার ওয়াইফ হিসেবে পরিচয় করানো উচিত হবে না। তাই কথার প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বলে উঠলো,

‘ তোমার সামনে দুটো ব্রেঞ্চ ফাঁকা আছে সেগুলোতে না বসে পেছনে বসেছো কেনো? পড়া ফাঁকি দেওয়ার জন্য? ’

স্নেহা আর জুই সামনে এসে বসলো। জুই শয়তানি করে বলে উঠে,

‘স্যার ওর তো বিয়ে হয়নি তাহলে ওকে মিসেস খান বললেন যে?’

মেরাব গম্ভীর গলায় বলে উঠে,

‘ মিসটেক হয়ে গিয়েছে। আর তোমরা তো পড়া ফাঁকি দেওয়ার জন্য খান সাহেবের মতো পেছনে বসো। ’

স্নেহা জুঁইকে থামিয়ে বির বির করে বলে উঠে,,,তুই চুপ থাকবি! উনি মনে করছেন যে আমি কোনো পড়া পারি না। তাই তিনি নিজের মতো ঠেস মেরে মেরে কথা বলছে। শুধু সময় আসতে দে উনাকে ইচ্ছে মতো ঠেস মেরে মেরে কথা বলবো।

মেরাব লেকচার দিতে শুরু করলো। স্নেহা ও তার দিকে তাকিয়েই লেকচার শুনছে। আশেপাশের বান্ধবীরা কানাকানি করছে নতুন স্যার এসে একটু গল্প না করেই প্রথম দিনেই ভরপুর ক্লাস করাচ্ছে।

এর মধ্যে মেরাব জিজ্ঞাসা করে,

‘ এই ক্লাসের টপার কে? ’

সামনের ব্রেঞ্চে থেকে একটা মেয়ে বলে,

‘ স্যার, স্নেহা। ’

স্নেহা উঠে দাড়িয়ে বলে,

‘ স্যার আমি। ’

মেরাব ভ্রু উঠিয়ে মনে মনে বলে,,, এতো দেখি একধাপ এগিয়েই আছে।

ক্লাস টা শেষ হতেই মেরাব সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠে,

‘ হেই , অল স্টুডেন্ট, আজকে প্রথম এসেছি বলে তেমন কোনো ফোকাস দিলাম না তোমাদের উপর। তবে কে কি কানাকানি করেছো সব শুনেছি। আজ কিছু বললাম না। তবে কালকে আর ছাড়াছাড়ি নেই। ’

এই বলে মেরাব চলে গেলো। স্নেহা বির বির করে বলে,,,এহ এসেছে! উনি নায়কের বেশে আসবে আবার কেউ কানাকানি করলেই দোষ।

কলেজ ছুটির পরে স্নেহা আর জুই একসাথে দাড়িয়ে আছে মৌয়ের জন্য। জুই হেসে হেসে বলে উঠে,

‘ কিরে আজ তোর জামাই তোকে ক্লাসে পরিচয় করাতে গিয়েও থেমে গেলো কেনো রে? ’

‘ এই তুই চুপ করবি! ’

‘ কেনো জেলাস হচ্ছে নাকি? ’

‘ না। জেলাস হচ্ছে না। বুকটা ছিঁড়ে যাচ্ছে। প্রথম দিনেই সব মেয়ের ক্রাশ হয়ে গিয়েছে। ’

‘ সবার ক্রাশ আর তোর জামাই। তোর আর কি চিন্তা। মানুষটাই তো তোর। ’

স্নেহা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,

‘ আর জামাই! একবেলা ঝগড়া করবে আবার একবেলা কেয়ার করবে। ’

‘ এটাই তো হয়। ’

দুজনের কথা বলতে বলতে মৌ এলো। এসে স্নেহাকেবলে,

‘ আপু চলো। ভাইয়া বাহিরে ওয়েট করছে। ’

পাশ থেকে জুই মৌকে বলে,

‘ ভাবীকে এখনও আপু বলছিস কেনো রে? ’

মৌ জিভে কামড় দিয়ে বলে,

‘ জুই আপু মনে থাকে না। কি করবো? ’

‘ শোন তোকে একটা এডভাইস দেই। সেইটা করলে মনে থাকবে। ’

‘ কি এডভাইস আপু? ’

‘ তুই স্নেহার কপালে ভাবী লিখে রাখবি তাহলে যখন ওকে দেখবি তখনই মনে থাকবে। ’

মৌ হেসে উঠলো। স্নেহা এদিকে রাগে জ্বলেপুড়ে শেষ হচ্ছে। মৌ বলে,

‘ চেষ্টা করবো। আর এখন চলো আপু। ’

স্নেহা মৌয়ের সাথে চলে যায়। কলেজের বাহিরে এসে দেখে মেরাব গাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে। স্নেহা আর মৌ গাড়িতে উঠে বসলো। মেরাব গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে মৌয়ের সাথে কথা বলছে। স্নেহা জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। কোনো কথাই বলছে না। মেরাবও আর কিছু বলেনি ওকে।

তিনজনই বাড়িতে ফিরে আসে। স্নেহা গাড়ি থেকে নেমে আগে আগে চলে যায় ভিতরে। নিজের রুমে এসে বোরখা খুলে, জামাকাপড় নিয়ে ওয়াসরুমে ঢুকে। মেরাব রুমে এসে দেখে স্নেহা আগেই ওয়াসরুমে ঢুকে গিয়েছে। মেরাব নিজের জামাকাপড় খুলে বাস্কেটে রেখে বিছানায় বসলো। সকাল থেকে ফোনটা হাতে নিতেই পারেনি। মনের ভুলে ফোনটা রেখেই কলেজে চলে গিয়েছিল। এখন ফোনটা হাতে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকলো। সেখানে দেখতে পায় আসিফ মেসেজ দিয়েছে সেই সকালে। লিখেছে— বন্ধু তুই যেটা খুজতে বলেছিলি সেটা পেয়ে গিয়েছি।

মেরাব তৎক্ষণাৎ উঠে দাড়িয়ে ওয়াশরুমের দিকে তাকিয়ে বলে,

‘ তোমার কি আজকে হবে না? তাড়াতাড়ি বের হও। আমি এক জায়গায় যাবো। ’

স্নেহা হিতাহিত রেগে যায়। একটা মানুষ এত অধৈর্য্য। এমন মানুষ আগে দেখেনি স্নেহা। সাথে সাথে বলে উঠে,

‘ পারবোনা আপনি বসে থাকুন। ’

মেরাব কড়া গলায় বলে,

‘ পাঁচ মিনিটে বের হবে। যদি একমিনিট বেশি হয় তাহলে বাহিরে থেকে লক করে দিবো। ’

ভিতরে থেকে স্নেহার উত্তর আসে না। মেরাব ফোন রেখে দেয়। আসিফকে বলছিলো একটা খবর আনার জন্য। স্নেহার বাবা যে বিয়ে করেছে, সেই বউ আর মেয়ে কোথায় আছে সেটা জানার জন্য। আসিফ সেটা বের করতে পেরেছে। সেখানেই এখন যাবে। অনেক খুঁজেছে মেরাব কিন্তু পায়নি। যদি ওদের পেয়ে যায় আজকে তাহলে আজই ওদেরকে অন্য জায়গায় সরিয়ে রাখবে। এরপরে শুরু হবে আসল খেলা।

মেরাব যেনো ধৈর্য ধরতে পারছে না। একদিকে শরীরটা এমনেই ঘেমে গিয়েছে তার মধ্যে আবার তার ঘামের স্মেল সহ্য হয়না। এর একটু পরে স্নেহা বেরিয়ে আসে। মেরাব ওকে খেয়াল নাকরেই ওয়াসরুমে ঢুকে গেলো। এদিকে স্নেহা শাড়ির কুচি হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। ভেবেছে মেরাবকে দিয়ে কুচিটা ঠিক করবে। কিন্তু এই খান সাহেব তো তাকালোই না। চলে গেলো।

স্নেহা অভিমানে গাল ফুলিয়ে বিছানায় বসে থাকে। মেরাব তাড়াতাড়ি শাওয়ার নিয়ে বের হলো। চুল গুলো মুছতে মুছতে শার্ট পড়তে থাকে। ঠিক তখন স্নেহা বলে,

‘ কোথাও যাচ্ছেন? ’

‘ হ্যাঁ। কেনো? ’

স্নেহা তখন উঠে গুটিগুটি পায়ে মেরাবের সামনে এসে দাঁড়ায়। মেরাব টাওয়াল রেখে বলে,

‘ কিছু বলবে? ’

স্নেহা শাড়ির কুচিটা এগিয়ে দিয়ে বলে,

‘ হুম। একটু ঠিক করে দিন না। ’

মেরাব কুচি টা হাতে নিয়ে তাড়াতাড়ি করে ঠিক করতে থাকে। স্নেহা তার দিকে তাকিয়ে বলে,

‘ কোথায় যাচ্ছেন জানতে পারি? ’

‘ তোমার বাবার দ্বিতীয় বউয়ের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। ’

স্নেহা মুখ ভেংচি কেটে বলে,

‘ কিহ? ’

‘ হুম। আজ যদি উনাকে পাই তাহলে অনেক কিছু জানতে পারব। ’

‘ কি জানতে পারবেন? ’

মেরাব স্বাস ছেড়ে বলে,

‘ আমার মা মৃত্যুর আগে উনাকে কি কি বলে গিয়েছে এগুলো শোনার জন্য যাবো। আমার মায়ের মৃত্যুর পেছনে উনার হাত আছেই। ’

স্নেহা ভাবুক গলায় বলে,

‘ কিন্তু মামিমা তো সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছে। আর আপনি অন্য একজনকে দোষারোপ করছেন। না মানে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। ’

মেরাব শাড়ির কুচিটা স্নেহার হাতে দিয়ে নিজের চুল ঠিক করতে থাকে। বিছানায় থাকা ফোন টা বেজে উঠে। মেরাব স্নেহাকে বলে,

‘ ফোন টা দাও! ’

স্নেহা ফোন টা মেরাবকে দেয়। আসিফ ফোন করেছে,। মেরাব ফোন টা কানে নিতেই ওপাশে থেকে আসিফ বলে,

‘ এই তুই সারাদিন কোথায় ছিলি রে? সেই সকাল থেকে ফোন দিয়ে যাচ্ছি। মেসেজও দিয়েছি। একটার রিপ্লাই দিবি তো। কোনোটারই রিপ্লাই দিসনি। ’

‘ তুই একটু দাড়া। আমি এক্ষুনি বের হচ্ছি। ’

‘ ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি আয়। ’

মেরাব ফোন কেটে দিয়ে পকেটে ভরলো। এরপরে শরীরে পারফিউম স্প্রে করে গাড়ির চাবি খুজতে লাগলো। স্নেহা শুধু মেরাবের ভাব- ভঙ্গি দেখে যাচ্ছে। মেরাব গাড়ির চাবি নিয়ে চলে যাবে ঠিক তখন স্নেহার সামনে এসে বলে,

‘ আমার মা এমনি এমনি সিঁড়ি থেকে পড়ে মারা যায়নি। আমার মাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমার চোখের সামনে। আর সেটা করেছে তোমার বাবা আর তার দ্বিতীয় বউ। কথা গুলো কাউকে বলিনি। তোমাকে আজ বিশ্বাস করে বললাম। আশা করি তুমি কাউকে বলবে না। ’

স্নেহা এই কথা শুনতেই পিছিয়ে গেলো। মেরাবের কথাগুলো মোটেও মিথ্যে মনে হচ্ছে না। এত বড় সত্যি মেরাব নিজের মধ্যে এতোগুলো বছর জমাট বাঁধিয়ে রেখেছিল ভাবতেই তার গা শিউরে উঠে। আর এর মধ্যে তার বাবাও নাকি জড়িত। স্নেহা কাদতে থাকে। মেরাব স্নেহার চোখের পানি দেখেও কিছু বললো না। রুম থেকে বেরোনোর জন্য পা বাড়ালো। স্নেহা মেরাবের হাত ধরে বলে উঠলো,

‘ শুনুন না, একটু দাঁড়ান! ’

মেরাব পেছনে তাকিয়ে বলে,

‘ কি, তাড়াতাড়ি বলো! ’

‘ আমায় নিয়ে যাবেন সাথে? আমি আপনার সাথে যেতে চাই। ’

মেরাব কি যেনো ভেবে বলে উঠে,

‘ ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে এসো! ’

চলবে….

পরবর্তী পর্ব কালকে দুপুর ৩ টায় আসবে। এর আগে আসবে না আর অন্য পেজ গলায় আমার এই গল্পের ১৪ নাম্বার পার্ট পর্যন্ত বের হয়ে গেছে। যা আমার লেখা না। এই জন্যই কালকে গল্প দেইনি। আপনারা সেগুলো প্লিজ ইগনোর করবেন।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply