Golpo romantic golpo বি মাই লাভার

বি মাই লাভার পর্ব ১৮


বি মাই লাভার

পর্ব-১৮

সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)

নৈঋতা খুব অযত্নে ফিরিয়ে দিয়েছে দিলশাদকে।আঘাত নিয়েই এই রুম থেকে ফিরে গেছে সে। যাওয়ার আগে নৈঋতার কপালে শক্ত করে নিজের কপাল ঠেকিয়ে বলেছে,
” কিড্ডো, মাই রেইনবো।তোমার এই প্রত্যাখান! আমি ফিরে আসা অবধি তুমি তোমার থাকো।যদি ফিরি তোমার এই শ্বাস, এই রেশমি স্পর্শ….বিশ্রাম নাও মাই লি’টল ট্রাবল।”

বিকেল হতে না হতেই প্রত্যয় এসে হাজির। হাতে তার হলুদ গোলাপের একটা ছোট্ট তোড়া। নৈঋতার দিকে সেটা এগিয়ে দিয়ে পাশে বসলো।দিলশাদ তখন সেখানে নেই। একজন পরিচারিকা এক গ্লাস উষ্ণ গরম জল এনে নৈঋতার সামনে রেখেছে। এখন তার মেডিসিন খাওয়ার সময়। প্রত্যয় সেটা ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

” প্রিন্সেস, লিসেন টু মি কেয়ারফুলি।তুমি নিজেকে নিয়ে অবহেলা করতে পারো না।”

“আমায় বন্দী করে রেখেছে।তুমি এটা দেখছো না?”

“নৈঋ! তুমি তো বুঝো সবটা। তবে কেন জেদ করছো?তোমার ভালোর জন্যই….

” নির্জনা আন্টি কোথায়? তাদের বিয়ের প্ল্যান কতদূর আগালো?”

প্রত্যয় ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে রইল নৈঋর দিকে। কয়েক দিন আগেও যে মেয়েটা কতোটা বাধ্য ছিল, প্রশ্ন ছিল না, সেই মেয়েটা হুট করে এমন জেদী কেন হলো?
প্রত্যয় মেডিসিনটা ওর হাতে দিয়ে বলল,

” তুমি বন্দী নও।আলোকে বন্দী করা যায় না।আশা কে বন্দী করা যায় না।তুমি আমার ভাই আমার ইউভানের আলো, আশা।যাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সে নিজে মরে গেছে।”

“কেন মরে গেল? মামা কি এক বার আমার কথা চিন্তা করতে পারেনি? কেন সেদিন নিজের প্রাণ হাতে নিয়ে পালালো না? কেন পুরো দুনিয়ায় পরের উপর দায়িত্ব দিয়ে চলে গেল?”

নৈঋকে এভাবে কখনো কাঁদতে দেখেনি প্রত্যয়।সেদিন যখন দিলশাদ তাকে কোলে জড়িয়ে নিয়ে এসেছিল সেই শাযলীন মহল থেকে লাশের পাহাড় টপকে সেদিনও কাঁদেনি মেয়েটা।সেই ছোট্ট মেয়েটা দিলশাদের কাঁধে মাথা রেখে নীরবে তাকিয়েছিল।শাযলীন মহলে প্রত্যয়রা যখন পৌঁছেছিল ততক্ষণে সব শেষ। ওরা মেরে ফেলেছিল একে একে সবাইকে। ইউভানের মৃ’ত দেহ পোস্ট মর্টে,মের পর জানা যায় পুরো সাতাশটা গু’লি ছিল সারা গায়ে।

“সব প্রশ্নের উত্তর এক লাইনে লেখা থাকে না, নৈঋ। ইউভান পালায়নি কারণ বীরের মতোন মৃত্যুও যে সুখের।”

নৈঋ জবাব না দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল।তার কিছুই মনে পড়ে না ইদানীং। কেবল মনে পড়ে ঝাপসা দুটো অবয়ব, দূর থেকে তাকে ডাকছে। একজন নারী, একজন পুরুষ। নৈঋতা তাদের চেহারা দেখতে পায় না অথচ কণ্ঠস্বর শুনে চিনতে পারে। এরা তার নানুমনি আর মামা।

প্রত্যয় পুরোটা বিকেল দিলশাদের ভিলায় কাটালো। কখনো দাবা খেলে আবার কখনো কোনো ফিলোসোফি ডিসকাশন করে। নৈঋতা খুব স্বাভাবিক ভাবেই তার সাথে মিশছিল।রাতে ডিনার শেষ করে প্রত্যয় বেরিয়ে গেল। পরদিন সকালবেলা আরো একজন এলো।সেই ব্যক্তিটিও ওদের বন্ধু মহলের। রিয়ান এসেছে দেখে নিজ রুম থেকে ধীরে ধীরে নেমে এলো নৈঋ।রিয়ান দুই হাত ভর্তি করে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে এসেছে। একমাত্র রিয়ান তার সব অবাধ্য ইচ্ছেগুলোকে উষ্কে দেয়। যত অদ্ভুত অদ্ভুত খাবার আছে, সব নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ায়। কখনো বেশ ঝাল দিয়ে কোনো টক ফলের মাখা আবার কোনো ডেজার্ট। পুরো বাঙানিয়ানা খাবারের স্বাদ পায় নৈঋ তার হাতে। রান্নাঘরে পৌঁছানোর পূর্বেই পিছন থেকে নৈঋ বলল,

“আজ আমরা কি খাবো?”
“তুমি যা চাইবে প্রিন্সেস।বলো কি খেতে চাও?”

নৈঋতা রিয়ানকে বাঙালিয়ানা খাবারের লিস্ট ধরিয়ে দেওয়ার পর রিয়ান হাসল। “ওকে, প্রিন্সেস, আজ তোমার স্বাদের রাজ্যে আমি একমাত্র প্রজা।”

কথার মাঝে মাঝে প্রায়ই নৈঋ কে অমনোযোগী দেখে
রিয়ান জিজ্ঞেস করল, “আজ প্রিন্সেস, কেন এত চুপচাপ? শুধু খাবার নিয়ে ভাবছ কি, নাকি মনে আরো কোনো ভাবনা আছে?”

“মামা কি তোমাদের মতোই ছিল?জানো তো?আমি কখনোই আমার মাকে দেখিনি। আমার কেবল মনে পড়ে মামা বলতো, ‘আমি তোমার বেশি আপন, কারণ একবার ডাকলে হয় মা, তুমি আমায় মামা ডাকো তার মানে আমি তোমার দুটো মা।”

“হ্যাঁ, ইউভান এমন ছিল।ও কীভাবে যেন সবার মাঝে নিজেকে আলাদা ভাবে প্রকাশ করেই ফেলতো।”

“মামার প্রিয় খাবার কি ছিল?”

“আমাদের মাথা।”

ভ্রু কুঁচকে নৈঋ জিজ্ঞেস করলো,

“মানে?”
“মানে তোমার একমাত্র মামার পছন্দের খাবার ছিল আমাদের সব বন্ধুর মাথা। ও কাউকে চুপচাপ শান্তিতে বসতে দিতো না।জানো তো, ওর জন্য আমাদের কারোর মন খারাপ হতো না।একবার কি হলো জানো?”

সেসব গল্প বলতে বলতে নৈঋতাকে সকালের খাবার খাইয়ে মেডিসিন দিতেও ভুললো না রিয়ান। পরিচারিকারা তাদের কাজে ব্যস্ত, মেডিসিনের কারণে ঘুম চলে এলো নৈঋর। রিয়ান তাকে বলল সামান্য সময় ঘুমিয়ে নিতে। নৈঋ নিজ রুমে এসে গা এলিয়ে দিলো।পরিচারিকা পর্দা টেনে রুম অন্ধকার করে দিতেই কিছু একটার কমতি অনুভব হলো তার। গত দুদিন রাতের সেই ঘটনার পর দিলশাদকে সে একটা বারের জন্যও দেখেনি। গতকাল সারা দিন ও আজ এখনো সে নেই। কোথায় আছে সে?
ঘুম ছুটে গেল তার। দিলশাদ এই ভিলায় নেই। গত দুদিন তবে এই কারণেই একের পর একজন আসছে,তার খেয়াল রাখার জন্য। প্রত্যয়, রিয়ানের স্নেহ, যত্ন সাময়িক স্বস্তি দিলেও শান্তি পাচ্ছে না সে। ফোন হাতে নিলো একটা বার। কিন্তু আবার চোখে মুখে অভিমান। কিন্তু পর পর মনে পড়লো প্রত্যয়ের কথা।
“আলোকে বন্দী করা যায় না। দিলশাদ তোমায় বন্দী করেনি।”

অপর দিকে রিয়ান কারোর কাছে ম্যাসেজ করে জানালো,

“ও ঘুমোচ্ছে এখন। দিলশাদ কেমন আছে?জ্ঞান ফিরেছে?”
” নাহ্।হেড ইনজুরি।অবজারভেশনে আছে।তবে আশা করছি ফিরে যাবে।”
“এট্যাকের পিছনে যারা ছিল তারা ধরা পড়েছে?”
“চিফ নিজ হাতে তাদের শেষ করে ফেলেছে। শাযলীনদের দিকে হাত বাড়িয়েছে, সেই হাত তো রাখা যাবে না। স্যার চিফের নির্দেশ, লেডি কোনোভাবেই যেন এসবের খবর না জানে এবং ভিলার বাহিরে না যায়।”
“আমরা এদিক সামলে নিবো।”

রিয়ান ফোন পকেটে রেখে দিলো।দম বন্ধ লাগছে তার। দিলশাদ এই মুহুর্তে এই শহর কেন,এই দেশেও নেই। ইউভানের পর আর কাউকে হারানোর শক্তি তাদের নেই।

চলবে(রেসপন্স করবেন।আগামীকাল #ও_ফুল দিবো।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply