অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ৬ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)
দরজায় হেলান দিয়ে দুই হাত বুকের ওপর ভাঁজ করে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র। তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তখন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অপ্সরার দিকে। রিদি শুভ্রকে দেখামাত্রই তড়িৎবেগে নিজের মাথা নিচু করে ফেলল। শুভ্রের সেই গভীর চাহনি রিদির সারা বুকে যেন প্রলয়ঙ্করী সমুদ্রের ঢেউ উথাল-পাতাল করে দিল। রিদি নিজের অস্তিত্বকে ছোট করে নিতে চাইল। সে অনেক কষ্টে নিজের ভেতরে জমে থাকা সবটুকু সাহস জড়ো করে শুভ্রের রুমের মাঝখানে এসে দাঁড়াল। তারপর ভাঙা আর কাঁপা গলায় কোনোমতে বলল।
“অই। আসলে ভাইয়া। মামি আপনাকে ডাকছে। নিচে আসেন রেডি হয়ে। নাহলে মামা রেগে যাবেন।”
কিন্তু শুভ্রের মুখে কোনো কথা নেই। তার ঠোঁট দুটো শক্ত করে বন্ধ। সে এক অদ্ভুত সম্মোহনী চোখে রিদির দিকে একপলকে তাকিয়ে আছে। শুভ্রের এই অবিচল আর নিঃশব্দ দৃষ্টির তীব্রতায় রিদি ভেতর থেকে থরথর করে কাঁপতে শুরু করল। তার মনে হচ্ছে ঘরের বাতাসটুকু বুঝি কেউ শুষে নিয়েছে। রিদি প্রবল অস্বস্তিতে নিজের হাতের আঙুলগুলো কচলাতে কচলাতে খুব মিনমিন করে বলল।
“ভাইয়া। এইভাবে তাকিয়ে কী দেখছেন?”
শুভ্র এবার নিজের জায়গা থেকে একচুলও নড়ল না। সে সেই স্থির দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই রিদির অশ্রুসিক্ত অথচ মায়াবী চোখের দিকে সরাসরি তাকাল। তারপর এক অদ্ভুত ভারী আর গহীন গলায় বলল।
“তোকে।”
রিদি ঠিক যেন হাই ভোল্টেজ বিদ্যুৎ শর্টের মতো চমকে উঠল। সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে না পেরে তোতলাতে তোতলাতে বলল।
“আমাকে? মা-মানে কী দেখছেন?”
শুভ্র এবার নিজের সেই ঘোরলাগা ভাবটা ঝেড়ে ফেলে বেশ গম্ভীর হয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। তারপর দুই হাত পকেটে ঢুকিয়ে দিয়ে রিদির আপাদমস্তক একবার অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে নিয়ে সরাসরি বলল।
“দেখছি তোকে শাড়িতে ঠিক কার মতো লাগছে। কাওয়া নাকি জেব্রার মতো।”
রিদির চোখ যেন কপালে উঠে গেল। অপমানে আর বিস্ময়ে সে চিৎকার করে বলতে চাইল কিন্তু গলা দিয়ে শুধু বের হলো।
“কীহহ! আমাকে কাওয়া আর জেব্রার মতো লাগছে?”
শুভ্র মুখ আর নাক কুঁচকে একরাশ বিরক্তি নিয়ে বলল।
“তার থেকেও খারাপ। যা আমার মুখে বললে আমার মুখও খারাপ হয়ে যাবে। এই তোকে শাড়ি পরতে কে বলেছে রে? ইটস টোটালি ডিসগাস্টিং।”
রিদি মাথাটা একদম নিচু করে ফেলল। অভিমানে আর অপমানে তার ঠোঁট দুটো আপনাআপনি ফুলে উঠল। সে ধরা গলায় কোনোমতে বলল।
“কেউ বলেনি। আমি… আমি নিজে থেকেই পরেছি।”
শুভ্র এবার নিজের কণ্ঠস্বর আরও এক ধাপ চড়িয়ে অত্যন্ত কড়া গলায় বলল।
“আদারওয়াইজ তোকে যেন আমি আর কখনো শাড়ি পরতে না দেখি। বিশেষ করে শাড়ি পরে কখনো আমার সামনে আসবি না তুই। লেট দ্যাট বি রিমেম্বার্ড!
শেষের কথাগুলো একদম কড়া ধমকের সুরে বলে শুভ্র আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। সে গটগট করে হেঁটে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। শুভ্রের ওই ধমকে রিদি থরথর করে কেঁপে উঠল। সে ভাবতেও পারেনি শুভ্র তাকে এভাবে এতটা অপমান করবে। তার মানে সে শুভ্রের চোখে একটুও সুন্দর না। নিচে শুভ্রা আর বাকি সবাই যখন তাকে ঘিরে ধরে বলছিল সুন্দর লাগছে সে নিজেও আয়নায় দেখে অবাক হয়েছিল। কিন্তু সেই সৌন্দর্যটা শুভ্রের চোখে ধরা পড়ল না। সে শুধু শুভ্রের কাছে একটা বিরক্তিকর বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।
রিদির বুকটা হাহাকারে দুমড়ে-মুচড়ে উঠল। অপমানে আর তীব্র যন্ত্রণায় সে সেখানে আর এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিটুকুও পেল না। চোখের নোনা জল গাল বেয়ে নামার আগেই সে ঝড়ের বেগে শুভ্রের রুম থেকে বেরিয়ে গেল। মনে মনে চিৎকার করে বলতে লাগল।
“কোনোদিন শাড়ি কেন। চাইবো এই চেহারা নিয়ে আপনার সামনে যেন না পড়ি।”
এদিকে শুভ্র ওয়াশরুমে ঢুকেই রাগে গজগজ করতে করতে নিজের টি-শার্টটা খুলে এক কোণে ছুড়ে মারল। সজোরে শাওয়ারটা ছেড়ে দিয়ে সে পানির নিচে গিয়ে দাঁড়াল। শুভ্রের শরীরটা যেন কোনো দক্ষ ভাস্করের নিখুঁত হাতে গড়া এক জীবন্ত ভাস্কর্য। শাওয়ারের ধারালো পানির ঝাপটা তার চওড়া কাঁধ আর সুঠাম পিঠের ওপর আছড়ে পড়ছে। দীর্ঘদিনের জিম করা সেই কঠিন শরীরে পানির বিন্দুগুলো মুক্তোর মতো চিকচিক করছে। তার বুকের সুগঠিত পেশি আর সিক্স-প্যাক অ্যাবসগুলো ভিজে গিয়ে এক অদ্ভুত পৌরুষদীপ্ত আকর্ষণ তৈরি করেছে। হাতের পেশিবহুল বাইসেপগুলো রাগে আর উত্তেজনায় ফুলে আছে? যেখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে গায়ের নীলাভ শিরা। যে কোনো মেয়ের হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেওয়ার জন্য শুভ্রের এই বিধ্বংসী লুকটাই যথেষ্ট।
শুভ্র দুই হাতে নিজের ভেজা চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করল। কিন্তু মুহূর্তেই সেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভেসে উঠল হলুদ শাড়িতে মোড়ানো এক মায়াবী প্রতিমা। শুভ্র ফট করে চোখ খুলে ফেলল। বুকটা কামারশালের মতো ওঠানামা করছে। শাওয়ারের পানি তার ধারালো থুতনি বেয়ে টপটপ করে গড়িয়ে পড়ছে। সে কোমরে হাত দিয়ে ফোঁস ফোঁস করে তপ্ত শ্বাস ছাড়তে লাগল। হঠাৎ আবার আয়নার দিকে তাকিয়ে মাথার চুলগুলো অবাধ্যভাবে মুঠো করে ধরল। নিজের অজান্তেই তার ঠোঁট কামড়ে বিড়বিড় করে বলে উঠল।
“অপ্সরা। শি লুকস এক্স্যাক্টলি লাইক অ্যান অপ্সরা ।”
গায়ে হলুদের সেই রমরমা উৎসবের মাঝেও রিদিকে কোথাও দেখা গেল না। সবাই নিজের নিজের আনন্দ আর ব্যস্ততায় এতই মগ্ন যে রিদির অনুপস্থিতিটা কারও চোখে ওভাবে ধরা পড়ল না। সবাই হয়তো ভাবছে রিদি আশেপাশে কোথাও আছে। কিন্তু সব থেকে অবাক করা বিষয় হলো খোদ শুভ্রের কোনো খবর নেই। সে বাড়ি থেকে কারও সাথে কোনো কথা না বলে বেরিয়ে গেছে। অনেকক্ষণ পার হওয়ার পর নেহাদের বাড়ি থেকে জানানো হলো শুভ্র নাকি নেহার সাথে দেখা করতে গেছে। নেহাও নাকি বাড়ি থেকে একই কথা বলে বের হয়েছে। বিয়ের আগের মুহূর্তের এই লুকোচুরি দেখা করা নিয়ে দুই বাড়ির বড়রা খুব একটা উচ্চবাচ্য করলেন না। তারা বেশ প্রশ্রয়ের হাসি হাসলেন।
শহরের এক অভিজাত রেস্টুরেন্টের নিরিবিলি কাপল সিটে বসে আছে শুভ্র আর নেহা। শুভ্রের ঠিক পাশেই ছায়ার মতো গম্ভীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ঈশান। শুভ্র একদম নিশ্চল পাথরের মতো বসে আছে। তার চোখের সেই শীতল চাউনি রেস্টুরেন্টের এসির বাতাসকেও যেন আরও হিমশীতল করে দিচ্ছে। নেহার মুখে এক চিলতে বাঁকা হাসি। সে কফিতে আয়েশি চুমুক দিয়ে কিছুটা স্টাইল করে শুভ্রের চোখের দিকে তাকাল। তারপর ন্যাকামি মেশানো স্বরে বলল।
“উফ শুভ্র। এমন চুপ করে আছো কেন। হঠাৎ তুমি আমাকে এখানে ডাকলে কেন। আমি তো ভেবেছিলাম বিয়ের আগে তুমি আমাকে কোনো স্পেশাল সারপ্রাইজ দেবে। কিন্তু এখানে এনে এভাবে মূর্তির মতো বসিয়ে রাখার মানে কী।”
শুভ্র এবার খুব শান্তভাবে নেহার দিকে তাকাল। তার চোখের মণি দুটো স্থির আর শীতল। সে অত্যন্ত নিচু কিন্তু স্পষ্ট স্বরে বলল।
“আমি তোমাকে বিয়ে করব না নেহা।”
শুভ্রের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে নেহা একটুও বিচলিত হলো না। বরং সে কোনো এক অশুভ তৃপ্তিতে নিজের চুলগুলো স্টাইল করে গুছিয়ে নিল। বেশ একটা অহংকারী আর বড়লোকী ভাব নিয়ে সোফায় পিঠ ঠেকিয়ে বসে শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বলল।
“এই কথা এখন বলে আর কোনো লাভ নেই শুভ্র। কাল আমাদের বিয়ে। হাতে আর মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা সময়।”
শুভ্রর চোখেমুখে কোনো ভাবান্তর হলো না। সে আগের মতোই গম্ভীর গলায় বলল।
“তা কাল বিয়ে। কিন্তু বিয়ে তো এখনো হয়নি।”
নেহা কফির কাপটা টেবিলে রেখে বাঁকা হেসে বলল।
“হয়ে যাবে। সব ঠিকঠাক মতোই হয়ে যাবে।”
শুভ্র এবার একদম শান্ত চোখে নেহার দিকে তাকিয়ে বলল।
“কিন্তু নেহা। আমি যদি বলি বিয়েটা হবে না? অ্যানি চান্স?।”
নেহা একটুও ঘাবড়ালো না। সে কফির কাপটা সরিয়ে রেখে বেশ ধারালো গলায় বলল।
“তো তুমি আর তোমার পুরো পরিবার রাস্তায় নেমে পড়ার জন্য তৈরি হও। গেট রেডি ফর দ্যাট।”
শুভ্র এবার কিছুটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল।
“নেহা। তোমার মনে হচ্ছে না তুমি আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করছ? ইজ দিস রিয়েলি কলড লাভ?।”
নেহা সটান হয়ে বসে নির্লজ্জের মতো বলল।
“হ্যাঁ তো। শুধু ব্ল্যাকমেইল কেন। তোমাকে পাওয়ার জন্য আমি সব কিছু করতে পারবো। মিস্টার সাইফান শুভ্র চৌধুরী।”
শুভ্র এবার সরাসরি নেহার চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত ঘেন্নার সাথে বলল।
“যদি গু খেতে বলা হয়। তাহলে কি তুমি গুই খাবে?উইল ইউ ডু দ্যাট?।”
শুভ্রের সেই কুরুচিপূর্ণ কথা শেষ হতে না হতেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঈশান আর নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না। সে ফিক করে হেসে দিল। নেহা এবার অপমানে আর রাগে রি রি করে উঠল। সে অগ্নিদৃষ্টিতে শুভ্রের দিকে তাকিয়ে গর্জে উঠে বলল।
“হোয়াট দ্য হেল শুভ্র।তুমি কি আমার সাথে জোক করছ? আর ইউ আউট অফ ইয়োর মাইন্ড?”
শুভ্র এবার নিজের সোফায় একদম আয়েশ করে হেলান দিয়ে বসল। তার চোখেমুখে কোনো বিকার নেই? বরং এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততা। সে বরফশীতল গলায় বলল।
“নেহা। আমার বেশি কথা বলা একদম পছন্দ না। আই জাস্ট ডোন্ট লাইক ইট।তুমি কি সোজা আঙুলে বিয়েটা ক্যান্সেল করবে নাকি আমাকে আঙুল বাঁকাতে হবে? ডোন্ট পুশ মাই লিমিটস।”
নেহা এবার তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল।
“শুভ্র। তুমি কিন্তু বড্ড বেশি জেদ দেখিয়ে কথা বলছ আমার সাথে। তুমি হয়তো ভুলে গেছ তোমাদের কোম্পানি এখন আমাদের ডিলের ওপর টিকে আছে। আমরা যদি জাস্ট একটা সাইন দিয়ে ডিল ক্যান্সেল করে দিই তবে তোমার পুরো পরিবারকে কাল রাস্তায় বসতে হবে।”
শুভ্র নিজের জায়গায় অটল থেকে শান্ত গলায় বলল।
“সেটা নিয়ে তোমার এক ফোঁটাও ভাবতে হবে না।আই ক্যান হ্যান্ডেল মাই ফ্যামিলি। এখন জাস্ট বলো? বিয়ে ক্যান্সেল করবে কি না?”
নেহা জেদি গলায় সটান হয়ে বসে উত্তর দিল।
“একদম না। আমি চৌধুরী বাড়ি আর সাইফান শুভ্র চৌধুরীর ওয়াইফ হয়েই ছাড়ব। দ্যাটস মাই ফাইনাল ডিসিশন।”
শুভ্র এবার আর কোনো তর্কে গেল না। তার ধৈর্যের বাঁধ যেন ভেঙে গেছে। সে কেবল এক পলক ঈশানের দিকে তাকাল। সেই তীক্ষ্ণ আর সংকেতময় চাহনি দেখেই ঈশান বুঝে নিল বস এখন কী চাইছে। ঈশান এবার নিজের পকেট থেকে ফোন বের করে নেহার দিকে তাকিয়ে শান্ত অথচ গম্ভীর গলায় বলল।
“এক্সকিউজ মি ম্যাম।আপনার জন্য বস একটা স্পেশাল সারপ্রাইজ রেখেছে। যদি পারমিশন দেন তবে সারপ্রাইজটা আমি এখনই দেখাতে পারি।”
নেহা ভ্রু কুঁচকে অবাক হয়ে ঈশানের দিকে তাকিয়ে বলল।
“কিসের সারপ্রাইজ?”
ঈশান এবার তার ফোনটা দ্রুত হাতে ঘেঁটে একটা ভিডিও প্লে করে সরাসরি নেহার চোখের সামনে ধরল। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা দৃশ্যগুলো দেখা মাত্রই নেহার সারা শরীর এক নিমেষে বরফের মতো শীতল হয়ে গেল। তার বড় বড় চোখ দুটো কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। মুহূর্তের মধ্যে তার সাজানো মুখের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে গেল? আর কপাল বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝরতে লাগল। তার ঠোঁট দুটো ভয়ে কাঁপতে শুরু করেছে।
রানিং…!
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮১
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৯