প্রণয়ের_রূপকথা (২৯)
হোটেলের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বাড়িতে আবার সবাই এসেছে। সবাই বলতে রাত্রিদের বাড়ির সবাই। আর একটা উদ্দেশ্য আছে অবশ্য। ঠিক হয়েছে আবিরের বিয়ের একটা ব্যবস্থা করা হবে। রমিজের বাবা-মা না থাকায় সব কিছু এখান থেকেই করা হবে। মিলাদ মাহফিল শেষে খাবার দেয়া হলো। খাবার খেতে খেতে আবির বলল,”মামি, একদম সেরা হয়েছে। তুমি এমনিতেই ভালো রান্না করো। আজ আরো ভালো লাগছে। আমি একটা বিষয় ঠিক করলাম। যদি আমার ভাগ্যে বিয়ে থাকে, তবে সব খাবার তোমার এই হোটেল থেকে অর্ডার করব।”
এ কথায় হাসলেন ববিতা। বললেন,”সেটা দেখা যাবে। আগে সব ঠিক ঠাক চলুক। তোরা তো আগেও খেয়েছিস। বাকিদের পছন্দ হবে কি না….
“কেন হবে না? এত ভালো রান্না। না হয়ে উপায় আছে?”
ওনাকে থামিয়ে দিয়ে বলে ওঠল দীপ্র। পুডিং এর বাটি থেকে এক চামচ পুডিং মুখে দিয়ে ও পুনরায় বলল,”এটা সেরা। ছোট বেলায় আমি আর কুহু….
বলতে গিয়ে দীপ্রর গলাটা থেমে গেল। কণা বলল,”তুমি আর আপু কী দীপ্র ভাইয়া?”
দীপ্রর মাঝে দোটানা ছিল। ও সেটা ভেঙে হাসল। বলল,”মামির হাতের পুডিং আমাদের খুব পছন্দ ছিল। কুহুকে নিয়ে আমি লুকিয়ে লুকিয়ে খেতাম।”
দীপ্র নিজের আড়ষ্টতা ভাঙল। কুহু বসাই ছিল। ও ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে রইল। কণা বলল,”আসলেই? এসব সত্যি?”
“হ্যাঁ। ওরা দুজনই পুডিং খুব পছন্দ করত।”
জবাবটি দিলেন ববিতা। পুনরায় বললেন,”তোরা খাওয়া দাওয়া কর। আমি ওদিকটায় দেখি। লোকজন আসতে শুরু করেছে।”
চলে গেলেন তিনি। আবির খাবার চিবুতে চিবুতে নিচু সুরে বলল,”ভাই, আমার কিন্তু ভয় হচ্ছে।”
“ভয় কেন?”
“পরশু ওদের বাসায় যাব। ওর বাপ যদি ঝামেলা করে।”
“ঝামেলা করবে না। আর করলে আমরা আছি না?”
“কী করব? মেয়ে ভাগিয়ে আনব?”
“দরকার পড়লে সেটাই করব।”
বলে পিঠ চাপরে দিল দীপ্র। আবির ছোট করে নিশ্বাস ফেলল। ওদের কথোপকথনের মাঝেই রিকশা এসে থামল। রাত্রি আর কুহু চলে গেল স্কুলের বাচ্চাদের জন্য খাবার নিয়ে। আজ ওদের জন্যও ফ্রি খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। নিশ্চয়ই বাচ্চারা অনেক দিন পর টিফিনে তৃপ্তি নিয়ে খাবে।
আদতে সবটা সহজ মনে হলেও, সবটা সহজ নয়। গতকাল সবাই থাকায় ববিতা বিষয় গুলো সেভাবে ধরতে পারেন নি। আজ মনে হলো মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়েছে। কুহুকে যেতে হয়েছে ভার্সিটি। কণাটার শরীর ভালো না। গতকাল কাজ করে আজই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি যখন সব সামাল দিয়ে এসে ক্লান্ত হয়ে বসলেন। জেবা বললেন,”খুব চাপ লাগলে করিও না।”
“উপায় নেই আপা। করতেই হবে। আর কদিন পর সামলেও ওঠব। এখন একটু সমস্যা হচ্ছে।”
“বুঝতে পারছি। জানি তুমি পারবে।”
বলে বসলেন জেবা। এই মুহূর্তে ববিতার দরকার একটু ভরসা। এই ভরসাই তাকে অনেকটা দূরে নিয়ে যাবে।
দেখতে দেখতে চারটা দিন চলে গেল। এরই মধ্যে বাড়ির বড়োরা গিয়ে আবিরের বউ দেখে এসেছে। আবিরের যে ভয়টা ছিল সেই ভয়টা এখন আর নেই। বিয়ের কথা অনেকটাই ফাইনাল হয়ে এসেছে। এখন দিন তারিখ দিয়ে এলেই হলো। এরই মধ্যে সকাল সকাল ঘটল আরেক ঘটনা। কুহু আর রাত্রি যখন বাগানে পানি দিচ্ছিল তখনই বাড়ির বাইরে একটা গাড়ি এসে থামল। গাড়ি থেকে বের হয়ে এল একটি সুদর্শন পুরুষ। আর পুরুষটির নাম অরণ্য।
“এ আবার কে?”
জবাবে রাত্রি ছোট করে বলল,”দীপ্র ভাইয়ের বন্ধু। অরণ্য ভাইয়া।”
একে আগে দেখেনি কুহু। ও চেয়ে রইল। বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে দীপ্র। এসেই অরণ্যকে জড়িয়ে ধরল। দুই বন্ধুর জড়িয়ে ধরা দৃশ্যটি দেখে নিয়ে কুহু বলল,”ওনি হঠাৎ এখানে?”
“জানি না তো। আমি ভেতরে যাই কুহু। তুই থাক।”
বলে দ্রুত পা চালিয়ে চলে গেল রাত্রি। কুহু কয়েক সেকেন্ড চেয়ে রইল। সহসাই অরণ্যর দৃষ্টি পড়ল এদিকে। অদূর থেকে দীপ্র বিড়বিড় করে বলল,”ও হলো কুহু। আমার কাজিন। মানে আমার না হওয়া বউ।”
রাত্রি আজ সারাদিন বের হয়নি। নিজের কক্ষেই ঘাপটি মেরে আছে। কুহু সেটা লক্ষ্য করেছে। তবে বুঝতে পারছে না কেন এমন করছে। অরণ্যর সাথে কুহু-কণার কথা হয়েছে। ছেলেটা ভীষণ ভালো। ওরা জেনেছে, অরণ্য আর দীপ্র একই দেশে থেকেছে। তবে শহরটা আলাদা। অরণ্য আসার সময় অনেক কিছুই এনেছে। কুহুকে একটা ল্যাপটপ দিয়েছে! এটা নিতে গিয়ে কুহুর খুব দ্বিধা ছিল। দীপ্র তখন ফট করেই বলল,”আমি আনতে বলিনি। ও নিজ থেকেই এনেছে। নিতে পারিস।”
এ কথার পর কুহুকে থামতে হয়েছে। তাছাড়া অরণ্য এত মিশুক যে বাড়ির সবাই ওর ওপর ফিদা হয়ে আছে। মা ও নিতে বলেছে। ল্যাপটপটা বেশ ভালো মানের। কুহুর আসলেই কাজে লাগবে। শেষবার ল্যাপটপ কেনার জন্য ও টাকা জমাচ্ছিল। কিন্তু কেনা হয়নি আর। কুহু ভেতরে ভেতরে খুশি হয়েছে। টুকটাক কাজ সে পারে। কতক্ষণ ল্যাপটপ নিয়ে ঘাটাঘাটি করতেই কণা এসে হাজির। ও দাঁত কেলিয়ে আসতেই কুহু বলল,”বুঝেছি।”
“একটা মুভি দেখব আপু। একটাই।”
“আচ্ছা দেখ, তবে উল্টাপাল্টা কিছু করিস না আবার।”
“আরে না। আমি কি গর্দভ নাকি। টুকটাক আইডিয়া আছে।”
কুহু ওর কাছে ল্যাপটপ রেখে এল রাত্রির ঘরে। দুপুরের খাবারটি সে ঘরেই খেয়েছে। বাহানা দিয়েছে অসুস্থতার।
“এখন শরীর কেমন?”
জড়োসড় হয়ে বসেছিল রাত্রি। কুহুকে দেখে একটু চমকাল।
“তুই?”
“হুম। কী হয়েছে তোমার?”
রাত্রির চোখে দ্বিধা। কুহু ওর পাশে বসল। কয়েক সেকেন্ড মৌন থেকে বলল,”অরণ্য ভাইয়াকে নিয়ে সমস্যা?”
রাত্রি কি বলবে বুঝল না। ও অসহায় চোখে তাকাল।
“আমি তো একেবারে বাচ্চা না রাত্রিপু।”
মেয়েটি হার মানল। ছোট করে বলল,”তোকে তো প্রায় সব বলি কুহু। এটা বলা হয়নি। অরণ্যর সাথে আমার একটা সম্পর্ক ছিল।”
কুহু অবাক হলো না। ও কিছু একটা বুঝতে পারছিল। তবে নিশ্চিত ছিল না।
“ছিল, এখন নেই?”
“না। ব্রেকাপ হয়েছে। কিছু দিন আগে।”
“কেন?”
“শুধু, শুধু। ওকে যা নিষেধ করি তাই করে। আমি সম্পর্কের বিষয়ে লয়াল। আমার ভয় হয়। ও থাকে বাহিরের দেশে। এত মেয়েদের সাথে মেলামেশা করে। বল আমার ভয় লাগবে না?”
কুহু কিছু বলল না। রাত্রি ছোট করে বলল,”কিন্তু ও হুট করে এখানে কেন এল বুঝলাম না।”
“সেই জন্যই তুমি চিন্তায়?”
“বলতে পারিস। আমার আসলেই কিছু ভালো লাগছে না। আমি মুভ অন করতে চাই।”
বলে রাত্রি হতাশার নিশ্বাস ফেলল। কুহু কিছু বলতে পারল না। শুধু চেয়ে রইল রাত্রিপুর দিকে।
দীপ্রর সাথে কুহুর আড়ষ্টতা ভেঙেছে অনেকটাই। সেই সাহস থেকেই বোধহয় দীপ্রর কক্ষে এসেছে ও। রাত্রিপুকে চিন্তায় দেখে ওর ভালো লাগছে না। দীপ্র ওকে বসিয়ে রেখেছে প্রায় দশ মিনিট হতে চলল। কুহু বড়ো বিরক্ত হলো। মিনমিনে সুরে বলল,”আমি কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করতে এসেছিলাম।”
ল্যাপটপ নিয়ে সারাক্ষণ কি যে করছে দীপ্র। হয়তো ব্যবসার কাজ। কুহুকে যেন এক প্রকার ভুলেই গিয়েছে। কণ্ঠ পেয়ে কেমন হাবুলের মতন চেয়েছে।
“অহ, হ্যাঁ। শুনছি, বল।”
কুহু গলাটা ভেজাল। ভেতর থেকে শক্তি এন বলল,”অরণ্য ভাইয়া আর রাত্রিপুর একটা সম্পর্ক ছিল।”
“হুম, জানি। তবে ব্রেকাপ হয়ে গেছে।”
নজর না ঘুরিয়েই জবাব দিল দীপ্র। কুহু আবারো বলল,”অহ।”
“হুম।”
বলে থামল দীপ্র। আবার বলল,”আর কিছু?”
“আরেকটা কথা আছে।”
“বল।”
“অরণ্য ভাইয়া কেন এসেছে? আপুর সাথে মিটমাট করতে?”
“না।”
না বলায় কুহুর মুখটা চুপসে গেল। ও চাচ্ছিল দীপ্র ভাই বলুক হ্যাঁ মিটমাট করতে এসেছে। কিন্তু তেমন হলো না।
“অরণ্যর সাথে আমার একটা পার্টনারশিপ হবে। আমি তো বিদেশে সেটেল আর হব না। তো ওর কাছে সব ছেড়ে দেব। সেই জন্যই এসেছে।”
“আপনি আসলেই যাবেন না?”
বিস্ময়ের সাথে শুধাল কুহু। দীপ্র ছোট করে বলল,”হুম। যাব না আর।”
কুহু আর কিছু বলতে পারল না। ওঠে চলে এল। দরজার কাছে এসে আবার ফিরে এল।
“আর একটা কথা বলব?”
মেয়েটির কণ্ঠে দ্বিধা। চাইল দীপ্র। কুহুর দিকে আজকাল খুব একটা চায় না ও। দৃষ্টি আড়াল করে। যাতে কুহু সহজ হতে পারে।
“হুম?”
জবাব দেয় দীপ্র। কুহু মিনমিন করেই বলে,”অরণ্য ভাইয়ের সাথে রাত্রিপুর সম্পর্কটা ঠিক করা যায় না?”
কয়েক সেকেন্ড মৌন থেকে দীপ্র বললে,”সেটা হলে আমিই খুশি হতাম। কিন্তু ওরা নিজ থেকে না চাইলে তো সম্ভব না।”
“সেটাও ঠিক।”
বলে মন খারাপ করে যেতে নিচ্ছিল কুহু। দীপ্র ডেকে ওঠল।
“শোন।”
পেছন ফিরল কুহু। দীপ্র বসা থেকে ওঠে এসে ওর কাছাকাছি হলো।
“একটা জিনিস।”
“কী?”
“ওদের মেলানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। আমি অরণ্যকে আবিরের বিয়ের বাহানায় আটকে রাখব। এর মধ্যেই যা করার করতে হবে। তুই সাহায্য করতে পারবি?”
“হ্যাঁ, পারব।”
“ওকে। তাহলে এ কথাই রইল। আমি দেখি অরণ্যর মনে কী চলে। তারপর আলোচনা করব।”
“আচ্ছা।”
“হুম।”
বলে মৌন হলো দীপ্র। কুহুও চুপ। তবে মেয়েটি চলে না গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দীপ্র ভ্রু নাচিয়ে শুধাল,”আর কিছু বলবি?”
“হুম।”
বলে দৃষ্টি ফেরাল কুহু। দ্বিধা ভেঙে ছোট করে বলে,”থ্যাংক ইউ।”
“হঠাৎ?”
“হঠাৎ না তো।”
“তাহলে?”
“আমি অনেক ক্ষেত্রেই ভুল ছিলাম। কিন্তু আপনাকে দোষ দিয়েছি। ওটা বুঝতে পেরেই বললাম।”
“আচ্ছা।”
“কিন্তু আর একটা কথা….
“কী?”
বলল দীপ্র। কুহু গলার স্বর দৃঢ় করে বলল,”আমি এখনো আমার কথার অটল। আপনি আমাকে অপদস্ত করেছেন। ওটা ভুলব না।”
পুরো ব্যাপারটাই এই একটা কথায় ঘেটে দিল কুহু। দীপ্র হতাশ হয়ে বলল,”সেই জন্য আমি কিন্তু সরি বলেছি কুহু।”
“হুম বলেছেন। কিন্তু আমি কেন যেন মানতে পারি না।”
সহজ স্বীকারোক্তি ওর। দীপ্র ছোট করে বলল,”সময় কে সময় দিলে ঠিক হয়ে যাবে। আর আমরা দুজনেই তো একটা মিউচুয়াল সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাই না? স্বাভাবিক করার?”
সেদিন দীপ্র সরাসরি বলেছে সবটা স্বাভাবিক করতে হবে। কুহুর ভেতর থেকেও একটা সায় ছিল। কারণ তার ভুল গুলো দৃশ্যমান। তাছাড়া নিজের ভেতরে একটা ভয় ও কাজ করে। বিষয়টা জানাজানি হলে সত্যিই মুখ পাবে না কুহু। সেসব ভেবে ছোট করে নিশ্বাস ফেলতেই হনহনিয়ে কক্ষে প্রবেশ করল আয়ানা। ওদের দুজনকে দেখে ভ্রু কুঞ্চিত করল।
“আয়ানা।”
বলল দীপ্র। মেয়েটির মুখশ্রী আকাশের সবটুকু মেঘ ধরে রেখেছে যেন। দীপ্র চেহারায় একটা কঠিন ভাব এনে বলল,”নক করে আসতে হয় জানিস না?”
একটা অপমান মেয়েটিকে সপাটে চড় বসাল। ও ঠোঁট কামড়ে বলল,”সরি।”
দীপ্র বুঝল আয়ানা কষ্ট পেয়েছে। তাই নরম হলো।
“কিছু বলবি?”
“খাবার খাওয়ার জন্য ডাকতে এসেছিলাম।”
“আচ্ছা, আসছি। তুই যা।”
“হুম।”
বলে চলে গেল আয়ানা। ওর যাওয়ার পানে চেয়ে কুহু চিন্তায় পড়ল। আয়ানাপু এই রাগ তার ওপর না ওঠালেই হলো।
রাত্রিকে রাতের খাবারে আসতে হয়েছে। বাড়িতে এত মানুষ যে এক টেবিলে জায়গা হচ্ছে না। শেষমেশ ঠিক হলো ওদের বাড়ির মাঝে যে বাঁধাই করা ওঠানের মতন জায়গা আছে ওখানে মাদুর বিছিয়ে খাওয়া দাওয়া হবে। ছোট বেলায় বাচ্চাদের এভাবেই বসিয়ে খাওয়াত। বিষয়টা বেশ মজাদার ও। কুঞ্জ হৈ হৈ করে মাদুর নিয়ে এল। কণা মাদুর বিছিয়ে দিল।
“আমি আগে বসব।”
বলে লাফিয়ে বসে পড়ল কুঞ্জ। আবিদা ছেলেকে শাসনের মতন করে বললেন,”খাওয়ার সময় এভাবে ছুটোছুটি না কুঞ্জ। ভদ্র হয়ে থাকো।”
“আমি তো ভদ্রই। ভদ্র না বলো কণাপু?”
কণা হেসে বলল,”হুম।”
বাড়ির নারী সদস্যরা খাবার এনে রাখছেন। উঠানের এক পাশে কত গুলো বেঞ্চের মতন রাখা। ওখানেই বসে আছে রাত্রি আর কুহু। রাত্রির বুকের ভেতর কেমন ধীম ধীম করছে।
“রাত্রিপু।”
“বল কুহু?”
রাত্রি যেন ক্লান্ত। তাকে বিষণ্নতা চেপে ধরে আছে। কুহু ভণিতা ছাড়াই বলল,”তুমি কি সবটা স্বাভাবিক করতে চাও?”
“না রে কুহু। ওর সাথে আমি সুখী হব না। ও আমাকে আসলে ভালোই বাসে না। ভালো বাসলে, আমি ব্রেকাপ করাল পর ঠিকই খোঁজ নিত। কিন্তু নিল না। খুহ ইগো বেয়াদবটার।”
জবাবে কিছু বলতে নিচ্ছিল কুহু। তবে ওকে আটকে দিল অরণ্য আর দীপ্র আগমন। আবির আগে থেকেই উপস্থিত আছে। দীপ্র আর অরণ্য ওর সাথে গিয়ে বসল। জেবা প্লেট এনে দিয়ে রাত্রি আর কুহুকে উদ্দেশ্য করে বললেন,”কী রে। তোরা আয়।”
ওদেরকেও এবার ওঠতে হলো। আয়ানা একটু আগেই এখানে এসে বসেছে। ওর পাশ ধরেই বসল রাত্রি আর কুহু। কণা বসেছে অন্য দিকটায়। কুঞ্জকে সাথে নিয়ে।
“রাত্রি, কুহু। একটু তোরা খাবার বেড়ে দে তো। আমি ওদিকে যাই। বসে আছে সবাই।”
বললেন ববিতা। সারাদিন হোটেল সামলে এখন সংসারেও তিনি ঘোড়ার মতন দৌড়াচ্ছেন। মায়ের এমন গতি কুহুকে অবাক করে। তিনি না থাকলে সত্যিই ভেসে যেতে হতো। কুহু আর রাত্রি ওঠে গিয়ে খাবার পরিবেশন করতে লাগল। তবে বিপত্তি হলো অরণ্যর বেলায়। খাবারের বাটি কুহুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে রাত্রি বলল,”তুই দে তো। আমি পানি নিয়ে আসি।”
পানির জগ নিয়ে ওঠে গেল রাত্রি। অরণ্য স্বাভাবিক ভাবেই বসেছিল। কথা বলছিল দীপ্র আর আবিরের সাথে। রাত্রির কণ্ঠ পেয়ে ফট করেই নজর ফেরাল। যদিও, পুরোপুরি দেখতে পেল না।
চলবে…
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি
Share On:
TAGS: প্রণয়ের রূপকথা, ফাতেমা তুজ নৌশি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৯
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২৮
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৭
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৪
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ১৩
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২৫
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২২
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২১
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ১৪