Golpo কষ্টের গল্প খাঁচায় বন্দী ফুল

খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩২


কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️

খাঁচায়বন্দীফুল

jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস

পর্ব – ৩২

নদী একের পর এক কল করে যাচ্ছে তুহিনকে। তুহিন ফোনটা ধরছে না। নদীর হাত পা সর্বাঙ্গ যেন কাঁপছে। জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়েছে যেন এক মুহূর্তের জন্য। হিতাহিত বুদ্ধি ও লোপ পেয়েছে মনে হচ্ছে। তুহিনকে কয়েকবার কল করার পরও যখন ধরলো না তখন নদী সিদ্ধান্ত নিল আর দেরি করা যাবে না এক্ষুনি যেতে হবে তাকে। নদী এক দৌড়ে বেরিয়ে গেল রুম থেকে। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হলো না। হাসান চৌধুরী, হাবিব চৌধুরী, আঞ্জুমান, সাইফ সবাই তখন টেবিলে। সাইফের অদিতির সাথে করা খারাপ ব্যবহার নিয়ে শাসাচ্ছে সাইফকে । এমতাবস্থায় নদী হাজির হলো বিধ্বস্ত হয়ে। তাড়াহুড়োর চোটে গায়ের ওড়নাটা ফেলে এসেছে রুমে। সায়রা নিজের মেয়েকে এই অবস্থায় দেখে ভড়কে গেল। আঞ্জুমান আর দীঘি উঠে দৌড়ে গিয়ে নদীকে ধরল। নদী হাপাচ্ছে, কিছু বলতে পারছে না। শুধু হাত ইশারা করে বাইরের দিকে দেখাচ্ছে। এবার এগিয়ে এলো হাবিব চৌধুরীরও। খানিকটা ধমকের স্বরেই বলল
“এই কি হয়েছে তোমার? এমন করছো কেন?”

নদী এবার চিৎকার করে কেদে উঠলো
“বা…বাবা। বাবা উনি অ্যাক্সিডেন্ট করেছেন। উনার অবস্থা ভালো না বাবা। আ…আমাকে যেতে হবে। যেতে হবে আমাকে। ছাড়ো তোমরা”

এবার এগিয়ে এলো হাসান চৌধুরী ও
“কি যা তা বলছো তুমি? কে উনি? কার কথা বলছো?”

“ছাড়ো আমাকে। তোমরা ছাড়ো আমাকে। আমার যেতে হবে”

ছাইড়া মেয়েকে বুকের মধ্যে চেপে ধরে বলল
“ মা শান্ত হ। আগে বল কি হয়েছে? কে এক্সিডেন্ট করেছে?”

নদী ফোপাতে ফোপাতে অস্ফুট শব্দে বলল
“তু…তুমুল। মা তুমুল এর অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে মা। ওর অবস্থা খুব খারাপ। আমাকে যেতে দাও”

হাবিব চৌধুরীর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। ওই দুশ্চরিত্র ছেলের জন্য তার মেয়ে এমন পাগলামো করছে এটা মানতে পারবেন না তিনি। ঝাঁঝিয়ে উঠলেন নদীর উপর
“অ্যাক্সিডেন্ট করুক নয় মরে যাক। তাতে তোমার কি? তুমি এমন করছ কেন। একটা কথা কান খুলে শুনে রাখো নদী। ওই ছেলের বিষয়ে কোনো কথা যদি দ্বিতীয়বার তোমার মুখে শুনেছি, আমি ভুলে যাব তুমি আমার বড় মেয়ে”

হাসান চৌধুরীর বেজায় রাগ হলো নদীর কথা শুনে। আঞ্জুমানকে হুংকার দিয়ে বলল
“ওকে ঘরে নিয়ে যাও, ও যেন এক পা ও ঘরের বাইরে না বের হয়। লাগলে ঘরের দরজায় বাইরে থেকে বন্ধ করে দাও। নয়তো খুব খারাপ হবে বলে দিলাম”

ওরা নদীকে নিয়ে যেতে চাইলে সাইফ বাধা দিল
“দাঁড়াও মা”

হাসান চৌধুরীর উদ্দেশ্যে বলল
“বাবা বিষয়টা জানা উচিত। ও কেন এমন করল।”

সাইফ নদীর মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ায়। নদীর পা যেন তার শক্তি ছেড়ে দিচ্ছে । শরীরের ভর রাখতে পারছে না নিজে। সাইফ গম্ভীর গলায় নদীকে প্রশ্ন করল
“কি হয়েছে রে? তুমুলের অ্যাক্সিডেন্টে তুই এত উতলা হচ্ছিস কেন?”

নদী কথা বলে না। মাথা নিচু করে ফোপাচ্ছে শুধু। সাইফ নদীর গাল ধরে বলল
“সত্যি করে বল নদী। কি সম্পর্ক তোর তুমুলের সাথে”

নিজের মেয়ের ব্যাপারে এমন কথা বলে হাবিব গর্জে উঠলো সাইফের উপর
“কি যা তা বলছো? ওর সাথে আবার কিসের সম্পর্ক থাকবে তুমুলের?”

“সম্পর্ক কিছু তো একটা আছে কাকাই। নয়তো আমরা যখন বাড়ি ছিলাম না, তখন তুমুল এ বাড়িতে কি করতে আসতে বলোতো”

হাবিব চৌধুরীর রাগ যেন তালুতে চড়ে গেল। চেঁচিয়ে উঠল সাইফের উপর
“একদম মুখ সামলে কথা বলবে বলে দিলাম। আমার মেয়েকে কি নিজের মত চরিত্রহীন ভেবেছো নাকি? নিজে তো নিয়ে এসেছ পতিত!লয় থেকে একটা মেয়ে। আমার মেয়ের ব্যাপারে এত বড় কথা বলার দুঃসাহস পেলে কোথায় তুমি”

সাইফের ও মেজাজ চলে গেল কাকার উপর। কিন্তু নদী যতক্ষন স্বীকার না করছে সে নিজের রাগ সংবরণ করল
“সেটা এক্ষুনি জানতে পারবে কাকাই”

সাইফ দীঘিকে ডাকলো
“এই দীঘি নিচে আয়”

দীঘি সিড়িতে দাঁড়িয়ে এতক্ষন সব কথা শুনছিলো। সাইফের ডাকে সে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে এসে সাইফের পাশাপাশি দাঁড়ালো। সাইফ শক্ত গলায় জিজ্ঞেস করল
“আমরা যখন গ্রামে ছিলাম তখন তুমুল এই বাড়িতে এসেছিল না?”

দীঘি একবার নদীর দিকে তাকায় তারপর মাথা নিচু করে নেয়। সাইফ এবার ধমকের স্বরে বলল
“কি হলো কথা বলছিস না কেন? একদম কথা লুকানোর চেষ্টা করবি না। নইলে দুটোকেই মেরে ফেলবো একদম”

দিঘির ভিতর টা যেন চমকে উঠলো সাইফের ধমকে
“হ্যাঁ এসেছিল”

সাইফ এবার নিজের কাকার দিকে তাকালো। হাবিব চৌধুরীর পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল দীঘির কথায়। তেড়ে এলো দীঘির দিকে । কিন্তু দীঘিকে আঘাত করার আগেই সাইফ দাঁড়িয়ে পড়লল দীঘির সামনে।
“তোমার বড় মেয়ের পাপের শাস্তি খবরদার দীঘি কে দেবে না বলে দিলাম। ওর গায়ে একটা ফুলের ঢোকাও যদি পরে, আমি তোমাকে এবং তোমার মেয়েকে সাথে ওই দুশ্চরিত্র ছেলেকেও, কোনটাকে ছেড়ে কথা বলবো না।”

খানিকটা থেমে সাইফ আবার হাবিব চৌধুরীর দিকে এগিয়ে গেল
“আর কি যেন বলছিলে আমি নিষিদ্ধ জায়গা থেকে মেয়ে নিয়ে এসেছি, বিয়ে করেছি তাই তো?”

তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল
“কাকাই আমি তো তাও বিয়ে করে এনেছি। মেয়েটাকে খারাপ জায়গায় পাঠানোর আগেই ওকে নিয়ে চলে এসেছি এবং বিয়ে করেছি। আর তোমার মেয়ে কি করল? বাড়িতে কেউ নেই এই সুযোগে পর পুরুষ বাড়িতে ঢুকালো”

হাবিব চৌধুরীর ইচ্ছা করছে মরে যেতে। এত বিশ্বাস যোগ্য বড় মেয়ে যে এরকম কান্ড ঘটাবে তার ধারণার বাইরে ছিল। কিন্তু বোনের ব্যাপারে এত বাজে কথা সহ্য হলো না দীঘির। সকলের সামনে চেঁচিয়ে বলল
“আপু কোন পাপ করেনি, আর না কোন খারাপ কাজ করেছে। তুমুল ভাইয়া আর আপু বিবাহিত।”

দীঘির কথায় বাড়ির লোক আরো বেশি আশ্চর্য হয়ে গেল যেন। সায়রা এবার আর সহ্য করলেন না। উঠে এসে কষিয়ে একটা চড় বসিয়ে দিলো মেয়ের গালে। দীঘি গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। নদী ততক্ষণে ঢলে পড়েছে। সায়রা আর আঞ্জুমান তাকে নিয়ে সোফায় শোয়াতে চাইলো। কিন্তু হাসান চৌধুরী বললো তাকে রুমে নিয়ে যেতে। ওরা ধরা করে নদীকে নিয়ে রুমে চলে গেল ।

সাইফ দীঘি কে বলল
“তুই যা যা জানিস সব বল”

দীঘি কাঁদতে কাঁদতে সব ঘটনা বলল সবাইকে। হাবিব চৌধুরী থোয়া মেরে বসে পড়লো সোফায়। বড় মেয়েকে তিনি অগাধ বিশ্বাস করতেন। সেই বিশ্বাস ভেঙ্গেছে সে এরকম একটা কাজ করতে পারে তা মানতে পারছেন না হাবিব চৌধুরী। সাইফ এবার আর কোন কথা বলবে না। বাবা কাকাদের উপর সব ছেড়ে দিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।

হাবিব চৌধুরী ভেঙে পরলেও হাসান চৌধুরী এখনো শক্ত। হাবিব চৌধুরীর কাঁধে হাত রেখে বলল।
“এভাবে ভেঙে পরিও না হাবিব। এখনো অনেক কিছু করতে পারি আমরা। মেয়ে যেহেতু আমাদের কাছেই আছে।”

হাবিব জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো হাসান চৌধুরীর দিকে। হাসান চৌধুরীর দৃষ্টিতে সোজা।
“তোমার না কত ছেলেপুলে পোষা আছে হাবিব। তাদের কাজে লাগাও। হাসপাতাল থেকে যেন জীবিত না ফিরে। ও সব অগাছা বেচে ফিরলে ডিভোর্স ছাড়াছাড়ি মামলা মোকদ্দমা আরো অনেক মান হানির মুখোমুখি হতে হবে আমাদের।”

অদিতির নিস্তেজ শরীরটা বিছানার সাথে মিশে আছে। গায়ে একরত্তি শক্তি নেই। ঘাড়ে, গলায়, মুখের বিভিন্ন অংশে রক্ত জমাট বেধে আছে কামড়ের দাগ। বিবস্ত্র শরীরটা কম্ফোর্টার এ ঢেকে সিলিং এর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সাইফ আজ একটু বেশিই হিংস্র হয়ে উঠেছিলো। আজকের স্পর্শে তার ভালোবাসার চাইতে বেশি শাস্তিই ছিলো। এরকম আচরণ এর আগে অদিতির সাথে করেনি সাইফ।

দরজা খোলার শব্দ পেয়েও সেদিকে তাকালো না অদিতি। সাইফ রুমে ঢুকে পুনরায় দরজা বন্ধ করে দিলো। অদিতির কাছে এগিয়ে গিয়ে আপাদমস্তক দেখলো তাকে। ভীষণ এলোমেলো লাগছে অদিতিকে।

অদিতির মুখে আসা চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে বলল
“আমার বাচ্চা বিড়ালটা কি উঠবে না?”

অদিতি জবাব দিলো না। সাইফ শুয়ে পরলো অদিতির ওপর। নাকে নাক ঘষে দিয়ে বলল
“বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছি?”

অদিতির চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পরে নোনা জল। সাইফ নিজ হাতে মুছে দেয়। খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা গালটা ঘষে দেয় অদিতির তুলতুলে মসৃণ গালটায়। কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে ফিসফিস করে বলল
“আমার বাচ্চা বিড়ালটা যেন সবসময় আমার কথা শোনে। নয়তো এমন শাস্তি বারবার পেতে হবে হুমমম। তবে এমন সুইট শাস্তি তোমাকে এখন আবার পেতে হবে।”

অদিতির কান দিয়ে গরম ধোয়া বের হতে লাগলো যেন। আবার? একধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো সাইফ কে নিজের থেকে। সাইফও সরে এলো। শব্দ করে হাসতে লাগলো সাইফ।

অদিতি কম্ফোর্টার গায়ে জড়িয়েই উঠে দাড়ালো। সাইফ টেনে ধরলো আবার
“এই! কম্ফোর্টার সহ ওয়াশরুমে গেলে এটা তো ভিজে যাবে”

“তো কি করবো?”

“ কম্ফোর্টার ছাড়াই যাও”

“ বের হন ঘর থেকে। যান বের হন বলছি। বেহায়া ব্যাটা ছেলে। লজ্জা সরমের বালাই নেই।”

অদিতির রাগ করা দেখে আরো হাসলো সাইফ। হাসতে হাসতেই অদিতিকে জড়িয়ে ধরলো আবার। গালে মৃদু কামড় দিতেই অদিতি ধুপধাপ কিল বসাতে শুরু করলো। সাইফ দৌড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে আসে।

—-

কবিতার আবদারে আজ বিকাল পেরোতেই বাড়ি ফিরলো তুযা। বেশ কয়েকদিন হলো জাবেদের দোকানে নিয়ে যায় না কবিতা কে। সে নিয়ে কবিতার ভীষণ অভিমান। না পেরে আজ সন্ধ্যা হতেই বাড়ি ফিরলো তুযা। যাক একটা টান অন্তত হলো ঘরের প্রতি। আজ মেহেরজান থাকলে হয়তো কবিতা কে বহবা দিতো এই বাউন্ডুলে টাকে ঘরে আটকানোর জন্য।

কিন্তু আজও যাওয়া হলো না দোকানে। কবিতার গা কাপিয়ে জ্বর। তুযা বাড়িতে ফিরে পেলো তাকে বিছানায়। ভীষণ জ্বর, গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে। মানিক কে পাঠালো ডাক্তার আনতে।

লতিফা জলপট্টি দিচ্ছে। কবিতা জ্বরের ঘোরেই এক নজর দেখলো তুযা কে। অস্ফুট কন্ঠে আওড়ালো
“আমি মনে হয় বাচমু না আব্বা। আমার এত জ্বর আইলো ক্যান?”

তুযা চোখ রাঙানি দিলো
“এত বাজে কথা কস ক্যান? চুপ কইরা শুইয়া থাক।”

কথা না বাড়িয়ে বেরিয়ে গেলো ঘর ছেড়ে। কবিতা লতিফা কে বলল
“ আব্বায় কি রাগ করলো দাদি?”

“এসব কইতে নাই বইন। ওয় তোমারে ম্যালা ভালোবাসে। তুমি মরণের কথা কও কেরে?”

অদিতি গোসল করে কাপড় পাল্টে বাইরে আসে। কিন্তু বাড়ির পরিবেশ থমথমে। রুমে থাকায় বাহিরের কিছু কর্ণগোচর হয় নি অদিতির। ভেজা চুল গুলো থেকে তোয়ালে ছাড়িয়ে রান্না ঘরে ঢোকে নাস্তা বানাবে বলে। চামেলি আগে থেকেই সেখানে পুরির ডো রেডি করে রেখেছে। ডাল পুরির সাথে চিকেন চাপ বানাবে। অদিতি গিয়ে বলল পুরি ও ভাজবে। চামেলি অদিতির হাতে সেসব ছেড়ে দিয়ে, চাপ এর জন্য মসলা রেডি করছে। অদিতি চামেলিকে বলল
“বাড়ির পরিবেশ এত ঠান্ডা যে চামেলি আপা। সবাই গেছে কই?”

চামেলি মশলা মেশাতে মেশাতেই বলল
“আমনে গেছিলেন কই ভাবি? আমনের জামাই রে দেখলাম। আমনেরে দেখলাম না। এদিকে কত্ত বড় কান্ড ঘইটা গেলো”

অদিতির হাত থামলো। চামেলির দিকে ফিরে বলল
“কি হয়েছে বলোতো”

“আমনের ননদ বড় ডা। হ্যায় তো গোপনে কোন ব্যাডারে বিয়া কইরা বইসা রইছে।”

অদিতি চমকে উঠলো চামেলির কথায়। মানে নদী তুমুলের ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে গেছে? কিন্তু সবাই জানলো কি করে?
“সেটা জানলো কি করে সবাই?”

চামেলি হাত ধুতে ধুতে বলল
“ ওমা, নদী আফাই তো কাইন্দা কাইটা সবাইরে কইলো”

“কাদলো? কাদলো কেন?”

“হেই লোক টায় নাকি অ্যাক্সিডেন্ট করছে। অবস্থা খুব খারাপ। তাই তো আফা যাইতে লইছিলো। পরে হগ্গলে মিল্লা হ্যারে থামাইয়া ঘরে লইয়া গেলো। আমনেট হউর (শশুর) তো কইয়াই দিলো, ঘরোত্তইন এক পাও বাইরে ফালাইলে, পা ভাইঙ্গা দিবো”

অদিতি দরদর করে ঘামতে লাগলো চামেলির কথায়।
“তুমি একটু পুরিটা বানাও তো। আমি আপুর সাথে….”

অদিতির কথা শেষ হওয়ার আগেই চামেলি বলল
“কুনো লাভ নাই গো ভাবি। দ্যাহা করতে পারবেন না। আমনের ছুডো চাচা হউর হগ্গলরে কইয়া দিছে। কেউ যেন ওর লগে কতা কইতে না যায়। এমনকি হ্যার মায় বইন ও না”

অদিতির চিন্তা এবার আরো বাড়লো। তুমুল অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, আবার অবস্থাও খারাপ। কি জানি কি আছে নদীর কপালে। সাইফ কে যে বোঝাবে একটু তারও জো নেই। সে এমনিই ক্ষেপে আছে অদিতির ওপর।

ইতিমধ্যে নাস্তা তৈরি। কিন্তু কারো খাওয়ার মতো মন মানসিকতা নেই। হাবিব চৌধুরী চামেলি কে বলল
“নদীর খাবারটা রুমে দিয়ে এসো তো”

অদিতি উঠে দাড়িয়ে বলল
“চাচ্চু আমি যাবো?”

হাবিব কপট রাগ দেখিয়ে বলল
“তোমাকে যেতে বলেছি আমি?”

অদিতি মাথা নুইয়ে নেয়
“না মানে, চামেলি আপা নিয়ে গেলে যদি না খায়। আমি বলে কয়ে খাইয়ে দিয়ে আসতাম”

“না খেলে না খাবে। ওর মতো মেয়ে কে খাবার দেওয়া হচ্ছে এই বেশি। আর তুমি আমাদের ব্যাপারে কথা বলবে না”

অদিতির অপমান কি সাইফের গায়ে সইবে। সাইফ ও চেতে গেলো
“ও বলবে না মানে? ও এই বাড়ির বউ এবং আমাদের পরিবার এর সদস্য। ওর যথেষ্ট অধিকার আছে বলার”

“আমার মেয়ের বিষয় আমি বুঝে নেবো। কাওকে দরদ দেখাতে হবে না। চামেলি দিয়ে আয় খাবারটা”

সাইফ কিছু বলবে এমন সময় অদিতি থামিয়ে দিলো। এক অশান্তির মধ্যে আরেক অশান্তি করতে চাচ্ছে না। চামেলি খাবার এর ট্রে নিয়ে নদীর ঘরে গেলো।

দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি দেওয়া। ছিটকিনি খুলে দরজা টা ধাক্কা দিলো চামেলি। কিন্তু রুমের ভিতর তাকাতেই চামেলির হাত থেকে ট্রে পরে গেলো ঝনঝন শব্দে। চিৎকার করে উঠলো। চামেলির চিৎকারে ছুটে এলো সবাই।

[ আশা করি আমার পাঠক রা আমার ওপর ভরসা রাখবে। ধৈর্য হারা কিংবা হতাশ হবে না]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply