প্রণয়ের_রূপকথা (২৫)
“তুই খেলি কেন আপু? ওর মুখের ওপর ফেলা উচিত ছিল।”
হিসহিস করে বলে ওঠল কণা। কুহু ছোট করে বলল,”বাড়াবাড়ি হচ্ছে।”
“হচ্ছেই তো। তবে সেটা আয়ানাপুই করছে।”
“থাম না কণা। একটা ব্যাপার এভাবে টানছিস কেন?”
“আমি টানছি? তুই কেন বুঝিস না আপু? আয়ানাপু একদম ভালো না। শয়তান একটা। তুই ভালো মানুষ তাই ওর খারাপ গুলো চোখে লাগে না।”
কুহুর গলাটা কেমন শুকিয়ে এল। ও ভালো মানুষ? সত্যিই কি তাই? কণা বিরক্ত হয়ে বসল বিছানায়। কুহু স্বীয় হাতের দিকে তাকিয়ে বলল,”আমি ভালো মানুষ কণা?”
“অবশ্যই। তুই ভালো দেখেই তো…
এ অবধি বলে কথার টোন বদল করল কণা। সন্দেহ নিয়ে বলল,”কিছু হয়েছে? তোকে কাল থেকেই কেমন যেন লাগছে। আমি বলব বলব করেও বলা হয় নি।”
“বাবাকে মনে পড়ছে। খুব মনে পড়ছে।”
বলে দু চোখ ভেঙে চুরে কেঁদে ফেলল কুহু। ওর কান্না দেখে কণার বুকটাও ভেঙে এল। এগিয়ে এসে বোনের পাশে দাঁড়াল। মাথাটা দু হাতে আগলে ধরল বুকের কাছটায়।
“বাবাকে আমরা ঠিক ঠিক একদিন দেখতে পারব। আমরা সবাই দেখতে পারব। অনেক অনেক গল্প হবে আপু। অনেক অনেক গল্প।”
কান্না মিশ্রিত সুরেই কুহু বলল,”পারব। অবশ্যই পারব আমরা।”
“হুম। তুই কান্না থামা।”
বলে দু চোখের জল মুছিয়ে দিল কণা। কুহু হেসে ছোট বোনের হাত আগলে ধরল। কণা চেয়ে রইল।
“তুই আর মা ছাড়া আমার আসলেই কেউ নেই রে কণা। তোরা কখনো ভুল বুঝিস না আমায়।”
“ভুল কেন বুঝব? এগুলো বলছিস কেন?”
“এমনি বললাম। তোরা ছাড়া আমার যে কেউ নেই।”
“আমারো তো কেউ নেই আপু। তুই আর মা ই আছিস।”
দরজার কাছ থেকে দু বোনের এই দৃশ্যটি দেখলেন জেবা। ওনার ভেতরটা কেমন করে ওঠল। নিজের ছেলের ওপর রাগ হলো। ছেলেটা বিয়ে ভেঙে দিয়ে মেয়ে দুটোকে আরো নিস্ব করে দিয়েছে। এখন, বাকি কাউকেই ওরা আপন ভাবতে পারছে না।
দীপ্র টাউজারের পকেটে হাত রেখে জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছিল। বাইরে থেকে চাঁদের এক ছটা আলো এসে পড়ছে ওর শরীরে। ওমন সময় জেবা প্রবেশ করলেন।
“তুমি আসলেই খারাপ করেছ দীপ্র। অনেক খারাপ করেছ।”
দীপ্র না তাকিয়েই বলল,”আবার কী করলাম আমি?”
“যা করার তো করেছই। বিয়েটা ভেঙে দিয়ে মেয়ে দুটোকে আরো অসহায় করে ফেলেছ। এটা যে কি করলে তুমি।”
“ভুলটা বুঝতে পারছি মা। এখন কী করব?”
দীপ্রর কণ্ঠটা অসহায় শোনাল। জেবা মুখটা শুকনো রেখেই বললেন,”এখন আর কী করার? কিছু করার নেই। তোমার চাচির মতের বদল হয়ে গেছে। সে এই ব্যাপারে অনেক কষ্ট পেয়েছে। আমার খুব লজ্জা লাগে।”
“দুঃখিত মা।”
দীপ্র কেমন যেন মনমরা হলো। জেবা ছোট করে নিশ্বাস ফেলে বললেন,”পারলে, সম্পর্কটা ঠিক করো। কুহুর প্রতি তোমার স্নেহ তো ছিল। সেটা এভাবে হারাল কীভাবে?”
“হারায় নি তো….
“তাহলে তো ভালো। সেই স্নেহটা কেন কাজে লাগাচ্ছ না? কুহুর ভালো মন্দ দেখো। তোমার চাচি না চাইলেও তুমি দেখবে। অধিকার দিয়েই দেখবে। এটা করতে হবে তোমায়। সব নষ্ট তুমি করেছ। ঠিক তুমিই করবে।”
মায়ের বলা কথা গুলো দীপ্রকে শক্তি দিল যেন। জেবা ছেলের দিকে এগিয়ে এসে বললেন,”সম্পর্ক ঠিক করো। কুহু তোমার র ক্তের। তুমি চাইলে সব সম্ভব। মনে রাখবে র ক্তের পাওয়ার অনেক বেশি।”
অসহায় হওয়া মুখটায় এক ছটা আলো এসে জমল। দীপ্র ভাঙা সুরে ডাকল।
“মা।”
মা তাকালেন। দীপ্র অনেকটা লম্বা। ও নিচু হলো। মাকে জড়িয়ে ধরল। একদম হুট করে। জেবা বিস্মিত হলেন। ছেলে বহুদিন হয় এভাবে জড়িয়ে ধরে না।
“আমার খুব অসহায় লাগে মা। আমি আসলেই বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিত।”
ছেলের অসহায় অনুভূতিটা খুব করে বুঝলেন জেবা। তিনি আদরের হাতটা পিঠে বুলিয়ে বললেন,”ভুল মানুষই করে। আর সেই ভুল ঠিকও মানুষই করে। তুমি পারবে। আমি জানি তুমি পারবে।”
আজ দুদিন পর ভার্সিটি এসেছে কুহু। ওকে দেখেই অদূর থেকে ছুটে এল লাবিবা।
“শোন কুহু। প্লিজ শোন।”
“কিছু শোনার নেই লাবিবা।”
“আমি সরি দোস্ত।”
“সরিতে সব কিছু হয় না। তুই আমার থেকে সায়েরকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিস। আর সেই জন্য আজ এই পরিস্থিতি।”
“ভুল তো মানুষেরই হয়। তুই আমায় ক্ষমা কর প্লিজ।”
“আমি নিজেই তো ক্ষমা পাচ্ছি না।”
বলে কুহু তাকাল কষ্ট নিয়ে। লাবিবা এগিয়ে এসে ওর হাতটা চেপে ধরল।
“সরি দোস্ত। কসম, যদি জানতাম এমন হবে। তাহলে ম রে গেলেও ঐ শালা সায়েরকে সাথে নিতাম না। আমি আসলেই ভয় পাচ্ছিলাম। তুই পালানোর প্ল্যান করলি। আমি তোর সঙ্গী তো হলাম। কিন্তু তারপর কী করতাম। এটা ভেবেই মনে হলো সায়ের পারবে সাহায্য করতে। কিন্তু ও যে এভাবে আ ঘা ত করে বসবে তা কী জানতাম?”
কুহুর গলাটা ধরে এল। ও লাবিবার দিকে তাকাল। চোখ দুটো রক্তিম।
“সায়েরের একটা হুমকিতে আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমি এতটা অসহায় হয়ে পড়লাম যে আজ আয়ানাপু আমাকে কথায় কথায় হুমকি দিচ্ছে। আর দীপ্র ভাই….ওনি তো মহান। আমাকে একের পর এক দয়া দেখিয়ে যাচ্ছেন। আমি তো কখনো দয়া নিতে চাইনি লাবিবা। আমার বাবা তো আমাকে দয়া নিতে শেখান নি। শেখান নি রে।”
কুহু কেঁদে ফেলল। লাবিবা ওকে জাপটে ধরল।
“আমি সরি দোস্ত। দোষটা তো আমার।”
“না। তোর না। কপালের দোষ। তাছাড়া দীপ্র ভাই আগেই সবটা জেনেছিলেন। সেই জন্যই বিয়েটা ভেঙেছেন। মাঝে জেনে গেল আয়ানাপু। এটা আমাকে আরো বেশি সমস্যা দিচ্ছে।”
“তোর এই কাজিন সিস্টার খুব পাজি তো।”
“সে ভাবে আমি দীপ্র ভাইকে চাই।”
“কী বলিস রে! চাইলে তো বিয়ে করেই ফেলতি। পালানোর প্ল্যান করতি না।”
“জানি না। কোনো ভাবেই এটা বোঝাতে পারছি না।”
“আসল কথা ও তোকে দেখতে পারে না। সেই জন্য বাহানা করে।”
কুহু কিছু বলল না। অদূরে সায়েরকে দেখা যাচ্ছে। ও চট করেই চোখ দুটো মুছে নিল। মুখে আনল কঠোর ভঙ্গি।
| পরের পর্ব আগামীকালই পাবেন ইনশাআল্লাহ। গল্প আসলেই থেমে আছে। কিন্তু আমি না ভেঙে, পরিস্থিতি না বর্ননা করে লিখতে পারছি না। সবার দিকটা না দেখালে, দোষ অনুভূতি তো এক দিক থেকে যাবে। এত গুলো চরিত্র, একটু তো সময় লাগবে। ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। যদি কারো খুব বিরক্ত লাগে, তবে পরে পড়ার অনুরোধ। আপনাদের বিরক্তি দেখলে আমারই খারাপ লাগে। তখন লেখায় আরো মন বসে না। যাদের গল্পটা ভালো লাগছে, ধৈর্য আছে তারা মোটিভেট করবেন আশা করি। |
চলবে…
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি
Share On:
TAGS: প্রণয়ের রূপকথা, ফাতেমা তুজ নৌশি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ১৫
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৩০
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৭
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ১২
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২৭
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৬
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ১৩
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২৩
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ১০
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ১৬