নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৪২
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
সকাল ছয়টা পনেরো।গাড়ি তে বসে আছে সাদি ও পিহু।পিহুর চোখে পানি।সাদি যখন সকালে বলেছে তারা দেশ ছাড়বে তখন থেকেই পিহু কেদে চলেছে।তার প্রিয় মানুষ গুলো দেশের মাটিতে সুয়ে আছে চির নিদ্রায়।সে কিভাবে বিদেশের মাটিতে বাচবে।
সাদি অনেক বুঝিয়ে রাজি করিয়েছে। ফ্লাইট এর দুই ঘন্টা আগে এয়ারপোর্টের ভিতরে থাকতে হবে তাই সকাল সকাল বেতিয়েছে সাদি।নিজের গাড়ি নেই নি।ওবার ডেকে নিয়েছে।খুব বেশি জামা কাপড় নেই নি।শুধু মাত্র শীতের গুলো নিয়েছে বাকি গুলো ওখানে গিয়ে কিনে নিবে।
পিহু সাদির ঘাড়ে মাথা এলিয়ে চোখের পানি ফেলছে।কেমন যেনো শুন্যতা ছেয়ে রেখেছে মেয়েটাকে।কোথাও তার পরিপূর্ণতা নেই।শুধু এই প্রথম সাদির স্পর্শ সাদির সান্নিধ্যে খুব আপন মনে হচ্ছে পিহুর।পিহুকে কাদতে দেখে সাদি শান্ত চোখে পিহুর দিকে তাকায়।মাথার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে উঠে…..
-“আর কাদিস না।আমি জানি খুব কষ্ট হচ্ছে তবুও বলি আর কাদিস না জান।
পিহু কোনো প্রতিউত্তর করে না এক হাত দিয়ে আকড়ে ধরে সাদির নেভি ব্লু রঙা কোর্ট টা।সাদি আবার ও বলে উঠে….
-“সব আল্লাহ তায়ালা যা ভালো বুজেন তাই করেন।তুই প্লিজ আর কষ্ট পাইস না।তোকে কি বলে শান্তনা দিবো আর। কাল রাত থেকেই বলছি।
-“জানেন,,কষ্ট পাবো জেনেও যারা কষ্ট দেই তাদের কে কিছু বলার থাকে না।তবে আল্লাহ সবাইকে জান্নাত নসিব করুক।আমার না মনে হয় না ওরা আর নেই শুধু মনে হয় আমার উপর রাগ করে ওরে লুকিয়েছে।
সাদি কিছু বলে না আর।মুখ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে পিহুর খোলা চুলে চুমু দেয়।পিহু ওভাবেই আকড়ে রাখে। পিহু শান্ত কন্ঠে বলে মন টা খুব খারাপ লাগছে একটা গান ছাড়তে বলুন ওনাকে।সাদি পিহুর কথা শুনে বুজতে পারে ড্রাইভার এর কথা বলেছে।সাদি ও ড্রাইভার কে বলে।
ড্রাইভার ও গাড়ির সাউন্ড সিস্টেম এ গান প্লে করে দেই।পিহু জানালার কাচ নামিয়ে বাইরে তাকায়।খুব একা একা লাগছে তার।হুট হাট দোম নিতে কষ্ট হচ্ছে।কি নেই কি নেই মনে হচ্ছে শুন্য হৃদয়ে।বড্ড মনে পড়ছে জেরিন কে।জেরিনের সাথে সকল দুষ্ট মিষ্টি স্মৃতি। চোখ আবারো ভিজে আসে পিহুর।ঠিক তখনই গাড়ির সাউন্ড বক্স এ বেজে উঠে একটা করুন গান।যার প্রতিটা লাইন পিহুর বুকে গিয়ে বাধে।চোখের পানি আর কাজল কালো চোখে আটকে থাকে না।
নেহা কাক্কার এর একটা হিন্দি গান বাজতে বাজতেই বেজে উঠে গান।পিহু মন দিয়ে শুনতে থাকে গানের প্রতিটা লাইন।পিহুর মন ই গেয়ে উঠে গায়কের সাথে সুরে সুর মিলিয়ে…
-“পাখি আমার উড়াল দিলো।
-“খাচা ভাঙ্গিয়া।
-“যাইবার বেলায় আমার পাখি।
-“দেখলো না ফিরিয়া।
-“এক পলকে গেলো সে।
-“নিঠুর হইয়া।
-“রাখিতে পারি নাই তারে।
-“মায়া দিয়া।
পিহু গান থেকে মনযোগ সরিয়ে সাদির দিকে কিছুটা সরে বসে।তারপর সাদির বাহু জড়িয়ে ধরে নিজের দুহাত দিয়ে।মাথাটা কাধে রেখে সাদির উদ্দেশ্য বলে উঠে…
-“গানটাও কেমন কষ্টের তাইনা।দেখেন জেরিন পাখির মতোই উড়ে গেছে আমারে ভুলে নিষ্ঠুর হয়ে।ওরে এতো ভালোবাসলাম তাও চলে গেলো।আল্লাহ ওরে নিয়ে নিলো।
পিহুর কথা গুলো সাদির বুকে আঘাত করে।তবে মুখ ফুটে কিছু বলেনা।সাদি জানে পিহু আজ অনেক কাদবে।জেরিন এর কথা মনে পড়লেই কাদবে তবে আজই পিহুর কান্নার শেষ দিন।সাদি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে নিয়েছে।আজকের পর থেকে পিহুর চোখ থেকে এক ফোটা পানি পড়তে দিবে না সে।
গাড়ি এসে থামে এয়ারপোর্টের সামনে।সাদি নেমে পিহুর হাত ধরে নামায়।সাদির পরনে নেবি ব্লু রঙের কোর্ট প্যান্ট।ভিতরে সফেদ সাদা শার্ট।হাতে সিলভার এর ঘড়ি।শার্টের উপরের দুটো বোতাম খোলা সেখানে ঝুলছে কালো সানগ্লাস।পায়ে কালো সু।সাদি তাদের ল্যাগেজ টা এক হাতে নিয়ে আর অন্য হাতে পিহুর হাত ধরে এয়ারপোর্টে এর প্রবেশ মুখের দিকে যেতে থাকে।পিহুর পরনে ফুল হোয়াইট জিন্স আর লং গর্জিয়াস গাউন।নেভি ব্লু রঙের গাউনের সাথে পিহুকে বেশ মানিয়েছে। উড়না টা এতক্ষন গলায় থাকলেও।এখানে আসার সাথে সাথেই গাড়ির ভিতরে চুপ গুলো বেধে মাথায় কাপড় দিয়ে নিয়েছে।
সাদি পিহুর হাত ধরে এয়ারপোর্টে দিকে অগ্রসর হতেই পিহুর বুক ভার হয়ে যায়।চোখে আবারো নোনাজল জমে যায়।ভারাক্রান্ত মন নিয়ে পিহু বিড়বিড় করে মনে মনে বলে উঠে…
-“সময় এর সাথে সব বদলে যায়।সেবার তুই এসেছিলি আমাকে এখানে বিদাই দিতে।আর আজ তোকে বিদাই দিয়ে আমি এসেছি।তোর সাথে আর কথা হবে না রে কলিজা।তুই আমারে মিচ করবি না আর।
পিহুর চোখ বেয়ে একফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।সাদি সেদিকে খেয়াল করলেও কিছু বলে না কিছু বলার নেই তার।
ঠিক নয়টাই ডুবাই এর উদ্দেশ্য প্লেন ঢাকা বিমানবন্দর ছাড়ে।সেখান থেকে দুই ঘন্টা ট্রানজিট। তারপর সেখান থেকে আবারো কানাডার উদ্দেশ্য বিমানে চড়ে বসে তারা।ডুবাই তে লেভে সাদি স্মীত হেসে মনেই মনেই বিড় বিড় করে বলে উঠে….
-“খুব শীঘ্রই আবার আসবো।পাপীদের নিজ হাতে জাহান্নামের আজাব ভোগ করাবো এই দুনিয়াতেই।শুধু সময়ের অপেক্ষা।আমি আসবোই।
প্রায় পনেরো ঘন্টা জার্নি করে একটানা ডুবাই থেকে কানাডার টরেন্টো ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দর এ ল্যান্ড করেছে সাদিদের বিমান।বাইরে তখন দুপুর দুটো বিশ।এয়ারপোর্ট এর গেটের সামনে অপেক্ষা করছে সাদির বন্ধু ফাহাদ।ফাহাদ কে সাদি আগে থেকেই বলে দিয়েছিলো।সেজন্য রিসিভ করতে এসেছে।বাংলাদেশ থেকে প্রায় বাইশ ঘন্টা ফ্লাইট জার্নি করায় হাপিয়ে উঠেছে পিহু।এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে এক দফা বমি করেছে মেয়েটা।
ফ্লাইট এ এক ফোটা মুখে কিছু তুলেনি।গা গুলিয়েছে ওর।সাদি এয়ারপোর্ট থেকে এক্সিট করার আগেই পিহুকে জ্যাকেট পরিয়ে ঢেকে দিয়েছে।কানাডাতে বারো মাস ই প্রায় ঠান্ডা।কখোনো বেশি কখোনো সিমীত।
টরেন্টো শহর থেকে দেড় ঘন্টা জার্নি করে চলে আসে সাদির সেই ডুপ্লেক্স বাড়ির সামনে।দেশ ছাড়ার আগে সাদি ফার্ম হাউজ এর সাথে বাড়িটাও বিক্রি করে দিয়েছিলো তবে পরবর্তীতে কোনো কারন ছাড়াই আবার বাড়িটা কিনে নেই তার কাছ থেকে।
ফাহাদ বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যায় সাদি আর পিহুকে।যাওয়ার সময় হাউজ পাসওয়ার্ড কার্ড দিয়ে যায়।আজ সকালে মেড দারা সব পরিস্কার করে নিয়েছে ফাহাদ শুধু সাদি রা আসবে বলে।যদিও প্রতি সপ্তাহে পরিস্কার করা হয় তবে আজ খুব তীক্ষ্ণ নজরে পরিস্কার করিয়েছে।
সাদি পিহুর হাত ধরে নিয়ে বাড়ির দিকে অগ্রসর হলো।মাথায় ভবিষ্যৎ এর চিন্তা।চোখে মুখে ক্লান্তি।পাশে প্রান প্রিয় অর্ধাঙ্গিনী। তার বাম পাজড়ের হাড় থেকে তৈরী শুধু তার জন্য তৈরী মেয়েটা।ঘরের সামনে গিয়ে ডোর পাসওয়ার্ড দিতেই দরজা খুলে যায়।সাদি সোজা পিহুকে নিয়ে ল্যাগেজ নিয়ে উপরে চলে আসে।
সাদির ঘরে গিয়ে বসতেই পিহুর হটাৎ আবারো মাথার মধ্যে চক্কর দিয়ে উঠে।চোখ মুখেও ক্লান্তি তে ছেয়ে যায়।সাদি বুজতে পেরে তাড়াতাড়ি এসে পিহুকে নিজের পাশে বসায়।ফাহাদ কে বলে রাস্তা থেকে খাবার নিয়ে নিয়েছিলো।সেটাই খুলে টি টেবিল এর উপর রাখে।পিহুকে বসিয়ে সাদি চলে যায় ফ্রেশ হতে।
ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পিহু গালে তুলে ঘাইয়ে দিয়ে বিছানায় সুয়ে দেয়।তারপর পিহুর পাশে ল্যাপটপ নিয়ে বিছানায় বসে নিজের ব্যাবসা দেখতে লাগে।সাথে বাড়ির সকল পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে দেই।যাতে সে আর পিহু বাদে কেও বাড়িতে প্রবেশ করতে না পারে।
একের পর এক তথ্য যোগাড় করে মেইলে সেভ করে সাদি পিহুর ঘুমন্ত মায়াবী মুখের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠে…
-“কষ্ট হবে রে জান।সময়ের বিপক্ষে চলতে কষ্ট হবে।তবে আজকের পর থেকে কোনো কষ্ট তোকে ছুয়ে দেওয়ার আগে তাকে আমি নিঃশেষ করে দিবো।
সাদি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।কাল থেকে তাদের দুজনের নতুন পথচলা শুরু।এ পথ কতটা সহজ কিংবা কঠিন সাদির জানা নেই তবে।সে পিহুর মাথার উপর বটবৃক্ষর মতো ছায়া হয়ে দাঁড়াবে। কোনো দুঃখকে আর তার পিহুকে ছুয়ে দিতে দিবে না।সাদিও পিহুর পাশে সুয়ে পিহুর কপালে স্নিগ্ধ একটা চুমু খেয়ে পিহুকে বুকের সাথে জড়িয়ে নিজেও পাড়ি জমায় ঘুমার দেশে।
চলবে….
-(এ কদিন পড়াশোনা পরিবার নিয়ে একটু বেশি ব্যাস্ত ছিলাম তাই গল্প দিতে পারি নি।নিয়মিত গল্প দিবো এবার থেকে ইনশাআল্লাহ। ২k রিয়েক্ট হলে পরের পর্ব দিবো।বেশি বেশি রেসপন্স করবেন।কেও বাজে মন্তব্য করবেন না)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৭
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৬
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১২
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৬
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১১
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৮
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩৪
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৪(ক+খ)