প্রেয়সীর_অনুরাগ
লেখনিতে —#সাদিয়াজাহানসিমি
পর্ব_১৪ (প্রথম অংশ)
বাড়ি ফিরে রাফসা মেইন গেটের কাছে থম মেরে দাঁড়াল। ঘাড় বাঁকিয়ে পেছনে ফিরে দেখে উদ্যান ভ্রু কুঁচকে ওর পানেই তাকিয়ে আছে। রাফসা বোধহয় বিরক্ত হলো খানিকটা। সম্পূর্ণ পেছনে ফিরে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে, “মিস্টার রাওদ, আপনি কি বখাটে ছেলে? এভাবে পেছনে আসছেন কেন?”
উদ্যান ঠোঁট কামড়ে হাসলো। প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে সোজা হয়ে দাড়ালো। কিছুটা সামনে এসে রাফসার সামনে দাঁড়িয়ে ঝুঁকলো। রসিকতা করে বলে, “মিস্টার রাওদ! আই লাইক ইট। কিন্তু মিসে,,সরি মিস! আপনি আমাকে বখাটে ছেলে কেন ভাবছেন? আমি কি আপনায় টিজ করেছি? কোথায় মনে পড়ছে না তো।”
কথাটা বলেই মনে করার চেষ্টা করল। উদ্যানের রসিকতায় রাফসা স্তব্ধ হয়ে চেয়ে রইল অপলক। এটা কি সেই পুরুষ! যার মুখে কখনো সচরাচর হাসি দেখতে পায়নি রাফসা। দৃষ্টি সরিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে চোখা হেসে রাফসা বলে, “জানেন,আমার পেছনে এমন দুই একটা ছেলে ঘুরে। যদিওবা কখনো ডিস্টার্ব করেনি। যখনি আমায় দেখে ‘ভাবী, আসসালামু আলাইকুম’ বলে সম্মান করে। আপনি তাদের মতো। কিন্তু আপনার মাঝে একটা কিছু মিসিং।”
রাফসার কথায় উদ্যান হাসছিল এতক্ষণ। তবে মিসিং শুনে ভ্রু নাচিয়ে শুধায়, “কি মিসিং আমার মাঝে? সবই তো ঠিকঠাক।”
রফসা মিটমিট করে হেসে বলে, “ওরা তো আমায় ভাবী বলে ডাকে। কিন্তু আপনি ডাকছেন না যে? বখাটে ছেলেদের মতো পিছু পিছু এসেছেন বাড়ি অবধি। কিন্তু একবারও ভাবী ডাক শুনলাম না।বড় ভাই, আমাকে ভাবী বলে ডাকবেন। কিন্তু আমার না অনেক ইচ্ছা, আমার না হওয়া স্বামীর চাঁদ মুখখানি দেখার। যে মানুষটির জন্য এতো সম্মান পাই,তাকে অন্তত একবার দেখা উচিৎ আমার। আচ্ছা যাই হোক, আমি যাই বড় ভাই। আমার না হওয়া স্বামীর খোঁজ পেলে জানাবেন। শালা জাউড়া বউয়ের মুখ দেখে না। খোঁজখবর নেয় না। পেলে জুতা দিয়ে পিটিয়ে শিক্ষা দেবো।আসছি বড় ভাই।”
কথাটা বলেই গটগট পায়ে মেইন গেট পেরিয়ে ভেতরে চলে গেল। উদ্যান ঢোক গিলে এহেন কথায়। কপালে পড়ে থাকা এলোমেলো চুলগুলো ঠেলে দিয়ে ভাবুক হয় রাফসার কথা বোঝার।
“ভাই, ভাবীর কাল কোচিং আছে। “
রনির কথায় ফোন থেকে মাথা উঁচু করে আভিয়ান। শান্ত স্বরে জানতে চায়, “কয়টা বাজে আসবে তোর ভাবি?”
এই প্রশ্নের ছেলেটা খানিক কাচুমাচু করে দাঁড়ালো ।সময়টা তো ওর জানা নেই এখন কি জবাব দেবে। রনিকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আভিয়ান ফের প্রশ্ন করে, “কি হলো ,তোর ভাবির কোচিং কয়টায়?”
ছেলেটা আমতা আমতা করে বলে, “ভাই সময়টা ঠিক জানিনা।
আরিয়ান এই কথায় চোখ বন্ধ করে নেয়। হাতের মুষ্টি শক্ত করে ধরে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে।
ঠান্ডা গলায় বলল, “শুধুমাত্র আমার মায়াবীর ক্ষেত্রে আজ ভুলের মাফ পেলি। নয়তো এখানে গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দিতাম। দশ মিনিটের মধ্যে আমার সময়টা জানা চাই।
ছেলেটা ‘আচ্ছা’ ভাই বলে চলে গেল। আভিয়ান ফের মোবাইলে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। সেখানে ভেসে আছে তার মায়াবীর একখান বোরকা পরা ছবি। দূর থেকে তোলা ছবিটা। মুখ দেখা যাচ্ছে না । শুধু চোখ জোড়া দৃশ্যমান । আভিয়ান ঠোঁট কামড়ে খানিক হাসলো। মোবাইলটা ঠোঁটের কাছে এনে ছোয়ালো। আবেশে চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করে শুধায়, “মায়াবী আর বেশি দিন না, খুব দ্রুতই তোমাকে আমার ঘরনি করে ঘরে তুলবো। আমার রাজ্যের রানী হয়ে আগমন ঘটবে তোমার। তোমার মেডিকেল পরীক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় এই অধম প্রেমিক। কি পাগল করলে, আমায় মায়াবী! সারাদিন তোমার কথা মনে পড়ে।”
রনি ছেলেটা পাঁচ মিনিট এর মধ্যেই হাজির। এসে দাঁড়াতে আভিয়ান জানতে চাইলো সময়টা। রনি বলে, “ভাই কালকে কোচিং একটু দেরিতে আছে। দুপুর তিনটে থেকে কাল কোচিং। আপনি যাবেন কাল?”
আভিয়ান ফোনটা টেবিলে যত্ন সহকারে রেখে উঠে দাঁড়ালো। পকেটে হাত রেখে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। বাইরের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে শান্ত স্বরে বলে, “কাল মিটিং আছে এমন সময়। জরুরী মিটিং না হলে আমি অবশ্যই যেতাম। কালকে গিয়ে দেখে আসিস তোর ভাবীর কোন সমস্যা হয় কিনা। আমি আরেকদিন যাব।”
রনি চলে যেতেই নেয়, আভিয়ান ডেকে বলল কফি পাঠাতে। রনি মাথা নাড়িয়ে চলে যায়। তৎক্ষণাৎ সশব্দে বেজে উঠলো আভিয়ান এর ফোন । বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে গেল সহসা। এগিয়ে এসে ফোনটা তুলে কাঙ্খিত নাম্বার দেখতে রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। ফোনটা কেটে দিয়ে রাখতেই যাবে, আবারও সশব্দে ফোনটা বেজে উঠলো। এবার আভিয়ানের রাগ যেন আকাশ ছোঁয়া। ধীরে ফোনটা তুলে আছাড় মারল। খন্ড দ্বিখন্ডিত হয়ে নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রইল ফোনের পাট গুলো।আভিয়ানের কপালের রগ টানটান হয়ে ফুলে উঠেছে। বিড়বিড় করে আওড়ালো, “তোকে জানে না মেরে আমার শান্তি হবে না। ওয়েট অ্যান্ড সি, তোর মৃত্যু আমার হাতেই নিশ্চিত ।
কথাটা বলেই বাঁকা হাসলো আভিয়ান।
রাতের বেলা সবাই খেতে বসেছে ফরাজি বাড়ির। কিন্তু রাফসা অনুপস্থিত। রিশান বোনকে না দেখে ঊষাকে জিজ্ঞেস করে, “রাফসা কোথায়! ঘুমিয়ে পড়েছে নাকি? খেতে আসেনি কেন ও?”
ঊষা উঠে দাঁড়ালো রাফসাকে ডেকে আনার জন্য। ততক্ষণাৎ রাফসা হাজির হলো ডাইনিং এ। চোখ লাল হয়ে আছে। গালগুলো ফোলা ফোলা। চোখ টেনে খুলে রাখার চেষ্টা করছে। এলোমেলো চুলের উপর হালকা ঘোমটা টানা। শ্যামলা গায়ের সাথে কালো কুর্তি যেন একটু বেশিই মানিয়েছে। হয়তো ঘুম থেকে উঠেছে। ঊষার পাশে বসে পড়ল। বেচারি চোখে যেন কম দেখছে। বোনকে এমন করতে দেখে রিশান ভ্রু কুঁচকে বলে, “কি হলো? ঘুমিয়ে পড়িছিলি নাকি?”
রাফসা ঘুমঘুম কন্ঠে বলে, “হ্যাঁ। পড়তে পড়তে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম, খেয়াল করিনি।”
হুমাইরা ফরাজী মেয়ের পাতে খাবার দিতে দিতে বলে, “এখন খেয়ে ঘুমা। সকালে উঠে পড়িস।”
“না আম্মু। টপিক টা শেষ করতে হবে। নয়তো টার্গেট পূরণ হবে না। কফি খেলে ঘুম চলে যাবে।”
হুমাইরা ফরাজী ঘোর বিরোধীতা করে বলে, “এখন কফি করে দিতে পারবো না। খেয়ে চুপচাপ ঘুমাবি আর কোন কথা না।
ওনারা কথায় মাহিন হস্তক্ষেপ করে বলল, “মামানি, আমি আছি তো ওকে কফি করে দিব। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো, কোন টেনশন করা লাগবে না।”
ঠিক তখনই রাফসার পাশে কেউ ধপ করে বসলো। রাফসা ঘাড় বাকিয়ে তাকালো। দেখল উদ্যান ওর পাশে বসেছে। উদ্যানও চোখ ঘুরিয়ে রাফসার পানে তাকায়। দুজনের দৃষ্টি মিলিত হতে রাফসা ভেংচি কেটে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। উদ্যান গম্ভীর মুখে বলে, “রাত জেগে পড়তে হবে না। টার্গেট সকালে উঠে পূরণ করা যাবে। কাকি তুমি ওকে বলো ঘুমিয়ে পড়তে। রাত জেগে পরলে শরীরের ক্ষতি হবে।
উদ্যানের সাথে হুমাইরা ফরাজী মাথা নাড়লো। মাহিনের মুখে লেগে থাকা হাসি নিমিষেই মুছে গেল। উদ্যানের পানে তাকিয়ে হাত জোড়া মুষ্টিবদ্ধ করে চোখ বন্ধ করল। নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা চালায়। উদ্যান মাহিনের দিকে এক পলক তাকিয়ে খাবারে মনোযোগ দেয়।
রোহান বলে ওঠে, “কাল সকাল সকাল ফুপির বাড়ি যেতে হবে। রাত জাগা লাগবে না।”
রোহানের কথাই রাফসা তড়িঘড়ি করে বলে, “না মেজো ভাইয়া। সকালে হবে না! দুপুর তিনটে আমার কোচিং আছে। সাড়ে চারটায় ছুটি ,বরং আমরা বিকেলে যাই।”
রাফসার কথায় ঊষা মাথা নাড়ালো, “হ্যাঁ, মেজো ভাইয়া! কাল আমার সকালে একবার ভার্সিটি যেতে হবে। বিকেলে যাই সবাই মিলে।”
রোহান আর কি বলবে তাই। সহমত হলো। খাওয়ার মাঝেই রাফসার বিষম উঠলে উদ্যান তাড়াতাড়ি করে পানির গ্লাস ওর মুখের সামনে ধরে খাইয়ে দেয়। রাফসা অতশত খেয়াল না করে ঢক ঢক করে পানি খায়। উদ্যান অপর হাত দিয়ে রাফসার পিঠে বোলাতে লাগলো।
চলবে…?
এ্যাই চুন্নি, নিয়ে তো এখন কপি মারবি। সামান্য পরিমাণ লজ্জা থাকলে করবি না।
Share On:
TAGS: প্রেয়সীর অনুরাগ, সাদিয়া জাহান সিমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৭(প্রথমাংশ + দ্বিতীয়াংশ)
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব বোনাস পার্ট
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৮
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৬
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১১
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৯
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৪