Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৪


কিসঅফবিট্রেয়াল

পর্ব_০৪

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
সেরিনের আরও কিছু স্মৃতি ক্যামেরা বন্দি করতে পেরে কায়ানের ভীষণ ভালো লাগছে।
সেরিন ক্রমশ পা ভেজাতে ভেজাতে এগিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রের ভেতরের দিকে।
মেয়েটা কিছুক্ষণ আগেই জ্বরের ঘোরে ছিল।
কায়ান ফোনটা নামিয়ে সেরিনজে আওয়াজ দেয়,

“সেরিন, ফিরে এসো। তোমার জ্বর ছিল কিছুক্ষণ আগেও৷”

সেরিন থেমে যায়। ফিরে তাকায় পেছন দিকে। কায়ানকে দেখে সেরিন পুনরায় নিজের বাস্তবতায় ফিরে এলো।
সেরিন একবার পাশে তাকায়। সমুদ্রের আছড়ে পড়া ডেউ গুলো এমন মাতাল করা শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে সেরিনের জানা ছিলনা৷
সেরিনের পাহাড় পছন্দ। তাইত সে পাহাড়েই যেতে চেয়েছিল। তবে যেহেতু বোনের সাথে এসেছে তাই সবার মতামতের উপর ভিত্তি করে ডিসিশন নেওয়া হয়েছিল।
সেরিন এগিয়ে আসে কায়ানের দিকে।
কায়ান নিজের ফোনটা পকেটে রাখে।

“চলো। ইট’স লেট। ভোরের আলো ফুটবে একটু পর৷”

সেরিন না করেনা। সোজা হাঁটা শুরু করে। কায়ান পেছন পেছন সেরিনকে রুমে দিয়ে এরপর চলে যায়।
সেরিন দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ শুনে ভেবেছিল কায়ান হয়ত ভেতরে এসেছে কিন্তু পেছনে ফিরে দেখে কায়ান চলে গিয়েছে।
সেরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
বিছনায় বসে পা দু’টোর দিকে তাকায়। কায়ান বারন না করলে হয়ত প্যান্ট টা ভিজিয়ে আসত সে।
সেরিন আর ভাবেনা কিছু। ঘুম আসছে এখন৷
বিছনার মাঝামাঝি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।


কার্ড দিয়ে রুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে কায়ান৷
মেহেরীণ ঘুমোচ্ছে বাচ্চা দের নিয়ে।
এটা মূলত দু’টো বেডরুম ডাইনিং রুম, ৩ টা ওয়াসরুম শহ একটা লাকজারি ফ্যামেলি রুম।
কায়ান মেহেরীণের বেডরুমের দরজা লাগিয়ে নিজের অন্য বেডরুমে চলে আসে৷
মেহেরীণ, মাহমুদ কে বার বার থাকতে বলেছিলো। কিন্তু কায়ান বহুত ঘুলুচুকি করে মাহমুদ কে পাঠিয়ে দিয়েছে।
কায়ান ফ্রেশ হয়ে বিছনায় শুয়ে পড়ে।
রাত ৪ টা বাজে। কিছুক্ষণ পর ফজরের আজান দিবে।
কায়ান চোখ বন্ধ করে নেয়৷
ঘুম প্রয়োজন। এই দিনটা সত্যি লম্বা ছিল। কত কিছু ঘটে গেল।


সকাল সকাল বুফে ব্রেকফাস্ট করার জন্য সবাই ব্রেকফাস্ট এড়িয়াতে এসেছে।
মাহমুদও এসেছে সকালেই।
জিনু আর জারিফ, মামার সাথে বসেছে।
কায়ান স্ট্রেট হয়ে বসে ব্রেকফাস্ট করছে।
একটি গোল টেবিলেই সবাই বসে আছে।
দুর্ভাগ্যবশত সেরিন বসেছেই কায়ানের পাশে। সেরিনের পাশে শিমুল আর ওপাশে জেবরান।
কায়ানের পাশে বাচ্চারা তার পাশে মাহমুদ আর সামনে মেহেরীণ।
মেহেরীণ ফোনে কিছু করছিল আর চামচ দিয়ে খাবার খাচ্ছিল।
সেরিনও খাবার খেতে খেতে নিজের ফোনেট নোটিফিকেশন চেক করছিল। কাল থেকে ফোন সে ধরেনি বললেই চলে।
ফেসবুকে ঢুকতে সেরিনের ফোন হ্যাং করতে শুরু করেছে।
সেরিন দ্রুত নোটিফিকেশন সাইলেন্ট করে দেয়।
সেরিনের ফোনে শব্দ শুনে শিমুল একটু উকি দেয়। সেরিন তখন একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের ভেতর ঢুকেছে।
একটা আর্মি অফিসারের আইডি।
শিমুল তা দেখে সেরিনকে কুনুই দিয়ে গুতা দেয়।

“আহা, আর্মি অফিসার।”

সেরিন, আড় চোখে তাকায়৷

“ত?”

“না কারোর খুব পছন্দের পেশা যেন। ভুলে গেলাম। উম কার পছন্দ ছিল আর্মি অফিসার পুরুষদের? “

সেরিন ভেংচি কাটে,

“ইস, কার জানি ডক্টর পছন্দ ছিল।”

“হ্যাঁ ত?”

ওরা দু বোন নিজেদের খুনসুটিতে ব্যস্ত। ওদিকে কারোর যে এই সব কথা শুনতে একটুও পছন্দ হচ্ছে না। সে দিকে কারোর খেয়াল নেই।
মেহেরীণ কায়ানের দিকে তাকায়।
তার ঠোঁটের কোণায় কিনচিৎ বাঁকা হাসি।
মেহেরীণ নিজের ফোনটা রেখে, সেরিনের ফোনটা নিয়ে নেয়। ঘটনা এত দ্রুত ঘটেছে সেরিন প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় পায়নি।

“ওয়াউ সেরিন, নট ব্যাড। মেজর সাফয়েত খন্দকার।”

সেরিন অকোয়ার্ড হয়ে যায়।
এত কিছুত নাই মেহেরীণ যেভাবে বলছে। সব থেকে বড় কথা আইডি কি ফেক না রিয়েল।
সেরিন কিছু বলবে তার আগেই, মেহেরীণের হাতে থাকা ফোনটায় চিলের থাবা পড়ল।
সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা টেবিল মুখো চিত হয়ে পড়ল।

“মেহেরীণ, বেবিদের দিকে খেয়াল করো।”

মেহেরীণ মিষ্টি হাসি দেয়৷

“ও কায়ান, তুমি কত খেয়াল রাখো এসবের।”

কায়ান, একবার সেরিনের দিকে তাকায়৷ যেন চোখ দিয়েই খেয়ে ফেলবে।
সেরিন সেটা দেখে মাথা নামিয়ে নেয়। সেরিন নিজেও জানেনা সে কেন ভয় পেলো। ভয় কি আদও পাওয়া উচিত।
পৃথিবীর বুকে সেরিন একমাত্র ব্যক্তি যে নিজেই দ্বিধায় ভুগছে যে, সে কেন ভয় পাচ্ছে। আবার সে ভয় পেয়েও যাচ্ছে সমানে।

শিমুল, কায়ানের হাতের তলে চাপা পড়া ফোনটার দিকে দেখল।
কায়ান এমন রেগে গেল কেন তারই উত্তর জানা নেই, এ কথা জিজ্ঞেস করার সাহসও নেই। আবার সেরিনের ফোন যে চাপা পড়ে ভর্তা হয়ে যাবে সে কথা বলার সাহস কই পাবে।

মাহমুদ এবং জেবরান তখন নিশ্চুপ হয়ে খাবারে মন দিয়েছে।
মাহমুদ, একবার বোনের দিকে চায়। এরপর জিনু আর জারিফকে নিয়ে উঠে যায়৷

খাবার শেষে কায়ান উঠে দাঁড়ায়।
সেরিনের ফোনটা পকেটে রেখে বলে,

“শিমুল রেডি হও আমাদের হোটেল চেক আউট ১২ টার ভেতর৷”

“ওকে ভাইয়া৷”

সেরিন নিজের ফোন সম্পর্কে কিছু বলার আগেই কায়ান বেরিয়ে গেল।

“আপু আমার ফোন৷”

“ও মা তোর ফোন নিয়ে গেছে? নিশ্চিত ভাইয়া ভুল করে নিয়ে গেছে। সমস্যা নাই নিয়ে নিস৷”

“তাও। এভাবে নিয়ে গেল?”

“সেরিন ফোনইত।”

সেরিন বিরক্ত বোধ করল।
তবে সেটা প্রকাশে কতটা লাভ হবে সেই হিসাবে নামতে নিজেকে সামলে নিলো।


রুমের এদিক ওদিক ড্রেস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সেরিনের বিরক্ত লাগছে এবার৷
নিজের অগোছালো ভাব টাকে আজ নিজেরই বড্ড বিরক্ত লাগছে।
গোছাতে গোছাতে বেলা ১১ টা বেজে গেল।
সেরিন লাগেজের চেইন লাগিয়ে সোফায় বসে শস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

“আআআ শান্তি।”

হটাৎ করেই দরজা খোলার শব্দে চমকে উঠল সেরিন।
কায়ান ভেতরে প্রবেশ করেছে। কায়ানের হাতে সেরিনের ফোন।
সেরিন উঠে দাঁড়ায়। সেরিম ভেবেছে হয়ত ফোনটা ফেরত দিতেই এসেছে কায়ান৷
সেরিন খুশি হয়ে উঠে দাঁড়ায়,

“ধন্যবাদ ভাইয়া।”

বলতে বলেত সেরিনের চোখের সামনে ফোনটা মার্বেল ফ্লোরে পড়ে টুকরো হয়ে গেল।
সেরিন মুখে হাত দিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে নিচের দিকে। চোখের সামনে মুঠোফোনটা টুকরো হয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে আছে।

“এটা কি করলেন? কেন করলেন?”

কায়ান এগিয়ে যায় সেদিনের দিকে। সেরিন পিছিয়ে যায় দু কদম।
ভয়ে কান্নাটা ভেতর থেকে আসছে না। তা না হলে এখন সে কাঁদত ভীষণ।।ফোনটা তার ভীষণ প্রিয় এবং যত্নের ছিল।
সেরিনের ভাবনার মাঝেই সামনে থেকে কায়ানের রাগান্বিত কন্ঠে প্রশ্ন ভেসে এলো,

“তুই কত ছেলের সাথে চ্যাট করিস?”

“মানে?”

“তোর ফোনে এত গুলো ছেলের ইনবক্সের ম্যাসেজ পেয়েছি আমি।”

“আমি যা খুশি তাই করতে পারি। আপনি কেন পার্সোনাল।….”

কথাটা শেষ হবার আগেই থাপ্পড় পড়ল সেরিনের গালে।

“ছেলেরা ফ্লার্ট করলে ভালো লাগে তোর?”.

সেরিন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় কায়ানের দিকে। কায়ান দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

” কিরে উত্তর নেই কেন?”

“চ্যাট মানুষ করতেই পারে।”

“তার মানে ছেলেরা ফ্লার্ট করলে তোর ভালো লাগে তাইত?”

সেরিন কি করবে কি বলবে বুঝতে পারছে না। এটা ঠিক যে তার ফেসবুকে এমন কিছু অননোন ফ্রেন্ডস আছে যাদের সে চিনেনা। তবে তারা সেরিনের প্রশংসা করে আর ফ্লার্টি ফ্লার্টি কথা বলে। এমনটা নয় সেরিন তাদের পাত্তা দেয়। তবে হ্যা ব্লক করেনি কখনো।

“মি.মাহাবুব আপনি আমার ব্যক্তিগত জীবন কন্ট্রোল করতে পারেন না৷”

কায়ান, এগিয়ে গিয়ে সেরিনের গালাটা চেপে ধরে দেয়ালের সাথে মেশায়৷

“আমি কি করতে পারি কি না করতে পারি সেটা দেখবি? বলব তোর বাপকে তুই এসব করে বেড়াস?”

সেরিনের দম বন্ধ হয়ে আসছে। সে খুবই কষ্টে একটু কথা বের করল।

“আব্বুকে কেন টানছেন? আমিও আপনার চরিত্র সম্পর্কে আব্বুকে সব বলে দেব৷”

“হ্যাঁ বলবি। চল সবাইকে জানতে হবেত। তার আগে তোর চরিত্র সম্পর্কে সবাইকে বলি ওয়েট।”

কায়ান, সেরিনের গলা ছেড়ে নিজের ফোন বের করে। সেরিন কাশি দিতে শুরু করে।
কায়ানকে ফোন বের করে দেখে সেরিন ধরে বসে কায়ানের হাত৷

“থামুন৷”

“কেন এখন কেন থামতে বলছিস? তুই না বড্ড সাহসী? “

সেরিন মাথা নুইয়ে নেয়। ছেলে গুলো কখনো বাজে কথা বলেনি। কিন্তু এমনও না সেরিন নিজে কোন বাজে কথা বলেছে। কিন্তু এসব কথাবার্তা সামনে এলে আব্বু কষ্ট পাবে। তারা পুরাতন কালের মানুষ এসব বুঝে না৷ আর কায়ান নিশ্চিত ম্যানুপুলেট করে সে টাও বলবে যেটা সে করে নি।

কায়ান ফোনটা পকেটে রাখে পুনরায়৷
সেরিন মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

“তোকে কি শাস্তি দেব সেরিন?”

সেরিনের গলায় কাটা বিঁধেছে। এত যন্ত্রণা দিচ্ছে। না পেটে যাচ্ছে না বাহিরে আসছে। সেরিনের ত ইচ্ছে করছে একটা থাপ্পড় পাল্টা মেরে বলতে।

“কেন আপনার বউ বাচ্চা আছে এরপর আবার আপনি আমার দিকে নজর দেন তার বেলায় কিছু না৷”

কিন্তু মানুষ সব সময় যা চায় তা কি বলতে পারে।

কায়ান৷ সেরিনকে মাথা নুইয়ে দাঁড়াতে দেখে সেরিনের দিকে ঝুঁকে যায়৷

“তোর প্রথম ভুল ছিলো, আমাকে থাপ্পড় দেওয়ার মত সাহস সঞ্চয় করা আর দ্বিতীয় ভুল এটা৷
মনে রাখিস তৃতীয় বার তোকে মাফ করব না৷
শখ আর ভালোবাসা তুই আমার। না হলে মেরে ফেলতাম। এই মুহুর্তে আমার এত রাগ হচ্ছে। সাবধান হয়ে যা। তোর প্রতিটা নিঃশ্বাসের খোঁজ রাখি আমি। “

কথাটা বলে কায়ান বেরিয়ে যায়। সেরিন তাকিয়ে থাকে সে দিকে ফ্যাল-ফ্যাল করে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের গালের দিকে দেখে। লাল হয়ে আছে।
সেরিন হেঁচকি দিয়ে ওঠে।


মাহমুদ, জিনু আর জারিফকে গাড়িতে উঠিয়ে দেয়৷

“ত তাহলে আয় তোরা৷”

“হ্যাঁ তোকেত বললাম চল।”

“না যাব না। আমার কাজ আছে। সাবধানে যাবি। কায়ানকে সাবধানে ড্রাইভ করতে বলবি।
আর একটা কথা,
ভুলে জাসনা বোন তোর লক্ষ কি। ৬ বছর চোখের পলকে চলে গিয়েছে। আগামী ২ বছরও চলে যাবে। সুতরাং তাকে এখনই কিছু করতে হবে।”

মেহেরীণ হাসে,

“আমাকে কায়ান যতটা সহজে নিচ্ছে। ততটা সহজে ওর আমার থেকে মুক্তি নেই। সো চিল।”

“হ্যাঁ আপু আমার বিশ্বাস আছে তোর উপর।”

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply