Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩১


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৩১]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

🌿 বাংলাদেশ…..

এহসান মঞ্জিল।

নীলাদ্রি চোখের পাতা স্থির রাখতে পারছিল না। করিডোরের অন্ধকারে গা ছমছমে পরিবেশ যেনো আরও ভারি হয়ে উঠছে। বেসমেন্টের গভীর থেকে আসা চিবিয়ে খাওয়ার শব্দটা এখন এতটাই ঘন যে, মনে হয় প্রতিটা চিবানো দাঁতের ফাঁক গলে সরাসরি তার বুকের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে।

ভেতরের বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নীলাদ্রির শরীর কাঁপতে লাগল। চারপাশ নিস্তব্ধ, শুধু সেই ভয়াল শব্দের প্রতিধ্বনি। কপালে ঠান্ডা ঘাম জমে উঠেছে।

ছোট্ট ছিদ্রটার কাছে মুখ নিয়ে উঁকি দিতেই চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেল। অন্ধকার ঘরের ভেতরটা র’ক্তে ভিজে আছে, যেন মেঝে নয় লালচে নদীর ঢেউ বইছে। সেই রক্তের ভেতরে মাথা গুঁজে এক বিকট চেহারার মানুষসদৃশ প্রাণী মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে। মাংসের তন্তু দাঁতের ফাঁক থেকে টেনে বের হচ্ছে, র’ক্ত ঝরে পড়ছে তার চিবুক বেয়ে। উঁহু সে কোনো প্রাণী নয়। তাকে নীলাদ্রি চিনে। আলিয়াজ সে , হ্যাঁ সেই আলিয়াজ। কিন্তু সে এখানে কি করে? তবে কি আফরিদ এহসান তাকে মারেনি? বন্দী বানিয়ে রেখেছে এত বছর ধরে?

এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো আলিয়াজের চোখ নীলাদ্রির দিকেই উঠেছে। লালচে র’ক্তাভ দৃষ্টি অন্ধকার ভেদ করে ছিদ্রের ওপারে তাকিয়ে আছে। বুকের ভেতরটা যেন থেমে গেল নীলাদ্রির, মনে হলো হৃদপিণ্ড ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে এই বুঝি ধরা পড়ে গেলাম!
দরজার পেছনের সেই ঘরটা যেন এক ভয়’ঙ্কর নরখাদক কসাইখানা, আর নীলাদ্রি এক অনাহুত সাক্ষী।

“ওয়াও ওয়াও ওয়াও। আফরিদ এহসান শেষমেষ এই কাজটা করেছে? জিনিয়াস ব্রো , তোমার মতো মনস্টার আর একটাও হতে পারে না। যেটা অন্যরা পারেনি সেটা তুমি ঠিকই করেছো।”

নীলাদ্রি দ্রুত বেসমেন্ট থেকে বেরিয়ে এলো। সিঁড়ির কাছে আসতেই কারো পায়ের শব্দ কর্ণ স্পর্শ করলো তার।

“ভাইয়া?”

ফাহমিদা? থামতে হলো নীলাদ্রি কে। ফাহমিদা তার নিকটে এগিয়ে এসে শুধোয়।
“এত রাতে তুমি এখানে কি করছো ভাইয়া?”

নীলাদ্রি এদিক ওদিক তাকিয়ে ভারিক্কি কন্ঠে বলে।
“এখন কি তোকে কৈফিয়ত দিতে হবে?”

“না না তেমন টা নয় , আমি জাস্ট আস্ক করলাম।”

নীলাদ্রি সূক্ষ্ম নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল।
“গো টু স্লিপ।”

“ওকে।”

ফাহমিদা ম্লান মুখ করে নিজের রুমের দিকে এখানে গেল। নীলাদ্রি চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো আনন্দে ভাসছে। যেটা প্রয়োজন ছিলো অবশেষে সেটা হতে চলেছে।

🌿_______🌿

আজ ঠিক দু’টো দিন ধরে আলিফ নেই। নাজমা খাতুন নিজের মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন বলতে গেলে। এদিকে বড় ছেলেটার কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলেটা কোথায় আছে কি করছে কেউ জানে না? ভাইটাকে কেউ একজন মে রে ফেলছে। আবার তার মায়ের অবস্থা খারাপ।

আলিফের কবরের পাশে আঁটসাঁট হয়ে বসে আছেন নাজমা খাতুন। বিড়বিড় করে কবরের মাথার উপর মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো।

“আব্বা? বাজান দেখ আমি আইছি তোর কাছে। সবাই কইতাছে তুই নাকি আমাগো ছাইড়া চইলা গেছোস। আম্মায় কিন্তু বিশ্বাস করি নাই। দেখ আমি তোর কাছে আবার আইছি ফিইরা। এইবারে আর কোথাও যামু না ঠিক আছে। তুই ঘুমা বাজান ,তুই শান্তির ঘুম দে।”

আকাশ ফেটে বৃষ্টির ফোঁটা টুপটুপ করে ছুঁয়ে যাচ্ছে মাটি। মায়ের কান্নায় বুঝি আজ আকাশটাও কাঁদতে চাইছে। দু’জনের চোখের পানি মিলে মিশে একাকার। টুপটুপ করে আঁখি হতে অশ্রু ঝরছে নাজমা খাতুনের। দু’হাতে শাড়িটা দিয়ে কবরটা ঢেকে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

“বাজান তুই চিন্তা করিস না আমি আছি তো তোরে ভিজবার দিমু না।”

এই পাগলী মা’টার আহাজারি বুঝি কেউ শুনলো না। ছেলের কবরের পাশে ঠিকই দাঁড়িয়ে রইলেন তিনি। আঁচল মেলে দিয়েছেন কবরের উপর।

🌿_______🌿
🌿থাইল্যান্ড…..

“আমার পা ব্যথা করছে , আমার ভালো লাগে না। পায়ের ব্যথা ভাল্লাগে না।”

ঘুমের মধ্যে বিড়বিড় করছে ন্যান্সি। পায়ের ব্যথায় হাঁসফাঁস করছে ন্যান্সি। বিছানায় শুয়ে শুয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। দুইবার ঘুম ভেঙ্গে শুধু মাত্র তার পায়ের ব্যাথার কারণে।
আফরিদ উঠে বসলো ,ঘুম জড়ানো চোখে তাকায় ন্যান্সির মুখ পানে। আলগোছে ডিম লাইট টা অন করে দেয়। দু’পা টেনে তুলে নিজের কোলে। ধীরে ধীরে মালিশ করতে শুরু করে। পরক্ষণেই হাত বাড়িয়ে টেবিলের উপর থেকে বাম নিয়ে নিলো। হাতে মেখে মোলায়েম ভাবে পা জোড়া টিপে দিতে ব্যস্ত হলো।
ঘুমন্ত ন্যান্সি আবারো গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।

আফরিদ আর ঘুমোয় না , চুপচাপ এক পা থেকে আরেক পা মালিশ করে দেয়।
ঘুমন্ত স্নিগ্ধ মুখখানি তার শান্তির জায়গা। কিছুক্ষণ পর মুখ নামিয়ে ন্যান্সির কপালে আলতোভাবে চুমু খেলো, কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো।

“কোনো একদিন নিশুতে রাতের আঁধারে আমি তোকে ভীষণ ব্যথা দেব অ্যাঞ্জেলিনা! একটু সয়ে নিস ঠিক আছে, সেদিন রাগ করিস না বোকা মাতারি আমার।”

আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হাসলো।তার ভাবলেই গা শিরশির করে, কিভাবে এই বান্দি কে ব্যথা দেবে ভাবলেই দমবন্ধ হয়ে আসে।

ভোরের দিকে ঘুম জড়ানো চোখে তাকায় ন্যান্সি। পায়ের কাছে বসা লোকটাকে দেখে অবাক হয়। অভ্যন্তরে ঝড় বয়ে যায়। শীর্ণ তনু কেঁপে উঠল সহসা। চোখে মুখে অদ্ভুত ব্যাকুলতা। এ পুরুষ কি অর্ধ রাত অবধি তার পা টিপছিল?
ব্যাকুল ভঙ্গিতে উঠে বসল ন্যান্সি। নির্মল কন্ঠে শুধোয়।

“আপনি জেগে ছিলেন এতক্ষণ ধরে?”

আফরিদ পিটপিট করে ন্যান্সি কে দেখছে। আচানক ন্যান্সি সতর্ক ভঙিতে বলে।
“দেখুন উল্টো পাল্টা কিছু ভাববেন না। আপনি কিন্তু বলেছেন আপনি আমাকে হার্ট করবেন না কোনো ভাবেই।”

আফরিদ বত্রিশ পাটি দাঁত দেখিয়ে হেসে বলল।
“বিশ্বাস কর বউ আমি তোকে লাল কালারের ভালোবাসি।তোকে একদম কষ্ট দেব না।”

ন্যান্সি বোকার মতো তাকিয়ে আছে। লাল কালারের ভালোবাসা মানে কি?
“এক মিনিট লাল কালারের ভালোবাসা মানে কি?”

আফরিদ চওড়া হেসে বলল।
“ভালোবাসা অনেক কালারের। লাল, নীল, হলুদ,কালো। কিন্তু আমি তোকে কড়া লাল আর কালো কালারের ভালোবাসি।সময় হলে বুঝবি!”

ন্যান্সির বিস্ময় বাড়লো,এ কেমন আজব কথা? কালো লাল তাও আবার কড়া কালারের?

আফরিদ গম্ভীর হলো হঠাৎ, দৃঢ় স্বরে বলল।
“ব্যথা কমেছে?”

ন্যান্সি বাধ্য মেয়ের মত উপর মাথা দোলায়। চট করে ঝড়ের বেগে তুলতুলে দেহটার উপর চড়ে বসল আফরিদ এহসান।‌ ক্ষণিকের জন্য থমকে গেল ন্যান্সি। বোঝার চেষ্টা করলো নিজের অবস্থান ,যখন বুঝতে পারলো লালচে আভায় রঙিন হলো কপোল জোড়া।
মাদকতায় মেশানো কন্ঠে আওড়াল।

“এখন আমি একটু ঘুমাই? ঘুম পাচ্ছে।”

আফরিদ প্রত্যুত্তর শোনার অপেক্ষা করলো না ,গলদেশে মুখ ডুবিয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়লো। অদূরে দেয়ারে টাঙানো ঘড়িটা এক নজর দেখে নিল ন্যান্সি। এতক্ষণ ধরে সে ভাবছিল বোধহয় মধ্যরাত। অথচ এখন তো সকাল হতে চলল।
অবাক হলো ন্যান্সি ,বড় আশ্চর্যের বিষয় এটা। আফরিদ এহসানের কত গুলো রূপ?

সকাল সাতটা ছুঁই ছুঁই। কাইট্যান কে নিয়ে সুইমিং পুলের কাছে বসে আছে ন্যান্সি। কোথা থেকে ছুটে এলো ঈশান।
ঈশানের বিক্ষিপ্ত মুখশ্রী দেখে বক্ষঃস্থলে ঝড় উঠলো ন্যান্সির।

“ভাইয়া? এটা কি করে হলো? আপনার এই অবস্থা কেন?”

নিরুত্তর ঈশান , ন্যান্সি দ্রুত কাইট্যান কে রেখে উঠে এলো।
কপাল বেয়ে র’ক্ত বের হচ্ছে ঈশানের।

দ্রুত ঈশান কে নিয়ে ড্রয়িং রুমে গেল ন্যান্সি , তাকে সোফায় বসিয়ে রেখে হন্তদন্ত পায়ে উপরে রুমে গিয়ে ফাস্ট এইড বক্স খুঁজতে লাগল।
ঘুমটা হালকা হয়ে এসেছে আফরিদের , ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকাতেই দেখতে পেলো ব্যস্ত হাতে কিছু একটা খুঁজে চলেছে ন্যান্সি।
হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছে মনে হচ্ছে আফরিদের ,ঝিম ধরা মাথা নিয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসলো সে। কোঁকড়ানো ঢেউ খেলানো চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে। হাতের সাহায্যে আরো খানিকটা এদিক ওদিক করে দিল চট করে।

“হোয়্যাট আর ইউ ডুয়িং অ্যাঞ্জেলিনা?”

হাত জোড়া থামলো ন্যান্সির , পরক্ষণেই বুক ধড়ফড়িয়ে উঠে রমণীর। তেরছা চোখে তাকায় আফরিদের সদ্য ঘুম ভাঙা মুখশ্রীর দিকে।
কি স্নিগ্ধ ,কি মায়াবী সেই মুখশ্রী। অন্তরের পীড়ায় তনু জ্বলে উঠে তার। তার উপর ওই ঘুম জড়ানো কন্ঠস্বর , সবটাতেই কেমন ঘোরা লাগা অনূভুতি।
মস্তিষ্কে ঈশানের কথা ভাবতেই আবারো ব্যস্ত হয়ে গেল ন্যান্সি। দ্রুত ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে নিচে ড্রয়িং রুমে চলে যায়।

আফরিদ ভ্রু বাঁকালো , ফাস্ট এইড দিয়ে কি হবে? দুশ্চিন্তায় পীষ্ট হওয়া মস্তিষ্ক আচানক চমকে উঠে। কোথাও কিছু হয়নি তো এই মেয়ের?

পৈশাচিক মস্তিষ্ক আর ভাবতে পারলো না , দ্রুত বেড ছেড়ে দৌড়ে গেল নিচের দিকে।

“আপনার এটা কি করে হলো ভাইয়া?”

স্যাভলন তুলো দিয়ে ধীরে ধীরে কপালটা পরিষ্কার করতে করতে শুধোয় ন্যান্সি।ঈশান খিঁচিয়ে চোখ দুটো বুঁজে নিল। ব্যথা কিলবিল কিলবিল করছে। তুলো ছুঁইয়ে রেখে দাঁতে দাঁত চাপছে ন্যান্সি। নিশ্চয়ই প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে।

“কি হলো বলুন ভাইয়া।”

ঈশান ঘাবড়ে গেল ‌, এখন কথা গুলো বললে নিশ্চয়ই মা’র খাবে আফরিদের হাতে।

“আসলে ম্যাম ওই বস জানে।”

ব্যথা পেয়েছে নিজে আর কিভাবে ব্যাথা পেলো সেটা নাকি বলবে বস? রাগান্বিত চোখ করে তাকালো ন্যান্সি। চুপচাপ ক্রিম লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করতে লাগলো।
সিঁড়ি বেয়ে নিচে আসছে আফরিদ ,এক হাত ট্রাউজার পকেটে ঢুকিয়ে রাখা ‌

“কি বে আবুলের নাতি শেষমেষ আমার বউটাকে দিয়ে নিজের সেবা করাচ্ছিস?”

আফরিদের এহেন কথায় মুখ ভার হলো ঈশানের।
“বস চাইলে তো আমার বিয়েটা করিয়ে দিতে পারেন , কতদিন সিঙ্গেল ম’রতে হবে?”

“এহহ গায়ে মানে না আপনি মুরোদ। শখ তো কম না বউয়ের?”

“ভাইয়ার এই অবস্থা কেন?”

ন্যান্সির কথায় ড্রয়িং রুমের পরিবেশ টা কেমন শান্ত হয়ে গেলো।
আফরিদ এগিয়ে গিয়ে টেবিলের উপর থেকে একটা আপেল তুলো নিল । সেটা মুছে কামড় বসাতে বসাতে বলল।

“আমি ওরে দিয়ে থাইল্যান্ডের সব মশা সংগ্রহ করাচ্ছি ,খুব শীঘ্রই মশা বেছে বড়লোক হবো।”

ওষ্ঠো জোড়া ফাঁক হয়ে এলো ন্যান্সির।
“ওহ রিয়েলি? আচ্ছা আফরিদ আমার মুখে কি লিখা আছে আমি বোকা?”

ন্যান্সির মুখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিতে বলা কথায় ঠোঁট কামড়ে হাসলো সে।
“না আমার পরাণ আপনার মুখে বোকা লেখা নেই, আপনার মুখে লিখা আছে আফরিদের সহজ সরল বউ নিতা আম্বানি।”

এই লোকটার আজগুবি কথা শুনে শুনে বড় বিরক্ত সে! একটা মানুষ এত আজাইরা কথা কিভাবে বলতে পারে? সে তো আগে দেখেনি? তবে হয়তো এখান দেখা মিলেছে।

আফরিদ নির্বিকার কন্ঠে ঈশানের উদ্দেশ্যে বলল।
“ঈশান , ফ্লাইট রেডি কর বাংলাদেশ ব্যাক করব।”

আরেক দফা অবাক হলো ন্যান্সি ,তবে এখানে কেন এসেছিল? আর সেদিন ন্যান্সি কে কেন ওই ভাবে একা রেখে প্রায় তিন চার ঘন্টার মতো উধাও হয়েছিল?
মস্তিষ্ক জুড়ে একটা প্রশ্ন বিচরণ করছে।
আফরিদ এহসান কে?

🌿______🌿

🌿 বাংলাদেশ……..

সকাল সকাল একসাথে খেতে বসেছে পুরো পরিবার । তন্বী আইঢাঁই করছে সেই কখন থেকে। মামুন হায়দার মেয়ের ভাব ভঙ্গি দেখে সন্দিহান কন্ঠে শুধোয়।

“কি হয়েছে তন্বী তুমি খাচ্ছো না কেন?”

তন্বী শুকনো ঢোক গিলে বলল।
“বাবা আমাকে বোধহয় একবার ঢাকা যেতে হবে।”

ঢাকার কথা শুনে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো আফিয়া হায়দার। দাঁত পিষে বলে।

“ঢাকা কোন দুঃখে?”

তন্বী এই ভয়েই ছিলো ,তার মা ঢাকার কথা শুনলেই রেগে যাবে।

“আসলে মা আমার তো ট্রান্সফার সার্টিফিকেট টা আনতে হবে।”

এত কিছুর চক্করে মেয়ের পড়াশোনার কথা ভুলেই বসেছেন মামুন হায়দার।
আফিয়া হায়দার বলে উঠেন।

“ওগুলো ছাড়া কি তোমার ভর্তি হওয়া যায় না?”

মামুন হায়দার নিরেট স্বরে বললেন।
“চুপ করো আফিয়া। শুনো তন্বী তুমি তৈরি থেকো , আমি কয়েকদিনের মধ্যেই ঢাকা নিয়ে যাবো তোমাকে।”

খাওয়া শেষ করে টেবিল ছেড়ে উঠে গেলেন মামুন হায়দার।
আফিয়া হায়দারও আর থাকলেন না , স্বামীর পিছু পিছু রুমে চলে গেলেন। সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকালো তন্বী। পরিবারে কি চলছে কিছু মাথায় ঢুকছে না তার।

ঝটপট হাতটা ধুয়ে ফেলল সে। তড়িঘড়ি করে ভেতরে রুমে দরজার কাছে দাঁড়ায় ভেতরের আলোচনা শুনতে।

আফিয়া হায়দার তিরিক্ষি মেজাজে বলে উঠেন।

“তুমি কেন রাজী হলে আবার ঢাকা যাওয়ার জন্য? ওই আফরিদ এহসান কি তোমাকে ছেড়ে দেবে? যদি ধরতে পারে তাহলে জবা’ই করবে।”

মায়ের মুখে এমন ভয়ানক কথা গুলো শুনে অন্তর আ’ত্মা কেঁপে উঠলো তন্বীর। সে অংক মেলাতে পারে না ,আফরিদ এহসান এবং মামুন হায়দার ওদের সম্পর্ক টা কি? তাদের মধ্যে কি এমন গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে?

মামুন হায়দার ভারিক্কি কন্ঠে বলে উঠেন।

“ও আমার কিছুই করতে পারবে না ,ভুলে যাচ্ছ ইলহাম আছে আমাদের জন্য।”

তীব্র ক্রোধে মস্তিষ্ক জ্বলছে আফিয়া হায়দারের।
“দেখেছি কত আছে। সেই তো ওকেও তুলে নিয়ে গেল।”

আরো একটি প্রশ্ন ,ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা জড়িয়ে আছে এই ব্যাপারে। কিন্তু ঘটনাটা কি? কোন সত্য রয়েছে এই তিনজনের জীবনে?

চলবে………….।✨

(📌 আচ্ছা পুকিরা কখনো গভীর ভাবে ভেবে দেখেছো আফরিদ এহসান না থাকলে তার জানকি বাচ্চার কি হবে? এই সাম্রাজ্যে তো কোথাও ঠায় মিলবে না তার!🫣)
(📌 আফরিদ আর ন্যান্সি কে নিয়ে লেখা ইরোটিক রোমান্টিক ইবুক)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply