Golpo romantic golpo প্রেয়সীর অনুরাগ

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১৫ (শেষ অংশ)


প্রেয়সীর_অনুরাগ

লেখনিতে —#সাদিয়াজাহানসিমি

পর্ব_১৫ (শেষ অংশ)

(কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।❌)

আভিয়ান হতব্হিল হয়ে রইল। চোখের পলক ফেলতে যেন ভুলে গিয়েছে। ও কোন পাকা ধানে মই দিয়েছিল জীবনে? কোথায় মনে পড়ছে না তো। তাহলে কেনো ওর মায়াবীর মুখ থেকে এহেন সম্বন্ধ শুনতে হয়! একবার আঙ্কেল তো আরেকবার বড় ভাই। বুকের বাম পাশে হাত রেখে শুকনো ঢোক গিলে। হৃৎপিণ্ড বুঝি এই বেরিয়ে এলো। আভিয়ানকে এমন মুর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রাফসা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে, “কি হলো আপনার? বুকে হাত দিয়ে রেখেছেন কেন? পাথর লেগেছে বুকে!”

আভিয়ান শুকনো ঢোক গিলে। রাফসার কথায় ঠোঁট কামড়ে হাসে। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে একগাল হেসে বলে, “না মায়,, মানে এমনি পেইন হচ্ছে। পাথর লাগেনি। তুমি এখানে কি করছো? কোথায় এসেছো এতো রাতে?”

“ফ্রেন্ডরা মিলে রেস্টুরেন্টে এসেছিলাম খেতে। বের হতেই ঝামেলা বেঁধে গেলো। এইসব আবালের জন্য শান্তি নেই।”

আভিয়ান মাথা নাড়ল। মাথা নিচু করে খানিক হেসে উঠলো রাফসার কথায়। ওর মায়াবীর মুখ থেকে আবাল শব্দটা শুনেছে বহুবার।
“তুমি কি সবসময় আবাল এটাই বলো‌! আর কোনো গালি পারো না?”

আভিয়ানের কথায় সায়মা সাবিকুনকে খোঁচা মেরে বসে। কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে, “দেখ, আমাদের সাদু গালি পারে না।”

“হুঁ, তাই তো দেখছি।”

আভিয়ান ঠোঁট দুটো কামড়ে ধরে আছে। আভিয়ানের কথায় রাফসা চোখা হাসে। নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে, “না , আমি তেমন গালি পারি না। শুধু দুই একটা পারি। যেমন; মাদারচোদ, আবাল,কুওার বাচ্চা,বাল,সুদানিরপোয়া। এই সাধারণ গালি গুলোই জানি বড় ভাই।”

রাফসার কথায় কাশি উঠে যায় আভিয়ানের। মারাত্মক লেভেলের গালি ! বেচারা কখনো ভাবেনি,ওর মায়াবীর মুখে এসব গালি শুনতে হবে। আভিয়ান অনবরত কাঁশতে থাকে। যা দেখে রাফসার হাতে থাকা পানির বোতল নিয়ে আভিয়ানের সামনে এসে দাঁড়ায়। রেস্টুরেন্টে পাঁচ টা ছোট বতোল দিয়েছিল। সবারটা খাওয়া হয়ে গেলেও রাফসার বোতলে বেশ খানিকটা পানি ছিল। সেটা আর ফেলে আসেনি। ওর একটাই কথা টাকা দিয়ে কিনেছে যখন ফেলবে কেন? রাফসা বোতলে ছিপি খুলে তড়িঘড়ি করে শুধায়, “এই পানিটা খাবেন? আসলে, আমি মুখ লাগিয়ে খেয়েছি।”

আভিয়ান কথাটা শুনে মৃদু মাথা নাড়ল। রাফসা মুখের কাছে বোতল ধরতেই আভিয়ান হাঁ করে পানি খেয়ে নিল। এক নিমিষেই পুরো পানিটা সাবার করে দেয় আভিয়ান। কাশিটা কমেছে অনেক। তবে পুরোপুরি কমেনি। জোরে জোরে কয়েকটা শ্বাস নিয়ে ধীর কন্ঠে বলে, “তোমার গালি শুনে আমি মঙ্গলগ্রহে চলে গেছি।”

আভিয়ানের কথায় রাফসা চোখ ছোট ছোট করে বলে, “কোথায় মঙ্গলগ্রহে চলে গেলেন? আপনি তো আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন। সজ্ঞানে ফিরুন বড় ভাই, আমরা পৃথিবীতে আছি। এ্যাই বড় ভাই,এ্যাই আপনি কি বাংলা মাল খেয়েছেন!”

রাফসার এহেন কথায় থতমত খেয়ে গেল আভিয়ান। চক্ষু চড়কগাছ। এক্ষুনি যেন চোখজোড়া কোটর থেকে বেরিয়ে আসবে। এই কোন পাপের শাস্তি পাচ্ছে ও! জিন্দিগি বরবাদ করে দিল। অসহায় হয়ে জিজ্ঞেস করে, “এমন কেন মনে হলো তোমার!”

“মাল খেয়ে মানুষ টাল হয়ে পড়ে থাকলে উল্টো পাল্টা বকে। এই যেমন, আপনি এখন বললেন মঙ্গলগ্রহে চলে গেছেন। আর বাংলা মাল খেলে তো উল্টাপাল্টা বলবেনই। ওটা তো কম দামে। এক কাজ করবেন, আজ থেকে বিদেশী মাল খাবেন। তাহলে এতো উল্টো পাল্টা বকবেন না। হুঁ?‌ আর যদি নেশা না করেন, তাহলে এই গানটা ধরবেন,

 বাংলা মাল ছেড়ে হাতে শরবত নিয়াছি 
    বৈরাগ হইয়া কপালে তিলক লাগাইছি 

এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে থামে রাফসা। সাবিকুন সায়মা শব্দ করে হেসে উঠলো। আর আভিয়ানের চোখ যেন বিশ্বাস করতে পারছেনা ওর মায়াবী আজ এতো কথা বলছে। তাও যে – সে কথা নয়লা। একেবারে অবাস্তব কথা।
“সাদু চুপ কর। আর ফাজলামো করিস না।”

কিছুটা ধমকে বলে কথাটা সায়মা। আভিয়ানের পছন্দ হলো না। ওর সামনেই ওর মায়াবীকে কেউ ধমক দিচ্ছে। কত বড় কলিজা। আভিয়ান বিরক্ত চোখে সায়মার পানে তাকিয়ে ডান হাত উঠালো। অর্থাৎ চুপ থাকো। সায়মা চুপ করে গেল। আভিয়ান চোখ ঘুরিয়ে রাফসার পানে তাকিয়ে মৃদু হাসলো। একটু আগের বিরক্তটা নেই।
“তোমার ও কি এসব খাওয়ার ইচ্ছা আছে? দেশি-বিদেশি কি করে জানলে!”

রাফসা ততক্ষণাৎ উৎসাহিত হয়ে বলে, “ঠিক বলেছেন বড় ভাই। আমার জীবনে একবার খাবো মাল; তাও বিয়ে পর।”

আভিয়ান ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে, “বিয়ের পর? কিন্তু কেন! বিয়ের আগে কেন না!”

রাফসা এ দফায় খানিক ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে। লজ্জা পেয়ে কাচুমাচু করে বলে, “আসলে আমার ইচ্ছা,শোয়ামীর সাথে মাল খেয়ে বলবো, এ্যাই নাচ শালা। আমার শোয়ামী তখন লুঙ্গি পরে ‘লুঙ্গি ডান্স’ গানে নাচবে। আর আমি মাতলামি করে সেই নাচ দেখে আমার শোয়ামীর গায়ে টাকা ছুঁড়ে মারবো। খুশি হয়ে আরকি।”

আভিয়ানের চোখ কপালে। এই কোন কথা শুনছে আজ! বিড়বিড় করে বলল, ‘সেই লেভেলের ইচ্ছে’
আভিয়ান কি বুঝে যেন আবার প্রশ্ন ছুঁড়ে।
“আর কি ইচ্ছে আপনার মেডাম?”

“ইচ্ছে! হ্যাঁ আরেকটা আছে। বিয়ের পর আমি, জামাই ব্যবসা করব। এটা আমার সবচেয়ে বড় ইচ্ছে।”

আভিয়ান এই দফায় যেন হার্ট অ্যাটাক করবে। মায়াবীর ইচ্ছের কথা শুনে যেন‌ ওর হার্ট খুলে হাতে চলে আসতে চাইছে। সাবিকুন হতবাক হয়ে বলে, “জামাই ব্যবসা মানে!”

আভিয়ান মনে মনে আওড়ালো ‘অসম্ভব,মরণ হয়ে গেলেও‌ আমি আভিয়ান শিকদার কখনোই অন্য নারীর সান্নিধ্যে যাবো না’।
“হ্যাঁ জামাই ব্যবসা। এতো অবাক হওয়ার কি আছে!”

“আমি তো জানি বউ ব্যবসা করে। তুমি জামাই ব্যবসা করবে!”

আভিয়ানের কথায় রাফসা সামান্য হাসে। ওর তো আরো অনেক ভয়ানক ইচ্ছে আছে। ওই সব তো বলা যায় না। পাপ হবে যে। এবার রাফসা আসলেই কিছুটা লজ্জা পেল। সেইসব ইচ্ছের‌ কথা মনে করে।

“আরেহ বড় ভাই, আমার ইচ্ছা বিয়ের পর জামাই নিয়ে কাপল ব্লগ করবো। তারপর সারাক্ষণ হ্যালো গাছ, হ্যালো গাছ চলবে। জামাইকে ক্যামেরার সামনে নাচিয়ে ইনকাম করব। সেটা তো আমার শোয়ামীর দ্বারা আসবে। তাই আমি জামাই ব্যবসায়ী হবো।”

“ইন্না লিল্লাহি,, আভিয়ান বুক চেপে বসে পড়ে রাস্তায়।ওরা তিনজনই আঁতকে উঠলো। রাফসা তড়িঘড়ি করে আভিয়ানের পাশে বসে পড়ল। হাত নাড়িয়ে বাতাস দিতে দিতে বলল, “এ্যাই বড় ভাই,এ্যাই! কি হয়েছে আপনার? রাস্তায় বসে পড়লেন কেন?”

আভিয়ান মেকি হাসে। যদি বলে তোমার ইচ্ছের কথা শুনে আমার প্রেশার হাই হয়ে গেছে। তাহলে তো ওর মায়াবী রাগ করবে। আভিয়ান দুই হাত সমানে নাড়িয়ে হেসে বলে, “কিছু হয়নি। এই যে দেখ, আমি ঠিক আছি।”

“এ্যাই বড় ভাই, এ্যাই। আমার না মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। আমি যখন জামাই ব্যবসা করব, তখন আমার শোয়ামী অসুস্থ হয়ে এমন দাঁড়ানো থেকে বসে যাবে। তারপর আমি ছুটে গিয়ে কান্না করব। যখন আমার শোয়ামী মারা যাবে আমি কাঁদতে কাঁদতে বলব, পিলিস গাছ, সাবস্ক্রাইব মাই ইউটিউব চ্যানেল। একটা ভালো ইনকাম আসবে তাই না বড় ভাই?”

আভিয়ান তব্দা খেয়ে বসে রইল। ও নিজের চোখের সামনে যেন দেখতে পাচ্ছে, ও মরে পড়ে আছে আর রাফসা আর্তনাদ করে সাবস্ক্রাইব ভিক্ষা চাইছে। তারপর, তারপর আর কি! ও যাবে পটল তুলতে‌, আর‌ রাফসা পিলিস গাছ সাবস্ক্রাইব মাই ইউটিউব চ্যানেল বলে কাটাবে। ও মায়া মায়া গো! কি ভয়ংকর ব্যাপার স্যাপার। আভিয়ান তো কল্পনা করেই‌ আঁতকে উঠে। ততক্ষণাৎ পেছন থেকে অত্যাধিক চেঁচামেচির আওয়াজ ভেসে আসে। এতোক্ষণ যাবত অনেকটা ফাঁকা ছিল রাস্তা। বিশেষ করে আভিয়ানের ছেলেরা এইদিকটা ঘেরাও করে রেখেছিল। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আভিয়ান চোয়াল শক্ত করে উঠে পড়ে। হুট করে রাফসার ডান হাত চেপে ধরে একটু দূরত্বে রাখা কালো গাড়িটার সামনে নিয়ে আসে। সাবিকুন সায়মা পেছন পেছন আসে। দরজা খুলে রাফসাকে ঠেলে ভেতরে বসিয়ে দিল।ঘাড় বাঁকিয়ে পেছনে তাকিয়ে ওদের ইশারা করতেই ওরা উঠে বসে।আভিয়ান দরজা আটকে বলে, “লিসেন, গাড়ি থেকে একদম বের হবে না কেউ। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। ভুলে ও বের হবে না।”

বলেই আভিয়ান ছুটে সেইদিকে। সায়মা চোখ ঘুরিয়ে বাইরে দেখে আশরাফুল সাতারুল আশে পাশে দেখছে। ওদেরই খুঁজছে। তিনজন দেখতেই গাড়ি থেকে নেমে যায়। ওদের সামনে যেতেই সাতারুন খানিক চেঁচিয়ে বলল, “এই শালি, কোথায় ছিলি? আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। চল,বাসায় চল। এখানে আর থাকা যাবে না। পাঁচজন মিলে মুহূর্তেই স্থান ত্যাগ করে।


“আজ তাহলে কিছুই হলো না। ভালো হয়েছে,রাফসা নেই।মজাও হতো না।”

মাইশা সোফায় বসতে বসতে বলল কথাটা। সবাই ড্রইং রুমে বসে আছে। উদ্যানের কোনো‌ খেয়াল নেই। মোবাইলে মগ্ন সেই লোক। আশেপাশে কি হচ্ছে তা দেখার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই যেন তার। মিম সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে নামতে বলে, “উদ্যান ভাই , তোমার জন্য রাফসা এলো না। ও ছোট মানুষ। কেন বকলে শুধু শুধু?”

উদ্যান ফোন থেকে মাথা তুলে তাকাল। গম্ভীর কন্ঠে শুধায়, “ফালতু কথা বলিস না। ওই স্টুপিড জ্বালিয়ে কলিজা ভুনা করে ফেলছে আমার। তোরা দেখিস না?”

“রাফসা যেহেতু তোমার কলিজা ভুনা করে ফেলেছে। এক কাজ কর উদ্যান ভাই, তুমি বরং একটা বিয়ে করে ফেলো। তখন তোমার বউ জ্বালাবে।রাফসা আর সে সুযোগ পাবেনা।”
মাহিনের কথায় উদ্যান ঠান্ডা চোখে তাকালো। গালে হাত বুলিয়ে ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে, “বিয়ে তো অবশ্যই করব। সেটা দু’বছর আগে বা পরে।”

“মাইশা,মাইশা কোথায় তুই? ” হাক ছেড়ে ডাকতে ডাকতে আসে এক রমনি। শরীরে নীল রঙের থ্রি পিস জড়ানো। রোহান চোখ তুলতেই যেন চোখ আঁটকে গেল। মেয়েটা এতো মানুষ দেখে ভড়কে গেল। মাইশা উঠে জোর করে পাশে বসিয়ে দিল।
“এই হচ্ছে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তৃপ্তি। আমাদের বাড়ির পাশেই থাকে।”
তৃপ্তি সবাইকে নিচু গলায় সালাম দেয়। ওর কন্ঠ শুনে রোহান বুকের বা পাশে হাত রেখে বলল,
“ওহে, বালিকা কে তুমি? আমার মনটা করলা চুরি!”

রোহানের কথায় সবাই হেসে উঠল। সবার মধ্যে রোহান রসিক মানুষ। পাশ থেকে জায়িন চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
“ও মায়া মায়া গো মিলছে। কি সুন্দর কবিতা।”
তৃপ্তি লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। কি ঝামেলায় পড়লরে বাবা! কোনা চোখে রোহানের পানে তাকাতেই থতমত খেয়ে গেল। রোহান মিটমিট করে হেসে তাকিয়ে আছে ওর দিকেই। লজ্জায় হাঁসফাঁস করে উঠলো।
“রোহান ভাই, তুমি আমার ফ্রেন্ডকে আর‌ লজ্জা দিও না।”
“লজ্জা দিচ্ছি না। আমি তো ভালোবাসা দিতে চাই।”

মাইশা দাঁত কেলিয়ে হেসে বলে, “রোহান ভাই, ও নোয়াখালীর মেয়ে।”

রোহানের যেন চোখ উল্টে গেল মুহুর্তেই। কি ছ্যাঁকা টা খেয়ে গেল। শেষমেষ এই ছিল কপালে! নড়েচড়ে বসে বলে, “মিচা হতা ন হইস ওডি।”

রোহানের কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল তৃপ্তি।

চলবে?

আর লিখতে পারছিনা। আমি অসুস্থ। কোনো অযুহাত দিচ্ছি না। দয়া করে কেউ বলবেন না ছোট হয়েছে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply