কিসঅফবিট্রেয়াল
পর্ব_০৫
লামিয়ারহমানমেঘলা
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
দুর থেকে কায়ানকে হেঁটে আসতে দেখে দু ভাই বোন নিজেদের কথোপকথন বদলে ফেলে।
“তাহলে ভাই, চলেই যাচ্ছিস?”
“হ্যাঁ, আমার কাজ আছে।”
মাহমুদ কথাটা বলতে বলতে কায়ান এসে মাহমুদের ঘাড়ে হাত রাখে,
“কেন ভাইয়া যাবেন কেন? মেহেরীণকে নিয়ে চলুন চট্রগ্রাম ঘুরে আসবেন। কাল চলে যাবেন৷ বাচ্চারাও মামাকে চায়৷ তাইনা? “
বাবার কথায় সহমত প্রকাশ করে জারিফ, জিনু।
“ইয়ে কি মজা মামা আমাদের সাথে যাবে৷ “
মেহেরীণ মিষ্টি হাসে,
“না না জারিফ, জিনু মামা গেলেও অন্য গাড়িতে আসবে। নাহলে পাপা কোথায় বসবে।”
“না না আমরা কিছু জানিনা, মামা আমাদের সাথেই বসবে৷”
কায়ান মৃদু হাসে,
“মাহমুদ ভাই আপনি বসুন। এমনিতেও আপনার ড্রাইভিং ভালো না। ড্রাইভার আপনাদের নিয়ে যাবে আমি পেছনে আসছি৷’
মেহেরীণ বিরক্ত হয়ে কিছু বলবে তখনই বাচ্চারা পুনরায় জিদ দেখায়৷ আর কিছু বলতে পারেনা মেহেরীণ ছেলেদের উপর। মাহমুদ, মেহেরীণ, জায়ান, জিনুর গাড়ি রওনা করে৷
কায়ান তাকিয়ে রয় সে দিকেই।
শিমুল আর জেবরান গাড়িতে উঠে বসেছে৷
কায়ান ওদের দিকে এগিয়ে যায়৷
” যেতে পারবেত? “
“হ্যাঁ ভাইয়া, সেরিন এলেই রওনা করব।”
“প্রয়োজন নেই বাচ্চারা মামাকে জোরপূর্বক নিজেদের সাথে, নিয়ে গেছে আমাকে ফেলে। আমি সেরিনকে নিয়ে আসছি তোমরা চলে যাও।”
“ও তাই বলেন। আচ্ছা ভাইয়া তাহলে আমরা আসি।”
“এসো৷”
জেবরান এবং শিমুলের গাড়িটাও দৃষ্টিসীমানা অতিক্রম করল।
কিছুক্ষণ পর সেরিন বেরিয়ে আসে। পরনে হলুদ রঙা ড্রেস। হলুদের উপর রোদ এসে পড়েছে ফলে সেরিন এবং ড্রেস দুটোই ব্রাইট দেখাচ্ছে।
সেরিন হেটে এগিয়ে আসে।
কায়ানের দৃষ্টি সেরিনের দিকেই স্থির ছিল।
“আপুদের গাড়ি কোথায়? “
“চলে গেছে।”
সেরিন অবাক হয়৷
“আমাকে ফেলে?”
“নাত আমাকে নিয়ে যেতে বলেছে।”
সেরিন তাকিয়ে রয় কায়ানের দিকে।
কায়ান পকেট থেকে সানগ্লাস টা চোখ পরে নেয়। এরপর পাশে থাকা গাড়িতে উঠে হর্ণ দেয়।
“ঢং করার মত সময় নেই সেরিন৷ ইচ্ছে হলে এখানে থেকে যেতে পারো। জাস্ট আমাকে বলো আমি রওনা করছি। “
সেরিনের ধ্যান ফেরে। সেরিন যত পালাতে চাইছে তত জড়িয়ে যাচ্ছে।
সেরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়িতে উঠে বসে।
সিটবেল্ট লাগাতে গিয়ে বিপত্তি ঘটে। লাগছেই না। কায়ান, ঝুকে সেরিনের সিটবেল্ট ঠিক করে দেয়।
সেরিন মুখ ফিরিয়ে নেয়। কায়ান বাঁকা হাসে।
গাড়ি চলতে শুরু করে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে।
এই পাহাড়ি হয় নীরবতায় ঘেরা এক অদ্ভুত অনুভুতি।
পাহাড়ে যাওয়ার রাস্তা কখনো সোজা হয় না,
তবু সেই বাঁকগুলোই গল্প হয়ে থাকে।
ধুলো উড়া পথে ক্লান্তি জমে পায়ের তলায়,
আর চোখ ভরে যায় আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নে।
যত উপরে ওঠে পথ, তত নিচে পড়ে থাকে দুঃখগুলো,
মনে হয় পৃথিবীর কোলাহল আর আমাকে ছুঁতে পারবে না।
পাহাড়ের রাস্তায় গাড়ি শুধু এগোয় না,
মানুষও একটু একটু করে বদলে যায় ভেতর থেকে।
কুয়াশা ঢেকে দেয় সামনে কত দূর পথ,
তবু অজানা গন্তব্যের টানেই চলতে ইচ্ছে করে।
পাহাড়ে যাওয়ার রাস্তা আসলে প্রকৃতির লেখা কবিতা,যেখানে প্রতিটা বাঁক একেকটা নিঃশব্দ বিস্ময়।
সেরিন লক্ষ করল যে দিন এসেছিল এই রাস্তা ধরে সে দিন বড্ড ফুরফুরে ছিলো মেজাজ। কত মজা করেছে। তার জীবনের প্রথম ভ্রমণ ছিল এইটা। খুবই এক্সাইটেড ছিল সে। অথচ ফিরছে অনেক সুন্দর সুন্দর সত্য বুকে ধারণ করে।
যে সত্য শুধুমাত্র সেরিনেরই জানা।
ফেরার সময় কষ্ট লাগে বটে। কিন্তু সেরিনের সাথে কাল থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো আরও বেশি ভয়ানক।
ভাবতে ভাবতে কখন অনেকটা দুর পথ পেরুলো গাড়িটা।
তারা এখন বান্দরবান এবং কক্সবাজারের রাস্তা যেখানে আলাদা হয় সেই পয়েন্ট ক্রস করছে।
সেরিন এতক্ষণ বাহিরে তাকিয়ে ছিল। চারিদিকে হটাৎ করেই মেঘে ছেয়ে গেছে। এমন অসময়ে শীতকালে মেঘ গুরগুর করে পরিবেশ ঘিরে ফেলেছে দেখে সেরিন বেশ অবাক হলো।
সকাল থেকেই বেশ রোদ ছিল। এমন হটাৎ করেই মেঘ ঘিরে যাওয়ার অর্থ সেরিন বুঝল না।
বেশ ঠান্ডা পড়তে শুরু করল।
চারিদিকে ঘিরে ধরল কুয়াশার চাদর৷
সামনে কি আছে কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
একটু পর টুপটাপ বৃষ্টি পড়তে শুরু করল।
কায়ান গাড়ির গ্লাস লাগিয়ে দেয়।
গাড়িটা রোডের এক সাইডে থামায়৷
সেরিন তাকিয়ে আছে পাশ ফিরে। কিছুই ভালো মত দেখা যাচ্ছে না৷
সেরিন নিজের চাদর টা ভালো করে জড়িয়ে নেয়।
ঠান্ডা লাগছে তার ভীষণ।
কায়ান, সেরিনকে কাঁপতে দেখে পেছন থেকে একটা ব্যাগ নিয়ে সেরিনকে দেয়।
সেরিন কানফিউস’ড,
“এটা কি?”
“খুলে দেখো কি৷”
সেরিন খুলে ব্যাগটা। একটা নীল রঙা মোলায়েম সোয়েটার।
সেরিন সাত পাঁচ না ভেবে গায়ের জড়িয়ে নেয়। এখন না গরম লাগছে।
“আমরা এভাবে কতক্ষণ বসে থাকব?”.
” যতক্ষণ না বৃষ্টি থামে৷”..
কায়ান নিজের ফোন বের করে স্ক্রোল করছে। সেরিন এক পাশে বসে কায়ানকে গালাগালি দিচ্ছে।
তার ফোনটা ভেঙে এখন নিজে কি সুন্দর ফেন চালাচ্ছে।
জীবন সুন্দর।
কায়ান হটাৎ করেই ফোনটা বন্ধ করে দিলো। সেরিন তা দেখে পাশ ফিরে তাকায়।
কায়ান, ফোনটা পকেটে রেখে বলে,
“আসলেই জীবন সুন্দর।”
সেরিন, ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে।
মনে হয় তার মনের কথাও শুনতে পাচ্ছে। কায়ান ঠোঁট কামড়ে হাসে।
সেরিন, একবার সে দিকে তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়। লোকটা এভাবে হাসলে বড্ড ফ্লার্টি লাগে।
এটা আজ নয় বহু আগে থেকেই চোখে পড়ে সেরিনের।
কায়ানের ঠোঁটের নিচে একটা তিল আছে। সিগারেট দিনে ১০০ খানা টানলেও কেন জানিনা ঠোঁট দু’টো তার পুড়ে না।
কায়ান, গাড়ির সামনে থেকে সিগারেটের প্যাকেট টা নিয়ে লাইটার বের করতে তার আগেই সেরিন চিলের থাবায় লাইটার কেড়ে নিলো।
কায়ান ফিরে চায় আড় চোখে।
“গাড়িটা বন্ধ চার দিক থেকে। এখন স্মোক করা মানে এর চেয়ে আমাকে গলা টিপে মেরে ফেলুন৷”
কায়ান, ঠোঁট থেকে সিগারেট খানা নামিয়ে নিলো।
সে সিটবেল্ট খুলে সেরিনের মুখের সামনে চলে আসে।
সেরিন হটাৎ এমন কান্ডে ভয় পেয়ে যায়। সে পারলে গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে যায়। কিন্তু না সেটাত সম্ভব হচ্ছে না।
“সিগারেট আমার নেশা৷ কাউকে কোন নেশা থেকে দুরে নিতে হলে নতুন কেন নেশা ধরিয়ে দিতে হয়।
ত তুমি আমাকে কি নেশা দিবে?”
সেরিনের হৃৎস্পন্দন বেড়েছে। সে হাতের লাইটার খানা কায়ানকে দিয়ে বলে,
“সরুন আপনি। আপনার যা মন চায় তাই করুন৷”
কায়ান, কিছুক্ষণ ওভাবেই ঝুঁকে তাকিয়ে থাকে সেরিনের দিকে।
সেরিন মুখ ফিরিয়ে নেয়।
কায়ান, সেরিনের চোয়াল দু’টো চেপে ধরে নিজের দিকে ফেরায়৷
“মুখ ফিরিয়ে নিবি না।
আই হেট দিস৷”
সেরিন উত্তর দেয়না৷ সেরিনের ওষ্ঠদ্বয় অতি নিকটে ছিল কায়ানের। তবে কায়ান এসব চায়না৷ সেরিনের ভেতরে আর কেন উথাল-পাতাল সৃষ্টি করতে পারবে না সে।
কায়ান দুরে সরে আসে।
বৃষ্টি থেমেছে। গাছের পাতায় থাকা অবশিষ্ট মৃদু ফোঁটা গুলো মাটিতে গড়িয়ে পড়ছে।
টুপ টাপ শব্দ করছে।
ধিরে ধিরে কুয়াশা কেটে গিয়েছে।
কায়ান ড্রাইভ শুরু করে।
এরপর আর সেরিনের সাথে কায়ানের কোন কথা হয়নি।
শহরের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ইট পাথরের দ্বারা গঠিত এক টুকরো সৌন্দর্যের প্রতীক হলো “সিকদার নিবাস। “
বানু মির্জা, সিকদার নিবাসের কর্ণধার।
কায়ান এবং জেবরানের মা। ওদের বাবা জীবিত নেই। তবে ওদের দু ভাইয়ের একটা বোন আছে। আহি সিকদার। মেয়েটা বড্ড মিষ্টি। সেরিনের থেকে ৩ বছরের বড়। সেরিন তাকে আহু আপু বলে ডাকে।
আহির এক্সাম চলছিল তাই এই ট্যুরে সে যেতে পারেনি। এমনিতেও আহি ভার্সিটি থেকে সব জায়গায় গিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তাই তেমন কোন হেরফের সে দেখায়নি।
আজ কায়ান, জেবরান বাড়িতে ফিরবে তাই বানু মির্জা অর্থাৎ মিসেস. সিকদার সকাল থেকে সব সার্ভেন্ট দের নাড়িয়ে রেখেছে।
আহি এক্সাম শেষ করে বাড়িতে এসে বানু মির্জার তোড়জোড় দেখে বুঝেই গিয়েছে ভাইরা আজ আসবে। তার সাথে সার্ভেন্ট দের নাজেহাল অবস্থা। আহির একটু মায়া হলো। সে মায়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,
“আম্মা বেগম। আপনি কি এত কষ্ট করেন। ওদের কাজ ওদের উপর ছেড়ে দিন। আপনি চলুন রুমে চলুন৷”
“না না আমি চলে গেলে ওরা উল্ট পাল্টা করবে। আমার কায়ান, জেবরান কত দিন হলো বাড়িতে নেই।’
” আম্মা বেগম, জাস্ট ৩ দিনের ট্যুর ছিল।”
“হ্যাঁ ত। আমার বাচ্চাদের আমি বহু দিন দেখিনা৷ তুই কি বুঝবি এসবের। মা হ এরপর বুঝবি৷”
“হ্যাঁ হ্যাঁ।”
ওদের কথোপকথনের মাঝেই বাহিরে গাড়ির শব্দ শোনা গেলো।
“ওরা এসে গেছে।”
“তুমি বসো আম্মা, আমি দেখছি।”
“আমিও আসছি সদর দরজা পর্যন্ত।”
বানু মির্জা, এবং আহি সদর দরজা পর্যন্ত গেলো।
প্রথম গাড়ি থেকে, মেহেরীণ, মাহমুদ, এবং জারিফ জিনু বের হয়৷
জারিফ, জিনু দাদিকে জড়িয়ে ধরে,
“আসসালামু আলাইকুম৷
দাদি বেগম কেমন আছো?”
“ওয়ালাইকুম সালাম। আলহামদুলিল্লাহ আমার জানরা আমি ভালো আছি৷”
“দেখুন দাদি বেগম মামাকে নিয়ে এসেছি৷”
বানু মির্জা দেখলো মাহমুদ কে। তবে তার চেহারায় স্পষ্ট সে খুশি নয়। আহিরও, মাহমুদকে বেশি একটা পছন্দ নয়। কিন্তু বাড়িতে মেহমান আসলে কিভাবে মুখ কালি করা যায়।
“আসসালামু আলাইকুম মাহমুদ ভাই৷”
“ওয়ালাইকুম সালাম আহি। কেমন আছো?”
“আলহামদুলিল্লাহ।”
পেছনের গাড়িতে জেবরান আর শিমুল ছিল। তারাও বের হয় একে একে।
বানু মির্জা কায়ানকে না দেখে অবাক হলেন,
“কায়ান কোথায়?”
মেহেরীণ এগিয়ে আসে,
“আসসালামু আলাইকুম। আম্মা বেগম, কায়ান, আসছে পেছনের গাড়িতে।”
“আর সেরিন?”
“কায়ানের সাথে।”
কথাটা বলার সময় মেহেরীণের বিরক্ত লাগছিল। তবে বানু মির্জা যেন খুশিই হলেন।
জেবরান গিয়ে আম্মাকে জড়িয়ে ধরে। শিমুল শ্বাশুড়িকে সালাম দেয়।
বানু মির্জা, ছেলে ছেলের বউকে আদর করে সবাইকে নিয়ে ভেতরে যেতে বললেন,
একে একে সবাই ভেতরের দিকে অগ্রসর হতে লাগল। এমন সময় কায়ানের গাড়িটাও প্রবেশ করে সিকদার নিবাসে।
বানু মির্জা দাঁড়িয়ে যায়৷
কায়ান বেরিয়ে সেরিনের জন্য দরজা খুলে। সেরিন বেরিয়ে আসে। কায়ান এবং সেরিন এক সাথে হেটে আসে।
বাগানের দু দিকে সবুজ গাছের ছায়া। তার মাঝেই মেইন গেট থেকে সদর দরজা পর্যন্ত রাস্তা তৈরি হয়েছে।
কায়ান এবং সেরিনকে পাশাপাশি এত সুন্দর লাগছে। বানু মির্জা চোখ সরাতে পারছেন না।
কায়ান এবং সেরিন হেঁটে আসে। কায়ান মাকে জড়িয়ে ধরে,
“আম্মা কেমন আছেন?”
“আমি আলহামদুল্লিলাহ ভালো। তুমি?”
“আলহামদুলিল্লাহ।”
সেরিন তাকিয়ে রয়। এদের মা ছেলের বন্ডিং স্ট্রং অনেক।
বানু মির্জা, ছেলের কপালে চুমু খেলেন।
“আপনাকে দেখে আমার কলিজায় জান ফিরে এসেছে কায়ান৷”
কায়ানশ মায়ের হাতে চুমু খায়৷
সেরিন সামনে থেকে এসব পর্যবেক্ষণ করছে। কিন্তু ওদের পেছনেও কেউ এসব পর্যবেক্ষণ করছিল। সেটা আর কেউ নয় মেহেরীণ।
ওরা যখন পাশাপাশি হেটে আসছিল তখন মেহেরীণের ভেতর লাভার আগুন জ্বলছিলো। সে শুধু প্রকাশ করেনি।
চলবে?
[ রেসপন্স করবা। গল্প সম্পর্কে রিভিউ পোস্ট করিও আমার গ্রুপে। লিংক নিচে কমেন্ট এ দেব]
Share On:
TAGS: কিস অফ বিট্রেয়াল, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৪
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৭
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১০
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩০
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৬
-
কিস অফ বিট্রেয়াল গল্পের লিংক
-
জেন্টাল মন্সটার গল্পের লিংক
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৯
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৫