কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️
খাঁচায় বন্দী ফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ২৯
দুপুর ২ টা। ফাল্গুণ মাস পরতেই ঢাকায় গরম পরা শুরু হয়ে যায়। কোলাহলময় শহরে শীতের তুলনায় গরমের ধাচ একটু বেশিই যেন। কালো গাড়িটা হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাইফ। প্রায় ৫ মিনিট মতো হবে। অফিসের কাজ শেষ না করেই ফিরেছে। অদিতিকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফের ছুটতে হবে অফিসে। এবার অদিতিকে একটা ফোন না কিনে দিলেই নয়। এতক্ষণে কল করে জানা তো যেত।
অদিতিকে গেট অতিক্রম করে আসতে দেখে সাইফের একটু স্বস্তি হলো। দুহাত বাড়িয়ে দিলো অদিতির দিকে। অদিতি এগিয়ে এসে সাইফের কাছাকাছি দাঁড়ালো। সাইফ অদিতির ব্যাগটা গাড়িতে রেখে বলল
“বেশিক্ষণ ওয়েট করতে হয়েছে?”
অদিতি দুদিকে মাথা নেড়ে না বলল। সাইফ গাড়ির ডোর ওপেন করে দিলো। অদিতি উঠে বসলো। দুজনে রওনা হলো বাড়ির দিকে। সাইফ ড্রাইভ করতে করতে বলল
“কেমন লাগলো কলেজ?”
অদিতি ছোট করে জবাব দিলো
“ভালোই”
সাইফ বেশ বুঝতে পারছে বউটা ভীষণ রেগে আছে। গাড়িটা বাড়ির সামনে থামিয়ে বলল
“এখন সময় নেই বউজান। বাড়িতে এসে আপনার অভিমানের বিষয়টা দেখবো। আসছি। আল্লাহ হাফেজ”
সাইফ গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেলো। অদিতিও ভিতরে ঢুকছে গেট দিয়ে। বড্ড ক্লান্ত লাগছে তার। পিছন থেকে কেউ একজন ডাকলো।
“ভাবিইইই”
অদিতি থামলো। কন্ঠস্বর কিছুটা পরিচিত মনে হলেও ঠিকঠাক চিহ্নিত করতে পারলো না। ডাকের উৎস খুঁজতে চারিদিকে চোখ বুলায়। গেটের অপরপ্রান্তে বাইক নিয়ে দাঁড়ানো ছেলেটা হাত উঁচু করলো। অদিতি বুঝলো এই ডেকেছে। হেলমেট টা উন্মুক্ত করতেই অদিতির কাছে সবটা স্পষ্ট হলো। এটা তুমুল।
অদিতি বাড়ির দিকে একবার দেখলো। তারপর দারোয়ান কে বলল
“চাচা আপনি একটু চা-পানি খেয়ে আসুন। অনেকক্ষণ হলো বসে আছেন”
দারোয়ান অদিতির কথায় খুব খুশি হলো। গেট পেরিয়ে বেরিয়ে গেল বাইরের দোকানটায় যাওয়ার জন্য। অদিতি সতর্ক পায়ে এগিয়ে গেল তুমুলের দিকে। অদিতি কাছাকাছি আসতে তুমুল সালাম দিল
“আসসালামু আলাইকুম ভাবি”
“ওয়ালাইকুম আসসালাম। আপনি এখানে কি করছেন? তাও এই সময়?”
তুমুল বিনয়ের সাথে বলল
“নদীকে ফোনে পাচ্ছিনা ভাবি।”
বাইকে ঝোলানো ব্যাগটা অদিতির হাতে দিয়ে বলল
“এটা একটু নদীকে দিয়ে দিবেন প্লিজ। ওর জন্য কিনেছি। প্লিজ ভাবি না করবেন না”
তুমুলের রিকোয়েস্ট ফেলতে না পেরে অদিতি ব্যাগটা নিলো।
“ঠিক আছে নিলাম। আপনি এখন যান প্লিজ”
তুমুল আর দেরি করলো না। বাইক নিয়ে চলে গেলো দ্রুত করে। অদিতিও শপিং ব্যাগটা নিজের ব্যাগে ভরে বাড়িতে প্রবেশ করলো। দরজা খুলে দিলো সায়রা। অদিতি ভিতরে ঢুকে ড্রইং রুমে বা আশে পাশে কোথাও নদীকে পায় না খুজে। ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে তারপর নিচে আসে।
নদীর রুমে গিয়ে দরজায় টোকা দেয়। নদী গলা উচিয়ে বলে
“খোলাই আছে”
অদিতিকে ঢুকতে দেখে নদী তরিঘরি করে বিছানা থেকে নামলো। অদিতি হেসে এগিয়ে আসে। নদীর দিকক ব্যাগ টা বারিয়ে দিয়ে বলে
“তুমুল ভাইয়া পাঠিয়ে। নাও”
নদী কিঞ্চিৎ অবাক হয়ে বল
“তুমি ওকে কোথায় পেলে আবার?”
“ আর বলিও না। আমি কলেজ থেকে ফিরছি, সেই সময় গেটের সামনে দেখা হলো”
নদী ব্যাগটা খুলে দেখলো তাতে মেরুন রঙের একটা গাউন। সাথে একটা ছোট্ট চিরকুট
ম্যাডাম, কাল এটা পরে তৈরি থাকবেন।
ঘুরতে নিয়ে যাবো আপনাকে। লাভ ইউ
নদী মুচকি হেসে অদিতির হাত ধরে বলল
“থ্যাংক ইউউ”
অদিতি রুমে চলে আসে। রাত প্রায় ১১ টার পর সাইফ বাড়িতে আসে। বাড়ির সকলে খেয়ে শুয়ে পরেছে। কেবল অদিতি ড্রইং রুমে বসে সাইফের অপেক্ষায় ঝিমাচ্ছে। তারপর সাইফ আসে। ফ্রেশ হয়ে ফের ল্যাপটপ নিয়ে বসে। অদিতি ঘুম ঘুম চোখে সাইফের সামনে দাড়িয়ে বলল
“নিচে যাবেন? নাকি খাবার এখানে নিয়ে আসবো?”
সাইফ ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রেখেই বলে
“খেয়ে এসেছি”
অদিতি কোনো কথা না বলে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলো। সাইফের হঠাৎ ই মনে পরলো অদিতির জন্য আনা গিফট এর কথা। কিন্তু অদিতি এতক্ষণে ঘুমিয়ে পরেছে বোধ হয়। নিজের ভুলো মন কে কয়েকটা গালি দিয়ে সাইফ প্যাকেটা হাতে নিয়ে অদিতির কাঋে যায়।
এই তো শুয়েছে। এর মধ্যেই ঘুম? সাইফ অদিতির মুখের কাছের কম্ফর্টার সরিয়ে আলতো করে গাল ছুয়ে দিলো
“অদিতি? এই অদিতি? বউ শুনছো? আমার বাচ্চা বিড়াল টা।”
অদিতি চোখ মুখ কুচকে ফেলে। কাচা ঘুমে ডিসটার্ব করা মোটেও ভালো লাগছে না তার। চোখ বন্ধ রেখেই বলল
“শুনছি তো”
“দেখো তোমার জন্য কি এনেছি”
অদিতি এবার চোখ খুললো। সাইফের হাতে একটা খাপ। অদিতি ভালো করে দেখে বুঝলো এটা মোবাইল ফোন। সাইফের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো। সাইফ ফোনটা খাপ থেকে বের করে অদিতিকে। অদিতি ঘুম ঝেড়ে ফেলে উঠে বসলো। স্মার্ট ফোনটা সত্যিই অনেক পছন্দ হয়েছে অদিতির। খুশিতে গদগদ হয়ে বলল
“এটা আমার বুঝি?”
“নাহহ, আমার বউ এর”
অদিতি ফোন টার দিকে হাত বাড়াতেই সাইফ ফোনটা দূরে সরিয়ে নিয়ে নিজের গাল দেখালো আঙুল দিয়ে। অদিতি মুচকি হেসে ছোট করে একটা হামি দিলো সাইফের গালে। সাইফ মোবাইল টা অদিতিকে দিলো।
“সিমকার্ড দিয়ে দিয়েছি। এখন থেকে এটা তোমার”
—-
গত দুই দিন যাবৎ রাত ১২ টার আগে বাড়ি ফিরে না তুযা। বেরিয়ে যায় সেই ৮-৯ টার দিকে। কবিতাকে মানিক নয়তো আকবর স্কুলে দিয়ে আসে, আবার ওরাউ কেউ নিয়ে আসে। লতিফার সাথে খায় দায় ঘুমায়। তুযা রাতে এসে ঘুমন্ত কবিতা কেই একবার দেখে যায়। আজ দুই তিন দিন হয়ে গেলো জাবেদের দোকানেও যায়নি কবিতা। মনমরা হয়ে সোফায় বই নিয়ে বসে আসে। লতিফা দুধ গরম করে এনে কবিতাকে দিলো। কবিতা মুখ ভাড় করেই বলল
“ও দাদু আব্বায় কই যায় গো?”
“হ্যার ম্যালা কাম। তুমি খাও”
কবিতা দুধের গ্লাস টা সরিয়ে দিয়ে বলল
“আমারে ৫ টাকা দিবা দাদু?”
লতিফা ভ্রু কুঞ্চিত করে বলল
“কি করবা টাকা দিয়া?”
কবিতা বাচ্চা সুলভ কন্ঠে বলল
“স্কুলে যাওনের পথে একখান লোক পরে। একটা পুরান থালা নিয়ে হের মধ্যে টাকা কুড়ায়। রোজ আমার সামনে হাত বাড়ায়। মানিক চাচা এক টেকাও দেয় না। আইজ তুমি আমারে ৫ টা টেকা দিবা। আমি হেরে দিমু”
লতিফা হাসলো
“আইচ্ছা দিমু। অহন খাও। তোমার স্কুলে যাওয়ার সময় হইয়া গেছে। তৈরি হওন লাগবো। মানিক চইলা আইলো বলে”
কবিতা দুধটা খেয়ে রেডি হয়ে নিলো স্কুল ড্রেস পরে। পিঠ পর্যন্ত চুল গুলো কদভানু লাল ফিতে দিয়ে বেণী করে দেয়। মানিক এসে গেটের সামনে ডাকছে
“কই রে কবিতা? হয় নাই?”
“হইছে খারাও”
লতিফা কবিতাকে এনে বিশ টাকার একটা নোট দিলো। কবিতা টাকা টা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখলো।
“এইডা তো বড় টেকা দাদু। ৫ টেকা দেও”
লতিফা স্কুল ব্যাগ টা কবিতার কাধে দিয়ে বলে
“এইটাই দিও”
কবিতা টাকা হাতে নিয়ে বেড়িয়ে যায়। মানিক সাইকেলে চড়িয়ে স্কুলে দিয়ে আসে কবিতা কে।
—-
সকাল সকাল নদীর মনটা খুব খুশি। আজ তুমুলের সাথে ঘুরতে যাবে। নাস্তা করতে ডাইনিং এ আসে। অদিতি খাবার আনছে কিচেন থেকে। দীঘির পরীক্ষা চলছে। গালে হাত দিয়ে সোফায় বসে রয়েছে। নদী পাশে বসে কনুই দিয়ে মৃদু গুতা মারলো
“কি ভাবছিস রে?”
দীঘি নদীকে হেলান দিয়ে বলল
“ভাবছি কবিতার কথা। কি মিষ্টি মেয়েটা বল”
“হুমমমমম”
সাইফ রেডি হয়ে নিচে নামে। অদিতি খাবার দিচ্ছে সবাইকে। হাসান চৌধুরী খুব ভোরে বেরিয়ে গেছে। আঞ্জুমান অদিতিকে বলল
“তুই বস। খেয়ে নে। আবার কলেজ যাবি তো”
অদিতি খেয়ে নিলো। রেডি হয়ে বেরিয়ে আসলো কলেজে যাবার জন্য। আজও সাইফ ওকে পৌঁছে দিয়ে তারপর অফিসে যাবে। গাড়ি থেকে নামার সময় সাইফ ওয়ালেট থেকে কয়েকটা ৫০০ টাকার নোট অদিতির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল
“এটা রাখো”
অদিতি টাকার দিকে তাকিয়ে বলল
“এটা কেন?”
“প্রয়োজন হতে পারে।”
অদিতি টাকা টা নিয়ে ব্যাগে রাখলো। সাইফ অদিতিকে আরো বলল
“আমার নম্বর সেভ করে দিয়েছি। ক্লাস শেষে কল দিবে”
“আচ্ছা”
অদিতি ভিতরে গেলো। সাইফও চলে গেলো অফিসের উদ্দেশ্যে। গেট পার হতেই আফিয়া এলো কোথ থেকে ছুটে।
“হেই, সুইটহার্ট”
অদিতি মুচকি হেসে বলল
“কেমন আছো?”
আফিয়া অদিতির হাত ধরে বলল
“আমি ভালোই থাকি। চল ক্লাসে চল”
দুজনে ক্লাসে গিয়ে বসলো। আজ ফার্স্ট বেঞ্চটাতে অন্যরা বসেছে। অদিতি আর আফিয়া দ্বিতীয় বেঞ্চ টাতে বসলো। আফিয়া গায়ে ওড়না পরে না। বিষয়টা অদিতির কেমন একটা লাগলেও মুখে কিছু বলে না। পরনে লেগিংস আর একটা ওয়ান পিছ। চুইংগাম চিবোচ্ছে আর ফোন চাপছে। অদিতির দিকে তাকিয়ে বলল
“তোকে বললাম নম্বরটা দিতে”
অদিতি নিজের ফোন বের করে আফিয়ার দিকে এগিয়ে দিলো। আফিয়া ফোনটা এদিক ওদিক ঘুরিয়ে দেখে বলল
“বাব্বাহহ এত দামি ফোন? নতুন মনে হচ্ছে”
অদিতি মুচকি হেসে শুধু ওপর নিচ মাথা নাড়লো। আফিয়া অদিতির ফোনে নিজের নম্বর তুলে কল করলো। তারপর অদিতিকে দিয়ে দিলো।
“এটা আমার নম্বর। সেভ করে নে”
কিছুক্ষণ পর মুশফিক আর রোহান এলো। ওদের পিছনের সিটে বসলো দুজন। রোহান অদিতির দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল
“হাই অদিতি”
অদিতি আজ হাত মেলালো না। পিছন দিকে ফিরলোও না। শুধু মুখে বলল
“হাই”
রোহান আফিয়ার দিকে তাকিয়ে নাক কুচকালো। আফিয়াও মুখ বেকালো রোহান কে। ক্লাসের ফাকেও রোহান এটা ওটা জিজ্ঞেস করেছে অদিতিকে। কিন্তু অদিতি তেমন রেসপন্স করে না। ক্লাস শেষে আফিয়া নিজেই বলল
“আজ কিন্তু তোর ট্রিট দেওয়ার কথা বেইব”
অদিতি স্মিত হেসে বলল
“নিশ্চয়ই”
রোহান আর মুশফিক বলল
“আমরা কি বাদ?”
আফিয়া ওদের বলল
“একদম ই না। তোদের ও দিবে। কি রে বইব বল”
অদিতি মাথা নেড়ে শুধু সৌজন্য মূলক হাসি দিলো। মাঠে চারজন গোল হয়ে বসে ফুচকা খাচ্ছে। অদিতি খেতে খেতে ভুলেই গেছে সাইফ কে কল দেওয়ার কথা। ২ টা বাজতেই সাইফ নিজে থেকে কল করলো অদিতিকে। রোহান অদিতিকে বলল
“আচ্ছা অদিতি, তোমার ফ্যামিলির সবাই কি তোমার মত এত কিউট?”
মুশফিক ঠোঁট টিপে হাসলো। রোহান যে অদিতিকে পটানোর চেষ্টা করছে তা ভালোই বুঝেছে ও। আবার কিছু বলবে রোহান এমন সময় অদিতির কল আসলো। ব্যাগ থেকে ফোন বের করে দেখলো সাইফের নম্বর, অদিতি দাত দিয়ে জিভ কেটে কল টা রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে শোনা যায় সাইফের হাস্কি কন্ঠস্বর
“ক্লাস শেষ হয়েছে বাচ্চা বিড়াল?”
“আমি এক্ষুনি আপনাকে কল করতাম। হ্যা শেষ ক্লাস”
“ভিতরেই ওয়েট করো। আমি ১০ মিনিটে আসছি”
অদিতি কল কেটে ফোন আবার ব্যাগে রেখে দিলো। ওদের উদ্দেশ্যে বলল
“আমি আসছি তাহলে”
আফিয়া কিছুটা জোর দিয়েই বলল
“আরেকটু বস। একটু পর বাড়ি গেলে কী এমন হবে?”
অদিতি ব্যাগ কাধে নিয়ে উঠে পড়লো
“ না রে। উনি রাগ করবেন”
রোহান কপাল কুচকায়। এই উনি টা আবার কে? রোহান বলল
“তাহলে আফি, চল আমরাও উঠি”
আফিয়াও সায় দিলো। চারজনেই উঠলো। অদিতি ফুচকার বিল মিটিয়ে ক্যান্টিন থেকে পানি খেয়ে এলো। এতক্ষণে সাইফ এসে গিয়েছে। চারজনে গেট দিয়ে বেরিয়ে আসছে। সাইফ গাড়ি হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। পরনে ফরমাল পোষাক। কোট টা খুলে হাতে নিয়েছে। চোখে সানগ্লাস। অদিতি সাইফের দিকে এগিয়ে গেলো। সাইফ চোখ থেকে সানগ্লাস টা খুলে মুচকি হেসে অদিতিকে সামান্য জড়িয়ে ধরলো।
আফিয়া আর রোহান সেলফি তুলতে ব্যাস্ত। মুশফিক দুজনে কে ডেকে দেখালো দৃশ্য টা। ওরা দুজনেই হতবাক। অদিতিকে যথেষ্ট ভদ্রই লাগে। তবে এটা কে? রোহান দাঁত কিড়মিড় করে বলল
“মাল টা কে বল তো?”
মুশফিক বলল
“ কি জানি ভাই। আমার তো কেমন সন্দেহ হচ্ছে”
আফিয়া দুজনকে থামিয়ে বলল
“তোরা চুপ কর তো। ভাই ও তো হতে পারে। দেখছিস না ছেলেটা কত সুন্দর। অদিতিরই কোনো ফ্যামিলি মেম্বার হবে”
রোহান কনফিউশান নিয়ে বলল
“হবে বলছিস?”
আফিয়া ঝাঁঝিয়ে উঠে বলল
“না হওয়ার কি আছে? এতক্ষণ তো খুব বলছিলি, অদিতি তোমার ফ্যামিলির সবাই কি তোমার মতো কিউট নাকি?”
কথাটা ব্যাঙ্গ করে বলল আফিয়া। তারপর চোখ ছোট ছোট করে রোহানের দিকে তাকায়
“ব্যাপার কি বলতো? তোর এত সমস্যা কিসের? ভাই হোক বা বয়ফ্রেন্ড। তোর কি তাতে?”
রোহান ঘাড় চুলকাতে চুলকাতে বলল
“ভালো লেগেছে বাল”
মুশফিক আর আফিয়া খিল খিল করে হেসে ফেললো। রোহান মুখ কালো করে বলল
“হাসার কি আছে?”
মুশফিক হাসতে হাসতে বলল
“নিজের চেহারা টা দেখ ভাই। বাদরের গলায় মুক্তোর মালা মানাবে না”
রোহান আফিয়াকে রিকুয়েষ্ট করে বলল
“বান্ধবী, ম্যানেজ করে দে না। ওই। দে না। তুই না আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।”
আফিয়া একটু ভেবে বলল
“ যদি ছেলেটা ওর ভাই হয়। তাহলে আমি অদিতির ভাবি হচ্ছি।”
তিন জনেই হাসলো। রোহান আফিয়ার থেকে অদিতির নম্বরও নিয়ে নিলো।
–
আজ সাইফ অদিতিকে নিয়ে বাড়িতে এসেছে। অফিসে যায়নি আর। ফ্রেশ হয়ে অদিতি নিচে গেছে। সাইফ ডিভানে গা এলিয়ে মোবাইলে গেম খেলে। অদিতির ফোনটা পাশেই। টুংটাং শব্দে মেসেজ আসে। সাইফ গেম টা পজ করে অদিতির ফোন হাতে নেয়। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে মেসেজ টা
হাই, অদিতি। ঠিকঠাক পৌছে গেছো তো?
সাইফ ভ্রু গুটিয়ে নিলো৷ নম্বর টা সেভ করা না। অদিতির ফোনে শুধু তিনটা নম্বর সেভ করা। একটা আঞ্জুমান এর আরেকটা সাইফ এর। এই দুইটা সাইফ নিজেই সেভ করে দিয়েছিলো। তৃতীয় নম্বর টা আফিয়ার। এর মধ্যেই আবার মেসেজ আসে
আমি রোহান। চিনেছো?এক সাথে ফুচকা খেলাম।
সাইফের মাথায় এবার কিছুটা ধরলো। কলেজের কেউ হবে। সাইফ টেক্সট করে
কল মি।
রোহান তো মহা খুশি। অদিতি নিজে থেকে কল দিতে বলছে?
চলবে?
পাখিরা কমেন্ট করে জানিও কেমন হয়েছে 🥰
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৮
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৮
-
খাঁচায় বন্দী ফুল গল্পের লিংক
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২১